19/01/2023
প্রায় তখন রাত ১টা বাজে।১দিন আগে বিবাহ করা ভাইয়ার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমি।দরজাটা লাগানো আছে।তবে দরজার একটা ছিদ্র দিয়ে রুমে জ্বলা জিরো লাইটের আলো বাইরে আসছে।আমি সেই ছিদ্র দিয়ে দেখার চেষ্টা করছি ভিতরে কি হচ্ছে।রুমের ভিতর থেকে এখনো বেলি ফুলের সুঘ্রাণ আসছে।আবছা আলোয় খুব ভালো দেখা যাচ্ছে না।তবে আমার চোখ দুটো ওই টিমটিমে আলোর ভিতরেই ভাবিকে খুজে চলেছে।কিন্তু যার জন্য এতো কষ্ট তার ই দেখা নাই।রুমের ভিতরে এক জোড়া পা হাঁটা-চলা করছে।পায়ের শব্দও হালকা শোনা যাচ্ছে।তবে শব্দ শুনে মনে হচ্ছে এটা আমার আসল টার্গেট নয়,মানে এটা ভাইয়া।
আমি তবুও শিকারি বাঘের মতো ঘাপটি মেরে বসে থাকলাম। কাঙ্ক্ষিত ব্যাক্তির জন্য।হঠাৎ টক করে একটা আওয়াজ হলো।আওয়াজ শুনে মনে হলো বাথরুমের দরজা খুললো কেউ।
হঠাৎ এক জোড়া পা খাটের দিকে যেতে লাগলো।পা দেখে মনে হলো এটাই আমার ভাবি।ফর্সা টুকটুকে পা,পায়ের উপর পশম গুলো হালকা করে বোঝা যাচ্ছে।এতো সুন্দর পা আমি কখনো দেখিনি।সদ্য আসা পা দুটো খাটের উপর উঠে বসলো।এতোক্ষণ পাইচারি করা পায়ের শব্দ থেমে গেল।সেও খাটে উঠে বসলো।এবার আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না।সুধু সেগুন কাঠের খাটটাই দেখা যাচ্ছে।
মনের ভিতর অস্থিরতা লাগছে।যেইটা দেখার জন্য এতো কষ্ট করলাম সেটাই এখন দেখতে পাচ্ছি না।
হয়তো একেই বলে, স্বর্গ তৈরী করে সুখ ভোগ করতে না পারা!
আমি খুব করে দেখার চেষ্টা করতে লাগলাম।কিন্তু না কোন ভাবেই দেখা সম্ভব হচ্ছে না।ইসসসস!এই সময় যদি কোন ভাবে দরজাটা খুলে যেত,তাহলে কতো ভালো হতো।
জানিনা কথাটা হয়তো স্রষ্টার পছন্দ হয়ে গেল।
সাথে সাথে ঝাপটা একটা বাতাস এসে দরজাটা আরো ভালো করে খুলে দিল।এবার স্পষ্ট সব দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু যেটা আমি দেখলাম সেটাতে চোখ আমার চোড়গ গাছে উঠে পড়লো।ভাবির শরীরে সুধু মাত্র ব্রা আর প্যান্টি ছাড়া কিছু নেই।ভাইয়া ভাবিকে লিপ কিস করছে।
এমন সুন্দর মেয়ে যেন আমার এই চোখ কখনো দেখেনি।এতো সুন্দর মানুষ কি সত্যিই হতে পারে?নাকি আমি একটু বেশিই ভাবছি। ভাবির শরীরে থাকা অবশিষ্ট কাপড় গুলোও ভাইয়া খুলতে শুরু করলো।
ঠিক সেই সময় ই হঠাৎ আমার কাধে কেউ হাত রাখলো!
আব্বু-আম্মুর আদরের দুই ছেলে আমরা।দুই ভাইয়ের খুব শক করে নাম করে নাম রাখছিল,পুট আর পুটুস।ভাইয়ার নাম পুট,আর আমি পুটুস।তবে আমার দাদি নুর জাহান বেগম,খুব ডেঞ্জারেস মহিলা ছিলেন।তিনি বললেন জমিদার বংশের বংশধরদের এমন নাম চলবে না।এই রকম নাম রাখলে মানুষজনে কি বলবে?তিনি বড় নাতির নাম রাখেন রোহান খান,আর ছোট নাতির নাম সোহান খান।
অবস্য এই নাম গুলো ধরে সবাই ডাকলেও আব্বু আম্মু তাদের দেওয়া নাম ধরেই ডাকে।পুট আর পুটুস।
আমার বড় ভাই আমার থেকে ৪বছরের বড়।
জমিদার বংশের ছেলে বলে কথা,তাই কখনো কোন আবদার ই অপূর্ণ থাকেনি।যখন যেটা চেয়েছি,তখন ই সেটা পেয়েছি।
আমার দাদা হলেন বিশাল এক জমিদার।তিনাকে সবাই এক নামেই চিনেন,মকবুল খান।২০ গ্রামের জমিদার তিনি।বিঘার পর বিঘা জমি তার।তিনি ছিলেন খুব সাহসি বীর এক মানুষ।কখনো কারো সাথে চুল পরিমানও অন্যায় করেনি।এমন কি অন্যায় হতে দেখলে সেটাও তিনি সয্য করতেন না।তবে তিনার একটা খারাপ দিক ছিল,তিনি কোন ভিক্ষুক কে সয্য করতে পারতেন না।চোখের বিষ ছিল ভিক্ষুকেরা।তবে ঘটেছিল একদিন এক বিস্ময়কর ঘটনা।সে লম্বা এক ইতিহাস।
সে গল্প আপনাদের পরে একদিন নাহয় শোনাবো।
ভাইয়ার বয়স এখন ২৭ বছর।তিনি ব্যাবসা করেন।সারা বছর বিদেশ থাকে বললেই চলে।তবে মাঝে মাঝে বাড়িও আসে।ভাইয়া যখন ই বাড়ি আসতো তখন ই আব্বু-আম্মু ভাইয়াকে চেপে ধরতো বিয়ের জন্য।কিন্তু ভাইয়া না অর্থে খাড়া।কোন ভাবেই বিয়ে করবে না।আম্মু-আব্বুও বিয়ের বিষয়ে ভাইয়াকে আর কিছুই বলতো না।কিন্তু হঠাৎ করে ভাইয়া এবার বিদেশ থেকে এসেই বিয়ের জন্য পাগল হয়ে উঠছে।মাত্র ৩দিনের ভিতর মেয়ে দেখে ৪দিনের ভিতর বিয়ে হয়ে গেল।ভাইয়া এবার ছুটিও নেইনি বেশি দিনের।সামনে মাসেই চলে যাবে।অন্যবার বাড়ি আসলে না হলেও ৩মাস থাকে।কিন্তু এবার এক মাসের ছুটিতে বিয়ে করে ফেলছে।ভাইয়া আবার বলেছে নাকি ভাবিকে সে বিদেশে নিয়ে যাবে না।ভাবি নাকি এখানেই থাকবে।
ভাইয়ার এমন আচরণ দেখে আব্বু-আম্মু খুব ই অবাক হয়েছে!কিন্তু তাদের খুশির কাছে এমন বিস্ময়কর ব্যাপারটা পাত্তা পাইনি ঠিক তেমন।ভাইয়া বিয়ে করছে এতেই তারা অনেক খুশি।
আমি বিয়েতে আসতে পারিনি।
আর আসবোই বা কেমনে?আমি চট্টগ্রাম পড়াশোনা করি।আর বাসা আমার কুষ্টিয়া জেলা।আমার তখন খুব অবাক লাগছিল যখন আমার বাল্য কালের বন্ধু ফোন দিয়ে বললো,"কিরে ব্যাটা কই আছোস?
আমি:যেখানে থাকার দরকার সেখানেই।
রুমি:হু সেখানেইতো থাকবি।এখন তো ভাইয়ের বিয়ে খাওয়ায় ব্যস্ত এখন কি আর আমাদের মনে পড়বে!
আমি:কি বলিস?ভাইয়ের বিয়ে মানে?কার ভাইয়ের বিয়ে?
রুমি:থাক ভাই আমি দাওয়াত চাচ্ছি না।এতো ঢং না করলেও চলবে।
আমি:দূর ব্যাটা!আমি ঢং করতে যাব কেন?আমি সত্যিইতো বুঝতে পারছি না কার ভাইয়ের বিয়ের কথা বলছিস?
রুমি:তোর ভাইয়ের ছাড়া আবার কার ভাইয়ের বলবো।
আমি:কি!আমার ভাইয়ার বিয়ে হচ্ছে!শালা চিটারি মারার জায়গা পাসনা।
রুমি:এই চোপ শালা।আমি চিটারি মারছি না।তুই দাওয়াত দেওয়ার ভয়ে ঢং করতে বসছিস।
আমি:দূরু ব্যাটা!ফাজলামি বাদ দে,বল কার বিয়ে হচ্ছে?
রুমি:দাঁড়া তোরে দেখাচ্ছি।
এটা বলে রুমি বেশ কয়েকটা পিক পাঠাই দিল।প্রথম পিকটা গেটের ছিল।যেখানে খুব সুন্দর করে লেখা ছিল,রোহান খান+উর্মিতা খাতুন।আমিতো এসব দেখে পুরাই 'থ' মেরে গেলাম।
রুমি:কিরে এবার বিশ্বাস হলো?
রুমির কথা শুনে আমার যেন ঘোর কাটলো।
আমি:তুই কি ভাবিকে দেখছিস?
রুমি:আরে আমি কেন কেউ ই তোর ভাবিকে দেখেনি।সুধু তোর দাদি,আব্বু,আম্মু আর তোর ভাইয়া ছাড়া।
আমি:কেন বিয়ে কি লুকিয়ে হয়েছে নাকি?
রুমি:না,অনেক ধূম-ধাম করেই হয়েছে।তবে কেউ বউ দেখেনি।
আমি:বিয়ে কবে হয়েছে?
রুমি:এইতো আজ সন্ধাই বউ নিয়ে বাসায় আসছে তোর ভাইয়া।
আমি:আচ্ছা কাল বাসায় গিয়ে তোর সাথে কথা বলছি।
রুমি:কি!তুই আজকে বাসায় আসবি?
আমি:আজকে রওনা দিব।তাহলে কালকে পৌঁছিয়ে যাব।
রুমি:আচ্ছা।
আমি কাউন্টারে ফোন দিলাম।তারা জানালো কোন টিকিট নেই।আমি তাদের তিন গুন টাকার অপার করলাম।তারা রাজি হয়ে গেল।আমি তখন ই বাসার দিকে রওনা হলাম।
গাড়ি চলছে আর আমি ভাবছি বাড়ির কোন লোক বা ভাইয়াও আমাকে বিয়ের বিষয়ে কিছু বললো না।যেই ভাইয়া আমার আমাকে ছাড়া এক পা সামনে হাঁটতো না,আর সে কিনা এতো বড় সংবাদটা আমায় দিল না।দেশে যেই তিন মাস থাকতো সেই তিন মাস আমার ভার্সিটি যাওয়া বন্ধ।সারাক্ষণ ভাইয়ার সাথে থাকতো হতো।আমি যেন ভাইয়ার দুই পা।আমাকে ছাড়া সে যেন অচল।
পরের দিন সকালে বাসায় চলে আসলাম।কিন্তু বাসার সবার আচরণ দেখে আমি খুব ই অবাক হয়ে যাচ্ছি।আমার নিজের কাছেই বিশ্বাস হচ্ছে না এটা আমার বাড়ি।বাড়ির সবাই কেমন যেন আমাকে এড়িয়ে চলছে।কেউ আমার সাথে কথা বলতে চাচ্ছে না।কথা বলাতো দূরে থাক,আমাকে দেখে সবাই পালাচ্ছে।কেমন জানি নিজের কাছেই নিজেকে অচেনা লাগছে আমি আর বেশি কিছু না ভেবে নিজের রুমে চলে গেলাম।কিন্তু এটা কি!এটা কি আমার রুম!রুমের অবস্থা দেখে আমারতো মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।বাড়ির সব জায়গা সব রুম গুলো কত সুন্দর করে সাজানো গোছানো।কিন্তু আমারটা ময়লাতে ভরপুর।মাকরোসাতে জাল বুনিয়েছে।
আমি কোন রকম ওসব পরিষ্কার করে দিলাম এক ঘুম। সন্ধা সময় ঘুম ভাঙলো।ঘুম থেকে উঠে একটু খেয়ে দেয়ে রুমির কাছে চলে গেলাম।ওখানে প্রায় রাত ১১-১২টা পর্যন্ত কাটিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
এমন সময় শরীরে স্পর্শ পাওয়া মাত্রই ভয়ে আমার লোম গুলো দাঁড়িয়ে গেল!কলিকাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল!আমি ভয়ে ভয়ে পিঁছে ঘুরলাম।পিঁছে ঘুরার সাথে সাথে এক জোড়া ঠৌঁট প্রচন্ড দ্রুত বেগে আমার ঠৌঁটে আচড়ে পড়লো।তার চোখের সাথে আমার চোখ পড়লো।তার চোখগুলো দেখে বুঝতে পারলাম সে একজন মেয়ে।তবে এই ভাবে লিপ কিস দিতে থাকলে আমি হয়তো দম বন্ধ হয়ে মরেই যাব।মেয়েটা ঠৌঁটের সাথে ঠৌঁট লাগিয়েই হঠাৎ আমার শার্টটা হ্যাচকা টান দিয়ে খুলে ফেললো।শার্টে থাকা বোতামগুলো ছিড়ে ঝর-ঝর করে নিচে পড়ে গেল।মেয়েটা এবার আমার প্যান্টে হাত দিল।আমি তার হাত আটকিয়ে দিলাম।কিন্তু সে কোন মতেই ছাড়বার পাত্রি নয়।সে আমার প্যান্ট খোলার জন্য চেষ্টা করতে লাগলো।এমন সময় টক করে ভাইয়াদের দরজাটা খোলার শব্দ হলো।দরজার সামনে এক অপ্সরী এসে দাঁড়ালো।এমন সৌন্দর্য আমি কখনো দেখিনি। মনে হচ্ছে এটাই আমার ভাবি।কিন্তু আমাকে এমন অবস্থায় দেখলে সে কি বলবে!কিন্তু ভাবি আমাকে অবাক করে দিয়ে মিটমিট করে দুষ্টু হাসি দিচ্ছে!যেই হাসিতে আমার বুকে থাকা প্রাণ পাখি খাচা ছাড়া হয়ে যাচ্ছে!
চলবে?
গল্পের নাম: #আবছা_আলো।
পার্ট:1
লেখক: #সোহান_খান।