05/05/2025
Story 32 মায়ার বাঁধন part 2
এত টাই অসুস্থ হয়ে পড়ে মিনু উঠে দাঁড়াবার শক্ত টুকু ও নেই। কাজে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। মিতা খোজ কবর নেয় ,ডাক্তার দেখিয়ে আনে তাতেও কোনো পরিবর্তন হয় না।একদিন সকালে পল্টুর কান্নাকাটি শুনে বাড়িওয়ালা জানতে পারে মিনু মারা গেছে। মিতার আত্মীয় স্বজন না থাকাতে মোহন কেই খবর দেয় তারা। মোহনই সৎকারের সব ব্যবস্থা করে। মা বাবা হারা পল্টু কে মিতা তার বাড়িতে নিয়ে আসে ।মোহনের আপত্তিতে বলে এতদিন এবাড়িতে মায়ের সাথে এসে ও বাড়ির ই ছেলে হয়ে গেছে।সুতরাং আমার মেয়ের সাথে বড় হবে তাই এভাবে ছেড়ে দিতে পারিনা।
কয়েক দিন পর থেকে সমস্যা দেখা দিতে লাগলো। রাত হলেই পল্টু ঘুমের মধ্যে মা মা বলে কেঁদে উঠে।মিতা মাথায় হাত বুলিয়ে আবার ঘুম পাড়িয়ে দেয়। কখনও আবার ঘুমের মধ্যে এক এক উঠে বারান্দায় গিয়ে চোখ বন্ধ অবস্থায় কারো সাথে কথা বলতে থাকে।
এটা কেমন রোগ ভেবে ওরা ডাক্তার দেখিয়েও কোনো পরিবর্তন দেখতে না পেয়ে ভাবে হয়তো মাথার কোনো গণ্ডগোল হচ্ছে। আর অনেক সমস্যা দেখা দিতে লাগলো। কোথা থেকে একটা কালো বিড়াল ধরে এনেছে,আর তাড়ালেও সেটা বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছেনা।ঘুরে ফিরে বার বার পল্টুর কাছেই ফিরে আসে। রাত হলেই অদ্ভুত আচরণ করতে থাকে, ঘুমের মধ্যে উঠে গ্রিল ঘেরা বারান্দায় গিয়ে সেই বিড়াল তার সাথে কি সব অদ্ভুত ভাষায় কথা বলে যার এক বর্ণ ও কারো বোধগম্য হবে বলে মনে হয় না।জিজ্ঞাসা করলে শুধু ফ্যালফ্যাল করে যে থাকে।মোহন কয়েক দিন ঘরে এনে শুইয়ে দিয়েছে কিন্তু মিতা আনতে গেলেই বেকে বসে কিছুতেই আস্তে চায় না।একদিন মিতা রেগে গিয়ে চড় মেরে বসতেই বিড়াল টা ফোস করে দাঁত খিঁচিয়ে উঠে আর মানুষের গলায় বলতে থাকে আমার পল্টুর গায়ে হাত ,তোকে তো ছারবই না ।এ যেনো মিনুর গলায় শুনতে পেলো।ভয়ে চিৎকার করে ঘরে ছুটে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে শুয়ে পড়ল।কিন্তু ঘুমোতে পারছে না কিছুতেই কারন দরজার ওপারে বিড়াল রুপি মিনার বীভৎস কান্নার আওয়াজ। কানে বালিশ চাপা দিয়ে শব্দ আটকাবার চেষ্টা করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল ।লোকজনের চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙ্গতেই দেখলো সকাল হয়েছে।দরজা খুলে পল্টু দেখতে গিয়ে চমকে উঠলো পল্টু সেখানে নেই।বারান্দার চার দিক ই গ্রিল দিয়ে ঘেরা।তবে পল্টু কোথায়? মোহন কে ডেকে গত রাতের ঘটনা বললো।তার পর দুজন বেরিয়ে পড়ল আশপাশে খোজ নিতে।পুকুরের দিকে লোকের জটলা দেখে এগিয়ে দেখে পল্টু পুকুরের শরীর শেষ ধাপে আধা ডুবে মরে পড়ে আছে।
ভিড়ের মধ্যে থেকে কেউ বলে উঠলো ও তো তোমাদের বাড়িতেই থাকতো না ,তো এখানে এলো কেমন করে?
মিতা কাউকে সে কথা বলতে পারলোনা যে, ও বন্ধ বারান্দা থেকে এখানে এলো কি করে। গত রাতের ঘটনা বললে কেউ কি বিশ্বাস করবে শুধু বললো ঘুম থেকে উঠে দেখি ও বিছানায় নেই।হয়তো রাতে একাকী বেরিয়ে পড়েছে। সবাই জানে মোহন মিতা ওকে নিজের ছেলের মত ভালবাসে। ভিড়ের মধ্যে থেকে একজন বললো ওর মা ওকে একা ছেড়ে যেতে চায়নি তাই ওকে নিয়ে গেছে। অমনি পুকুরের জলে বিশাল ঢেউ খেলে গেলো।আর পুকুর পারের জঙ্গল থেকে এলো ভেসে এলো বিড়ালের বিশ্রী গোঙানি।