Bhoot Bhuture

Bhoot Bhuture বাস্তব কল্পনার সেতু

Story 32   মায়ার বাঁধন  part 2              এত টাই অসুস্থ হয়ে পড়ে মিনু উঠে দাঁড়াবার শক্ত টুকু ও নেই। কাজে যাওয়া বন্...
05/05/2025

Story 32 মায়ার বাঁধন part 2

এত টাই অসুস্থ হয়ে পড়ে মিনু উঠে দাঁড়াবার শক্ত টুকু ও নেই। কাজে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। মিতা খোজ কবর নেয় ,ডাক্তার দেখিয়ে আনে তাতেও কোনো পরিবর্তন হয় না।একদিন সকালে পল্টুর কান্নাকাটি শুনে বাড়িওয়ালা জানতে পারে মিনু মারা গেছে। মিতার আত্মীয় স্বজন না থাকাতে মোহন কেই খবর দেয় তারা। মোহনই সৎকারের সব ব্যবস্থা করে। মা বাবা হারা পল্টু কে মিতা তার বাড়িতে নিয়ে আসে ।মোহনের আপত্তিতে বলে এতদিন এবাড়িতে মায়ের সাথে এসে ও বাড়ির ই ছেলে হয়ে গেছে।সুতরাং আমার মেয়ের সাথে বড় হবে তাই এভাবে ছেড়ে দিতে পারিনা।
কয়েক দিন পর থেকে সমস্যা দেখা দিতে লাগলো। রাত হলেই পল্টু ঘুমের মধ্যে মা মা বলে কেঁদে উঠে।মিতা মাথায় হাত বুলিয়ে আবার ঘুম পাড়িয়ে দেয়। কখনও আবার ঘুমের মধ্যে এক এক উঠে বারান্দায় গিয়ে চোখ বন্ধ অবস্থায় কারো সাথে কথা বলতে থাকে।
এটা কেমন রোগ ভেবে ওরা ডাক্তার দেখিয়েও কোনো পরিবর্তন দেখতে না পেয়ে ভাবে হয়তো মাথার কোনো গণ্ডগোল হচ্ছে। আর অনেক সমস্যা দেখা দিতে লাগলো। কোথা থেকে একটা কালো বিড়াল ধরে এনেছে,আর তাড়ালেও সেটা বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছেনা।ঘুরে ফিরে বার বার পল্টুর কাছেই ফিরে আসে। রাত হলেই অদ্ভুত আচরণ করতে থাকে, ঘুমের মধ্যে উঠে গ্রিল ঘেরা বারান্দায় গিয়ে সেই বিড়াল তার সাথে কি সব অদ্ভুত ভাষায় কথা বলে যার এক বর্ণ ও কারো বোধগম্য হবে বলে মনে হয় না।জিজ্ঞাসা করলে শুধু ফ্যালফ্যাল করে যে থাকে।মোহন কয়েক দিন ঘরে এনে শুইয়ে দিয়েছে কিন্তু মিতা আনতে গেলেই বেকে বসে কিছুতেই আস্তে চায় না।একদিন মিতা রেগে গিয়ে চড় মেরে বসতেই বিড়াল টা ফোস করে দাঁত খিঁচিয়ে উঠে আর মানুষের গলায় বলতে থাকে আমার পল্টুর গায়ে হাত ,তোকে তো ছারবই না ।এ যেনো মিনুর গলায় শুনতে পেলো।ভয়ে চিৎকার করে ঘরে ছুটে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে শুয়ে পড়ল।কিন্তু ঘুমোতে পারছে না কিছুতেই কারন দরজার ওপারে বিড়াল রুপি মিনার বীভৎস কান্নার আওয়াজ। কানে বালিশ চাপা দিয়ে শব্দ আটকাবার চেষ্টা করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল ।লোকজনের চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙ্গতেই দেখলো সকাল হয়েছে।দরজা খুলে পল্টু দেখতে গিয়ে চমকে উঠলো পল্টু সেখানে নেই।বারান্দার চার দিক ই গ্রিল দিয়ে ঘেরা।তবে পল্টু কোথায়? মোহন কে ডেকে গত রাতের ঘটনা বললো।তার পর দুজন বেরিয়ে পড়ল আশপাশে খোজ নিতে।পুকুরের দিকে লোকের জটলা দেখে এগিয়ে দেখে পল্টু পুকুরের শরীর শেষ ধাপে আধা ডুবে মরে পড়ে আছে।
ভিড়ের মধ্যে থেকে কেউ বলে উঠলো ও তো তোমাদের বাড়িতেই থাকতো না ,তো এখানে এলো কেমন করে?
মিতা কাউকে সে কথা বলতে পারলোনা যে, ও বন্ধ বারান্দা থেকে এখানে এলো কি করে। গত রাতের ঘটনা বললে কেউ কি বিশ্বাস করবে শুধু বললো ঘুম থেকে উঠে দেখি ও বিছানায় নেই।হয়তো রাতে একাকী বেরিয়ে পড়েছে। সবাই জানে মোহন মিতা ওকে নিজের ছেলের মত ভালবাসে। ভিড়ের মধ্যে থেকে একজন বললো ওর মা ওকে একা ছেড়ে যেতে চায়নি তাই ওকে নিয়ে গেছে। অমনি পুকুরের জলে বিশাল ঢেউ খেলে গেলো।আর পুকুর পারের জঙ্গল থেকে এলো ভেসে এলো বিড়ালের বিশ্রী গোঙানি।

Story 32     মায়ার বাঁধন   part  1.                                     বিয়ের পাঁচ বছর হলো মোহন ও মিতার ,কিন্তু ওদের স...
21/04/2025

Story 32 মায়ার বাঁধন part 1.

বিয়ের পাঁচ বছর হলো মোহন ও মিতার ,কিন্তু ওদের সন্তান নেই। ডাক্তার কবিরাজ দেখিয়েও কোনো ফল হয়নি। অগত্যা হোম থেকে দুবছরের এক মেয়ে বাচ্চা নিয়ে এলো। ভালবেসে নাম রাখলো মৌমিতা।
মান পুর গ্রামে ওদের ছোট্ট বাড়ি,তিনজনের সংসারে নানা কাজ কর্মে মিতা হাপিয়ে ওঠে।সারাক্ষণ বাচ্চাটার নাওয়া খাওয়া, ওর সাথে খুনসুটিতে দিন কেটে যায়।মোহন বুঝতে পারে মিতার রান্না বাড়াতে কষ্ট হচ্ছে তাই পাশের গা থেকে এক অল্প বয়সী বিধবা মিনু কে নিয়ে এসে রান্নার ভার দেয়। মিনুর ও বছর চারের এক ছেলে আছে তার নাম পতিত ।মিনু ওকে পুটু বলেই ডাকে।
স্বামী মারা যাওয়াতে খুব সমস্যায় পরে মিনু।ভাড়া বাড়িতে থেকে যখন যা পায় সেই কাজ ই করে। খুব কষ্টে দিন কাটছিল তার। মোহনের বাড়ির কাজ পেয়ে কাছেই একটা ছোট্ট ঘর ভাড়া নেয়।জায়গাটা খুব সুন্দর কাছেই বাঁধানো পুকুর ঘাট। জলের কোনো সমস্যা হয় না।
মোহন সেখানকার গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজার। মিনু কে যা টাকা দেন তাতে তার আর কোন অসুবিধা হতে পারার কথা না। কাজের মধ্যেও সব সময় চোখে চোখে রাখে পুঁটু কে।পুঁটু ই তার আশা ভরসা , এক মিনিটের জন্য চোখের আড়াল হতে দেয় না। পুঁটু কে কেউ আদর করলে সেটাও মিনার পছন্দ নয়।।
পুজোর আগেই মোহন মৌমিতার আর পুটুর জন্য সুন্দর সুন্দর ড্রেস কিনে আনল। দেখে মিনুর চোখ জলে ভরে গেলো।কোনো দিন ভালো তো দূরের কথা একটা জামাও কিনে দিতে পারেনি।
মিতা নিজের মেয়ের সাথে সাথে পুঁটু কেউ বই পড়াতে বসায়।তাতে মিনুর ভালই লেগেছে। ওরা দুজন খেলা ধুলা করে ।বাপ হারানো পুঁটু যেনো আরো এক অভিভাবক পেলো। পুটু কে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসে।তবু মায়ের আঁচল তলে গুটি গুটি বাড়ি ফিরে যায়। মিনা কাজ শেষ করে পুকুর পারে পুঁটু কে বসিয়ে আগে নিজে ডুব দিয়ে নেয় তার পর পুঁটু কে স্নান করিয়ে ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নেয়। দুবেলা রান্নার পর খাওয়া দাওয়া সেখানেই হয় তাই বাড়ি ফিরে নিশ্চিন্তে ঘুম।
মিনা এ বাড়ি কে ভালোবেসে ফেলেছে। মোহন ও মিতার ব্যবহার খুবই ভালো তাই রান্নাবাড়া ছাড়াও ঘরের অন্যান্য কাজও করে দেয়।সব কষ্ট হাসি মুখে মেনে নেয়।কিন্তু এটা তো শরীর ,কত সইবে তাই ভিতর ভিতর ক্রমে ক্ষয়ে যাচ্ছিল। অল্প জ্বর নিয়েও কাজে আসে কাউকে তা বুঝতেও দেয়না। ক্রমে শরীর খারাপের পথে যেতে থাকে।

.      Story  31. অভিশপ্ত প্রেম   part 2.                                     জলার উপরে বসা মেয়েটি বলতে লাগলো  সাম্যর ব...
15/04/2025

. Story 31. অভিশপ্ত প্রেম part 2.

জলার উপরে বসা মেয়েটি বলতে লাগলো সাম্যর বিয়ের শখ মিটিয়ে দিয়েছি। ওর বউ আর আমি এখন এই পুকুরে ই থাকি। পিছন ফিরে কাউকে ডাকল মেয়েটি।এই বউ উঠে আয় তোর বর এসেছে । জল টা অমনি তোলপাড় করে আরো এক নারী মূর্তি উঠে এলো ।দুজন দেখতে হুবহু একই রকমের সাজে সজ্জিত।প্রথম মেয়েটি দ্বিতীয় মেয়েকে বললো সাম্য আমার, ওকে কেউ নিতে পারবেনা তুই ওর বন্ধু কে নে।দুজন খিলখিল করে হেসে উঠল আর ওদের সুশ্রী মুখমন্ডল ভয়ঙ্কর বিশ্রী রূপ ধারণ করতে শুরু করলো। মনি হীন চোখ দুটি থেকে যেনো আগুন ঠিকরে বেরুতে লাগলো। বীভৎস মূর্তি টি জল থেকে উঠে আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো । ভয়ে দু পা পিছিয়ে এসেই ছুটতে লাগলাম দূরে একটা আলো লক্ষ্য করে । সেটা ছিল মন্দিরের আলো। সেখানে পুজো আরতি হচ্ছিল। মন্দিরের বারান্দা পর্যন্ত পৌঁছে জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম।
জ্ঞান ফিরতেই দেখি একটা ঘরের বিছানায় আমি শুয়ে। জানালা দিয়ে বাইরে চোখ গেলো। দেখলাম উঠুন তাতে রঙিন কাপড় দিয়ে প্যান্ডেল করা কিন্তু লোক জন চোখে পড়লো না। জানালা দিয়ে সূর্যের আলো বিছানায় এসে পড়েছে। উঠে বসতেই দেখি সাম্য চায়ের কাপ হাতে করে ঢুকছে। আমাকে বসতে দেখে বলল একটা ফোন তো করতে পারতিস। মন্দিরের ওখানে জ্ঞান হারানোর সময় নাকি আমার নাম বলেছিলি।তাই তো খবর পেয়ে তোকে বাড়িতে নিয়ে আসি। আমি প্রশ্ন করলাম তোর বিয়ে? ও বললো সে সব পরে শুনবি এখন গরম গরম চা বিস্কুট খা।
চা খেতে খেতে আবারো বললাম বলনা বিয়ের ব্যাপার টা। উঠানে আত্মীয় স্বজন রা সব ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি ফিরে যাবার উপক্রম করছে।
সাম্য নিচু গলায় বলতে শুরু করলো , শোন খবর ভালো না। আমি ব্যাঙ্গ করে বললাম কি বউ পালিয়েছে। ও মুখটা ভার করে বলল পালালে তো ভালই হতো কিন্তু ঘটনা টা মারাত্মক। আমি যাকে পছন্দ করেছি মানে বিয়ে যাকে করার কথা তার ই ছোট বোন নাকি আমাকে মনে মনে ভালোবাসে ।সে দিদির সাথে আমার বিয়ে মেনে নিতে পারছিল না। অধিবাসের দিন সেকথা দিদিকে বলে ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে যায়।তার দিদিও পিছন পিছন ছুটে রাস্তার ধারের পুকুরে ঝাঁপিয়ে পরে বোন কে বাঁচাবার জন্য ।কিন্তু পুকুরের গভীর জল থেকে কেউই উঠে আসতে পারেনি।একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সাম্য বললো তুই বাড়ি না এসে মন্দিরের ওদিকে ছুটতে ছুটতে গেছিলিস কেনো।
আমি বললাম সে গলপো নাহয় নাই শুনলি।রাস্তায় একটু ভয় পেয়ে ছিলাম। কপাল ভালো তাই বেছে গেছি।
গ্রাম থেকে ফেরার কয় দিন পর শুনলাম সাম্য ও নাকি মনের দুঃখের ঐ পুকুরে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু আমি জানি আত্মহত্যা নয় ওটা অভিশপ্ত প্রেমের ডাক।

Story _31   অভিশপ্ত প্রেম    part 1                         আকাশে লালচে ভাব টুকু মিলিয়ে সন্ধ্যার অন্ধকার ছেয়ে যাচ্ছে। ...
07/04/2025

Story _31 অভিশপ্ত প্রেম part 1

আকাশে লালচে ভাব টুকু মিলিয়ে সন্ধ্যার অন্ধকার ছেয়ে যাচ্ছে। চার দিকে চাইলাম দূরে কালো মতন তাল গাছ ঘেরা গ্রাম দেখা যাচ্ছে।
সাম্য কি ওই গায়েই থাকে ।বাস কন্ডাক্টর এটাই ঘুনটির মোর বলে নামিয়ে দিয়ে দূরে মিলিয়ে গেলো। আমার মনে হলো জনহীন প্রান্তরে আমি একা মানুষ।দুর দুরান্তেও একটা প্রাণীও চোখে পড়ছে না।
অগত্যা ওই গ্রামে লক্ষ্য করে হাটা শুরু করলাম ।পাকা রাস্তা থেকে কম করে তিন চার কিলোমিটার হবে বলে মনে হলো আমার।
আমার সহকর্মী সাম্য দীপ্তর আজ বিয়ে আমাকে বরযাত্রী যেতেই হবে। অনুরোধ ফেলতে পারিনি তাই এই ভূতনি গ্রামে যাওয়া। গ্রামের নামটা কেমন অদ্ভুত লেগেছে আমার। লোকে কি নাম খুঁজে পায় না । যাই হোক হাঁটতে লাগলাম।ধীরে ধীরে অন্ধকার আরো ঘনীভূত হয়ে যাচ্ছে। কিছুটা যাবার পর একটা বাঁক নিতেই মনে হলো কিছু টা দূরে সাদা কাপড় পরা কেউ দ্রুত পায়ে হেঁটে যাচ্ছে। যাক তাহলে মানুষের দেখা মিলল বলে মনে হলো।আমিও জোরে পা চালালাম ওকে ধরবার জন্য। কিন্তু দূরত্ব কিছুতেই কমছে না।প্রায় দৌড়ানোর মতো করে হেঁটেও যখন ধরতে পারছিনা তখন হাল ছেড়ে একটা গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে বসবার উপক্রম করছি ঠিক তখনই মনে হলো এক মেয়েলি কণ্ঠস্বর কানের কাছে ফিস ফিস করে বলল বিয়ে হচ্ছে না গিয়ে কি হবে ফিরে যা, ফিরে যা।চমকে উঠে চারদিকে চাইলাম আশপাশে কাউকে না দেখতে পেয়ে ভাবলাম মনের ভুল। একা চলতে একটু ভয় ভয় করছিল তাই হয়তো এমন হয়েছে। বসতে আর ইচ্ছে করলো না আবার হাটা শুরু করলাম।মাইল খানেক হাঁটার পর আবছা আলোতে রাস্তার ধারে একটা জলাশয় দেখতে পাই। আর ওই জলাশয়ের ধারে সেই সাদা কাপড় পরা মানুষটাকে বসে থাকতে দেখে ভাবলাম সেও বোধহয় আমার মত হাঁটতে হাঁটতে পরিশ্রান্ত হয়ে জলার ধারে বিশ্রাম নিচ্ছে। রাস্তা থেকেই হাঁক দিলাম এই যে শুনছেন,এটাই কি ভূতনীর গায়ের রাস্তা? কোনো উত্তর এলো না।মনে হলো কানে কম শোনে। সামনে গিয়ে দেখি একটা মেয়েমানুষ পিছন পিছন ফিরে বসে আছে।একটু জোরেই বললাম আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন।আমি শহর থেকে এসেছি ভূটনী গায়ে সাম্য সরকারের বাড়ি যাব ।আপনি কি তাকে চেনেন।? এবার মাথাটা একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গেলো। বুকটা ধড়াস করে উঠলো।এমন করে কেউ না নড়ে উল্টো দিকে মাথা কেমন করে ঘুরাতে পারে। মুখটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে ।বিয়ের সাজে সজ্জিত এক মেয়ে।তার পোশাক টি ও এখন আর সাদা মনে হচ্ছে না সেটা,লাল বেনারসি হয়ে গেছে ।কপালে বড় লাল টিপ। রাঙানো ঠোঁট অল্প ফাঁক করে চিবিয়ে চিবিয়ে বলতে লাগলো তোকে বলেছি না, ফিরে যা,এ গায়ে কারো বিয়ে হচ্ছেন। বলেই অট্টহাসি তে ফেটে পড়ল।এমন আচরণে প্রথমে পাগলি বলে বলে মনে হলেও পোশাক আসাক দেখে চিন্তায় ফেলে দিলো।

Story 30    স্কন্ধ কাটা।    Part 2.                                           আমরা তিন জন ছুটতে লাগলাম চিৎকার যেদিক থেকে...
31/03/2025

Story 30 স্কন্ধ কাটা। Part 2.

আমরা তিন জন ছুটতে লাগলাম চিৎকার যেদিক থেকে আসছে সেই দিকে। টর্চের আলো ফেলে পথের দুদিক দেখে দেখে ছুটতে লাগলাম পলাশ থেমে থেমে মাটিতে আলো ফেলে কিছু একটা দেখবার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ওকে বলতেই বলে , দেখি ভূতের চিহ্ন পাই নাকি।
সুজনের বাড়ি পৌঁছে দেখলাম ঘরের দরজা বন্ধ।ভিতর থেকে কান্নার রোল ভেসে আসছে। আবার একটা ছাগল খেয়ে ফেললোরে। হে ঠাকুর আমাদের রক্ষা করো। উঠুনে দাড়িয়ে সামন্ত হাঁক দিলো ও সুজন কাকা দরজা খোলো ভয় নেই আমরা আসে গেছি। দরজাটা একটু ফাঁক হয়ে একটা কাঁচাপাকা দাড়ি ভর্তি মুখ উকি দিল। সামন্ত বললো, বেরিয়ে এসো আমি আর দুজন শহরে দাদা এসেছেন ভূত ধরতে। কপাট খুলে সুজন কাকা লণ্ঠন হাতে ,পিছন পিছন দুজন মহিলা ও এক দশ বারো বছরের ছেলে বেরিয়ে এলো।সবার চোখে মুখে আতঙ্ক। আমি জিগ্গেস করলাম কাকা কি হয়েছে এমন চিৎকার করছিলেন কেনো? উনি বললেন আমার ছাগল টার ভ্যাবানি শুনে বুজেছি ভূতে ধরেছে। কাল ওটাকে ঘরে ঢুকাতে ভুলে গেছি পলাশ বললো কোথায় ছিল ছাগল টা। সুজন কাকা আঙ্গুল তুলে একটু দূরে রান্না ঘরের বারান্দা দেখিয়ে বললো ওখানে খুঁটিতে বেঁধে রেখেছিলাম।কই ছাগল নেই ঐতো দড়িটা পরে আছে। আমরা সেখানে যেতেই পলাশ দড়িটা হাতে নিয়ে পরীক্ষা করতে লাগলো। কাকা বলল ওদের দাঁত চাকুর মতো । আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না পাশে এত বড় গরু থাকা সত্ত্বেও শুধু ছাগল টাই কেনো নিয়ে গেলো। পলাশ কে দেখলাম মিট মিট করে হাসছে। কাকিমা বললেন আমরা ঘর থেকে চিৎকার করে ঠাকুর ডাকতে ছিলাম তাই গরু টাকে আর নিতে পারে নি । কাল পরশু আবার হয়তো হানা দিবে।
পলাশ বললো এখন চল কাল দেখা যাবে ভূত কি করে গরু নিয়ে যায়। কাকার ঘরে যেতে বলে আমরা সামন্তর বাড়ি চলে এলাম।আমি পলাশ কে বললাম কিরে ওখানে হাস ছিলি কেনো? ও বললো কাল স্কন্ধ কাটা ভূত টাকে মনে হয় কব্জা করতে পারব। আর চিন্তা করিস না এখন ঘুম দে ,কাল দেখা যাবে।
সমান্তর বাসায় রাত কাটিয়ে সকাল হতেই পলাশ বললো আমাকে কয়েক জন শক্ত যোয়ান ছেলে ও মোটা মোটা কয়েক গাছা লাঠি দরকার।সামন্ত প্রশ্ন করলো কি হবে তাদের কে নিয়ে, ভূত মারবে লাঠি দিয়ে?
বললাম পলাশ যখন বলছে তো কিছু একটা ভেবেই বলছে ,তুমি দেখো জোগাড় করতে পারো কি না।
সামন্ত লোক যোগারের জন্য বেরিয়ে যেতেই আমি পলাশ কে কাছে ডেকে বললাম ,ভূতেরা কায়াহীন ,মানে শরীর নেই তবে ছাগল গরু কেমন করে তুলে নিয়ে যায়। পলাশ বললো ঠিক তাই ,তবে এখানে শরীরী ভূতেরা আসে আমার বিশ্বাস।
সামন্ত চার জন ছেলে নিয়ে এলো। তাদেরও চোখে মুখে কিছুটা আতঙ্ক টা বোঝাই যাচ্ছে। সামন্ত বললো অনেক বুঝিয়ে এদের কে আনতে পেরেছি। আমি কিছু বলবার আগেই পলাশ বললো। তোমাদের ভয় নেই কথা দিচ্ছি তোমাদের কোনো ক্ষতি হবেনা বরং গ্রামের আতঙ্ক দুর হবে স্কন্ধ কাটা বলে কিছু হয়না। তোমরা সকলে একটা করে লাঠি ও কয়েক গাছা শক্ত দড়ি নিয়ে ঠিক রাত দশটায় এখানে চলে আসবে ।
কাছেই ছোট্ট বাজার বসে সেখান থেকে পলাশ বাচ্চা দের কত গুলো বাঁশি কিনল । কারণ জিজ্ঞাসা করলে বললো কাজে লাগতে পারে।দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে দুজন লম্বা ঘুম দিলাম। যখন ঘুম ভাঙ্গলো তখন চারিদিক অন্ধকার। হাত ঘড়িতে দেখলাম নয়টা দশ। সামন্ত খাবার রেডি করছে। আমি দেখি পলাশ আগেই উঠে গেছে।আমাকে উঠতে দেখে সামন্ত বললো আমিই ভাত বেড়ে ডাকতাম। উঠানে তখন পলাশ ছেলে গুলো কে নিয়ে মিটিং করছে
খাওয়া দাওয়া সেরে সকলে পৌঁছে গেলাম নদীর সেই রাস্তায় যেই পথে ভূতেদের আনাগোনা। আমাকে পলাশ একটা বাচ্চাদের বাঁশি দিয়ে ভাঙ্গা বাড়িটার সামনে এসে বলল তুই এখানে থাক আমি এই রাস্তা ধরে এক এক জন কে বসাবো।তুই লক্ষ রাখবি ভাল করে,যখনই দেখবি ভূতের দল আসছে অমনি বাঁশি বাজাতে শুরু করবি।আমি সবাই কে সতর্ক থাকতে বলেছি। পলাশ ও সমান্তর দল চলে যেতেই আমার একটু ভয় ভয় করতে শুরু করছে। তাই বাড়িটার বারান্দা মতন জায়গায় বসার আসন টা ঝুলিয়ে নিজেকে আড়াল করে রাখলাম আর চোখ রাখলাম অন্ধকারে সেই ভূতুড়ে পথের প্রান্তে।
অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেখি অন্ধকারের কালো কালো ছায়া মূর্তি গুলি এগিয়ে আসছে ।কিছুটা কাছে আসতেই দেখি মুণ্ডুহীন মূর্তিটার বুকে একটা চোখ সেটা থেকে আলো যেনো ঠিকরে বেরোচ্ছে।ভয়ে আমার শরীর কাঠ ,বাঁশি বাজাবার কথা ভুলে আসনের আড়াল থেকে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে চেয়ে দেখছি।
কতক্ষণ এভাবে ছিলাম জানিনা হঠাৎ চার দিক থেকে বাঁশির শব্দে হুশ ফিরে আসে।পলাশের চিৎকার ভেসে আসে,,, ধর একটাকেও ছাড়বে না। অমনি টর্চের আলো জ্বালিয়ে ছুটে সেখানে হাজির। সেখানে যা দেখলাম তাতে চক্ষু চড়ক গাছ। ভূতেরা সব মাটিতে লুটোপুটি। ছেলেগুলো দড়ি দিয়ে এক একজন কে বাঁধছে। আমি বললাম আরে এরা তো মানুষ তো ভূত কই? পলাশ হাসতে হাসতে বলল এদের একটা স্কন্ধ কাটা সাজে বাকিরা সাগরেদ ভূত।কালো কাপড়ে রেডিয়াম দিয়ে চোখ এঁকে মাথা কাপড়ের তলে লুকিয়ে ভূতের ছাগল গরু চুরি।
চিৎকার চেঁচামেচিতে গ্রামের লোক জড়ো হতে থাকে কারো হাতে লাঠি কারো হাতে ঘাস কাটা দা।
পলাশ সবাই কে উদ্দেশ্য করে বললো আপনারা জানতেন গ্রামে স্কান্দাকাটা আসে কিন্তু সাহস করে বেরিয়ে দেখেন নি আসলে করা আসে।আমি কাল রাতেই বুঝেছি এগুলো মানুষের কাজ । ওদের চলার পথে পায়ের ছাপ দেখে বুঝেছি ওরা ভূত নয়।তার পর ছাগলের দড়ি ছেঁড়া ভূতের কর্ম নয় ওটা চাকু দিয়ে কাটা আরো পেয়েছি ওই পথে জ্বলন্ত বিড়ির টুকরো ।তখনই বুঝতে পারি ওরা ভূত নয় মানুষ ভূত।
পরদিন গ্রামের লোকেদের থেকে পেলাম প্রচুর ভালোবাসা। পুলিশ এসে স্কন্ধ কাটা কে পোশাক পরিয়ে গ্রাম ঘুরিয়ে নিয়ে গেলো।আমি পলাশ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বাড়ির দিকে রওনা দেই।

Story 30   স্কন্ধকাটা  part 1    সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভূতের উপদ্রবের খবর শুনে মনটা খচ খচ করতে লাগলো। আমার ভূত ...
17/03/2025

Story 30 স্কন্ধকাটা part 1
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভূতের উপদ্রবের খবর শুনে মনটা খচ খচ করতে লাগলো। আমার ভূত টুতে আগ্রহ একটু বেশি। ডান হাত মানে বন্ধু পলাশের ও তাই। দুজনে ঠিক করলাম এর সত্যতা যাচাই করতে হবে।গ্রামের নামটা আগেও শুনেছি।কাকার বাড়ির পাশের গ্রাম।কাকার সাথে যোগাযোগ করে জানলাম এক স্কন্ধ কাটা ভূত নাকি সেই গ্রামের গরু ছাগল তুলে নিয়ে যায়। রাত হলে নাকি ঝাঁকে ঝাঁকে ভূত এসে জোটে।ভয়ে লোকজন সন্ধ্যার পরই ঘরে দরজা দিয়ে দেয়। কাকা বলল বিশ্বাস না হয় একবার সেখান থেকে ঘুরে আয় দেখবি লোক জনের কি হাল। বললাম কাকা তুমি চল আমাদের সাথে। উনি বললেন আমার এসবে সাহস নেই,পরিচিত একজন আছে তোদের সব রকম সহযোগিতা করবে। ওর নাম পলাশ ,ফোন করে বলে রাখছি ,কবে যাবি।বললাম কাল ই যেতে চাই। আমার এই খ্যাপামি কাকা জানে যাব যখন বলেছি যাবই।
মাথা পোতা গ্রামে যখন পৌছালাম তখন সন্ধ্যার অন্ধকার ছেয়ে গেছে। বাড়িতে বাড়িতে রাতের খাবার দাবার সেরে দরজা বন্ধের ব্যবস্থা চলছে। পথে দু চার জন লোকের দেখাও পেলাম তাদের কাছ থেকে সামন্তর বাড়ি খুঁজে পেলাম ।বেশ শক্ত যোয়ান লোক কথা বার্তায় বেশ সাহসী বলেই মনে হলো।
গ্রামটা টা কুর্তি নদীর ধারে।আগে এখানে ছিল ফাঁকা বালুর চর ।শহর থেকে মানুষ খুন করে এই কুর্তি নদীর চরে পুতে দিয়ে যেত। এখানে আগে বাড়ি ঘর করার সময় মাটি কাটলে কাটা মাথা উঠে আসতো বলে তাই বোধ হয় গ্রামের নাম মাথা পোতা। নদীর ওপর পার বাংলা দেশ হওয়াতে লোক জনের আনাগোনা ছিল না।তাই দুষ্কৃতীদের ছিল স্বর্গ। এখনো মাঝে মাঝে দুষ্কৃতী হানা দিয়ে গরু ছাগল নিয়ে নদী পার করে চলে যায়। গ্রামের লোকজন ভূতের ভয়ে পাহারা দিতে ও সাহস পায় না। একা মানুষ সামন্ত রান্না করতে করতে কথা গুলি বলছিল।। আমরা আমাদের আসার উদ্দেশ্য বললাম । ও আমদের সাথে বেরুবে এক এক কথায় রাজি হয়ে গেলো।
একসাথে তিনজন খাওয়া দাওয়া সেরে সামন্ত কে বললাম তিনটে শক্ত লাঠি জোগাড় করে নিতে। আমি ও পলাশ আগে থেকেই দুটো পাঁচ ব্যাটারির টর্চ এনেছিলাম।
গ্রামের যেদিকে ভূতের উপদ্রব সামন্ত সেইদিকে নিয়ে চলল। এলাকা টা নির্জন বাড়িঘর একদুটো তাতেও নাকি লোকজন থাকে না। চারিদিক বাঁশ ঝাড় আর ঘন ঝোপ ঝাড় । কাছেই একটা শেয়াল দৌড়ে পালালো। আমরা টর্চের আলো ফেলে এগোতে লাগলাম এক ভেংগে পরা বাড়ির কাছে আসতেই পলাশ কিছু একটা কুড়িয়ে পকেটে রাখলো । বললাম কিরে ওটা ? বললো পরে দেখছি।সামন্ত বললো এইসব জায়গায় নাকি যেদিন স্কন্ধ কাটা ঘুরে বেড়ায় সেদিন গ্রামের গরু ছাগল উধাও হয়ে যায়। লোকের বিশ্বাস ঐভূত গোটা গরু ছাগল চিবিয়ে খেয়ে ফেলে। মোবাইলে দেখলাম রাত আটটা।চারিদিকে ঝি ঝি পোকার শব্দ আর আমাদের পায়ের নিচে শুকনো পাতার গুড়িয়ে যাওয়ার শব্দ ছাড়া কোনো আওয়াজ নেই।
ভাঙ্গা বাড়িটার বারান্দা মতন জায়গায় বসবার জায়গা করে নিলাম। আর অপেক্ষা করতে লাগলাম কখন অস্বাভাবিক কিছু দেখবার জন্য। সবাই কে বারণ করলাম টর্চ না জ্বালাতে । সামন্ত বাড়ি থেকে একটা মশাল বানিয়ে এনেছে পরিস্থিতি বুঝে জ্বালাবে। রাত যখন এগারো টা সামন্ত বললো দাদা বাবু কেটলি তে চা বানিয়ে এনেছি এতক্ষণ ঠান্ডা হয়ে গেছে একটু গরম করে দেই। আমি জিজ্ঞাসা করলাম তুমি কি আগুন জ্বালবে? ও বললো ভয় নেই সাবধানে কাঠ কুটো জ্বালিয়ে নেবো। বললাম তুমি তো জানো আগুন দেখে ভূত ভয় পায়।আর আমরা যে এখানে সেটা জেনে গিয়ে হয়তো সামনেই আসবেনা। পলাশ বললো ওই ঠান্ডা চাই দাও। এই সব কথার মাঝে দূরে নদীর দিকে একসাথে অনেক গুলো শেয়াল ডেকে উঠতেই সবার চোখ সেইদিকে।দুরে গোটা পাঁচেক ছায়া মূর্তি আমাদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। তাদের একটা আবার মুন্ড হীন ।কিছুটা কাছে আসতেই দেখলাম ভয়ানক দৃশ্য। মুণ্ডুহীন মানে স্কন্দকাটা ভূতের সাথে চার টা কঙ্কাল হেঁটে আমাদের থেকে কিছুটা দুর থেকে ঘুরে গ্রামের দিকে চলে গেলো। দেখি সাহসী সামন্ত ও ভয়ে কেমন সিটীয়ে গেছে। এক সাথে অনেক কুকুর চিৎকার করে উঠলো আর গ্রামের কোনো বাড়ির আর্তনাদ ভেসে এলো। সামন্ত বললো সুজন কাকার চিৎকার মনে হচ্ছে। বললাম মশাল জ্বালো শিগগির ঐদিকে যেতে হবে।

Story 30   যেখানে ভূতের ভয়                             রাজের মনেই ছিলনা যে আজ ওর জন্মদিন।  সুব্রত ফোনে ব্যর্থ ডে উইশ কর...
10/03/2025

Story 30 যেখানে ভূতের ভয়

রাজের মনেই ছিলনা যে আজ ওর জন্মদিন। সুব্রত ফোনে ব্যর্থ ডে উইশ করে বললো পার্টি দিতে হবে। এর পর ঘণ্টা খানেকের ব্যবধানে মলয় ,সুজয় ও শুভেচ্ছা বার্তা জানায়। সবাই পার্টির আবদার করে। রাজের বাবা বিরাট পয়সা ওয়ালা তাই রাজ যখন তখন যথেচ্ছ টাকা উড়িয়ে বেড়ায়।
সবাই একে একে হাজির ম্যাডোনা বার ও রেস্টুরেন্টে।সন্ধ্যায় রেস্টুরেন্টে ডিসকোর তালে তালে নাচছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজ হাজির। নীল কুর্তা পায়জামায় বেশ লাগছে। আসার সময় কিছু কেনা কাটা করায় বেশ কিছু খুচরো পয়সা পাঞ্জাবির পকেটে জমা হয়। নাচের তালে তালে তা ঝুন ঝুনি বাজিয়ে চলছে। খুব মজা করে।খাওয়া দাওয়ার এলাহী ব্যাপার ,সবই রাজ আগে থেকে বুক করে রেখেছিল। খাবারের সাথে পানীয়র জমজমাট ব্যবস্থা। নাচ গান হৈ হুল্লোর শেষ হতে হতে রাত বারোটা বেজে যায়। টলতে টলতে বাড়ি যাবার জন্য সবাই ব্যস্ত হয়ে উঠলো। মলয় বলেছিল ওকে বাড়ি পৌঁছে দিবে। রাজ বলেছিল সে একাই চলে যেতে পারবে।সেখান থেকে রাজের বাড়ি খুব একটা দূরে নয়।
রেস্টুরেন্টের বিল মিটিয়ে যখন রাস্তায় নামলো তখন ব্যস্ত শহর টা যেনো ঘুমিয়ে পড়েছে। কাছে এক কবর স্থান আছে তার নাকি তার সন্দর্য্যাকরণ চলছে।লোক জন নিশ্চয় কাজ করবার জন্য এখনো রয়েছে । মেইন রোড ধরে না গিয়ে ওই কবরস্থানের মধ্যে দিয়ে গেলে ওদের বাড়ি অনেক কম সময়ের মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায়।রাজ খুব সাহসী কুসংস্কার ,ভয় ওর মধ্যে নেই। নেশার ঘোরে চলতে একটু অসুবিধা হচ্ছে বটে তবে পুরো মাতাল হয়ে যায় নি। তাই কবরস্থানের ভিতরে কাঁচা রাস্তা দিয়েই রওনা দিলো। চার দিকে ঝোপ ঝাড় জঙ্গলে ভরা জায়গা কোথাও কোথাও মিট মিট করে কম পাওয়ারের হলুদ বাল্ব জ্বলছে। চার দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে উচু উচু ঢিবি।যায় তলায় রয়েছে মানুষের মর দেহ। নিস্তব্ধ এলাকা আলো আঁধারির এই পথে গভীর রাতে চলতে অনেক সাহসী মানুষেরও বুক কাপার কথা। তেমনি রাজের ও কেমন একটু বোধ হতে লাগলো। হঠাৎ ঝুম ঝুম শব্দ শুনে দাড়িয়ে পড়ল।কেউ কি তার পিছন পিছন এগিয়ে আসছে।তার পায়ের নূপুরের শব্দ রাজের সাহসী বুক টা ভয় সংকুচিত হয়ে গেলো। দাড়িয়ে পিছন ফিরে চাইলো , না কেউ নেই পিছনে, শব্দও থেমে গেছে। একটু ভয় তো লাগতেই পারে, দ্রুত পায়ে চলতে লাগলো শব্দের জন ঝান ঝানানি বেড়ে গেলো ।রাজের মনে হলো সেই অশরীরী তার পিছে পাল্লা দিয়ে ছুটে আসছে। এবার ঊর্ধ স্বাসে দৌড়াতে শুরু করলো। কবরস্থানের শেষ সীমায় ওপারে হাইওয়ে সেখানে পৌছতে হবে। মূল ফটকের সামনে আসতেই দেখে পথ আগলে দাড়িয়ে আছে সাদা ধপধপে বিশালাকায় ছায়া মূর্তি। চিৎকার করে বলে উঠতে চাইলো কে ওখানে। কিন্তু গলা দিয়ে আওয়াজ বেড়ালো না । জ্ঞান হারিয়ে সেখানেই পরে গেলো।

ভোরবেলা সেখানকার গার্ড রাজ কে দেখতে পেয়ে চোখে মুখে জল ছিটিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে আনে। তাকে সমস্ত কথা বলার পর হাসতে হাসতে বলে আপনি যাকে দেখে ভয় পেয়েছেন সেটা ভূত নয় এই কবরস্থানের জমি দাতার মৃতি ,যা সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া আছে আজ এটি উন্মোচন করা হবে।আর তার উপর ট্রাকের আলো পড়তে ভূত বলে ভেবে নিয়েছেন। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াতেই পকেটে থাকা খুচরো পয়সার সেই ঝুন ঝুন শব্দ করে উঠলো। নূপুরের শব্দের রহস্য টা বুঝতে পেরে রাজ নিজেকে খুব বোকা মনে করে মিট মিট করে হাসতে হাসতে বাড়ির দিকে পা বাড়ালো।

Story 29.   ছায়ার মায়া।    Part 2.                                             নার্স চলে যেতেই সুমন উঠে বসে কাকু কে দে...
06/03/2025

Story 29. ছায়ার মায়া। Part 2.

নার্স চলে যেতেই সুমন উঠে বসে কাকু কে দেখে বলল_ আমার কি হয়েছিল? মিতালী বললো কি আর হবে মাথা ঘুরে পরে গেলেন তারপর এই হাসপাতাল । আমার এই বন্ধু না থাকলে আজ আর আলো দেখতে হতো না। দিয়া বাধা দিয়ে বললো এসব বলছিস কেনো। সুমন নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে ব্যাথা অনুভব করে বললো _ আপনার বন্ধু রক্ত দিয়েছে বোধ হয়।
বোধ হয় মানে ,না হলে,সুস্থ হলেন কেমন করে মিতালী বললো।
আমার রক্ত নাকি পাওয়া দুষ্কর।
অমনি মিতালী কথা কেড়ে _ আমার বন্ধু কে পাওয়াও কিন্তু তু,,,,, দুষ্কর নয় মুচকি হেসে বললো।
কাকু বললেন ওদের শরীর দূর্বল এখানে কথা বেশি বলবে না। ডাক্তার বাবুর সাথে কথা হলো কাল সুমন কে ছেড়ে দেবে।
দুদিন পর সন্ধ্যায় মিতালিদের বাড়ি আসে দেবাপ্রিয়া ।স্রেফ কি মিতালীর সাথে আড্ডা দিতেই আসা। না কি এক বার সুমনের দেখা পাওয়া,ঠিক তাই। বাড়ি থেকে বেরুনোর সময় একবারে মেঘ না চাইতেই জল।
সুমন গেট খুলে বেরুতে ই সামনা সামনি দিয়া। কি বলবে বুঝে উঠার আগেই সুমন বলল। কেমন আছেন? দিয়া বললো _ দারুন। একটু থেমে_ আপনি?
_আমি ভালো নেই।
_কেন ।
_এই যে পেট।
_ মানে পেটে কি হলো আবার?
_ওসব কিছু না । খাবার চাই তাই হোটেলে যাচ্ছি।
_ও তাই বলেন আমি ভাবলাম অন্য কিছু । চলুন আমি বাড়ি যাচ্ছি।কাছেই আমার বাড়ি।
মাঝে মধ্যেই ওদের দেখা হয় সৌজন্য মূলক কথাও হয়। এভাবে ওরা ধীরে ধীরে কাছে আসতে লাগলো।একদিন দিয়া সুমন কে চায়ের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। দিয়ার মায়ের সুমন কে খুব ভালো লেগে গেলো। একা থাকার কারনে মাঝে মধ্যে রাতে খাবার দিয়ার বাড়িতে সারা হয়ে যায়।
দিয়ার এখন সারা মন জুড়ে শুধুই সুমন। একাকিত্ব জীবন ফুলে ফুলে ভরে গেছে।সে এখন একা নেই দিয়া যেনো তার হৃদ স্পন্দন,
সব চলছিল ঠিকঠাক। হঠাৎ একদিন সুমনের দরজায় দেখে তালা ঝুলছে। কাকুর কাছ থেকে ও জানতে পারল না। কোথায় গেছে। ফোন সুইচ অফ। রাগ হলো খুব দিয়ার। কি এত জরুরি, একবার বলে যেতে তো পারত।
পর পর সাত দিন দরজা খোলা দেখছে না। ভেংগে পড়ল দিয়া, কেনোই জড়িয়ে পড়তে গেলো সুমনের জীবনে।খুব অসহায় বোধ করছে ও।
চাকরির দরখাস্ত নিয়ে এ অফিস ও অফিসে ঘোড়া ঘুরি করতে করতে ক্লান্ত দিয়া। ঝা চক চকে গাড়ি পাশদিয়ে ছুটে বেরিয়ে যেতেই সুমন বলে চিৎকার করে উঠলো দিয়া।ড্রাইভিং সীটে সুমন পাশে সুন্দরী মেয়ে বসা। দিয়ার মাথা ঘুরে গেল। সে বিশ্বাস ই করতে পারছেনা। এই জন্য ঘরে তালা মেরে ঘুরে ফুর্তি করছে।কিন্তু গাড়ি টা কার ,ও কি চাকরি ছেড়ে ড্রাইভার গিরি করছে। তাহলে ঘর বন্ধ করে থাকে কোথায়। এসব ভাবতে ভাবতে টলমল পায়ে মাঝ রাস্তায় উঠে এলো। খেয়ালই করেনি সামনে বিশাল ট্রাক তার দিকে ধেয়ে আসছে।নিমিষে ঘটে গেলো অঘটন।সোজা ট্রাকের তলায়, দুমড়ে মুচড়ে গেলো দেহটা।লোকজন যখন টেনে বের করলো গাড়ির তালা থেকে তখন একটাই শব্দ বের হলো মুখ থেকে "বিশ্বাসঘাতক"।তার পর সব শেষ।
সুমন কাউকে জানাবার সময় টুকু পায়নি।ভোর বেলা কাকার মৃত্যু সংবাদে বেরিয়ে পরে গ্রামের উদ্যেশে। সেখানে নেই বিদ্যুৎ নেই টেলি ফোন টাওয়ার,দিয়ার সাথে সংযোগ রাখতে পারেনি। সকল কাজ কর্ম সেরে দিন দশেক পর রাতের বাস ধরে ফিরে আসে ভাড়া বাড়িতে। ভোর বেলা দরজায় করা নারার শব্দে ঘুম চোখে দরজা খুলতেই দেখে দিয়া ছলছল চোখে দাড়িয়ে। বাইরে তখনও আলো ফোটেনি ।প্রশ্ন করল সুমন এতো ভোর রাত্রে কি ব্যাপার? কোনো কথা বললো না দিয়া সুমনের পাশদিয়ে ঘরে ঢুকে বিছানায় এক কোণে বসলো। দরজা বন্ধ করে কাছে এসে বলল না বলে চলে গেছি তাই অভিমান ।কাকার মৃত্যুর খবরে হঠাৎ করে চলে যেতে হয়। আর আমি তো আসবই । দিয়া বললো ক্ষীণ গলায়_ তবে যে সেদিন ,,,,বলে একটু থেমে আবারও বললো অনেক দেরি হয়ে গেলো যে।সুমন ওর হাত দুটো চেপে ধরে বললো মাত্র তো কটাদিন,আর যে আমরা সারা জীবন একসাথে বলতে ই দরজায় আবার করা নাড়ার শব্দ । দিয়া বললো যাও খুলে দাও।খুলতেই দেখে কাকু চা নিয়ে দাড়িয়ে সকালের আলো ঠিকরে এলো ঘরে।কাকু বললো অনেক রাতে এসেছ টের পেয়েছি।তাই চা নিয়ে এলাম। তুমি কি জেগেই ছিলে?
না হ্যা একটু আগে দিয়া বলে পিছন তাকিয়ে দেখে কেউ নেই ঘরে। এদিক ওদিক তাকিয়ে ডাকতে লাগলো দিয়া দিয়ে বলে। কাকু বললো কাকে ডাকছ দিয়া নেই। কদিন আগে পথ দুর্ঘটনায় মারা যায়। রোজ তোমার খোঁজ নিতে আসতো,আর তাকে ডাকলেও আসবেনা।ও পরশু দুপুরে মারা গেছে।

.             Story 29   ছায়ার মায়া   part _2                                    ভোর বেলা মিতালীর ফোনে ঘুম ভেঙে যায় দ...
25/02/2025

. Story 29 ছায়ার মায়া part _2

ভোর বেলা মিতালীর ফোনে ঘুম ভেঙে যায় দেবপ্রিয়ার। মিতালী ওর বেস্ট ফ্রেন্ড ।এত সকালে কিসের জন্য ফোন। রিসিভ করতেই চেনা মিষ্টি কণ্ঠস্বর।
_ গুড মর্নিং দিয়া।
দিয়া দেবপ্রিয়ার ডাক নাম ।এ নাম শুধু মিতলী ই জানে ।
_কি হলো সকাল সকাল ফোন করছিস।
_ আরে তোকে বলেছিলাম না আমাদের সামনের বাড়িতে একটা দারুন দেখতে ছেলে ভাড়া এসেছে ।
_তো আমি কি করব ,প্রেম নিবেদন করে দে।আর ভোর বেলা এই কথা বলতে ঘুম ভাঙালি ।
_না না খবর টা খারাপ।তোকে এক্ষুনি দরকার।
_ মানে?
_ছেলেটা ঘর থেকে বেরুনোর সময় মাথা ঘুরে পরে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
_তার পর তুই কোলে করে ঘরে নিয়ে শুইয়ে দিয়েছিস তো। হাসতে হাসতে বলল দেবপ্রিয়া।
_সব সময় ইয়ার্কি ভালো লাগে না। শোন ডাক্তার নাকি বলেছে রক্ত নেই। ইমিডিয়েট রক্ত চাই।নইলে খারাপ কিছু একটা হতে পারে।
_বাড়িওয়ালা কাকুর কাছ থেকে শুনলাম ওর নিজের বলতে কেউ নেই। পারার ছেলেরাই হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছে।
_ তো আমি কি করব।
_রক্ত টা তোর সাথে ম্যাচ করে। তুই তো কত জন কে রক্ত দিয়েছিস। নাহয় আর একটা প্রাণ বাঁচা।
_ঠিক আছে ,কখন যেতে হবে।
_দশ টায় ,দাদার সাথে যাব তুই আমার এখানে চলে আসিস।
এই এলাকায় o negetive রক্ত শুধু দেবপ্রিয়ার ই। অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে মাঝে মাঝেই ডাক আসে। কখনও না করতে পারেনি। তার জন্য যদি কোন জীবন ফিরে পায়। এটাও তার কম সুখের ব্যাপার নয় ।
হাসপাতালের বেড়ে শুয়ে রক্ত দিতে দিতে আড় চোখে চেয়ে দেখছে ছেলে টিকে । ঘুমিয়ে আছে ছেলেটা। কোকড়ানো চুল গুলো ঘাড় পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। ফরসা মুখটাতে যেন মায়া মিশে আছে। সত্যি বলেছিল মিতালী। ও যেন এক গ্রীস মূর্তি কে তার শরীরে নির্যাস টুকু ঢেলে দিচ্ছে। মিতালী এসে পাশে বসতেই চোখ ফিরিয়ে নিলো।
মিতালী বললো_ ইলেকট্রিসিটি অফিসে নতুন জয়েন করেছে। ওর নাম সুমন।বাবা মা নাকি কয়েক বৎসরের ব্যবধানে মারা যাওয়ায় একা হয়ে যায়।
_ একা কেন , এখন তো তুই আছিস। মুচকি হেসে বলল দেবপ্রিয়া
_ও তোকে তো বলাই হয় নি, আমার তো বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে বাবা।
কথার মাঝেই বাড়িওয়ালা কাকু হাজির। মিতালী কে বললো তোমার বন্ধু কে সময় মত না পাওয়া গেলে কি যে হত। সুমনের অফিসে ফোন করেছি কেউ আসবে মনে হয়। কথার মাঝেই সুমনের ঘুম ভেঙে যায় । নার্স এসে প্রেসার চেক করল দুজনের তারপর সুই খুলে দিয়ে দেবপ্রিয়া কে বললো আর একটু শুয়ে থাকুন।

Story 28    সব ভূত ভূত নয়  part 2.                            যেমন রাস্তা তেমন বাস। দুলুনি খেতে খেতে কচ্ছপ গতিতে চলছে।য...
17/02/2025

Story 28 সব ভূত ভূত নয় part 2.

যেমন রাস্তা তেমন বাস। দুলুনি খেতে খেতে কচ্ছপ গতিতে চলছে।যান্ত্রিক বিভ্রাটের জন্য রাস্তায় আরো ঘন্টা খানেক লেগে গেল। কন্ডাক্টর ভাড়া নিতে এসে জানালো বাস মধুপুর দিয়ে যাবে না ,ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় বাইপাস হয়ে যাবে। আতঙ্কিত হয়ে বললাম আরে দাদা আমি মধু পুর তাহলে যাব কি করে ।উনি বললেন চিন্তা করবেন না আপনাকে ভুতনির মোড়ে নামিয়ে দেব ওখান থেকে রিক্সা ভান ধরে গেলে দশ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবেন। ভুতনির নাম টা শুনেই গা টা কেমন শির শির করে উঠল।
রাত আটটা নাগাদ ভুতনির মোড়ে বাসটা আমাকে নামিয়ে দিয়ে অন্ধ কারে মিলিয়ে গেলো। নেমে কোনো রিক্সা ই চোখে পড়লো না।এদিক ওদিক চাইতেই একটু দূরে ক্ষীণ আলো চোখে পড়লো।আলো অনুসরণ করে গিয়ে দেখলাম একটা ছোট্ট পান বিড়ির দোকান। দোকানদার দোকান বন্ধ করতেই যাচ্ছিল আমাকে কাছে যেতে দেখে বলল।এখন কিছু দেয়া যাবে না। সব গুছিয়ে নিয়েছি। আমি বললাম না না আমি কিনতে আসিনি শুধু একটা কথা জিগ্গেস করব মধুপুর যাব কেমন করে যদি একটু বলেন।উনি আঙ্গুল তুলে একটু দূরের দিকে দেখিয়ে বললেন।ওই বা দিকের রাস্তা ধরে সোজা চলে যান।আকাশে বাঁকা চাঁদ উঠেছে তাই আবছা একটা রাস্তার মতো দেখতে পেয়ে সেই দিকে রওনা দিতে যাচ্ছি তখন একটু চাপা স্বরে বললেন নতুন লোক সাবধানে যাবেন রাস্তাটা ভালো নয়। আচ্ছা বলে চলতে শুরু করলাম। রাস্তাটা খানাখন্দে ভরা তাই দোকানদার বলেছিল খারাপ রাস্তা। তবে এর থেকেও খারাপ রাস্তায় অনেক গিয়েছি। কিছুটা যেতেই জনমানব হীন এলাকায় পড়লাম। ধানক্ষেতের বুকচিরে রাস্তা চলে গেছে দূরে মিট মিট করে আলো জ্বলা গ্রামটার দিকে। কয় দিন থেকেই উত্তমের মোবাইল কন্টাক্ট হচ্ছেনা সুইচ অফ বলছে। রাত বিরোতে অজানা জায়গায় যাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে তাই ভয় লাগছে না। হঠাৎ ভয়ের মতো ঘটনায় থমকে দাঁড়াতে হল।এতক্ষণ পর খেয়াল হল যখন আমি চলি পাশে ধানক্ষেতের ধানগাছ গুলো কেমন দুলে উঠে।প্রথমে ভেবেছিলাম হাওয়ার জন্য হয় এমনটা।কিন্তু হওয়াতো বইছেনা আর হলে তো দু পাশের খেতেই হওয়ার কথা আর আমি থামা মাত্র সেটাও আর দুলছে না যেন কেউ খেতের। ভিতর দিয়ে আমার সাথেই চলেছে। ইংরেজি সিনেমা জুরাসিক পার্কের সেই দৃশ্যটার মতো মনে হতেই ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে লাগলাম আলোর নিশানা ধরে।এতটা পথে একটা ও লোকের দেখা পেলাম না। তখনও ধেয়ে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলেছে যেনো আমার সাথে। হাঁপাতে হাঁপাতে গ্রামের কাছা কাছি আসতেই এক বাঁশঝাড়ের পাশে উত্তমের সাথে দেখা। ও আমার এই অবস্থা দেখে কেমন উদাস গলায় বলল ভাই পেয়েছিস। ওসব ছিচকের দল তবে কাউকে কিছু করেনা ।ওকে বাসের বিদঘুটে জার্নির কথা বললাম।ও বলল তুই এই পথেই আসবি জানতাম তাই দাড়িয়ে আছি। আমি বললাম তোর না শরীর খারাপ। বাড়ি চল গিয়ে কথা হবে।ও আঙ্গুল তুলেবা একটু দূরে একটা বাড়ি দেখিয়ে বললো তুই বাড়ি যা আমি আসছি। ওর জন্য আনা চার হাজার টাকা হাতে গুজে দেবার জন্য ধরতেই দেখলাম বরফের মতো ঠান্ডা হাত ।চমকে উঠে জিজ্ঞাসা করলাম কিরে তোর না জ্বর তবে শরীর এত ঠান্ডা কেন? আবছা অন্ধকারে মুখটাও ভালো করে দেখতে পাচ্ছিলাম। না। ও বললো টাকা টা আর আমার লাগবে না। সব শেষ হয়ে গেছে তুই বাড়ি যা বলে দ্রুত অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো।
নির্দিষ্ট সেই বাড়িটায় এসে দেখলাম উঠোন জুড়ে সাদা কাপড়ের প্যান্ডেল।বুক টা ছ্যাৎ করে উঠলো।মনে মনে শঙ্কা গুনলাম।ধীর পায়ে উঠানের দিকে এগুতেই উত্তমের মায়ের সাথে দেখা। উনি অপলক দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে থেকে হাউ মাউ করে কাঁদতে লাগলেন। আমি বোবা হয়ে গেছি।উনি বলতে লাগলেন কয়টা দিন আগে এলে দেখা হতো,মারা যাবার আগে তোর কথাই খালি বলছিল। আমি কান্না ধরে রাখতে পেলাম না।
পরদিন টাকা টা কোনরকমে মাসিমার হাতে গুজে দিয়ে চোখে জল নিয়ে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ি সঙ্গে নিয়ে আসি একরাশ বুক ভরা বেদনা।

Address

Bagdogra
Bagdogra
734014

Telephone

+919832479681

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bhoot Bhuture posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Bhoot Bhuture:

Share

Category