হাতছানি

হাতছানি Webzine

 #ইচ্ছেডানা……বিকেল গরিয়ে সন্ধ্যে হতে আর অল্প সময় বাকি। রাত ৮ টায় বিকানির এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট কাটা আছে সবার। সবাই আজ ফ...
15/07/2025

#ইচ্ছেডানা……

বিকেল গরিয়ে সন্ধ্যে হতে আর অল্প সময় বাকি। রাত ৮ টায় বিকানির এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট কাটা আছে সবার। সবাই আজ ফিরে যাবে তাদের নিজ বাসস্থানে। সকাল থেকেই বৃষ্টি পরছে। এখন আর বৃষ্টি নেই। আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। এই শীতের রাতে বৃষ্টির জন্য ঠাণ্ডা আজ একটু বেশি। রেল স্টেশনে সবাই যথা সময়ে পৌঁছে গেছে, ট্রেন এখনো প্ল্যাটফর্মে আসেনি। সবুজ আজ একাই দারিয়ে আছে লাগেজ নিয়ে, বাকিরা একসঙ্গে একটু দূরে দারিয়ে অপেক্ষা করছে ট্রেনের জন্য। পাখি আজ আর সবুজের কাছে আসেনি একবারও, একটি বার কথাও বলার চেষ্টা করেনি। বাকি সহপাঠীরাও কেও সবুজের আজ খোজ নেয়নি, অথছ একি বাসে সবাই স্টেশনে এসেছে ট্রেন ধরার জন্য। নির্ধারিত সময়ে সবাই ট্রেনে চেপে বসল। সবুজের সিট আলাদা বার্থে থাকার জন্য সে নিজেকে একটু আরাল করেই রাখল। দুরন্ত গতিতে ট্রেন ছুটছে যেন আজ ট্রেনেরও গতি চঞ্ছল সবুজের মনের মত। হঠাৎ অসিমের আগমন সবুজের পাশেই ওর বার্থ কনফার্ম হয়েছে আর এ সি থেকে।

আসিম ঃ- কি রে সবুজ তুই আজ একা , সবাই তো ওদিকে আছে, খুব মজা করছে একসঙ্গে ।

সবুজ ঃ- (একটু মুচকি হেঁসে), হ্যাঁয় আজ মজা করার দিন, তাই করছে।

আসিম ঃ- তোর বেপারটা কি বল তো, পাখির সঙ্গে কি কোন ঝগড়া হয়েছে?

সবুজ ঃ- না তেমন কিছু না তবে একটা কবিতার লাইন খুব মনে পরছে “ পারলে বরং ঝগড়া করো, কথায় বারুক কথা,/ তর্ক থেকেও কঠিন জেনো ঠাণ্ডা নীরবতা” ।

আসিম ঃ- বুজলাম, মনের গভীরে অসুখ দানা বেধেছে, রাত হয়েছে অনেক শুয়ে পর। কাল সকালে কথা হবে।

ট্রেন হু হু করে দুরুন্ত গতিতে ছুতে চলছে। ট্রেনের কামরার লাইটও সবাই নিভিয়ে দিয়েছে, শুধু জেগে আছে দুই চঞ্চল মন, না হয়তবা একটি চঞ্ছল মন। কিছুক্ষণ পর ট্রেন এলাহাবাদ স্টেশনে থামল। রাত ১:০০ হবে, খুব কম লোকজন ট্রেনে চেপে বসল, হুইসেল দিয়ে ট্রেন আবার চলতে শুরু করল।

“ ইয়ে রাম পিয়ারি কা চায়, আচ্ছা না লাগে তো পায়সা বাপস” হকারের এই আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে গেল। যারা দিল্লি রুটে যাতায়াত করেন, তাদের কাছে হকারের এই মার্কেটিং স্টাইলে চা বিক্রি করা নতুন কিছু নয়। ট্রেন পাটনা স্টেশনে প্রবেশ করেছে। মুখ হাত ধুয়ে সবুজ এবং অসিম প্রাতরাশ সেরে নিল।

আসিম ঃ- আছা সবুজ একটা কথা বল তো, কিছুদিন থেকে লক্ষ করছি , তুই একা একা থাকছিস, সবার থেকে দূরে কি ব্যাপার?

সবুজ ঃ- না তেমন কিছু নয়।

আসিম ঃ- বুজলাম, কিছু বলতে চাইছিস না, কিছুটা অবশই আন্দাজ করতে পারছি। শোন, এখন আমরা সবাই এখানে এসেছি একটা লক্ষ পূরণ করতে, তাই আমাদের ফোকাস সেদিকেই থাকা উচিৎ।

সবুজ ঃ- সেই ফোকাসটাই তো রাখার চেষ্টা করছি, কিন্তু মন কে নিয়ন্ত্রন করা টা কি এত সহজ?

আসিম ঃ- তোকে একটা কথা বলি, পাখি কিন্তু নিজের ফোকাস ঠিক রাখার জন্যই তোর সঙ্গে আর সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়নি। তাই কোন না কোন ছুতো ওর প্রয়োজন ছিল, তোর থেকে দূরে সরে যাওয়ার জন্য, আর সেটাই সে করেছে। তুই যত তারাতারি বুজবি ততই তোর মঙ্গল।

সবুজ ঃ- আমার তো এরকম মনে হছে না।

আসিম ঃ- (একটু মুচকি হেসে), ভালবাসা এরকম জিনিস যে প্রিয়জনের দোষ চোখে পরে না। আমি তোকে বলছি, পাখি নিজের পায়ে দাড়িয়ে তার লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে কিন্তু তুই যদি এখন না বুঝিস , তবে তোকে এর ফল ভুগতে হবে একদিন, তখন আর তোর কছুই করার থাকবে না।

সন্ধে গড়িয়ে রাত হল। হঠাৎ রিয়া এসে হাজির। সে সবুজ কে তার সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইল সেই কামরায়, যেখানে পাখি এবং অনান্য বান্ধুরা মিলে একসঙ্গ বসে গল্প করছে। সবুজ রিয়ার সঙ্গে গেল না। ওদিকে পাখি সবার সঙ্গে বসে আনান্দ করছে। ও এই ভেবে সস্তি পাচ্ছে যে, সবুজের সঙ্গে আর কোন সম্পর্কে আবদ্ধ থাকতে হবে না। পাখি খুব ভাল করে বুজতে শিখেছে যে, ওর বাবার স্বপ্ন পুরনে, সবুজের সঙ্গে সম্পর্ক বাঁধা হয়ে দারাতে পারে। তাই সে একপ্রকার ইচ্ছে করেই সবুজের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনেছে। ওদিকে সবুজের মনে হতে লাগল যে পাখি ওর সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে তা তার কোন মতে প্রাপ্য নয়। তাই সে ঠিক করল, পাখির সঙ্গে গিয়ে ওর সঙ্গে একতরফা সম্পর্ক ভাঙ্গার জবাব চাইবে। সে একাই বুন্ধুদের কাছে গিয়ে হাজির হল। সবুজকে দেখে সব বন্ধুরাই তাদের গল্প হঠাৎ থামিয়ে দিল। যেন মনে হল সবুজ বহিরাগত। সবুজের এই আচরণ খুব ভাল ভাবে নিল না, তা সে পাসের বার্থে গিয়ে বসল। ঠিক ওই সময়, সুবুজের আরেক সহপাঠী দীপক এসে বলল, পাখি তোর সঙ্গে কথা বলতে চায়। আবার পাখি কে গিয়েও দীপক বলল সবুজ তোর সঙ্গে কথা বলতে চায়। দীপকের চেষ্টা করল যে সবুজ আর পাখি যদি নিজেরদের মধ্য ভুল বোঝাবুঝি কথা বলে মিটিয়ে নেয়, তবে একটা সুন্দর সম্পর্ক অটুট থাকে। যাইহোক পাখি এবং সবুজ একসঙ্গে মুখোমুখি বসল। অনেক্ষন কেও কারও সঙ্গে কথা না বলেই কাটিয়ে দেল। সবুজের মনে হল যাই হোক না কেন, আজ পাখির সঙ্গে একটা বোঝাপড়ায় আস্তেই হবে।

সবুজ ঃ- আমি জানি তুই আমার সঙ্গে কোন সম্পর্ক রাখতে ইছুক নোস, তবুও যেহেতু সম্পর্ক তা তুই শুরি করেছিলে এবং শেষ তাও তুই নিজের মর্জিতেই করছিস, আমার একটাই প্রশ্ন, তুই কেন আমার সঙ্গে এই কাজ করলি।

পাখি ঃ- আমার কিছু করার নেই, আমাদের সম্পর্ক বাবা মেনে নেবেন না, আমাকে নিয়ে বাবার অনেক স্বপ্ন, তাই তোর সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে আমার অনেক অসুবিধা আছে। আমি জানি যে আমার দিক থেকেই এই সম্পর্কটা শুরু করেছিলাম, কিন্তু আমার এখন মনে হয়েছে, এই সম্পর্ক এখানেই শেষ করা উচিৎ। আমি আমার বাবার কথা ছারা কোন কাজ করিনি, আগামিদিনেও করব না।

সবুজ ঃ- হুম বুজলাম, মানে বিয়ে করবি বাবার কথায়, যে তোর বর হবে তার সঙ্গে কথাও বলবি বাবা বললে, বিয়ের রাতেও বাবার কথায়……………, তাই তো?

পাখি ঃ- (সবুজের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে), কিছুকন চুপ করে থেক, তুই এভাবে আমাকে এই কথা বলতে পারলি?

সবুজ ঃ- বলতে বাধ্য হলাম। আর যাই হোক আমার তোকে বিশ্বাস করাটা খুব ভুল হয়েছে। আমারি ভুল। আর কিছু বলব না , শুধু এই কথাই বলব, তুই সারা জীবন ভাল থাকিস।

সবুজ আর কোন কথা না বারিয়ে অন্য কামরায় চলে গেল। পাখি কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে সবুজের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকল। কিছু সময় পরে, প্রায় ৩৬ ঘণ্টার জার্নি করে ট্রেন গন্তব্যে এসে পোঁছাল। রাত ১০ বেজে ২৫ মিনিট। একে একে সবাই স্টেশনে লাগেজ নিয়ে নামল। সবার বাড়ির লোক এসে অপেক্ষা করছে , সবাই একে একে তাদের বাড়ির লোক দের সঙ্গে চলে গেল। শুধু সবুজ তার লাগেজ নিয়ে একাই তার বাড়ির উদ্দেশ্য পারি দিল মিশ্র মনের অবস্থা নিয়ে যেখানে, একদিকে বাড়ির সবার সঙ্গে অনেকদিন পরে দেখা হবে এই খুশিতে, অন্য দিকে মনের এক অগভীর ব্যথা এবং নিরাশা নেয়ে যেখানে তার প্রিয় “পাখি” বেছে নেল অন্য কোন বাসা।

দূর থেকে একটি গানের কলি ভেসে আসছে…

“বুকের এ খাঁচায় জ্বলুক আগুন,
ভালবাসা সর্বনাশা হায় !
এতদিনে বুঝতে পারি ভাষা,
তোর্ এবার নতুন বাসা চাই।

যা, যা পাখি উড়তে দিলাম তোকে,
যা যা যা, খুঁজে নে অন্য কোনো বাসা।
খুঁজে নে অন্য কোনো মন,
ভুলে যা বন্য ভালবাসা।
যা, যা পাখি উড়তে দিলাম তোকে !”

( ক্রমশ)

বিয়ে করতে গেলে ছেলেদের সফল হতে হয়। প্রতিষ্ঠিত হতে হয়। সরকারি চাকরি পেতে হয়। বেসরকারি চাকরি করলে ডিসেন্ট মাইনে পেতে হয়। ব...
28/01/2025

বিয়ে করতে গেলে ছেলেদের সফল হতে হয়। প্রতিষ্ঠিত হতে হয়। সরকারি চাকরি পেতে হয়। বেসরকারি চাকরি করলে ডিসেন্ট মাইনে পেতে হয়। ব্যবসা করলে ব্যবসা ভালো চলতে হয়। শিল্পী হলে ভালো রোজগার হতে হয়। গাড়ি বাড়ি করতে হয়। সমাজে একটা ভালো পজিশন বানাতে হয়।

নাহলে তার প্রেমিকাকে বিয়ে করবে বলে বাড়িতে দেখতে আসে অন্য কোনও সফল ছেলে। নাহলে তার ভালোবাসার মানুষটা বছর পাঁচেক একসাথে থাকার পরে জানায়, 'বাড়ি থেকে মেনে নেবে না রে...'!

কোনও মেয়ের বাড়ির লোকই চান না তাদের বাড়ির মেয়ের বিয়ে এমন কোনও ছেলের সাথে হোক ; যে উপার্জন করে না, বা অল্প উপার্জন করে। যার বাড়ির রংচটা দেওয়াল থেকে খসে পড়ে পলেস্তরা, যে ছেলে এখনও স্ট্রাগল করছে, যে ছেলের জব সিকিউরিটি নেই, যে ছেলে তাদের থেকে অর্থনৈতিক ভাবে অনুন্নত, যে সেই সব আরাম আয়েশ তাদের মেয়েকে দিতে পারবে ন, যা অন্য কোনও সফল ছেলে দিতে পারবে।

যে মেয়েরা এই সবকিছুর বিরোধিতা করে নিজের ভালোবাসার মানুষটির হাত না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই সিদ্ধান্ত বাড়ির অমতে নেয়। অশান্তি করে নেয়। পালিয়ে গিয়ে নেয়।

খুশি খুশি ভাবে 'ওদের জীবন, ওরা বুঝে নেবে', বা , 'দু'জনে মিলে ঠিক সামলে নেবে ওদের সংসার' -এই ভেবে সবটুকু মেনে নেওয়ার মানসিকতা এই সমাজে খুব কম।
তেতো হলেও, এটাই সত্যি...

বাবার যে সম্পদ তৈরি করতে ৬০ বছর লেগে গেছে, সেই সম্পদ ওই ছেলে কি করে ২৮-৩০ বছরের মধ্যে তৈরি করবে এই ছোট্ট কথাটুকু কেউ বোঝে না।

আর মেয়েরা বাবার গরীব অবস্থা কে মেনে নিলেও স্বামীর গরীব অবস্থা কখনোই মানতে পারে না।

কোন এক জায়গায় পড়েছিলাম "জানুয়ারী বা বছরের প্রথম মাস আমাদের দেখায় স্বপ্ন,আর ডিসেম্বর বা বছরের শেষ মাস চেনায় বাস্তবত...
04/01/2025

কোন এক জায়গায় পড়েছিলাম
"জানুয়ারী বা বছরের প্রথম মাস আমাদের দেখায় স্বপ্ন,আর ডিসেম্বর বা বছরের শেষ মাস চেনায় বাস্তবতা।"
কথাটা হয়ত অনেকাংশে সত্যি। হয়ত সত্যিই আমরা অনেকেই সারাবছর চেষ্টা আর লড়াই করেও বছরের শেষে এসে দেখি,যে তিমিরে ছিলাম আজও সেই তিমিরেই আছি বা যা যা চেয়েছিলাম বা আশা করেছিলাম বা হবে ভেবেছিলাম তার বেশিরভাগটাই পূর্ণ হয়নি,রয়ে গেছে অধরা অনেক কিছুই। অনেকে হয়ত আবার হঠাৎই হারিয়েছে তার প্রিয়জনকে বা এক নিমেষে অনেক কিছু—তার চোখের সামনে নেমে এসেছে এক অসীম অন্ধকার। কিন্তু তবুও বলব এই নতুন বছরের প্রথম মাসে দেখা আমাদের অনাগত ভবিষ্যতের মধুর স্বপ্নগুলো,নতুন বছরে এক নতুন জীবনের পরিকল্পনাগুলো,নতুন নতুন আশাগুলোই আমাদের সেই পুরোনো জীবনটাকে আবার নতুন ভাবে বাঁচার,আবার সব প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করার উদ্যম যোগায়। সব বাধা-বিপত্তি সরিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। পুরোনো সব জরা-জীর্ণতা,মলিনতা,ব্যর্থতা কাটিয়ে আবার নতুন ছন্দে জীবনের গল্প লিখে যাই আমরা। মনে হয় যেন জীবন আমাদের আরো একবার সুযোগ দিয়েছে কিছু করে দেখানোর,নতুন করে আবার সবকিছু শুরু করার।
তাই পুরনো বছর আমাদের বাস্তব চেনালেও, সব স্বপ্নপূরণ না হলেও—স্বপ্ন দেখা কিছুতেই ছাড়লে চলবে না। প্রতিটা পুরনো বছর শেষে নতুন বছরের মতো,প্রতিটা রাতের পরে এক নতুন সকালের সূর্যের মতো আবার,বারবার,প্রতিবার বেঁচে উঠুক আমাদের এই স্বপ্ন আর আশাগুলো। শীতের দুপুরের নরম রোদের মতো ভালোবাসা হয়ে লেগে থাক আমাদের গায়ে। আমি বিশ্বাস করি—যাদের স্বপ্ন দেখার সাহস আছে,তাদের মধ্যে ভগবান সেই স্বপ্নপূরণের ক্ষমতাও দিয়েছেন। আর এই নতুন বছরে নতুন দিনের আলোর মতো এই বিশ্বাস,এই স্বপ্ন,আশা আর ভরসাটুকুর নামই বোধহয় জীবন। 😊
#নতুনবছর

 #টকঝালমিষ্টি❤(The show must go on)বছর সত্তরের ভদ্রলোকটি আমার মতোই কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি যাচ্ছেন , পরনে পায়জামা পাঞ্জাবি...
21/12/2024

#টকঝালমিষ্টি❤
(The show must go on)

বছর সত্তরের ভদ্রলোকটি আমার মতোই কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি যাচ্ছেন , পরনে পায়জামা পাঞ্জাবি , তার উপর জহর কোট চাপানো , কম্বলটাকে পায়ের উপর জড়িয়ে বাবু হয়ে বসে এক মনে মোবাইলে টাইপ করে চলেছেন ...মাঝে মাঝে ফিক ফিক করে হাসছেন। বেশ কয়েকবার আমার দিকে তাকিয়ে কি যেন দেখলেন আবার মোবাইলে মনোনিবেশ করলেন । কেন জানি না সেদিন 3rd AC ওই কামরাটি বেশ ফাঁকাই ছিল , ঠান্ডাটা একটু বেশিই লাগছিলো ।
রাত তখন এগারোটা হবে বাকিরা সবাই মোটামুটি ঘুমের দেশে পাড়ি দিয়েছে বা দেবে দেবে করছে । রাত একটার আগে আমার ঘুম আসবে না তাই আমি চাদরটাকে সারা গায়ে জড়িয়ে মোবাইলটাকে নাড়াচাড়া করছিলাম । ভদ্রলোকটি চোখ থেকে হাই পাওয়ারের চশমাটা খুলে আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন কি ঠান্ডা লাগছে my son ..?
ভদ্রলোকটিকে দেখে আমার শিক্ষক বা প্রফেসর মনে হচ্ছিল .... বেশ একটা পারসোনালিটি তার সারা শরীরের ভাষায় প্রকাশ পাচ্ছিল , তার উপর ওনার মুখে my son কথাটি শুনে আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম, বললাম তা একটু লাগছে । ভদ্রলোকটি বললেন এক্ষুনি লাস্ট কফিওয়ালা উঠবে একটু কফি খেয়ে নাও দেখবে ভালো লাগবে । ঠিক তাই দুজনেই কফি নিয়ে বসলাম , একে একে ধেয়ে এলো অতি পরিচিত কিছু প্রশ্ন ---কোথায় থাকো ? কি করা হয় ? সন্তান কটি ? তারা কিসে পড়ে ? কথায় কথায় ভদ্রলোকটি বললেন উনি রবীন্দ্রভারতী ইউনিভার্সিটির বাংলার প্রফেসর ছিলেন । কিছুক্ষন দুজনেই চুপ, তারপর ভদ্রলোকটি শান্ত গলায় জিজ্ঞাসা করলেন কেমন লাগছে জীবনের স্বাদ ? বাড়িতে সময় দেওয়া হয় ? আমি কি বলবো তা ঠিক গুছিয়ে উঠতে পারছিলাম না । ভদ্রলোকটি আমাকে একটু আস্বস্ত করে বললেন আমি জানতে চাইছি জীবনটাকে মিষ্টি লাগছে না তেতো ?
আমি হাসতে হাসতে বললাম টক ঝাল মিষ্টি ...
সকালে নয়টায় অফিস, তারপর ফিরতে ফিরতে সেই রাত আটটা। বাকি সময়টুকু হয় আমার সাথে বউয়ের ঝামেলা নয়তো ছেলের সাথে ছেলের মায়ের ...সকালে ঘুম থেকে দেরি করে কেন ওঠা থেকে শুরু , ছোট ছেলেকে ধরো, homework কেন হয়নি ? খাবার কেন থালায় পড়ে ? স্কুলের ব্যাগ কেন গোছাওনি ? খাটের চাদর কেন লন্ড ভন্ড ? বইগুলো ঠিক জায়গায় নেই কেন ? পা না ধুয়ে কেন খাটে উঠেছ ? কত TV দেখবে ? একটা না একটা বিষয় নিয়ে লেগেই আছে , মাঝে মাঝে অতিষ্ট হয়ে মেজাজ যায় হারিয়ে ....

ভদ্রলোকটি ছোট্ট একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে কম্বলটি বুকের উপর তুলে বলল এটাই তো জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় ...এটাকে অবহেলা কোরো না ....টক ঝাল মিষ্টির এই অতুলনীয় স্বাদটাকে কব্জি ডুবিয়ে চেটেপুটে খাও একেবারে হাতের নখ থেকে কুনুই পর্যন্ত । একটা সময় আসবে যখন ঘরে ঢুকে দেখবে চারিদিক নিঃশব্দ , বিছানার চাদরটা টান টান করে পাতা , মা-মেয়ের প্রতিদিনের খন্ডযুদ্ধ কোনো এক অলৌকিক ইশারায় চিরতরে অবসান ঘটেছে , মনে হবে চাদরটা দু হাত দিয়ে আবার লণ্ডভণ্ড করে অপূর্ণ যুদ্ধের দামামা বাজাই ...বইয়ের তাকটা পরিপাটি করে সাজানো হালকা সাদা ধুলোর আস্তরণ বইগুলোতে লেপ্টে আছে ...মনে হবে সব বইগুলো পরিষ্কার টেবিলটার উপর আছড়ে ফেলে অসমাপ্ত অঙ্ক গুলোকে ছোটো ছোটো হাত দুটো ধরে আর একবার কষাই ...সব কিছু ঠিকঠাক কিন্তু চারিদিক মরুভূমির নিঃসঙ্গতা , সন্তানের পরিচিত গন্ধকে একটিবার পাওয়ার আশায় এঘর ওঘর শুধু ঘুরপাক খাওয়া , বাড়ি থেকে বেরোবার সময় পেছনে নড়বে না কোনো আদুল হাতের টাটা , TVটা আপন মনেই চলতে থাকে কেউ কেড়ে নেয় না রিমোট টা অযথা বাহানায় , খাবার টেবিলেই শুকোতে থাকে এঁটো হাত, কেউ ছোবল দেয় না আর ডিমের কুসুমে , মোবাইলের ওপারে আদুরে আওয়াজ প্রতিদিন থেকে প্রতি সপ্তাহে, প্রতি সপ্তাহে থেকে প্রতি মাসে গিয়ে ঠেকবে , দুদিনের জন্য আসবে, যাবার সময় ব্যাগের ভিতর নিয়ে যাবে হাটি হাটি পা পা থেকে একটু একটু করে গড়ে তোলা সব স্বপ্ন ....দৃষ্টি শক্তি ধীরে ধীরে লোপ পাবে , বাড়বে শুধু ওষুধের সংখ্যা , অনিদ্রায় চোখ দুটো হয়ে উঠবে আরো নিশাচর ......

ভদ্রলোকটির প্রতিটি কথা ট্রেনের বিকট আওয়াজ পেরিয়ে বুকের ভিতর যেন তীরের মতো বিঁধছিল , আমি বললাম তাহলে বাঁচার উপায় ? ভদ্রলোকটি একটু ধরা গলায় বললেন শীতের ঝরা পাতার মতো যদি ঝরে পড়ো তবে কেউ ফিরেও তাকাবে না ... উপরে সবুজ পাতার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে অচিরে বিলীন হবে মাটির বুকে ...সবুজ পাতার মতো ফুটে উঠতে হবে ওই জীর্ণ বট বৃক্ষে । পুরোনো বন্ধুদের সান্নিধ্যের আগুনে মনটাকে সেকতে হবে ঠিক যেমন কনকনে শীতের রাতে কাঁপতে কাঁপতে এক টুকরো আগুনকে ঘিরে ধরে একটু ভালো লাগার উষ্ণতা সারা শরীরে মাখতে ইচ্ছা করে...
একমাত্র বন্ধুই পারে তোমার ক্ষয়ে যাওয়া জীবনে অফুরন্ত হাসির ফোয়ারা প্রলেপ লাগাতে , তাইতো আমি সময় অসময় চোখ রাখি ওই মোবাইলের ছোটো জানালায় ...তাতে ভেসে ওঠা পুরোনো বন্ধুর এক একটা শব্দ সবুজ পাতার ফাঁক দিয়ে ঠিকরে বেরিয়ে আসা এক একটি সূর্যরশ্মি। সযত্নে আগলে রেখো পুরোনো বন্ধুত্বকে । আজকের প্রতিদিনের কর্মযুদ্ধে হারিয়ে ফেলো না তাদের বন্ধুত্বের হাতছানি । আমি আজ যাচ্ছি আমাদের বন্ধুদের মিলন সমারোহে ....তিন মাস অন্তর অন্তর আমরা মিট করি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে । গান , বাজনা , হাসির কোলাহলে ডুবে থাকি দুদিন ...খুঁজে পাই বেঁচে থাকার অক্সিজেন ....

পরদিন ভোর বেলায় যখন শিলিগুড়ি স্টেশনে নামলাম দেখলাম গোটা পনেরো সত্তর বছরের যুবক ভদ্রলোকটিকে ঘিরে ধরেছে ....হাসতে হাসতে তারা এগিয়ে চলেছে নতুন ভুবন গড়তে ...আমাকে দেখে ভদ্রলোকটি হাত নেড়ে বললো look my son এরাই আমার এক একটি সবুজ পাতা .....

জানি না ২০ বছর পর আমাদের ভবিষ্যৎ কি হবে ? জানি না মোবাইলে টাইপ করার শক্তি হাতে মজুত থাকবে কি না ? হয়তো ধীরে ধীরে চোখের দৃষ্টি আবছা হয়ে আসবে ...গ্রুপের গানের আসর হয়তো তখনো একই রকম ভাবে জমে উঠবে কিন্তু হঠাৎ করেই বেইমান হয়ে উঠবে আমার শ্রবণ শক্তি , আস্তে আস্তে শিথিল হবে আমার স্মৃতিশক্তির বাঁধন ....তবু থেমে যেন না যায় বন্ধুত্ব...❤

রবি ঠাকুর বলেছিলেন,“পৃথিবীতে কাহারও অভাবে অধিক দিন কিছু শূন্য থাকে না।”সত্যিই তো!আজ অবধি দেখি নাই;কেউ জীবন থেকে হারিয়ে গ...
09/12/2024

রবি ঠাকুর বলেছিলেন,“পৃথিবীতে কাহারও অভাবে অধিক দিন কিছু শূন্য থাকে না।”

সত্যিই তো!আজ অবধি দেখি নাই;কেউ জীবন থেকে হারিয়ে গেলে কারো জীবন তার জন্য মন্থর হয়ে গেছে!বরং সেই মানুষটার শূন্যস্থান কোনো না কোনো সময়ে ঠিকই পূরণ হয়ে গেছে-হয়ে যায়।

কত ভালোবাসা-বাসি,কত মনের টান,কত স্মৃতি উপেক্ষা করে মানুষ দিব্যি ভালো থাকে নতুন মানুষ নিয়ে!
পৃথিবীতে সত্যিই কোনো কিছুর জন্যই জীবন থেমে থাকে না!

যে মানুষটার সাথে যুগের পর যুগ একসাথে থাকা,যে মানুষটা ছাড়া সত্যিই ভালো থাকা যায় না,দম নেয়া যায় না বলে একটা সময় মনে হতো,সেই মানুষটা ছেড়েই মানুষ দিব্যি ভালো থাকা শিখে নেয়!

মানুষ যেখানে প্রেম-ভালোবাসা,আদর-স্নেহ,সময়-যত্ন বেশি পায়,সেখানেই মানুষ ভালো থাকে।আর কখনো কখনো এর বিপরীত হলেও মানুষ নিজেকে মানিয়ে নেয়-নিতে পারে একটা সময়।

সময় পরিবর্তনশীল;সেই সাথে মানুষও!
জীবনে অনেকেই আসে আবার চলেও যায়,তবে এই আসা যাওয়ার মাঝে মানুষ ক'জনকে ঠিক মনে রাখে?

জীবনানন্দ দাশের একটা কথা আছে, “প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়!”
ঠিক মানুষও নক্ষত্রের মতো;এই আছে আবার এই নেই!
মানুষের হৃদয়ে প্রেম ঠিকই থাকে,শুধু প্রেম আদান-প্রদানের মানুষটার রদবদল হয়!

Address

Alipurduar

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হাতছানি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category