Bangladeshi Hindu Community Cork Ireland

Bangladeshi Hindu Community Cork Ireland I have created this page to invite people for Bangladeshi festival celebration as i am organizing i

‘কামদা’ একাদশীর ব্রতোপবাস১১ জুন ,বৃহস্পতিবার,২০২৬ পরদিন দি ৯:২১ মিনিটের মধ্যে একাদশী ব্রতের পারণ [একাদশীতে কী কী করা এবং...
11/06/2026

‘কামদা’ একাদশীর ব্রতোপবাস
১১ জুন ,বৃহস্পতিবার,২০২৬
পরদিন দি ৯:২১ মিনিটের মধ্যে একাদশী ব্রতের পারণ
[একাদশীতে কী কী করা এবং খাওয়া উচিত নয়
একাদশী একটি চান্দ্র তিথি। হিন্দুধর্মমতে এ দিন বিধবাদের, বিশেষত উচ্চবর্ণীয় বিধবাদের নিরম্বু উপবাস বিহিত। অবশ্য বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে যে কেউ একাদশী পালন করতে পারেন। এই সময় সাধারণত ফলমূল ও বিভিন্ন সবজি এবং দুধ খাওয়া যায়। তবে একাদশীতে পঞ্চরবি শস্য বর্জন করা বাঞ্ছনীয়।
এখন দেখে নেওয়া যাক একাদশীতে কোন পাঁচ প্রকার রবিশস্য গ্রহণ নিষিদ্ধ:
১। ধান জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন চাল, মুড়ি, চিড়া, সুজি, পায়েস, খিচুড়ি, চালের পিঠা, খই ইত্যাদি
২। গম জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন আটা, ময়দা, সুজি, বেকারির রুটি, সব রকম বিস্কুট, হরলিকস ইত্যাদি।
৩। যব বা ভূট্টা জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন ছাতু, খই, রুটি ইত্যাদি।
৪। ডাল জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন মুগ, মাসকলাই, খেসারি, মুসুরী, ছোলা, অড়হর, মটরশুঁটি, বরবটি ও সিম ইত্যাদি।
৫। সরষের তেল, সয়াবিন তেল, তিল তেল ইত্যাদি। উপরোক্ত পঞ্চ রবিশস্য যে কোনও একটি একাদশীতে গ্রহণ করলে ব্রত নষ্ট হয়।]
অদ্য কামদা একাদশী। শ্রীবাসুদেবের ষোড়শ উপচারে পূজা। প্রাতে স্নানাদি নিত্যক্রিয়া সমাপনান্তে সঙ্কল্প মন্ত্র উচ্চারণ—“ওঁ শ্রীবিষ্ণুঃ ওঁ শ্রীবিষ্ণুঃ ওঁ শ্রীবিষ্ণুঃ” মন্ত্রে আচমন পূর্ব্বক হস্তে পুষ্প ধারণ করতঃ বলবে— হে দেব। হে পুণ্ডরীকাক্ষ! হে বাসুদেব! অদ্য শ্রীহরিবাসরে ষোড়শোপচারে আপনাকে পূজা করব, দিবারাত্র আপনার কথা শ্রবণ করব, আপনার আরাধনায় যদি কিছু ত্রুটি হয়, নিজ গুণে ক্ষমা করবেন। পুষ্পাঞ্জলি ভগবদ্ চরণে অর্পণ করবে।
পূজামন্ত্র— “ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়।” এই দ্বাদশাক্ষর যুক্ত মন্ত্রে আসন, পাদ্য, অর্ঘ্য, মধুপর্ক, আচমন, তৈল, স্নানোদক, পঞ্চমৃতে স্নান, চন্দনোদকে স্নান, বস্ত্র, তিলক, উপবীত, অলঙ্কার, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, মাল্য প্রদান পূর্বক পূজা করবে ও স্তব পাঠাদি করবে। নৈবেদ্য থালি, তণ্ডুলের অন্ন, পায়স, ক্ষীর, পুলি, সর, খেচরান্ন, পুরী, লাড্ডু, আপুপ ও সরবৎ, ইক্ষু, খর্জুর, পনস, আম, জাম্বু, লেবু, দাড়িম্ব আপেল প্রভৃতি ফল প্রদান করবে।
প্রণাম মন্ত্র—-
ওঁ নমো ব্ৰহ্মণ্য দেবায় গো ব্রাহ্মণ হিতায় চ।
জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।
শ্রীরাধিকা প্রণাম——
তপ্ত কাঞ্চন গৌরাঙ্গি রাধে বৃন্দাবনেশ্বরী।
বৃষভানু সুতে দেবি প্রণমামি হরিপ্রিয়ে।।
স্তুতি—
ওঁ নমো বিশ্বরূপায় বিশ্বস্থিত্যন্ত হেতবে।
বিশ্বেশ্বরায় বিশ্বায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।।
নমো বিজ্ঞানরূপায় পরমানন্দরূপিণে।
কৃষ্ণায় গোপীনাথায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।।
কৃষ্ণায় বাসুদেবায় দেবকীনন্দনায় চ।
নন্দগোপকুমারায় গোবিন্দায় নমো নমঃ ।।
মধ্যাহ্নকালে ভোগরাগান্তে মহানীরাজন, সঙ্কীর্ত্তন, নৃত্য, গীত ও স্তব স্তুতি প্রণাম দণ্ডবৎ করবার পর ভক্তসঙ্গে গীতা, ভাগবত অধ্যয়ন এবং শ্রীবাসুদেবের কথা শ্রবণ কীর্ত্তন। অহোরাত্র হরিসঙ্গীৰ্ত্তন।
পরদিবস প্রাতে দ্বাদশীতে স্নান, ধৌতবস্ত্র পরিধান, শালগ্রামের স্নান, অর্চ্চন, ভোগরাগ ও পারণ প্রভৃতি। দ্বিপ্রহরে বৈষ্ণব ব্রাহ্মণ সেবা, দান দক্ষিণা। অতিথি সেবা এবং বন্ধু বান্ধবাদির সহিত প্রসাদ সেবন।
শ্রীবাসুদেব মহিমা শ্রবণ—(তথাহি ভাগবত দশমে) শ্রীনৈমিষারণ্যে শ্রীসুত ও শৌনক ঋষি সংবাদে—সত্যযুগে পৃশ্নি ও সুতপা নামক প্রজাপতি দম্পতিকে ব্রহ্মা প্রজা সৃষ্টি করবার নির্দেশ দিলেন। পৃশ্নি ও সুতপা পুত্র কামনা করে শ্রীনারায়ণের আরাধনা করতে লাগলেন। বহু বর্ষকাল নিরাহারে ফলমূলাদি মাত্র ভোজন পূর্ব্বক তপস্যা করতে লাগলেন। শ্রীনারায়ণ তাঁদের কঠোর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দর্শন দিলেন।
শ্রীনারায়ণ বললেন—তোমরা বাঞ্ছিত বর গ্রহণ কর। হে ভগবান! আপনার কাছে ভক্তগণ ভববন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে নিত্য সেবা আকাঙ্ক্ষা করেন, আমরা ব্রহ্মার আদেশে আপনার ন্যায় একটি সন্তান কামনা করছি।
নারায়ণ বললেন—তথাস্তু। আরও বললেন— দ্বাপর যুগান্তে তোমরা যদুবংশে দেবকী ও বসুদেব নামে জন্মগ্রহণ করবে। তৎকালে আমি তোমাদের গৃহে আবির্ভূত হব এবং ‘বাসুদেব' এই নাম ধারণ করব। এই বলে নারায়ণ অন্তর্হিত হলেন।
যদুবংশে দেবমীঢ় নামে এক ধর্ম পরায়ণ রাজা জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সারিষা নামক পত্নীর গর্ভে শূর নামে এক পুত্র হন। শূর রাজাসন প্রাপ্ত হয়ে শূরসেন নগরী স্থাপন করেন। এই শূর রাজার দশটি পুত্র হয়। তার বড় পুত্র হলেন বসুদেব। বসুদেবের জন্মকালীন দেবগণ দুন্দুভি ধ্বনি করেছিলেন। তজ্জন্য তাঁর এক নাম ছিল আনক দুন্দুভি। শুর রাজার পৃথা, শ্রুতদেবা, শ্রুতকীৰ্ত্তি, শ্রুতশ্রবা ও রাজাধিদেবা নামে পাঁচটি কন্যা হয়েছিল। পৃথার নামান্তর কুন্তীদেবী। তাঁকে পাণ্ডুরাজ বিবাহ করেন। তার গর্ভে পঞ্চপাণ্ডব জন্মগ্রহণ করেন।
উগ্রসেন রাজার ভ্রাতা দেবক। দেবকের কন্যা দেবকী; বসুদেবের সহিত দেবকীর বিবাহ হল। উগ্রসেন রাজার বড় পুত্র কংস। কংস স্বয়ং ভগ্নীগণের বিবাহের ভার গ্রহণ করল। দেশ বিদেশ থেকে ভাল ভাল বাদক, গায়ক ও নর্ত্তক আনলো। বিবাহের বাসরটি খুব জাঁক-জমকপূর্ণ করল। বিবিধ সাজ সজ্জায় সাজাল। বিবাহ রাতে বাজনার, নৃত্যের ও গানের ঘটা এমন হল যে কি করে রাত শেষ হল কেউ টের পেল না। খুব আনন্দের ঘটা হল।
পরদিবস প্রাতঃ বর-বধূর বিদায় কাল। বর-বধূকে যৌতুক স্বরূপ চারশত হাতি, সেই পরিমাণ অশ্ব, দুইশত দাসী, আর অলঙ্কার বস্ত্রাদির কথা ত’ গণনা নাই। কংস স্বয়ং একখানি রথ বহুবিধ সাজসজ্জায় সজ্জিত করে তাতে বসিয়ে নব বর-বধূকে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করল। তারপর বর-বধূ যাবার শুভ সময় উপস্থিত হল। কন্যা বিদায়কালীন মায়ের প্রীতি প্রেমাশ্রু বিসর্জ্জন একটি অধ্যায়।
কংস রথের পরিচালক হল। বর-বধু রথে বসলেন। তৎকালে শুভ শঙ্খধ্বনি, মৃদঙ্গ ধ্বনি, কাহাল, সানাই, দুন্দুভি ও শিঙ্গা প্রভৃতি এমন ধ্বনিত হল, গগন পবন, দ্যুলোক ভূলোক ভরে গেল। চতুৰ্দ্দিকে কেবল আনন্দ কোলাহল। গায়ক, নৰ্ত্তক- নৰ্ত্তকী আগে আগে চলেছে। বাদকগণ বিবিধ ঢঙে বাজনা বাজিয়ে পিছে পিছে চলছে। এমন সময় পথে হল দুর্ঘটনা আকাশবাণী। ‘রে কংস! তুই যে দেবকীকে আজ নিয়ে চলেছিস্ এর অষ্টম গর্ভস্থ শিশু তোর প্রাণ সংহার করবে। তিনবার এই ধ্বনি হল। ভোজকুল কলঙ্ক কংস সেই দৈববাণী শ্রবণমাত্রই অগ্নিসম জ্বলে উঠল ও অমনি রথের থেকে লাফ দিয়ে ভূমিতে নেমে বাম হাতে দেবকীর কেশগুচ্ছ, আর এক হাতে শাণিত অসি। কি ভয়ঙ্কর বীভৎস মূৰ্ত্তি!এ দেখেই বাদক, নৰ্ত্তক-নর্তকী ভয়ে ঊর্দ্ধশ্বাসে কে কোন দিকে পালাল তার ঠিক নেই। চতুর্দিক নীরব, নিস্তব্ধ, ঘোরতর মহাপাপে আজ মথুরা অন্ধকারাচ্ছন্ন, কেবল পবনদেব শোঁ শোঁ রবে যেন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছেন।
তখন মহাত্মা বাসুদের সেই ঘোরতর বিপদ হতে কি করে উদ্ধার হবেন, মনে মনে বিপদভঞ্জন শ্রীমধুসূদনের শরণ গ্রহণ করলেন। অতঃপর মহাত্মা বসুদেব অতি বিনয় বাক্যে বলতে লাগলেন—হে বীর! হে ভোজকুল যশস্বী! আপনি ধর্মাত্মা, আপনি বিচার করুন, এ দীনা দেবকী আপনার কন্যাতুল্যা বালিকা, আপনার স্নেহপাত্রী। আপনি দীনবৎসল, অতএব এই দীনা ভগিনীকে বধ করা কখনই উচিত নহে। তাহলে জগতে আপনার ভয়ঙ্কর অপযশ হবে।এ দেবকীর থেকে কোন ভয়ের কারণ নেই। এর অষ্টম গর্ভস্থ সন্তানই ভয়ের কারণ। তজ্জন্য আমি প্রতিজ্ঞা করে বলছি এর গর্ভে যতগুলি সন্তান হবে সব সন্তান আপনাকে দান করব। একথা কখনই মিথ্যা হবে না। আমি ক্ষত্রিয় সন্তান।
কংস এসব বাক্য শুনে রথ পরিত্যাগ করল, আর বললো কথা যেন অন্যথা না হয়। বসুদেব পত্নীকে নিয়ে গৃহে এলেন।
ক্রমে বসুদেবের ঔরসে দেবকীর গর্ভে প্রতি বৎসর একটি করে সন্তান হতে লাগলেন। বসুদের বাক্য সত্যের জন্য ঐ পুত্রটিকে নিয়ে কংসকে অর্পণ করেন। কংসের মন এখন ভাল। বলে ভাগ্নেকে মারব? না, একে ঘরে নিয়ে যাও। বসুদেবের ছয় পুত্র হল, ছয় পুত্রই কংসের কাছে এনে দিলেন, কংস সব পুত্রকে ফেরত দিল। সপ্তম সন্তান গর্ভে এল। এই সময় শ্রীনারদ মুনি ভ্রমণ করতে করতে কংস সভায় আগমন করলেন। কংস খুব আদর করে সভাতে বসাল এবং জিজ্ঞাসা করল, আমার সম্বন্ধে কোন স্থানে কোন কিছু আলোচনা হচ্ছে নাকি? শ্রীনারদ বললেন—হ্যাঁ হচ্ছে। কোথায় হচ্ছে? দেবনগরে স্বর্গে। বহু দেব নরলোকে এসেছেন। বসুদেবের পুত্র সব দেবতা, তোমার শত্রু। এ কথা বলে শ্রীনারদ মুনি চলে গেলেন। কংস ক্রোধে প্রজ্বলিত অগ্নি সমান জ্বলে উঠল, বললে সব যাদবকে বন্দী কর। দেবকী ও বসুদেবকে কারাগারে রুদ্ধ কর। বসুদেবের ছয়টি পুত্রকে বন্দী করে আনয়ন কর। চরগণ তৎক্ষণাৎ ছয়টি পুত্রকে বন্দী করে নিয়ে এল। কংস স্বহস্তে তাদের হত্যা করল। মথুরা নগরী ঘোরতর পাপাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। পাপ তমসাচ্ছন্ন মধুপুর হতে সাধু যাদবগণ প্রায় পলায়ন করলেন।
দেবকীর সপ্তম গর্ভে স্বয়ং বৈষ্ণব ধাম অনন্তদেব এলেন। ঐ গর্ভ সপ্তম মাসে, বৃন্দাবনে বসুদেবের দ্বিতীয় পত্নী রোহিণী দেবীর গর্ভে, যোগমায়া দেবকী দেবীর সেই গর্ভ আকর্ষণ করে স্থাপন করলেন। গোকুলে শ্রাবণ পূর্ণিমা তিথিতে শ্রীবলদেবের আবির্ভাব হল।
অতঃপর ভক্তগণের অভয়দানকারী ভগবান্ তাঁর পূর্ণ স্বরূপে প্রথমে বসুদেবের চিত্তে আবির্ভূত হলেন। অনন্তর ঐ তেজঃপুঞ্জ যেন বসুদেবের হৃদয় হতে সৰ্ব্বদেবময়ী শ্রীদেবকী দেবীর গর্ভসিন্ধু আশ্রয় করলো। তৎকালে দেবকী দেবীর অঙ্গ হ’তে এক অপূর্ব তেজঃপুঞ্জে কারাগৃহখানি যেন আলোকিত হয়ে উঠল। কংস তৎকালে দেবকী দেবীকে দেখে বলতে লাগলো—আমার প্রাণ নাশকারী হরি নিশ্চয় দেবকীর গর্ভে প্রবিষ্ট হয়েছে। কেননা ইতঃপূর্ব্বে এইপ্রকার প্রভাবতী ছিল না। এখন আমার কর্ত্তব্য কি? দেবকী স্ত্রী-জাতি ভগিনী, তাতে আবার গর্ভিণী । তার বধে আয়ু সদ্যই বিনাশ হবে। কংস এ প্রকার বিচার করে দুষ্কার্য্য হ’তে বিরত হল। ভোজনে, শয়নে, গমনাগমনে ও উপবেশনে সর্ব্বাবস্থায় হরিকে চিন্তা করতে লাগল। এমন সময় সর্ব্বমঙ্গলময় শ্রীহরির আবির্ভাবকাল উপস্থিত হল। গ্রহ, নক্ষত্র ও তারকাগণ শান্তভাব ধারণ করল। রোহিণী নক্ষত্র সমাগত হল। দিক্‌সকল প্রসন্ন ভাব ধারণ করল। নগর, গ্রাম, গোষ্ঠ, নদ ও নদী স্বচ্ছ ভাব ধারণ করল। সরোবর ও হ্রদসমূহে পদ্মসকল শোভিত হল। বনরাজিতে কোকিলাদি মধুর ধ্বনি করতে লাগল। পুষ্পসমূহে ভ্রমর সকল মধুর গুণ গুণ ধ্বনি করতে লাগল। পুণ্য গন্ধবাহী বিশুদ্ধ বায়ু প্রবাহিত হতে লাগল। যাজ্ঞিক ব্রাহ্মণ গণের শান্ত যজ্ঞানল পুনরায় প্রজ্জ্বলিত হয়ে উঠল। সাধুগণের চিত্ত প্রসন্ন হল। গগনে দেবদুন্দুভি ধ্বনি বেজে উঠল। কিন্নর, গন্ধর্ব্ব, সিদ্ধ ও চারণগণ স্তব গান করতে লাগল। আনন্দে বিদ্যাধরী ও অপ্সরাগণ নৃত্য করতে লাগল। দেবতা ও মুনিগণ আনন্দে পুষ্প বৃষ্টি করতে লাগলেন। ভগবানের আবির্ভাব উপক্রম দর্শনে সমুদ্র আনন্দে গর্জ্জন তৎসহ নদীগণও হিল্লোলরূপ ভুজ উত্তোলন পূর্ব্বক নৃত্য করছিল এবং গগনে মেঘসমূহ সমুদ্রদেবের সহ গর্জ্জন করছিল।
অতঃপর পূর্বদিকে উদিত চন্দ্রের ন্যায় শ্রীবিষ্ণু দেবকী দেবীর গর্ভসিন্ধু হ’তে যেন প্রকাশিত হলেন। দেবকী দেবীর গর্ভসিন্ধু থেকে আবির্ভূত বালকের রূপটি কিরূপ তা বলছেন—
তমদ্ভুতং বালকমম্বুজেক্ষণং চতুর্ভুজং শঙ্খগদাদ্যদায়ুধম্ ।
শ্রীবৎসলক্ষ্মং গলশোভিকৌস্তুভং পীতাম্বরং সান্দ্র পয়োদসৌভগম্।।
—(ভাঃ ১০।৩।৯)
সেই অদ্ভুত বালকের লোচনদ্বয় কমলতুল্য। তিনি চতুর্ভুজ শঙ্খ, গদা প্রভৃতি অস্ত্রধারী বক্ষঃস্থলে শ্রীবৎসালংকৃত, গলদেশে কৌস্তুভমণি, পীতবর্ণ বস্তু পরিহিত, বর্ণ নিবিড় জলধরসদৃশ। মহামণিরত্ন খচিত উজ্জ্বল মুকুট শিরে, কর্ণে কুণ্ডল ও শিরে স্নিগ্ধ শ্যামবর্ণ ঘন কুঞ্চিত কেশসমূহ শোভা পাচ্ছিল।
শ্রীবসুদেব তৎকালে শ্রীহরিকে পুত্ররূপে দর্শন করে আনন্দে পরিপ্লুত হয়ে মনে মনে তৎক্ষণাৎ দশ হাজার গাভী ব্রাহ্মণ গণকে দান করলেন। এরূপে কৃষ্ণাবির্ভাব উৎসব সমাপ্ত করলেন।
অতঃপর বসুদেব ও দেবকী ঐশ্বর্যভাবে মুগ্ধ হয়ে স্তব করতে লাগলেন। এত ঐশ্বর্য্যময় ভাবের মধ্যে তাঁর বাল্যলীলা শোভা পাবে না বলে তিনি আদেশ করলেন—তোমরা আমাকে গোকুলে শ্রীনন্দগৃহে নিয়ে রাখ। তাই বসুদেব তাঁর বাসুদেবকে নিয়ে গোকুলে এলেন এবং যশোদার কোলে রেখে যশোদার কন্যাটিকে নিয়ে ফিলে এলেন মথুরায়।
দেবকী দেবী সেই কন্যা কোলে নিয়ে শুয়ে রইলেন। পুনর্ব্বার কংস কারাগারে দ্বার রুদ্ধ হয়ে গেল, পায়ের বেড়ি লাগল। এমন সময় কন্যাটি জোরে কেঁদে উঠল। দ্বারপালগণের নিদ্রা ভেঙ্গে গেল। অমনি ছুটল কংসাসুরের কাছে। কংসেরও ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্নে নেত্রে নিদ্রা ছিল না। দ্বারপালগণের আহ্বানে চমকে উঠল। আলুলায়িত কেশে শাণিত খড়্গ হাতে সোজা চলে এল কারাগারে। দেবকীকে বললো—কৈ আমার কাল? দেবকী বললেন—এটি পুত্র নয় কন্যা। কংস বললে যা হউক আমার শত্রু। এ বলে দেবকীর কোল থেকে উঠিয়ে নিল এবং তার পায়ে ধরে শিলোপরি আছাড় মারতে উদ্যত হল।
সা তদ্ধস্তাৎ সমুৎপত্য সদ্যো দেব্যম্বরং গতা।
অদৃশ্যতানুজা বিষ্ণোঃ সায়ুধাষ্টমহাভুজা।।
(ভাঃ ১০-৪-৯ )
তৎকালে সেই বিষ্ণু অনুজা অষ্টভুজা মহামায়া কংস হস্ত হ’তে স্খলিত হয়ে তৎক্ষণাৎ আকাশ মণ্ডলে অবস্থান পূর্ব্বক বলতে লাগলেন—রে মূঢ়! আমাকে বধ করে তোর কি ফল হবে? যিনি তোর পূর্ব্ব শত্রু-বিনাশক তিনি কোন স্থানে উৎপন্ন হয়েছেন।
কংস একথা শ্রবণ করে অবাক বিস্ময়ে বলতে লাগল—এতদিন পরে জানতে পারলাম দেবতাগণও মিথ্যা কথা বলেন। অনন্তর দেবকী বসুদেবকে কারাগার থেকে মুক্ত করে অনুনয় বিনয়ের সহিত ঘরে পাঠিয়ে দিল।
বসুদেব ও দেবকী নিত্য পুত্র বাসুদেবের চিন্তানন্দে বিভোর হয়ে রইলেন।
হরিগুরু পাদপদ্ম করিয়া স্মরণ।
বাসুদেব জন্মকথা মহিমা বর্ণন৷৷
এথায় সমাপ্ত কৈল ওহে সাধুজন।
চরণেতে স্থান পাই এই নিবেদন।।
ইতি কামদা একাদশী বাসুদেব মহিমা কথা সমাপন।

পরমা একাদশীর মাহাত্ম্যমহারাজ যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে পুরুষোত্তম মাসের একাদশী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন যে, ক...
10/06/2026

পরমা একাদশীর মাহাত্ম্য

মহারাজ যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে পুরুষোত্তম মাসের একাদশী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন যে, কাম্পিল্য নগরে সুমেধা নামে এক ব্রাহ্মণ বাস করতেন। তার স্ত্রীর নাম ছিল পবিত্রা। কিন্তু পূর্বকর্মফলে এই ব্রাহ্মণ ধনহীন হয়ে পড়েন। ভিক্ষা চেয়েও তার কিছুই জুটত না। পূর্ব জন্মে তারা কেউই ধন-সম্পদ ইত্যাদি কোন কিছুই সৎপাত্রে দান করে নি। একদিন মুনি শ্রেষ্ঠ কৌণ্ডিন্য সেখানে এলেন। ব্রাহ্মণ সস্ত্রীক মুনিকে প্রণাম জানালেন, পূজা করলেন ও ভোজন করালেন। এরপর তারা জিজ্ঞাসা করলেন কিভাবে কোন দান না করে এবং কোন তপস্যার মাধ্যমে তাদের অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব? মুনি তাদের পুরুষােত্তম মাসের কৃষ্ণপক্ষে 'পরমা' নামে সর্বশ্রেষ্ঠা যে একাদশী আছে, তা পালন করতে বললেন। কৌণ্ডিন্য মুনির উপদেশে পতি-পত্নী উভয়ে একসঙ্গে বিধি মতাে পুরুষােত্তম মাসের পরমা একাদশী ব্রত পালন করলেন। ব্রত সমাপনের পরে রাজ ভবন থেকে এক রাজকুমার তাদের কাছে এলেন। ব্রহ্মার প্রেরণায় তিনি বহু ধন সম্পদ, নতুন গৃহ ও গাভী এই দম্পতিকে দান করলেন। এই দানের ফলে মৃত্যুর পর সেই রাজা বিষ্ণুলােক প্রাপ্ত হয়েছিলেন। এইভাবে পরমা ব্রতের প্রভাবে ব্রাহ্মণ দম্পতির সকল দুঃখের অবসান হয়।

✨ পরম পবিত্র এই পুরুষোত্তম মাসে ভগবান শ্রীশ্রী পুরুষোত্তমের আশীর্বাদ লাভ করতে অবশ্যই তাঁর প্রণাম মন্ত্র জপ করুন। ☘️🌼🦚🙏 হ...
30/05/2026

✨ পরম পবিত্র এই পুরুষোত্তম মাসে ভগবান শ্রীশ্রী পুরুষোত্তমের আশীর্বাদ লাভ করতে অবশ্যই তাঁর প্রণাম মন্ত্র জপ করুন। ☘️

🌼🦚🙏 হরে কৃষ্ণ 🙏🦚🌼

#কৃষ্ণপ্রেমী #প্রণাম_মন্ত্র মহাদেব-MAHADEV Hindu Crush Community (HCC) একাদশী বার্তা একাদশী মাহাত্ম্য 🕉️ একাদশী বার্তা 🔔 মহা-কলিকাল বিশ্ব হিন্দু পরিবার 🕉️ বিশ্ব হিন্দু মহাজোট (Bangladesh) গীতা পাঠ

মহাপবিত্র পুরুষোত্তম মাসে আগামী ২৭ মে, বুধবার -🍂 পদ্মিনী একাদশী ব্রত 🍂 এই পুণ্যময় তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের স্মরণে উপবাস ...
26/05/2026

মহাপবিত্র পুরুষোত্তম মাসে আগামী ২৭ মে, বুধবার -
🍂 পদ্মিনী একাদশী ব্রত 🍂

এই পুণ্যময় তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের স্মরণে উপবাস ও ভক্তিমূলক সাধনা অপরিসীম ফল প্রদান করে।

🍎🍇🍓🥥🍉🍍🥭

🪷 আপনি নিজে এই একাদশী ব্রত পালন করুন এবং পরিবার–পরিজন, বন্ধু ও সকল ভক্তকে ব্রত পালনে উৎসাহিত করুন।
হরেকৃষ্ণ 🌼

🍁 padmini Ekadashi Vrat 2026🍁
#পদ্মিনী_একাদশী

|| শ্রী শ্রী চৌরাগ্রগণ্য পুরুষাষ্টকম্ ||ব্রজে প্রসিদ্ধং নবনীতচৌরংগোপাঙ্গনানাং চ দুকূলচৌরম্ ।অনেক জন্মার্জিত পাপচৌরংচৌরাগ...
19/05/2026

|| শ্রী শ্রী চৌরাগ্রগণ্য পুরুষাষ্টকম্ ||

ব্রজে প্রসিদ্ধং নবনীতচৌরং
গোপাঙ্গনানাং চ দুকূলচৌরম্ ।
অনেক জন্মার্জিত পাপচৌরং
চৌরাগ্রগণ্যং পুরুষং নমামি ।। ১

অনুবাদ:
যিনি ব্রজে নবনীত চোর ও গোপাঙ্গনাদের বসন চোর বলে প্রসিদ্ধ ও যিনি স্বীয় ভক্তদের অশেষ জন্মার্জিত পাপসকল হরণ করেন, সেই চোর শিরোমনিকে আমি নমস্কার করি।

শ্রীরাধিকায়া হৃদয়স্য চৌরং
নবাম্বুদশ্যামলকান্তিচৌরম্ ।
পদাশ্রিতানাং চ সমস্ত চৌরং
চৌরাগ্রগণ্যং পুরুষং নমামি ।। ২

অনুবাদ:
যিনি রাধিকার চিত্ত চোর, যিনি নবজলধরমেঘের কান্তি চোর ও যিনি স্ব-চরণাশ্রিত ভক্তগণের সর্বস্ব হরণ করেন, সেই চোর শিরোমনিকে আমি প্রণাম করি।

অকিঞ্চনীকৃত্য পদাশ্রিতং যঃ
করোতি ভিক্ষুং পথি গেহহীনম্ ।
কেনাপ্যহো ভীষণচৌর ঈদৃগ
দৃষ্টঃ শ্রুতো বা ন জগত্রয়েহপি ।।৩

অনুবাদ:
যিনি স্বচরণাশ্রিত ভক্তদের অকিঞ্চন করে (তাদের স্ত্রী-পুত্র, ধনাদি সর্বস্ব হরণ করে) তাদেরকে গৃহহীন ও পথের ভিক্ষুক করেন, তাঁর ন্যায় ভীষণ চোর জগতে কেউ দেখেও নি বা শোনে নি।

যদীয় নামাপি হরত্যশেষং
গিরি-প্রসারানপি পাপরাশিন্ ।
আশ্চর্যরূপঃ ননু চৌর ঈদৃগ
দৃষ্টঃ শ্রুতো বা ন ময়া কদাপি ।।৪

অনুবাদ:
যাঁর নাম মাত্রেই জীবের পর্বত প্রমাণ পাপরাশি নিঃশেষে হরণ করেন, এরূপ আশ্চর্য চোর আমি কখনও দেখি নি বা শুনি নি।

ধনং চ মানং চ তথেন্দ্রিয়াণি
প্রাণাংশ্চ হৃত্বা মম সর্বমেব।
পলায়সে কুত্র ধৃতোহদ্য চৌর
ত্বং ভক্তিদাম্নাসি ময়া নিরুদ্ধঃ ।। ৫

অনুবাদ:
হে চোর! তুমি আমার ধন, মান, ইন্দ্রিয় ও প্রাণ প্রভৃতি হরণ করে কোথায় পলায়ন করেছ? আমি তোমাকে ভক্তিরজ্জু দ্বারা বেঁধে রাখলাম।

ছিনৎসি ঘোরং যমপাশবন্ধং
ভিনৎসি ভীমং ভবপাশবন্ধম্ ।
ছিনৎসি সর্বস্য সমস্তবন্ধং
নৈবাত্মনো ভক্তকৃতং তু বন্ধম্ ।। ৬

অনুবাদ:
তুমি মনুষ্য মাত্রেরই ঘোর যমপাশ ছিন্ন করতে পার, তার ভয়ানক সংসার বন্ধনও ছিন্ন করতে পার। এমনকি সকলের সবরকম বন্ধনই ছিন্ন করতে পার; কিন্তু স্বভক্তকৃত নিজ বন্ধন ছিন্ন করতে পার না।

মন্মানসে তামসরাশিঘোরে
কারাগৃহে দুঃখময়ে নিবদ্ধঃ ।
লভস্ব হে চৌর! হরে! চিরায়
স্বচৌর্যদোষোচিতমেব দণ্ডম্ ।। ৭

অনুবাদ:
হে চোর, তুমি ঘোর তমসাচ্ছন্ন দুঃখময় কারাগৃহ রূপ আমার হৃদয়ে চিরকালের জন্য নিবদ্ধ হয়ে নিজের চৌর্য কার্যের উপযুক্ত দণ্ড গ্রহণ করো।

কারাগৃহে বস সদা হৃদয়ে মদীয়ে
মদ্ভক্তিপাশদৃঢ়বন্ধন-নিশ্চল সন্।
ত্বাং কৃষ্ণ হে! প্রলয়কোটিশতান্তরেহপি
সর্বস্বচৌর হৃদয়ান্নহি মোচয়ামি ।।৮

অনুবাদ:
অতঃপর তুমি আমার হৃদয় কারাগারে আমার ভক্তিপাশ দ্বারা দৃঢ়রূপে বদ্ধ হয়ে সর্বদা নিশ্চলভাবে অবস্থান কর। হে কৃষ্ণ! হে আমার সর্বস্ব চোর! শতকোটি প্রলয়াবসানেও হৃদয় কারাগার হতে তোমাকে মুক্ত করব না।

©️Bhaktilōka

 #বিপদে কার কাছে হাত পাতবেন❓আমরা যখন জীবনে কোনো বড় দুঃখ বা কষ্টের সম্মুখীন হই, তখন প্রথমেই কার কথা মনে পড়ে?অধিকাংশ সময় আ...
17/05/2026

#বিপদে কার কাছে হাত পাতবেন❓

আমরা যখন জীবনে কোনো বড় দুঃখ বা কষ্টের সম্মুখীন হই, তখন প্রথমেই কার কথা মনে পড়ে?
অধিকাংশ সময় আমরা আমাদের চারপাশে থাকা রক্ত-মাংসের মানুষের কাছে একটু ভালোবাসা, একটু সহানুভূতি বা একটু সাহায্যের আশায় হাত পাতি। কিন্তু আমরা কি জানি, সেই মুহূর্তে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অবস্থা কী হয়?

✅ ভক্তের দুঃখে ভগবানের ব্যাকুলতা:🙇

যখন কোনো ভক্ত পীড়ায় বা কষ্টে থাকে, তখন স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অস্থির হয়ে পড়েন। তিনি আমাদের পরম পিতা, আর সন্তানের কষ্টে কোনো পিতাই স্থির থাকতে পারেন না।

✅ আমরা ভুল জায়গায় সাহায্য খুঁজি:🚶🏽‍♂️

আমাদের ট্র্যাজেডি হলো, আমরা সেই সব মানুষের কাছে সাহায্য চাই যারা নিজেরাও কোনো না কোনোভাবে অপূর্ণ। ভগবান বিচলিত হয়ে ভাবেন, "যে বস্তু দেওয়ার ক্ষমতা জাগতিক মানুষের নেই, আমার ভক্ত কেন তাদের কাছে
সেই ভিক্ষা চাইছে? অথচ আমি সবকিছু নিয়ে তৈরি হয়ে বসে আছি, কেবল সে আমাকে
একবার ডাকলে হয়!"

✅শাস্ত্রীয় দৃষ্টান্ত: 📘🌻📘

আর্তনাদে ভগবানের সাড়া ইতিহাস এবং শাস্ত্র সাক্ষী দেয়, যখনই কেউ সব আশা ছেড়ে দিয়ে কেবল তাঁকে ডেকেছে, তিনি তখনই ছুটে এসেছেন:

👉 - দ্রৌপদী: যখন কুরুসভার মাঝখানে অসহায়ভাবে শ্রীকৃষ্ণকে ডেকেছিলেন, তিনি অসীম বস্ত্র হয়ে তাঁর লজ্জা নিবারণ করেছিলেন।

👉 - গজেন্দ্র: কুমিরের আক্রমণে যখন মৃত্যু নিশ্চিত জেনে একমনে হরিকে স্মরণ করেছিলেন, তখন ভগবান গরুড়ে চড়ে দ্রুত ছুটে এসেছিলেন।

👉 - প্রহ্লাদ: হিরণ্যকশিপুর অত্যাচার থেকে ভক্তকে বাঁচাতে তিনি স্তম্ভ ফুঁড়ে নৃসিংহদেব রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

👉 - গোপাল ভট্ট গোস্বামী: তাঁর ভক্তির আকুতিতে স্বয়ং শ্রীবিগ্রহ থেকে রাধারমণ লাল প্রকট হয়েছিলেন।

✅ ভগবানের প্রতিশ্রুতি🙇🙏🙇

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন— "অনন্যাশ্চিন্তয়ন্তো মাং যে জনাঃ পর্যুপাসতে, তেষাং নিত্যাভিযুক্তানাং যোগক্ষেমং বহাম্যহম্।" অর্থাৎ, যারা অনন্য মনে আমার চিন্তা করে, আমি নিজে তাদের সমস্ত অভাব পূরণ করি এবং যা আছে তা রক্ষা করি।

👉আমাদের করণীয়:🌻🚶🏽‍♂️🌻

জীবনে যখনই অন্ধকার নেমে আসবে, যখন মনে হবে চারপাশের সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে— তখন
একবার চোখ বন্ধ করে হৃদয়ের গভীর থেকে ভগবানকে ডাকুন। মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে ভগবানের কাছে আপনার অভাবের কথা বলুন।

🌻🙇🌻📘📘🌻🙇🌻

দ্রৌপদী, প্রহ্লাদ বা গজেন্দ্রর জন্য যদি ভগবান আসতে পারেন, তবে আপনি আকুল হয়ে ডাকলে তিনি কেন আসবেন না? তাঁর কাছে হাত পাতলে তিনি কেবল আপনার অভাব পূরণ করবেন না, বরং তাঁর চরণে এক পরম শান্তির আশ্রয়ও দান করবেন।

একবার বিশ্বাসভরে ডেকেই দেখুন, গোবিন্দকে আসতেই হবে!

🙇🙏🙇হরে কৃষ্ণ 🙇🙏🙇

#ভক্ত ゚ ゚

পুরুষোত্তম মাস (১৭ই মে - ১৫ই জুন, ২০২৬)প্রিয় ভক্তগণ,কৃপাপূর্বক আমাদের বিনম্র প্রণাম গ্রহণ করুন। জয় শ্রীল প্রভুপাদ!আমরা...
16/05/2026

পুরুষোত্তম মাস (১৭ই মে - ১৫ই জুন, ২০২৬)

প্রিয় ভক্তগণ,
কৃপাপূর্বক আমাদের বিনম্র প্রণাম গ্রহণ করুন। জয় শ্রীল প্রভুপাদ!

আমরা সৌভাগ্যবান যে শীঘ্রই পবিত্র পুরুষোত্তম মাস (অধিক মাস) – যা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণের প্রতি আমাদের ভক্তি এবং আন্তরিক সেবা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে এক সর্বোত্তম সময়, তাতে প্রবেশ করতে চলেছি। এই বছর পুরুষোত্তম মাস ১৭ই মে থেকে শুরু হয়ে ১৫ই জুন পর্যন্ত হবে এবং ভক্তিবৃক্ষ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সমগ্র বিশ্বব্যাপী ভক্তগোষ্ঠীকে এই অত্যন্ত বিশেষ মাসের সর্বোচ্চ সুযোগ গ্রহণের জন্য উৎসাহ প্রদান করতে চায়।

শাস্ত্রে এই মাসকে অনন্য শক্তিসম্পন্ন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পূর্বে এই অধিক মাস যথাযথ সম্মান না পেয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সমীপবর্তী হলেন, যিনি কৃপাপরবশ হয়ে এই মাসকে নিজের ‘পুরুষোত্তম’ নাম এবং দিব্য গুণাবলি প্রদান করলেন। এভাবে এই মাসকে সকল মাসের রাজা হিসেবে গণ্য করা হয়, যিনি সামান্য পারমার্থিক অনুশীলনেও অধিক ফল প্রদানে সক্ষম। বলা হয় যে, এই সময়ে যত ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদন করা হয় তা সহস্রগুণ অধিক কল্যাণ বয়ে আনে, এবং এমনকি ভক্তির সামান্য আচরণও কাউকে ভগবানের শ্রীপাদপদ্মের নিকটে নিয়ে আসতে পারে।

✨ কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের এক সুবর্ণ সুযোগ
আমরা সকল ভক্তবৃন্দের প্রতি বিনীত নিবেদন জানাচ্ছি যে, এই পরম পবিত্র মাসে আপনারা কেবল নিজেদের সাধনাকেই গভীর করবেন না, বরং অন্যদেরও শ্রীকৃষ্ণের চরণে ফিরিয়ে আনার প্রয়াস করুন। আপনার মন্দির ও স্থানীয় ভক্তসমাজে প্রচার করার কিছু বিশেষ উপায় নিচে দেওয়া হলো:

শ্রীবিগ্রহের উদ্দেশ্যে দীপদান
* শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ বা চিত্রপটে প্রতিদিন প্রদীপ অর্পণ করুন।
* মন্দিরে প্রতিদিন সম্মিলিত দীপদানের আয়োজন করার পাশাপাশি ভক্তদের নিজ নিজ গৃহেও দীপদান করতে উৎসাহিত করুন। দীপদানকালে ভক্তরা রাধাকৃষ্ণের দিব্য মহিমা সংবলিত ভজন কীর্তন করতে পারেন, যেমনটি দামোদর মাসে অনুষ্ঠিত হয়।


পুরুষোত্তম মাস চ্যালেঞ্জ

এই মাসব্যাপী ভক্তিমূলক সেবায় সকলকে উদ্বুদ্ধ করতে আমরা 'পুরুষোত্তম মাস চ্যালেঞ্জ' নামক একটি অনলাইন কার্যক্রমের আয়োজন করেছি। আমরা সকলকে এতে অংশগ্রহণের জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। দয়া করে আমাদের ওয়েবসাইটটি দেখুন এবং স্থানীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোতে প্রেরণ করুন:
👉 *purusottamachallenge.com*

পারমার্থিক পথে যে কেউ, যে স্তরেই থাকুন না কেন, এই চ্যালেঞ্জটি তাদের সকলের উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছে। মাসব্যাপী অংশগ্রহণকারীরা জপ, গ্রন্থ অধ্যয়ন, প্রার্থনা নিবেদন এবং হরিকথা শ্রবণের মতো বিভিন্ন ভক্তিমূলক কার্যের মাধ্যমে নির্দেশিত হবেন। প্রতি সপ্তাহে আরও বেশি কার্যক্রমসহ ভক্তির এক একটি নতুন স্তর উন্মোচিত হবে এবং অবশেষে আমরা আশা রাখি প্রত্যেকে পারমার্থিক অনুপ্রেরণা অনুভব করবে। চ্যালেঞ্জটি সরল ও সুসংবদ্ধ, যেখানে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে, যা এটিকে নতুন অংশগ্রহণকারী ভক্ত এবং অভিজ্ঞ ভক্ত উভয়ের জন্য আদর্শ করে তুলেছে, যাতে তারা তাদের ভক্তি অনুশীলনকে দৃঢ়নিষ্ঠ করে তুলতে পারে এবং এই পরম পবিত্র মাসে দীর্ঘস্থায়ী পারমার্থিক অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে।

বি.দ্র: চ্যালেঞ্জটি কেবল ইংরেজি ভাষায় অনুষ্ঠিত হবে।

আমরা আরও উৎসাহ জানাই, দামোদর মাসের মতো উৎসাহ সহকারে এই বিশেষ মাসে প্রচারকার্য পরিচালনা করুন, তবে এক্ষেত্রে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের উপর মনোনিবেশ করুন। (যশোদা-দামোদরের পরিবর্তে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের চিত্রপট ব্যবহার করে)।

ভক্তগণ পুরুষোত্তম মাসকে কেন্দ্র করে গৃহ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারেন।
* শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের মহিমসূচক ভজন কীর্তন করা
* ঘৃতপ্রদীপ অর্পণ
* 'শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা যথাযথ'-র পঞ্চদশ অধ্যায় (পুরুষোত্তম যোগ) পাঠ করুন, শ্লোক আবৃত্তি করুন বা প্রবচন প্রদান করুন
* গোপাল মন্ত্র জপ
* প্রীতিভরে একসাথে মহাপ্রসাদ আস্বাদন

মন্দির এবং বৈষ্ণবদের সেবা
এই মাসে যথাসম্ভব স্থানীয় মন্দিরে সেবা ও সহায়তা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
* মন্দিরে আরও নিয়মিত যাতায়াত করুন এবং শ্রীবিগ্রহের উদ্দেশ্যে দীপদান করুন
* স্ব-সামর্থ্য অনুযায়ী মন্দির ও ব্রাহ্মণ-বৈষ্ণবদের সেবা ও অনুদান প্রদান করুন
* শাস্ত্র-দান বা গ্রন্থ বিতরণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করুন।

পারমার্থিক জ্ঞান বিতরণই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ দান, যা শ্রীল প্রভুপাদ ও পূর্ববর্তী আচার্যদের পরম সন্তোষ বিধান করে।

📦 প্রচারের জন্য 'ডিজিটাল কিট'
আপনাদের প্রচার সেবা সহজতর করতে আমরা একটি ডিজিটাল কিট প্রস্তুত করেছি, যেখানে পাবেন:
* পুরুষোত্তম মাসের মহিমা
* শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ১৫তম অধ্যায় (বিভিন্ন ভাষায়)
* শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের অতি মনোরম চিত্র
* উপযুক্ত ভজন-কীর্তনের লিপি ও অডিও/ভিডিও লিঙ্ক
* গোপাল মন্ত্র (লিপি ও অডিও)
অনুগ্রহপূর্বক আপনাদের কার্যক্রম ও প্রচারে এই বিষয়গুলোর পূর্ণ ব্যবহার করুন।

📊 যুক্ত থাকুন

সকল প্রচারক ও নেতৃবৃন্দের কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনারা আপনাদের সম্মিলিত প্রচারকার্যের প্রতিবেদনটি প্রদত্ত গুগল ফর্মের মাধ্যমে আমাদের জানান। আপনাদের প্রচারের সংবাদ আমাদের সকলকে যুক্ত রাখবে এবং আমরা একে অন্যের সেবার দ্বারা অনুপ্রেরণা লাভ করব।

যদি কোনো ভক্ত বা পরিবার প্রচারকাজে বিশেষ অবদান রাখেন, তবে আমরা তাদের বিশেষ সম্মাননা সনদ এবং শ্রীধাম মায়াপুর থেকে সংগ্রহযোগ্য একটি উপহার সনদপত্র প্রদান করব।

আসুন, শ্রীল প্রভুপাদ এবং শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের প্রীতি বিধানের জন্য আমরা এই বিরল ও শক্তিসম্পন্ন সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভক্তি বৃদ্ধি করি, একে অন্যকে অনুপ্রাণিত করি এবং একত্রে সেবা করি।

আপনাদের কোন জিজ্ঞাসা থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: [email protected]

আপনাদের সেবায়,
অমৃতা গৌরাঙ্গী দেবী দাসী
ইসকন কংগ্রিগেশনাল ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রি (ইসকন ভক্তিবৃক্ষ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়) - (Bhakti months বা ভক্তি মাস শাখা)

শাস্ত্রে নির্দেশিত এই মাসের জন্য ভজন -

রাধা কৃষ্ণ প্রাণ মোর"
- নরোত্তম দাস ঠাকুর-
(১)
রাধাকৃষ্ণ প্রাণ মোর যুগল-কিশোর।
জীবনে মরণে গতি আর নাহি মোর।।

(২)
কালিন্দীর কূলে কেলি-কদম্বের বন।
রতন বেদীর উপর বসাব দু’জন।।

(৩)
শ্যামগৌরী-অঙ্গে দিব (চুয়া) চন্দনের গন্ধ।
চামর ঢুলাব কবে, হেরিব মুখচন্দ্র।।

(৪)
গাঁথিয়া মালতীর মালা দিব দোঁহার গলে।
অধরে তুলিয়া দিব কর্পূর-তাম্বুলে।।

(৫)
ললিতা-বিশাখা-আদি যত সখীবৃন্দ।
আজ্ঞায় করিব সেবা চরণারবিন্দ।।

(৬)
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভুর দাসের অনুদাস।
সেবা অভিলাষ করে নরোত্তমদাস।।

এই মাসের জন্য নির্দেশিত মন্ত্র -

গোবর্ধনধরং বন্দে গোপাল গোপরূপিণম্।
গোকুলোৎসবমীশানং গোবিন্দং গোপিকাপ্রিয়ম্।।

“আমি গিরি গোবর্ধনধারী ভগবানকে প্রণাম করি, যিনি সুন্দর গোপবালকরূপে নিরন্তর গোপদের সঙ্গে ক্রীড়া করেন। তিনিই গোকুলের অধিপতি, যেখানে প্রতিদিন উৎসবের দিন।”

বন্দে নবঘনশ্যামং দ্বিভুজং মুরলীধরং।
পীতাম্বরধরং দেবং সরাধং পুরুষোত্তমম্।।

“আমি নবঘনশ্যাম কৃষ্ণকে প্রণাম জানাই, (যাঁর গায়ের রঙ নবীন মেঘের মতো), যিনি দুই হাতে বাঁশি ধরে আছেন। আমি সেই পুরুষোত্তমের ভজনা করি, যিনি তাঁর পীতাম্বর বস্ত্রে অত্যন্ত মনোহর।”

14/05/2026

⭕️ প্রথম দিনের পূজা বিধি (১৭ মে, ২০২৬)

১৭ মে ভোরবেলা ব্রতের প্রথম দিনে পুণ্য অর্জনের জন্য নিচের ধাপে ধাপে পূজা সম্পন্ন করুন:
⭕️বিগ্রহ স্থাপন: একটি কাঠের চৌকিতে লাল বা হলুদ বস্ত্র পেতে রাধা-কৃষ্ণ, শালগ্রাম শিলা বা শ্রীবিষ্ণুর ছবি বা বিগ্রহ স্থাপন করুন।
⭕️পঞ্চামৃত স্নান: বিগ্রহ থাকলে প্রথমে দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনি দিয়ে (পঞ্চামৃত) স্নান করিয়ে শুদ্ধ জল দিয়ে ধুয়ে নিন।
⭕️তিলক ও সাজসজ্জা: ভগবানকে চন্দন, তুলসী পাতা এবং সুগন্ধি ফুল (বিশেষ করে জ্যৈষ্ঠের মালতী, বেল বা পদ্ম) দিয়ে সাজান।
⭕️ধূপ ও দীপদান: ভগবানের সামনে ঘিয়ের প্রদীপ এবং ধূপ জ্বালিয়ে আরতি করুন।
সংকল্প ও পুস্পাঞ্জলি: হাতে ফুল ও তুলসী পাতা নিয়ে পূর্বোক্ত সংকল্প মন্ত্রটি পাঠ করে ভগবানের চরণে অর্পণ করুন।
পুরুষোত্তমমাসস্য ব্রতং কর্তুং যক্ষ্যাহম্।
ত্বৎ-প্রসাদাৎ-অবিঘ্নেন সম্পূর্ণং জায়তাং মম।।

⭕️সংকল্প মন্ত্রের বাংলা অর্থ"হে ভগবান পুরুষোত্তম (শ্রীকৃষ্ণ), আপনার প্রীতি ও সন্তুষ্টির জন্য আমি এই পবিত্র পুরুষোত্তম মাসের ব্রত পালন করার সংকল্প করছি। আপনার অসীম কৃপায় আমার এই ব্রত যেন কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই সফলভাবে সম্পূর্ণ হয়।"
⭕️💡 সংকল্প করার সংক্ষিপ্ত নিয়ম:১৭ মে ২০২৬, রবিবার সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে পূজার আসনে বসবেন।তামার পাত্রে সামান্য জল, একটি তুলসী পাতা এবং ফুল নিয়ে ডানহাতে রাখবেন।উপরের মন্ত্রটি পাঠ করে হাতের জল ও ফুল-তুলসী ভগবানের শ্রীচরণে অর্পণ করবেন।যদি আপনি সম্পূর্ণ নিরাহার, একবেলা হবিষ্যান্ন বা শুধু ফলমূল খেয়ে ব্রত রাখতে চান, তবে মন্ত্র পাঠের পর মনে মনে সেই নিয়মের কথা ভগবানকে জানাবেন।

⭕️২. পুরুষোত্তম মাসের নিষিদ্ধ খাদ্যের তালিকা
হরিভক্তিবিলাস অনুযায়ী, এই মাসে চিত্ত শুদ্ধির জন্য নিচের খাদ্যগুলো সম্পূর্ণ বর্জনীয়:
আমিষ আহার: মাছ, মাংস, ডিম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তামসিক সবজি: পিঁয়াজ, রসুন, মাশরুম, গাজর, লাউ এবং বেগুন খাওয়া বারণ।
ডাল ও শস্য: মসুর ডাল, কলাই ডাল, সর্ষে দানা এবং তিল বর্জন করতে হবে।
তেল ও মশলা: সরষের তেল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (রান্নায় শুধু খাঁটি ঘি বা সূর্যমুখী/বাদাম তেল ব্যবহার করা যায়)। অতিরিক্ত ঝাল ও গরম মশলা পরিহার করুন।
অন্যান্য: মধু, সমুদ্রের লবণ (সাধারণ লবণের বদলে সৈন্ধব লবণ খেতে হবে), বাসি খাবার এবং বেকারি পণ্য (বিস্কুট, কেক) খাওয়া যাবে না।

⭕️৩. প্রথম দিনের বিশেষ ভোগ (মেনু)
ব্রত শুরুর দিনে ভগবানকে আতপ চালের অন্ন, ঘি, সৈন্ধব লবণ দিয়ে সেদ্ধ আলু/কাঁচকলা এবং জ্যৈষ্ঠ মাসের পাকা আম বা কাঁঠাল ভোগ হিসেবে নিবেদন করে প্রসাদ গ্রহণ করতে পারেন ।



🙏🌹🌼🌻হরে কৃষ্ণ🌼🌹🙏🙏🎉"পুরুষোত্তম মাস: কী খাবেন এবং কী বর্জন করবেন?"🙏🙏মন দিয়ে শুনে নেবেন এই মাসে যে কোন পূর্ণ কর্ম করলে যেম...
14/05/2026

🙏🌹🌼🌻হরে কৃষ্ণ🌼🌹🙏🙏
🎉"পুরুষোত্তম মাস: কী খাবেন এবং কী বর্জন করবেন?"🙏🙏

মন দিয়ে শুনে নেবেন এই মাসে যে কোন পূর্ণ কর্ম করলে যেমন অনেক ফল না ভাই মানে এক মালা জপ করলে প্রায়‌ লক্ষ্য মালা জপ করার ফর লাভ হয়। তেমনি একটা প্রাণী হত্যা করলে আমি লক্ষ প্রাণীর হত্যার পাপ গ্রহন করতে হবে। তাই অবশ্যই লেখাটি পড়ুন কি করবেন জেনে

‼️সনাতন ধর্ম অনুযায়ী, পুরুষোত্তম মাস (বা অধিক মাস) অত্যন্ত পবিত্র। এই মাসে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সন্তুষ্টির জন্য খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ সংযম ও সাত্ত্বিকতা পালন করা হয়। শাস্ত্র মতে এই মাসের খাদ্যের তালিকা ও নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:

‼️যা খাওয়া উচিত (সাত্ত্বিক খাবার):
এই মাসে মূলত সাত্ত্বিক ও হবিষ্যান্ন জাতীয় খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

🌿শস্য: আতপ চাল (সাদা চাল), গম, যব এবং তিল।

🌿ডাল: মুগ ডাল এবং মটর।

🌿ফল ও সবজি: আপেল, কলা, আম, আমলকী, কাঁঠাল, শসা, বথুয়া শাক এবং ঝিঙে খাওয়া যায়।

🌿দুগ্ধজাত দ্রব্য: গরুর দুধ, দই ও ঘি। রান্নায় সয়াবিন বা সরিষার তেলের পরিবর্তে ঘি ব্যবহার করা শ্রেয়।🌿

🌿মশলা ও লবণ: সৈন্ধব লবণ (Rock salt), জিরে, আদা ও তেঁতুল ব্যবহার করা যায়।

🌿অন্যান্য: গুড় বা আখের রস এবং শুকনো ফল (Dry fruits)।

‼️যা বর্জনীয় (নিষিদ্ধ খাবার):
পুরুষোত্তম ব্রত পালনকারীরা সাধারণত নিচের খাবারগুলো এড়িয়ে চলেন:

🌿আমিষ খাবার: মাছ, মাংস এবং ডিম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

🌿তামসিক সবজি: পেঁয়াজ, রসুন, গাজর, মুলা, বেগুন ও সজনে ডাঁটা।

🌿ডাল ও শস্য: মসুর ডাল, কলাই ডাল (উরাদ), সর্ষে এবং মধু।

🌿অন্যান্য: নেশাজাতীয় দ্রব্য, বাসি খাবার এবং তেলের রান্না।

‼️খাওয়ার বিশেষ নিয়ম:

🌿 একবেলা আহার: পূর্ণ ব্রত পালনকারীরা সাধারণত দিনে মাত্র একবার (দুপুরে বা সূর্যাস্তের পর) আহার করেন।

🌿 মৌন পালন: খাওয়ার সময় কথা না বলে খাবার গ্রহণ করাকে আত্মশক্তির জন্য শুভ মনে করা হয়।

🌿 কাঁসার পাত্র বর্জন: এই মাসে কাঁসার বাসনে খাওয়া নিষিদ্ধ। মাটির পাত্র বা কলাপাতা আহারের জন্য উত্তম।

🌿প্রসাদ গ্রহণ: সম্ভব হলে প্রতিদিন মন্দিরের বা ঠাকুরের ভোগ প্রসাদ গ্রহণ করুন।

যারা যে এমন ভাবে পারবেন যতটা পারবেন সংযম করার চেষ্টা করবেন, আর যারা আমিষ খান বর্জন করবেন অবশ্যই ‌। নিরামিষ খাবেন।

🥰নিজে জানুন অন্যকে জানাতে সাহায্য করুন🥰

🚩জয় পুরষোত্তম ভগবান🚩

১৬ই মে শনিবারে, শনি অমাবস্যা + শনি জয়ন্তী + পুরুষোত্তম মাস একসাথে পড়া একটি অত্যন্ত বিরল এবং মহা শুভ যোগ।জ্যৈষ্ঠ মাসের ক...
13/05/2026

১৬ই মে শনিবারে, শনি অমাবস্যা + শনি জয়ন্তী + পুরুষোত্তম মাস একসাথে পড়া একটি অত্যন্ত বিরল এবং মহা শুভ যোগ।

জ্যৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে সূর্যদেব এবং মাতা ছায়ার পুত্র শনিদেবের জন্ম হয়েছিল, তাই এই দিনটি শনি জয়ন্তী হিসেবে পালিত হয়। আর শনিবার অমাবস্যা পড়লে তাকে শনি অমাবস্যা (বা শনৈশ্চরী অমাবস্যা) বলা হয়। এই দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী যোগ একই দিনে পড়া মানে শনিদেবের বিশেষ কৃপা লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ।

যাঁদের কুণ্ডলীতে শনির সাড়ে সাতি, ঢাইয়া বা অন্য কোনো শনি দোষ চলছে, তাঁদের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শনিদেব হলেন কর্মফলদাতা এবং ন্যায়াধীশ; এই দিনে সঠিক নিয়মে আরাধনা করলে তিনি সমস্ত কষ্ট দূর করেন।

এর সাথে পরেছে মহান পুরুষোত্তম মাস শুরু। তাই এই দিনে আপনারা যা করতে পারেন

১) এই দিন নৃসিংহদেবকে ১০৮টি তুলশি দেওয়া আর আরতি করা

২) শনিদেব কৃত নৃসিংহ দেবের স্তুতি পাঠ করা।

৩) ভগবানের উদ্দেশ্যে সন্ধ্যায় প্রদীপ দান আর চৌরাগ্রষ্টকম পাঠ করা।

Address

Cork

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bangladeshi Hindu Community Cork Ireland posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Bangladeshi Hindu Community Cork Ireland:

Share

Category