গানে-কথায়-স্তুতিতে কবিতার সুদূরপ্রসারী প্রভাব মানুষের হৃদয়কে করেছে স্বচ্ছ এবং নির্মল। এ কবিতাই মৃত্যুপথযাত্রীকেজৈবনিক ভাষা দিয়েছে, যুদ্ধের ময়দানে যোদ্ধাকে বিজয়ে উদ্বুদ্ধ করেছে। এজন্য কবিতা কখনো দুঃখের অকূল পাথার, আবারকখনো শত্রু অবিনাশী মিসাইল। কবিতার আবেদন তাই সময়ী হৃদয়ের গ্রন্থিত কথামালা। কবিতাকে অস্বীকার করার অর্থই হচ্ছেহৃদয়ের ভাষাকে ভুলে যাওয়া। এর অস্তিত্বকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার সুয
োগ বঞ্চিত করা। অস্তিত্বের সাথে গভীর মিতালিতে একবিতা হয়ে উঠে জাতির কালের স্বকীয়তার উড্ডীন পতাকা। অপরদিকে, মিতালির সাথে মিতার যে সম্পর্ক এর মেলবন্ধনে সৃষ্টপ্রেম মানুষকে বাঁচতে শেখায়। এই প্রেমকে উপেক্ষা করে বেঁচে থাকা দায়। ইমলাক খান একজন কবি ও গল্পকার।
ইমলাক খানের জন্ম ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ জুলাই, সুনামগঞ্জে। পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম খান পাঠান এবং মাতাফরিদা বেগম খান। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপনের পর তিনি এগ্রিকালচারাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (এটিআই), সিলেট থেকে কৃষি বিষয়েডিপ্লোমা অর্জন করেন। ইমলাক খানের লেখালেখির সূচনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাবস্থায়। ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দের বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রকাশিত মাসিক 'শিশু’তে তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক সংবাদপত্র ও সাময়িকীতে তাঁর অসংখ্য লেখা প্রকাশিত হয়। এ পর্যন্ত তাঁরপ্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ন'টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সাদাকালো, যে আগুনে দগ্ধ হই, নীল নীলিমায় তুমি, জল ও যুবতি, প্রকৃতি ও নারী, শত কবির কাব্য, এবং এসো মিলি আলোর পথে এছাড়া তিনি অসংখ্য গ্রন্থ ও সাহিত্য সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন। সিলেটের প্রকাশনা জগতে একসময় ইমলাক খানের যশস্বী-মননী বিচরণ থাকলেও বর্তমানে তিনি ফ্রান্স অভিবাসী। দেশেঅবস্থানকালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘বনসাই প্রকাশন’ সিলেটের প্রকাশনা শিল্পকে এগিয়ে নিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। ২০০১খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত বনসাই প্রকাশন ২০১১ পর্যন্ত এক দশকে অসংখ্য গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। প্রকাশনা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি সরূপ কবি ইমলাক খান ২০০২ খ্রিস্টাব্দে তরুণ প্রকাশক হিসেবে ‘সিলেট সিটি অ্যাওয়ার্ড' লাভ করেন। লেখালেখির জগত ছাড়াও ইমলাক খান দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকান্ডের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
ইমলাক খান একজন ভ্রমণপিয়াসী ব্যাক্তি। পেশাগত এবং ব্যক্তিগত ভাবে ইতোমধ্যে তিনি ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, লাওস, জার্মানী, স্পেন, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও হল্যান্ড সহ নানা দেশ সফর করে বিচিত্র অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়েছেন। ব্যবসার পাশাপাশি অবিরত কবিতার চাষ করে চলেছেন। এছাড়াও তিনি লিখছেন প্রবন্ধ-নিবন্ধ এবং গল্প। এর বাইরেও বিচিত্রবিষয়ে তার রয়েছে সরব পদচারণা। সম্প্রতি, প্রকাশিত ‘মাইসিক্রেট লাভ’ কাব্যগ্রন্থটি এক সার্থক দ্ব্যর্থকতার প্রকাশ। কবি ইমলাক খান- 'এর ‘মাই সিক্রেট লাভ’ একটি ই-কাব্যগ্রন্থ। এটি বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায়প্রকাশিতহচ্ছে। তাঁর কবিতা গুলো পাঠক হৃদয়ে প্রেমের শিহরণ বইয়ে দেয়। কবিতা গুলো পড়ে আমি বিমুগ্ধ ও প্রাণিত হয়েছি।তিন দশকের সাহিত্যচর্চায় তাঁর মধ্যে যে নবদ্যোমী ভাব ও ভাষা সৃষ্টি হয়েছে, তাঁর কবিতায় এটি শৈল্পিকভাবে পরিস্ফুটিত হয়েছে।আমি নিশ্চিত, তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি সাহিত্য অঙ্গনে তাঁকে নতুন অবয়বেই উপস্থাপন করবে। শুধু তাই নয়, এ কাব্যগ্রন্থটি প্রেমের কবিতার ক্ষেত্রেও এক মাইলফলক স্তুতির স্থান দখল করে নেবে বলে আমার একান্ত বিশ্বাস।
প্রেম মানুষের অন্তরে এক সহজাত প্রবৃত্তি। মূলত এ প্রেমের জন্যই পৃথিবীর সৃষ্টি। বৈষয়িক ক্ষেত্রেও এই প্রেম এমনই ফলপ্রসূ যে, মানুষ প্রেমের কারণে জীবনকে বাজি রাখতেও দ্বিধাবোধ করে না। অপরদিকে এ প্রেম কখনো হয়ে উঠে কালবোশেখি ঝড়ের মতো।যার বিনাশী থাবা থেকে বাঁচার কোনো সুযোগই থাকে না। তারপরও এই প্রেমই মানুষকে ভাবতে শেখায়, বাঁচতে বাঁচতে আবারও ভাবতে শেখায়। নতুনভাবে প্রেরণার সৃষ্টি করে।
কবি, ইমলাক খানের কবিতায় আমি সেই প্রেরণাকেই বারবার আঁচলে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে দেখেছি। এ প্রেরণাকে জৈবনিক ভাষাদিয়ে তিনি এমন এক আবহ সৃষ্টি করেছেন, সচেতন পাঠক এর অনুধ্যায়ে অবশ্যই ঋদ্ধ হবেন।
কবি ইমলাক খান’র ই-কাব্যগ্রন্থ ‘মাই সিক্রেট লাভ ’ এর প্রতিটি কবিতা পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে.....
মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান
বরেণ্য সাংবাদিক, সম্পাদক-প্রকাশক, লেখক গবেষক ও বহুগ্রন্থ প্রণেতা।