Haunted Area

Haunted Area Haunted Area

পৃথিবীর বিভিন্ন গোপন সংগঠন গুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ইলুমিনাটি। আমরা যেমন বায়ু সমুদ্রে ডুবে আছি কিন্তু তা বিশেষ কর...
22/03/2022

পৃথিবীর বিভিন্ন গোপন সংগঠন গুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ইলুমিনাটি। আমরা যেমন বায়ু সমুদ্রে ডুবে আছি কিন্তু তা বিশেষ করে অনুভব করছি না; ঠিক একইভাবে ইলুমিনাটির ষড়যন্ত্রে আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি; কিন্তু তা উলপব্ধি করার অবকাশটুকু আমাদের নেই। ইলুমিনাটির সবচেয়ে প্রচলিত এক চোখা প্রতীক পবিত্র কুরআন অনুসারে দাজ্জাল এবং বাইবেল অনুসারে অ্যান্টিক্রাইস্ট এর চিহ্ন বহন করে।

নিচের লেখাটা পড়ার আগে সাবধান করে দিচ্ছি যাদের হার্টে সমস্যা আছে বা একা রাতে ঘুমাতে হয় এমন কেউ দয়া করে লেখাটা পড়বেন না ।স...
12/11/2021

নিচের লেখাটা পড়ার আগে সাবধান করে দিচ্ছি যাদের হার্টে সমস্যা আছে বা একা রাতে ঘুমাতে হয় এমন কেউ দয়া করে লেখাটা পড়বেন না ।
সুমন নামে আমার এক শৈশব কৈশোর সময়ের বন্ধু আত্মহত্যা করে মারা গেলো । মরার আগে নাম ছিল খড়ি সুমন ( অত্যন্ত শুকনা হওয়ার কারণে ) । মরার পরে নাম বদলে হয়ে গেলো দড়ি সুমন । যাহোক সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে শুনতে পেলাম সুমন গলায় দড়ি দিয়েছে । বাড়ি থেকে দৌড় দিয়ে যখন ওদের বাড়ির কাছে পৌছালাম দেখলাম সবাই হুড়মুড় করে ধরে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে । পেছনে ওর মা "ও বাবা সুমন তুই এ কি কাজ করলি রে" বলে চিৎকার করছে । কষ্ট চেপে রেখে বাড়ি চলে এলাম । তখন রাতে দেরি করে বাড়ির বাইরে থাকা নিষিদ্ধ ছিল আমার জন্য ।
সকাল এগারোটার দিকে দেখলাম সুমনের লাশবাহী গাড়ি এসেছে । ট্যাম্পুর ভেতরে খেজুর পাতায় জরানো লাশ । একটু দূরে সুমনের মামা দাঁড়িয়ে আছেন । সবাই তাকে ঘিরে ধরে আছে ।
সন্ধ্যায় লাশ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই সুমন মারা যায় । হাসপাতাল থেকে লাশ পোস্টমার্টাম নিয়ে যাবে । সুমনের মামা লাশ নিয়ে একা বসে ছিল রাত বারোটা পর্যন্ত । পরে তিনি ভয়ে আর সেখানে থাকতে পারেন নাই । সকালে যখন তিনি লাশের কাছে যান তখন দেখেন চার পাঁচটা কুকুর লাশের পা চাটছে ।
সকালে লাশ পোস্টমার্টামে নিয়ে যায় । সকাল দশটার দিকে লাশ নিয়ে আসে । কাছ থেকে সুমনের লাশ দেখলাম । মাথায় বড় বড় সেলাই মোটা সুতা দিয়ে । সেখান থেকে টপটপ তাজা করে রক্ত পরছে । ট্যাম্পু ভরে গেছে রক্তে । ট্যাম্পুর নিচে রক্ত পরছে ফোঁটায় ফোঁটায় । লাশের কাছে কেউ যাচ্ছে না । লাশ ধোঁয়ানোর জন্য মসজিদ থেকে লাশ ধোঁয়ার চৌকিটাও দেয় নাই । পরে একটা ভাঙাচোরা চৌকির ব্যবস্থা করা হলো । অনিচ্ছার হাতে দুইজন মিলে লাশ নামাতে গিয়ে লাশ ফেলে দিলেন । খেজুর পাতার পাটি ছিঁড়ে লাশ পরলো নিচে । সুতা ছিঁড়ে বুকের দুইপাশ খুলে গেলো । দেখলাম বুকের ভেতর পুরোটা ফাঁকা। সবাই কোন রকম পরে লাশ নিয়ে গেলেন চৌকির উপরে । লাশ ধোঁয়ানোর মানুষ নাই । পরে সাবান গোলানো তিন চার বালতি গরম পানি দূর থেকে লাশের গায়ে ছুড়ে মেরে লাশ ধোয়া শেষ হলো । ফেলে দেওয়া ঝুট দিয়ে একজন কোন রকম কিছু জায়গা মুছে দিলেন । তারপর কাফনে জরিয়ে লাশ জানাযা পরানোর জন্য নিয়ে গেলো । আমরা দেখলাম জানাযা পরতে হাতে গোনা আট নয়জন মানুষ এসেছে তার মধ্যেই আমরা বন্ধুরাই চারজন ।
ইমাম সাহেব জানাযা না পড়িয়ে চলে গেলেন । তিনি আত্মহত্যার লাশের জানাযা পড়াবেন না সাফ বলে গেলেন । জানাযা পড়ানো হলো । জানাযা পড়ালেন সুমনের বড় মামা ।
বিশ্বাস করবেন না প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা আমরা চারজন বন্ধু ছাড়া কেউ খাটিয়া কাঁধে নেয় নাই । গোরস্থানে পৌছে দেখলাম, মূল কবরস্থান থেকে দূরে বাঁশঝাড়ের ঝোপের ভেতর কোন রকম একটা কবরের মত খোঁড়া হয়েছে । সেই কবরে কেউ নামতে চাচ্ছে না । কবরের কাছে গিয়ে দেখলাম হয়তো সাত দিন আগে খোড়া কবরের পাশে সুমনের কবর খোঁড়া হয়েছে । কবর খোঁড়ার সময় ঐ কবরের দেয়াল ফুটো হয়ে গেছে । ফুটো দিয়ে হড়হড় করে পাশের কবরের লাশের পঁচা গলা তেল চর্বিতে এই কবর ভরে গেছে । দুর্গন্ধে দাঁড়ানো যাচ্ছে না । সবাই মাথার টুপি খুলে নাকে ধরেছে । কবরে নামার কেউ নেই এমন কি সুমনের বড় মামা এবং বাবা অসুস্থ হয়ে পরলেন । বমি করতে করতে তাদের এমন অবস্থা যেনো আজকে আর বাড়ি যেতে পারবেন না ।তাদেরও এখানে কবর দিয়ে যেতে হবে । কবরে নামার কেউ নাই ।
আমি বললাম আমি নামবো । আমার এক বন্ধু বললো আমিও নামবো । আমি আমার প্যান্ট গুছাতে লাগলাম ।
সুমনের এক মামাতো ভাই বললেন অবিবাহিত কাউকে কবরে নামা যাবে না । আমি নামছি । তিনি লুঙ্গি গুটিয়ে লাফ দিয়ে সেই পঁচা গলা পানির ভেতর নেমে পরলেন । একাই কোলে তুলে নিলেন লাশ । একা কোলে নেওয়ার সময় হাত ফসকে পুরো লাশ নিচের পানির মধ্যে পরে গেলো । আমার উপরে দাঁড়িয়ে ছিলাম । পচা পানি ছিটে আমার গায়ে পর্যন্ত পরলো । সুমনের মামা পুরোপুরি ভিজে গেছেন । তিনি উয়াক উয়াক করছেন । কোনরকম লাশ উত্তর দক্ষিণ সোজা করে দিয়ে কাফনের কাপড়ের গিট খুলে উপরে উঠে আসলেন । আমরা এক হাতে নাক আরেক হাতে বাঁশের চাটায় দিয়ে তাড়াতাড়ি কবরের মুখটা ঢেকে দিলাম । এলোপাতাড়ি কোদাল দিয়ে কবরের মত করে গোরস্থান ত্যাগ করালাম ।
বাড়ি আসার আগেই আমি সহ আমার সবগুলো বন্ধু অসুস্থ হয়ে পরলাম । গোসল করেও গায়ের দুর্গন্ধ যায় না । সাবানের পর সাবান ঘষে ঘষে গোসল করলাম সবাই ।
সুমনের কাহিনী যদি এখানেই শেষ হত তবে ভালো হতো তবে কাহিনী এখান থেকেই শুরু। ধীরে ধীরে তা লিখবো

"ভূতের সাথে যৌনতা"⚡ভূতের বিভিন্ন রকমের গল্প আমরা আগে পড়েছিশুনেছি এবং ভূতের বিভিন্ন গল্প অবলম্বনে সিনেমাও তৈরি হয়েছে। যেখ...
12/11/2021

"ভূতের সাথে যৌনতা"⚡
ভূতের বিভিন্ন রকমের গল্প আমরা আগে পড়েছিশুনেছি এবং ভূতের বিভিন্ন গল্প অবলম্বনে সিনেমাও তৈরি হয়েছে। যেখানে আমারা মানুষকে ভূতের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেও দেখেছি। কিন্তু বাস্তবে ভূত বলে যে কিছু আছে তা আমরা অনেকেই মানতে নারাজ। ভূতকে আমরা সাধারণত মনের ভুল বলে থাকি।
তাকে আমরা চোখে না দেখলেও একাকীত্বের সময় তার উপস্থিতি অনুভব করেছি। কিন্তু তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা তো স্বপ্নাতীত, তাই নয় কী?
ভূত মানেই আমাদের কাছে ভয়। আর এই ভয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক! থাক বাবা, সিনেমাতেই দেখে আমরা আনন্দ পাই। কিন্তু বাস্তবে তাকে অবাস্তব বলেই মনে করেন সকলে।
কিন্তু এই অবাস্তবকে বাস্তবে পরিণত করে দেখালেন ২জন আইরিশ মহিলা।
তারা নিজের বাড়িতে থাকা কয়েক শো বছরের মৃত মানুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে বেশ আনন্দই পেলেন। এরপর থেকে এদের অনেকেই ঠিক করে নিয়েছেন আর কোনও জীবন্ত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবেন না তাঁরা। নিজেদের সম্পর্কের বিবরণ দিতে গিয়ে তাঁরা জানিয়েছেন, নিজেদের শরীরের ওপরে একটা হালকা কিছুর উপস্থিতি অনুভূত করেছেন তাঁরা।
যা জীবন্ত মানুষের থেকে অনেক হালকা। কিন্তু তার চাপ অনুভব করা যায়। এমনকি তাদের নিঃশ্বাসের আওয়াজও তাঁরা পেয়েছিলেন।
যখনই তাঁদের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটেছে তখনই তাঁরা ভেবেছেন এটা স্বপ্ন। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে তাঁরা বুঝতে পারেন যে, ওটা স্বপ্ন ছিল না, ছিল বাস্তব।
খ্রীষ্টপূর্ব ২ হাজার ৪০০ বছর আগে খ্রীষ্টান, গ্রিক, জিউশ এবং ক্যাথোলিকদের বিভিন্ন গল্পে শোনা যায় মানুষ অশীরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে যে এমনটা ঘটতে পারে তা ছিল সকলের কাছেই অজানা। যাকে বলা হয় 'স্প্রেক্টোফিলিয়া', অর্থাৎ ভূতের প্রতি আকর্ষণ। অনেক বিজ্ঞানীর মতে, একাকী থাকার সময় কোনও কিছুর কথা চিন্তা করলে আমরা তার উপস্থিতি অনুভব করতে পারি। এই ঘটনাগুলির ক্ষেত্রেও এই রকম কিছু হয়েছে বলে অনুমান তাঁদের।

কালোযাদুতে জ্বীনের দ্বারা তিন মাসের শিশু হত্যা (সত্য ঘটনা)ঘটনাটি ঘটে আজ থেকে ৭-৮ বছর আগে। ঘটনার উৎপত্তিস্থল হলো পিরোজপুর...
07/11/2021

কালোযাদুতে জ্বীনের দ্বারা তিন মাসের শিশু হত্যা (সত্য ঘটনা)
ঘটনাটি ঘটে আজ থেকে ৭-৮ বছর আগে। ঘটনার উৎপত্তিস্থল হলো পিরোজপুর । যার কাছ থেকে ঘটনাটি শোনা, তার নাম সাহনুর আক্তার সাঈফা।
এবং ঘটনাটি সাঈফার সাথেই ঘটে। আমি তার ভাষাতেই ঘটনাটি বলছি :-
তখন আমার নতুন বিয়ে হয়েছে। আমার বয়স তখন ১৯ । হাসবেন্ড ব্যবসায়ী , তো ব্যবসায়ের কাজে ব্যস্ত থাকে। পরিবারের পুরো সংসারের খরচ আমার হাসবেন্ডই চালায়। শুশুর সরকারি চাকরি করতো , কিন্তু এখন সে অবসরপ্রাপ্ত। তো যাইহোক , নতুন বিয়ে হয়েছে তাই নতুন পরিবার , নতুন পরিবেশ , নতুন লোকজন সবকিছু মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। শুশুর-শাশুরি , হাসবেন্ড , ননদ আর আমি , এই হলো আমাদের পরিবার। শুরুতেই ননদরা ভালো হয় না , তারা সবসময় হিংসা করে এমন টাইপের এক ধরনের সেন্স আমার আগে থেকেই ছিলো। তাই ননদ থাকবে না , এমন পরিবারে বিয়ে করার ইচ্ছা ছিলো আমার। এক পর্যায়ে , এটাকে চেষ্টাই বলতে পারেন। তো সেই ইচ্ছাটা পূরণ হলো না। ননদ তো একটা পেয়ে গেলাম। তো বিয়ে হওয়ার পর থেকেই ননদকে প্রথম প্রথম নজরে নজরে রাখতাম। তার কার্যকালাপের দিকে সবসময় নজর রাখতাম। সে আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করবে , এমন একটা মনোভাব কাজ করতো আমার মনে। যার কারণে আমি তার(ননদ)
সাথে বেশি একটা মেলা-মেশা করতাম না। বেশিরভাগ সময় দূরত্ব বজায় রাখতাম। কিন্তু সে(ননদ) আমার সাথে বেশি মেলা-মেশা করতে চাইতো। সারাক্ষণ আমার পিছনে ঘুরঘুর করতো।
আমি কোন মেকআপ ইউজ করি , কোন ড্রেস পড়ি , কোন ব্রান্ডের ক্রিম ব্যবহার করি ইত্যাদি এইসব নিয়ে নাড়াচাড়া করতো। ননদ আমার থেকে বয়সে ছোট , তাই সন্দেহ করার পাশাপাশি তাকে স্নেহও করতাম। আমি যেসব জিনিস ব্যবহার করতাম , আমার দেখা-দেখি সেও(ননদ) তার ভাইকে বলে এইসব আনাতো।
যেমন :- আমি একটা নতুন মেকআপ আমার হাজবেন্ডকে দিয়ে কিনে আনালে , আমার দেখা-দেখি সেও(ননদ) আমার হাজবেন্ডকে দিয়ে কিনে আনাবে হুবহু একই মেকআপ ।
তো এটা নিয়ে আমি বেশি একটা মাথা ঘামাইনি , কারণ বোন তার ভাইয়ের কাছে চাইবে , এটাই স্বাভাবিক। ভাই-বোনের মাঝে আসতে চাই নি তবে
আমার দেখা-দেখি সবকিছু করবে কেন , এই জিনিসটা আমার কাছে বিরক্ত লাগতো। এক প্রকার হিংসাবোধ থেকেই এমনটা করে সে(ননদ)।
তো এইভাবেই সপ্তাহের পর মাস , মাসের পর বছর আসলো। এইভাবেই দিন যাচ্ছিলো।
তো এবার আসল ঘটনায় আসি ,
এইভাবেই এক পর্যায়ে , আমাদের ঘর আলোকিত করে আমার ছেলে সন্তান আসে। পরিবারের সবাই খুশি । কিন্তু ননদ কেমন যেন গম্ভীর হয়ে ছিলো। কি যেন চিন্তা করছিলো । দেখে বুঝলাম তার মুখে খুশি খুশি ভাবটা নেই। আমার প্রেগন্যান্সি চলাকালীন সময়েও ননদের ব্যবহার ভালো ছিলো না। আমার সাথে যেমন - তেমন ব্যবহার করা হোক , তাতে সমস্যা নাই। কিন্তু এবার আমার ছেলের সাথে কিছু করলে সেটা আমি সহ্য করবো না। তানিয়ার(ননদ)
সাথে আমার কোনো ভাবে কথা কাটাকাটি হলে বা ঝগড়া হলে সে তার ভাইয়ের কাছে বিচার দিবে।
অথচ দোষটা আগে তানিয়ার থাকে , কিন্তু দোষ পড়ে শুধু আমার ওপর। তো এইভাবেই চলছিলো।
ছেলের বয়স তখন ১ মাস হলো। ছেলে হওয়ার পর থেকেই পরিবারের সবাই কেমন যেন বদলে যেতে লাগলো। পরিবারের সবাই তানিয়ার(ননদ) পক্ষ হয়ে কথা বলতো সবসময়। যেখানে একসময় পুরো পরিবারকে নিয়ন্ত্রণ করতো আমার হাজবেন্ড , সেখানে এখন পরিবারের সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করে আমার ননদ । আমার বাপের বাড়ি থেকে কেউ বেড়াতে আসলে তাদের সাথে কেমন যেন অদ্ভূত ব্যবহার করা হতো। আস্তে আস্তে সব যেন পাল্টে যাচ্ছিলো। আমার হাজবেন্ডের সাথে প্রায়ই ঝগড়া লাগতো। তার কাছে গেলেই আমি অসুস্থ হয়ে যেতাম। ছেলেও প্রায়ই অসুস্থ থাকতো। অনেক ডাক্তার দেখাইছি। ডাক্তার দেখালে ভালো হতো। তবে বেশ কিছুদিন পর আবার সমস্যা দেখা দেয়। ছেলের জ্বর , ঠান্ডা লেগে থাকতো। আস্তে আস্তে অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো। আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না কেন হচ্ছে এইসব ! কি কারণে হঠাৎ এত পরিবর্তন ! আমি কালোযাদুতে বিশ্বাসী ছিলাম না।
তাই কালোযাদু কি সেটা জানতামও না।
তো আসল ঘটনা শুরু তখন , যখন ছেলের বয়স তিন মাস । একদিন দুপুরে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার পাশে আমার ছেলে নাই । আমি বাসার বিছানায় শুয়ে আছি। বিছানা থেকে উঠে দেখি আমার রুমে পুলিশ আর পরিবারের সবাই বড় বড় রাগান্বিত চোখে তাকিয়ে আছে। এমন সময় শাশুরি এসে আমার গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিয়ে বললো "" নিজের ছেলেকে হত্যা করতে তোর হাত কাঁপলো না ? "" ।
আমি তখনও বুঝছিলাম না যে কি হচ্ছে এসব।
এইসব কি বলছে তারা , আমি নাকি আমার সন্তানকে হত্যা করেছি।
আমি জোরে কান্না করে দিলাম। আর বলতে লাগলাম আমার ছেলে কই ?
তখন আমার ননদ বলে উঠলো "" অ্যাহ ! নিজের সন্তানকে মেরে এখন আবেগে বুক ভাসাচ্ছে । ""
তখন শাশুরী আমাকে বললো , "" তুই নিজের সন্তানকে কিভাবে হত্যা করতে পারলি ? ""
তখন শাশুরীর উত্তরে ননদ বললো "" আরে মা ! ঐটা(ছেলে) তো পাপের ফসল। বিয়ের আগে সাঈফার সাথে আরো অনেক ছেলেদের সম্পর্ক ছিলো। কি জানি কি করছে,,,,,,, ! ""
আমি উঠে সোজা ননদের দিকে গিয়ে ওর গালে চড় বসিয়ে দিলাম। ননদের গালে থাপ্পড় মারায় আমার হাজবেন্ড রেগে গেলো। হাজবেন্ড আমাকে মারতে আসতে লাগলো। এদিকে পুলিশ পরিস্থিতি সামলালো। আমি আমার ছেলেকে দেখতে চাইলাম।
পুলিশ বললো "" তাকে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ""
পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। এদিকে আমি কাদতে কাদতে বারবার বলেই যাচ্ছিলাম "" আমি আমার সন্তানকে হত্যা
করি নাই। কোনো মা কি পারে নিজের সন্তানকে হত্যা করতে ? ""
পুলিশ :- আপনি তো নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন যে আপনি নিজের হাতে গলা টিপে আপনার ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।
পুলিশের কথা শুনে তো আমার মাথা ঘুরে গেলো।
আমি :- কি ? আমি নিজে এইসব বলেছি ? কখন ?
পুলিশ :- আপনার শাশুরি আমাদের জানিয়েছে যে , আজ সকালে উঠে আপনি আপনার শাশুরীর রুমে গিয়ে জোরে জোরে চিৎকার করে বলেন যে "" আমি আমার ছেলেকে নিজ হাতে গলা টিপে মেরেছি , পারলে আমাকে কিছু করিস ! এইসব বলে আপনি হাসতে থাকেন আর এক পর্যায়ে আপনি অজ্ঞান হয়ে যান। আপনি ঘড়ি দেখছেন ? এখন দুপুর । সকাল থেকে আপনি অজ্ঞান ছিলেন। আমরা আপনার জ্ঞান আসার অপেক্ষায় ছিলাম। ডাক্তার আনা হয়েছিলো। ""
পুলিশের কথা শুনে আমি পাথরের মূর্তির মত হয়ে গেলাম। কি বলবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। এরই মধ্যে পুলিশ আবার জিজ্ঞেস করলো , "" আপনার সাথে কি আপনার হাজবেন্ড ঘুমায় না ? আপনি যখন আপনার ছেলেকে হত্যা করছিলেন তখন কি আপনার হাজবেন্ড সেটা দেখে নি ? শুনলাম আপনার আর আপনার হাজবেন্ডের সাথে সম্পর্ক ভালো না।
বিয়ের আগে নাকি আপনার সাথে অসংখ্য ছেলেদের সাথে সম্পর্ক ছিলো ? ""
পুলিশের এইসব প্রশ্নে আমি কোনো উত্তরই দিতে পারছিলাম না। তখন শুধু মাথা ঘুরাচ্ছিলো আর বমি বমি আসছিলো। পুলিশের প্রশ্নে উত্তর না দেয়ায় তারা আমাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় আরো ভালো করে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। আমি জিন্দালাশের মত পুলিশের সাথে থানায় চলে যাই। ছেলের মৃত্যু শোকে আমার তখন কোনো হুশ ছিলো না ,,,,,
চলবে ।
((নেক্সট পর্ব পেতে আপুরা আইডিতে ফলো দিয়ে রাখেন। তাহলে পোস্ট করার সাথে সাথে আপডেট পাবেন 🥰))
বি:দ্র: এই ঘটনাটা যার কাছ থেকে নেওয়া তিনি বলেছিলেন , তার এই ঘটনা নাকি পত্রিকায়ও লেখা হইছিলো কিন্তু সেখানে কালোযাদুর বিষয়টা লেখা হয় নাই। ঘটনা যখন ঘটছিলো তখন ভিক্টিম বুঝতেই পারছিলো না যে এগুলো কালোযাদুর ফল। পরবর্তীতে তিনি কিভাবে জানতে পেরেছিলো যে তার এইসব ক্ষতির পিছনে কালোযাদু দায়ী , সেটা জানতে হলে পড়ুন।
সবশেষে একটাই কথা বলবো , "" পড়ুন ! জানুন ! আর সর্তক হোন "" ।
কালোযাদু কোনো অচেনা ও পরমানুষরা করে না , কালো্যাদু আপনার আপনমানুষ ও নিকটআত্নীয়রাই করে।
সংগৃহীত

কে সে! (৫ম পর্ব)"এই কি হয়ছে ওমন করছো কেন? এই আশিক,আশিক। কি হয়ছে তোমার?"নীলার ধাক্কাধাক্কিতে ঘুম ভাঙ্গলো। চোখ মেলে তাকিয়ে...
07/11/2021

কে সে! (৫ম পর্ব)
"এই কি হয়ছে ওমন করছো কেন? এই আশিক,আশিক। কি হয়ছে তোমার?"
নীলার ধাক্কাধাক্কিতে ঘুম ভাঙ্গলো। চোখ মেলে তাকিয়ে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। তারমানে এতক্ষণ দুঃস্বপ্ন দেখছিলাম। দুঃস্বপ্ন এতোটা বিভৎস আর ভয়ংকর হয় জানা ছিলো না।
"কি হয়ছে,ওমনভাবে গোঙ্গানি দিচ্ছিলে কেন? কোনো খারাপ স্বপ্ন দেখেছো কী?"
আমি খানিক্ষন চুপ থেকে পাশের থাকা বোতলটা হাতে নিয়ে পানি পান করার পর বললাম,"হুম,খুব ভয়ানক একটা দুঃস্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু কি দেখেছি সেটা মনে নেই। শুধু মনে আছে তুমি আমাকে টেনে হিচড়ে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছিলে।"
নীলা চোখ দুটি গোলগোল করে বললো,"আমি! আমি তোমাকে টানছিলাম। যাক স্বপ্নের ভিতরেও তো তোমাকে টানার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।"
"তুমি চায়লে বাস্তবেও ঠ্যাং ধরে টানতে পারো,কি টানবা নাকি?"
"আরে ধুর কি বলো, এ শেষরাতে এখন আমার কাজ নেই তোমাকে ধরে টানাটানি করতে যাবো আমি। ঘুমাও তো,একটু পরেই আবার ভোর হয়ে যাবে।"
নীলা আমার কাছ থেকে উঠে গিয়ে ওপাশে আবার শুয়ে পড়লো।আমি চুপচাপ ঘুমানোর ভান ধরে পড়ে থাকলাম বিছানার উপরে।
'হঠাৎ এমন স্বপ্ন দেখার কারণ কী? ওরা দু'জনে চায়ছে টা কি আমার কাছে? ঐ বাড়ির মালিক সম্পর্কে আমাকে জানতে হবে।নিশ্চয় এমন কোনো দূর্ঘটনা লুকিয়ে আছে লোকচক্ষুর আড়ালে যা কেউ জানে না।
সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে ভোরের আযান পড়লো। বিছানা ছেড়ে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে আর ঘুম আসলো না। মাথার ভিতরে দুঃস্বপ্নটা চক্রাকারে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
সকালে অফিসে যাওয়ার পথে আবরারকে তার স্কুলে নামিয়ে দিয়ে আমি পিছনে মোড় নিলাম। সামনের মোড়ে আমাদের বাড়ির মালিকের বাসা,ওর সাথে কথা বলে যদি কোনো কিছু জানা যায়,সেই উদ্দ্যেশ্যে রওনা দিলাম।
বাড়ির সামনে যেতেই দেখলাম,বাড়ির মালিক বারান্দাতে বসে বসে খবরের কাগজ পড়ছে আর চা খাচ্ছে।
আমাকে গাড়ি থেকে নামতে দেখে পত্রিকা থেকে মুখে তুলে তাকালেন ভদ্রলোক।
তারপর বললেন,"আরে আশিক সকাল সকাল কি মনে করে? আসো আসো।
তারপর একজন মহিলার নাম ধরে ডেকে বললেন,চা দিতে।
আমি ভদ্রলোককে চা দিতে বারণ করে একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসলাম।
ভদ্রলোক হেসে বললেন,"তারপর নতুন বাড়িতে কেমন লাগছে,বাড়িওয়ালা হিসেবে তো আর তোমাদের কোনো খোঁজই নিতে পারলাম না। একা মানুষ তারউপরে আবার হাঁটুর ব্যাথাটা বেড়েছে নয়তো সময় করে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে আসতাম তোমাদের।"
আমিও হেসে জবাব দিলাম,"না তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এতো কম টাকা দিয়ে এতবড় একটা বাড়ি পেয়েছি,আর তাছাড়াও আমার স্ত্রী আর ছেলেরও বাড়িটা খুব পছন্দ হয়েছে।"
বাড়িওয়ালা কথাটা শুনে বেশ প্রফুল্ল মনে বললেন,"তা বেশ বেশ। তা বাবা কোনো দরকার ছিলো নাকি?"
আমি ইতস্ততভাবে বললাম, "হ্যা চাচা। আপনার কাছে কিছু জানার ছিলো।"
"হ্যা বলো,কি জানতে চাও?"
"আসলে আমাদের অপজিটে যে ডুপ্লেক্স বাড়িটা আছে। সেই বাড়িটার সম্পর্কেই কিছু জানার ছিলো?"
কথাটা শোনার পর দেখলাম বাড়িওয়ালার কপালে খানিকটা ভাজ পড়ে গিয়েছে।
বাড়িওয়ালা অনিচ্ছুক হয়ে বললেন,"তুমি কি ঐ পরিত্যক্ত বাড়িটার কথা বলছো?"
"হ্যা।"
"কি জানতে চাও বলো?"
"না তেমন কিছু না,আসলে এখানে আসার পর থেকে লোকমুখে নানান কথা শুনতে পাচ্ছি তো তাই।"
"কি কথা,ঐ বাড়িতে ভূত থাকে,বাড়িটা অভিশপ্ত এইসব তাই তো?"
"হ্যা। আপনি ঠিকি ধরেছেন। সেদিন আমার গাড়ির ড্রাইভারও একই কথা বলছিলো।"
"তা তোমার কি মনে হচ্ছে,তুমি তো বাড়িটার একদম কাছেই থাকো। রাস্তার এপার-ওপার। তোমার চোখে কি ওসব কিছু পড়েছে?"
"নাহ্ তেমন কিছু পড়েনি। আচ্ছা ঐ বাড়িটাতে কারা থাকতো,আর এখন থাকেনা কেন?"
বাড়িওয়ালা এবার পত্রিকার কাগজটা একপাশে সরিয়ে রেখে বললো," ঐ বাড়ির মালিক আসলে এখানকার না। লন্ডনে থাকতো তাঁরা সহপরিবারে। নাম জাফর চৌধুরী।
মাঝেমধ্যে কাজের ব্যস্ততা কাটাতেই ঐ বিলাসবহুল বাড়িটা বানিয়েছিলো বাড়ির মালিক।
দেশে আসলে যে কয়টাদিন থাকতো ঐ বাড়িতেই থাকতো।
তারপর আবার চলে যেতো,তবে ঐ বাড়ির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো ঐ বাড়ির কেয়ারটেকার সুমনকে।বেশ বিশ্বস্ত লোক ছিলো। তবে বিশ্বস্থ থাকলে কি, কথায় আছেনা সবকিছুর নষ্টের মূলে নারী। ওদের ক্ষেত্রেও ঠিক একই জিনিস ঘটেছিলো।
কেয়ারটেকারের নাম ছিলো সুমন,দেখতে বেশ সুঠাম আর শ্যামবর্ণের হলেও চেহারাতে একধরনের মায়া ছিলো। হয়তো সেই মায়াতে আচ্ছন্য হয়ে পড়েছিলো বাড়ির মালকীন।আর এভাবে আসা যাওয়ার এক পর্যায়ে নাকি বাড়ির মালকীনের সাথে সুমনের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো বলে শোনা যায়।
"তারপর?"
"তারপর আর কি ঐ বাড়ির মালকীন তাঁদের পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে নাকি সুমনের হাত ধরে পালিয়ে যায়।"
"বাড়ির মালিক তাঁদের খোঁজার চেষ্টা করেনি?"
"তা আবার করেনি,করেছিলো। এখানকার স্থানীয় থানাতে বলেছিলো,পুলশি কিছুদিন খোঁজার পর বিষয়টা ধিরে ধিরে চাপা পড়ে গিয়েছিলো।তারপর ভদ্রলোক একাই আবার লন্ডনে ফিরে গিয়েছিলো। আর কখনো এবাড়িতে আসেন নি। তারপর থেকেই এই বাড়িটা পরিত্যক্ত হিসাবেই পরিচিত সবার কাছে। এলাকার মানুষে নানান ধরনের কথা তুলেছে বাড়িটাকে নিয়ে।
তবে আমি কখনো ওসব বুঝতে পারিনি,এমনকি কখনো দৃষ্টিগোচরও হয়নি আমার।
বুঝতেই তো পারছো,সাধারণ মানুষ তিলকে তাল বানাতে এদের কোনো জুড়ি নেই।"
বাড়িওয়ালার থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম। বাড়িওয়ালার কথামত যদি ঐ বাড়ির মালকীন কেয়ারটেকারের সাথে অন্যত্র চলে যায়,তাহলে আমাদের সাথে যেগুলো হচ্ছে তার ব্যাখা কে দিবে? আদৈও কি ঐ বাড়ির মালকীন চলে গিয়েছিলো, নাকি ঘটনার আঁড়ালেও অন্য কোনো ঘটনা লুকিয়ে আছে,যা সবার অজানা?
অফিসের ডেস্কে বসে আছি এমন সময় একজন ভারী কণ্ঠজড়িত লোক এসে বললো,"স্যার ভালা আছেন?"
একটা জরুরি ফাইল নিয়ে ঘাটাঘাটি করছিলাম,তাই সেদিকে না তাকিয়েই বললাম,"এখন চা খাবো না। পরে ইচ্ছে করলে ডেকে নিবো।"
সামনে থাকা লোকটা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ডেস্কের উপর একটা সাদা কাগজ রেখে চলে গেলো।
আমি ফাইল থেকে চোখ সরিয়ে সামনের দিকে তাকাতেই দেখলাম,আমাদের অফিসের চা বয় করিম চাচা দূরে দাঁড়িয়ে আছে।
কাগজটা হাতে নিয়ে দেখলাম তাতে একটা ফোন নাম্বার লিখা রয়েছে।
চা বয় চাচাকে ডাক দিলাম।
"করিম চাচা একটু এদিকে আসো তো।"
করিম চাচা সন্তপর্ণে ছুটে এসে বললো,"হ স্যার কিছু কইবেন,চা লাগবো নি?"
আমি হেসে বললাম,"না চাচা,এইটা কিসের কাগজ দিয়ে গেলে আমাকে? কার ফোন নাম্বার এইটা?"
করিম চাচা খানিকটা অবাক হয়ে বললো,"স্যার আমি তো আপনারে কিছু দেয় নাই।"
"একটু আগেই না আমার ডেস্কের সামনে এসে কাগজটা দিয়ে গেলে আমাকে?"
"নাতো স্যার,আমি তো আমার জায়গাতেই দাঁড়াইয়া ছিলাম। আপনি ডাকনের পর আইছি।"
"তুমি ছাড়া কি আর কোনো লোক এসেছিলো,বয়স্ক টাইপের? বা আমার ডেস্কের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছো কাউকে একটু আগে?"
"কোই নাতো,কাউরে তো দেখি নাই।"
দারোয়ানকে জিজ্ঞাসা করলে সেও জানালো,সে ওমন কোনো লোককে ভিতরে আসতে দেখেনি।
কাগজটা হাতে নিয়ে চেয়ারে ধপাস করে বসে পড়লাম।
একটু আগে তাহলে যে বয়স্ক লোকটা আমার ডেস্কের সামনে এসেছিলো সে কে ছিলো?
আর কেউ যদি না আসে,তাহলে কাগজটা কে দিয়ে গেলো?"
কোনোকিছু না ভেবেই কাগজে থাকা নাম্বারটা মোবাইলে টাইপ করে কল দিলাম। ল্যান্ড ফোনের নাম্বার।নাম্বারে রিং হচ্ছে। রিং শেষ হওয়ার মূহুর্তে একজন ভারী কণ্ঠে বলে উঠলো,"হ্যালো জাফর বলছি?"
আমি ফোনটা কানে নিয়ে কিছুক্ষণ বাকরুদ্ধ হয়ে বসে রয়লাম,ওপাশ থেকে একনাগাড়ে ভদ্রলোক হ্যালো হ্যালো করেই চলেছে।
এই জাফর কি সকালে বাড়িওয়ালার বলা ঐ জাফর?
আমি বললাম,"হ্যালো। আমি কলাতলীর সাত নাম্বার রোডের বারো নাম্বার বাসার ভাড়াটিয়া বলছিলাম।"
ফোনের ওপাশটা কিছুক্ষণ নিরব থাকার পর বললো,"কলাতলী,কোন কলাতলী?"
"কুসুমপুর কলাতলী,আপনি তো জাফর চৌধুরী তাই না?"
লোকটা এবারো কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর বললো,"ওহ আচ্ছা,তা কে বলছেন আর কেন ফোন দিয়েছেন,নাম্বার কোথায় পেয়েছেন আমার?"
"আসলে সেসব বলতে গেলে অনেক সময় লাগবে। আসলে আপনার কাছে যে জন্য ফোন দিয়েছি, আপনার ফেলে রাখা ডুপ্লেক্স বাড়িটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে।
আর আমি একজন কর্পোরেট অফিসার,আপনার বাড়ির সামনের বাড়ির ভাড়াটিয়া।
আসলে আপনার বাড়িটা যেহেতু খালি পড়ে আছে,আমি চায়ছিলাম আপনার বাড়িটা ভাড়া নিতে।"
লোকটা এবার বেশ ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বললো,"আপনি কি আমাকে টাকার লোভ দেখাচ্ছেন,ঐ সামান্য কিছু ভাড়ার টাকা দিয়ে তো আমার একদিনও চলবে না।"
আমি নিজেকে শান্ত রেখে বললাম,"তা জানি,তবে আপনার বাড়িটা তো শুধু শুধু পড়ে নষ্ট হচ্ছে।
এতো বিলাসবহুল বাড়িটা পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হচ্ছে দেখেই আপনাকে ফোন দিয়েছিলাম,আপনি যখন রাজি না তাহলে আর কি করার।"
কথাটা বলে ফোন রেখে দিচ্ছিলাম,তখনি ওপাশ থেকে ভেসে আসলো,"আপনার যখন বাড়িটা এতোই মনে ধরেছে,তাহলে আপনি চায়লে বাড়িটা একবারে কিনে নিতে পারেন,পারবেন?"
ভদ্রলোককে সামনা-সামনি যেহেতু দেখার ইচ্ছে ছিলো,তাই বললাম,"হ্যা পারবো। তারজন্য তো আপনাকে এখানে আসতে হবে।"
"আচ্ছা ঠিক আছে,আর তাছাড়া আমি এমনিতেও যেতাম। বাড়িটা বিক্রির জন্য,কয়েকজন বিল্ডারের সাথেও এ বিষয়ে কথা বলে রেখেছি। আপনার যেহেতু বাড়িটা এতোই পছন্দ হয়েছে,তাহলে আপনার সাথে একটাবার বসা যেতেই পারে। আমি কয়েকদিনের ভিতরে বাংলাদেশে যাচ্ছি। তখন কথা হবে।"
বলেই লোকটা লাইনটা কেটে দিলো।
আমি ফোনটা হাতে নিয়ে হতভম্ব হয়ে বসে ভাবতে লাগলাম,এই লোকটাকে যে আমি মনে খুঁজছি মনে খুঁজছি তা অন্যকেউ জানলো কিভাবে?
আমি তো কাউকে বলিও নি,আর যেই লোকটা আমাকে কাগজটা দিয়ে গেলো সেই বা কে ছিলো? ভদ্রলোক আসলেই সবকিছু পরিস্কার হয়ে যাবে।
চলবে....

ধর্ষনের অভিযোগে মাত্র ১৭ বছর বয়সে জেল খাটতেহয় আমাকে।আজ দীর্ঘ ৯টা বছর পর অন্ধকার একদালান কোঠা থেকে বাহিরে বের হয়ে দীর্ঘ এ...
07/11/2021

ধর্ষনের অভিযোগে মাত্র ১৭ বছর বয়সে জেল খাটতে
হয় আমাকে।আজ দীর্ঘ ৯টা বছর পর অন্ধকার এক
দালান কোঠা থেকে বাহিরে বের হয়ে দীর্ঘ একটা শ্বাস
বুকে নিয়েই হাটা শুরু করলাম নিজের আপন গন্তব্যে।
এই ৯ বছরে একটা বারের জন্যেও নিজের আপন
পরিবারে বলতে কেউ আমার সাথে দেখা করতে
আসেনি।আর আসবেও বা কেনো তাদের কাছে তো
আমি একজন ধর্ষক চরিত্র-হীন ছাড়া আর কিছুই নাহ,
কোনো পরিবারি হয়তো চাইবে না একজন ধর্ষক এর
সাথে কোনো রকম সম্পর্ক বজায় রাখতে। তাদের
প্রত্যেকের সামনে আমি সেদিনি মৃত হিসেবে গন্য হয়ে
ছিলাম যেদিন ধর্ষক হিসেবে সবার সামনে প্রমানিত
হয়ে ছিলাম।জানি না ঠিক এত বছর পরেও নিজ
আপন পরিবারের সম্মুখে দাঁড়ালে তারা কি আমায়
মেনে নিবে?নাকী ধর্ষক চরিত্র-হীন কুলাঙ্গার বলে,
লাঞ্চনা অপমান করে দূর দূর করে রাস্তার কুকুরদের
মতো তাড়িয়ে দিবে?হয়তো এত দিনে আমার চেহারা
খানিও তাদের মন থেকে মুছে গেছে।কমলাপুর স্টেশন
থেকে নিজ গ্রামে যাওয়ার ট্রেনে উঠার ১০ মিনিট পর
ট্রেন চলতে শুরু করলো।ট্রেন যতই সামনের দিকে
এগোচ্ছে আমার কষ্ট ভরা বুকের ভেতরে থাকা
হার্ডব্রিট ততই বাড়ছে।টাকা না থাকায় নিজের সিট
বলে কিছুই নেই।তাই বাধ্য হয়েই দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে
আমায়।অতঃপর প্রায় ৫ ঘন্টা পর সেই চির চেনা
গ্রামের মাটিতে পা রাখলাম আমি। যে গ্রামের সাথে
জড়িয়ে আছে আমার অনেক সৃতি।আমি খুব নিশ্চিত
আমার পরিবারের সবাই আমাকে অপমান লাঞ্চনা
করে ফিরিয়ে দিবে তারপরেও বেহাইয়াদের মতো
এখানে আসার আমার একটাই কারন আর সেটা হলো
নিজ জন্ম দাতা পিতা মাতা সহ পরিবারের সবার মুখ
খানি এক বার হলেও দেখার জন্য।কত দিন হয়ে
গেলো তাদের দেখি না।আমার প্রতি তাদের মনে ঘৃণা
জমা থাকলেও আমার মনে ঠিকি আগের মতো
তাদের প্রত্যেকের জন্যই রয়েছে বুক ভর্তি ভালোবাসা।
ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছি নিজ বাড়ির নিকটে।অতঃপর
বাড়ির সামনে আসতেই কিছুটা অবাক হয়ে যাই আমি
কারণ পুরো বাড়িটা এমন ভাবে সাজানো, দেখে মনে
হচ্ছে আজ কারো বিয়ে হবে।কিন্তু সেটা কার?হঠাৎ
কেউ একজন আমার কাঁধে হাত রেখে বললো,
কে তুমি??
সে আমাকে চিনতে ভুল করলেও আমি ভুল করিনি।
কারন সে আমার বড় ভাই।চোখের অশ্রু গুলো কে
বাধা দিয়ে বললাম,ভাইয়া তুমি আমায় চিনতে পারলে
না?আমি শাহরিয়ার!!
আমার কথাটা শুনে ভাইয়া কিছুটা অবাক হয়ে বেশ
কিছুক্ষণ চুপ করে আমাকে ভালো করে দেখার পর
রাগিন্বিত কন্ঠে আমায় বললো,
--তুই?আর কোন সাহসেই বা এ বাড়ির সিমানায়
এসেছিস।তুই কি ভুলে গেছিস,আজ থেকে ৯ বছর
আগেই তোর জন্য এ বাড়ির দরজা সিমানা সব কিছুই
বাবা নিষিদ্ধ করে ছিলো।তারপরেও কেনো এসেছিস
এখানে?আর কি চাস তুই?সবি তো শেষ করে
দিয়েছিস।যে বাবা তোকে আদর ভালোবাসা দিয়ে
মাথায় করে রেখেছিলেন,তুই তাকে কষ্ট দিয়েছিস।
তার ইচ্ছে আকাঙ্খা গুলো সব ভেঙ্গে দিয়েছিস।প্রচুর
কাঁদিয়েছিস।গ্রাম বাসিদের সামনে বাবার সম্মান হানী
করেছিস।একটা মেয়ের সব থেকে মুল্যবান জিনিস টা
কেড়ে নিয়ে চাচা চাচি কে তুই প্রচুর কাঁদিয়েছিস।
কারণ ওনাদের মেয়ে আজ ধর্ষিত শুধু মাত্র তোর জন্য
এমনকি মায়ের হার্ডএট্যাকের মৃত্যুটাও শুধু তোর জন্যই
হয়েছে।সেদিন তুই যদি এসব জঘন্য মূলক কাজটা না
করতি তাহলে আজ মা জীবিত থাকতো।শুধু মাত্র
তোর জন্য আজ মা বেঁচে নেই।তোর জন্য আমাদের
সর্বদা হাসি খুশি আনন্দতে থাকা পরিবারটা আজ
হাসতে ভুলে গিয়েছে।সব কিছুর জন্য এক মাত্র তুই
দ্বায়ী।ছিহ তোর মতো ভাইকে ধিক্কার জানাই আমি।
আজ খুব একটা অবাক হচ্ছিস তাই না?বাড়িটাকে
এভাবে সাজানো দেখে?জানিস আজ কার বিয়ে হতে
যাচ্ছে,সেই মেয়েটার যাকে তুই সমাজের চোখে
কলঙ্কিত করেছিস।যার সতীত্বে তুই দাগ লাগিয়ে দিয়ে
৯ বছর জেল খেটে এসেছিস।হ্যা আজ তারি বিয়ে।
ভালো এটাই হবে চলে যা এখান থেকে।তোর সাথে
এ বাড়ির সম্পর্ক সেদিনি ভেঙে গিয়ে ছিলো যেদিন
তুই নিজ আপন চাচাতো বোন কে ধর্ষন করে ছিলি।
জানি না ভাইয়া তুমি আজো বিশ্বাস করবে কিনা?তার
পরেও আমি একই কথা আবার বলছি,যে কথা আজ
থেকে ৯ বছর আগেও সবার সম্মুখে গলা ফাটিয়ে
চিৎকার করে বলেছিলাম,আমি নির্দোষ।
---৯টা বছর জেল খেটে আসার পরেও এরুপ কথা
বলতে তোর কি একটুও লজ্জাবোধ করলো না?
সত্য বলতে লজ্জা কিসের?
--- তোকে আবারো খুব ভালো করেই বলছি প্লিজ
তুই এখান থেকে চলে যা।আর অশান্তির সৃষ্টি করিস
না?
শুধু বাবা কে একবার দেখতে চাই।কথা দিচ্ছি বাবাকে
দেখেই আমি চলে যাবো।
--- বাবা তোর মতো চরিত্র-হীন কে কেনো দেখা দিবে?
কেনো বুঝতে চাচ্ছিস না তুই(চিৎকার করে)
ভাইয়া একটু বেশিই চিৎকার করে ফেললো,যার ফলে
ভাইয়ার চিৎকার শুনে বাবা এবং চাচা উভয়ই বাড়ি
থেকে বের হয়ে এলেন।এবং ভাইয়াকে জিজ্ঞেস
করলেন, কি হয়েছে?
ভাইয়া কিছুটা আমার দিকে তাকিয়ে আমাকে আঙুল
দিয়ে ইশারা দিয়ে দেখিয়ে বললো,
---ওই যে দেখো ৯ বছর জেল খেটে দিয়ার সর্বনাশ
কারী এসেছে?
ভাইয়ার কথা শুনে বাবা সঙ্গে সঙ্গে তার মুখ ঘুরিয়ে
নিলেন।চাচা এসে আমাকে চার পাঁচটা থাপ্পর দিয়ে
বললেন,
--- তোর মতো কুলাঙ্গার কোন সাহসে এখানে আবার
পা রাখার সাহস পায়?
চাচা হয়তো বিশ্বাস করবে না তারপরেও আবার
বলছি,আমি তোমার মেয়ের সর্বনাশ করিনি,সেদিন....
---চুপ কর....তোকে নিজের সন্তানের চেয়েও বেশি
ভালোবেসে ছিলাম কিন্তু কি পেলাম বদলে।কেনো
তুই আমার মেয়ের সুখ দেখতে পারিস না?আজ কি
এখানে তুই এই বিয়ে ভেঙে আবার আমার মেয়ের
সর্বনাশ করতে এসেছিস?
জানিনা কতক্ষণ লাঞ্চনা অপমান সয্য করতে হয়েছে
আমায় তবে বেশিক্ষণ আর সেখানে থাকতে পারিনি।
সোজা আবার স্টেশনে চলে আসলাম।আসার সময়
ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা চিল্লাচিল্লি করে আমাকে
ইট-পাথর ছুড়ে মেরেছিলো।যেনো মনে হচ্ছিলো তাদের মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতা চলছিলো।কে কত বেশি
আমাকে ইট-পাথরের টুকরো মারতে পারে।সব
গুলো আমার শরীরের বিভিন্ন অংশে লাগলেও তবে
একটা আমার কপালে এসে লেগেছিলো একটুর জন্য
চোখটা বেঁচে গিয়ে ছিলো।কিন্তু কপাল থেকে সেই
মুহুর্তে বেশ খানিকটা রক্ত পড়েছিলো।শুনেছি ঢাকা
শহরটা ছোট হলেও সেখানে রাত কাটানোর বহু
জায়গা রয়েছে।অতঃপর ঘুরে ফিরে আবার ঢাকার
উদ্দেশ্যে রৌয়ানা দিলাম।আবার সেই আগের মতোই ৫ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর প্রায় রাত ১০ ঘটিকার
সময় ঢাকায় এসে পৌছিলাম আমি।অতএব নিরিবিলি
এক রাস্তাকে চিহ্নিত করে সেই রাস্তা দিয়েই আনমনে
হেটে যাচ্ছি, ঠিক জানিনা কোথায় যাচ্ছি তবে পা
যতক্ষণ চলছে এভাবেই চলতে থাকুক।হঠাৎ দ্রুত
বেগে একটা পুলিশের গাড়ি আমার সামনে এসে ব্রেক
করে এবং গাড়ি থেকে কয়েকজন পুলিশ নেমে এসে
আমাকে জোর করে গাড়িতে উঠিয়ে থানায়
নিয়ে এসে,আমি নাকী বিভিন্ন মেয়েদের কে দিয়ে দেহ
ব্যাবসা করাই সেই অপরাধে আমাকে সারা রাত প্রচুর
মারধর করে।পরের দিন সকালে আবার ঠিকি ছেড়ে
দেয়।তখন আমি খুবই আশ্চর্য হয়ে গেলাম কারন এতো
তাড়াতাড়ি ছাড়া আমি কি করে পেলাম?পরবর্তীতে
আমি বহু কষ্টে জানতে পারলাম এটা তারি ষড়যন্ত্র
যার জন্য কোনো অপরাধ না করার পরেও আমাকে
বিনা দোষে ৯টা বছর জেল খানার অন্ধকার দালানে
পার করে দিতে হয়েছে।শরীরের অজস্র ব্যাথা নিয়ে
রাস্তা পারাপার করার চেষ্টা করছি।জানিনা সত্যিই কি
আমি রাস্তাটা পার করতে সক্ষম হবো?খোড়াতে
খোড়াতে ওপারের প্রায় নিকটে চলে এসেছিলাম আর
সেই সময় হঠাৎ কিছু একটা উরে এসে আমার
চোখের গভীরে প্রবেশ করে।যার জন্য আমি এক চোখ
দিয়ে বেশ ঝাপসা ঝাপসা দেখছিলাম আর সেই
সময় কোনো এক গাড়ির শিকার হয়ে যাই আমি।
রাস্তার মাঝে পড়ে আছি আমি।অশ্রুতে টলমল করা
চোখ দিয়ে তাকিয়ে আছি নিজ শরীর থেকে টপ টপ
করে বেয়ে বেয়ে পড়া তাজা লাল রক্তের দিকে।
কখনো এক সাথে নিজের এতো রক্ত নিজ চোখে
দেখিনি।চোখ গুলো আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যাওয়ার
উপক্রম।কেনো প্রতি বার আমার সাথেই এমন হয়।
জানিনা কখন আমার জ্ঞান ফিরেছে।যখন আমি
চোখের পাতা মেলে তাকাই তখন আমি আমার পা
থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যান্টিজ করা
দেখতে পেলাম।বিশেষ করে পায়ে সবচেয়ে বেশি
ব্যান্টিজ করা দেখতে পেয়ে ছিলাম।জ্ঞান ফেরা মাত্রই
শরীরের অজস্র যন্ত্রণা যেনো আমাকে চিরে চিরে
খাচ্ছিলো।অজস্র যন্ত্রণা আর সয্য করতে না পেরে
শেষ-মেশ চিৎকার দিয়ে উঠতে বাধ্য হলাম।
অতঃপর একটা ডাক্তার ছুটে এলেন সম্ভবত উনি
মেয়ে হবেন।এসেই আমাকে একটা ঘুমের ইনজেকশন
দেন এবং তার সাথে থাকা একটা নার্সকে খুব
সতর্ক তার সাথে বললেন,আমার আবার জ্ঞান ফিরলে
এই ঔষুধ গুলো খাইয়ে দিতে এবং আমার যত্ন নিতে।
এবং পরিশেষে উনি বললেন, আমি যেনো এই মূহুর্তে
কিছুতেই জানতে না পারি যে আমি আর কখনোই
নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবো না।কিন্তু কথাটা যখন
তিনি নার্স কে বলেছিলেন সেই সময়ও আমার কিছুটা
সেন্স ছিলো।

আজকের ঘটনার শুরু করার আগে কিছু প্রয়োজনীয় কথা বলতে চাই। ঘটনাগুলোর মাঝখানে। কিছু কিছু আপনাদের কাছে মিথ্যা বা বানোয়াট মন...
07/11/2021

আজকের ঘটনার শুরু করার আগে কিছু প্রয়োজনীয় কথা বলতে চাই।
ঘটনাগুলোর মাঝখানে। কিছু কিছু আপনাদের কাছে মিথ্যা বা বানোয়াট মনে হতে পারে।
তাই বিশ্বাস অবিশ্বাস ব্যক্তিগত ব্যাপার।
যারা অ্যাম্বার কোর্টে থেকেছেন শুধু তারাই ব্যাপার গুলো জানেন এবং দেখেছেন।
আজকে যে ঘটনাটা বলছি সেটা সিয়াম এর সাথে ঘটা শুরু হয়েছিলো। এবং সূত্রপাত সে নিজেই।
আমাদের ছয় জনের মাঝে।
সিয়াম সবচেয়ে বেশি সাহসী ছেলে ছিল।
কিন্তু সেও হতবিহ্বল হয়ে যায় ব্যাপারটায়। আমাদের একেকজনের ক্লাস একেক রকম সময় হয়ে থাকে।
কারন আমাদের সবার সাবজেক্ট একই রকম ছিল না।
সেদিন ক্লাস শেষ করে ফিরতে সিয়ামের প্রায় রাত হয়ে যায়,
ঘটনাটা আমি সিয়াম এর মত করেই বিবরণ দেই।
ক্লাস শেষ করে বের হতে আমার প্রায় সাতটা বেজে যায়।
খুব অদ্ভুত হলেও সত্য এই জায়গাটাতেই মনে হয় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে বিকালের পরে।
বাস থেকে নামতেই বৃষ্টির কবলে আমি পড়ে যাই, তাই দ্রুত ব্যাগ থেকে ছাতা বের করে আমি হাইল্যান্ডার রাস্তা ধরে হাটা শুরু করি।
বেশি প্রকোপটা প্রচুর বেশি।
যার জন্য দ্রুত হেঁটে আসি।
তিন থেকে চার মিনিটের ভিতরে আমি আমার রেসিডেন্স এর গেটে আসি।
গেটে আসতে আমার মেজাজটা প্রচুর বিগড়ে যায়। কারণ বিদ্যুত নেই।
তাই লিফট বন্ধ।
পাঁচ-ছয় ঘণ্টা একটানা ক্লাস করে এসে।
সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে এই ভেবে আমার মেজাজ আরও বিগড়ে যায়।
আম্মু আমাকে সব সময় অলস ডাকত তাই নামটা তো রাখতে হবে।
আমি এক পাশে গিয়ে বসে ফোন টেপা শুরু করি যেন বিদ্যুৎ আসলে আমি লিফটে করে চলে যেতে পারি।
প্রায় মিনিট 25/30 হবে আমি বসে আছি।
আকাশটা আরো অন্ধকার হচ্ছে।
কেমন যেন ভয় ভয় লাগছে?
তাই এ দিক সে দিক না ভেবে আমি সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সিদ্ধান্ত নেই।
ক্লান্ত শরীর চড়তেই চাচ্ছে না।
সেই দশতালা উঠতে হবে।
অবশেষে ওঠা শুরু করি।
লাফিয়ে লাফিয়ে মোটামুটি তিন তালা উঠে গিয়েছে। এবার আস্তে আস্তে চলা শুরু করলাম।
কিন্তু চতুর্থ তলায় আমার জন্য কিছু যে অপেক্ষা করছে আমার জানা ছিল না।
উঠতে উঠতে দেখলাম।
আলখাল্লা বড় মাপের ব্ল্যাক আলখাল্লা পরা কেউ একজন উপরের সাইটের সিঁড়ির একপাশে মানুষের মতো বসে আছে।
আলখাল্লার জন্য তার পা দেখা যাচ্ছিল না কিন্তু তার হাত গুলোঠিকই দেখা যাচ্ছিল।
স্বাভাবিক মানুষের থেকে মোটামুটি লম্বা হাত, হাতের আঙুলগুলো যথেষ্ট লম্বা।
অদ্ভুত ব্যাপার তার চেহারা দেখা যাচ্ছিল না।
আমি ভূত না মানুষ তা না ভেবে
তার পাশ কাটিয়ে উপরে চলে আসি।
যেহেতু এখানে অনেক পাকিস্তান এবং আরব কান্ট্রির মানুষ থাকে
তাই আমি এটা মানুষ নাকি অন্য কিছু।
দেখার জন্য আমার ব্যাগ থেকে পানিভর্তি বোতলটা বের করে ওর উপর ছুড়ে মারি।
এবং বোতলটা তার উপর গিয়ে পরে
আর সে চোখের পলক পড়ার আগেই উড়ে এসে আমার গলা চেপে ধরে আমাকে দেয়ালের সাথে ঠেসে ধরে।
এটার এত বীভৎস চেহারা ছিল যার ব্যাখ্যা আমার দ্বারা দেওয়া সম্ভব না।
আমি কোন রকম দোয়া দুরুদ পড়ে ধস্তাধস্তি শুরু করলে।
আমাকে ছেড়ে দিয়ে সে চলে যায়।
আমি তাও সাহস হারাইনি।
কিংবা জ্ঞান হারায় নি।
আমি শুধু ভাবছি এটা ছিল কি?
মরার থেকে ভালো রুমে গিয়ে চিন্তা করা।
তাই আমি আবারও দৌড়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করি। এক সিরি উপরে যেতেই।
ঠিক পূর্বের মত ওটাকে আমি ওখানে বসে থাকতে দেখি।
এবার আমি তাকে ডিস্টার্ব করবো না ভেবে উপরের দিকে যেতে থাকে।
আগের মত উঠে চলে যাচ্ছি কিন্তু সে নড়ছেও না চলছে ও না ।
আমি পিছনে না তাকিয়ে উপরের দিকে উঠে যাচ্ছি।
হঠাৎ কেউ একজন আমার দুটো পাও ধরে টান দিয়ে আমাকে ফেলে দেয়।
কিন্তু সিঁড়ি থেকে আমাকে ফেলে দেয় নি।
আমি যে কয়বারই উঠতে যাই আমাকে বারবার কেউ একজন পায়ে ধরে টেনে ফেলে দিচ্ছিল।
এবার উপরওয়ালা কে ডাকা শুরু করে দেই।
এরকম প্রায় আমি 15 থেকে 16 বার পরি।
নিলয় ভাই সিয়ামের সেই ব্যথা পাওয়া দাগগুলো আমরা দেখে প্রচুর ভয় পেয়ে যাই।
তার থুতনি কেটে গিয়েছিল মুখ থেকে রক্ত বের হচ্ছিল হাতের কনুই দুটোই ছেলে গিয়েছিল।
এদিকে সামিহা আর মিতু।
এখনো রুমে ফেরেনি।
আমাদের চারজনের মাথায় প্রচুর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আমি সামিহার ফোনে কল দেওয়া শুরু করি কিন্তু সামিহার ফোন আনরিচেবল।
অনেক মিতুর ফোনে কল দেওয়া শুরু করে।
তার ফোন বেজেই চলেছে কিন্তু কেউ ধরছে না।
কোন কিছু ঘটার আগেই আমি অনিক আর রাব্বি দ্রুত গেট খুলে একবারে নিচে চলে আসি।
সামিহা আর মিতুকে একসাথে নিয়ে উঠতে পারি।
মোটামুটি আধাঘণ্টা একঘন্টা হবে আমরা তিনজন নিচে দাঁড়িয়ে থাকি।
কিন্তু ওদের দুজনের এখনও আসার কোন খবর নেই।
নিলয় ভাই এখানে একটা টুইস্ট দেওয়া কিন্তু বাকি আছে।
আমরা কিন্তু ভুলে সিয়ামকে রুমে রেখে চলে এসেছি।
রাব্বি প্রচুর কাঁপা কাঁপা গলায় বললো।
রাজু ভাই আমরা কিন্তু সিয়ামকে রুমে রেখে চলে এসেছি।
সিয়াম কিন্তু একা ওর উপর কিন্তু এখন বিপদ আসতে পারে।
এই কথা শুনে আমি অনিকের দিকে তাকিয়ে আছি অনিক আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
আমরা দুজন রাব্বিকে নিচে একা রেখে উপরে চলে আসি।
কারণ সামিহা আর মিতু আসলে যেন রাব্বি তাদের সাথে নিয়ে উঠতে পারে।
উপরে এসে রুমে ঢুকতেই।
আমরা দেখতে পাই।
10D/L রুমের ঠিক গেটের সামনে একটি মেয়ে দাড়িয়ে আছে।
ফ্লোর থেকে এক হাত উপরে বলতে গেলে শূন্যে ভাসছে।
আমরা সামনে আগানোর সাহস পাচ্ছিনা।
তারপরও পাশকাটিয়ে আমি আরো অনেক দৌড় দেই।
আমাদের রুমে ঢুকে পড়ি।
আর তখনই দেখলাম সিয়াম বিছানার ওপর এক কোণে।
জুবুথুবু হয়ে বসে আছে।
অনেক গিয়েছি আমকে ধরতেই।
সিয়াম বলে উঠলো। রাজু ভাই ভূতের আস্তানায় আমরা বসবাস করতেছি।
অনেক জিজ্ঞেস করে বসল কি হয়েছে সিয়াম। আবার কোন কিছু হয়েছে।
সিয়াম উত্তর করল।
সেই আলখাল্লা পরা লোকটি ।
দরজা দিয়ে রুমে এসে সোজা হেঁটে গিয়ে জানালার সামনে দাঁড়ায়।
তার কিছু সেকেন্ড পরে জানলার উপর উঠে দাঁড়ায়।
এবং সেখান থেকে লাফ দেয়
নিচে পড়ে যায়।
এই শুনে আমি আর অনিক। সম্বিত হয়ে যাই। শুকনো কাঠের মত দাঁড়িয়ে থাকে ঠাই।
হঠাৎ রাব্বির কলে আমাদের নীরবতা ভাঙে।
রাব্বি : রাজু ভাই সামিহা আর মিতু এখনো আসেনি।
কেউ একজন নিচে আসুন আমি একা উপরে আসার সাহস পাচ্ছিনা।
এখন কে কাকে রেখে নিচে একা যাবে কিংবা দুজন একসাথে যাবে?
তাই তিনজনই একসাথে নিচে নেমে রাব্বিকে উপরে আনার সিদ্ধান্ত নেই।
কোনরকম সিয়ামকে ধরে আমি আর অনিক। নিচে যাই।
খুব অদ্ভুত ব্যাপার বিল্ডিংয়ে কি কেউ নেই।
নাকি আমরাই কাউকে দেখছি না।
নিচে যেতে যেতেই কথা ভাবতে থাকি আমি। রাব্বিকে নিচে পেয়ে যাই।
ওকে সাথে নিয়ে উঠবো।
দোতলা পার হওয়ার পর।
তৃতীয় তলার, মানে পার্কিংয়ের পূর্ব পাশ থেকে। প্রচুর শব্দ শুনতে পাই আমরা চারজনে।
আমরা ইগনোর করে উপরে চলে যাবো ভাবি।
তখন সিয়াম বলে বসে।
রাজু ভাই।
সামিহা আর মিতু এখনো কিন্তু রুমে আসেনি।
সামিহা এবং মিতু নয় তো ওখানে????
যেহেতু ওরা দুজন এখনো রুমে আসেনি তাই এমন ধরনের কোন শব্দ আমাদের চাইলেও স্কিপ করা যাবে না।
চলেন গিয়ে দেখি ওখানে কি হচ্ছে?
প্রথম সিয়াম সেদিকে দৌড় দেয়।
আমি অনেক এবং রাব্বি পিছে পিছে দৌড় দেই সিয়ামের সাথে।
সিয়াম এত দুর্দান্ত সাহসী।
এটা আমাদের বুঝতে বাকি নেই।
কারণ পরপর তিনটা ঘটনার পরও। সে সাহস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
নিলয় ভাই ঘটনা গুলো আসলে কে কতটা বিশ্বাস করবে জানি না।
কিন্তু কথাগুলো সব সত্যি।
দৌড়াতে দৌড়াতে আমরা ঠিক পূর্ব পাশে আসি।
লিফটের ভেতর থেকে প্রচুর শব্দ আসছে।
এই লিফট পরিত্যক্ত।
সম্পূর্ণই পরিত্যক্ত বছর-দশেকে ইউজ হয়নি।
এখান থেকে কেন শব্দ আসবে?
জানতে হলে আমাদের লিফট সম্পূর্ণ চালু করতে হবে অন্যথায় লিফটের দরজা খুলতে হবে।
রাব্বির দৌড়ে গিয়ে।
ফোনের লাইট দিয়ে এদিক সেদিক খুঁজে একটি অ্যালমনিয়ামের পাতলা ফ্রেম খুঁজে পায় ।
যা দিয়ে লিফটের দরজাটা খোলা হবে।
চলবে ...
Date : 04/11/2021
নেক্সট পার্ট পেতে আমাকে ফ্লো বা এড দিয়ে রাখুন
আসলে অনেকদিন পর লেখার কারণে। লেখাগুলো কিছুটা এলোমেলো বা অগোছালো মনে হতে পারে। এতে আমি কোনভাবেই দায়ী নই। মোটামুটি এক বছর পর আপনাদের জন্য। আবারো আমার লেখা শুরু করতে হচ্ছে।
এগুলো আমার আগের গ্রুপের কালেকশনে ছিল। এখন আর নেই। তাই লিখা গুলো পুনরায় আমার লিখতে হচ্ছে। ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
আর সবাই শেয়ার করার চেষ্টা করবেন। আপনার পরিচিত সকলদেরকেই। কমেন্টে মেনশন করে দিবেন যেন তারাও পড়তে পারে।
আর যেখানে দেখবেন লিখাটি ক্রেডিট ছাড়া শেয়ার হয়েছে অবশ্যই আওয়াজ তুলবেন।
কারণ কষ্টের ফল যখন অন্য কেউ ভোগ করে। তখন আর কষ্ট করে লিখতে ইচ্ছা করে না।
আপনাদের ভালোবাসায় আবার লেখা শুরু করলাম।
পরবর্তী পর্ব অবশ্যই আগামী বৃহস্পতিবার আসবে।
জিজ্ঞেস করতে পারেন এত বড় গ্যাপ কেন?
উত্তরটা খুবই সহজ। ব্যবসার কারণে সবসময় ব্যস্ত থাকা হয় যার কারণে লিখার সময় হয়ে ওঠে না। আর পরিবেশ ছাড়া লিখা সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার দিন আমার বন্ধ থাকে যার কারণে আমি এই দিনটাতে লিখি। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন সকলেই।

Address

Uttar Khan
1203

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Haunted Area posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Haunted Area:

Share

Category