Fun.Com

Fun.Com Funny & viral videos, picture sharing platform ��

কৌতুক ১: বস বনাম কর্মীবস: তুমি কেন দেরি করে অফিসে এলে?কর্মী: বস, আমি দেরি করিনি, শুধু সময়ের আগে আসিনি!
22/02/2025

কৌতুক ১: বস বনাম কর্মী
বস: তুমি কেন দেরি করে অফিসে এলে?
কর্মী: বস, আমি দেরি করিনি, শুধু সময়ের আগে আসিনি!

"আগামীকাল ভর্তি হতে ঢাকা যাবো আম্মা। তোমার না খুব ইচ্ছে ছিল আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো।""তুই এতো দূরে যাবি?আমি থাকবো ক...
17/07/2024

"আগামীকাল ভর্তি হতে ঢাকা যাবো আম্মা। তোমার না খুব ইচ্ছে ছিল আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো।"

"তুই এতো দূরে যাবি?আমি থাকবো কি করে?এর চেয়ে এখানেই কোথাও ভর্তি হয়ে পড়াশোনা কর।"

"আম্মা ঢাবির ইংরেজি বিষয় কম কথা না।তুমি চিন্তা করিও না।আমি টিউশনি করিয়েই নিজের খরচ চালাতে পারবো। তোমাদের ও কষ্ট হবে না।"

"তুই গেলে দোকানটার কি হবে?"

"ওটা রিন্তি খুব ভালো করেই চালিয়ে নিতে পারবে। শহর থেকে যারা মালপত্র নিতে আসবে তারা আব্বার সাথে কথা বলবে আর হিসাব রিন্তি দেখে নিবে।"

রুবেলের মা আর দ্বিমত করে না।সে শুনেছে স্বপ্নের শহরের নাম ঢাকা। যে শহরে তার ছেলের একটা চাকরির ব্যবস্থা হবে। তাদের সুদিন ফিরবে।রুবেল ঢাবিতে ভর্তি হলো। বড় ভাইদের চাকরির লড়াই দেখে সে ভয় পায় মনে মনে।সকল ক্ষেত্রেই যে
মেধা তালিকায় টিকেছে খুব কম।যার দিকে তাকায় কেবল কোটা আর কোটা। কখনো সামরিক কোটা আবার কখনো মুক্তিযোদ্ধা। হতাশ হয় সে। ফিরবে কি করে তবে সুদিন?

একদিন বিকেলে আড্ডায় শুনতে পেল কোটা বিরোধী আন্দোলন হবে।শুরু হলো দামাল ছেলেদের অধিকার আদায়ের দাবী।রাজপথে মিছিল নামলো।গা ভাসালো রুবেল নিজেও। মিছিলে পা রেখে গা শিউরে উঠে তার।তবুও ভয়ে পিছপা হয় না সে। এ যেন বইয়ের পাতায় লেখা সেই বায়ান্ন আন্দোলন।সেদিন ছিল রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই আর আজ কোটা মুক্ত করার দাবী।সেদিনের মিছিলে গু'লি চালিয়েছিল পাক বাহিনী আর আজ স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিকদের সন্তানের উপর হামলা চালায় এদেশের গর্বিত এক দল। আহত, রক্তা'ক্ত দামাল সন্তানদের আজ উপাধি কেবল রাজাকার। রুবেলরা থামে না।রক্তে ঘামে ভিজে যায় তাদের শার্ট।ক্ষুধা তৃষ্ণা ভুলে তারা এক দাবীতে অটল।হুট করে কেউ একজন আঘাত করে তার মাথায়।জ্ঞান হারিয়ে বেহুশ হয়ে তপ্ত পিচঢালায় পড়ে থাকে রুবেল।

রুবেলের দাদা যখন খবর পেল রুবেল আন্দোলনে আহত হয়েছে তখন বুক থাপড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো।এই কারণে দেশ স্বাধীন করেছিল? তার মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেই কারণ সনদ বানাতে চায় লাখ পাঁচেক টাকা।অথচ দশ গ্রামের মানুষ জানে যুদ্ধে গিয়ে ডান হাত অচল হলো তার।বড় ভাইটা ম'রলো।আজ তার নাতীকে রা'জাকার বলছে?অথচ ভূয়া সনদ নিয়ে ওই পাড়ার মতিন মিয়া আজ সমাজের শ্রেষ্ঠ সন্তান।তার নাতীরা কত বড় বড় চাকরি করে। রুবেলের দাদার হাহাকারে চারিপাশ ভারী হয়ে উঠে। বৃদ্ধ কেবল বলতে থাকে,
"ত্রিশ লাখ শহীদের দেশ নয় এ দেশ, এদেশ কেবল সনদধারী মুক্তিযোদ্ধাদের।"

---সুবাসিনী

পুনশ্চ: এটা অনুগল্প। গল্পের নাম

#আমরা_রাজাকার

 #প্রিয়োশীর ভালোবাসা #পর্বঃ৮_ও_৯(শেষ পর্ব) #নুসাইবা_রেহমান_আদরআজ এতো সব কিছুর জন্য দায়ী একমাত্র সমুদ্রের বাবা। সে যদি আয়...
16/07/2024

#প্রিয়োশীর ভালোবাসা
#পর্বঃ৮_ও_৯(শেষ পর্ব)
#নুসাইবা_রেহমান_আদর

আজ এতো সব কিছুর জন্য দায়ী একমাত্র সমুদ্রের বাবা। সে যদি আয়ান কে সমুদ্রের মতো ভালোবাসা দিতো তাহলে আয়ানের মনে সমুদ্রের প্রতি এতো তিক্ততা এসে জমা হতো না। সব কিছুর লিমিট থাকে। ছোট বেলা থেকে আয়ানের প্রতি এমন ব্যাবহার করায় তার মন বিষিয়ে গেছে তাই তো সমুদ্র কে ঘৃনা করে।

- আমার কথায় কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিও কিন্তু এটাই ।
- তোর কথা ভুল নয় সমুদ্র আমি অন্যায় করেছি তাই আয়ান এমন হয়েছে। তুই যা ভালো মনে করিস তাই কর।
-দরকার নাই সমুদ্র তোমার নামে যা আছে তোমার থাকুক। আয়ান কে দিতে হবে না। আমি তোমাকে আয়ানের এর থেকেও বেশি ভালোবাসি।
- আমি জানি আম্মু তুমি আমাকে ভালোবাসো। আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি। এই সম্মত্তির জন্যেই না তুমি আমার প্রিয়োশীকে আমার থেকে আলদা করে আয়ানের সাথে বিয়ে দিতে চাও যাতে আয়ান ওর ভাগের সম্পত্তি পায়? আমার প্রিয়োশী কে হলেই হবে আর কিছু চাই না।
রাতে উকিল আসবে তোমরা উপস্থিত থেকো ঠিক সময়ে আমি আসি।

সমুদ্র যাওয়ার পথে তাকিয়ে থাকে তার বাবা - মা। তাদের দুজনের মনেই আজ পাহার সমান অপরাধবোধ। দুজন সমান অপরাধী।

সিকদার বাডির প্রতিটা মেম্বার আজ ড্রয়িংরুমে উপস্থিত৷ প্রেগন্যান্ট লিয়াও সেখানে এসে দাঁড়ায়। তা দেখে প্রিয়োশী উঠে দাঁড়িয়ে তাকে বসতে দেয়।।

-আমাদের আজ এখানে ডাকার কারন কি সমুদ্র আমাদের বলবে?
- হ্যাঁ অবশ্যই চাচ্চু জানাবো। আশা করি আপনি আমাকে বিশ্বাস করেন?
- তোকে বিশ্বাস করবো না তো আর কাকে করবো বাবা?
-তাহলে বসো একটু অপেক্ষা করো।

প্রিয়োশীর বাবা আর সমুদ্রের কথোপকথনে আয়ান বিরক্ত হচ্ছে। আয়ান চেয়েও কিছু বলতে পারছে না। কি এমন কাজ যে সবাই চুপচাপ আছে।
তখন ই একজন উকিল বাড়িতে আসলো।

- সরি সমুদ্র আমার আসতে একটু লেট হয়ে গেলো৷
- ইটস ওকে মিস্টার মিনহাজ। এবার আপনার যা কাজ করার তা শুরু করুন।
- সব রেডি করাই আছে শুধু আপনাদের সাইন করলেই হবে।

প্রিয়োশী এতোক্ষন চুপচাপ থাকলেও এবার জিজ্ঞেস করলো।
- এসব কিসের কাগজপত্র,আর সবাই সাইন ই বা কেনো করবে?
- এটা আমার নামের সম্পত্তির কাগজ। আমার নামে যা যা বাবা দিয়েছেন আজ আমি তা সবকিছু আয়ানের নামে দিয়ে দিচ্ছি।

সনুদ্রের কথায় ওর বাবা - মা বাদে পরিবারের সবাই আশ্চর্য হয়ে গেলো। সমুদ্র কেনো এসব করছে। আয়ান তো আকাশ থেকে পড়ছে বলে মনে হচ্ছে।

- এসব কি বলছো ভাইয়া আমি কেনো তোমার নামের সম্পত্তি নিবো। এই সম্পত্তি তোমার বাবার তাই এর উপর অধিকার ও তোমার।

- আমার একার বাবা না তোর ও বাবা আয়ান সে৷ হয়তো সে ভুল করছে তাই বলে মা যেমন আমাদের দুজনের বাবাও সেইম। আর আমার যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আমি নিয়ে নিয়েছি। কারো কোনো আপত্তি আছে?

কেউই কিছু বললো না। কারন যার সম্পত্তি সে নিজে দিয়ে দিয়েছে তাতে অন্যকেউ কি বলবে। আর সব থেকে বড় কথা সমুদ্র কিছু না ভেবে কিছু করে না।

আয়ান আর কিছু বললো না এতো সম্পত্তির মালিক সে একা হবে এসব ভেবেই খুশিতে তার চোখ চিকচিক করে উঠলো। কিছু না করেও সব তার নিজের হচ্ছে এর থেকে ভালো আর কি হবে। আয়ানের নামে সব লিখে দিলো সমুদ্র আর বাকি সবাই শুধু নির্বার শ্রোতা। তখন একজন হুজুর টাইপ লোক আসলো।

- ছোট আব্বু আমি জানি তুমি আমাকে খুব ভালোবাসো। মনে আছে তুমি আমাকে কি ওয়াদা দিয়ছিলে? আজ তোমাকে তোনার ওয়াদা পূর্ণ করতে হবে। আমাকে আমার আমানত ফিরত দিতে হবে।

- আমার সব মনে আছে রে। আমাকে ক্ষমা করে দিস আমি তোর আমানতের খেয়ানত করতে যাচ্ছিলাম। আমার কোনো আপত্তি নাই যদি প্রিয়োশী রাজি থাকে।

প্রিয়োশী ওর বাবা আর সমুদ্রের কথায় অবাক হয়ে বোকার মত তাকিয়ে আছে। কি বিষয়ে কথা হচ্ছে তা তাদের বোধগম্য হচ্ছেনা।

প্রিয়োশীর মা মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। সে সিদ্ধান্ত নিলো মেয়েকে জানাবে। মেয়ের হাত ধরে ওখান থেকে চলে গেলো বাড়ির ভিতরে এরমধ্যে ওখানে সমুদ্র ও বাকি সব পেপার চেক করে নিলো।

অনেক্ষন পর যখন প্রিয়োশীকে নিয়ে ওর মা আসেন প্রিয়োশী তখন নিশ্চুপ। নিচের দিকে মাথা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রিয়োশীর মা জানালো সে বিয়েতে রাজি। সমুদ্র আর প্রিয়োশীর বিয়ে পড়ানো শুর‍্য হলো। আয়ান শুধু নির্বাক শ্রোতা হয়ে দাড়িয়ে আছ্র। আজ সে জিতেও হেরে গেলো। সমুদ্র সম্পত্তি দিয়ে মেইন জিনিস নিয়ে গেলো। হাতের কাগজ মুষ্টিবদ্ধ করে রাখলো। আয়ানের অবস্থা দেখে মৃদু হাসলো লিয়া। দেখুক কেমন লাগে যখন নিজের অতিব প্রিয় জিনিস না চাইলেও হারানো লাগে।

রাফিন একদৃষ্টিতে লিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। লিয়াকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছে। প্রেগন্যান্সির জন্য হয়তো লিয়ার চেহারায় এতো লাবন্যময় লাগছে। কি গুলুমুলু লাগছে মেয়েটা কে। চোখের কোনে এসে পানি ভির জমাতে শুরু করলো। দৃষ্টি ঝাপ্সা হতে লাগলো রাফিনের৷ আজ হয়তো আয়ানের যায়গায় তার থাকার কথা ছিলো। আজ লিয়ার গর্ভে আয়ানের সন্তান না রাফিনের হতো। কিন্তু সব কি আর চাইলেও পাওয়া যায়? লিয়া রাফিনের ভাগ্যে ছিলো না তাই আজ সে অন্য কারো। চোখ থেকে গড়িয়ে পরা পানি হাত দিয়ে মুছে ফেললো সে৷

সমুদ্র আর প্রিয়োশীর বিয়ের পরে সমুদ্র সবাইকে জানায়। তার চাকরী না হওয়া অব্দি তারা এই বাড়িতে থাকবে। সমুদ্রের এহেন কথায় বাড়ির কেউ রাজি না।।
- প্রিয়োশী আমি চাইছি তুই তোর নামের সব রাফিন কে দিয়ে দিবি। আজ থেকে তুই আমার স্ত্রী। আমি চাই তোর স্বামীর যতটুকু আছে ততটুকু ই তোর হবে। আর যদি তুই চাস এই৷ সিকদার বাড়িতে থাকতে তাহলে আমার আপত্তি নাই। কিন্তু আমি এই বাড়িতে থাকবো না। এখন এই বাড়ি আয়ানের।

- যেমন আয়ানের ঠিক তেমন আমারো সমুদ্র। তুমি আর প্রিয়োশী কোথাও যাস না বাবা।

- ছোট আব্বু আম্মু আমাকে বিশ্বাস করতে পারো। আমি যেখানেই যাই তোমাদের মেয়েকে কষ্ট পেতে দিবো না। ও যাতে সব থেকে ভালো থাকে আমি সেই ব্যাবস্থাই করবো।

- ভাইয়া তুমি এখানেই থাকবে কোথাও যাবেনা।

আয়ান না চাইতেও নিজের ইমপ্রেশনস বজায় রাখতে এটা বললো।

- না আয়ান আমি অনেক পেয়েছি এই বাসা থেকে এবার নাহ মাই তোর পালা। প্রিয়োশী আমি চাই আমরা যাওয়ার পর রাফিন ও তার সমান অধিকার পাক। রাফিন নিজের অধিকারে দাপটের সাথে এই বাসায় থাকবে। ভবিষ্যতে ওর বিয়ে হবে তখন ওর স্ত্রী সন্তান হবে যাতে তাদের অধিকার ঠিকঠাক থাকে।

প্রিয়োশীর মনে সমুদ্রের প্রতি সম্মান বাড়তেই থাকে। থাকবেই না কেন সমুদ্র সবার কথা ঠিকভাবে মনে রেখে সব সিদ্ধান্ত নেয়।

- আমার কোনো সমস্যা নাই। আমার কোনো কালেই এসবের প্রতি আগ্রোহ ছিলো না। শুধু দাদু আমাকে এসব দিয়ে যায়। আমিও চাই সব কিছু আমার ভাইয়া পাক। আমার ভাইয়া আমাকে খুব ভালোবাসে আমিও বাসি৷

কথা বলতে বলতে রাফিনের কাছে গিয়ে কান্না করে দেয় প্রিয়োশী। কেনো কান্না পাচ্ছে তার সে জানেনা। হয়তো এই ভাইয়ের থেকে দূরে যেতে হবে এই কথা ভেবে। এটাই যে নিয়তী। রাফিনের বিয়ের কথা শুনে লিয়ার বুকটা ঢক করে উঠলো। উঠবেই বা না কেন? নিজের সামনে নিজের ভালোবাসা অন্যকারো হবে এমন কথায় তো কষ্ট হবেই। কিন্তু লিয়া সেও তো অনেক আগে রাফিন কে ঠকিয়েছে৷ সে তো আয়ানের মোহে আটকে রাফিন কে ধোকা দিয়েছিলো। আয়ান তো একা দোষি না? লিয়ার ইচ্ছা না থাকলে আয়ানের একা এতোদুর আগানো কখোনোই হতো না। সুমাইয়া নিজের বান্ধবির জন্মদিনে গিয়েছিলো। সে যখন এসে জানবে সমুদের বিয়ে হয়ে গেছে তখন কি হবে?

#পর্ব_৯

সবাই যে যার কাজে ব্যাস্ত, আজ হুট করে যে এভাবে বিয়ে হয়ে যাবে কেউ ভাবে নাই। প্রিয়োশী নিজের রুমের দরজা আটকে বসে আছে। প্রিয়োশীর মা আর সমুদ্রের মা রান্নাঘরে রান্না করতে ব্যাস্ত। আয়ান যেনো কোথায় বেড়িয়ে গেছে। ড্রয়িংরুনে সোফায় বসা লিয়া সামনেই রাফিন। এভাবে বসে থাকতে লিয়ার খারাপ লাগছে কিন্তু হুট করে দাড়াতে পারেনা। এত বড় পেটু নি তারাহুরা করে দাঁড়ানো যায় না। রাফিন এতোক্ষন ধরে লিয়ার হাসফাস করা দেখছে।নিজের নিরবতা ভেঙ্গে রাফিন বললো.

- কেনো আমার সাথে প্রতারণা করলে লিয়া? আয়ানের মাঝে কি এমন দেখলে যে আমার কথা ভুলে গেলে।আমাকে কি ভালোবাসো নাই কখোনো?

- আমাকে ভুল বুঝোনা রাফিন আমি তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু আমার মতিভ্রম হয়েছিলো। তাই তো আমি কিছ্য না ভেবে আয়ানের ফাদে পা দেই। বাহিরের চাকচিক্যের মোহে পরে যাই আমি। আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো নিজের লাইফে এগিয়ে যাও রাফিন।

- আমার জন্য এতোটা ভাবার জন্য ধন্যবাদ তোমাকে। আসো আমি তোমাকে দাড়াতে হেল্প করি এখানে আর কেউ নাই।

রাফিন লিয়ার অনুমতির অপেক্ষায় থাকলো না। লিয়ার হাতের কব্জি ধরে দাড়াতে সাহায্য করলো। লিয়া ধীরে ধীরে এক এক সিরি বেয়ে উঠছে আবার থেমে যাচ্ছে। বুঝাই যাচ্ছে তার কষ্ট হচ্ছে এভাবে। দাড়িতে থেকে আবারো আরেক সিরি উঠলো। এভাবে উপরে উঠা লিয়ার কাছে অনেক টাফ লাগছে। এক পা উপরে দিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে সিরির দিয়ে নিচে পড়্ব গেলো লিয়া। গগনবিদারি চিৎকার দিয়ে উঠলো সে। রাফিন লিয়ার চিৎকার শুনে দৌড়ে লিয়ার কাছে যায়। লিয়া অসহ্য বাথা আর যন্ত্রনায় ছটফট করছে। সারা ফ্লোর রক্তে ভেসে যাচ্ছে৷ বাড়ির সবাই প্রিয়োশী ও দৌড়ে আসলো।

- আমার বাচ্চাকে বাচাও রাফিন,আমাকে হাসপাতাল নিয়ে চলো।

রাফিন চুপ চাপ পাথরের মত বসে আছে,লিয়ার করুন আর্তনাদ তার কানে পৌছানো মাত্র তার হুস আসে৷ সে পাজা কোলে করে আগাতে বাড়ির সবাই সাথে যায়। বাড়িতে রাফিন বাদে কোনো পুরুষ নাই। রাফিন গাড়িতে পিছের সিটে রাখে সেখানে প্রিয়োশী আর তার মা বসলো। আর আফিয়া সিকদার রাফিনের পাশে বসলো সবাই খুব চিন্তিত। আফিয়া সিকদার যতোই লিয়াকে অপছন্দ করুক না কেন। লিয়ার অবস্থা তেমন ভালো না।

- লিয়া চোখ খোল আর একটু কষ্ট কর আমরা হাপাতালে যাচ্ছি। প্লিজ চোখ খুলে রাখ।
- আমি আর পারছিনা রনু আমি মনে হয় আর বাঁচবো না কিন্ত আমার বাচ্চাটাকে বাচা প্লিজ।
- কিছু হবে মা তোর আর বেবির। আল্লাহ কে ডাক লিয়া।

কথা বলতে বলতে তারা হাসপাতালে চলে গেলো। প্রিয়োশীর মা সবাই কে ফোন দিয়ে খবর জানান। শুধু সমুদ্র আর আয়ানের ফোনে তারা পায় না। লিয়াকে অটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রক্ত লাগবে তা আফিয়া সিকদার দিবে বলে ঠিক করেছে। লিয়ার অবস্থা তেমন ভালো না, সিজার করতে হবে তার। সবাই চুপচাপ বসেবসে আল্লাহ কে স্মরণ করে যাচ্ছে। ঘন্টাখানেক এর মধ্যে সমুদ্রের বাবা আর প্রিয়োশীর বাবাও সেখানে উপ্সথিত হয়। নার্স একটি বাবুকে কোলে নিয়ে আসে লিয়ার ছেলে বাবু হয়েছে।তবে উপর থেকে পড়ায় বাচ্চাটা মাথায় ভালোই চোট পেয়েছে তাই তাকেও শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করে রেখেছে। লিয়ার এখোনো জ্ঞান ফিরে নাই। আয়ান আর সমুদ্র ও হাসপাতালে চলে এসেছে। আয়ানের চোখ ফোলা মেবি কেদেছে তাই। হন্তদন্ত হয়ে কেবিনে ঢুকে পড়লো সে। লিয়ার পাশে বসে তার হাত ধতে কেদেই যাচ্ছে। আয়ান্রত মত মানুষ ভালোবাসতে জানে তা কি বিশ্বাস হয়? স্ত্রীর এমন অবস্থায় সে যে ভেঙে পড়েছে৷

- মা ও মা আমার বেবি কেমন আছে আর লিয়া চোখ খুলছে না কেন মা? ওরে তাকাতে বলো। দেখো আমার বুকটা খালি খালি লাগছে।

- কাদে না আয়ান লিয়া ঠিক আছে, আর তোর ছেলে বাবু হয়েছে ওর একটু সমস্যা এইজন্য ওকে চেকাপের জন্য রাখা হয়েছে বাবা।

- সব আমার দোষ আমি কেন লিয়াকে একা ফেলে চলে গেলাম। আজ আমি থাকলে তো এটা হতো না আম্মু। আমি অনেক খারাপ আম্মু আল্লাহ আমাকে এইভাবে শাস্তি কেনো দিলো। আমার বাচ্চাটা তো দোষ করে নাই ও কেন এইভাবে কষ্ট পাচ্ছে।

আয়ানের আহাজারিতে সবার মন খারাপ করে দিচ্ছে। আয়ান যতোই খারাপ হোক না কেন এমনটা কারোই মানার যোগ্য না। প্রিয়োশী আর সমুদ্র এক যায়গায় বসে ছিলো।

- আপনি বাবু কে দেখবেন?
- হ্যাঁ আমি দেখবো তুমি দেখছো?
- না চলেন দেখে আসি।

প্রিয়োশী আর সমুদ্র চলে গেলো বাবুকে দেখতে। বাবুটা কত ছোট আল্লাহ,সময়ের আগে দুনিয়ায়ে আসায় এখোনো অনক উইক দেখা যাচ্ছে বাবুকে।

দেখতে দেখতে ১৬ দিন চলে গেছে, আয়ান সমুদ্র আর প্রিয়োশী একদিন হাসপাতালে বেশি ছিলো। আয়ান একদিন অনেক শান্ত ছিলো কারো সাথেই বেশি কথা বলে নাই। এমনি লিয়ার ও, লিয়া আয়ানের প্রতি আবারো দূরবল হয়ে পরেছে। আয়ানের এমন কেয়ারিং কান্না সব কিছুর জন্য। বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আয়ানের সে কি কান্না। প্রতিটা মানুষ খারাপ হতে পারে কিন্তু কোনো বাবা খারাপ হয় না। সন্তানের প্রতি ভালোবাসাও মিথ্যে হয় না। তা আয়ান কে দেখলেই বোঝা যায়। আজকে সবাই লিয়া আর ওর বাচ্চাকে নিয়ে সিকদার বাড়ি যাবে। বাচ্চার নাম রাখা সাধারনত ৭ দিনের দিন করে। বাবু অসুস্থ থাকায় তা ২১ দিনে করবে বলে সবাই ঠিক করেছে। সিকদার বাড়িরে নতুন অতিথির আগমনে আবারো খুশিতে ভরে উঠেছে। প্রিয়োশী লিয়ার সাথে কোনো কথা না বললেও সারাদিন বাচ্চাটার সাথে খুব দুষ্টামি করে৷

আকিকার সব আয়োজন আয়ান আর সমুদ্র মিলেমিশে করছ্র। বাড়ির সবাইর এটা দেখে খুব ভালো লাগছে অবশেষে দুইভাইয়ের মধ্যে ঝামেলার অবসান ঘটতে চলছে। এতো খুশির মধ্যেও সব থেকে খারাপ আছে সুমাইয়া। এই খুশি যেনো তার দু চোখের বিষ। প্রিয়োশীর প্রতি সমুদ্রের ভালোবাসা কেয়ার দেখে জ্বলে পুড়ে মরছে সে।

অবশেষে নাম রাখার অনুষ্ঠানে বাচ্চার নাম রাখা হলো লিয়ান সিকদার। নামটা অবশ্য প্রিয়োশীর রাখা। আয়ান আর লিয়ার নামের সাথে মিলিয়ে রাখা হয়। সব অনুষ্টান শেষে প্রিয়োশী আর সমুদ্র ঘুরতে যাবে বলে ঠিক করে রাখে। প্ল্যান অনুযায়ী তারা বেড়িয়ে যায়।

- প্রিয়ো আমাকে বিয়ে করে কি তোর কোবো আফসোস হয়?
- আফসোস কেনো হবে আমার। আপনার মত কাউকে পেয়েছি সেটাই আমার ভাগ্য।
- তুই যে আমাকে ভালোবাসি না প্রিয়োশী? আমি তো চাই প্রিয়োশীর ভালোবাসায় ভেসে যেতে।
- কে বলেছে আপনাকে সমুদ্র যে প্রিয়োশী আপনাকে ভালোবাসে না?
- কই প্রিয়োশী তো কখোনোই আমাকে বলে নাই সে আমাকে ভালোবাসে।

সমুদ্র যে মজা করছে তা তার এক্সপ্রেসন দেখেই বুঝে গেলো প্রিয়োশী।

- যাহ আপনি আমার সাথে মজা করছেন এটা একদম ঠিক না।
- আমি মজা করছি না।
- জানেন আমি আমার অনুভুতি বলতে পারি না। সব কথা গুছিয়ে সাজিয়েও বলত্ব পারি না। তবে আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি। এই প্রিয়োশীর ভালোবাসা আপনার প্রতি এক সমুদ্র সমান।
- এভাবে বললে কি আর নিজেকে ঠিক রাখা যায় জান?
- দেখে শুনে গাড়ি চালান আপনি নাহলে এক্সিডেন্ট হবে।

প্রিয়োশীর কথা শেষ হওয়ার আগেই এক ট্রাকের সাথে তাদের গাড়ির ধাক্কা খেয়ে যায়। সমুদ্র আর প্রিয়োশী কিছু বুঝে উঠার আগেই এমন হয়ে গেলো। ররক্তাক্ত দুটি হাত গাড়ির ভাঙ্গা দরজা দিয়ে বেরিয়ে আছে। গাড়ির উপরে ট্রাক উঠে যাওয়ায় দুজনের মাথা থেতলে গেছে।

সিকদার বাড়ির সবাই এক্সিডেন্টের খবর পেয়ে ছুটে গেলো হাসপাতালে। সমুদ্র আর প্রিয়োশীর ঘরি মোবাইল পেলো তারা। এটা পেয়েই লাশ শনাক্ত করা হলো। বাড়ির সবাই খুন ভেঙ্গে পড়েছে। আয়ান সবাইকে সামলে নেয়, প্রিয়োশী আর সমুদ্রকে দাফন করা হয়।

হেসে নাও যত খুশি হওয়ার হয়ে নাও আমরা আবার ফিরে আসবো তখন তোমরা ছাড় পাবেনা। সব অন্যায়ের শাস্তি তোমরা পাবে।
.সমাপ্ত....

( এতোদিন এই গল্পের সাথে থাকার জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। আমি গল্পটা এখানে শেষ করেছি কারন এটার থিম আমি মনমতো মিলাতে পারছি না তাই।)

 #প্রিয়শীর ভালোবাসা #পর্বঃ৬_ও_৭ #নুসাইবা_রেহমান_আদরপ্রিয়োশী রাগি চোখে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে,না পারে সে সমুদ্র কে তার ...
16/07/2024

#প্রিয়শীর ভালোবাসা
#পর্বঃ৬_ও_৭
#নুসাইবা_রেহমান_আদর

প্রিয়োশী রাগি চোখে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে,না পারে সে সমুদ্র কে তার রাগের আগুনে পুঁড়িয়ে ছাই করে দিবে। সমুদ্র তো মিটিমিটি হেসেই যাচ্ছে।

- কি বললেন আমি ডায়েট করি এটা শুন লাগলো মানে? আমি যে ডায়েট করি তা অবিশ্বাস করছেন।

- ইশ না কে বললো আমি অবিশ্বাস করছি। আমি তো তোকে বিশ্বাস করলাম যে তুই ডায়েট করোস। তা কত কেজি ওজন কমিয়েছিস?

- একমাসে আমি ১ কেজি ওজন কমিয়েছি জানেন।

প্রিয়োশী অনেক ভাব নিয়ে কথাটি বললো। প্রিয়োশীর কথা শুনে হো হো করে হেসে ফেললো সমুদ্র। প্রিয়োশী অবাক হয়ে সমুদ্রের হাসি দেখে যাচ্ছে। লোকটার হাসি এতো সুন্দর কেনো? ইশ আমি এভাবে তাকালাম কি ভাববে।

- আপনি হাসছেন কেনো এভাবে?
- হাসবো না তো কি করবো আমি? লাস্টে শুনা লাগলো প্রিয়োশী সিকদার এক কেজি ওজন কমিয়ে এতো ভাব নিচ্ছে।
- আমি জানি আপনার জ্বলে। আমি গুলুমুলু দেখে আপনার হয়তো জেলাস ফিল হয় আমি বুঝি।

সমুদ্র হেসে গাড়ি ড্রাইভ করা শুরু করে দিলো। প্রিয়োশী নিজের মতো চিপ্স খাচ্ছে আর ফোন বের করে স্ক্রোল করা শুরু করে দিলো। দুইজনের মধ্যে আর কোনো কথা হচ্ছে না। প্রিয়োশী খুব মনযোগ দিয়ে ফোনে কিছু করছে।

- প্রিয়ো লাঞ্চে কোথায় যাবি?
- আপনার যেই যায়গা ভালো লাগে সেখানে চলুন।
- মোবাইলে এতো মনযোগ দিয়ে করছিস?
- ভার্সিটি থেকে আমাদের এসাইনমেন্ট দিয়েছে তা আমার ফ্রেন্ড ইনবক্সে সেয়ার করলো আমার সাথে।
- পড়াশোনা তো ছেড়েই দিয়েছিস। ভাবছি এবার তোকে বিয়ে দেওয়া যাক।
- আমি বিয়ে করছি না এখন তুমি করো।
- সময় হলেই দেখা যাবে।

রেষ্টুরেন্টের সামনে গিয়ে গাড়ি থামিয়ে প্রিয়োশী কে বললো ভিতরে যেতে। সমুদ্র গাড়ি পার্ক করে আসবে। সমুদ্রের কথা মতো প্রিয়োশীও রেষ্টুরেন্টের মধ্যে ঢুকে সমুদ্রের অপেক্ষা করতো লাগলো। প্রিয়োশী বসে বসে মেন্যু কার্ড দেখছিলো। তখন ওয়েটার এসে জানতে চাইলো প্রিয়োশী কি নিবে.

- ম্যাম কি কি অর্ডার করবেন?

- একটা চিজ পাস্তা,মাসরুম স্যুপ,পিজ্জা,বার্গার,চকলেট শেক, আইস্ক্রিম,বোরহানি। ওহ হ্যাঁ ফ্রাইড রাইস,চিকেন ফ্রাই,বিফ আর লাস্টে কোকাকোলা।

- আর কিছু ম্যাম?

- দাঁড়ান আমার সাথে যে আছে উনিও তো অর্ডার দিবেন, আমি তো শুধু আমার অর্ডার দিলাম আপনাকে।

ওয়েটার আর সমুদ্র হা করে তাকিয়ে আছে প্রিয়োশীর দিকে৷ সমুদ্র বসতে বসতে বললো।

- মাত্র এই কয়টা খাবার কি অরডার দিলি তুই প্রিয়ো। আর কিছু নিবি না?

- দেখছেন আমিও ভাবছি কম হয়ে গেছে কিন্তু কি করবো বলুন? আমি তো বেশি খাবার খেতে পারবো না ডায়েট করছি তো তাই। থাক ১ ঘন্টা পরে আমাকে পানিপুরি আর ফুচকা খাওয়াতে নিয়ে যাইয়েন।

প্রিয়োশীর কথায় ওয়টারের কাশি শুরু হয়ে গেলো আর সমুদ্র অবিশ্বাস্য চোখে দেখে যাচ্ছে । মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে সমুদ্র।

- স্যার আপনি কিছু অর্ডার করবেন?

- হ্যাঁ আমার জন্য কফি আর একটা চিকেন স্যুপ দিয়েন।

ওয়েটার চলে যাওয়ার পর সমুদ্র প্রিয়োশীকে বলে।

- প্রিয়ো তুই ঠিক আছিস?

- হ্যাঁ আমার আবার কি হবে? ভাইয়া জানেন আমার খুদা কম লাগছে যদি বেশি খুদা লাগতো না তাহলে আমি কতগুলা খাবার যে অর্ডার দিতাম আজ।😒

- এতো এতো খাবার অর্ডার দেওয়ার পরেও বলছিস তোর কম খুদা লাগছে? এর থেকেও আরো বেশি খাইতে পারিস,এতো খাবার কোথায় যায় প্রিয়ো?

- এই আপনি আমার খাবাররের দিকে একদম নজর দিবেন না ভাইয়া। আশ্চর্য খাবার আবার কোথায় যাবে আমার পেটুতে যায়।

- তুই কোন ডায়েটচার্ট ফলো করিস আমাকেও দিস।

- বাসায় আমার রুমে দেওয়ালে টানানো আছে বাসায় গিয়ে দেখে নিয়েন। চুপচাপ থাকেন খাবার দিতে এতো লেট করছে কেন।

সমুদ্র মনেমনে ভাবছে এই কোম খাদকের পাল্লায় সে পরেছে। আল্লাহ রে এই মেয়ে এতো খাওয়ার পরেও নাকি খুদা বেশি লাগেনা। আমাকে দুইদিনে ফকির বানাবে এ। ওয়েটার খাবার দিয়ে যাওয়ার পর এক এক করে সব খাবার খেয়ে যাচ্ছে প্রিয়ো। সব গুলা আইটেম থেকে একটু একটু করে খাচ্ছে। সমুদ্র কফি খাওয়া শেষ করার ১০ মিনিটের মাথায় তার চিকেন স্যুপ দিয়ে গেলো। সমুদ্র নিজের খাবার রেখে প্রিয়োর খাওয়া দেখে যাচ্ছে। কিভাবে খাচ্ছে প্রিয়ো দেখে মনে হচ্ছে কতকাল না খেয়ে আছে সে। সমুদ্র একটু খাওয়ার পর আর খেতে পারছেনা। প্রিয়োশীর খাওয়া শেষ সে কোকাকোলায় এক চুমুক দিয়ে সমুদ্রের দিকে তাকালো।

- সমুদ্র ভাইয়া আপনি যদি আপনার খাবার খেতে না পারেন তাহলে আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি।

- কিভাবে?

- আমাকে দিন আপনি তো খেতে পারছেন না? আপনার উপর আমার খুব মায়া লাগছে ভাইয়া তাই আপনার হয়ে স্যুপ টা আমি খেয়ে নিবো। নাহলে এই কিউট চিকেন স্যুপ আপনাকে অভিশাপ দিবে।

- তুই খেতে পারবি আই মিন তোর পেটুতে যায়গা আছে?

- না তো কিন্তু আমি এখন স্যুপ না খেলে স্যুপটা কান্না করবে।

- আচ্ছে নে খা।

সমুদ্র বোকার মতো দেখেই যাচ্ছে প্রিয়ো কে। স্যুপ না কি অভিশাপ দিবে কান্না করবে। আবার স্যুপ কিউট ও হয় আর কতো কি শুনা লাগবে। সমুদ্র নিশ্চিত পাগল হয়ে যাবে এই মেয়ের সাথে আর কিছুক্ষন থাকলে। প্রিয়োশী খাবার শেষ করে ঢেকুর তুললো।

- ইয়াক এসব কোন ধরনের কাজ প্রিয়ো?

- দূর ভাইয়া চিল করো তো।

,,সিকদার বাড়িতে...

- সুমাইয়া এই সুমাইয়া কোথায় তুই?, ( সামায়রার নাম চেঞ্জ করে সুমাইয়া রাখা হলো)

- এইযে খালা আমি এখানে৷

- তোকে কি এই বাসায় এনেছি ঢেং ঢেং করে ঘুরতে? আর সারাদিন বাড়ির বাহিরে থাকতে।

- আমি কি করবো বলো তোমার বড় ছেলে আমাকে পাত্তাই দেয় না। এতো চেষ্টা করি।

- লজ্জা লাগেমা এসব বলতে মেয়ে মানুষ কেনো হয়েছিস একটা ছেলেকে নিজের দিকে টানতে পারিস না?

- আমার দিকে তাকায় না তোমার ছেলে। যাইহোক আয়ান ভাইয়ের প্ল্যান কি খালা কিছু জানো?

- আমার প্ল্যান জানার মতো যোগ্যতা আর বয়স এখোনো হয় নাই তোর। নিজের চর্কায় তেল দে।

সুমাইয়া আর মিসেস আফিয়া সিকদারের কথার মধ্যে আয়ান রুমে ঢুকে এই কথার জবাব দিলো।

- তুমি চুপ থাকো আয়ান বড় বড় লেকচার দিয়ো না। বিয়ে অই ফকিন্নির বাচ্চাকে করেছো লজ্জা লাগেনা? রওনাক কে বিয়ে করলেও তো এই বাড়ির বাকি অর্ধেক সম্পত্তি তুমি পেতে।

- মা লিয়াকে নিতে একদম বাজে কথা বলবে না। আর অপমান তো দূরে থাক।

- মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার, কি আছে কি অই লিয়ার মাঝে?

- লিয়াকে আমি ভালোবাসি এই নিয়ে আর কোনো কথা হবে না। আর বাকি রইলো রওনাক? রওনাক কেও আমি বিয়ে করবো। ওরা দুই বান্ধবি দুই সতিন হয়ে থাকবে। অই সম্পত্তি কেবল আর কেবল আমার হবে।

- তুমি বলবে আর রওনাক তোমাকে নাচতে নাচতে বিয়ে করে নিবে তাই না?

- কেনো নিবেনা ও আমার ভালোবাসায় অন্ধ মা। দেখলে না আমার পাশে লিয়া কে দেখে সু,,,,ই,,,,সা,,,,ই,,,,ডের চেষ্টা করেছিলো?

- হ্যাঁ আমার সব মনে আছে শুরু থেকে একটা কথা বলে যাচ্ছি আমি তোমাকে সমুদ্র বড় ভাই হয় তোমার ও কে হিংসা করো না। অর্ধেক সম্পত্তি ও কে দিয়েছে তো কি হয়েছে রওনাক কে বিয়ে করে বাকি অর্ধেক তুমি নিজের নামে করে নেও।

- সমুদ্র সমুদ্র আর সমুদ্র কে ও সব আদর সম্মান ভালোবাসা ও কেনো পাবে মা? বাবার আদরের বাড়ির সবার চোখের মনি একা সমুদ্র কেনো হবে? তুমি ও মা সমুদ্র কে ভালোবাসো কেনো ও তো।

- চুপ আয়ান এই কথা আমি তোমার মুখে শুনবো না। সমুদ্র আমার ছেলে আমার আর ও তোমার বড় ভাই মাথায় রাখবে৷

আয়ান রাগে দরজায় লাথি মেরব রুম থেকে বের হয়ে যায়। সুমাইয়া ওর খালাকে বলে৷

- খালা লিয়া তোমার ছেলেকে দেখো তাবিজ করেছে তুমি কিভাবে মেনে নিচ্ছো?

- না মেনে উপায় নাই আয়ান য্ব বড্ড যেদি সুমু ও কে সামলানো দায়। লিয়ার বাচ্চা একমাত্র ভরশা এখন আমাদের৷ তুই যেভাবেই হোক যা করতে হয় কর সমুদ্র কে প্রেমের জালে ফেল৷

প্রিয়োশী এতো এতো খাবার খেয়ে আর উঠে দাড়াতে পারছে না। সমুদ্র এবার প্রিয়োশীকে ভয় দেখানোর বুদ্ধি বের করলো।

- এতো এতো খাবার যে খেলি তোর কাছে টাকা আছে প্রিয়ো বিল কিভাবে দিবি?

প্রিয়োশী ও ভাবনায় পরে গেলো সে তো টাকা আনে নাই। এখন সে সমুদ্রের দিকে অসহায় ভাবে তাকায়।

- আমার দিকে তাকাবি না আমি এতো টাকা দিতে পারবো না।

- এতো কিপ্টামি কেনো করেন দিয়ে দেন না বাসায় গিয়ে আম্মুর থেকে নিয়ে আপনাকে দিয়ে দিবো।

- দিতে পারি আমার এক শর্ত আছে।

- আচ্ছা আমি আপনার সব শর্ত মানতে রাজি ভাইয়া

#পর্বঃ৭

সমুদ্র রওনাক কে নিয়ে নদীর পারে ঘুরতে যায়৷ সুরেশ্বর নদীর পার টা আসলেই খুব সুন্দর৷ একটা নতুন ক্যাফের কাজ চলছে পাশেই। দেখতে খুব সুন্দর লাগছে টিন আর কাঠ দিয়ে বানানো হচ্ছে ক্যাফে হাউজ টি।

- যায়গা টা খুব সুন্দর সমুদ্র ভাইয়া। আমাকে কি আপনি এই ক্যাফে যখন পুরো তৈরি হয়ে যাবে তখন আবার নিয়ে আসবেন?

- যায়গাটা কি তোর খুব বেশি পছন্দ হয়েছে প্রিয়ো?

- হ্যাঁ দেখেন কি বাতাস, সামনে নদী কি শান্ত। আচ্ছা আমি ওখানে গিয়ে নিচে নেমে পানিতে পা ডুবাই?

- না দরকার নাই পরে যাবি তুই।

- না দেখেন ওই যে কত মানুষ নিচে নেমে কাজ করছে তাদের তো কিছু হচ্ছে না।

- আমার সাথে বেশি তর্কের দরকার নাই। চল তুই না ফুচকা খাবি?

- হ্য খাওয়াবেন? আমার কাছে তো কোনো টাকা নাই আমি দিতে পারবো না।

- দেওয়া লাগবে না চল বাহিরে দেখি কোথায় ফুচকা পাওয়া যায় নাকি।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো প্রিয়োশী আর সমুদ্র বাড়ি ফিরলো। বাড়িতে সমুদ্রের সাথে প্রিয়োশীকে ঢুকতে দেখে আয়াত রেগে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ফেলে। দ্রুত সে ওখান থেকে সরে যায় যা তে সমুদ্র আর প্রিয়োশী ও কে না দেখতে পায়। সমুদ্র চলে গেলো নিজের রুমে। প্রিয়োশী কে তার রুমে যেতে হলে আয়ানের রুম পাস করে যাওয়া লাগে। আয়ানের রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় প্রিয়োশী কে টেনে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে রাখে। থতমত খেয়ে যায় প্রিয়োশী। আয়ানের এসব কাজে সে কিছুই বুঝতে পারছে না।

- আমাকে এভাবে টেনে নিয়ে আসার মানে কি?

- বাহ রওনাক তোর এই রাগি রাগি আওয়াজ তো আমার সেই লাগে।

- মজা করছেন আমার সাথে আয়ান ভাইয়া? আমার হাত ছাড়ুন।

- আমার প্রতি ভালোবাসা দুইদিনের মধ্যে শেষ? বাহ আজ আবার আমার বড় ভাইয়ের সাথে।

- ভালোবাসা শব্দ টা অন্তত আপনার সাথে যায় না। আপনার স্ত্রী ঘরে আছে আপনার এইরকম কাজ শোভা পায় না। আর এসব নোংরা কথা আমাকে বললে ভালো হবে না।

প্রিয়োশী আয়ান কে এক প্রকার ধাক্কা মেরে সরিয়ে রাগে হনহন করতে করতে নিজের রুমে চলে গেলো। কেমন সারা শরীর রিতীমত ঘিনঘিন করছে তার। ওয়াসরুমে জামাকাপড় নিয়ে চলে গেলো। আয়ান নিজের রুমে যাওয়ার জন্য পিছু ফিরে তাকিয়ে দেখে লিয়া দাঁড়িয়ে আছে। লিয়া আয়ান কে তাকাতে দেখে আবার নিজের রুমে চলে গেলো।

- শুনো যা জানো চুপচাপ থাকো রাফিন কে দেখে কি তার প্রতি পিরিত তোমার উতলে পড়ছে?

- আমাকে নিজের মতো চরিত্রহীন ভাবছেন মিস্টার সিকদার?

- মুখ সামলিয়ে কথা বলো লিয়া।

- ওহ প্লিজ সাট আপ। আপনার মুখে এসব কথা মানায় না। আপনি নিজের ক্যারেক্টর সামলান। আর কিছুদিন পর সন্তানের বাবা হবেন ভেবে দেখছেন এমন চেহারা নিয়ে সন্তানের সামনে কিভাবে দারাবেন?

- তুমি তোমার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছো লিয়া। আমাকে রাগিয়ো না ফল ভালো হবে না।

- যা খারাপ করার আমার সাথে তো আপনি করেই ফেলছেন আর কি করবেন? আর কিছু বাকি নাই। কিন্ত এমন দিন আসবে আপনি পস্তাবেন খুব করে পস্তাবেন।

আয়ান সোজা খাটে গিয়ে শুয়ে পরলো। এখন নিজের রাগ কান্ট্রোল করা লাগবে। লিয়ার সাথে তর্ক জরিয়ে তাকে উত্তেজিত করলে বাচ্চার ক্ষতি হবে। লিয়া সোফায় বসে কান্না করতে লাগলো। এভাবে কারো জিবন চলতে পারেনা।

প্রিয়োশী গোসল সেরে এসে কম্বোল জরিয়ে বসলো। শীত লাগছে তার।
এই বাড়ি থেকে যেতে পারলে বাঁচে সে। কিন্তু বড় আব্বু তো যাওয়ার পারমিশন দিলো না। কিছু একটা করতে হবে এভাবে চলতে পারেনা সব কিছু। এক বাসায় এই জঘন্য লোকের সাথে থাকা যায় না।

লিয়া উঠে ধীরে ধীরে সমুদ্রের রুমে গেলো। লিয়া কে এই সময় নিজের রুমে দেখে আশ্চর্য হয়ে গেলো সমুদ্র।

- কি ব্যাপার লিয়া কিছু কি হয়েছে?

- না ভাইয়া কিছু হয় নাই।

- তাহলে এই সময় তুমি আমার রুমে?

- আমি কিছু কথা বলতে চাই আপনাকে ভাইয়া!

- আচ্ছা বলো।

- ভাইয়া আমি আয়ান কে ডিভোর্স দিতে চাই। আমি ওর সাথে আর থাকতে পারছি না। আর আমি আয়ান কে এসব বলার সাহস ও পাচ্ছি না। আয়ান আমার মা আর ভাই কে নিজের কাছে আটকিয়ে রেখেছে৷

- দেখো লিয়া ডিভোর্স সব কিছুর সমাধান না। ভেবে দেখো এখন তুমি একা না। বাবুরে তো আয়ান তোমাকে দিবে না। সেও এই বাচ্চার বাবা সে তো তার অধিকার ছাড়বে না।

- আমি কিছু জানিনা ভাইয়া আপনি কিছু একটা করুন। আপনার মা আর ভাইয়ের আমাদের নিয়ে যেই খেলা শুরু করেছে তা অনেক ভয়ংকর। উনি আয়ানের সাথে আবারো প্রিয়োশীর বিয়ে দিতে চাচ্ছেন। আর আয়ান ও রাজি। আমার জিবন যেভাবে নষ্ট হলো আমি চাইনা আমার বেষ্টফ্রেন্ড এর জিবন টা ও এইভাবে নষ্ট হোক। আয়ান অনেক ভয়ংকর ভাইয়া নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করতে কাউক মেরে ফেলতেও দুবার ভাববে না।

সমুদ্র অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে লিয়ার দিকে। মেয়েটা নিশ্চুপ কান্না করে যাচ্ছে। হেচকি উঠে গেছে তার। সমুদ্র বেশি অবাক হলো তার মায়ের কথা শুনে। সে কি ঠিক শুনেছে তার মা এমন জঘন্য কোনো কাজ করতে পারে?

- শান্ত হও লিয়া তোমার এই অবস্থায় এমন অস্থীর মানায় না। এক কাজ করো গিয়ে রেষ্ট নেও আমি দেখছি কি করা যায়।

লিয়া সমুদ্রের কথায় ভরসা পেলো। সমুদ্রের মাথা কাজ করছেনা কি করবে। উঠে সে তার বাবার মায়ের কাছে গেলো।

- আম্মু আসবো?

- হ্যাঁ বাবা আয় তুই,তোর কি পারমিশন নেওয়া লাগে।

- আমি কিছু কথা বলতে চাচ্ছি বাবা তোমাদের।

- হ্যাঁ বল।

- শুনো আয়ানের বিয়ে হয়েছে কয়েকদিন পর এই বাড়িতে নতুন একজন আসবে তাই না? আমি চাচ্ছিলাম ব্যাবসার সব ভার তুমি আয়ানের উপর ছেড়ে দিয়ে রেষ্ট করো।

- কি বলতে চাচ্ছিস তুই বাবা,আর এই সম্পত্তির অর্ধেক মালিক তুই। আমার নামের সব সম্পত্তি আমি আগেই তোকে দিয়ে দিয়েছি।

- এইটাই তো অন্যায় করছো তুমি বাবা। আমার কথায় কষ্ট পেয়ো না বাবা। আমি যেমন তোমার সন্তান আয়ান ও ঠিক তেমন। তাহলে আমাদের দুজন কে তোমার সমান চোখে দেখা উচিত? তুমি কিভাবে তোমার নামের সব আমাকে দিয়ে দিলে। আয়ান কি পেয়েছে বাবা ওর ও অধিকার আছে।

- সিকদার বাড়ির একমাত্র বংশধর তুই সমুদ্র, আর এসব সব এই সিকদার বাড়ির রক্ত হিসেবে তোর পাওয়ার কথা।

- তাহলে বাবা আজ আমার ও বলার কথা আয়ান যেমন তোমার ছেলে না তেমন আমিও তো আম্মুর ছেলে না? সেই হিসেবে আম্মুর ও আমাকে লালন - পালন করা উচিত হয় নাই। আমাকে সে আয়ানের থেকে বেশি ভালোবাসা দিয়েছে এটাও তার উচিত হয় নাই। তোমার ভাবনা আর কাজের জন্য আয়ানের এই অবস্থা।

- সমুদ্র তুই তোর বাবার সাথে এভাবে কথা বলবি না। উনার যা ভালো মনে হয়েছে তিনি তাই করেছে।এইসব বলার কোনো মানে নাই।

- কিভাবে বাদ দিব আম্মু? তুমি আমাকে কোনো সার্থ ছাড়াই ভালোবেসে গেলে। আর আব্বু কেনো পারলো না আয়ান কে আমার মতো করে দেখতে। ছোট থেকে সব আমি পেয়েছি আয়ান কিছু পায় নাই। বাবা তার খোঁজ ও রাখে নাই।

আফিয়া সিকদার কান্না করছে, সে যেমন হোক সমুদ্র কে সে অনেক ভালোবাসে। সমুদ্রের জন্য তার ভালোবাসা আদর স্নেহ কম ছিলো না। কিন্তু তার বাবা আয়ানের প্রতি সেই সমান দায়িত্ব পালন করতে পারে নাই।
.চলবে..??

 #প্রিয়োশীর ভালোবাসা #পর্বঃ৪_ও_৫ #নুসাইবা_রেহমান_আদররাত ঠিক ১০ঃ২০ বাজে, সিকদার বাড়ির এক নিয়ম হলো সকালের এবং রাতের খাবার ...
16/07/2024

#প্রিয়োশীর ভালোবাসা
#পর্বঃ৪_ও_৫
#নুসাইবা_রেহমান_আদর

রাত ঠিক ১০ঃ২০ বাজে, সিকদার বাড়ির এক নিয়ম হলো সকালের এবং রাতের খাবার সবাই একসাথেই খাবে৷ কারন দুপুরে সবার অফিস থাকে ছোটদের স্কুল,কলেজ। এই নিয়ম টা সমুদ্রের দাদার তৈরি করা।
নিয়ম অনুযায়ী খাবার টেবিলে সবাই এসে বসেছে। সবার শেষে রওনাক সেখানে উপস্থিত হয়৷ সমুদ্র রওনাক কে চেয়ার টেনে যায়গা করে দিলো বসার জন্য।

- তা ছোট আম্মু তুমি এখন কেমন আছো?
- ভালো আছি বড় আব্বু।

শামীম সিকদারের প্রশ্নে মৃদু স্বরে জবাব দিলো রওনাক।

পিয়াশ সিকদার এবার নরম গলায় বড় ভাইকে উদ্দেশ্য করে বললো।

- ভাইয়া আমি একটা কথা জানাতে চাই আপনাদের৷
- কি কথা বলো?
- আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আগামি ৭ দিনের মধ্যে আমরা ঢাকা সিফট হবো। প্রিয়োশীকে ঢাকার কলেজে এডমিশন নিয়ে দিবো। তাই আমি আমার সন্তান ও স্ত্রী কে নিয়ে আলাদা হয়ে যেতে চাচ্ছি।

শামীম সিকদার ভাতের লোকমা টা মুখে দিতে নিয়েছিলো অই সময়ে ছোট ভাইর কথা শুনে হাত থেকে প্লেটে পরে গেলো। অবাক চোখে ভাইয়ের দিকে তাকালো সে। সমুদ্র সব থেকে বেশি অবাক হয়ে আছে এই কথায়। ছোট আব্বু কেনো হঠাৎ আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। সমুদ্রের মায়ের কোনো রিয়্যাকশন নাই সে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে খেতে লাগলো।

- এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ জানতে পারি আমি পিয়াশ?
- আর কিছু জানার বাকি আছে আপনার ভাইয়া সব কিছুই জানেন আপনি। আপনার ছোট ছেলের জেদ আর আপনার রিকুয়েষ্ট রাখতে আপনার সব কথায় বিনাবাক্যে রাজি হয়েছিলাম। তারপর কি হলো আমার মেয়ের জিবন নিয়ে টানাটানি ভাইয়া। আজকে সকালে সে বাসায় এসেছে এরপর ওর ওপর আরো মানসিক ভাবে প্রেসার দেওয়া হলো৷ আমার একমাত্র মেয়ে আমি চাইনা এইখানে থেকে ও কষ্ট পাক।

- কি ব্যাপার পিয়াশ সকালে কি হয়েছে?
- আমার থেকে ভালো আপনি ভাবিজান কে জিজ্ঞেস করুন ভাইয়া।
- সমুদ্রের মা, পিয়াশ,আলিয়া তোমরা আমার রুমে আমার জন্য অপেক্ষা করো যাও৷

শামীম সিকদারের কথায় সবাই উঠে চলে গেলো৷

- বাবা বাড়িতে কি এমন হয়েছে যে আমি জানিনা? এসব কথার মানে আমি বুঝতেছিনা আমাকে ক্লিয়ার করে বলবা?

- তুমিও তাদের সাথে রুমে গিয়ে অপেক্ষা করো তোমার থেকে আর কিছুই লুকাবো না আমি। ছোট আম্মু তুমি খাবার শেষ করে গিয়ে ঘুমিয়ে থেকো কেমন?

- আচ্ছা বড় আব্বু।

রওনাকের মনে কু ডাকতে লাগলো কি হবে এসবের পরিনতি? হাত ধুয়ে এসে সে অতীত নিয়ে ভাবতে লাগলো।

আজ থেকে দুইবছর আগে যখন সে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে এডমিশন নিয়ে কলেজে প্রথম দিন গেলো সেদিন তার পরিচয় হয় লিয়ার সাথে৷ প্রথম দেখায় লিয়া আর রওনাকের খুব ভাব হয়। এরপর দুইজন একসাথেই থাকতো। রওনাক কে দিয়ে আর নিয়ে আসার দায়িত্বে ছিলো রাফিন৷ লিয়া আর রাফিনের প্রেমের সূচনা হয় কলেজ থেকেই।

- কাল আমার জন্মদিন লিয়া তুই কিন্তু কাল সকালেই আমাদের বাসাহ যাবি ঠিক আছে?

- তোর জন্মদিন আর আমি যাবোনা তোর সাথে এটা কখোনো হয় রনু?
- ভাইয়া গিয়ে নিয়ে আসবে তোকে তুই রেডি থাকিস৷
-আমি নিজেই চলে আসবো আমাকে কারো নিয়ে আসা লাগবে না।
- বনু তুই তোর ফ্রেন্ড কে জিজ্ঞেস কর তো আমি নিয়ে আসতে গেলে কি তোর ফ্রেন্ডের গায়ে ফোস্কা পরবে?
- রওনু তোর ভাইকে বল আমার গায়ে ফোস্কা না পরলেও তোর ভাইয়ের গায়ে ঠিকই পরবে। কারণ আমাদের মতো গরিবদের বাড়ি গিয়ে বসার যায়গাও পাবেনা।
- কি শুরু করলা তোমরা ভাইয়া থামো প্লিজ। আর গরিব বড়লোক কোনো কথা না লিয়া। আজকের পরে যেনো এসব আমি তোর মুখে না শুনি।
- আরে বাবা রাগ করিস কেন যা সত্যি তাই তো বলি না কি?

- এই মেয়ে এই এতবড় সত্যি তোকে কেউ বলতে বলছে?

সিকদার বাড়ি সকাল সকাল হাজির হয় লিয়া। লিয়া দেখতে খুব সুন্দরী৷ গায়ের রং উজ্জল ফর্সা,লাল রঙ্গের থ্রিপিস টা তে খুব সুন্দর লাগছে লিয়াকে। দোতালায় দাঁড়িয়ে থাকা আয়ান প্রথম দেখায় লিয়ার থেকে চোখ ফেরাতে পারছিলো না। লিয়ার কথা বলা,লিয়ার হাসি সব কিছুই আয়ানের নজর কেড়েছিলো।

সকাল বেলায় মায়ের ডাকে খুব ভাঙ্গে রওনাকের। অতীতের কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে টের পায়নি সে। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিলে গেলো সে। সবার মুখের অবস্থা খুব গম্ভির কেউ কারো সাথে কথা বলছে না। নিজেদের মতো খাবার খেয়ে যাচ্ছে।

- আমার একটা কথা বলার ছিলো বড় আব্বু।

- হ্যাঁ ছোট আম্মু বলো তোমার কথা আছে?

- আব্বু লিয়া আর আয়ানের বিয়ের কথা তো কেউ জানেনা আর যেহেতু সিকদার বাড়িতে নতুন অতিথির আগমন হচ্ছে তাদের ওয়েল্কাম তো করতেই হয় তাই না? আমি চাচ্ছিলাম কি আমরা বাসায় সবাই মিলে ছোটখাটো একটা অনুষ্ঠান করি?

- তোমার মাথা ঠিক আছে ছোট আম্মু এতো কিছুর পরেও তুমি ওদের জন্য ভাবছো? যারা তোমাকে ঠকানোর আগেও ২ বার ভাবে নাই। আমি আয়ান আর লিয়াকে বাড়ি থেকে বের করি নাই কারণ লিয়ার অবস্থার কথা ভেবে।

- যেহেতু তোমরা তা কে কিছুই বলো নাই তাই এখন আর আমার জন্য তোমাদেত নিজেদের মধ্যে ঝামেলা করার প্রয়োজন নাই বড় আব্বু। আমার কপালে যা ছিলো তাই হয়েছে।

সমুদ্র এতোক্ষন নিচের দিকে তাকিয়ে শুধু নিজের মতো করে খেয়ে গেছে। খাওয়া শেষ করে সে বলে।

- তোকে এতো না ভাবলেও চলবে অন্যের কথা নিজের কথা ভাব আগে। শুন একটু পরে রেডি হয়ে থাকিস আমি তুই আর রাফিন বের হবো।

- কোথায় যাবো আমরা?

- আমি যা বলেছি তা করবি তুই,এতো প্রশ্ন তুই আমাকে কবে থেকে করিস? সাহস তো তোর ভালোই হয়েছে ফিনাইল খেয়ে।

সমুদ্রের এই কাট কাট জবাব রওনাক হজম করতে পারলো না। আসার পরে তো ভালোভাবেই কথা বলেছে সমুদ্র তার সাথে।রওনাক ভেবেছিলো সমুদ্র চেঞ্জ হয়ে গেছে। কিন্তু এখন তো মনে হচ্ছে সমুদ্র আগেরমতোই সয়তান মার্কা খাটাশ আছে৷

- জ্বী আচ্ছা ভাইয়া।

সমুদ্র উঠে যাচ্ছিলো তখন তার বাবার কথায় থেমে গেলো।

- তুমি অফিস কবে থেকে জয়েন করবে সমুদ্র?
- আপনাদের অফিসের কাজ আপনি আয়ান কে বুঝিয়ে দিন। আমার অফিসে জয়েন করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নাই।
- তাহলে তুমি কি করবে নিজেদের অফিসে জয়েন না করে। এতো পড়াশুনা করে কি তুমি মানুষের আন্ডারে কাজ করবে?
- কোনো কাজ ছোট নয় এটা মনে রাখবেন। আর আমি কি করবো তা আমার ভাবাই আছে আমাকে নিয়ে আপনাদের না ভাবলেও চলবে।

রাগের সাথে কথাগুলো বলে সমুদ্র ড্রয়িংরুম ত্যাগ করলো। সবাই হতভম্ব হয়ে আছে সমুদ্রের আগের সেই রাগ দেখে। আয়ান আর আফিয়া সিকদার শয়তানি হাসি দিলো। শামীম সিকদার অসহায় ভাবে সমুদ্রের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। ছেলে কাল রাতে সব জানার পর থেকে এমন বিহেব করছে সে ভালোই বুঝতে পারছে। অপরদিকে উপর থেকে লিয়া ভালোভাবেই বুঝতে পারছে মা ছেলের মাথায় আবার কি ঘুরপাক খাচ্ছে। এদের প্রতি লিয়ার প্রচন্ড ঘৃনা কাজ করে। অইদিন টা কে লিয়া অভিশাপ দেয় যেইদিন লিয়া এই বাড়িতে পা রাখে আর আয়ানের চোখ ওর দিকে যায়। রওনাক রুমে যাওয়ার সময় লিয়ার সামনে পরে যায়। লিয়া অসহায় চোখে তাকিয়ে থাকে রওনাকের দিকে। রওনাক লিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে যার মধ্যে আছে একরাশ অসহায়তা আর অপরাধবোধ। লিয়া কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলো না রওনাক কে। এখন যে লিয়া কিছু বলতে পারবে না তার যে হাত পা বাধা।
রওনাক লিয়াকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো। ওখানে দাঁড়িয়ে থাকলে হয়তো রওনাকের রাগ আরো বেড়ে যাবে।

সমুদ্রের কথামতো রওনাক রেডি হয়ে গাড়িতে বসে আছে। কোথায় যাবে কেনোই বা যাবে তা সে জানেনা। সমুদ্রকে প্রশ্ন করার মতো সাহস ও তার হচ্ছে না। সমুদ্র এসে গাড়ি স্টার্ট দিলো।

- তা পড়াশোনা করার কি ইচ্ছে আছে না কি নিজেকে ঘরবন্ধি করে সারাজিবন রাখবি?

- আপনি আবারো সেই আগেরমতো আমার সাথে কথা বলছেন? এই কয়দিন তো সেই কি সুন্দর ভাবে বলতেন?

- এতো কিছু করার পরেও তুই আমার কাছে আশা করিস আমি তোর বা তোদের সাথে ভালোভাবে কথা বলবো?

রওনাক কি উত্তর দিবে খুঁজে পেলো না। সত্যিই তো সে এই মানুষ কে আগে কিছু জানানো হয় নাই।

- যাইহোক প্রিয়ো তুই কিন্ত ফিনাইল খেয়ে সু*ই*সা*ই*ড করার ড্রামা টা খুব সুন্দর ভাবে করেছিস। নাটকে জয়েন করতে পারিস তো তুই।

সমুদ্রের কথা শুনে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে রওনাক। রওনাক ক্ব এভাবে তাকাতে দেখে মুচকি হাসি দিলো সমুদ্র।

- কি সব আবোল তাবোল বলতেছেন আপনি?

- তুই চলো ডালে ডালে আর আমি চলি পাতায় পাতায়। তোমার করা প্রতিটা কাজ আমার দৃষ্টির বাহিরে নয় এটা কিভাবে ভুলে যাও তুমি?

#পর্বঃ৫

রওনাক ভেবেছিলো তাকে নিয়ে হয়তো কোনো পাঁচ তারকা রেষ্টুরেন্টে যাওয়া হচ্ছে। রওনাকের সব চিন্তাভাবনা ভুল প্রমান করে দিয়ে সমুদ্র তা কে নিয়ে গেলো এক লোকাল চায়ের দোকানে। শহর থেকে দূরে অনেকটাই গ্রামের দিকে হওয়ায় ভির খুব কম। ইতিমধ্যেই রাফিন ও সেখানে বাইক নিয়ে উপস্থিত হয়। চায়ের দোকানের সামনে থাকা বেঞ্চটি তে বসলো তারা।

- মামা দুধ ছাড়া চিনি কম দিয়ে একটা লাল চা দিবেন। আর দুধ চা বেশি লিকারের ২ টা।

- ঠিকাছে মামা আর কিছু লাগবে?

- একটা ড্রিংকো দিয়ে জান মামা,রাফিন তুই কিছু নিবি?

- না ব্রো আর কিছু না।

রওনাক তাকিয়ে আছে তাদের দিকে,তাকে তো কিছু নিতে সাধলো না। নিজের জন্য ড্রিংকো আর রাফিন কেও জিজ্ঞেস করলো একা তাকে বাদে ব্যাপার টা খুব গায়ে লাগলো তার। রাগে মুখ ফুলিয়ে বসে থাকলো। ড্রিংকো টা নিয়ে সমুদ্র রওনাকের দিকে দিয়ে বললো।

- এই নে প্রিয়োশী এটা হাতে রাখ তোর কাজে দিবে৷ আর রাফিন ওরে রওনাক বইলা ডাক দেস কেন ভাই? ওর নাম রাখলাম প্রিয়োশী সব কাগজ পত্র তেও তাই।

- আসকে ব্রো রওনাক না তো আয়ান দিয়েছিলো আর আয়ানের জিদের কাছে হার মেনে বাড়িতে সবাই প্রিয়ো কে রওনাক ডাকে। তবে আব্বু আমি বাদে।

- আয়ান,আয়ান, আর আয়ান তাই না? ওর সব কথা কেনো শুনা লাগবে?

কেউই কোনো আওয়াজ করছে না সমুদ্র রেগে গেছে। প্রিয়োশী এখন নিজের মতো ড্রিংকো খাচ্ছিলো। সমুদ্র এবার প্রিয়োশীর দিকে তাকিয়ে বললো।

- তুই আমাকে বল যে তুই সু'ই'সা*ই'ডে করার চেষ্টার নাটক কেনো করলি? ইভেন রাফিন তুই কেনো সাপোর্ট দিলি?

- আব আসলে আমি আসলে আব আমি আমি।

- এইসব তোতলানো আর আব আমি বাদ দিয়ে আসোল কথায় আসো জলদি।

সমুদ্রের কথায় প্রিয়োশী আর রাফিন দুইজন একে অপরের চেহাদা দেখেতে লাগলো। কি উত্তর দিবে সে সবাইকে।

- আসলে ভাইয়া হয়েছে টা কি আমি তোমাকে বলি।

গত বছর আমার জন্ম দিনে লিয়া আমাদের বাসায় প্রথম আসে। লিয়া আর রাফিন ভাইয়ার রিলেশনে ছিলো। তারা একে অপরকে খুব ভালোবাসতো।

- হোয়্যাট লিয়া রাফিন কে ভালোবাসলে আয়ান কে কেন বিয়ে করলো?
- আমার কথার মধ্যে বাম হাত কেনো দেও সব কথা তো শুনবে না ক্লিয়ার করে আজব।

প্রিয়োশীর রাগি কন্ঠে দমে গেলো সমুদ্র৷তবুও নিজের ইমেজ ঠিক রেখে বললো।

- এরপর বলত্ব থাক।

- জন্মদিনের দিন থেকে আয়ান লিয়ার পিছে হাত ধুয়ে লেগে যায়। লিয়ার প্রতি আয়ানের এক প্রকার ভালোলাগা কাজ করে। যখন সে জানতে পারে লিয়া রাফিন ভাইয়া কে ভালোবাসে তখন সে ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। আমি জানিনা কেনো আয়ান ভাইয়া আমাকে তোমাকে আর রাফিন ভাইয়া কে একদম সহ্য করতে পারে না। তখন ও আমি এসব জানতাম না। ১০ মাস আগে একদিন হঠাৎ লিয়া গায়েব হয়ে যায় কেনো হয়ে যায় আমরা জানিনা। শুধু লিয়া না ওর পুরো পরিবার। ওর পরবার বলতেনোর ভাই ছোট আর ওর মা। আমি রাফিন ভাইয়া অনেক খোঁজ খবর নেই তবুও পাই না। এরপর আয়ান ভাইয়া ও চেঞ্জড হতে শুরু করে আমার পিছে ঘুরত্ব থাকতো। আমাকে ফলো করা বিরক্ত করা তার প্রধান কাজ হয়ে গেলো। একসময় সে আমাকে তার মনের কথা জানায় আর আমার তার প্রতি একটু সফট কর্নার কাজ করছিলো। একদিন আমি লিয়ার ভাই লাবিব আর আয়ানের এক পিকচার পাই। ফোনের ডায়েলপেড খুঁজে লিয়ার মায়ের নাম্বার নিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করি। ওনার সাথে দেখা করার পর যা জানলাম তা শুনে আমি অনেক অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। লিয়ার মা বলেছিলো লিয়ার সাথে আয়ানের বিয়ে হয়ে গিয়েছে লিয়া ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা৷ কিভাবে কি হয়েছে তখন জানলাম,আয়ান লিয়ার মা আর ভাই কে কিডন্যাপ করে বাধ্য ক্রে বিয়ে করেন। এরপর ওদের অন্য যায়গায় সিফট করে সবার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করায়। আমি আন্টিকে দিয়ে প্রমিজ করাই যে এই কথা যেনো সে লিয়া আয়ান কাউকেই না জানায়।

- এতো কিছু হয়ে গেলো লিয়া কেনো তোকে বা রাফিন কে জানায় নাই?

- এটা আমিও জানি না ব্রো সে কেনো আমাকে বা বোন কে এসব জানায় নাই।

- তাহলে আয়ান তোকে কেনো বিয়ের আসরে নিয়ে গেলো আর এতো নাটক করলো?

- সে কথা আমিও জানিনা এটার জানার চেষ্টা করেছি অনেক৷ অইদিন আমি এসব কথা রাফিজ ভাইয়া ছাড়া কাউকে জানাই নাই। এইদিকে আয়ান ভাইয়া আমাকে প্রপোজ করে আমি উত্তর না দেওয়ায় সে বাসায় জানায় আমাকে বিয়ে করবে। প্রথমে বড় আব্বু আর বড় আম্মু রাজি হয় নাই। আয়ান কিন্তু আপনি দেশ ছেড়্ব যাওয়ার পর থেকে বাড়িতে খাবার খায় না। এমন কি আংকেলের টাকায় ও চলে না। আজ ও কেউ এই খবর জানেনা যে সে কি কাজ করে এতো টাকা কোথায় পায়। কেউ জিজ্ঞেস করলেও বলে না। বড় আম্নুকে দিয়ে বড় আব্বুকে এই কথায় রাজি করায় নাহয় আয়ান ভাই মরে যাবে এই কথা বলে। একে তো আপনি বড় আব্বুর সাথে যোগাযোগ রাখতেন না তার ওপর আয়ান কে যা একটু দেখতো যদি ছেলেকে হারিয়ে ফেলতে হয় এই ভয়ে বড় আব্বু ও রাজি হয়। আমার বাবা- মা কে বড় আম্মু অনেক ইমোশোনাল ব্লাকমেইল করে রাজি করান। যখন আমি জানালাম এই বিয়ে আমি করবো না তখন বড় আব্বু আমাকে তার মাথা ছুইয়ে কথা আদায় করেন বাধ্য হয়ে আমি রাজি হই। আয়ান ভাই আমাকে কোন উদ্দেশ্যে বিয়ে করতে চাইছে আমি জানিনা ভাইয়া। তবে সিউর ছিলাম বিয়েটা হবে না আর তাই হলো বিয়ের দিন আয়ান ভাই লিয়াকে নিয়ে হাজির।

- সব ঠিক হলে তুই কেনো সুইসাইডের নাটক টা করলি?

- আমি বলছি ব্রো, তুমি তো এমনি এমনি আসবে না তাই আমি বনু কে এই আইডিয়া টা দেই যে এটা কর তাহলে ভাইয়া চলে আসবে।

- আমাকে দিয়ে তোরা কি করবি হ্যাঁ?

সমুদ্র একবুক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে প্রিয়োশীর উত্তরের জন্য। তার মনের মধ্যে কি চলছে তা প্রকাশ করার বাহিরে।

- আমি তোমাকে আসতে বলেছি তার ও কারন আছে। আমাদের আয়ান ভাই সম্পর্কে জানতে হবে। ওনার মূল উদ্দেশ্য আমাদের খুঁজে বের করতে হবে৷ এই কাজ আমি বা রাফিন ভাই একা পারবো না তাই তোমাকে আনা।

কথা শেষ করে প্রিয়োশী সমুদ্রের দিকে মুচকি হেসে তাকালো। সমুদ্র হতাস দৃষ্টিত্ব তার প্রিয়োর দিকে তাকালো। রাফিন শব্দ করে হেসে দিলো।

- তোর এতো হাসি কেনো পাচ্ছে রে রাফিন?

- ভাই চা খাবা না চা তো পানি হয়ে গেছে।

- তুই যে একা একা চা খেলি আমাদের মনে করিয়ে দিবি না যে আমাদের টা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে৷

- কিছু করার ছিলোনক ব্রো তুমি কথা শুনছিলে তাই। আর বোনু তো এই চা কম শরবতই খাবে ওর অভ্যাস। চা কে ঠান্ডা করে শরবত বানিয়ে খায়।

- বান্দার কেয়া জানে আদরাগ কা ছোয়্যাদ? এইভাবে খেতে দারুন লাগে তোমরা বুঝবানা বুঝলা?

প্রিয়োশী সেই ঠান্ডা চা টাই খেয়ে নিলো। সমুদ্রের তা খাওয়া হলো না সে উঠে বিল পে করে দিলো সাথে৷ ২ টা চিপস নিয়ে নিলো। তা যাওয়া যাক এখন এইজন্য তোদের এখানে আনা।

- তা ভাইয়া এরপর কি করবো ঠিক করবানা?
- তোর আর কিছু করা লাগবে না তুই পড়াশুনায় মন দে, যা করার আমি করবো যা গাড়িতে উঠে বস।

প্রিয়োশী মুখ গোমড়া করে গাড়িতে উঠে বসে পড়লো চুপচাপ। এই লোক তাকে সবসময় ধমকাবে একটু ও ভালা না। সমুদ্র হাল্কা হেসে রাফিন কে নেক্সট এড্রেস দিলে জানাত রাফিনের কাজ আছে সে আসতে পারবেনা। সমুদ্র প্রিয়োকে নিয়ে যেনো একাই লাঞ্চ করে নেয়। রাফিন কে বিদায় দিয়ে সমুদ্র ও গাড়িতে উঠে বসে৷ প্রিয়োর দিকে চিপ্সের প্যাকেট দুটি দিয়ে বলে।

- এভাবে মুখ ফুলিয়ে না রেখে চিপ্স খা,একদম এই ফুলানো প্যাকেটের মতো লাগছে তোকে।

- আমি জানি তো আমি একটু গুলুমুলু দেখে তোমাদের সবার হিংসা হয় বুঝলা? করতে থাকো হিংসা আমিও আর ডায়েট করবো না।

সমুদ্র অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে প্রিয়োশীর দিকে৷ এই মাইয়া ডায়েট করছে এটাও শুনা লাগলো?

চলবে.?

Address

Ullapara
6762

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Fun.Com posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category