19/03/2026
||ক্যাটাগরি: নস্টালজিক ঈদ||
||গল্পের নাম : যদি ||
||লেখিকা: জয়িতা ||
শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর ..... বুধবার দিন হঠাৎ রাস্তা দিয়ে যাওয়া সময় বৃষ্টি শুরু হলো আবহাওয়া ক্রমশ খারাপ হতে শুরু করলো । সবাই যখন বৃষ্টি থেকে আশ্রয় নেওয়ার জন্য শুরু করলো তখন বৃষ্টি দেখে আত্মিক খুশি হয়ে গেলো "নীলাদ্রি" বিন্দু পরিমাণ সময় নষ্ট না করে বৃষ্টি তে বিজতে!
নীলাদ্রি হঠাৎ দেখলো শুধু সে একা না ৪ বয়স ১ টা মেয়েও বৃষ্টি দেখে খুশি হয়ে লাফফাসে । ছোট্ট মেয়েটিকে অনেক জোর করে ধরে রেখেছে তার মা । নীলাদ্রি মনে মনে বলল , মেয়েটিকে ভিজতে দিলে কি হতো!
[নীলাদ্রি বয়স ২৬ ।গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করেছে।
সব চেয়ে কাছের বলতে মা, আর ছোট ভাই।আরও তার বান্ধবী ফরিবা । সে টিউশনি করে। চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।]
ফোন রিং ইন.......নীলাদ্রি রিসিভ করলো
ফারিবা: কি রে মির্জা ,ফোন ধরার সময় হলো
আপনার?কই তুই এখন?এত গুলা কল দিলাম তাহ কল রিসিভ প্রয়োজন মনে করিস না। তাহ্ বৃষ্টি তে কেমন বিজলি!
নীলাদ্রি: তুই কিভাবে বুঝলি! আর মিনিট ৫ হলো বাড়ি ফিরলাম।বৃষ্টি বরাবর আমার কাছে যেমন লাগে তেমন ই লাগলো ।
ফারিবা: বুজলাম । তোর সাথে এত দিন হলো থাকা আর আমি জানব না ,তো কে জানবে!আচ্ছা শুন শনিবার বার "ঈদুল ফিতর "বিকাল এ বের হব দুইজনে লেক বা পার্ক যাব ,না করবি না। বিকাল ৪ টায় বের হব একসাথে।
নীলাদ্রি:আচ্ছা ।আমার টিউশনির মাস শেষ হবে ঈদ এর বেশ পর ।আচ্ছা ,এক সাথে যাব নি বাট আমি বেতন পাই নেই, হাতে ও টাকা পয়সা একদম কম তুই সব দিবি তাহলে।
ফারিবা:ওকে মির্জা ম্যাম ।তুই এত ডং এত ফর্মালিটি কবে থেকে শিখিলি!?এমন না যে তুই দেস ই না !পরের বার তুই সব ,দিবি তখন বুঝেসিস ঠেলা, ঠেলার মার বাবাজি।
নীলাদ্রি:আচ্ছা ,দিব নি" তুই" তো ।তুই ছাড়া কে আছে যাকে বলব হাত ফাঁকা বল ।
ফারিবা: আচ্ছা শুন ঈদ ওই শারি পড়বি প্লিজ।আমি ও শাড়ি পড়ব । আমি জানি তুই ওই নীল শাড়ি পড়বি ওই নীল শাড়ির ব্যাপারে কোনো আপস করবি না ।তাই তোকে পড়তে বললাম।
নীলাদ্রি: আচ্ছা , নীল শাড়ির পড়ব নি। ছোট বেলায় ঈদ কত সুন্দর ছিল রে,নতুন জামা নতুন জুতা । এখন আর কিসু মনে হয় না , সব কেমন হারিয়ে গিয়েছে শুধু
আছে আমার নীল শাড়ি।
[এমন সময় তাহমিদ নীলাদ্রি ডাকছে । তাহমিদ হলো নীলাদ্রি ছোট ভাই ।ডাকসে আপু আপু খেতে আসো ,"নীলা "আপু খেতে আসো। নীলাদ্রি কে পরিচিত প্রায় মানুষ নীলাই ডাকে।]
আচ্ছা থাক ,মা খাওয়া এর জন্য ডাকসে। ঈদ এর দিন দেখা হচ্ছে।
ঈদ এর দিন বিকাল বিকাল বেলা ; বল কই যাবি পার্ক না লেক এ ? তা ,অবশ্য আমি জানি ।এই বার প্লিজ লেকে না , প্লিজ। নীলা: চল না লেকই যাই। লেক ভালো তো।
ফরীবা:এই বার যদি যাস কত বার হবে জানিস ! প্রায় ২৯ বার ।
নীলা : তাহলে তো ভালোই চল ৩০ পুরূন করি। না যাব নাহ তুই যা। নীলা : প্লিজ চল প্লিজ।আচ্ছা এই বার ই ,ওয়াদা আর যাব না। আচ্ছা তবে মনে রাখিস এই বার ই শেষ।
নীলা মুচকি হেসে বলল : "জীবনে শেষ থাকতে হয়। না হলে, অনেক জিনিস পাওয়া যায় না। শেষ হলে অনেক জিনিস পাওয়া যায়।"
দুইজন এ পার্ক এ প্রবেশ করলো । কথা বলতে বলতে দুজনে বেশ দূর এগিয়ে গেলো সামনে গিয়ে হঠাৎ লক্ষ করল দিনের সেই ছোট্ট মেয়েটি বৃষ্টি তে যে বৃষ্টি তে বেজার জন্য আবদার করছিল ,সেই মেয়েটি একা হয়ে বসে আছে চোখ দিয়ে পানি পরছে কান্না করসে কিন্তু কোনো আওয়াজ নেই ।
ফারীবা আর নীলা এগিয়ে গেলো।মেয়েটি জিজ্ঞাস করলো তোমার নাম কি??
মেয়েটি চুপ করে চোখের পানি ফেলে যাচ্ছে,কোনো কথা বলেছে না । ফারিবা: মির্জা আপা মেয়েটি হয়তো বোবা, কথা বলতে পারে না !
নীলা : না , না,কথা তো বলতে পারে আমি দেখছি! নীলা ছোট্ট মেয়েটি প্রথমে নিজের কোলে তুলে নিয়ে নিলো তারপর জিজ্ঞাস করলো: আমার পরিটার নাম কি! মেয়েটি চোখ মুছল মেয়েটি বলল "প্রাপ্তি"। বাবা ও আমায় পরি বলে ডাকে।
ফারিবা:তুমি এই খানে একা কেনো !কি করছো এই খানে!মেয়েটি (প্রাপ্তি)আবার চুপ হয়ে থাকলো ,আবার নীলা বলল: আমার পরীর আম্মু কই ?! বলল আমি এই দিক একাই চলে আসেসি।
তখন প্রাপ্তির আম্মুর প্রাপ্তি কে দেখে দৌড়িয়ে চলে এসে প্রাপ্তি কে কোলে তুলে নিলো।
ফারিবা: কি ? কেমন মা বাবা আপনারা ? কোনো আক্কেল নেই! বাচ্চা কে এই ভাবে ছেড়ে দেয় কেও?
প্রাপ্তির মা: আমরা ৩ জন ছিলাম হাঁটছিলাম হঠাৎ করে দেখি পাপ্তি নেই ।তারপর সব জায়গায় খুঁজলাম ওর বাবা অন্যদিক এ গিয়েছে । ধন্যবাদ আপু আপনাদের আমার প্রাপ্তি কে দেখে রাখার জন্য ।কি বলে যে ধন্যবাদ দেই!
প্রাপ্তি :বাবার কাছে যাব ।বাবা কই?
প্রাপ্তির মা :এই তো মা বাবা এসে পড়বে কিছুক্ষণ এর মধ্যে।
আপনারা কিসু না মনে করলে আপনাদের এক কাপ চা আমার পক্ষ থেকে ।
নীলা:না না তাঁর কোনো প্রয়োজন নেই লাগবে না ।
প্রাপ্তির মা : প্লিজ না করবেন না ! আমার আর ওর বাবার পক্ষ থেকে নয় ওর বাবা রাগ করবে প্লিজ।
ফারিবা: চল মির্জা ,এত করে বলসে তাহলে শুধু চা না আইসক্রিম ও খাওয়াইতে হবে !
তাহ ওই ভদ্র লোক (প্রাপ্তির বাবা) কই?
প্রাপ্তির মা:উনি মেইন রাস্তায় চলে গিয়েছিল । এই দিক এ আসতেসে তাও 10 মিনিট এর লাগবে ম্যাসেজ করল মাত্র।
আসেন আপু এই দিকে বসি।
নীলা :আমাদের আপু বলতে হবে না! আমার নাম নীলাদ্রি আর ওর ফারিবা। মনে হচ্ছে , আমরা বয়স এর দিকে থেকে খুব বড় হবো না ।
প্রাপ্তির মা: আমার নাম প্রেরণা। আর ওর প্রাপ্তি।ওর বাবার নাম প্রান্ত মির্জা।
(নাম শুনা মাত্রই ফারিবা নিলার দিকে তাকালো আর আসতে গলায় ফিসফিস করে নীলাকে বলল, এই টা ওই টা না চিন্তা নিস না । কিন্তু নীলার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে সামনে চা থাকা সত্ত্বেও খেতে পারছে না ।হাত পা কাপছে ।)
ফারিবা : চিন্তা করিস না। দাড়া আগে দেখ কি হয়!
ঠিক তখন ,প্রান্ত মির্জা উপস্থিত হলো। প্রান্ত মির্জা প্রথমেই দেখলো তার নীলাদ্রি কে দেখলো ।সেই নীলাদ্রি কে ,যে তার দেওয়া নীল শাড়ি এখনো ঈদ ও পড়েছে।
পরক্ষণেই প্রেরণা বলল: উনারাই তাঁরা। ফারিবা আরও নীলাদ্রি।
প্রান্ত মির্জা: তাঁদের ধন্যবাদ দিলো। তাকে (প্রান্ত) দেখে মনে হলো শত শত কথা তার মুখে কিন্তু কিসু বলতে পারল না।
ফারিবা আর নীলাদ্রি উটে গেলো ,তারা গেট এ