MBSTU Film Society, Tangail

MBSTU Film Society, Tangail It's a film related society of film makers, film lovers or any film passionate people in Mawlana Bhashani Science & Technology University, Bangladesh.

ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্তে “গল্পে গল্পে সালামি” প্রতিযোগিতার প্রিয় বিজয়ীদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন 🌙✨তিনটি ক্যাটাগরি থেকে ...
20/03/2026

ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্তে “গল্পে গল্পে সালামি” প্রতিযোগিতার প্রিয় বিজয়ীদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন 🌙✨
তিনটি ক্যাটাগরি থেকে বিজয়ীদের নাম হল-

* ইদ নস্টালজিয়া — আতিক মাহবুব তানজিম
* ইদযাত্রা — বখতিয়ার হোসেন সীমান্ত (অপেক্ষার প্রহর)
* অন্যরকম ইফতার — ছোয়া আহমেদ (এক প্লেইট অপেক্ষা)

তোমাদের গল্পে ফুটে উঠেছে ঈদের মায়া, স্মৃতি আর ভালোবাসা।
ঈদ মোবারক ও শুভকামনা রইলো আগামীর পথচলায় 🤍

20/03/2026

আমাদের ক্লাবের পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদ মোবারক 💫

"গল্পে গল্পে সালামি " প্রতিযোগিতার রেজাল্ট আসছে আজ রাত ৯ টায়। সবাই প্রস্তুত তো? পুরস্কৃত করা হবে তিনটি ক্যাটাগরি থেকে ত...
20/03/2026

"গল্পে গল্পে সালামি " প্রতিযোগিতার রেজাল্ট আসছে আজ রাত ৯ টায়।
সবাই প্রস্তুত তো?
পুরস্কৃত করা হবে তিনটি ক্যাটাগরি থেকে তিনজনকে।

***তিনজনের মধ্যে যেকোনো দুইজন বিজয়ীকে Guess করে আপনিও জিতে নিতে পারেন সালামি।
তাহলে দেরি কিসের?

19/03/2026

।।গল্পের ক্যাটাগরি:নস্টালজিক ঈদ।।
।।গল্পের নাম:ছোট্টবেলার সেই ঈদ।।
।।লেখক :মো: রুমেল ইসলাম।।

কয়েকদিন ধরেই কিছু কথা মনে বারবার ফিরে আসছে। মনে হয়, আগের সেই ঈদগুলো কতটাই না নির্মল, কতটাই না আনন্দে ভরা ছিল! ঈদ মানেই ছিল এক অন্যরকম অনুভূতি,উৎসব—মনে অজানা এক খুশির ঢেউ কাজ করত সারাক্ষণ।

মেহেদি দেওয়ার সেই মুহূর্তগুলো এখনও চোখে ভাসে। বড় আপু যখন ছোটদের হাতে মেহেদি পরিয়ে দিত তখন কে আগে মেহেদি দিয়ে নেবে সেটা নিয়ে তাদের ছোট্ট ছোট্ট ঝগড়া, আর মেহেদি লাগানোর পর মুখে ফুটে উঠা নিষ্পাপ হাসি—এসবই ছিল ঈদের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলোর একটি। সেই আনন্দটা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।একেবারে অমূল্য, হৃদয়ে গেঁথে থাকার মতো।

ঈদের দিন মানেই ছিল হৈ-হুল্লোড়, বড় ভাই আর বন্ধুদের সাথে জমিয়ে ক্রিকেট,ফুটবল খেলা, একসাথে হাসি-ঠাট্টা, দৌড়ঝাঁপ আর প্রাণভরে উপভোগ করা প্রতিটা মুহূর্ত। তখন কোনো চিন্তা ছিল না, কোনো চাপ ছিল না, ছিল শুধু আনন্দ আর আপন মানুষদের সাথে থাকার অদ্ভুত এক শান্তি।
কিন্তু এখন… ঈদ ঠিকই আসে, চাঁদও ওঠে, নতুন জামাও পরা হয় তবুও কোথায় যেন একটা শূন্যতা থেকে যায়। সেই মানুষগুলো আর আগের মতো পাশে থাকে না। ব্যস্ততা, দূরত্ব আর সময়ের সাথে সাথে সবাই যেন ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে গেছে। আগের মতো সেই উচ্ছ্বাস নেই, নেই একসাথে খেলার সেই উন্মাদনাও।

হয়তো এটাই সময়ের নিয়ম। সময়ের পরিক্রমায় অনেক কিছু বদলে যায়, অনেক কিছু হারিয়েও যায়। তবুও স্মৃতিগুলো রয়ে যায়, মনের গভীরে নরম একটা জায়গা জুড়ে। সেই স্মৃতিগুলোই মাঝে মাঝে নস্টালজিয়া হয়ে ফিরে আসে, আর মনে করিয়ে দেয়—একসময় জীবন কতটাই না সুন্দর ছিল।

19/03/2026

|| ক্যাটাগরি: নস্টালজিক ঈদ ||
|| গল্পের নাম :দূরের ঈদ ||
|| গল্প লেখিকা :পূরবী তালুকদার||

আমরা যারা পড়াশোনার মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার গড়ি, যত এগোতে চাই, ততই যেন পরিবার থেকে একটু একটু করে দূরে সরে যাই। তবে সোশ্যাল মিডিয়া কিছুটা হলেও এই দূরত্বের কষ্টটা কমিয়ে দেয়।
অনার্স শেষ করার পর, জাপানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পাই। আজও মনে পড়ে সেই দিনটির কথা—একটি মেসেজ যেন পুরো পরিবারে আনন্দের ঢেউ তুলে দিয়েছিল। চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে আমি জাপানের পথে পা বাড়াই।
এখানকার জীবনযাত্রা বেশ মানসম্মত, পরিপাটি এবং নিয়মানুবর্তী। কিন্তু এর বিনিময়ে আমি আমার প্রিয় মানুষগুলোর থেকে অনেক দূরে সরে এসেছি।
আজ পবিত্র ঈদ।
গত রাত থেকেই মনে এক অন্যরকম আনন্দ কাজ করছিল। গতরাতে আব্বু-আম্মু, ছোট বোন সাবিহা, আত্মায়-স্বজন,কাজিনরা, নানা-নানী,বন্ধু-বান্ধব—সবার সাথে কথা বলেছি। সাবিহা খুব খুশি হয়ে তার মেহেদী দেখিয়ে বললো, “আপু দেখো, কত সুন্দর হয়েছে!”
সবাইকে একসাথে দেখে, কথা বলে মনটা খুব ভালো হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কথা শেষ হতেই এক অদ্ভুত শূন্যতা এসে ভর করলো মনে।
ঈদের দিনগুলোতে আব্বু আমাদের দুই বোনকে মেহেদী কিনে দিতেন। জামাকাপড় নিয়ে ছোট ছোট খুনসুটি, হাসি, ঝগড়া—সবকিছুই এখন ভীষণ মিস করি।এসব ভাবতে ভাবতেই গতরাতে ঘুমিয়ে পড়ি।
ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ার পর লক্ষ্য করলাম আজকের দিনটাও যেন ঝলমলে,প্রকৃতিতেও উৎসবের ছোঁয়া।আবারও সবার সাথে কথা বললাম। তারপর নিজের জন্য পছন্দের কিছু খাবার রান্না করলাম। কিন্তু আম্মুর হাতের রান্না, আত্মীয়-স্বজনদের নিমন্ত্রণ, বাসার সেই প্রাণচাঞ্চল্য—এসবই সবচেয়ে বেশি মিস করি।
মাঝে মাঝে মনে প্রশ্ন জাগে— আমি কি সত্যিই এত বড় হতে চেয়েছিলাম? এই একাকিত্ব, এই শূন্যতাই কি আমার পছন্দ ছিল?
হয়তো এই সবকিছুর বিনিময়ে আমি একদিন সমাজে বড় একটি অবস্থান অর্জন করবো। কিন্তু আসলে আমি কী পেলাম?
দূরত্ব… নাকি সাফল্য?

19/03/2026

||ক্যাটাগরি: নস্টালজিক ঈদ||
||গল্পের নাম : যদি ||
||লেখিকা: জয়িতা ||

শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর ..... বুধবার দিন হঠাৎ রাস্তা দিয়ে যাওয়া সময় বৃষ্টি শুরু হলো আবহাওয়া ক্রমশ খারাপ হতে শুরু করলো । সবাই যখন বৃষ্টি থেকে আশ্রয় নেওয়ার জন্য শুরু করলো তখন বৃষ্টি দেখে আত্মিক খুশি হয়ে গেলো "নীলাদ্রি" বিন্দু পরিমাণ সময় নষ্ট না করে বৃষ্টি তে বিজতে!
নীলাদ্রি হঠাৎ দেখলো শুধু সে একা না ৪ বয়স ১ টা মেয়েও বৃষ্টি দেখে খুশি হয়ে লাফফাসে । ছোট্ট মেয়েটিকে অনেক জোর করে ধরে রেখেছে তার মা । নীলাদ্রি মনে মনে বলল , মেয়েটিকে ভিজতে দিলে কি হতো!

[নীলাদ্রি বয়স ২৬ ।গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করেছে।
সব চেয়ে কাছের বলতে মা, আর ছোট ভাই।আরও তার বান্ধবী ফরিবা । সে টিউশনি করে। চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।]
ফোন রিং ইন.......নীলাদ্রি রিসিভ করলো
ফারিবা: কি রে মির্জা ,ফোন ধরার সময় হলো
আপনার?কই তুই এখন?এত গুলা কল দিলাম তাহ কল রিসিভ প্রয়োজন মনে করিস না। তাহ্ বৃষ্টি তে কেমন বিজলি!
নীলাদ্রি: তুই কিভাবে বুঝলি! আর মিনিট ৫ হলো বাড়ি ফিরলাম।বৃষ্টি বরাবর আমার কাছে যেমন লাগে তেমন ই লাগলো ।
ফারিবা: বুজলাম । তোর সাথে এত দিন হলো থাকা আর আমি জানব না ,তো কে জানবে!আচ্ছা শুন শনিবার বার "ঈদুল ফিতর "বিকাল এ বের হব দুইজনে লেক বা পার্ক যাব ,না করবি না। বিকাল ৪ টায় বের হব একসাথে।
নীলাদ্রি:আচ্ছা ।আমার টিউশনির মাস শেষ হবে ঈদ এর বেশ পর ।আচ্ছা ,এক সাথে যাব নি বাট আমি বেতন পাই নেই, হাতে ও টাকা পয়সা একদম কম তুই সব দিবি তাহলে।
ফারিবা:ওকে মির্জা ম্যাম ।তুই এত ডং এত ফর্মালিটি কবে থেকে শিখিলি!?এমন না যে তুই দেস ই না !পরের বার তুই সব ,দিবি তখন বুঝেসিস ঠেলা, ঠেলার মার বাবাজি।
নীলাদ্রি:আচ্ছা ,দিব নি" তুই" তো ।তুই ছাড়া কে আছে যাকে বলব হাত ফাঁকা বল ।
ফারিবা: আচ্ছা শুন ঈদ ওই শারি পড়বি প্লিজ।আমি ও শাড়ি পড়ব । আমি জানি তুই ওই নীল শাড়ি পড়বি ওই নীল শাড়ির ব্যাপারে কোনো আপস করবি না ।তাই তোকে পড়তে বললাম।
নীলাদ্রি: আচ্ছা , নীল শাড়ির পড়ব নি। ছোট বেলায় ঈদ কত সুন্দর ছিল রে,নতুন জামা নতুন জুতা । এখন আর কিসু মনে হয় না , সব কেমন হারিয়ে গিয়েছে শুধু
আছে আমার নীল শাড়ি।
[এমন সময় তাহমিদ নীলাদ্রি ডাকছে । তাহমিদ হলো নীলাদ্রি ছোট ভাই ।ডাকসে আপু আপু খেতে আসো ,"নীলা "আপু খেতে আসো। নীলাদ্রি কে পরিচিত প্রায় মানুষ নীলাই ডাকে।]
আচ্ছা থাক ,মা খাওয়া এর জন্য ডাকসে। ঈদ এর দিন দেখা হচ্ছে।
ঈদ এর দিন বিকাল বিকাল বেলা ; বল কই যাবি পার্ক না লেক এ ? তা ,অবশ্য আমি জানি ।এই বার প্লিজ লেকে না , প্লিজ। নীলা: চল না লেকই যাই। লেক ভালো তো।

ফরীবা:এই বার যদি যাস কত বার হবে জানিস ! প্রায় ২৯ বার ।
নীলা : তাহলে তো ভালোই চল ৩০ পুরূন করি। না যাব নাহ তুই যা। নীলা : প্লিজ চল প্লিজ।আচ্ছা এই বার ই ,ওয়াদা আর যাব না। আচ্ছা তবে মনে রাখিস এই বার ই শেষ।
নীলা মুচকি হেসে বলল : "জীবনে শেষ থাকতে হয়। না হলে, অনেক জিনিস পাওয়া যায় না। শেষ হলে অনেক জিনিস পাওয়া যায়।"
দুইজন এ পার্ক এ প্রবেশ করলো । কথা বলতে বলতে দুজনে বেশ দূর এগিয়ে গেলো সামনে গিয়ে হঠাৎ লক্ষ করল দিনের সেই ছোট্ট মেয়েটি বৃষ্টি তে যে বৃষ্টি তে বেজার জন্য আবদার করছিল ,সেই মেয়েটি একা হয়ে বসে আছে চোখ দিয়ে পানি পরছে কান্না করসে কিন্তু কোনো আওয়াজ নেই ।
ফারীবা আর নীলা এগিয়ে গেলো।মেয়েটি জিজ্ঞাস করলো তোমার নাম কি??
মেয়েটি চুপ করে চোখের পানি ফেলে যাচ্ছে,কোনো কথা বলেছে না । ফারিবা: মির্জা আপা মেয়েটি হয়তো বোবা, কথা বলতে পারে না !
নীলা : না , না,কথা তো বলতে পারে আমি দেখছি! নীলা ছোট্ট মেয়েটি প্রথমে নিজের কোলে তুলে নিয়ে নিলো তারপর জিজ্ঞাস করলো: আমার পরিটার নাম কি! মেয়েটি চোখ মুছল মেয়েটি বলল "প্রাপ্তি"। বাবা ও আমায় পরি বলে ডাকে।

ফারিবা:তুমি এই খানে একা কেনো !কি করছো এই খানে!মেয়েটি (প্রাপ্তি)আবার চুপ হয়ে থাকলো ,আবার নীলা বলল: আমার পরীর আম্মু কই ?! বলল আমি এই দিক একাই চলে আসেসি।
তখন প্রাপ্তির আম্মুর প্রাপ্তি কে দেখে দৌড়িয়ে চলে এসে প্রাপ্তি কে কোলে তুলে নিলো।

ফারিবা: কি ? কেমন মা বাবা আপনারা ? কোনো আক্কেল নেই! বাচ্চা কে এই ভাবে ছেড়ে দেয় কেও?

প্রাপ্তির মা: আমরা ৩ জন ছিলাম হাঁটছিলাম হঠাৎ করে দেখি পাপ্তি নেই ।তারপর সব জায়গায় খুঁজলাম ওর বাবা অন্যদিক এ গিয়েছে । ধন্যবাদ আপু আপনাদের আমার প্রাপ্তি কে দেখে রাখার জন্য ।কি বলে যে ধন্যবাদ দেই!
প্রাপ্তি :বাবার কাছে যাব ।বাবা কই?
প্রাপ্তির মা :এই তো মা বাবা এসে পড়বে কিছুক্ষণ এর মধ্যে।
আপনারা কিসু না মনে করলে আপনাদের এক কাপ চা আমার পক্ষ থেকে ।
নীলা:না না তাঁর কোনো প্রয়োজন নেই লাগবে না ।
প্রাপ্তির মা : প্লিজ না করবেন না ! আমার আর ওর বাবার পক্ষ থেকে নয় ওর বাবা রাগ করবে প্লিজ।
ফারিবা: চল মির্জা ,এত করে বলসে তাহলে শুধু চা না আইসক্রিম ও খাওয়াইতে হবে !
তাহ ওই ভদ্র লোক (প্রাপ্তির বাবা) কই?
প্রাপ্তির মা:উনি মেইন রাস্তায় চলে গিয়েছিল । এই দিক এ আসতেসে তাও 10 মিনিট এর লাগবে ম্যাসেজ করল মাত্র।
আসেন আপু এই দিকে বসি।
নীলা :আমাদের আপু বলতে হবে না! আমার নাম নীলাদ্রি আর ওর ফারিবা। মনে হচ্ছে , আমরা বয়স এর দিকে থেকে খুব বড় হবো না ।
প্রাপ্তির মা: আমার নাম প্রেরণা। আর ওর প্রাপ্তি।ওর বাবার নাম প্রান্ত মির্জা।
(নাম শুনা মাত্রই ফারিবা নিলার দিকে তাকালো আর আসতে গলায় ফিসফিস করে নীলাকে বলল, এই টা ওই টা না চিন্তা নিস না । কিন্তু নীলার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে সামনে চা থাকা সত্ত্বেও খেতে পারছে না ।হাত পা কাপছে ।)
ফারিবা : চিন্তা করিস না। দাড়া আগে দেখ কি হয়!

ঠিক তখন ,প্রান্ত মির্জা উপস্থিত হলো। প্রান্ত মির্জা প্রথমেই দেখলো তার নীলাদ্রি কে দেখলো ।সেই নীলাদ্রি কে ,যে তার দেওয়া নীল শাড়ি এখনো ঈদ ও পড়েছে।
পরক্ষণেই প্রেরণা বলল: উনারাই তাঁরা। ফারিবা আরও নীলাদ্রি।
প্রান্ত মির্জা: তাঁদের ধন্যবাদ দিলো। তাকে (প্রান্ত) দেখে মনে হলো শত শত কথা তার মুখে কিন্তু কিসু বলতে পারল না।
ফারিবা আর নীলাদ্রি উটে গেলো ,তারা গেট এ

19/03/2026

|| ক্যাটাগরি: নস্টালজিয়া ঈদ ||
|| গল্পের নাম: ছোটবেলার ঈদ ||
|| গল্প লেখক: ইসরাত জাহান আঞ্জুমান। ||

,, কিরে আজকে তো ২৬ এ রোজা হয়ে গেল ওদের ঈদের জামা কিনে দিবি না।
,, দিব তো। সবেমাত্র ছুটি হলো। সবাই কে ঈদের ছুটি দিয়ে দিলাম।এখন এখন ওদের কিনে দিবো।
,, এই নে ধর টাকাটা রাখ। আর এই যে ওদের বড় খালামনী আর মেজ খালামনী পাঠিয়েছে।দোকানের সবচেয়ে সেরা জামাটা আমার নাতনির জন্য কিনবি। নাতনি কে যেন পরীর মত লাগে।

নানুর সেই কথাটা শুনে আম্মু মুচকি হাসলো। আর তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া সেই আমিটা দরজার ওপাশ থেকে লাফিয়ে উঠলাম। সবার ঈদের জামা কেনা হয়ে গেছে। অথচ এখনো আমারটা হয়নি। কি যে মন খারাপ ছিল। এখন আর মন খারাপটা নেই। মনে মনে আমি হাজারো চিন্তা ভাবনা করছি। এদিকে সাজিদটা সবেমাত্র চুলটা কেটে বাসায় ফিরল। ওকে গিয়ে বলে দিয়ে আসলাম আম্মু আমাদেরকে নিয়ে দোকানে যাবে ঈদের জামা কিনতে। চুল কাটার পর গোসল না করে আগে আগে লাফিয়ে উঠলো। আমি থামিয়ে বললাম,
,,এত লাফাস না। নানু আম্মুকে বলছে। আমি শুনতে পেরেছি, তাই তোকে বললাম।

ও তখনই চুপ হয়ে গেল। আমি ওকে বললাম তাড়াতাড়ি গিয়ে গোসল সেরে আয়। ও তখন দৌড়ে চলে গেল।

ঈদের খুশিতে সব পড়া আগে আগে শেষ করে রাখতাম। বিকেল বেলা খেলার সময়। কিন্তু ঐদিন আমার মন অন্য কিছুর জন্য পড়ে থাকতো। অবশেষে আম্মু এসে ডাকটা দিয়ে দিল। আমি যেন এইটারই অপেক্ষায় ছিলাম। সাজিদ ঘুমিয়ে ছিল,আমি ওকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বললাম,
,,"আম্মু ঈদের জামা কিনতে নিয়ে যাবে জলদি রেডি হ।"
ঘুম থেকে উঠেই আমার মুখে কথাটা শুনে তাড়াতাড়ি করে রেডি হল। তারপর আম্মু আমাকে আর ওকে নিয়ে ঈদের জামা কিনতে বের হলো। সে যে কি আনন্দ কি যে আনন্দ।

দেখতে দেখতে চাঁদ রাত চলে এলো। মাগরিবের নামাজ পড়ার পর থেকেই মনের ভেতর একটা উৎফুল্লতা কাজ করছে। আজকে কি চাঁদ উঠবে,আজকে কি চাঁদ রাত হবে। হাজারো দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে অবশেষে চাঁদ উঠলো। আর আমার মনে কি যে খুশি আর আনন্দ। আমি ও সাজিদ চাঁদ দেখে লাফিয়ে উঠলাম। আমার একটা ছোট মামাতো বোন ছিল,জান্নাত। ও আমার দেখাদেখি লাফিয়ে উঠলো। আমার মুখের কথা শুনে ও একটু একটু করে বলতে লাগলো,
"চাঁদ উঠেছে, চাঁদ উঠেছে।"
সে যে কি আনন্দ।
সব সময় কার মতো চাঁদ রাতের মূল আনন্দ থাকতো মেহেদি দেওয়াতে। আমিও চাইতাম মেহেদি দিতে। কিন্তু তখন আমার মেহেদি দেওয়ার হাত ভীষণ কাঁচা। আমার একটা বড় আপু ছিল। রিয়া আপু। আমি দৌড়ে চলে গেলাম রিয়াপুর কাছে। গিয়ে বললাম আপু আমাকে সুন্দর করে মেহেদী দিয়ে দাও। আপু আমাকে ভীষণ আদর করত। দিয়ে দিল হাত ভর্তি করে মেহেদী। কি যে ভালো লাগছিল। আমি আর জান্নাত কম্পিটিশন করছিলাম যে যার হাতে মেহেদি বেশিক্ষণ থাকবে তার হাতে রং গাড় হবে। এজন্য মেয়েদের শুকিয়ে যাওয়ার পরও হাতেই রেখে দিচ্ছিলাম।একটু পরে দেখি আমার আরো কাজিনরা এসেছে। এদিন টা আমি আসলেই ভুলবো না। সবাই মিলে বেশ রাত করে গল্প করেছি। মুড়ি মাখিয়ে খেয়েছি। নানা ভাইয়ের মুখে নানা ভাইয়ের ছোটবেলার ঈদের গল্পগুলো শুনছিলাম। তবে ঈদের গল্পের মধ্যে ভূতের গল্পও ছিল।ছোট ছিলাম বিধায় আমি গল্পের আসরে ঘুমিয়ে পড়েছি।

ঘুম ভেঙেছে বেশ কিছুক্ষণ আগে। কিন্তু চোখ খুলছিলাম না। ঘুমের রেশ যে কেটে উঠে নাই তাই। নাকি অনেকক্ষণ যাবত সেমাই এর ঘ্রাণ আসছিল। পুরো ঘর সেমাইয়ের ঘ্রাণে মো মো করছিল।হঠাৎ করেই শুনতে পেলাম যে কেউ আমাকে জাগানোর জন্য,"ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক"বলে ডাকছে। তরাক করে চোখ খুলে দেখলাম আমার মামি মা আমাকে ঈদ মোবারক বলে জাগাচ্ছেন। উঠে বসে মামিকে জড়িয়ে ধরলাম।সে কি ভালোলাগা। সকালটা যেন খুব সুন্দর ভাবে শুরু হল। সাজিদকে দেখলাম তড়িঘড়ি করে রেডি হয়ে নামাজে যাচ্ছে। সাথে নানাভাই ছিল। আম্মু আগে ওদেরকে মিষ্টিমুখ করালো। এটা দেখে আমি তাড়াতাড়ি করে গোসলে চলে গেলাম। গোসল থেকে ফিরে এসে দেখি আম্মু আমার জন্য সেমাই বেড়েছে। বাসার সবাইকে হাতের মেহেদির রং দেখিয়ে এসে সেমাই খেতে বসে পড়লাম আর আম্মুর ফোনে কল দিলাম আমার সেই প্রিয় বান্ধবীদের। আমার প্রিয় বান্ধবী এশা কে। এসব বেশ কিছুক্ষণ কথা বললাম। এশার আম্মু আন্টির সাথেও বেশ কিছুক্ষণ কথা বললাম। আন্টি আমাকে আসতে বলল। কিন্তু তখন ওরা গ্রামের বাড়িতে। দূরত্বটা বেশি ছিল। যাইহোক এরপরে দিলাম আমার আরেকটি প্রিয় বান্ধবী মিতুকে।। ওর সাথে বেশ কিছুক্ষণ কথা বললাম। এরপর আমাকে আম্মু রেডি হতে বলে। ঈদের জন্য কেনার নতুন জামা, জুতা,কসমেটিক্স ,প্রসাধনী সবকিছু নিয়ে সুন্দর করে চুল বেঁধে সেজেছিলাম। এরপর খাওয়া দাওয়া শেষ করার পরপরই। প্রথমে নানু নানা ভাই সালামি দিয়ে গেল। এরপর আব্বু আম্মুর কাছ থেকে সালামি পেলাম। তার পরপরই মামা মামির কাছ থেকে। সব কাজিনরা মিলে চলে গেলাম বড় খালা মনির বাসায়। বড় খালামণি আমাদেরকে সেমাই খাওয়ালেন। আর এরপরে আমাদের সবাইকে সালামি দিলেন। সে যে কি আনন্দ।
এরপর আমরা সবাই সালামির টাকা গুনে দেখলাম। সালামির টাকা দিয়ে মজা খেলাম। আর সবাই মিলে ঘুরতে বেরোলাম।

ছোটবেলাটা বেশ আনন্দে কাটিয়েছি। ওই সময়কার ঈদে যে মানুষগুলো আমার সাথে ছিল,যে আনন্দগুলো ছিল এগুলো সত্যিই অনেক স্মৃতিময়। এখানে অনেক মানুষই আছে যারা এখন আর দুনিয়াতেই নেই। কিছু মানুষ আছে পাশে নেই সাথে নেই। শুধু যোগাযোগই হয় তাদের সাথে। এই জিনিসগুলো মনে করিয়ে দেয় বড় হয়ে গেছি। কিন্তু ছোটবেলার ঈদটা।

ইস যদি ছোটবেলার ঈদটা আবারো ফিরে পেতাম।

19/03/2026

|| ক্যাটাগরি : ঈদের আনন্দ ||
|| গল্পের নাম : শৈশবের সেই ঈদ ||
|| লেখক : মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম ||

আমার শৈশবের সেই ঈদ

মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম

ঈদ মানেই এখন আনন্দ, নতুন কাপড় আর পরিবারের সাথে সময় কাটানো। কিন্তু আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঈদটা ছিল শৈশবের এক ঈদ, যা আজও হৃদয়ে গেঁথে আছে।
তখন আমি ছোট। গ্রামের বাড়িতে থাকতাম। রমজানের শেষ দিকে চাঁদ দেখার অপেক্ষা ছিল এক অন্যরকম উত্তেজনা। সেদিন বিকেলে আমরা সবাই উঠোনে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। হঠাৎ কেউ চিৎকার করে বলত। “চাঁদ উঠছে! চাঁদ উঠছে!” তারপর সবাই দৌড়ে যেতাম দেখতে। সেই মুহূর্তের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
ঈদের আগের রাতটা ছিল সবচেয়ে মজার। নতুন কাপড় বারবার খুলে দেখা, মা'র হাতে সেমাই আর পায়েস রান্নার গন্ধ, আর বাবার মুখে হাসি। সব মিলিয়ে এক স্বর্গীয় অনুভূতি। ঘুমাতে যেতাম ঠিকই, কিন্তু উত্তেজনায় ঘুম আসত না।
ঈদের সকালে ভোরে উঠে গোসল করে নতুন কাপড় পরে বাবার হাত ধরে ঈদের নামাজে যেতাম। নামাজ শেষে সবাইকে জড়িয়ে ধরা, “ঈদ মোবারক” বলা। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই ছিল সবচেয়ে বড় আনন্দ।
কিন্তু সেই ঈদের একটি ঘটনা আজও মনে পড়লে চোখ ভিজে যায়। নামাজ শেষে যখন বাড়ি ফিরলাম, দেখলাম পাশের বাড়ির এক দরিদ্র চাচা চুপচাপ বসে আছেন। তাঁর নতুন কাপড় নেই, মুখে কোনো হাসিও নেই। তখন আমার বাবা নিজের নতুন পাঞ্জাবিটা খুলে তাঁকে দিয়ে দিলেন। আমি অবাক হয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। বাবা শুধু বললেন, “ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ভাগ করে নিতেই হয়।”
সেদিন আমি বুঝেছিলাম, ঈদ শুধু নিজের আনন্দের জন্য নয়। অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই ঈদের আসল সৌন্দর্য।
আজ বড় হয়ে গেছি, শহরে থাকি, অনেক কিছু বদলে গেছে। কিন্তু সেই শৈশবের ঈদ, বাবার সেই শিক্ষা। এগুলো আজও আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি।
ঈদ শুধু আনন্দের নয়, এটি ভালোবাসা আর ভাগাভাগির নাম।

19/03/2026

।। গল্পের ক্যাটাগরি: অন্যরকম ইফতার ।।
।।গল্পের নাম: Serendipity: এক টুকরো অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি।।
‎।।লেখক: সাদিয়া বিনতে জান্নাত।।

স্বচ্ছ আকাশে মেঘের ভেলা উড়ে চলেছে। একেকবার একেক আকৃতি কল্পনা করে মেঘেদের গল্প তৈরি করা যাবে, এমন তুলোর মতো মেঘের ছড়াছড়ি। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে চলল। বধূ-দেখা গোধূলি আলোয় চারপাশ যেন সোনালি হয়ে উঠেছে। পাখিরা দল বেঁধে ছুটে চলছে নীড়ের কাছে। কারও হাতে মুড়ি, কারও হাতে ভাজাপোড়া—দ্রুতবেগে বাড়ির দিকে ফিরছে অনেকে। ফেরারই তো কথা, ইফতারের বাকি আছে মাত্র বিশ মিনিট।
‎তবে আজ কিছুই ইচ্ছে করছে না। টাঙ্গাইলে আমার রুমে আজ একা ইফতার করবো। রুমমেট মারিয়া আসবে ইফতারের পরে। অন্য রুমেরও অনেকেই বাড়ি চলে গিয়েছে, আর কারও ইফতারও বাইরে। পুরো রমজানে ইফতার করতে কখনো খুব খারাপ লাগেনি আমার, তবে আজ লাগছে। কিছু তৈরি করতেও ইচ্ছে করছে না। বাসার কথা মনে হচ্ছে। কত আনন্দে, ব্যস্ততায় সবাই মিলে ইফতার করতাম। আজ মনে হচ্ছে অনেক বড় হয়ে গিয়েছি।
‎খুব বেশি স্ট্রেস লাগলে আমি পালানোর জন্য ঘুমিয়ে পড়ি। তবে এখন সে সুযোগ নেই। বাসায় ফোন করা যায়, কিন্তু শুধু শুধু আমার জন্য ভেবে কষ্ট পাবে—এর মানে হয় না। ফোনের রিলস দেখা যায়। এমনিতে তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস দেখেই কাটিয়ে দিই, তবে যখন খুব বেশি খারাপ লাগে তখন ফোন ধরতেও ইচ্ছে করে না।
‎এখন সব কাল্পনিক পরিস্থিতি মনে হচ্ছে। আমি যদি এখন বাসায় থাকতাম তাহলে কেমন হতো, কিংবা আব্বু আম্মু যদি হঠাৎ এখানে এসে চমকে দিত। মারিয়া যদি এখনই এসে পড়ে, বাইরে ইফতার না করেই, তাহলে ওকেই বা কী খাওয়াবো? ইফতারের জন্য তো কিছুই করিনি।
‎হঠাৎ দরজায় ঠকঠক আওয়াজ এলো। কিছুটা চমকে উঠলাম। এ সময় তো কারও আসার কথা নয়। অবশ্য মাঝে মাঝে সাহায্য চাইতে অনেকে আসে। তবে ইফতারের মিনিট পাঁচেক আগে তারাই বা কেন আসবে? এসব ভাবতে ভাবতে দরজা খুলতে গেলাম।
‎আমাকে অবাক করে দিয়ে মারিয়া এসেছে। সাথে এনেছে বুট, পেঁয়াজু, বেগুনি। মুড়ি তো আছেই ঘরে। ইফতারের আর পাঁচ মিনিট বাকি। আমার এখন খুশিতে ওকে জড়িয়ে ধরে মনের ব্যাকুলতা বলতে ইচ্ছে করছে। হঠাৎ এভাবে আকাঙ্ক্ষিত কিছু পেয়ে যাওয়াই কি সেরেন্ডিপিটি নয়?
‎কিন্তু শরবত বানানো হয়নি। এখন এত কিছু ভাবার সময় নেই। এতক্ষণকার সব আফসোস মুহূর্তেই মিলিয়ে গিয়ে দ্রুত শরবত বানাচ্ছি। সে মুড়ি মাখাচ্ছে। স্বাভাবিক কথা-বার্তাতেই একসাথে ইফতার করা হলো। হয়তো অনেক কিছুই বলা যেত, তবে আবেগ প্রকাশে আমি অনেকটাই নির্বাক হয়ে যাই। নীরবতাই আমায় প্রশান্তি দেয়।
‎টাঙ্গাইলে এমন পরিস্থিতিতে হয়তো অনেকেই অনেকবার পড়েছে, আমিও পড়েছি। তবে বাড়ির মানুষগুলোর বাইরে এখানেও এমন কিছু মানুষ থাকে, যাদের জন্য এখানে থাকাটা সহজ আর সুন্দর হয়ে ওঠে।

19/03/2026

|| নস্টালজিক ঈদ ||
|| গল্পের নাম- সেকালের ঈদ ||
|| লেখক- নুসরাত তামান্না প্রিয়া ||

তখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি।

অসুস্থতার জন্য সব চুল কেটে টাক্কু বেল হয়ে আমার ঈদ হয়েছিল! অবশ্য নাপিত মামা একটা আইস কুল সাবান মাথায় মেখে দিয়ে বলেছিল— সব চুল ঈদের আগেই আবার ফিরে আসবে!

এমন মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ঐ নাপিত মামা আমার কিশোরী মন টা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিলো! My first heartbreak💔

স্কুলের শেষদিনে, মোটামুটি সব বন্ধুরা আমরা কার্টুন আঁকা বিভিন্ন ঈদ কার্ড নিজেদের মধ্যে বিনিময় করি আর বাসায় আসার দাওয়াত দিই।

এরপর স্কুল ছুটি!

প্রতি ঈদ আমার গ্রামের বাড়ি কাটলেও এবার ঢাকায় ঈদ করা হয়েছিল। চাঁদ রাতে বাবা আমাদের জন্য ঈদের জামা কাপড়, মেহেদী নিয়ে আসতেন।

নিজে নিজে মেহেদী শেখার আগ অবধি আমার ছোট্ট হাতে জায়গা পেত মায়ের আকা একটা ফুল আর চারটি পাতা!!

প্রতি চাঁদ রাত আমার ভালো কাটলেও সেবার মাথায় চুল নেই বলে আমার কি ভীষণ দুশ্চিন্তা আর কান্না! বাবা একটা গোলাপি রঙের ক্যাপ কিনে দিয়েছিলো অবশ্য!

সকাল হতেই কে কার আগে ওঠে এই প্রতিযোগিতায় হেরে গোসল দিয়ে ঈদের জামা পড়ে রেডি! আব্বু পাঞ্জাবি পরে আতর দিত। পৃথিবীর সব থেকে সুন্দরতম পুরুষ লাগতো ওনাকে।

আমি সালামীর কাজ সেরে ফেলতাম সবার আগে। আমার বেশ কিছু বন্ধু ও ছিলো। আমরা কচিকাঁচার দল বিল্ডিংয়ের প্রায় সব ফ্লাটে হানা দিয়ে সালামি জোগাড় করতাম।

এরপর বাবার সাথে আমরা যেতাম নামাজে। ঢাকার মেইন রোড গুলো ব্লক করে সারি বেধে সবাই নামাজ পড়তো! আমরা সব পিচ্চিরা পেছন থেকে হৈ-হল্লা করে একাকার। তার পাশাপাশি পরিচিত লোকজন থেকে সালামির কালেকশন ও চলত।

এরপর?

এরপর সব সালামী যেত মায়ের কাছে! এতদিনে ঐ সালামী গুলা জমে সুদে আসলে লাখ খানেক ত হবেই 🙂

এরপর টিভিতে মান্না শাবানা, শাকিব-অপুর ছবি, ডোরেমন, সাথে মায়ের হাতের পোলাও মাংস! আহা অমৃত!

দুপুরে দাওয়াত পর্ব শেষ করে আমরা ছবি তোলার স্টুডিওতে গেলাম! ঐ আমার টাক্কু মাথার ফ্যামিলি ফোটোটা আমার মা এখনো বাসায় মেহমান আসলে ডেকে ডেকে দেখায়!

এরপর ঈদ রাত কাটতো মার সাথে সিরিয়াল আর ঈদ অনুষ্ঠান গুলো দেখে!

তবে আমার ঈদ উৎযাপন শেষ হতো ঈদের ২য় দিন "ইত্যাদি" অনুষ্ঠানটা দেখে! আমার বাচ্চা কালের বিরাট ইচ্ছে ছিল ইত্যাদি অনুষ্ঠানে যাব। কেয়া কসমেটিকসের দেওয়া ঐ বই আর গাছ গুলার উপর ভয়ংকর লোভ ছিলো!

এই তো!

আমার সাদাসিধা ঈদ উদযাপন! ফোন, সোশাল মিডিয়ার আগের ঐ সাদামাটা ঈদে আমার মাথায় চুল না থাকলেও মনে ছিলো বিরাট শান্তি আর আনন্দ!

19/03/2026

|| ক‍্যাটাগরি : ঈদযাত্রা
|| গল্পের নাম : বন্ধুত্বের বন্ধন
|| লেখক : শাহরিয়ার হাসান সমাপ্ত।

গল্প ৩: বন্ধুদের সাথে বিকেল
ঈদের দিন বিকেলে সাকিব নতুন পাঞ্জাবি পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে হাসল। সকাল থেকেই তার মন ভালো, কিন্তু বিকেলের অপেক্ষাটা ছিল সবচেয়ে বেশি। কারণ এই সময়টাতেই সে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হয়। বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় পা রাখতেই সে দেখতে পেল চারদিকে উৎসবের ছোঁয়া—ছোট-বড় সবাই নতুন পোশাকে, মুখে আনন্দের হাসি, কেউ আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছে, কেউ আবার বন্ধুদের সাথে ঘুরছে।
কিছুদূর এগোতেই সাকিবের দেখা হলো তার প্রিয় বন্ধু সোহান, রিমন, তানভীর আর ইমরানের সাথে। সবাই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে “ঈদ মোবারক” বলল। তাদের হাসি আর আনন্দ দেখে মনে হচ্ছিল এই দিনটি যেন বছরের সবচেয়ে সুখের দিন। তারা সিদ্ধান্ত নিল প্রথমে পাড়ার মাঠে যাবে।
মাঠে গিয়ে তারা ফুটবল খেলতে শুরু করল। খেলার মাঝে দারুণ উত্তেজনা ছিল—কেউ গোল করার চেষ্টা করছে, কেউ আবার গোল বাঁচানোর জন্য দৌড়াচ্ছে। মাঝে মাঝে কেউ পড়ে গেলে সবাই হেসে উঠত, আবার তাকে তুলে নিয়ে খেলায় ফিরিয়ে আনত। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো তাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করে তুলছিল।
খেলা শেষে সবাই ক্লান্ত হয়ে কাছের একটি দোকানে গেল। সেখানে তারা আইসক্রিম আর ঠান্ডা পানীয় কিনল। গাছের ছায়ায় বসে তারা খেতে খেতে নানা গল্প করতে লাগল—পুরোনো স্মৃতি, স্কুলের মজার ঘটনা, আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে কথা বলল। এরপর তারা মোবাইল বের করে অনেক ছবি তুলল। কেউ মজার ভঙ্গিতে, কেউ সিরিয়াস হয়ে—সব মিলিয়ে মুহূর্তগুলো হয়ে উঠল অসাধারণ।
বিকেলের শেষ দিকে তারা পাড়ার এক বড় ভাইয়ের বাসায় গেল। সেখানে গিয়ে মিষ্টি, সেমাই আর নানা খাবার খেল। বড় ভাই তাদের সাথে গল্প করলেন, হাসলেন, আর ছোটদের মতোই আনন্দ করলেন। কিছুক্ষণ পর আকাশে সূর্য ধীরে ধীরে ডুবে যেতে লাগল, চারদিকে লালচে আভা ছড়িয়ে পড়ল।
সাকিব বাসায় ফিরতে ফিরতে ভাবল, ঈদের আনন্দ আসলে এই সময়গুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে—বন্ধুদের সাথে হাসি, খেলাধুলা, আর একসাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্ত। এই স্মৃতিগুলোই তাকে অনেকদিন ধরে রাখে আনন্দ।

প্রতিযোগিদের সুবিধার্থে গল্প জমা দেবার শেষ সময় "এবারের রোজার শেষ সেহেরি" ( ২০ তারিখ ভোর ৫ টা) পর্যন্ত বাড়ানো হল।সময় আর ব...
19/03/2026

প্রতিযোগিদের সুবিধার্থে গল্প জমা দেবার শেষ সময় "এবারের রোজার শেষ সেহেরি" ( ২০ তারিখ ভোর ৫ টা) পর্যন্ত বাড়ানো হল।
সময় আর বাড়ানো হবে না।
যারা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছিলেন তারা দ্রুত আপনার গল্প জমা দিয়ে দিন।

সকল প্রতিযোগীর জন্য অগ্রিম শুভকামনা।

Address

Santosh
Tangail
1902

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Telephone

+8801531926855

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when MBSTU Film Society, Tangail posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to MBSTU Film Society, Tangail:

Share

স্বপ্নবুনি চলচ্চিত্রে...

মাভাবিপ্রবি ফিল্ম সোসাইটি এই ক্যাম্পাসেরই একঝাক চলচ্চিত্র প্রেমী শিক্ষার্থী নিয়ে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যারা চলচ্চিত্রকে ভালোবাসে, স্বপ্ন দেখে চলচ্চিত্রে আর যারা প্রত্যয় নিয়েছে একদিন শিখরে নিয়ে যাবে বাংলা চলচ্চিত্রকে।