13/08/2024
আমরা শুধুই মানুষ
বাংলাদেশী মানুষ।
মিষ্টান্ন ভান্ডার নামক হিন্দু দোকান থেকে জিলাপি কিনে মসজিদে মিলাদ পড়ানো হয়। কোন মুসল্লি এটা নিয়ে চিন্তা না করে নিশ্চিন্তে মিলাদ শেষে জিলাপি খেতে খেতে বাড়ি যায়।
*চা দোকানে একই কাপে হিন্দু মুসলিম চা খেয়ে যুগের পর যুগ বসবাস করছে। কারো মাথায় এটা নিয়ে ব্যাথা বেদনা নেই।
*হিন্দুদের দাওয়াতে অধিকাংশ লোক থাকে মুসলিম এলাকাবাসী, বন্ধুবান্ধব মুসলিমদের দাওয়াতেও খুব স্বাভাবিকভাবে হিন্দুরা অংশ নেয়। এতে কেউ কিছু মনে করে না।
*সামাজিক কোন অনুষ্ঠানে একই টেবিলে একই প্লেটে হিন্দু মুসলিম পাশাপাশি বসে খাবার খাচ্ছে। মুসলিম লোকটি গরু মাংশ খাচ্ছে না, কারন তার বন্ধুটির জন্য।
* বর্তমানে সামাজিক অনেক অনুষ্ঠানে গরু রাখা হয় না শুধু সবার কথা ভেবে।
*অনেক হিন্দুদের বিয়েতে কাচ্চি করা হয় এবং মুসলমানদের জন্য খাসি জবাই আলাদা ভাবে করা হয়।( আমি নিজে স্বাক্ষী)
* একই দোকানে কেনাকাটা, পাবলিক বাসে, রিক্সায়, ক্লাসের বেঞ্চে পাশাপাশি বসে দিব্যি চলাফেরা করে হিন্দু মুসলিম। কারো কোন সমস্যা নেই।
*মসজিদ আর মন্দির পাশাপাশি একই এলাকায় আছে অনেক জায়গায়। দুই পক্ষই ইবাদত করছে। কারোরই কোন অসুবিধা হয়না যুগ যুগ ধরে।
আমরা চাকরী বাকরি, বন্ধুত্ব,, সামাজিকতা সব করে আসছি মনের গহীন সুতায়,,, কোনো সমস্যা নেই।
বিশ্বের আর কোন দেশে এরকম সুন্দর দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবেন?
এত সুন্দর সম্প্রীতি আমার জানামতে আর কোথাও নেই। ভারতে তো তা কল্পনাও করা যায়না। আমাদের দেশে কিছু ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার অপচেষ্টায় হিন্দু মুসলিম আলাদা করার পায়তারা করে আসছে ।
এরা মুখে একরকম অন্তরে আরেক রকম। এরা গভীর ষড়যন্ত্র করছে বছরের পর বছর। কিন্তু এরা সফল হয়নি, সফল হতে পারবেনা ইনশাআল্লাহ। কারন আমাদের দেশের মানুষ সত্যিকার অসাম্প্রদায়িক, আমরা হিন্দু মুসলিম কখনোই বিভেদ করিনা। আমার ধর্ম আমার,, তাদের ধর্ম তাদের,, বাট আমরা মানুষ,, আমরা সহকর্মী,, সহযোদ্ধা,, আমরা বন্ধু,, আমরা সহপাঠী,, আমরা প্রতিবেশী। সারাটা জীবন এটাই দেখে আসছি,,করে আসছি,,করছি,,,,
দয়া করে কারে ব্যক্তিগত,গোষ্ঠীগত কিংবা রাজনৈতিক সিদ্ধি হাসিল করার জন্য আমাদের মধ্যে বিবেদ তৈরি করার হীন অপচেষ্টা করবেন না,,,ভ্রাতৃত্বের বন্ধন নষ্ট করবেন না,,
এ বিষয় হিন্দু মুসলিম সকল সচেতন নাগরিক কে সচেষ্ট থাকা একান্ত আবশ্যক।
(কপি পেস্ট)