27/09/2026
সুনামগঞ্জে দলীয় পরিচয় বিবেচনায় বাদ ১২০ শিক্ষক! নিয়োগের দাবিতে ডিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান
সুনামগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১২০ প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। বঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগ, তাদের কারও বিরুদ্ধে মামলা বা গুরুতর অপরাধের তথ্য না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় বিবেচনায় নিয়ে গোয়েন্দা যাচাইয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে অবস্থান নেওয়ার পর জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের মাধ্যমে নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানান।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে সহকারী শিক্ষক পদে মোট ৬৩৫ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১২০ জনকে আপাতত নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তালিকায় ৪৯৭ জনের নিয়োগ নিশ্চিত হলেও ১২০ জন বাদ পড়েন।
বঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পর তারা চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ায় নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। প্রায় আট মাস অপেক্ষার পর নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তালিকায় নাম না থাকায় তারা জানতে পারেন, তাদের নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে।
তাহিরপুরের আমিরুল হাসান দাবি করেন, তার কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই এবং থানায় কোনো মামলা বা জিডিও নেই। এরপরও ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনের কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। শান্তিগঞ্জের সামন্ত কুমার দাসও দাবি করেন, মেধাতালিকায় অবস্থান থাকার পরও কোনো কারণ না জানিয়ে তার নাম চূড়ান্ত নিয়োগ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে আপাতত ১২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রার্থীদের দাবির বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
তবে দলীয় পরিচয় বিবেচনায় নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা নথি প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ১২০ প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার প্রকৃত কারণ এবং ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বঞ্চিত প্রার্থী ও তাদের পরিবার।
#সুনামগঞ্জ #প্রাথমিকশিক্ষকনিয়োগ #নিয়োগবঞ্চিত #সহকারীশিক্ষক #শিক্ষকনিয়োগ #পুলিশভেরিফিকেশন #গোয়েন্দাপ্রতিবেদন #চাকরি