10/01/2020
মণিপুরী শাড়ি পরিচিতিঃ
মণিপুরীরা বাংলাদেশী অধিবাসীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এরা সবচেয়ে বেশি দক্ষ বুননশিল্পে। প্রবাদ অাছে, মণিপুরী মেয়েরা জন্মসূত্রেই তাঁতি। এরা নিজেদের পোশাক নিজেরাই বানায়। বুনন শিল্পের স্বতন্ত্রতার জন্য মণিপুরী শাড়ির জনপ্রিয়তা দেশে-বিদেশে বাড়ছে এখন।
মণিপুরী ভাষায় তাঁতকে বলে ইয়োং।
ইয়োং দুই ধরনেরঃ খোয়াং ও পাং। মোটা কাপড় বোনা হয় খোয়াং তাঁতে, বিছানার চাঁদর, শাল, ফানেক এসব। অার চিকন সুতা বা পাতলা কাপড় বোনা হয় পাং তাঁতে। অর্থাৎ মণিপুরী শাড়ি বোনা হয় পাং তাঁতে।
দেশীয় তাঁতের শাড়ির প্রত্যেকটার অালাদা অালাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা দেখলেই একটা থেকে অারেকটাকে অালাদা করে বুঝা যায়। ঠিক তেমনি মণিপুরী শাড়ির রঙ অার নকশা দেখলেই বুঝা যায়, এইটা মণিপুরী শাড়ি।
মণিপুরী শাড়ির বৈশিষ্ট্যঃ
১. মণিপুরী শাড়ির প্রধাণ বৈশিষ্ট্য হলো, এই শাড়ির নকশায় মৈরাঙ বা মন্দির(টেম্পল) প্রতিকৃতি থাকবে। শাড়ির জমিন, অাঁচল, পাড় জুড়ে থাকবে এই নকশা।
২. মণিপুরী শাড়িগুলো তৈরি হবে বরাবরই উজ্জ্বল রঙের সুতায়, যা দেশি ও একটু মোটা মানের হবে। তাই শাড়িগুলো হয় একটু মোটা মানের ও অমসৃন।
৩. মণিপুরী শাড়ির পাড়গুলো ১ থেকে ২ ইঞ্চি হবে। অার পাড়ের রঙ সবসময় জমিনের রঙের বিপরীত হবে।
৪. এছাড়াও, মণিপুরী শাড়িতে মৈরাঙ নকশার পাশাপাশি বিভিন্ন ফুল, পাতা, বৃত্ত, রেখা ইত্যাদি জ্যামিতিক নকশাও দেখা যায়। অার এসব নকশা পুরো শাড়ির অাঁচল, পাড়, জমিন জুড়ে থাকবে।
মণিপুরী শাড়ির জামদানি শাড়ির সাথে এক জায়গায় মিল অাছে। জামদানি শাড়ির নকশা যেমন সূক্ষ্ম অার নিখুঁত হয়। মণিপুরীর শাড়ির নকশাও সেরকম সূক্ষ্ম অার নিখুঁত করতে পছন্দ করে মণিপুরী তাঁতিরা।
মণিপুরী শাড়ির বুনন প্রক্রিয়াও অনেকটা জামদানি বা দেশী তাঁতের শাড়ির মতো। একটি তাঁতে দু’জন তাঁতি কাজ করেন দুই দিকে বসে। প্রথমে সুতা মাড় দিয়ে শুকাতে হয়। তারপর শুকানো সুতা চরকায় পেঁচিয়ে গুঁটিতে ভরে সেখান থেকে মাকুতে নিয়ে বুনতে হয়। আর সবার আগে শাড়ির টানা বাঁধতে হয়। তারপর বুনন কাজ চলে। মণিপুরীদের একটি শাড়ি বুনতে চার থেকে পাঁচদিন সময় লাগে। এর কম-বেশি সময়েও শাড়ি বোনা হয়। তবে শাড়ির রঙ ও নকশার ওপর নির্ভর করে বোনার সময়।
সংগৃহীত