16/08/2024
কথিত স্বাধীনতা কী আবারো অশুভ শক্তির হাতে বন্দীর পথে?
গত সরকার পতন থেকেই বেশ কিছু ব্যাপার একটু শঙ্কিত করছে।
প্রথমত, একটা ভিডিওতে দেখলাম শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মূত্রত্যাগ করছে একজন, আরেকদল দেখলাম প্রতিকৃতি ভাঙ্গছে। দ্বিতীয় অংশকে মেনে নিলেও প্রথম অপকর্মকে কোনোভাবেই সুস্থ মস্তিষ্ককে মানা যায় না। এটা সুশিক্ষিত আর সভ্য জাতির পরিচয় হতে পারে না।
আরেকটা ব্যাপার বঙ্গবন্ধুর বাড়িসহ মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক অন্যান্য স্থাপনায় আঘাত। যদিও এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে গত ৫৩ বছরের দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সব সরকারই নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থের খাতিরে বিকৃতি করেছে এবং গত সরকার এটাকে নিজেদের বৈধতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু তাই বলে এসব প্রতিকৃতি ও স্মৃতিচিহ্ন রেখে ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপনা করা কি অসম্ভব ছিলো? দিনশেষে এসব নির্মাণ ব্যয় তো জনগনের রক্তপানি করা ঘাম দিয়ে নির্বাহ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, আজকে দেখলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশের জন্য সমন্বয়কদের অনুমতি নিতে হচ্ছে, যদিও ছাত্র অছাত্র যাচাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত পরিচয়পত্রই যথেষ্ট। আমরা ক্ষমতা হাতে পেলেই তা প্রদর্শনের কোনো সুযোগই বাদ দিতে না দেওয়ার এইযে অভ্যাস, এটাই কিন্তু গত সরকার সমর্থকদের সেচ্ছাচারী হওয়ার অন্যতম কারণ।
তৃতীয়ত, কেউ দেখলাম গত সরকার সমর্থকদের বাড়ি ও সরকারি দপ্তর/বাসভবনে হামলা ও লুঠপাট করছেন। এটা ভুলা উচিত না যে একটা অন্যায়ের প্রতিবাদ হিসেবে, আরেকটা অন্যায় দিনশেষে অরাজকতাই সৃষ্টি করে ভালো কিছু না। বরঞ্চ, মানুষকে শোষণ করে অর্জিত এসব সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষ, নির্বাহী বিভাগের সৎ কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের সহায়তায় রাষ্ট্রের সম্পত্তি হিসেবে বায়োজাপ্ত করলে এসবের প্রকৃত হকদার জনগণের কাজে ব্যবহার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চতুর্থ, গত দু'দিনের কিছু ভিডিওতে দেখলাম রাস্তায় বিবস্ত্র বা অন্যান্য কায়দায় একরকম গণবিচার করা হচ্ছে এবং সেটা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। দেশের আদালতের বাইরে এমন কার্যক্রম দিনশেষে গত সরকারগুলোর দ্বারা বিচারহীনতাকে আরো দীর্ঘস্থায়ী করে তোলবে। তাই দেশের দীর্ঘস্থায়ী স্বার্থে সকল অন্যায়কে দেশের আইন ও সংবিধানের দ্বারাই বিচারিক আওতায় নিয়ে আসা জরুরি এবং দেশের বিচার বিভাগ যাতে অন্যায়কারীদের যথোপযুক্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করে তা নিশ্চিত করা উচিত।
সর্বশেষ, কিছু কিছু ভিডিওতে দেখলাম আইন শৃঙ্খলা রক্ষার নামে অতি উৎসাহী মোরাল পুলিশিং হচ্ছে কিছু জায়গায়। কোথায় থামতে হবে সেটা না জেনে এমনভাবে মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতায় আঘাত হিতে বিপরীত বৈ কিছু হবে না।
দিনশেষে সীমাতিরিক্ত কিছু করলে আজকের জনপ্রিয়রা কালকের নতুন বাংলাদেশের নয়া শত্রু হবে। আর এ সুযোগে দেশটা পুরাতন হায়নার হাত থেকে নতুন নেকড়ের ক্ষপ্পরে পড়ে পিছিয়ে যাবে আরেকবার।
(ছবি সংগৃহীত)