13/10/2016
- রিনি, তোমার নাম্বার টা এতক্ষণ
ব্যস্ত ছিল কেন?
- সালামের উত্তর টা ভালো ভাবে
দাও। তারপর না হয় প্রশ্ন কর।
- না আগে বল, নাম্বার ব্যস্ত ছিল কেন?
- স্বামীর কাছে মিসকল দিচ্ছিলাম।
- মিসকল দিলে এতক্ষণ ব্যস্ত দেখাই?
- অনেকক্ষন ধরে মিসকল দিচ্ছি।
- কেন এত কি প্রয়োজনে?
- অনেক প্রয়োজন থাকতে পারে। জরুরী
একটা বিষয়ে আলাপ করবো তাই।
- ওহ, তার কাছে বার বার মিসকল
দিলেও ব্যক করে না, তবুও তার সাথে
আলাপন থাকে । আর আমি হাজার বার
কল দিয়েও প্রশ্রয় পাই না।
- এমন করে কেন বল রিপন। জানই তো সে
আমার স্বামী।
- হ্যাঁ, সারাজীবন আমাকে তো শুধু
জেনেই যেতে হবে। অনেক কিছু
দেখতে হবে। তবুও তো শান্তি পেতাম
যদি তুমি সুখি থাকতে। যাকে কখনও
দেখও নি তারপরে এত দরদ!
- দেখ, কপালে যার যা থাকে তাই ই হয়,
অযথা কেন এমন কর?
- খবরদার কপালের দোষ দিবে না। কেন
সেদিন আমাকে কাঁদিয়ে তোমার
বাবা মায়ের কথায় না দেখা
লোকের সাথে কবুল বলেছিলে ?
আমিও তো আজ প্রবাসি। অনেক টাকা
হয়েছে। তোমার স্বামীও প্রবাসি।
তবে পার্থক্য টা কোথায়। আজও বলছি,
কান খুলে শুনে রাখ। তোমার স্বামী
যদিও ছুটিতে বাড়ি যায়, তুমি যেন
বাচ্চা নিবে না। কারন আজ হোক কাল
হোক কিম্বা তুমি বৃদ্ধা বয়সে পা রাখ,
আমি তোমাকে বউ বানাবই।
প্রস্তুতি নিয়ে থেক। বাই ভালো থেক।
,
খুব রাগ অভিমানে রিপন কথা গুলো
বলে আর কোন কিছু শুনার প্রতিক্ষা না
করেই লাইন টা কেটে দিলো।
রিনি বড় অসহায়। সারাটা জীবন রিপন
তাকে পাগলের মত ভালোবেসেছে।
পাগলের মত বউ রুপে চেয়েছে। কিন্তু
রিনির বাবা মা রাজি না হয়ে
টাকা ওয়ালা এক নির্দয় পাষানের
সাথে বিয়ে দিয়েছে। শুধু টাকা
পয়সা থাকলেই যে মানুষ সুখি হতে
পারে না তা তারা ভাবেনি। তবুও
রিনি তার স্বামীকে ঘিরেই সুখি
থাকতে চেয়েছে। আর রিপনের থেকে
দুরে থাকতে চেয়েছে। কিন্তু রিপনের
ভালোবাসা ঠুংক নয়। সে সারা জীবন
কুমার থাকবে। রিনিকে না পেলেও
রিনির জীবন থেকে দুরে থাকতে
পারবে না। রিনি ওর স্বামীর কাছে
অনেক আশা নিয়ে মিসকল দেয়। বহুবার
দেওয়ার পর একবার যদিও কল দেয় এক
মিনিটে রেখে দেয়। রিনির মনের
মাঝে না বলা আকুতি বাসা বাঁধে।
বুকের মাঝে শূন্যতার হাহাকারে
মরুভূমির সৃষ্টি হয়। সেই মরুভূমিতে রিপন
হঠাৎ এসে দু ফোঁটা বৃষ্টি ঝরিয়ে যায়।
,
রিপন ফোনটা কেটে দেওয়ার পর
থেকে রিনির দু চোখে বৃষ্টি বর্ষণ শুরু
হয়েছে। এমন সময় ওর ছোট বোন কল দিল।
ফোনটা রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত
থেকে ছোট বোনের ঝাঁঝাল রাগি
কন্ঠ ভেসে এলো।
- কি ব্যপার আপুনি আমাকে এতক্ষন
ওয়েটিংয়ে রাখলে কেন?
- কই কখন?
- কখন মানে? এই যে এতক্ষন ধরে কল
দিচ্ছি। চোখে দেখ না নাকি?
- ওহ কথা বলছিলাম তো তাই খেয়াল
করিনি।
- কার সাথে?
- রিপনের সাথে।
- তোমার যদি লজ্জা থাকতো তবে ওই
রিপনের সাথে কথা বলতে না।
- কেন রে? এখানে আবার লজ্জার কি
হলো?
- তুমি বিবাহিতা মেয়ে হয়ে কেন
অন্য পুরুষের সাথে এতক্ষন কথা বলবে??
- এখন তো তোদের কাছে অন্য পুরুষ হবেই।
কিন্তু এই অন্য পুরুষ টা বানালি তো
তোরাই।
- মানে? ও কি তোমার স্বামী ছিল?
- ছিল না তবে হতে পারতো। যেটা
বাবা মা ও তোর কারনেই হইনি।
- ওহ, তা কি আবারও হওয়াতে চাও?
জেনে রেখ আপুনি তুমি পাপ করছো।
মহাপাপ। পরপুরুষের সাথে তোমার
কিসের কথা?
- ফোনটা রাখ।
- জানি তো আমাকে তুমি সহ্য করতে
পারনা।
- প্লিজ রেখে দে।
,
রিনি নিজেই ফোনটা কেটে দিয়ে
বেডের উপর শরীর টা এলিয়ে দিয়ে
ডুকরে ডুকরে কাঁদছে আর ভাবছে,,,,
যে ছিল জীবনের সব কিছু, সে আজ
পরপুরুষ। আর যাকে চিনিনা, দেখিনি।
কোন এক প্রবাসি সে আজ আপন পুরুষ।
নিজের স্বামী। হ্যাঁ তার অনেক টাকা
পয়সা আছে। তাই বলে কি সুখ পেলাম এ
জীবনে?
সে তো মন ভরে ফোনেও কথা বলে না।
হতেও তো পারে তার অবসর টা সে অন্য
কোন নারীর সাথে সময় কাটায় তাই
কথা বলতে পারে না। কারও কাছে
আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সেরা নারী, আর
কারও কাছে অবহেলার পাত্রি।
একটু সন্মানের দিকে চেয়ে আজ
জীবনটাই বরবাদ হলো। সেদিন যদি
বাবা মায়ের মুখে চুন কালি মেখে
রিপনের হাত ধরে পালিয়ে যেতাম
তবুও সুখি হতাম।
কিন্তু বাবা মা কে কষ্ট দিয়ে তো
মনের শান্তি পেতাম না। আর এখন আমি
কারও কাছে ঠাই পাই না। রিপন ও
এদানিং খুব কষ্ট দিয়ে কথা বলে।
সামান্যতেই রেগে যায়। সেই রিপন
আর আজকের এই রিপন আসমান জমিন
পার্থক্য।
যার শরীর টা কুরে কুরে খেলেও হাসি
দিয়ে স্বাগত জানাতো, আজ সে
বীনা কারনেও ব্যথা দিয়ে কথা বলে।
তবে কি নারী জীবনটাই পাপের?
নারী হয়ে জন্মেই কি ভুল করেছি?
না পেলাম সুখ। না পেলাম মনের মানুষ।
পেলাম শুধু আপন জনের অবহেলা।
রিনি এসব ভাবছে আর ডুকরে ডুকরে
কাঁদছে।
ও নিজেও জানে না এ কান্নার শেষ
কোথায়।
এটা কি তাহলে অসমাপ্ত কান্না?
,
লেখাঃ
Evana Eva(ঘুমের রানী)