Jannat's Little Diary

Jannat's Little Diary “Words that whisper emotions — Welcome to Jannat's Little Diary.”
(5)

নীলার ডায়েরির পাতায় আজ তারিখের জায়গাটা শূন্য। সে মনে করতে পারছে না আজ কী বার, কিংবা মাসের কত তারিখ। উচ্চশিক্ষা অর্জন  কর...
21/03/2026

নীলার ডায়েরির পাতায় আজ তারিখের জায়গাটা শূন্য। সে মনে করতে পারছে না আজ কী বার, কিংবা মাসের কত তারিখ। উচ্চশিক্ষা অর্জন করলেও কুচক্রীদের কুচক্রের অন্তরালে সবকিছু ধুলো জমিয়ে পড়ে আছে, ঠিক যেমন নীলার অস্তিত্বটা এই বিশাল শৌখিন বাড়িতে ধুলোবালি আর অবহেলার নিচে চাপা পড়ে গেছে।

​নীলা দেখতে মোটামুটি সুন্দর, কথা বলে গুছিয়ে। কিন্তু স্বামীর সংসারে পা রাখার পর থেকেই তার সেই গুণ যেন অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভাবী ঘরের মেয়ে বলে শ্বশুরবাড়ির প্রতিটি মানুষের চোখে সে ছিল স্রেফ একটা 'সস্তা পণ্য'।

বিভিন্ন সস্তা রীতিনীতি প্রথা পালন করতে নীলার পরিবার ব্যর্থ হলে সেই অপরাধে তাকে যে অমানুষিক বাক্যবাণ সহ্য করতে হয়েছে, তা তিলে তিলে তার আত্মাকে কুরে খেয়েছে।

নীলা বুঝতে পারল, এই চার দেয়ালের মানুষগুলো তাকে পাগল প্রমাণ করতে চায়। সে তারিখ ভুলে যাচ্ছে, জিনিস কোথায় রাখছে মনে করতে পারছে না—এটা তার স্মৃতিভ্রম নয়, এটা তাদের দেওয়া অসহ্য মানসিক চাপের ফল।

নীলা আয়নার সামনে দাঁড়াল। আজ সে কাঁদবে না। তার চোখের জলে এই অযোগ্য স্বামী বা পাষাণ পরিবারের কারও কিছু যায় আসে না।

​স্বামী পাশে থেকেও নেই। রাতের আঁধারে যখন নীলার বালিশ চোখের জলে ভিজে যায়, পাশে থাকা মানুষটি তখন নিশ্চিন্তে নাক ডেকে ঘুমায়। নীলার মনে হয়, সে একাই এক মহাসমুদ্রে খড়কুটো ধরে ভেসে আছে।

মা মারা যাওয়ার পর সেই শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে গেছে। ​মাঝে মাঝে নীলার ইচ্ছা করে সব ছেড়ে কোথাও চলে যেতে। কিন্তু আড়ালে আড়ি পেতে থাকা দুই জোড়া ছোট ছোট চোখ তাকে থামিয়ে দেয়। তার দুই সন্তান। তাদের মুখের দিকে তাকালে নীলা বুঝতে পারে, সে মরে গেলে, এই নিষ্পাপ শিশু দুটিকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। সে এখন আর রক্ত-মাংসের মানুষ নেই, সে এক 'জীবন্ত লাশ'—যে শুধু সন্তানদের জন্য শ্বাস নেয়।

​সেদিন বিকেলে জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে নীলার হঠাৎ মনে হলো, চারপাশের এই অন্ধকারের মাঝেও তার ভেতরে একটা প্রদীপ জ্বলছে। তার শিক্ষা। পরিবার তাকে 'বোঝা' মনে করেছে, কিন্তু তার মেধা তো কেউ কেড়ে নিতে পারেনি। সে বিড়বিড় করে নিজেকে বলল, "আমি হারবো না। আমার নাম নীলা, বিষ নীল হয়েও আমি নীলপদ্ম হয়ে টিকে থাকবো।"

​ডায়েরির কলমটা হাতে তুলে নিয়ে সে কাঁপাকাঁপা হাতে লিখল— "আজ থেকে আমি আর কারো কটু কথার জবাব দেব না। আমার নীরবতাই হবে আমার ঢাল। আমি বাঁচবো, আমার সন্তানদের জন্য।"
........

"হৃদয় যখন ক্ষতবিক্ষত, প্রশান্তি তখন শুধু তাঁরই স্মরণে।"পৃথিবীতে মা বাবা নাই যাদের, আপনজন বলতে কেউ থাকে না!  😭😭😭​اللَّهُم...
03/03/2026

"হৃদয় যখন ক্ষতবিক্ষত, প্রশান্তি তখন শুধু তাঁরই স্মরণে।"

পৃথিবীতে মা বাবা নাই যাদের, আপনজন বলতে কেউ থাকে না! 😭😭😭

​اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهَا وَارْحَمْهَا وَعَافِهَا وَاعْفُ عَنْهَا

আল্লাহুম্মাগফির লাহা, ওয়ারহামহা, ওয়া আফিহা, ওয়াফু আনহা।

রব্বির হামহুমা কামা রব্বায়ানি সাগিরা।

ইয়া আল্লাহ! আপনি আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদাউস বা জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।

ঘরের জানালা দিয়ে আসা শেষ বিকেলের আলোটা মায়ের ফ্যাকাশে মুখে এসে পড়েছে। আট সন্তানের জননী তিনি। একসময় এই ঘরটা বাচ্চাদের কলক...
28/02/2026

ঘরের জানালা দিয়ে আসা শেষ বিকেলের আলোটা মায়ের ফ্যাকাশে মুখে এসে পড়েছে। আট সন্তানের জননী তিনি। একসময় এই ঘরটা বাচ্চাদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকত। নিজে আধপেটা খেয়ে, তালি মারা শাড়ি পরে আটজনকেই বড় করেছেন। নামাজ শেষে জায়নামাজে বসে সবসময় বলতেন, "আল্লাহ, আমার সন্তানদের তুমি মানুষের মতো মানুষ করো।"

​কিন্তু আজ মা বড় একা। তিন মাস ধরে শয্যাশায়ী। যে ঘরে তিনি শুয়ে আছেন, সেই ঘরে সারাদিনে একবার কেউ উঁকি দেয় কি না সন্দেহ।

ছেলেদের মধ্যে ঝগড়া—কে মায়ের ওষধু কিনবে আর কে খাওয়াবে। অথচ বাজারের ব্যাগে তাদের সবার জন্য দামী ফলমূল ও ভালো খাবার ঠিকই ওঠে।

​সবচেয়ে বেশি কষ্ট এক মেয়ে সমাজসেবক। এলাকায় 'সমাজসেবিকা' হিসেবে পরিচিত। পাড়ার কার বাড়িতে চাল নেই, কার পেটে বাচ্চা, তাকে খাবার দিতে হবে। কার মেয়ে অসুস্থ—এসব নিয়ে তার দৌড়ঝাঁপের শেষ নেই। অথচ নিজের মা যখন পাশের ঘরে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন, তখন মায়ের কাছে আসার ও খোঁজ নেওয়ার কোন সময় নেই; সময় ঠিকই আছে অন্যের বাড়ির তদারকিতে।

খাবারের দায়িত্ব নিয়েছেন : মা যখন শখ করে কোন কিছু খেতে চাইতেন, তখন ধমকের সহিত বলা হইতো এটা খাওয়া যাবে না, ওটা খাওয়া যাবেনা এটা খাওয়া নিষেধ আছে, কত বাহানা। অথচ ঘরের দরজা বন্ধ করে নিজেরা ঠিকই পেট ভরাচ্ছে।

অবশেষে মা সব অবহেলার ঊর্ধ্বে চলে গেলেন। শান্ত হয়ে শুয়ে থাকেন। কোন অভিযোগ নেই, খাওয়ার কোন তাড়া নেই। এই সুযোগে মাকে খাবার দেওয়া বন্ধ করে দিল। না খেয়ে না খেয়ে মা, শারীরিক শক্তি মানসিক শক্তি সব হারিয়ে ফেলল।

মায়ের ছেলেমেয়েরা অত্যন্ত দরদী! মায়ের থেকে মাসির দরদটা একটু বেশিই চেনে!

বাসায় আত্মীয়-স্বজনদের ভীর। কিন্তু মায়ের ঘরে উকি দেয়ার মতো কেউ নেই!

আজ মা সাদা কাফনে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, গত তিন মাস যাদের ছায়া দেখা যায়নি, আজ তাদের ভিড় পুরো বাসাময়। সেই আত্মীয়রা—যারা এক হালি সস্তা কলা নিয়েও কোনোদিন দেখতে আসেনি—তারা এখন ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। এক মেয়েতো কান্নায় ভেঙে পড়ছে, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে দরদী সন্তান সে-ই ছিল, আফসোস!

​দাফন নিয়ে শুরু হলো তাড়াহুড়ো। ছোট মেয়েটা দূর শহর থেকে আসার জন্য বারবার অনুরোধ করল, "আমি আসছি, মাকে শেষবার একটু দেখতে দাও।"

কিন্তু তাড়াতাড়ি দাফন করতে হবে মা কষ্ট পাবে । জীবিত থাকাতে যে মায়ের কষ্টের খোজ রাখত না, আজ সাদা কাফনে মোরানো মায়ের জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে!

আসলে মায়ের কষ্ট হচ্ছিল না, তাদের দুশ্চিন্তা ছিল রাতের খাওয়া-দাওয়া আর নিজেদের ঘুমের ব্যাঘাত নিয়ে। "আপদ বিদায়" করে শান্তি পাওয়ার একটা অদৃশ্য প্রতিযোগিতা চলছিল সবার মনে।

অবশেষে মায়ের লাশ ঘরে রেখেই খাওয়া-দাওয়া ঘুম সব পরিপূর্ণ হল। আপদ বিদায় হয়েছে! আহ : কি শান্তির ঘুম! ঘুমের মধ্যে কারো কারো নাকের আওয়াজে যেন পুরো ঘর মুখরিত।

​মায়ের দাফন শেষ হলো। ৩ দিন পর ভোজের আয়োজন। আত্মীয়-স্বজনরা তৃপ্তি নিয়ে পোলাও-কোরমা খাচ্ছে। যে মা এক গ্লাস পানির জন্য তৃষ্ণার্ত হয়ে মারা গেলেন, তাঁরই মৃত্যু উপলক্ষে চারদিকে এখন খাবারের সুগন্ধ। দাফনের আগে যে কোরআন শরিফ পড়ার সময় কারো হয়নি, খাওয়ার পর সেই আত্মীয়রাই দাঁত খিলাল করতে করতে বলছে, "মরহুমা খুব ভালো মানুষ ছিলেন, আল্লাহ উনাকে জান্নাত দিক।"

​বাড়ির এক কোণে দাঁড়িয়ে মায়ের ছোট মেয়েটা আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছে— বেঁচে থাকতে যারা এক ফোঁটা পানি দেয়নি, খাবারের জন্য কত কষ্ট পেয়েছে আমার মা, তাদের এই পেটভরা খাওয়া আর লোক দেখানো দোয়া কি সত্যিই মায়ের কবরে পৌঁছাবে?

নাকি মায়ের সেই নীরব চোখের পানিই হয়ে থাকবে এই সন্তানদের জন্য সারা জীবনের অভিশাপ?

***লক্ষ কোটি মানুষের ভিড়ে আমরা কি আসলেই মানুষ হতে পেরেছি?***

মা,আজও বিশ্বাস করতে পারছি না যে আপনি নেই। ৭ই ফেব্রুয়ারির সেই বিষাক্ত শনিবারটা আমার জীবনের সব আলো কেড়ে নিয়েছে। আজ সেই বিষ...
21/02/2026

মা,
আজও বিশ্বাস করতে পারছি না যে আপনি নেই। ৭ই ফেব্রুয়ারির সেই বিষাক্ত শনিবারটা আমার জীবনের সব আলো কেড়ে নিয়েছে। আজ সেই বিষাক্ত শনিবার।

৭০০ কিলোমিটারের সেই দীর্ঘ পথ যেন শেষই হচ্ছিল না। মাঝপথে যখন গাড়ির গ্যাস ফুরিয়ে গেল, মনে হচ্ছিল আমার নিশ্বাসও আটকে আসছে। আমার পৌঁছাতে দেরি হলো, কিন্তু আপনার নিথর শরীরটা আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। মা, আমি জানি আপনি শেষবার আমাকে দেখার জন্যই ওভাবে শুয়ে ছিলেন।
​মা, আমার কলিজা ফেটে যায়!

যখন ভাবি_ কত অবহেলা আর অনাহারে আপনার অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ! আমি তো দূরে ছিলাম মা, কিন্তু আপনার গুণধর ছেলেরা আর তাদের কলিজার খনিরাকি একবারও আপনার ক্ষুধার্ত মুখটার দিকে তাকায়নি?

দুই মাস আগে যখন আমি গিয়েছিলাম, আপনি তো দিব্যি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। নিজের হাতে খেয়েছেন, আমার সাথে কথা বলেছেন। হাটাচলা করেছেন। নিজের কাজ নিজেই সম্পাদন করেছেন। কত হাসী কত কথা বলেছেন! পরিপূর্ণ সুস্থ্য হয়ে গিয়েছিলেন।

কিন্তু আমি আসার পর জ্যান্ত লাশ বানিয়ে দিল!
​শুনেছি আপনি নাকি তিন-চারবার পড়ে গিয়ে স্ট্রোক করেছিলেন , কিন্তু আপনাকে একটা ডাক্তারের কাছেও নিয়ে যায়নি। প্রস্রাবে ভিজে থাকা বিছানায় আপনাকে ফেলে রাখা হয়েছে দিনের পর দিন।

যে মা আমাদের জন্য সারাজীবন অমানুষিক কষ্ট সহ্য করলেন, সেই মায়ের শেষ সময়টা নরক বানিয়ে দিল!

​মা, আপনি তো অভিমানে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কার সাথেই বা বলতেন? যাদের আপনি জন্ম দিয়েছেন, তারাই তো আপনার মৃত্যুর অপেক্ষা করছিল।

আপনার লাশ ঘরে রেখেই তারা দিব্যি খাওয়া-দাওয়া করেছে, আর দাফনের পরের দিনই টিভিতে গান বাজিয়ে উৎসব করেছে! আমি নিজের চোখে সেই অকৃতজ্ঞতা দেখে এসেছি। ওই বাড়িতে আমার এক সেকেন্ডও দম নিতে কষ্ট হচ্ছিল মা ।

​মা, আপনি অমানুষগুলোর হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এখন আপনি এমন এক জায়গায়, যেখানে কেউ আপনাকে অবহেলা করবে না, কেউ আপনাকে ক্ষুধার্ত রাখবে না। আপনি শান্তিতে ঘুমান মা। আপনার এই মেয়েটি আপনাকে কোনোদিন ভুলবে না। আপনার প্রতি হওয়া প্রতিটি অন্যায়ের বিচার স্রষ্টা ঠিকই করবেন।

​ইতি,
আপনার অভাগী মেয়ে।

চোখ বন্ধ করলেই দেখি আমার মায়ের "মুখ; ইসসসস ; আমি যদি  ১ মাস আগে বাসায় যেতাম! মা আমার আসার অপেক্ষায় ছিলো! আমার ঈমান মজবুত...
15/02/2026

চোখ বন্ধ করলেই দেখি আমার মায়ের "মুখ; ইসসসস ; আমি যদি ১ মাস আগে বাসায় যেতাম! মা আমার আসার অপেক্ষায় ছিলো! আমার ঈমান মজবুত নয়_ তাই এত কথা বলছি। মা তোমার মেয়ে কথা রাখেনি। আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও ""মা!""

"মা" বুকে খুব যন্ত্রনা হচ্ছে! খুব অপরাধবোধ হচ্ছে! জোরে চেচিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে ""মা"" ""মা"" "ও "মা""।
আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিয় ""মা ""!

সেই পুরোনো বাড়িটার উঠোনে যখন বিকেলের রোদ এসে পড়ে, তখন স্মৃতিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। শিমু জানালার পাশে বসে বাইরের দিকে ত...
14/02/2026

সেই পুরোনো বাড়িটার উঠোনে যখন বিকেলের রোদ এসে পড়ে, তখন স্মৃতিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। শিমু জানালার পাশে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিল। তার মনে পড়ছে তার মায়ের কথা—সেই মহীয়সী মা, যিনি অল্প বয়সে বিধবা হয়েও পাহাড়সমান ধৈর্য আর পরিশ্রম দিয়ে আটজন সন্তানকে আগলে রেখেছিলেন।

​বাবা মারা যাওয়ার পর মা যেন একাই এক আস্ত পৃথিবী হয়ে উঠেছিলেন। অভাবের দিনে নিজের পাত থেকে খাবার তুলে সন্তানদের দিয়েছেন, ছেঁড়া আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছেছেন, কিন্তু কখনো কাউকে বুঝতে দেননি তাঁর ভেতরের হাহাকার।

শিমু আজ অনেক দূরে, স্বামীর চাকরির সুবাদে অন্য শহরে থাকতে হয়। কিন্তু তার মনটা সবসময় পড়ে থাকত সেই মায়ের কাছে।

​শিমু নিজ কষ্টে অর্জিত টাকা মাকে পাঠাত, খোঁজ নিত, যেন মায়ের কোনো অযত্ন না হয়। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুরতা ছিল অন্যখানে। যাদের মানুষ করতে মা নিজের যৌবন আর সুখ বিসর্জন দিয়েছেন, তারাই শেষ সময়ে এসে মাকে অবহেলা, অযত্ন, আর কষ্ট দিচ্ছিল।

স্ট্রোক করার পর মা যখন কথা বলার শক্তি হারালেন, অবহেলা তখন সীমা ছাড়িয়ে গেল।
​দেড় মাস আগে শিমু যখন বাড়িতে এসেছিল, তখন মা অনেকটা সুস্থ। শিমু নিজের হাতে মাকে খাইয়ে দিয়েছে, গোসল করিয়েছে, কপালে চুমু খেয়ে বলেছে, "মা, তুমি সুস্থ হয়ে ওঠো।" মায়ের চোখের কোণে তখন আনন্দাশ্রু ছিল।

শিমু ফেরার সময় মায়ের যে হাসিটুকু দেখে এসেছিল, কে জানত সেটাই ছিল শেষ দেখা?
​দুই মাস যেতে না যেতেই খবর এলো—মা আর নেই। ৭শ কিলো পথ পাড়ি দিয়ে গিয়ে দেখল, যে মা তাকে সাত রাজার ধন মনে করতেন, সেই মা আজ নিথর।

প্রতিবেশীদের কাছে যখন সে শুনল, প্যারালাইজড অবস্থায় মা ঠিকমতো খাবার পাননি, মায়ের সাথে খুবই খারাপ করা হয়েছে, অবহেলায় মা নিস্তব্ধ কেঁদেছেন—তখন শিমুর পৃথিবীটা ধসে পড়ছে। তার নিজের আপনজনদের প্রতি ঘৃণা আর ক্ষোভে বুক ফেটে যাচ্ছিল।

​শিমুর অবচেতন মন, রাগ, ক্ষোভ, কষ্টে অনেক কিছুই ভাবছে। পিতা মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী মারাত্মক অপরাধের আওতায় পড়ে.............!

​সেই রাতেই শিমু স্বপ্ন দেখল—~মা তার পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। মা যেন বলছেন, "মা রে, আমি এখন সব কষ্টের ঊর্ধ্বে। ওপারে আমি তোর বাবাকে পেয়েছি, এখন আমি শান্তিতে আছি। তুই নিজের মন পুড়িয়ে আমাকে আর কাঁদাস না।"

​শিমু ঘুম থেকে উঠে জানালার বাইরে তাকাল। সকালের স্নিগ্ধ আলো ফুটছে। সে বুঝল,যে যার কৃতকর্মের বিচার আজ হোক বা কাল, প্রকৃতির আদালতেই হবেই। মা যে মমতা তাকে দিয়ে গেছেন, সেই মমতাই এখন তার টিকে থাকার শক্তি।

​শিমু সিদ্ধান্ত নিল, সে মায়ের নামে যে টাকা পাঠাত, সেই টাকা দিয়ে সে কোনো এক এতিমখানায় খাবার পাঠাবে। মা হয়তো সেখানে নেই, কিন্তু অসংখ্য ক্ষুধার্ত শিশুর হাসিতে শিমু তার মায়ের সেই তৃপ্তির হাসিটুকু খুঁজে পাবে।

​অকৃতজ্ঞতা যারা দেখিয়েছে, তারা একদিন নিজের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে লজ্জিত হবে।শিমু সবসময় জানবে—সে তার মায়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছে, ভালোবেসেছে। আর সেই ভালোবাসাই শিমুর মায়ের শ্রেষ্ঠ জানাজা।

আজকের এই শনিবার চিরস্থায়ী এক বিষাক্ত শনিবার! ​শৈশবেই মাথার ওপর থেকে বাবার ছায়া সরে গিয়েছিল। তখন থেকেই আমার পৃথিবীটা ছিল ...
14/02/2026

আজকের এই শনিবার চিরস্থায়ী এক বিষাক্ত শনিবার!

​শৈশবেই মাথার ওপর থেকে বাবার ছায়া সরে গিয়েছিল। তখন থেকেই আমার পৃথিবীটা ছিল একজনকে ঘিরেই—আমার জননী, আমার মা। আজ সেই মা-ও নেই।

গত শনিবার থেকে আমার জগতটা একদম নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। আজ আবার সেই শনিবার ফিরে এসেছে, কিন্তু আমার সেই নির্ভরতার জায়গাটি আর নেই। এই শনিবারগুলো এখন থেকে আমার কাছে বড় বিষাক্ত ঠেকবে।

​মা যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিলেন, "ফেরদৌসী, আমি মারা গেলে তুই জোরে জোরে কাঁদিস না।" মায়ের সেই শেষ অনুরোধ রাখতে গিয়ে আমি উচ্চস্বরে কাঁদতে পারছি না, কিন্তু আমার ভেতরটা যেন ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। যন্ত্রণার পাহাড় চেপে রেখে নীরবে চোখ মোছা যে কতটা কষ্টের, তা আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।

​মা শুধু আমার মা ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার দুই সন্তান—রাজিত ও রাফিনের ছায়া। ওদের তিনি নিজের হাতে লালন-পালন করেছেন। আমি আজ বড় একা হয়ে গেলাম। কার কাছে গিয়ে একটু আবদার করব? কে আমার জন্য গভীর রাতে জায়নামাজে বসে দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করবে? মা না থাকলে সন্তানের জন্য এই ভুবনে আর কেউই নিঃস্বার্থভাবে দোয়ার হাত তোলে না।

​অনেক দূরে থাকলেও মায়ের কণ্ঠ শুনলে মনটা হালকা হয়ে যেত। আজ সেই ফোনের ওপাশ থেকে আর কেউ ব্যাকুল হয়ে জানতে চাইবে না— "ফেরদৌসী, কেমন আছিস?"

​মা, তোমার কথা রাখতে আমি চিৎকার করছি না ঠিকই, কিন্তু তোমার অভাব প্রতিটা নিঃশ্বাসে অনুভব করছি। রাজিত আর রাফিনের মাঝে আমি আজ তোমাকে খুঁজি। আল্লাহ যেন আমার মাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ স্থান দান করেন এবং আমাকে এই কঠিন শোক সইবার শক্তি দান করেন।

28/01/2026
আজ নাকি বিশ্ব বাঁশ দিবস!হায় রে বাঁশ দিবস! কেউ বাঁশ দেয় প্রেমে, কেউ বাঁশ দেয় বিয়েতে, আবার কেউ বাঁশ দেয় রাজনীতির ময়দানে...
19/09/2025

আজ নাকি বিশ্ব বাঁশ দিবস!

হায় রে বাঁশ দিবস! কেউ বাঁশ দেয় প্রেমে, কেউ বাঁশ দেয় বিয়েতে, আবার কেউ বাঁশ দেয় রাজনীতির ময়দানে!

বাড়ছে শুধু বাঁশের প্রভাব
বাঁশঝাড়েরও আবার অভাব!

তাই ভাবছি-“বাঁশ” যদি কারেন্সি হতো, তাহলে আমরা সবাই বিলিওনিয়ার হইতাম!

আর বেশি কিছু বললাম না, কারণ বাঁশ দেওয়ার জন্য আবার সব সময়ই কিছু লোক প্রস্তুত থাকে 😥

সবাইকে বাঁশ দিবসের শুভেচ্ছা রইলো 😁🌺

16/09/2025
রূপা ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখত-বিয়ে মানেই হবে শান্তির ঘর, ভালোবাসার মানুষ, আর একে অপরকে সম্মান করে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু ...
16/09/2025

রূপা ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখত-বিয়ে মানেই হবে শান্তির ঘর, ভালোবাসার মানুষ, আর একে অপরকে সম্মান করে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু বাস্তবে সে যে বিয়েটা করেছিল, তা ছিল একেবারেই উল্টো।

স্বামী সবসময় রেগে থাকত, সামান্য বিষয়ে অপমান করত, পরিবারের কাছে রূপাকে সামান্য বিষয় নিয়ে ছোট করত। ভালোবাসার নামে ছিল শুধু শীতলতা, যত্নের জায়গায় ছিল কেবল অবহেলা আর অবহেলা।

রূপা অনেক চেষ্টা করেছিল সব ঠিক করার জন্য। ভেবেছিল ধৈর্য আর সহনশীলতা হয়তো একদিন তার স্বামীকে বদলে দেবে। কিন্তু দিন গড়াতে গড়াতে বুঝতে পারল-ভুল মানুষকে বিয়ে করা মানে নিজের জীবনকে প্রতিদিন আগুনে পোড়ানো।

বন্ধুদের কাছে কাঁদতে কাঁদতে সে একদিন বলল, “দুনিয়াতে জাহান্নামের স্বাদ যদি কেউ জানতে চায়, তবে সে যেন ভুল মানুষকে বিয়ে করে।”

তারপর ধীরে ধীরে রূপা শিখলো- পরিবার বা সমাজের চাপে কাউকে বিয়ে করার আগে না চিনে-বুঝে নয়, নিজের মানসিক শান্তি আর মর্যাদার কথা আগে ভাবতে হয় ৷

কারণ সঠিক মানুষ পাশে থাকলে জীবন স্বর্গ হয়ে ওঠে, আর ভুল মানুষ হলে দুনিয়াই জাহান্নাম।

Address

Rangpur
5441

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jannat's Little Diary posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Jannat's Little Diary:

Share