21/08/2026
আমি জিৎ ফ্যান। কিন্তু অন্ধ ভক্ত না। জিৎ এর লাস্ট মুভি আমি কবে হল এ গিয়ে দেখেছি মনে নেই। তার কারন ভালো কিছু পাইনি। জিৎ এর লাস্ট Khaake the bengal chapter দেখেছি বাড়িতে বসে, কিযে অসাধারন ছিলো বলার মতন নয়।
কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত - কিন্তু অনন্ত সিংহকে নতুন করে জানার জন্য এই সিনেমাটা দেখার একটা আলাদা কারণ আছে। আর একজন জিৎ ভক্ত হিসেবে আমার কাছে এই সিনেমাটা দেখার আরও একটা বড় কারণ ছিল মনে হয়েছে, হয়তো এটাই জিৎ-এর আবারও নতুন করে কামব্যাকের শুরু।
সত্যি বলতে, সিনেমার প্রথম ২০–২৫ মিনিট আমার খুব একটা ভালো লাগেনি। কিছু কিছু বিষয় এমনভাবে দেখানো হয়েছে, যেগুলো আমার কাছে বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি। তাই শুরুটা নিয়ে একটু হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু ওই ২০–২৫ মিনিটের পর থেকেই সিনেমাটা ধীরে ধীরে ভালো লাগতে শুরু করে, আর হাফ টাইমের পর সেই ভালো লাগাটা অনেকটাই বেড়ে যায়।
বিশেষ করে সেকেন্ড হাফ আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। তখন সত্যিই মনে হয়েছে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির জন্য এই ধরনের সিনেমা ভীষণ দরকার। আমাদের আরও বেশি করে এমন ছবি তৈরি করা উচিত, যেখানে ইতিহাস, দেশ, বিপ্লব এবং আমাদের বীর মানুষদের গল্প নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে।
আমরা অনেকেই চাইছিলাম জিৎ আবার নিজের পুরনো জায়গায় ফিরে আসুক। এত বড় একজন সুপারস্টার এবং এত ভালো অভিনেতা হওয়া সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে আমরা জিৎকে সেভাবে দেখতে পাইনি। তার অন্যতম কারণ ছিল, হয়তো ভালো গল্পের অভাব। তাই এই সিনেমাটাকে আমি জিৎ-এর জন্য একটা নতুন শুরুর জায়গা হিসেবে দেখতে চাই। আমি চাই, ভবিষ্যতে জিৎ আরও অনেক ভালো গল্প এবং শক্তিশালী চরিত্রে কাজ করুক।
তবে একটা বিষয় আমার সত্যিই খারাপ লেগেছে সিনেমাটার মার্কেটিং। সেটা পরিচালক বা প্রযোজনা সংস্থার দিক থেকে হোক, কিংবা জিৎ-এর দিক থেকে—মার্কেটিং আরও অনেক বেশি হওয়া দরকার ছিল। একটা ভালো সিনেমা তৈরি করার পাশাপাশি সেটাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের দিনে অনেক মানুষ শুধুমাত্র প্রচার-প্রচারণা দেখেই সিনেমা দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে জিৎ-এর সিনেমার ক্ষেত্রে এই দিকটা বরাবরই একটু কম দেখা যায়। আমার মনে হয়, সিনেমা তৈরির বাজেটের একটা অংশ ভালোভাবে মার্কেটিংয়ের জন্য রাখা উচিত। কারণ সিনেমা যত ভালোই হোক, মানুষের কাছে যদি সেটার খবরই না পৌঁছায়, তাহলে সেই ভালো কাজটা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। তাই ভবিষ্যতে এই ধরনের ভালো সিনেমার আরও বেশি প্রচার হওয়া দরকার।
আর এই সিনেমাগুলো শুধুমাত্র আজকের দর্শকদের জন্য নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা খুব দ্রুত অনেক কিছু ভুলে যাই। আমাদের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের অনেকেই খুব কম জানে। তাই অনন্ত সিংহ, মাস্টারদা সূর্য সেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে আরও বেশি সিনেমা তৈরি হওয়া উচিত। যাতে আজকের ছোটরা তাঁদের গল্প জানতে পারে এবং আগামী প্রজন্মের কাছেও সেই ইতিহাস পৌঁছে দিতে পারে।অভিনয়ের কথা বলতে গেলে, জিৎকে এই চরিত্রে আমার বেশ ভালো লেগেছে। আর টোটা রায়চৌধুরীর কথা আলাদা করে বলতেই হয় এই সিনেমায় তাঁকে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। বাকি অভিনেতারাও নিজেদের জায়গা থেকে ভালো কাজ করেছেন।
তবে জিৎ-এর মেকআপ নিয়ে আমার একটু খটকা রয়েছে। বিশেষ করে কিছু জায়গায় মেকআপটা আরও ভালো করা যেত বলে মনে হয়েছে। জিৎ যেহেতু অ্যাকশন এবং শক্তিশালী চরিত্রে বরাবরই ভালো, তাই এই ধরনের চরিত্রে তাঁকে আরও অনেক বেশি দেখতে চাই।
হয়তো সিনেমার প্রথম ২০–২৫ মিনিট অনেকের কাছে একটু ধীর বা অন্যরকম লাগতে পারে। আমারও লেগেছে। কিন্তু সেকেন্ড হাফে সিনেমাটা যেভাবে গতি পায় এবং যেভাবে গল্পটা এগোয়, সেটা সত্যিই উপভোগ করার মতো। ইতিহাস জানতে আগ্রহী হলে এই সিনেমাটা অবশ্যই দেখা উচিত।
আর একটা কথা—আশেপাশে অনেক ধরনের রিভিউ শুনবেন। কেউ ভালো বলবে, কেউ খারাপ বলবে। কিন্তু অন্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে নিজে হলে গিয়ে সিনেমাটা দেখুন। আমি সবসময় সিনেমা দেখে যেটা ভালো লাগে, সেটা ভালো বলি,যেটা খারাপ লাগে, সেটাও বলি। তাই শুরুটা আমার ভালো না লাগার কথাটাও বললাম। কিন্তু পুরো সিনেমা বিচার করলে, বিশেষ করে সেকেন্ড হাফের কথা বললে, আমার কাছে এটা সত্যিই খুব ভালো লেগেছে। সবচেয়ে বড় কথা, আমি চাই এই সিনেমাটা জিৎ-এর জন্য একটা নতুন শুরুর কারণ হয়ে উঠুক। এটা যেন আবার হারিয়ে না যায়। জিৎ আরও ভালো গল্প পাক, আরও শক্তিশালী চরিত্রে কাজ করুক এবং বাংলায় এই ধরনের আরও অনেক সিনেমা তৈরি হোক,একজন জিৎ ভক্ত হিসেবে এটাই আমার কামনা।
তাই সবাইকে বলব হলে যান, সিনেমাটা দেখুন। পরিবারকে নিয়ে দেখুন, বাচ্চাদের নিয়ে দেখুন, বয়স্কদের নিয়ে দেখুন। স্পয়লার না জেনে নিজের চোখে সিনেমাটা দেখুন এবং অনন্ত সিংহকে নতুন করে জানুন।
এটা শুধু একটা সিনেমা নয় আমাদের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও একটা সুযোগ। আর আমার কাছে, এটা হয়তো জিৎ-এর কামব্যাকেরও একটা নতুন অধ্যায়। ❤️
Review : Rituparna Dey ✅