19/09/2015
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস নগরের মুসলিম কিশোর আহমেদ মোহাম্মেদ (১৪) একটি অন্য রকম ঘড়ি বানিয়েছিল । আর সেই ঘড়িটি স্কুলের শিক্ষককে দেখাতে গিয়েই বাধল বিপত্তি।স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক বোমা মনে করে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ডাকলেন। কড়া পাহারায় আহমেদকে নেওয়া হলো থানায়। তদন্ত করে শেষ পর্যন্ত গোলমেলে কিছুই মিলল না।পরে মোহাম্মেদকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সংবাদমাধ্যমের সুবাদে এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ওঠে ঝড়।
এক সংবাদ সম্মেলনে মুসলিম কিশোর আহমেদ মোহাম্মদ ঘড়িটি সম্পর্কে জানান,গত ‘রবিবার ঘুমাতে যাওয়ার আগে প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে একটি সার্কিট বোর্ড, পাওয়ার সাপ্লাই এবং একটি ডিজিটাল ডিসপ্লে দিয়ে ডিজিটাল ঘড়িটা তৈরি করি। ‘ মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘আমি এক শিক্ষককে দেখানোর জন্য আমার ঘড়িটি নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে পুলিশ আসে এবং আমাকে আটক করে। ওরা আমাকে বলেছিল যে, আমি নাকি একটি নকল বোমা বানানোর অপরাধ করেছি।’
গত বুধবার সকালে ডালাসের পুলিশ বিভাগ সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, আহমেদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে না। কারণ তদন্ত করে সুদানি বংশোদ্ভূত আহমেদের বিরুদ্ধে কিছুই পাওয়া যায়নি।
কিন্তু ইতিমধ্যে স্কুল থেকে তিন দিনের জন্য বহিষ্কার করা হয় আহমেদকে। তার নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়ায় তাই দেশজুড়ে ওঠে সমালোচনার ঝড়। অনেকে অভিযোগ করেন—মুসলিম বলেই এমন আচরণের শিকার হতে হয়েছে আহমেদকে। এ নিয়ে সরগরম হয়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটার।
আহমেদের কাহিনি নজর কেড়েছে হোয়াইট হাউসেরও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা টুইটারে বার্তা পাঠিয়েছেন। এতে আহমেদের তৈরি ঘড়ির প্রশংসা করে তাকে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান ওবামা। ১৯ অক্টোবর মহাকাশবিজ্ঞানীদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে তাকে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়। সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটনও টুইট বার্তায় সহানুভূতি জানান আহমেদকে। বাদ যাননি ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গও। তিনিও তাঁর সদর দপ্তরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আহমেদকে।
বুধবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছে আহমেদ। জোরালো গলায় সে বলেছে, নাম ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হেনস্তা হলেও দমে যাবে না সে। যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্ব থেকে অনেক মানুষ সমর্থন করায় সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সে। শিগগিরই স্কুল বদলাবে আহমেদ। তার ইচ্ছা বিজ্ঞানপ্রযুক্তির বিখ্যাত শিক্ষায়তন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) পড়া।