Satirtho Prokashona

Satirtho Prokashona বন্ধুত্ব হোক বইয়ের সাথে...
(3)

২০২১ সালে আমার অনুবাদে সতীর্থ প্রকাশনা থেকে বের হয়েছিল অ্যালজারনন ব্ল্যাকউডের আরেক বিখ্যাত হরর উপন্যাসিকা–দ্য উইলোস। অনু...
06/08/2026

২০২১ সালে আমার অনুবাদে সতীর্থ প্রকাশনা থেকে বের হয়েছিল অ্যালজারনন ব্ল্যাকউডের আরেক বিখ্যাত হরর উপন্যাসিকা–দ্য উইলোস। অনুবাদটি বেশ পাঠকপ্রিয়তা পাওয়ার পর তাহমিদ আমাকে ওই বছরই ব্ল্যাকউডের আরেক বিখ্যাত উপন্যাসিকা ‘দ্য ওয়েন্ডিগো’ অনুবাদ করে দিতে বলে। কিন্তু নানান চাকরির পরীক্ষা এবং ব্যক্তিগত জীবনের কিছু ঝামেলার কারণে সেই বছর আর কাজটি করা হয়নি। অবশেষে পাঁচ বছর পর কাজটি করা হলো। উপন্যাসিকাটি পড়ার আগে পাঠকদের এটির সম্পর্কে কিছু জানা প্রয়োজন। প্রথমেই প্রশ্ন আসে ‘ওয়েন্ডিগো’ কী?
হলিউড বা পশ্চিমা নানান টিভি সিরিজ অনুসারে ওয়েন্ডিগো হলো সাত-দশ ফুট লম্বা হাড়-জিরজিরে এক প্রকার দানব, যার মাথায় জায়গায় একটি মুজ হরিণের শিংওয়ালা খুলি বসান। কিন্তু আসলেই কি কিংবদন্তির ওয়েন্ডিগো দেখতে এমন ছিল? কোথা থেকে এসেছে এই কিংবদন্তি?
উত্তর আমেরিকার আদিবাসী লোককাহিনির জগতে ওয়েন্ডিগো এমন এক আতঙ্কের নাম, যা শুধু কোনো দানব বা ভূত নয়, বরং মানুষের ভিতরের অন্ধকার প্রবৃত্তির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। বরফে ঢাকা অরণ্য, দীর্ঘ শীতকাল, খাদ্যসংকট এবং বিচ্ছিন্ন জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই এই কিংবদন্তির জন্ম হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ওয়েন্ডিগোকে সাধারণত এক ভয়ংকর, অমানবিক সত্তা হিসেবে কল্পনা করা হয়। অস্বাভাবিক রকমের লম্বা, হাড়-জিরজিরে, মৃতদেহের মতো ফ্যাকাশে, ঠোঁটহীন মুখ, গভীর কোটরে বসা চোখ এই প্রাণীর... সেই সাথে রয়েছে অন্তহীন খিদে! দেখতে অনেকটা মানুষের মতোই সে, তার সাথে মুজ হরিণের কোনো মিল নেই। আদিবাসীরা বলে, কেউ যদি চরম দুর্ভিক্ষে মানুষের মাংস খায় কিংবা লোভ ও হিংস্রতার কাছে সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে, তবে তার আত্মা বিকৃত হয়ে ওয়েন্ডিগোতে রূপ নিতে পারে। তাই ওয়েন্ডিগো ছিল একই সঙ্গে অতিপ্রাকৃত আতঙ্ক এবং নৈতিক সতর্কবার্তা।
এই কিংবদন্তিটি প্রধানত উত্তর আমেরিকার অ্যালগনকুইয়ান ভাষাভাষী বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো ওজিবওয়ে, ক্রি, অ্যালগনকুইন, সোলটো, ইন্নু, নাস্কাপি এবং মিকম্যাক জনগোষ্ঠী। বিভিন্ন অঞ্চলে ওয়েন্ডিগোর বর্ণনায় কিছুটা পার্থক্য থাকলেও মূল ধারণা প্রায় একই ছিল। এটি এমন এক সত্তা, যার ক্ষুধা সীমাহীন এবং যা মানুষের মানবিকতা ধ্বংস করে দেয়। কোথাও তাকে বনভূমির অপদেবতা বলা হয়েছে, আবার কোথাও এক অভিশপ্ত মানুষের আত্মা হিসেবে দেখা হয়েছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এই আদিবাসীরা ‘ওয়েন্ডিগো’কে উচ্চারণ করতো এভাবে–উইন্ডিগো। পরবর্তীতে শ্বেতাঙ্গরা ওয়েন্ডিগো উচ্চারণ শুরু করে।
অনেক গবেষক মনে করেন, ওয়েন্ডিগোর কাহিনি আদতে সামাজিক ও মানসিক শিক্ষার অংশ ছিল। ভয়ংকর শীতের সময় যখন খাদ্যের অভাব দেখা দিত, তখন নরখাদকতার সম্ভাবনা রোধ করার জন্যই এই কিংবদন্তির জন্ম দেওয়া হয়। এমনকি ‘ওয়েন্ডিগো সাইকোসিস’ নামের এক ধরনের মানসিক অবস্থার কথাও নৃতত্ত্ববিদরা উল্লেখ করেছেন, যেখানে কেউ অকারণে বিশ্বাস করতে শুরু করত যে সে মানুষ খেতে চায় বা ধীরে ধীরে ওয়েন্ডিগো হয়ে যাচ্ছে। যদিও আধুনিক মনোবিজ্ঞানে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আছে।
একটা সময়ে আমেরিকায় আসে ইউরোপীয়রা। ওয়েন্ডিগোর সাথে তারা মিল খুঁজে পেল ‘ওয়্যারউলফ’ বা ‘মায়ানেকড়ে’র।
১৮৯৭ সালে ওয়েন্ডিগো কিংবদন্তিটি কানাডার আদালত পর্যন্ত চলে যায়। সেই বছর সর্বপ্রথম একজন আদিবাসী সর্দার ওয়েন্ডিগো সন্দেহে নিজের গোত্রের একজন লোককে গুলি করে হত্যা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে সেই সর্দার জানায়, তাদের গোত্রের আইন অনুযায়ী ওয়েন্ডিগোকে মেরে ফেলা কোনো অপরাধ নয়। লোকটির পাঁচ বছরের জেল হয়েছিল। ১৯০০-১৯২০ সালের মধ্যে আরো প্রায় দুইশো আদিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয় ওয়েন্ডিগো সন্দেহে নিজেদের গোত্রের লোককে হত্যার দায়ে। অবশেষে আইন করে ওয়েন্ডিগো সন্দেহে কাউকে হত্যা করা বন্ধ করা হয়!
অদ্ভুত না?
কিন্তু আদিবাসীরা তো ওয়েন্ডিগোকে সেভাবে কল্পনা করেনি যেমনটা আজকের দিনে হলিউড আমাদের দেখায়। তাই না? এটা কীভাবে হলো?
ওয়েন্ডিগোকে নিয়ে অনেক উপন্যাস, উপন্যাসিকা, গল্প লেখা হয়েছে। তবে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো অ্যালজারনন ব্ল্যাকউডের এই উপন্যাসিকাটি। ১৯১০ সালে প্রকাশিত হওয়া বইটি এখনো বেশ জনপ্রিয়। ‘ফিয়ার অব দি আননোন’ বা ‘অজানার ভয়’ এই ব্যাপারটিকে তুলে ধরাই ছিল লেখকের প্রধান উদ্দেশ্য। এই কাহিনির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে অ্যালভিন শোয়ার্জ একটি ছোটোগল্প লেখেন এবং সেই ছোটো গল্পটি অবলম্বনে ২০০১ সালে পরিচালক ল্যারি ফেসেনডেন ‘ওয়েন্ডিগো’ নামের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে। এখানেই প্রথমবারের মতো ওয়েন্ডিগোকে মুজ হরিণের মাথাওয়ালা এক দানব হিসাবে দেখান হয়... যা পরবর্তীতে বিখ্যাত হয়ে যায়।
যাই হোক, পাঠকেরা ওয়েন্ডিগোকে যেভাবেই কল্পনা করুন না কেন, এই বইটি পড়তে তাদের কোনো অসুবিধা হবে না। কেন?
সেটা বইটি শেষ করার পরেই বুঝবেন।
এইচ. পি. লাভক্র্যাফটের খুব প্রিয় লেখক ছিলেন অ্যালজারনন ব্ল্যাকউড। ‘দ্য উইলোস’র মতো এই বইটিও লাভক্র্যাফটের খুব প্রিয় ছিল।
লাভক্র্যাফট তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘সুপারন্যাচারাল হরর ইন লিটারেচার’-এ কাহিনিটির প্রশংসা করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন,

“ব্ল্যাকউড সাধারণ প্রকৃতির মধ্যেই এমন এক অজানা ও অতিপ্রাকৃত ভয় সৃষ্টি করতে পারেন, যা খুব কম লেখকের পক্ষেই সম্ভব।”

এছাড়া আরেকটি প্রবন্ধে তিনি লেখেন,
“সম্ভবত অদ্ভুত ও ভৌতিক পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে আধুনিক সাহিত্যে এর চেয়ে শক্তিশালী গল্প খুব কমই আছে।”

এক সাংবাদিক বন্ধুকে একবার তিনি এই কাহিনিটির ব্যাপারে বলেন,
“এই গল্পে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে দৃশ্যমান দানবের মাধ্যমে নয়, বরং সেই অদৃশ্য ও অজানা শক্তির অনুভূতির ফলে, যা মানুষের চারপাশের বন্য প্রকৃতিকে অমানবিক ও ভীতিকর করে তোলে।”
একটি ম্যাগাজিনেও তিনি লিখেছিলেন,
“দ্য ওয়েন্ডিগো এমন এক গল্প যেখানে অরণ্যের নিঃসঙ্গতা নিজেই যেন জীবন্ত আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।”

যাদের ‘দ্য উইলোস’ ভালো লেগেছিল তাদের এই বইটিও ভালো লাগবে। লাভক্র্যাফটিয়ান হররের যারা ভক্ত তাদের জন্যই মূলত বইটি। যারা ট্রাডিশনাল বা গথিক ধাঁচের হরর পড়ে অভ্যস্ত তাদেরকে এই কাহিনিটি তেমন একটা টানবে না।
অ্যালজারনন ব্ল্যাকউডের গল্প বলার ভঙ্গি বেশ গম্ভীর এবং একটু আলাদা ধাঁচের। আমি চেষ্টা করেছি বইটি বাংলায় যতটা সম্ভব সহজভাবে পাঠকদের সামনে তুলে ধরার।
এই বইতে ‘ইন্ডিয়ান’ বলতে মূলত রেড ইন্ডিয়ানদের বুঝিয়েছেন লেখক, ভারতীয়দের বোঝাননি।
সবাইকে ধন্যবাদ। বিশেষ ধন্যবাদ সতীর্থের প্রকাশক এবং এলাকার ছোটো ভাই তাহমিদকে।

– লুৎফুল কায়সার।

কফিশপের একটা বিশেষ সংস্করণ এই প্রচ্ছদে এনে ফেলব নাকি? ;)এইটা যদিও এমনিই মজা করে বানানো! তবে মনে হলো আপনাদের মতামত নেই......
05/08/2026

কফিশপের একটা বিশেষ সংস্করণ এই প্রচ্ছদে এনে ফেলব নাকি? ;)
এইটা যদিও এমনিই মজা করে বানানো! তবে মনে হলো আপনাদের মতামত নেই... 🥹

বর্তমান চলমান মুদ্রণের প্রচ্ছদের ছবি কমেন্টে...

আমাদের আপকামিং চারটি বই হচ্ছে...১. ওয়েন্ডিগো - মূল: অ্যালজারনন ব্ল্যাকউড; অনুবাদ: লুৎফুল কায়সার২. রঘু ডাকাত - পাঁচকড়ি দে...
03/08/2026

আমাদের আপকামিং চারটি বই হচ্ছে...
১. ওয়েন্ডিগো - মূল: অ্যালজারনন ব্ল্যাকউড; অনুবাদ: লুৎফুল কায়সার
২. রঘু ডাকাত - পাঁচকড়ি দে
৩. চিরায়ত উপন্যাস - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (বইয়ের নাম গোপন থাক; রেয়ার বই ;) )
৪. চিরায়ত থ্রিলার উপন্যাস সমগ্র - লেখকের নাম গোপন থাক;

২, ৩ ও ৪ ভিন্টেজ সংস্করণে আসবে।
এই সংস্করণের নাম হবে সতীর্থ-ভিন্টেজ সংস্করণ।

রঘু ডাকাত অনেক আগের অ্যানাউন্স করা, তাই নামটা বলেই দিলাম।
আর বাকি দুইটা চিরায়ত বইয়ের ব্যাপারে অল্প করে বলি!

শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়-এর যে উপন্যাসটি আনতে চলেছি, সেইটা বেশ রেয়ার। বিভূতিভূষণের নিশিপদ্ম যে ধরণের রেয়ার ছিল, অমন না। লেখকের বিভিন্ন সমগ্র এই উপন্যাসটি রয়েছে। তবে একক বই আকারে বাজারে নেই বললেই চলে।

আর সর্বশেষ!
থ্রিলার উপন্যাস সমগ্র যেইটা, এইটাতে কয়েকটি থ্রিলার উপন্যাস থাকবে এবং আক্ষরিক অর্থে প্রত্যেকটি উপন্যাসই থ্রিলার উপন্যাস। খুবই ইউনিক কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত প্রত্যেকটা উপন্যাস। প্রায় ৮০-৯০ বছর আগে লেখা উপন্যাসগুলো আজকের যুগে পড়তে বসেও বেশ খানিকটা চমকে উঠতে হয়। যার মূল কারণ লেখকের লেখনশৈলী তো অবশ্যই, সাথে উপন্যাসের টুইস্ট ও ঘটনাসমূহ! আপাতত সার্বিকভাবে 'চিরায়ত থ্রিলার উপন্যাস সমগ্র' হিসেবে বললেও পাঠক এখানে একেক উপন্যাসে থ্রিলারের একেক জনরার স্বাদ পাবেন।
__________________
এখন একটা বিশেষ প্রসঙ্গ, কেন চিরায়ত বইয়ের নাম বা লেখকের নাম ঘোষণাতে এত ঢাক গুড়গুড়!
কারণ বেশ সময় নিয়ে বাছাই করে সম্পাদনা ও নতুন আঙ্গিকে এই বইগুলো প্রকাশ করতে যাচ্ছি। তাই কাজ শেষ হওয়া অব্দি একটু সারপ্রাইজ রাখার উদ্দেশ্যেই এমন! আর এছাড়াও আরও কিছু কারণ তো রয়েছেই... যা পাঠক হিসেবে আপনারা বেশ ভালোই জানেন... ;)

**ছবি: ওয়েন্ডিগোর ফাইনাল প্রচ্ছদ ও রঘু ডাকাতের চূড়ান্ত সামান্য প্রচ্ছদে কিছু পরিবর্তন হবে।

01/08/2026

সরকার বিদ্যুৎ বিলে ইউনিট প্রতি রেট বাড়িয়েছে! সাথে শুরু হয়েছে অতিরিক্ত বিল দেওয়া! মানুষের প্রতিদিন পোস্ট আসছে সামনে!

এখন এর প্রভাব সব সেক্টরের পড়বে এবং পড়তে অলরেডি শুরু করেছে।
যেমন, আজকে প্রেস থেকে জানালো শিঘ্রই ছাপার রেট বাড়বে। সম্ভবত নেক্সট যে কাজ করব সেইটাতেই রেট বাড়বে। কারণ ছাপার মেশিন বিদ্যুৎ ছাড়া চলে না। যার প্রভাব বইয়ের দামেও ভালো পরিমাণেই পড়বে।

এখন বইয়ের দাম কি বাড়াবো? ছাড় কি কমাবো?
বা চাইলেই কি পারব এইটা করতে?

01/08/2026

তিনটা/চারটা বইয়ের প্রি-অর্ডার কি ছেড়ে দিবো? 🥹

31/07/2026

আপকামিং তিনটা বইয়ের ব্যাপারে হালকা ধারণা দিবো? ;)🥹

১.বলটা জালে জড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে গুমোট নিস্তব্ধতা নেমে এলো দর্শকদের মাঝে, সেই সঙ্গে যেন থমকে গেলেন ইস্পাত-কঠিন মনোব...
29/07/2026

১.

বলটা জালে জড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে গুমোট নিস্তব্ধতা নেমে এলো দর্শকদের মাঝে, সেই সঙ্গে যেন থমকে গেলেন ইস্পাত-কঠিন মনোবলের শিবদাস ভাদুড়ীও।

গ্যালারিতে বসে রুমাল নেড়ে উল্লাস শুরু করেছেন ইংরেজ মেমসাহেবরা। আকাশে উড়ছে কালো ঘুড়ি। ম্রিয়মাণ আশি হাজার বাঙালির দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠেছে কলকাতার বাতাস।

খেলার তখন আর মাত্র মিনিট দশেক মতো বাকি। সময়ের কাঁটা নিষ্ঠুরভাবে এগিয়ে চলেছে তার চূড়ান্ত গন্তব্যের দিকে। সেন্টার সার্কেলের দিকে এগোতে এগোতে শিবদাস ভাবলেন, তবে কি এবারও হলো না? আইএফএ শিল্ড শুরু হওয়ার পরে, গত আঠারো বছর ধরে কোনো ভারতীয় দল এই শিল্ড ছুঁতে পারেনি। এতটা পথ পেরিয়ে এসে, গোটা একটা জাতির স্বপ্ন কাঁধে নিয়ে, আবারও কি তবে হার নিয়েই ফিরতে হবে?

কিন্তু শিবদাস ভাদুড়ী মাথা নোয়ানোর মানুষ নন। তাই পরের দশ মিনিটে যা ঘটলো, তা বদলে দিলো গোটা এক জাতির ইতিহাস। আর ইতিহাস ওই এগারোজনকে মনে রাখবে একটাই নামেঃ অমর একাদশ।

২.

এই ম্যাচের গুরুত্ব বুঝতে হলে তখনকার বাঙালিকে ইংরেজরা ঠিক কোন চোখে দেখতো, তা বোঝাটা খুব জরুরী।

ঔপনিবেশিক শাসকদের একটা প্রিয় তত্ত্ব ছিল, যাকে বলা যায় ‘মেয়েলি বাঙালি’ তত্ত্ব। সরকারি ফাইলে, ইংরেজি পত্রিকায়, এমনকি পাঠ্যবইয়েও লেখা হতো যে বাঙালি জাতটা শারীরিকভাবে দুর্বল, ভীরু, যুদ্ধের অযোগ্য। শুধু কেরানিগিরির জন্যই তারা উপযুক্ত।
এই তত্ত্বটা নিছক অপমান ছিল না, ছিল শাসনের হাতিয়ার। যে জাতকে শারীরিকভাবে অক্ষম প্রমাণ করা যায়, তাকে রাজনৈতিকভাবে অযোগ্য প্রমাণ করাও সহজ।
আর ঠিক এই কারণেই খেলাধুলা তখন বাঙালির কাছে নিছক বিনোদন ছিল না। সেই সময় ভারতের রাজধানী ছিল কলকাতা। ব্রিটিশদের দম্ভ আর বাঙালির অবদমিত ক্ষোভের মধ্যে ফুটবল ছিল একমাত্র জায়গা, যেখানে সাহেবদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করা যেত। ১৯১১ সালের আগে কোনো ভারতীয় দল আইএফএ শিল্ড জেতার কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। শিল্ড জেতা তো দূরের কথা, সাদা চামড়ার দলগুলোর বিরুদ্ধে পাল্লা দেওয়াই ছিল তখন আকাশকুসুম কল্পনা।

তার ওপর সময়টা ছিল বিশেষ। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন বাংলাকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছেন। গোটা বাংলা তখন ফুঁসছে। স্বদেশি আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে ঘরে ঘরে, বিলিতি পণ্য বর্জনের ডাক উঠেছে, আর একদল তরুণ বেছে নিয়েছে সশস্ত্র বিপ্লবের পথ।
এমন এক উত্তপ্ত সময়ে খেলার মাঠে সাহেবদের হারানো মানে কী, তা আলাদা করে বলে দিতে হয় না।

৩.

১৮৮৯ সালের ১৫ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয় মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব। কলকাতার তিনটি অভিজাত পরিবার; মিত্র, সেন আর বসু মিলে গড়ে তোলেন এই ক্লাব। মজার ব্যাপার হলো, ঠিক আটান্ন বছর পর এই একই তারিখে ভারত স্বাধীন হবে এবং তিন টুকরো হয়ে যাবে।
তৎকালীন ভারতবর্ষের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল প্রতিযোগিতা আইএফএ শিল্ড চালু হয় ১৮৯৩ সাল থেকে। ভারতীয় দলগুলো এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারতো বটে, কিন্তু আঠারো বছরে একটিবারের জন্যও কোনো দেশীয় দল শিরোপা জেতেনি। জেতার কথাও নয়। সাহেবদের রেজিমেন্ট দলগুলোর পেছনে ছিল সেনাবাহিনীর পুরো পরিকাঠামো, নিয়মিত অনুশীলন, উন্নত সরঞ্জাম আর ইউরোপীয় প্রশিক্ষণ। আর ভারতীয় ক্লাবগুলোর ছিল কেবল ইচ্ছাশক্তি।

এমনকি কলকাতা ফুটবল লিগেও তখন দেশীয় দলের প্রবেশাধিকার ছিল না। অর্থাৎ, মোহনবাগানের ফুটবলাররা নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলই খেলতে পারতেন না।
১৯১১ সালের দলটির পেছনে ছিলেন ক্লাব সেক্রেটারি শৈলেন বসু, যিনি নিজে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর সুবেদার ছিলেন। দলগঠন আর কৌশলে তিনি এনেছিলেন বেশ কিছু পরিবর্তন।
মোহনবাগানের এই দলে ছিলেনঃ হীরালাল মুখার্জী, ভূতি সুকল, সুধীর চ্যাটার্জি, নীলমাধব ভট্টাচার্য, রাজেন সেনগুপ্ত, মনমোহন মুখার্জি, কানু রায়, হাবুল সরকার, বিজয়দাস ভাদুড়ী, শিবদাস ভাদুড়ী এবং অভিলাষ ঘোষ। ব্রিটিশদের শক্ত, শারীরিক ফুটবলের বিপরীতে তারা খেলতেন ছোট ছোট পাসে, গতির সাথে কৌশলের মিশেলে। একের পর এক ব্রিটিশ দলকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর গোটা ভারত যেন এক অদৃশ্য সুতোয় গেঁথে গিয়েছিল। মুসলিম, হিন্দু, শিখ; সব ভেদাভেদ সেদিন গলে জল হয়ে গিয়েছিলো মোহনবাগানের সবুজ-মেরুন রঙের ছোঁয়ায়।

৪.

১৯১১ সালের আইএফএ শিল্ডে মোহনবাগানের যাত্রাটা শুরু থেকেই ছিল নাটকীয়।
প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, ব্রিটিশ ছাত্ররা সেই দলের হয়ে খেলতো। শারীরিক ফুটবলের কৌশল নিলো তারা, যাতে খালি পায়ের বাঙালি ফুটবলাররা সুবিধা করতে না পারেন। চোরাগুপ্তা আক্রমণে পেনাল্টি যখন মোহনবাগানের পাওয়ার কথা, উল্টো সেই ম্যাচে জেভিয়ার্স পেলো তিন-তিনটে পেনাল্টি।

আর সেই তিনটিই রুখে দিলেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক হীরালাল মুখার্জি!

এক ম্যাচে তিনটি পেনাল্টি বাঁচানো, ফুটবল ইতিহাসেই যা বিরল। সেই ম্যাচ মোহনবাগান জিতলো ৩-০ গোলে।

এরপর সবুজ-মেরুন দলের কাছে একে একে পরাজিত হলো কলকাতা রেঞ্জার্স ক্লাব, রাইফেল ব্রিগেড আর মিডলসেক্স রেজিমেন্ট। রেঞ্জার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচটা ছিল বিশেষভাবে কঠিন, কারণ সেদিন বৃষ্টি হয়েছিলো। কাদা মাঠে বুটপরা খেলোয়াড়রা যতটা সুবিধা পান, খালি পায়ের খেলোয়াড়রা ঠিক ততটাই অসুবিধার সম্মুখীন হন।

তবু মোহনবাগান জিতলো। আর পৌঁছে গেলো ফাইনালে, যেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলো ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্ট।

৫.

ফাইনালের আগের কয়েকটা দিন গোটা বাংলায় আর কোনো আলোচনা ছিল না। মানুষ আসতে শুরু করলো চারদিক থেকে। ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে সেদিন বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছিলো শুধুমাত্র দর্শকদের কলকাতায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য। রায়গঞ্জ আর বরাহনগর থেকে মানুষ আনার জন্য চললো বিশেষ স্টিমার। হাইকোর্ট আর স্ট্র্যান্ড রোডের কাছে তৈরি হলো যানজট।

আর সম্ভবত ভারতীয় ক্রীড়া-ইতিহাসে সেই প্রথম, টিকিট বিক্রি হলো কালোবাজারে।
*****
২৯শে জুলাই, ১৯১১। কলকাতা ফুটবল গ্রাউন্ডের চারপাশে তিল ধারণের জায়গা নেই। গ্যালারিতে মানুষের মাথার সমুদ্র। টিকিট না পেয়ে হাজার হাজার মানুষ মাঠের চারপাশের গাছে চড়ে বসেছে, কেউ দাঁড়িয়ে আছে পাশের বাড়ির ছাদে। এমনকি শিয়ালদহ স্টেশনে ট্রেন থেকে নামা মানুষের ঢল দেখে মনে হচ্ছিলো, আজ বুঝি সারা দেশটাই কলকাতায় এসে জড়ো হয়েছে।
মাঠের বাইরে তখন জমা হয়েছে আশি হাজার মানুষ, কারো কারো হিসেবে সংখ্যাটা লাখ ছুঁয়েছে। তাদের অনেকে এসেছেন পাটনা থেকে, পূর্ণিয়া থেকে, আসাম থেকে। আর অনেকে এসেছেন নদী পেরিয়ে, ঢাকা থেকে।

মাঠের ভেতরে জায়গা না পেয়ে মানুষ উঠে পড়লেন আশপাশের গাছে, ঘোড়ার গাড়ির ছাদে, দেয়ালের ওপর। যারা মাঠে ঢুকতে পারলেন না, তারা দাঁড়িয়ে রইলেন বাইরে; ভেতরের চিৎকার শুনে ফলাফল বোঝার আশায়।

একটা চমৎকার ব্যবস্থাও হয়েছিলো সেদিন। খেলার ফল জানানোর জন্য ঘুড়ি ওড়ানোর বন্দোবস্ত। মোহনবাগান এগিয়ে গেলে উড়বে সবুজ-মেরুন ঘুড়ি, আর পিছিয়ে পড়লে কালো।

৬.

বিকেল সাড়ে পাঁচটা। মাঠে নামলো বাইশজন মানুষ। কিন্তু মাঠে নামার সেই মুহূর্তে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো জিনিসটা ছিল তাদের পা।

এক দিকে ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টের এগারোজন ব্রিটিশ সৈনিক। তাদের পায়ে চামড়ার বুট, বুটের তলায় ধাতব স্টাড। গায়ে নিখুঁত জার্সি, পায়ে মোজা, পায়ে শিনগার্ড। পেশাদার সেনাবাহিনীর মানুষ এরা, শরীরচর্চা যাদের রোজকার রুটিন।.

আর অন্যদিকে মোহনবাগানের এগারোজন বাঙালি তরুণ। পরনে গুটিয়ে নেওয়া ধুতি বা হাফপ্যান্ট। আর পা? খালি! একমাত্র সুধীর চ্যাটার্জির পায়ে বুট, বাকি দশজনই খেলতে নেমেছেন পাড়ার মাঠের মতো, পুরোপুরি খালি পায়ে।

সেদিনের ম্যাচের রেফারি ছিলেন এইচ. জি. পুলার। ম্যাচ হয়েছিলো টোটাল ২৫ + ২৫ = ৫০ মিনিটের, মাঝে ছিল ৫ মিনিটের বিরতি।

টসে হারলো মোহনবাগান। তাদের ভাগে পড়লো ইডেন গার্ডেনসের দিক, আর ইস্ট ইয়র্কশায়ার পেলো ফোর্ট উইলিয়ামের দিক।

শুরু থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়লো মোহনবাগান, কিন্তু গোল এলো না। ফার্স্ট হাফের ২৫ মিনিট শেষ হলো। শেষ হলো ৫ মিনিটের বিরতি। শুরু হলো সেকেন্ড হাফের ২৫ মিনিট।

৫ মিনিট… ১০ মিনিট… ১৫ মিনিটও চলে গেলো।
আর তখনই একটা ফ্রি-কিক পেলো ইস্ট ইয়র্কশায়ার। হীরালাল তখনও তাঁর রক্ষণদেয়াল সাজাতে পারেননি। তার আগেই দ্রুত শট নিলেন ইয়র্কশায়ারের সার্জেন্ট জ্যাকসন। বিপদ আঁচ করতে পেরে ট্যাকল করতে গেলেন ভূতি সুকল।

লাভের চেয়ে ক্ষতি হয়ে গেলো। সুকলের পায়ে লেগে দিক বদল করলো বল, শেষ আশ্রয় হিসেবে খুঁজে নিলো জাল।

মোহনবাগান ০ - ১ ইস্ট ইয়র্কশায়ার

এরপরের ঘটনা বলা হয়েছে লেখার শুরুতেই। মাঠে নেমে এলো স্তব্ধতা। আকাশে উড়তে লাগলো কালো ঘুড়ি। গ্যালারিতে বসা ইংরেজ মেমসাহেবরা রুমাল নেড়ে উল্লাস শুরু করলেন। খেলা বাকি আর মোটে দশ মিনিট। খালি পায়ের এগারোজন বাঙালি পিছিয়ে বুট পরা এক ব্রিটিশ রেজিমেন্টের কাছে।
কিন্তু বাঙালির জেদ বড় বালাই। হারার আগে হার না মানার সেই আদিম প্রবৃত্তি জেগে উঠলো শিবদাস ভাদুড়ীদের রক্তে। অধিনায়ক শিবদাস ভাদুড়ী এক অদ্ভুত কৌশল খাটালেন। প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে তিনি ভাই বিজয়দাসের সঙ্গে জায়গা বদল করলেন।
এক মুহূর্তের জন্য থমকালো ইয়র্কশায়ার ডিফেন্স। কে কাকে মার্ক করবে?
সেই এক মুহূর্তই যথেষ্ট ছিল।
খেলার তখন ৪৫ মিনিট। বল পায়ে এগোলেন শিবদাস। একজনকে ড্রিবল করে কাটালেন। শরীরের ঝটকায় পেছনে ফেলে দিলেন দ্বিতীয়জনকে। বীরদর্পে বক্সে ঢুকে পড়লেন। তারপর নিলেন জোরালো শট।

গো-ও-ও-ও-ল!

মোহনবাগান ১ - ১ ইস্ট ইয়র্কশায়ার

এবার আকাশ ঢেকে গেলো সবুজ-মেরুন ঘুড়িতে। আশি হাজার কণ্ঠের গর্জনে কেঁপে উঠলো স্টেডিয়াম। রক্তের গন্ধ পেয়ে গেছে মোহনবাগান। কিন্তু সময় যে ফুরিয়ে আসছে! মিনিট গোনা শুরু। ড্র মানেও তো ইতিহাস। কিন্তু ১৮ বছরের অপেক্ষার তেষ্টা কি আর ড্রয়ে মেটে?

মরিয়া হয়ে উঠলো ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টও। কোনোভাবেই হার মানতে চায় না তারা। দুই দলই তখন ক্লান্ত, মরিয়া।

খেলার ৪৮ মিনিট। আর দুই মিনিট পরেই শেষ বাঁশি বাজিয়ে দেবেন রেফারি।

আর ঠিক তখনই বল পেয়ে গেলেন শিবদাস।

গোটা স্টেডিয়ামের নিঃশ্বাস যেন আটকে গেলো।

শিবদাস সামনের দিকে এক ঝলক তাকালেন। তারপর মাপা একটা ক্রস দিলেন সামনে ছুটতে থাকা এক ছায়ার দিকে।

ওদিকে অধিনায়কের পায়ে বল যাওয়ামাত্র দৌড় শুরু করলেন সেই ছায়ার মালিক, যার আসল নাম অভিলাষ ঘোষ। ক্রস থেকে আসা বলটাকে সিঙ্গেল টাচে সামনে নামিয়ে নিলেন তিনি। তারপর খালি পায়ে নিলেন এক বুলেটগতির শট।

‘অ-ভি-ই-ই-লা-আ-আ-ষ ঘো-ও-ও-ষ!’

সময় যেন স্লো হয়ে গেলো। আশি হাজার জোড়া চোখ দেখলো, ফুটবল নামের চর্মগোলকটা ব্রিটিশ দম্ভ, আঠারো বছরের অপেক্ষা, দুর্বল জাতের অপবাদ; সবকিছু ভেদ করে ঢুকে যাচ্ছে ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টের জালে।

গো-ও-ও-ও-ল!'

মোহনবাগান ২ - ১ ইস্ট ইয়র্কশায়ার

৭.
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এক অভাবনীয় দৃশ্য দেখা গেলো। গ্যালারি থেকে মানুষ পাগলের মতো মাঠে নেমে এলো। ফুটবলারদের কাঁধে তুলে নিলো তারা, তাদের ধুলোমাখা পায়ের ধুলো মাথায় ঠেকালো। মানুষের চোখের জলে নাকি সেদিন কলকাতা মাঠের ধুলো কাদা হয়ে গিয়েছিলো। সত্যি? কী যায় আসে! মোহনবাগানের খেলোয়াড়দের ব্যবহৃত গেঞ্জিগুলো ছিঁড়ে কুচিকুচি করে স্মারক হিসেবে নিয়ে গিয়েছিলো দর্শকরা। মানুষ নিজেদের জামা খুলে মাথার ওপর ঘোরাতে লাগলো। আকাশ ঢেকে গেল সবুজ-মেরুন ঘুড়িতে। ফাটলো পটকা। চারদিকে উঠলো দুটো ধ্বনিঃ ‘বন্দে মাতরম’ আর ‘মোহনবাগান কি জয়’।
আর সেই মোহনবাগান দলের একাদশ পরিচিতি পেলো ‘অমর একাদশ’ হিসেবে।
রয়টার্স ৩০ জুলাই ইংল্যান্ডে যে তারবার্তা পাঠালো; তার মর্মার্থ ছিলঃ দৃশ্যটা বর্ণনার অতীত, বাঙালিরা নিজেদের জামা খুলে ওড়াচ্ছে।

‘মুসলমান’ পত্রিকা লিখলো, মুসলিম স্পোর্টিং ক্লাবের সদস্যরা তাদের হিন্দু ভাইদের জয়ে আনন্দে প্রায় পাগল হয়ে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছেন।

সুদূর ইংল্যান্ডে, ম্যানচেস্টার গার্ডিয়ান পত্রিকা মন্তব্য করলো যে, আশি হাজার দেশবাসীর সামনে একদল বাঙালি তিনটি ব্রিটিশ রেজিমেন্টকে হারিয়ে শিল্ড জিতেছে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ফুটবলে জয় পায় সেই দল; যাদের শারীরিক সক্ষমতা, ক্ষিপ্র দৃষ্টি আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি বেশি।

বাণিজ্যজগতও পিছিয়ে থাকলো না। হ্যারিসন রোডের স্ট্যান্ডার্ড সাইকেল কোম্পানি অমৃতবাজার পত্রিকার সঙ্গে মিলে বিজয়ী দলের ছবি বিলি করলো ৩১ জুলাই। আহিরিটোলা স্ট্রিটের এক বাদ্যযন্ত্রের দোকান ঘোষণা করলো, ভারতীয় দলের এই জয় উপলক্ষে আগামী দুই মাস হারমোনিয়ামে দশ শতাংশ ছাড়!

আর সবচেয়ে বিখ্যাত গল্পটা হলো এই। বলা হয়, শিল্ড নিয়ে দল যখন ক্লাবে ফিরছে, তখন ফোর্ট উইলিয়ামের মাথায় ওড়া ইউনিয়ন জ্যাকের দিকে আঙুল তুলে কাঁপাকাঁপা গলায় প্রশ্ন করেছিলেন এক বৃদ্ধ, ‘বাবা, ওটা কবে নামবে?’

অমর একাদশের একজন উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আবার যখন আমরা শিল্ড জিতবো।’

বিস্ময়করভাবে, মোহনবাগান আবার শিল্ড জেতে ১৯৪৭ সালে, আর সে বছরই ভারত স্বাধীন হয় এবং ফোর্ট উইলিয়াম থেকে ইউনিয়ন জ্যাক নেমে যায় চিরদিনের জন্য। কাকতালীয়? সম্ভবত না। হয়তো ওটাই ছিল নিয়তি।

৮.

অমর একাদশের এগারোজনের মধ্যে কয়েকজনের গল্প আলাদা করে বলার মতো।

১/ শিবদাস ভাদুড়ী। অধিনায়ক আর সেদিনের নায়ক। তাঁর জন্ম ১৮৮৭ সালের ৬ নভেম্বর, বরিশালে। হ্যাঁ, আমাদের আজকের বাংলাদেশে। এক গোল, এক এসিস্ট করে একাই সেদিন ব্রিটিশদেরকে যিনি হারিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন আমাদের বরিশালের সন্তান। মারা যান ১৯৩২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, পুরীতে। বয়স হয়েছিলো মাত্র চুয়াল্লিশ।

২/ সুধীর চ্যাটার্জ। দলের একমাত্র বুটধারী। জন্ম ১৮৮৩ সালে, মোহনবাগানে যোগ দেন ১৯০৪ সালে। পেশায় ছিলেন শিক্ষক, কলকাতার লন্ডন মিশনারি সোসাইটি কলেজে পড়াতেন। দলের সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষ ছিলেন, এমএ পাশ। ১৯১৪ সালে গুরুতর চোটে তাঁর খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হয়ে যায়। পরে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে যান, ট্রিনিটি কলেজে প্রভাষকের পদও পান। দেশে ফিরে গড়ে তোলেন একটি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশিদিন জীবিত ছিলেন। ১৯৬৪ সালে মোহনবাগান যখন তাদের প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপন করে, তখন সেই অমর একাদশের একমাত্র জীবিত সদস্য ছিলেন তিনিই। মারা যান ১৯৬৬ সালের ১২ এপ্রিল।

৩/ ভূতি সুকল। দলের একমাত্র অবাঙালি সদস্য। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা এই পরিবারের পদবি আসলে ছিল ‘শুক্লা’, যা বাংলা উচ্চারণে হয়ে গিয়েছিলো সুকল। লম্বা গড়নের এই ডিফেন্ডার হেড আর ট্যাকলে ছিলেন দুর্দান্ত। মোহনবাগানে খেলে গেছেন ১৯১৮ সাল পর্যন্ত, মারা যান ১৯৪৩ সালে।

আর একটা কথা মনে রাখা দরকার। এই ফুটবলাররা কেউ ধনীঘরের সন্তান ছিলেন না। তাঁরা ছিলেন সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের তরুণ, যাদের অনেকেই একজোড়া বুট কেনার সামর্থ্য রাখতেন না। খালি পায়ে খেলাটা তাঁদের কাছে বীরত্ব প্রদর্শন ছিল না, ছিল বাধ্যবাধকতা।

৯.
জয়ের উন্মাদনা থেমে যাওয়ার পর বাস্তবতা ফিরে এলো। মোহনবাগানের এই জয় একটা অস্বস্তিকর প্রশ্নের সম্মুখীন করলো আয়োজকদের। শিল্ড জেতা একটা দলকে কলকাতা ফুটবল লিগের বাইরে রাখা যায় কীভাবে? সেই দরজা খুলতে অবশ্য আরও সময় লেগেছিলো।

সেই ম্যাচের প্রায় পাঁচ মাস পরে, নিখুঁত হিসেব করে বললে ঠিক ১৩৬ দিন পর; ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে সম্রাট পঞ্চম জর্জ দুটো সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিলেন। বঙ্গভঙ্গ রদ করা হলো, আর ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো দিল্লিতে।

অর্থাৎ, যে বছর ইংরেজদের হারালো বাঙালিরা, সে বছরই সাম্রাজ্য তার রাজধানী সরিয়ে নিলো কলকাতা থেকে। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, মোহনবাগানের এই জয় বাঙালি জাতীয়তাবাদের আগুনে যে ঘি ঢেলেছিলো, তার উত্তাপ ব্রিটিশরা সহ্য করতে পারছিলো না। কলকাতা তখন আর নিরাপদ ছিল না তাদের জন্য।

১০.

আজও প্রতি বছর ২৯ জুলাই পালিত হয় ‘মোহনবাগান দিবস’।

২০১১ সালে, ঘটনার শতবর্ষে, পরিচালক অরুণ রায় নির্মাণ করেন ‘এগারো’ নামের একটি বাংলা চলচ্চিত্র। এটিই সেই অমর একাদশকে নিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ ছবি। ছবিটি কেবল ম্যাচ নয়, দেখিয়েছে সেই কয়েকটা দিনের সামাজিক উত্তেজনাও। অভিলাষ ঘোষের পরিবার ভয় পেতো, ছেলে জিতলে ইংরেজদের রোষে পড়তে হবে। আর সুধীর চ্যাটার্জিকে তাঁর কর্মস্থলে সহ্য করতে হয়েছিলো ব্রিটিশ সহকর্মীদের বিদ্রূপ।

এই ছোট ছোট বিবরণগুলোই মনে করিয়ে দেয়, সেদিন মাঠে নামাটা কেবল খেলা ছিল না। প্রতিটি খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগত ঝুঁকিও নিতে হয়েছিলো।

১১.

ফুটবলের ইতিহাসে এর চেয়ে বড় জয় বা কামব্যাকের অসংখ্য গল্প আছে। বিশ্বকাপে আছে, ইউরোতে আছে, চ্যাম্পিয়নস লিগে তো হরহামেশাই কামব্যাকের গল্প লেখে কোনো না কোনো ক্লাব।

কিন্তু ১৯১১ সালের ২৯ জুলাই কলকাতার সেই মাঠে যা ঘটেছিলো, তার তুলনা খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ সেদিন দুটো দল কেবল একটা ট্রফির জন্য লড়েনি। এক দিকে ছিল সাম্রাজ্য, আর অন্য দিকে সাম্রাজ্যের শাসিত মানুষ। একদিকে বুট, আর অন্যদিকে খালি পা। একদিকে দেড়শো বছরের রাজত্ব, আর অন্যদিকে একটা জাতির জমে থাকা অপমান।

সেদিন সেই অপমানের জবাব কোনো বক্তৃতা বা কোনো বো মা র মাধ্যমে দেয়া হয়নি। জবাবটা এসেছিলো ফুটবলের মাধ্যমে। খালি পায়ের এগারোজন সেদিন প্রমাণ করে দিয়েছিলেন, বুটের চেয়ে জরুরি জিনিসটা পায়ে থাকে না, থাকে বুকের ভেতরে। ইয়োহান ক্রুইফ বলেছিলেন, ‘যারা বলে, ফুটবল পা দিয়ে খেলতে হয়, তারা ভুল বলে। ফুটবল আসলে খেলতে হয় মাথা দিয়ে, পা’জোড়া তো অনুষঙ্গ মাত্র।’

আর সেই মাথার সাথে যখন বুকের ভেতরের বারুদ যুক্ত হয়; তখনই রচিত হয় ইতিহাস!

১২.

মোহনবাগানের আইএফএ শিল্ড জয়ের ৩৯ বছর পরে। ভারতের কলকাতা থেকে সুদূর ব্রাজিলের মারাকানা। আইএফএ শিল্ডের ফাইনাল থেকে বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেই জুলাই মাস। তারিখটা শুধু আলাদা। ২৯ জুলাই, আর ১৬ জুলাই।

সার্জেন্ট জ্যাকসনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিলো ইস্ট ইয়র্কশায়ার। ফ্রিয়াকার গোলে এগিয়ে গিয়েছিলো ব্রাজিল। ব্রাজিলে তখন বিশ্বজয়ের উৎসব শুরু হয়েই গেছে। কিন্তু পিছিয়ে পড়েও হার মানেনি উরুগুয়ে, ঠিক যেমন হার মানেনি মোহনবাগান। শিয়াফিনোকে দিয়ে গোল করালেন অ্যালসিডেস ঘিঘিয়া, উরুগুয়ে ফিরলো সমতায়। নিজে গোল করে মোহনবাগানকে সমতায় ফেরালেন শিবদাস ভাদুড়ী। সতীর্থকে দিয়ে গোল করানোর পরে এবার নিজে গোল করলেন ঘিঘিয়া, উরুগুয়ে এগিয়ে গেলো, ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে জিতে নিলো বিশ্বকাপ। আর নিজে গোল করার পরে সতীর্থকে দিয়ে গোল করালেন শিবদাস, মোহনবাগান প্রথমবারের মতো জিতে গেলো আইএফএ শিল্ড।

ইতিহাস কখনো বিদায় বলে না। ইতিহাস বলে, ‘আবার দেখা হবে।’

#চর্মগোলকের_ইতিকথা
লেখার শিরোনাম: অমর একাদশ
লেখা: ইমতিয়াজ আজাদ

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সবগুলো উপন্যাস-এর ভিন্টেজ সংস্করণের প্রচ্ছদ। অনেকেই সবগুলো প্রচ্ছদ দেখতে চাচ্ছিলেন, তাই সবগ...
27/07/2026

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সবগুলো উপন্যাস-এর ভিন্টেজ সংস্করণের প্রচ্ছদ। অনেকেই সবগুলো প্রচ্ছদ দেখতে চাচ্ছিলেন, তাই সবগুলো একত্রে আপলোড দিলাম।

📌 ২০টি বই হার্ডকাভার সেট আকারে অর্ডার করতে পারবেন মুদ্রিত মূল্যের প্রায় ৬৫% ছাড়ে ৩০০০ টাকায়।

এছাড়া খুচরা বা সিঙ্গেল আকারে নিতে পারবেন মুদ্রিত মূল্যের ৫০% ছাড়ে। খুচরা বইয়ের মূল্য তালিকা ও ৫০% ছাড়ে বিক্রয়মূল্য ছবিতে।

গল্প শুরুর গল্পপ্রথমেই পাঠকদের একটি কথা জানিয়ে দিতে চাই, এটা কিন্তু আমাদের তিনজনের লেখা ছোটগল্পের সংকলন নয়। কফিশপ আমাদের...
25/07/2026

গল্প শুরুর গল্প

প্রথমেই পাঠকদের একটি কথা জানিয়ে দিতে চাই, এটা কিন্তু আমাদের তিনজনের লেখা ছোটগল্পের সংকলন নয়। কফিশপ আমাদের তিনজনের একত্রে লেখা একটি উপন্যাস। যৌথ গল্প বা উপন্যাস লেখাটা কষ্টসাধ্য কাজ। কারণ যারা লেখালেখি করেন তাদের সবারই আছে লেখার নিজস্ব ধরণ। একজনের ধরণ আরেকজনের শতভাগ পছন্দ হওয়ানোর চাইতে ডুমুরের ফুল খুঁজে পাওয়াটা সহজ। কিন্তু তারপরেও এই জটিল কাজটা আমরা ভীষণ মজা আর আনন্দ নিয়ে করেছি।
লেখাটি শেষ হবার পর আমরা তিনজনেই আবিষ্কার করলাম যে আমাদের মন খারাপ। শুধু খারাপ না ভয়াবহ খারাপ। জগতের নিয়মের বাইরে কে যেতে পারে? অতএব কফিশপের ইতি টানতে হয়েছিল। তবে এর বিনিময়ে আমরা পেয়েছিলাম পাঠকদের অগণিত ভালোবাসা। ব্লগে পোস্ট করার পরে লেখাটি দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল আর এত পাঠক লেখাটিকে ছাপার অক্ষরে দেখতে চাইলেন যে আমাদের তিনজনেরই মনে হতে লাগল বইটি শেলফে থাকা দরকার। সুতরাং তিনজনে তিনটি ভিন্ন দেশে–বাংলাদেশ, ফ্রান্স এবং অস্ট্রেলিয়াতে অবস্থান করা সত্ত্বেও আবার কাজে হাত লাগালাম লেখাটিকে পরিবর্ধিত করতে। কাপের পর কাপ চা ফুরিয়ে যেতে লাগল আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে লাগল কফিশপ প্রজেক্ট নিয়ে করা গ্রুপের নোটিফিকেশন। কাজটি শেষ হবার পর মনে হচ্ছে, একটি ছোট ভূমিকা ছাড়া লেখাটি অসম্পূর্ণই রয়ে যাবে।
আমাদের তিনজনের পরিচয় প্রায় চৌদ্দ বছর আগে, ২০১১ সালে, ব্লগে লেখালেখির সূত্রে। আশ্চর্য হলেও সত্য যে আমরা যখন এই লেখায় হাত দিয়েছিলাম তখন একজন আরেকজনের ব্লগনেম ছাড়া আসল নামও ঠিকঠাক মতো জানতাম না। লেখা আসলে লেখকের ভাবনার প্রতিচ্ছবি–এই সূত্রে বিশ্বাস করে ধরেই নিয়েছিলাম যে কারও সাথে কারও মনোমালিন্য হবে না। বাস্তবে হয়েছিলও তাই।
প্রায় তিন মাসব্যাপি লেখা এই গল্পে আমাদের আলোচনা হয়েছে বিস্তর, তর্ক হয়নি একবারও।
ঠোকাঠুকি না হবার আরেকটি কারণ হচ্ছে আমাদের তিনজনের তিন ঘরানার লেখা। সামারা তিন্নি–ব্লগনেম: ত্রিনিত্রি; নদীর উৎস থেকে শুরু করে বহমান জলের মতো দীর্ঘ উপন্যাস জাতীয় লেখা লিখতে পছন্দ করেন। হাফিজুর রহমান রিক–ব্লগনেম: রিয়েল ডেমোন; লেখেন আতশবাজির মতো। ঝড়ের গতিতে আসবে এবং যাবে কিন্তু রেখে যাবে অসাধারণ অনুভূতির রেশ। কৃষ্ণ কুমার গুপ্ত–ব্লগনেম: নীরব০০৯; একজন খাঁটি কবি; তার কথায় কাব্য, লেখায় কাব্য এবং তার জীবন যাপনের ধরণেও শব্দমালা একাকী দুপুরে বাড়ির উঠোনের আতা গাছটির নিচে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এই বইয়ের চরিত্র নীরব-এর লেখা সকল কবিতা তারই রচনা। তার রচিত ‘মেঘ বৃষ্টি প্রেম’ কবিতাটি মাথায় রেখেই আমরা এই গল্পে স্বতঃস্ফূর্ততা এনেছি।
আমাদের এই গল্পে আমরা বেছে নিয়েছি আমাদের চারপাশে থাকা অন্য সবার মতোই সাধারণ তিনটি ছেলে মেয়ের চরিত্র। যাদের সবাই চেনে কিন্তু আবার কেউই চেনে না। নুশেরার চরিত্রটি লিখেছেন সামারা তিন্নি, রিকের চরিত্রটি লিখেছেন হাফিজুর রহমান রিক আর নীরব চরিত্রটি লিখেছেন কৃষ্ণ কুমার গুপ্ত।
লেখাটি কেন আমাদের তিনজনের এত পছন্দ, সেটি বুঝতে আমাদের নিজেদের জীবনে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। ভূমিকা লিখতে গিয়ে আমরা বুঝতে পারছি মনের অজান্তেই সম্ভবত আমরা নিজেদের চরিত্রের খানিকটা করে অংশ আমাদের গল্পের চরিত্রগুলোকে ধার দিয়েছি। তবে তাই বলে আশা করি পাঠক ভেবে বসবেন না যে এটা আত্মজৈবনিক কোনো লেখা। এই লেখার সকল চরিত্র এবং ঘটনা কাল্পনিক এবং কারও সাথে মিলে গেলে তা অনভিপ্রেত কাকতাল মাত্র।
লেখাটি যখন আমরা লিখেছিলাম তখন আমরা তিনজনেই নিজস্ব জীবন নিয়ে ব্যস্ত সময়ে ছিলাম। মাথায় আসা প্লটগুলো যেন ফুড়ুৎ করে উড়ে না যায়, তাই সেগুলোকে আমরা আটকে রেখেছিলাম অ্যাপ্রনের পকেটে রাখা ছোট নোটবুকে, ক্লাসের লেকচারের মাঝে কিংবা মেসেঞ্জারের সাদা স্ক্রিনে। এই ছিল যেন আমাদের ব্যস্ত জীবনে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেবার একটি ছোট্ট স্থান।
গল্প শুরুর পেছনে যেমন গল্প থাকে, তেমনি থাকে কিছু মানুষের অবদান যাদের কথা না বললেই নয়। আমাদের তিনজনকে একই ছাতার নিচে নিয়ে এসেছেন ব্লগার কামরুল হাসান শাহী ভাই। এমনকি তিনজন মিলে যৌথ গল্প লেখার আইডিয়াটাও উনার। লেখা চলাকালীন সময়ে প্রতিদিন লেখার অগ্রগতি নিয়ে খোঁজ করেছেন, উৎসাহ দিয়েছেন। আজকে তাকে কৃতজ্ঞতার সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের তিনজনকে একটি চমৎকার অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত করার জন্য।
অসংখ্য ধন্যবাদ কফিশপের পাঠকদের, যাদের কারণে এই বই আজ দিনের আলো দেখছে। তাদের উৎসাহে আমরা মাঝে মাঝে চিন্তায় পড়ে যাচ্ছিলাম যে আসলেই এগুলো কাল্পনিক চরিত্র নাকি রক্ত মাংসের মানুষ! তাদের সেই স্মৃতিগুলোকে আরেকবার জীবন্ত করে দিতেই আমাদের এই প্রয়াস।
কফিশপ উপন্যাসটি ছুঁয়ে দেখা আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। ছাপার অক্ষরে উপন্যাসটি আবার আপনাদের মন জয় করবে বলে আশা করি। আশা করি কফিশপ পাঠককে শতভাগ তৃপ্তি দিবে। দীর্ঘকাল যার রেশ থেকে যাবে পাঠকের মনে। আর তবেই সার্থক হবে আমাদের তিনজনের অক্লান্ত পরিশ্রম। সময়টা হোক কফিশপ-এর।

– লেখকত্রয়ী
____________
অর্ডার করুন: https://satirthoprokashona.com/products/1132885

শিঘ্রই আসছে নতুন বই দ্য ওয়েন্ডিগো।একই সাথে আসতে চলেছে দ্য উইলোসের নতুন মুদ্রণ...
24/07/2026

শিঘ্রই আসছে নতুন বই দ্য ওয়েন্ডিগো।
একই সাথে আসতে চলেছে দ্য উইলোসের নতুন মুদ্রণ...

Address

Moni Bazar , C&B More
Rajshahi
6000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Satirtho Prokashona posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Satirtho Prokashona:

Shortcuts

Share

Category