03/05/2020
#লক্ষি_বউ
#পর্ব_০১
বাসর ঘরে বউকে রেখে বারান্দায় বসে সিগারেট খাচ্ছি আর ফোনে নিলার ছবি দেখছি,রাত ২ টা বেজে গেছে নতুন বউ ঘরে একা একাই বসে রয়েছে,কোন মেয়ের জন্যই এমন একটা বাসর রাত ভাবনার একদমি বাইরে,,,,,,,,,
নিলার সাথে আমার ৫ বছরের রিলেশন ছিল ব্রেকাপের পর দেশের বাইরে চলে গেছিলাম, দেশে ফিরেই মায়ের ইচ্ছায় পাত্রি দেখা শুরু,
বিয়ে করার একদমি ইচ্ছা নেই,মায়ের ইচ্ছা নাতি নাতনীর মুখ দেখে যেতে পারলে খুশি,মাকে খুশি করার জন্যই অনিচ্ছা থাকা সত্বেও বিয়ে করতে হচ্ছে, ভাইয়া চাচারা পাত্রী দেখা শুরু করেছে,অনেক পাত্রিই দেখা হয়েছে,কিন্তু যেখানে গিয়েই হাতের রেখাগুলো দেখিয়েছি সবাই পিছিয়ে গেছে,মায়ের কথাই বিয়েতে রাজি হয়েছিলাম, তবুও এরকম করার কারন ছিল এমন একজনকে খুজছিলাম যে আমার অতিতগুলো জানার পরও আমাকে ভালবাসবে,
যাই হোক কিছুদিন আগের কথায় চলে যাওয়া যাক,,,,,,,
পাত্রি দেখতে গিয়ে হাতে ব্লেটের দাগগুলা দেখিয়ে অতীতগুলোর কথা বলে নিজেই হতভম্ব হয়ে গেছিলাম কোথায় মেয়েটা বিয়ে ভেঙে দিতে চাইবে, তা না করে খুব খুশি মনেই শিকার করে নিল,মেয়েটার মা বাবা বিয়েতে একপ্রকার হ্যা তে হ্যা বলেই দিয়েছে,মা বাবার কথা ভেবেই রাজি হয়েছে মেয়েটা,আম্মুও মেয়েটাকে দেখে বেশ পছন্দ করেছে,
উনারা বেয়ান বেয়াই বলে কথা বলা শুরু করে দিয়েছে,পরিস্থীতি দেখে মনে হচ্ছে না বিয়েটা কোনভাবে আটকানো যাবে,উনারা উনাদের মধ্যে মতবিনিময়ের পর আম্মু আমাকে একটু পাশে ডেকে বললো মেয়াটা অনেক লক্ষ্যি আমার অনেক পছন্দ হয়েছে তুই কিন্তু না করতে পারবি না বাবা,এম্নিতেউ মেয়েটা খুব একটা খারাপ না,সহজ সরল মায়াবী চেহারা,মুখে মায়াবিনি একটা ছাপ আছে
আমিও নিরুপায় মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সম্মতি দিয়ে দিলাম,
আর আজকে তার সাথেই বাসর অথচ আমি বউকে রেখে বাইরে বসে আছি,
কিছুক্ষন পর পেছনে কারও মিষ্টি কন্ঠস্বর শুনতে পেলাম, সেটা আর কেউ না যার সাথে আমার বাসর(আদ্রিকা) অনেকসময় ধরেই পেছনে দাঁড়িয়ে আছে,
এটাই বুঝি আপনার নিলা.? অনেক সুন্দর,
পেছনে তাকিয়ে দেখতে পেলাম মস্ত বড় এক ঘুমটা টেনে দাঁড়িয়ে আছে,ঘুমটার ভেতরে লাজুক মুখটা আবছা আবছা দেখা যাচ্ছিল, মনে হচ্ছিলো পুর্নিমার চাদটা মেঘের আড়ালে ঢাকা পরেছে,যত দেখছি ঘুমটার আড়ালে লজ্জাবতি মুখটা জেন ততই ফুটে উঠছে"""""""""""""
আজকে আমাদের বাসর রাত চলেন ঘরে গিয়ে নামাযটা পরে নেই,এত রাতে বাইরে বসে থাকাটা ভাল না,তাছাড়া কেউ দেখলে খারাপ ভাববে,
সারা শরীরে মুখে সিগারেটের গন্ধ এ অবস্থায় নামায পরলে নামাযটাও হবে না,হুট করে ফ্রেশ হয়ে দুজনে একসাথে নামাযটা পরে নিলাম,কিছুক্ষন পর বউ এক গ্লাস দুধ হাতে দিয়ে বালিশ আর চাদরটা নিয়ে বিছাতে লাগলো, অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম, দুধটা খেয়ে শুয়ে পরেন, বলেই শাড়ীর আচলটা মাথায় টেনে মেঝেতে শুয়ে পরলো,এমন অবস্থায় কি করা উচিত বুঝতে পারলাম না তবে বার বার অবাক হচ্ছি মেয়েটার কান্ড দেখে,,,,,,,,,,,
- আমাকে শুধু শুধু বিয়ে করে নিজের জিবনে অশান্তি ডেকে আনলেন,
- অশান্তির কিছুই নেই আপনি যেমনি হন আপনি আমার স্বামী আর এটা আমি মেনে নিয়েছি,
অবাকের পরিমানটা আরও বারতে লাগলো, সাথে একটু ইমপ্রেস ও হলাম, এটা কী বোকামি না ভালবাসা বুঝতে পারলাম না, তবে কি আমি কোন ভুল করছি...???
অবাস্তব কোন অতীতের জন্য কী সুন্দর বাস্তব জীবনটা নষ্ট করতে যাচ্ছি..??
ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পরলাম,কিছুক্ষন পরেই পাগলীটার ডাকাডাকিতে আর ঘুমিয়ে থাকতে পারলাম না, চোখ কচলাতে কচলাতে তাকিয়ে দেখি এত সকালে গোসল করেছে,কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না পাগল টাগল হয়ে গেছে নাকি,নয়তো এত সকালে কেউ গোসল করে,
-উঠুন উঠে গোসলটা সেরে নিন নামায পরতে হবে,,,
হা করে তাকিয়ে রইলাম নামায পরতে হবে ভাল কথা কিন্তু গোসল কেন করবো রাতে তো কিছুই করিনি,
পাগলিটার জোরাজোরিতে রেহাই নেই উঠে নামায পরে আবার বিছানায় শুয়ে চোখটা বন্ধ করতেই সুর্যের হাতছানিতে এসে পরলো মুখের উপর,তাকিয়ে দেখি পাগলীটা ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে হালকা সাজুগুজু করছে,মুখের হালকা মিষ্টি রঙে পাউডারের আস্তরন পরে মুখটা জেন সূর্যের দ্বীগুন আলোয় উজ্জ্বলিত হয়েছে,মেয়েদের হালকা সাজে যে এত কিউট লাগতো আগে জানা ছিল না,
আমার আচ পেয়েই আয়না থেকে মুখ ঘুরিয়ে জিজ্ঞাস করলো ঘুম ভেঙেছে আপনার,এবার জেন সূর্যের পুরো রশ্নি আমার মুখে এসে পরলো, কপালের টিপটা জেন আমাকে ডাকছে একবার ছুয়ে দিতে,
বেশ কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে বললো কী দেখেন এভাবে....???
আমার লজ্জা করেনা বুঝি...???
পাগলীটার কথা শুনে বাস্তবে আসলাম,
লজ্জামুখে খাবার টেবিলে ডেকে চলে গেল,,,
চলবে^^^^^^^^