17/05/2026
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন নখ, চুল, গোঁফ বা দাড়ি না কাটার বিধানটি মূলত **যিনি কুরবানি দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন (কুরবানিদাতা), তাঁর জন্য** প্রযোজ্য। এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক বা সাধারণ কোনো নিয়ম নয়।
এই বিধানটির বিস্তারিত নিয়ম ও ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
# # # ১. প্রধান বিধান (কুরবানিদাতার জন্য)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
> "যখন তোমরা জিলহজ মাসের চাঁদ দেখতে পাবে এবং তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করবে, সে যেন তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।" (সহীহ মুসলিম)
>
এই হাদিসের ওপর ভিত্তি করে ওলামায়ে কেরামের অভিমত হলো, যিনি নিজের পক্ষ থেকে বা পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানি দিচ্ছেন, জিলহজ মাসের চাঁদ ওড়ার পর থেকে নিয়ে কুরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত তাঁর জন্য নখ, চুল, দাড়ি বা শরীরের কোনো অংশের পশম না কাটা **মুস্তাহাব** (উত্তম)। কোনো কোনো ইমাম বা মাযহাবে এটিকে ওয়াজিব বা আবশ্যকও বলা হয়েছে।
# # # ২. যারা কুরবানি দিচ্ছেন না তাদের জন্য করণীয়
যাঁরা কোনো কারণে কুরবানি দিতে পারছেন না, তাঁদের জন্য এই দিনগুলোতে নখ বা চুল না কাটার **কোনো বাধ্যবাধকতা নেই**।
তবে, কিছু হাদিসের আলোকে ওলামায়ে কেরাম বলেন, যাঁরা কুরবানি দিতে পারছেন না, তাঁরাও যদি এই দিনগুলোতে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় এবং হাজীদের ও কুরবানিদাতাদের সাথে সাদৃশ্য রেখে নখ-চুল কাটা থেকে বিরত থাকেন এবং ঈদের দিন কুরবানির পর তা কাটেন, তবে তাঁরাও ইনশাআল্লাহ কুরবানির একটি সওয়াব বা পুরস্কার পাবেন। কিন্তু এটি তাঁদের জন্য কোনো জরুরি নিয়ম নয়, সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।
# # # একটি জরুরি সতর্কতা (৪০ দিনের নিয়ম)
ইসলামে জিলহজ মাসের এই আমলটির চেয়েও বড় এবং বাধ্যতামূলক নিয়ম হলো—শরীরের অপ্রয়োজনীয় লোম বা নখ যেন কোনোভাবেই **৪০ দিনের বেশি** না কাটা অবস্থায় না থাকে।
যদি এমন হয় যে জিলহজ মাস আসার আগেই কারো নখ বা চুল ৪০ দিন বা তার কাছাকাছি সময় ধরে কাটা হয়নি, তবে জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার আগেই তা কেটে পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। কারণ, জিলহজের ১০ দিন পার করতে গিয়ে যদি নখ বা চুল না কাটার মেয়াদ ৪০ দিন পার হয়ে যায়, তবে তা গুনাহের কারণ হবে।
**সংক্ষেপে:** বিধানটি মূলত **শুধু কুরবানিদাতাদের জন্য**। তবে যারা কুরবানি দিচ্ছেন না, তারাও চাইলে সওয়াবের নিয়তে এই আমলটি করতে পারেন, কিন্তু এটি তাদের জন্য জরুরি নয়।