28/08/2023
এই সাপটি এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।
👉নাম: কালাচ,কেউটে, পাতি কালকেউটে।
👉ইংরেজি নাম- Common krait.
👉বৈজ্ঞানিক নাম-Bungarus caeruleus.
👉প্রচলিত নাম- কালাচ, কেউটে, কালাজ, কালান্তর, কালান্তরা, কালচিতি, ডোমনাচিতি, শাহ কানন, শিয়রচাঁদা, নিয়রচাঁদা, শাঁখাচিতি, চামরকোষা, ঘামচাটা....ইত্যাদি৷ (কেউ আরও কোনও প্রচলিত নাম জেনে থাকলে নিচে কমেন্ট করুন)।
👉বিষের ধরন: নিউরোটক্সিন(নার্ভ বিষ)।
👉খাদ্য তালিকা- এদের প্রধান খাদ্য সাপ৷ এটি একটি মাংসাশী প্রাণী এবং এর খাদ্যতালিকায় আছে অন্যান্য ছোট ছোট প্রাণী যেমন ইঁদুর, ব্যাঙ, টিকটিকি, নিজের বা ভিন্ন প্রজাতির সাপ,, ইত্যাদি।এদের এই খাদ্যাভ্যাস মনুষ্য বসতিতে সাপ, ইঁদুর প্রভৃতি প্রাণীর অবাঞ্ছিত সংখ্যাবৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়ক। এদের চোয়ালের গঠন বৈশিষ্ট্যের জন্য অর্থাৎ নীচের চোয়াল নমনীয় ও উপরের চোয়ালের সঙ্গে দৃঢ় সংযুক্ত না হওয়ার জন্য এরা নিজের আয়তনের তুলনায় অনেক বড় হা করতে পারে এবং নিজের পরিধির চেয়ে বড় মাপের প্রাণী অনায়াসে গিলে ফেলে। মুখনিঃসৃত বিষ এ সময় শিকারটিকে নির্জীব রাখতে সাহায্যে করে। অপ্রাপ্তবয়স্ক বা জুভেনাইল রা কীট-পতঙ্গ, মাকড়সা ইত্যাদি খেয়ে থাকে।
👉অঞ্চল- রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, যশোর ও বগুড়া, ঠাকুরগাঁও জেলায় এদের বেশি দেখা যায়।
👉বর্ণনা- কালো শরীরের উপরে জোড়ায় জোড়ায় সাদা ব্যান্ড দেখে এদেরকে চেনা যায়।
কালাচ অত্যন্ত ক্ষীপ্র এবং তীব্র বিষধর সাপ৷ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাপ্ত সাপগুলোর মধ্যে, এদেরকেই সবচেয়ে বিষধর হিসেবে ধরা হয়৷ এদের নিয়ে একটি কথা প্রচলিত আছে, "এরা মানুষের ঘামের গন্ধে এসে কামড়ায়"। যদিও এটা সম্পুর্ণ ভিত্তিহীন কথা। শীতের সময়ে এরা উষ্ণতার খোঁজে মানুষের বিছানায় উঠে পরে। তখন ভুলবশত এদের গায়ে পা লাগলে কামড় দেয়। এরা নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেটিং করে, মেটিং এর কিছুদিন পর ফেব্রুয়ারিতে ডিম পাড়া শুরু করে। এরা মোট ১০-১২ টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে। এপ্রিলে বাচ্চা ফুটে।
👉চিকিৎসা- যদিও খুবই ক্ষিপ্র আর চঞ্চল সাপ, তবুও আঘাত বা ভয় না পেলে কামড় দেয়ার সম্ভাবনা কম। তবুও যদি কামড় দেয়, তাহলে দ্রুত নিকটস্থ সদর হাসপাতাল অথবা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যেতে হবে।