13/09/2022
অনলাইনে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচার উপায়সমূহ :
বর্তমান সময়ে মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করতে সবচেয়ে বেশি প্রছন্দ করে থাকে। দিন দিন এর চাহিদা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের ডিজিটাল উন্নয়নের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে মানুষ আরো বেশি প্রযুক্তি নির্ভর হচ্ছে। এতে করে জনমানুষের জীবনযাত্রা আরো বেশি সহজ হচ্চে। মানুষ এখন সহজেই ফেইসবুক, ইউটিউব এর মাধ্যমে পণ্যের ছবি বা ভিডিও দেখে নিজের প্রছন্দ অনুসারে পণ্য অর্ডার করে তা নিজের কাছে পেয়ে থাকে।
কিন্তু অনলাইনের এই সহজ কেনাকাটা করতে গিয়ে অনেক অসাবধানতা ও ভুলের কারণে পোহাতে হয় নানাবিধ জামেলা ও হয়রানি।
অনলাইনে পণ্য কেনাকাটার ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষণীয় বিষয় :
১. কোন পন্য অর্ডার করার পূর্বে আগে দেখে নিন আপনি যে ফেইসবুক পেইজ বা ইউটিউব চ্যানেল থেকে অর্ডার করতে চাচ্ছেন তার গ্রহনযোগ্যতা কতটুকু অর্থাৎ এটি কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য।
২. ফেইসবুক পেইজের লাইক বা ফলোয়ারের সংখ্যা কত ? তাদের ব্যবসার স্থায়িত্বকাল কতদিনের, তারা কি কি পন্য বিক্রি করে থাকে, তাদের পন্যের গুনগত মান কেমন, চাহিদা কেমন তা যাচাই বাচাই করে নিন।
৩. যে ফেইসবুক পেইজ থেকে পণ্য অর্ডার করবেন, সেটির সঠিক ঠিকানা যাচাই বাচাই করে নিবেন। মোটকথা তাদের পেইজের ডিটেইলস আগে ভালো করে পড়ে বুজে নিবেন। এতে করে আপনি একটি ভালো ধারনা লাভ করতে পারবেন তারা কি আসল ব্যাবসায়ী নাকি তারা মানুষের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে।
৪. আপনি যে পণ্যটি আপনার ফেইসবুক পেইজ থেকে অর্ডার করতে চাচ্ছেন, আগে সেটির মূল্য ও বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে আপনি ঐ পণ্যের দাম বর্তমান বাজারে বা অন্যান্য ফেইজবুক পেইজে কত তা দেখে নিতে পারেন। এতে করে বিক্রেতা আপনার সাথে প্রতারণা করছে কিনা তা সহজে আপনি বুজতে পারবেন। বেশিরভাগ প্রতারকরা তাদের ফেইজবুক পেইজে পণ্যের দাম বিস্তর কমিয়ে আপনার মনের ভিতর লোভ সৃষ্টি করার মাধ্যমে আপনাকে প্রতারিত করে থাকে।
৫. লোভ থেকে দূরে থাকুন। কারণ কথায় আছে লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। অনলাইন যারা পণ্য বিক্রির নামে প্রতারণা করে তারা সর্বপ্রথম টার্গেট করে আপনার মনেযোগ কিসের উপর তার দিকে। তারা আপনাকে অতি নজরকাড়া পন্য দেখিয়ে প্রথমে আপনার দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করবে, তারপর তারা এই পন্য দাম একেবারে কম মূল্য নির্ধারন করে আপনার কাছে এটি বিক্রি করবে। আপনিতো মহা খুশি যে, এতা কম দামে এতো ভালো নজরকাড়া জিনিসটি কিনতে পেরেছেন। সর্বসাকুল্যে আপনি যে ঠকেছেন তার প্রমান মিলবে আপনি যখন পণ্যটি হাতে পেয়ে প্যাকেট খুলে দেখবেন ।
৬. ঢাকার শহরের ভিতরে যারা আছেন তাদেরকে প্রতারণার হাত থেকে সহজে কিভাবে রক্ষা পেতে পারেন এখন তা বলবো। যারা ঢাকার ভিতরে থাকেন তারা সবসময় পণ্যটি হ্যান্ড ডেলিভারি নিবেন। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস বা অনলাইন ব্যবসায়ীরা তাদের নিজস্ব ডেলিভারী ম্যান এর মাধ্যমে পন্য হাতে হাতে পৌছে দিতে সক্ষম। এতে করে আপনি পন্যটি দেখে আপনার প্রছন্দ হলে নিবেন, না হলে ফেরৎ দিবেন। প্রতারকরা আপনাকে পণ্যটি ডেলিভারী নেওয়ার সময় বলবে এস, এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিস বা অন্যান্য কুরিয়ার সার্ভিস এর মাধ্যমে পন্যটি ক্যশ অন ডেলিভারী নেওয়ার জন্য। আপনি ভুলেও তাদের এ কথা মানতে যাবেন না, কেননা ক্যশ অন ডেলিভারীতে পণ্যটি নেওয়ার সময় আপনি আগে টাকা জমা দিতে হবে, তারপর তারা আপনাকে পন্যটি হাতে দিবে। অতঃপর আপনি যদি আপনার পণ্যটি খারাপ পেয়ে থাকেন, এক্ষেত্রে কুরিয়ার সার্ভিসের লোকেরা এই দায়ভার নিবেনা। অন্যদিকে প্রতারকরা তাদের মোবাইলফোন ও সর্বপ্রকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে হাওয়ায় মিলে যাবে।
এককথায় বলতে গেলে আমি আপনাদের বলবো, একটু সতর্ক
ও জেনেবুজে যেকোন জিনিস অনলাইন থেকে কিনবেন। আপনার কষ্টের উপার্জিত অর্থ যাতে করে প্রতারকের হাতে না যায় সেদিকে খেয়াল করে আমার এই লিখা। আপনি যদি মনে করেন এই লিখাটি আপনার জন্য উপকার হয়েছে তাহলে আপনার প্রিয়জন, বন্ধুবান্ধব ও আশেপাশের মানুষের উপকার করতে চাইলে এই লিখাটি শেয়ার করবেন।
আগামী পর্বে থাকছে কিভাবে কোন হয়রানি ছাড়া আপনি এই প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন ।