24/08/2025
জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন
দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের মাসব্যাপী
শিল্পী সংগ্রহ অভিযান ২০২৫ উপলক্ষ্যে আহবান..
প্রিয় সংস্কৃতিপ্রেমী দেশবাসী,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
'স্বর্ণালী সম্ভারে সাজাই জীবন' এই স্লোগানকে ধারণ করে, ঐতিহ্যের লালন ও নৈতিক মননের বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে জাতীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
তার ধারাবাহিকতায় ২০ আগস্ট থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মাসব্যাপী জাতীয়ভাবে শিল্পী সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষ্যে সংস্কৃতিপ্রেমী দেশবাসীর প্রতি আমাদের আহ্বান-
১। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি পদক্ষেপে রয়েছে ইসলামের সুনিপুণ দিকনির্দেশনা। রাজনীতি, অর্থনীতির মতো সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও রয়েছে ইসলামের সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি। যা ঐতিহ্য, বিশ্বাস, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং ইসলামী সংস্কৃতি সম্পর্কে জানুন এবং সুস্থ ও রুচিশীল সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হোন।
২। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামী কৃষ্টি-কালচার চর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ইসলামী ঐতিহ্য ও ফ্যাশনকে জনপ্রিয় করার পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
৩। বিদ্যমান সাংস্কৃতিক প্রবাহকে অনুধাবন করে তার মন্দ দিকসমূহ তুলে ধরুন। এক্ষেত্রে অপসংস্কৃতিকে পরিহার করার মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।
৪। আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসনের আধুনিক মিডিয়া, সোশ্যাল প্ল্যাটফ্রম, সিনেমা, টিকটক, রিলস, ওয়েব সিরিজ, গান ও নাটকের মাধ্যমে নানা ধরনের অশ্লীল কন্টেন্ট তৈরি হচ্ছে। যা সমাজে বেহায়াপনা, প্রতারণা, পরকীয়া, ডিভোর্স সহ নৈতিক অবক্ষয় তৈরি করছে। এ ধরনের অশালীন কন্টেন্ট পরিহার ও বয়কট করে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।
৫। গান, নাটক ও চলচ্চিত্রে দেশ ও ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য বিকৃতির ব্যাপারে সোচ্চার হোন।
৬। যেসব গান-নাটক-সিনেমা পরিবার নিয়ে দেখার উপযোগী নয়; সেগুলো সর্বক্ষেত্রে বয়কট করুন এবং এসব ইন্ডাস্ট্রিতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধে ব্যবস্থা নিন।
৭। দেশীয় ঐতিহ্য, মূল্যবোধ সম্পন্ন সংস্কৃতির বিকাশ এবং আধিপত্যবাদ বিরোধী সাংস্কৃতিক বলয় তৈরিতে জনমত গড়ে তুলুন।
৮। 'বাঙ্গালী সংস্কৃতি'র নামে ভিনদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে হবে। জাতীয় দিবস উদযাপনে বিদেশী ধারার অনুকরণ বর্জন করে আমাদের নিজস্ব কৃষ্টি-কালচার ও মূল্যবোধ নির্ভর সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিতে হবে।
৯। টেলিভিশন, রেডিও, পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়াকে সুস্থ সংস্কৃতির মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আনুষ্ঠানিক ভাবে শুধু রমজান মাসে নয়, নৈতিক ও মনন বিকাশে পুরো বছর জুড়ে ইসলামী প্রোগ্রাম গুরুত্বের সাথে প্রচার করতে হবে। প্রচার মাধ্যমে অশ্লীলতা ছড়ায় এমন মিডিয়াকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
১০। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত দগদগে ইতিহাসকে সমুন্নত রেখে রাষ্ট্রীয় সকল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ফ্যাসিবাদী ও তাদের দোসর মুক্ত করতে হবে।
১১। দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও তার প্রচার-প্রসারে জাতীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে হবে এবং এ সকল প্রতিষ্ঠানকে আরো সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করতে হবে।
১২। সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের জন্যে নয়; এটি প্রতিবাদ ও সমাজ পরিবর্তনেরও শক্তিশালী মাধ্যম। এর মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও ঐক্য-সংহতি জাগ্রত করুন।
১৩। অসহায় ও দুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মীদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সহায়তা বৃদ্ধির দাবি তুলুন।
১৪। অশ্লীল নৃত্য, অশীলন গান, সিনেমার মাধ্যমে বেহায়াপনার অনুশীলন, উচ্ছৃঙ্খলতা, কনসার্টের মাধ্যমে মাদক ও ইয়াবার বেসাতি, নাইটবার ও ক্যাসিনো, সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী ও মাদকের অবাধ প্রসার বন্ধ করতে হবে।
১৫। অবৈধপ্রেম, ব্যভিচার, ধর্ষণ, লিভ-টুগেদার, গর্ভপাত, সমকামিতা, বিবাহবিচ্ছেদ, যৌতুক, লেটম্যারেজ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন, পিতা-মাতার অবাধ্যতা, বৃদ্ধাশ্রম, হত্যা ও আত্মহত্যার পরিণাম সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করুন।
মা-আসসালাম
সাইফুল্লাহ মানছুর
সভাপতি
দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ