Bhoutik Kotha

  • Home
  • Bhoutik Kotha

Bhoutik Kotha ভৌতিক কথার ইউটিউব চ্যানেল - https://www.youtube.com/
ফেইসবুক গ্রুপে জয়েন করুন - https://www.facebook.com/groups/bhoutikkothaofficial/

PlayList
https://www.youtube.com/playlist?list=PLvrcsbnfeOyU-_OkMbBB7TAXusNM92ZNp
BHOUTIK KOTHA is a Bengali weekly horror storytelling show which is brought to you by it's own Youtube channel, hosted by Jeffrey Khan horror storyteller of Bangladesh. In this show, Jeffrey Khan and many other guests share thier supernatural experiences & stories for their listeners. If u want to share your own story with us then email us here - [email protected]

আসছি আজ রাত ঠিক ১০ টায় মুনকার জ্বিনের ঘটনা নিয়ে
08/04/2026

আসছি আজ রাত ঠিক ১০ টায় মুনকার জ্বিনের ঘটনা নিয়ে

আজ রাতে আবার পুরো এক বছর পর ফিরে আসবো মায়াপুরির রহস্য নিয়েরাত ঠিক ১০ টা ৩০ এ শুভ মুক্তি
25/03/2026

আজ রাতে আবার পুরো এক বছর পর ফিরে আসবো মায়াপুরির রহস্য নিয়ে
রাত ঠিক ১০ টা ৩০ এ শুভ মুক্তি

ভৌতিক কথার মেম্বারশিপ নিন এবং এক্সক্লুসিভ ঘটনা শুনুন - https://www.youtube.com/channel/UCrZ2O60RhGy9tDk3iC6Xi9w/joinFor Sending us storiesbhoutikstories@gma...

এই নেন আপনাদের প্রিয় মায়াপুরীর রহস্যর পোস্টার, অনেক ব্যাস্ত মায়াপুরীর এডিটিং নিয়ে তাই এখনো আমি ট্রেইলার রেডি করতে পারি ন...
16/03/2026

এই নেন আপনাদের প্রিয় মায়াপুরীর রহস্যর পোস্টার,
অনেক ব্যাস্ত মায়াপুরীর এডিটিং নিয়ে তাই এখনো আমি ট্রেইলার রেডি করতে পারি নাই । তাই পোস্টার আপলোড করে দিলাম ।
আসছে মায়াপুরীর ৪ নম্বর পর্ব এই ঈদের ঠিক চতুর্থ দিন ।
কি সবাই প্রস্তুত তো ? এই মহা পর্বের জন্য?

শুরু হয়ে গেলো মহা এপিসোড
09/02/2026

শুরু হয়ে গেলো মহা এপিসোড

For Sending us [email protected] Or Whatsapp - Watsapp No. - 01400930111Bhoutik Kotha 1000 - ১০০ টি ভৌতিক ঘটনা এক সাথে - The Longest Youtube Ho...

সবাইকে স্বাগতম জানাচ্ছি বাংলাদেশের হরর সিরিজ ভৌতিক কথার ১০০০ তম পর্বে। আজকের পর্বটি শুধু মাত্র স্পেশাল নয়, আমি বিশ্বাস ক...
09/02/2026

সবাইকে স্বাগতম জানাচ্ছি বাংলাদেশের হরর সিরিজ ভৌতিক কথার ১০০০ তম পর্বে। আজকের পর্বটি শুধু মাত্র স্পেশাল নয়, আমি বিশ্বাস করি ইউটিউব এ রিলিজ হওয়া সবচেয়ে বিশাল ভৌতিক কোন পর্ব হতে চলেছে এই পর্বটি । আমি চেয়েছিলাম বাংলাদেশী কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সবচেয়ে বড় কোন ভৌতিক শো এর পর্ব রিলিজ করতে ইউটিউব রিলিজ করতে, আজ হয়তো বা সেই স্বপ্নের পর্বটি রিলিজ করতে পারছি । শুধু মাত্র আপনাদের ভালোবাসা আছে বলেই সম্ভব হয়েছে।

যারা যারা ভুতের ঘটনা, ভুতের গল্প, ভৌতিক সিরিজ শুনতে পছন্দ করেন, আজকের পর্বটি তাদের জন্য একদম আদর্শনীয়, পুরো পর্বে আপ্নারা শুনবে ১১ ঘন্টা ৫৮ মিনিট দৈর্ঘের শুবিশাল পর্ব এবং এই সুবিশাল পর্বে আপ্নারা শুনবেন মোট ১০০ টি একদম ইউনিক ভৌতিক ঘটনা, যা আগে কোথাও প্রচার করা হয়নি,

তাই সবাইকে বলবো যতটা পারুন ভালো ভালো কমেন্ট করুন এবং আমাকে অনুপ্রেরনা দিন যেন আপনাদের জন্য আরো ভালো ভালো পর্ব নিয়ে আসতে পারি ভবিষ্যতে ।

ভৌতিক কথার আজকের এই পর্বটিকে স্মরনীয় করে রাখতে লাইক দিবেন, খুব ভালো কমেন্ট করবেন এবং লিংক কপি করে শেয়ার করে দিবেন আপনাদের শোস্যাল প্লাটফোর্মে ।
ভালোবাসা অবিরাম সবার জন্য ।

06/01/2026

খুব শিঘ্রই আর মাত্র ২০ দিন পর ভৌতিক কথায় এক ঐতিহাসিক পর্ব শেয়ার করতে চলেছি । আশা করি ঐ পর্বটি শুধু ভৌতিক কথার ইতিহাসে নয় , পুরো বাংলাদেশের ইতিহাসে হরর শো এর সবচেয়ে বড়ো ইউনিক পর্ব হতে চলেছে এবং ঐতিহাসিক পর্ব হতে চলেছে।

আসছে আগামি ২০ দিন পর ভৌতিক কথার ১ হাজার তম পর্ব ।

আপনাদের সবাইকে আহবান করবো ১০০০ তম পর্বটিকে ঐতিহাসিক করে রাখার জন্য সেরা সেরা গল্প লিখুন এবং পাঠিয়ে দিন আমার কাছে

আমার প্ল্যান আছে সেরা ১০০ টি ঘটনা পড়ে শোনাবো এক পর্বে ।
আশা করি ১০০ টা স্টোরি পড়তে বেশ সময় লাগবে হতে পারে ৫ ঘন্টা হতে পারে ১০ ঘনটা । আমার সমস্যা নেই । আপনাদের বিনোদন দেয়ার জন্য গত ৫ বছর এক সাথে আছি । ইনশাল্লাহ এক টানা ১০০ টা ঘটনা পড়া অসম্ভব কোন কাজ হবে না ।
তাই সবাই ঘটনা পাঠিয়ে দিন আমাকে যত দ্রুত সম্ভব ।

অবশ্যই ঘটনার একদম শুরুতে লিখবেন - "ঘটনাটি ১ হাজার তম পর্বের জন্য লেখা"

email - [email protected]
whatstapp - 01400-930111

 #শকুনের হাড়ের কবচলেখক: অনির্বাণ সান্যালঅন্ধকারের বুক চিরে যখন পচাগলা লাশের কটু গন্ধ নাকে আসে, তখন বুঝবেন যমদূত আপনার পা...
02/01/2026

#শকুনের হাড়ের কবচ
লেখক: অনির্বাণ সান্যাল

অন্ধকারের বুক চিরে যখন পচাগলা লাশের কটু গন্ধ নাকে আসে, তখন বুঝবেন যমদূত আপনার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু সেই যমদূত যদি আপনার পরমাত্মীয় কেউ হয়? হাড়ের ভেতর লুকিয়ে থাকা আদিম ক্ষুধা যখন মানুষের বিবেক আর রুচিকে ছিঁড়েখুঁড়ে গিলে খায়, তখন জন্ম নেয় এক বীভৎস উপাখ্যান। মানুষ তখন আর মানুষ থাকে না, হয়ে ওঠে এক জীবন্ত শবদেহ, যার আত্মা তৃষ্ণার্ত থাকে কেবল গলিত মাংসের জন্য। এই গল্পটি কোনো কল্পনা নয়, বরং মানুষের লালসা আর এক তান্ত্রিকের পৈশাচিক সাধনার এক কালজয়ী অন্ধকার অধ্যায়।
গ্রামের একদম শেষ মাথায়, যেখানে শ্মশান আর ঘন জঙ্গল মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, সেখানে বাস করত ‘কালু তান্ত্রিক’। লোকটা সম্পর্কে গ্রামে নানারকম কথা প্রচলিত ছিল। কেউ বলত সে মড়া খেকো, কেউ বলত সে বাতাস থেকে আত্মা বন্দি করতে পারে। তবে তার সবচেয়ে ভীতি জাগানিয়া বিষয় ছিল তার তৈরি তাবিজে। লোকে বলত, কালু তান্ত্রিকের দেয়া তাবিজ যেমন কাজ করে, তেমনি তার খেসারত দিতে হয় হাড়মজ্জায়। সেই গ্রামেই বাস করত রতন। ছাব্বিশ-সাতাশ বছরের তেজি যুবক। অভাবের সংসার হলেও রতনের সাহস ছিল দেখার মতো। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে তার ব্যবসায় মন্দা চলায় সে কিছুটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। আর সেই সুযোগটাই নিয়েছিল কালু তান্ত্রিক।
সেদিন ছিল অমাবস্যার রাত। আকাশে চাঁদ নেই, চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। রতন গিয়েছিল কালু তান্ত্রিকের কুটিরে। কুটিরের ভেতরটা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, আর কিসের একটা বিদঘুটে গন্ধ চারদিকে। কালু তান্ত্রিক আগুনের সামনে বসে বিড়বিড় করে কী যেন পড়ছিল। রতনকে দেখে সে একটা কুটিল হাসি হাসল। তার চোখের মণি দুটো আগুনের আলোয় লাল হয়ে জ্বলছিল।
"এসেছিস তবে? জানতাম আসবি। তোর হাতের রেখা বলছে তোর খুব খারাপ সময় যাচ্ছে। কিন্তু এই নে, এটা ধারণ কর। তোর সব বাধা কেটে যাবে।"
তান্ত্রিক রতনের দিকে একটা তামাটে রঙের তাবিজ বাড়িয়ে দিল। তাবিজের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে খসখসে। রতন যখন সেটা হাতে নিল, তার শিরদাঁড়া দিয়ে একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল। তাবিজটা গলায় পরার সময় তার মনে হলো, ওটা যেন হালকা স্পন্দিত হচ্ছে। ঠিক যেন একটা জীবন্ত হৃদপিণ্ড।
"বাবা, এর ভেতরে কী আছে?" রতন আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করল।
তান্ত্রিকের হাসিটা আরও চওড়া হলো। "ওটা একটা বিশেষ হাড়। শকুনের হাড়। যে শকুন মরা পশুর মাংস খেয়ে বাঁচে, সেই শকুনের হাড় দিয়ে তৈরি এই কবচ। এটা তোকে শক্তি দেবে, তোর ক্ষুধা মেটাবে।"
রতন তান্ত্রিকের কথাগুলোর গূঢ় অর্থ তখন বুঝতে পারেনি। সে তাবিজটা গলায় পরে বাড়িতে ফিরে এল। কিন্তু সেই রাত থেকেই শুরু হলো এক অদ্ভুত পরিবর্তন। প্রথম কয়েকদিন রতনের খুব ভালো ঘুম হলো। কিন্তু সাত দিন পার হওয়ার পর থেকেই তার নাকে এক অদ্ভুত গন্ধ আসতে শুরু করল। যেখানেই সে যায়, তার মনে হয় কোথাও যেন কোনো পশু মরে পচে পড়ে আছে। সে তার মা’কে জিজ্ঞেস করল, "মা, বাড়িতে কি ইঁদুর মরেছে? গন্ধে টেকা যাচ্ছে না।"
তার মা অবাক হয়ে বললেন, "কই না তো রে? আমি তো কোনো গন্ধ পাচ্ছি না। তোর হয়তো সর্দি হয়েছে, তাই এরকম লাগছে।"
কিন্তু গন্ধটা রতনের পিছু ছাড়ল না। শুধু তাই নয়, ধীরে ধীরে রতনের গায়ের থেকেও সেই একই গন্ধ বের হতে শুরু করল। একটা উটকো, পচাগলা গন্ধ। রতন দিনে তিনবার করে গোসল করতে লাগল, গায়ে সুগন্ধি মাখল, কিন্তু কোনো লাভ হলো না। সেই পচা গন্ধটা তার চামড়ার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছিল।
দশম দিনের মাথায় রতনের খাদ্যাভ্যাস আমূল বদলে গেল। বাড়িতে মাছের ঝোল রান্না হয়েছে, রতনের প্রিয় খাবার। কিন্তু পাতে খাবার নিতেই তার গা গুলিয়ে উঠল। টাটকা মাছের গন্ধ তার কাছে মনে হলো কোনো নর্দমার দুর্গন্ধের মতো। সে থালা ঠেলে উঠে দাঁড়াল।
"কী হলো রে রতন? খেলি না যে বড়?" তার মা চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞেস করলেন।
রতন রুক্ষ স্বরে বলল, "ভালো লাগছে না। এসব বাসি খাবার দাও কেন আমাকে? টাটকা কিছু নেই?"
"বাসি কোথায় রে? এই তো মাত্র পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে এল তোর কাকা।"
রতন আর কোনো কথা না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। তার পেটের ভেতর তখন এক অদ্ভুত যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। ক্ষুধা লেগেছে প্রচণ্ড, কিন্তু সেই ক্ষুধা সাধারণ খাবারের নয়। তার জিহ্বা তখন খুঁজছে এমন কিছু যা নোনা, যা অনেক দিনের পুরনো, যা গলে গেছে। রতন হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের নির্জন রাস্তার দিকে চলে গেল। তার হাঁটাচলাও যেন বদলে গেছে। সে এখন কুঁজো হয়ে হাঁটে, আর বারবার নাক টেনে বাতাসের গন্ধ শোঁকে।
মাঝরাস্তায় সে হঠাৎ থমকে দাঁড়াল। বাতাসের ঝাপটায় একটা তীব্র গন্ধ তার নাকে এল। আহ! কী অপূর্ব সেই গন্ধ! রতনের লালা ঝরতে শুরু করল। সে উন্মাদের মতো সেই গন্ধের উৎস খুঁজতে লাগল। ঝোপঝাড় ঠেলে সে যখন গ্রামের ভাগাড়ের কাছে পৌঁছাল, দেখল সেখানে একটা মরা গরু পড়ে আছে। দুই দিন আগের মরা গরু, পেটটা ফুলে ঢোল হয়ে গেছে, চামড়া ফেটে রস বের হচ্ছে।
সাধারণ কোনো মানুষ হলে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকাই দায় হতো। কিন্তু রতনের চোখেমুখে তখন এক পৈশাচিক আনন্দ। সে হামাগুড়ি দিয়ে সেই মরা গরুটার কাছে এগিয়ে গেল। তার বিবেক তাকে বাধা দিতে চাইল, কিন্তু গলার সেই শকুনের হাড়ের তাবিজটা তখন আগুনের মতো গরম হয়ে উঠেছে। রতনের মনে হলো, কেউ একজন তার কানে কানে ফিসফিস করে বলছে, "খাও... এটাই তো তোর আসল খাদ্য। এটাই তোকে শক্তি দেবে।"
রতন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে তার নখ দিয়ে গরুর পচা চামড়া ছিঁড়তে শুরু করল। তার দাঁতগুলো যেন মুহূর্তেই তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল। সে কাঁচা, পচা মাংস ছিঁড়ে গোগ্রাসে গিলতে লাগল। তার সারা মুখে রক্ত আর পুঁজ লেগে এক বীভৎস অবস্থার সৃষ্টি হলো। সেই রাতে রতন মানুষ থেকে এক শকুন-মানব হয়ে উঠল।
পরদিন সকালে রতন যখন বাড়ি ফিরল, তার চোখেমুখে এক অদ্ভুত আচ্ছন্নতা। তার মা তাকে দেখে আঁতকে উঠলেন।
"রতন! তোর একি অবস্থা? তোর জামাকাপড়ে ওসব কিসের দাগ? আর তোর গা দিয়ে ওমন মড়াকাটা গন্ধ বেরোচ্ছে কেন?"
রতন কোনো উত্তর দিল না। সে সরাসরি নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল। তার মা খেয়াল করলেন, রতনের নখের কোণে জমাট বাঁধা রক্ত আর মাংসের কুচি লেগে আছে। ভয়ে তার মায়ের বুক কেঁপে উঠল। তিনি বুঝতে পারলেন, তার ছেলে কোনো এক অশুভ শক্তির কবলে পড়েছে।
গ্রামে ধীরে ধীরে রতনের এই পরিবর্তনের কথা ছড়িয়ে পড়তে লাগল। প্রতি রাতে গ্রামের কোনো না কোনো গোয়াল থেকে বা ভাগাড় থেকে অদ্ভুত সব শব্দ শোনা যায়। কেউ একজন যেন অন্ধকারে মরা প্রাণীদের খুবলে খাচ্ছে। গ্রামের চকিদার একদিন রাতে রতনকে দেখে ফেলেছিল ভাগাড়ে। সে এসে পরদিন সকালে সবাইকে বলল, "বিশ্বাস করেন মন্ডল মশাই, আমি নিজের চোখে দেখেছি রতনকে। ও মানুষ না, ও যেন একটা নরখাদক শকুনে পরিণত হয়েছে। মরা পশুর নাড়িভুঁড়ি ও যেভাবে ছিঁড়ে খাচ্ছিল, তা দেখে আমার জান শুকিয়ে গেছে।"
গ্রামের মাতব্বররা স্থির করলেন তারা রতনের বাড়িতে যাবেন। কিন্তু রতন তখন আর ঘরে নেই। সে দিনের বেলা ঘরের কোণে অন্ধকারে বসে থাকে, আর সূর্য ডুবলেই তার আসল রূপ বেরিয়ে আসে। তার গায়ের চামড়া ফ্যাকাশে হয়ে ঝুলে গেছে, চোখ দুটো কোটরাগত আর লাল।
রতনের মা কান্নাকাটি শুরু করলেন। "ও বাবা কালু তান্ত্রিক, আমার ছেলের একি দশা করলে তুমি? ও তো আর আগের মতো নেই। ও এখন মরা মাংসের জন্য পাগল হয়ে থাকে।"
গ্রামের লোকজন যখন কালু তান্ত্রিকের ডেরায় পৌঁছাল, দেখল কুটিরটা ফাঁকা। তান্ত্রিক উধাও। শুধু মেঝেতে পড়ে আছে কিছু মানুষের হাড় আর শুকনো রক্তের দাগ। কালু তান্ত্রিক তার কাজ শেষ করে চলে গেছে। সে রতনকে এক অন্তহীন অভিশাপের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এদিকে রতনের অবস্থা দিনে দিনে আরও খারাপ হতে লাগল। সে এখন আর শুধু ভাগাড়ে সীমাবদ্ধ নেই। গ্রামের ছোট ছোট পশুগুলো নিখোঁজ হতে শুরু করল। রতনের ক্ষুধার কোনো শেষ নেই। সে এখন পচা মাংসের গন্ধে এতটাই নেশাগ্রস্ত যে, সে মানুষের গন্ধ শুঁকেও লালা ঝরানো শুরু করেছে। একদিন সন্ধ্যায় রতনের মা যখন তার জন্য খাবার নিয়ে ঘরে ঢুকলেন, রতন অন্ধকারে বসে ছিল।
তার মা ডাকলেন, "রতন, বাবা একটু খেয়ে নে। দেখ আজ তোর জন্য দুধ-ভাত এনেছি।"
রতন অন্ধকারে মাথা ঘুরিয়ে তার মায়ের দিকে তাকাল। তার চোখ দুটো অন্ধকারে জ্বলজ্বল করছে। সে নাক টেনে তার মায়ের শরীরের গন্ধ নিতে লাগল।
"মা... তোমার গায়ের গন্ধটা বড় টাটকা। কিন্তু আমার পচা গন্ধ চাই... তোমার ভেতরেও কি পচা মাংস আছে মা?"
রতনের মা ভয়ে চিৎকার দিয়ে থালা ফেলে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, তার ছেলে আর বেঁচে নেই। তার শরীরের ভেতর এখন এক ক্ষুধার্ত শকুন বাস করছে। রতন ঘর থেকে বেরিয়ে এল। তার হাঁটার ধরন এখন পুরোই পশুর মতো। সে চার হাত-পায়ে ভর দিয়ে দ্রুত গতিতে বনের দিকে ছুটে গেল।
গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা আর মশাল নিয়ে রতনকে খুঁজতে বের হলো। তারা জানে, এই দানবকে যদি এখনই থামানো না যায়, তবে এই গ্রাম শ্মশানে পরিণত হবে। বনের ভেতরে তারা যখন পৌঁছাল, দেখল রতন একটা পুরনো বটগাছের নিচে বসে আছে। তার সামনে পড়ে আছে একটা পচা শিয়ালের দেহ। রতন সেটা ছিঁড়ে খাচ্ছে।
মশালের আলোয় রতনের চেহারা দেখে সবাই শিউরে উঠল। তার গলার সেই তাবিজটা এখন কালো হয়ে গেছে, আর সেটা রতনের চামড়ার সাথে যেন গেঁথে গেছে। ওটা আর আলাদা করার উপায় নেই। রতন মানুষের কথা বলা ভুলে গেছে, সে শুধু গলার ভেতর দিয়ে এক অদ্ভুত ঘড়ঘড় শব্দ করছে।
গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ মন্ডল মশাই বললেন, "ওর ওপর শকুনের হাড়ের অভিশাপ লেগেছে। কালু তান্ত্রিক ওকে জীবন্ত প্রেত বানিয়ে দিয়ে গেছে। ওকে মারলে ওর মুক্তি হবে না, বরং ওর আত্মা এই গ্রামেই ঘুরে বেড়াবে।"
রতন হঠাৎ সবার দিকে ফিরে তাকাল। তার মুখভর্তি পচা মাংস। সে একটা বিকট চিৎকার দিল, যা কোনো মানুষের কন্ঠ হতে পারে না। তারপর সে অন্ধকারের গভীরে মিলিয়ে গেল। এরপর থেকে রতনকে আর কেউ গ্রামে দিনের আলোয় দেখেনি। কিন্তু প্রতি অমাবস্যার রাতে, যখন বাতাস ভারি হয়ে ওঠে মরা পশুর গন্ধে, যখন গ্রামের কুকুরের দল অকারণে ডাকতে শুরু করে, তখন লোকে বুঝতে পারে—রতন আশেপাশে কোথাও আছে। সে এখনো খুঁজছে তার সেই প্রিয় খাদ্য, আর তার গলার সেই তাবিজে এখনো স্পন্দিত হচ্ছে শকুনের সেই অভিশপ্ত হাড়।
গ্রামের বাতাস যেন ভারী হয়ে জমে গিয়েছিল। সেই যে রাতে রতন বনের অন্ধকারে হারিয়ে গেল, তারপর থেকে রাতের নিস্তব্ধতা আর আগের মতো নেই। এখন অন্ধকার নামলেই এক অদ্ভুত ঘষটানোর শব্দ শোনা যায় ঝোপঝাড়ের আড়ালে। রতনের মা পাগলের মতো হয়ে গেছেন। দিনভর দাওয়ায় বসে থাকেন আর বিড়বিড় করেন, "খাবে না ও, আমার রতন ওসব খাবে না। ও তো আমার কোল আলো করা ছেলে।" কিন্তু তার চোখের কোণে জমে থাকা ভয় বলে দেয়, তিনি নিজেও জানেন তার সন্তান আর মানুষ নেই। তিনি দেখেছেন রতনের নখের নিচে আটকে থাকা সেই থিকথিকে কালচে রক্ত আর চামড়ার টুকরো। গ্রামের মানুষ এখন আর সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হয় না। ঘরে ঘরে ধুনো দেওয়া হয়, দরজায় শক্ত হুড়কো আঁটা হয়। তবুও সেই গন্ধটা আটকানো যায় না। পচা মাংসের সেই বিদঘুটে কটু গন্ধ দেয়াল ফুঁড়ে ঘরে ঢোকে, ঘুমের ঘোরে মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসে। রতনের সেই গলার হাড়ের কবচ যেন পুরো গ্রামকে একটা বিশাল মড়াকাটা ঘরের মতো গুমোট করে দিয়েছে।
ঘটনার প্রায় এক মাস পরের কথা। গ্রামের প্রান্তে থাকা সেই বিশাল ভাগাড়ের পাশে এক রাতে এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেল। গ্রামের কয়েকজন সাহসী জোয়ান, যারা পাহারা দিচ্ছিল, তারা দূর থেকে মশালের আলোয় দেখল, রতন আর চার হাত-পায়ে হাঁটছে না। সে এখন পুরোপুরি কুঁজো হয়ে একপাশে কাত হয়ে চলছে, তার হাতের আঙুলগুলো অস্বাভাবিক লম্বা হয়ে গেছে। সে একটা মরা ছাগলকে টেনে হিঁচড়ে জঙ্গলের গভীরে নিয়ে যাচ্ছে। তার মুখ দিয়ে অস্ফুট এক শব্দ বের হচ্ছে, যা অনেকটা শকুনের ডানা ঝাপটানোর শব্দের মতো। তারা পিছু নেওয়ার সাহস পেল না, কারণ রতনের শরীর থেকে যে আদিম ও পৈশাচিক শক্তির বিকিরণ ঘটছিল, তা তাদের রক্ত হিম করে দিচ্ছিল। পরদিন সকালে সেই ছাগলটার যে অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেল, তা দেখে গ্রামের কসাইও বমি করে ফেলল। হাড়গুলো এমনভাবে চিবানো হয়েছে যে ভেতর থেকে মজ্জাটুকু পর্যন্ত শুষে নেওয়া হয়েছে। এটা কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না, এমনকি কোনো হায়েনার পক্ষেও এভাবে হাড় চূর্ণ করা অসম্ভব।
গ্রামের মন্ডল মশাই আর স্থির থাকতে পারলেন না। তিনি পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে এক তান্ত্রিককে নিয়ে এলেন। লিকলিকে শরীর, কপালে সিঁদুরের তিলক আর চোখে এক তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। তান্ত্রিক রতনের ঘরে ঢুকেই নাক চেপে ধরলেন। তারপর রতনের বিছানা থেকে এক মুঠো ধুলো নিয়ে মন্ত্র পড়ে ফুঁ দিলেন। ধুলোটা সাথে সাথে আগুনের মতো জ্বলে উঠল। তান্ত্রিক গম্ভীর গলায় বললেন, "এ বড় ভয়ানক খেলা। কালু তান্ত্রিক যা করেছে, তা কোনো সাধারণ মন্ত্র নয়। ও মৃত আত্মার ক্ষুধা এক জীবন্ত মানুষের শরীরে পুরে দিয়েছে। ওই শকুনের হাড়টা সাধারণ কোনো হাড় নয়; ওটা এমন এক শকুনের যে কোনো এক তান্ত্রিকের অভিশাপে নিজেই নিজেকে খেয়ে ফেলেছিল। সেই হাড় এখন রতনের হৃদপিণ্ডের সাথে মিশে গেছে।"
সবাই যখন তান্ত্রিকের কথা শুনছিল, ঠিক তখনই বাড়ির পেছনের জঙ্গল থেকে একটা খিলখিল হাসি শোনা গেল। হাসিটা রতনের, কিন্তু তাতে কোনো মনুষ্যত্ব নেই। মনে হচ্ছিল যেন কয়েকশ শকুন একসাথে ডানা ঝাপটানি দিচ্ছে।
"কে ওখানে? রতন? রতন রে, ঘরে আয় বাবা! তোর জন্য কত কী রান্না করেছি দেখ!" রতনের মা চিৎকার করে দৌড়ে বাইরে গেলেন।
তান্ত্রিক তাকে বাধা দিতে চাইলেন কিন্তু পারলেন না। সবাই যখন বাইরে এল, দেখল অন্ধকারের একদম কিনারে রতন দাঁড়িয়ে আছে। মশালের আলো তার মুখে পড়তেই সবার বুক কেঁপে উঠল। রতনের গায়ের চামড়া এখন ধূসর রঙের হয়ে গেছে, চোখের মণি বলতে কিছু নেই, শুধু সাদা দুটো গর্ত। তার গলার সেই তাবিজটা এখন চামড়া ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে এসেছে, ঠিক যেন গলার হাড়েরই একটা অংশ। তার শরীর থেকে একটা কালচে তরল চুঁইয়ে পড়ছে, যার গন্ধে চারপাশের গাছপালা যেন কুঁকড়ে যাচ্ছে।
রতন তার মায়ের দিকে তাকাল। তার ঠোঁট দুটো বীভৎসভাবে কাঁপাছে। সে অস্ফুট স্বরে বলল, "মা... ক্ষুধা... বড় ক্ষুধা... ভেতরে কে যেন কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে।"
রতনের মা কাঁদতে কাঁদতে এগিয়ে গেলেন, "আয় বাবা, আমার কাছে আয়। কী খাবি তুই? আমি তোকে সব দেব।"
রতন একটা বিকট হাঁ করল। তার দাঁতগুলো এখন ছোট ছোট করাতের মতো তীক্ষ্ণ। সে তার মায়ের দিকে এক পা এগিয়ে এসে আবার পিছিয়ে গেল। তার ভেতরে বোধহয় এখনো সামান্য কিছু মানবিকতা অবশিষ্ট ছিল। সে তীব্র আর্তনাদ করে উঠল, "না! দূরে থাকো! তোমার ভেতরেও মাংস আছে মা... তোমার হাড়ের ভেতরেও রক্ত আছে... ওটা চাইছে... হাড়টা চাইছে!"
তান্ত্রিক তখন চিৎকার করে উঠলেন, "সবাই সরো! ও এখন আর মানুষ নেই। ওর ক্ষুধা এখন জীবিত মাংসের স্বাদ নিতে চাইছে। ওই কবচ ওকে দিয়ে পুরো গ্রাম সাবাড় করাবে।"
তান্ত্রিক তার ঝোলা থেকে কিছু কালো সরিষা বের করে রতনের দিকে ছুঁড়ে মারলেন। সরিষাগুলো রতনের গায়ে লাগার সাথে সাথে সেখান থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করল। রতন যন্ত্রণায় কাতরে উঠল। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিজের গলা নিজেই আঁচড়াতে লাগল। সে সেই তাবিজটা ছিঁড়ে ফেলতে চায়, কিন্তু কবচটা এখন তার মেরুদণ্ডের সাথে গেঁথে গেছে। রতনের নখের আঁচড়ে তার নিজের গলার মাংস ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে লাগল, কিন্তু রক্ত বেরোলো না। বেরোলো কিছু পচা পুঁজ আর পোকা। দৃশ্যটা এতটাই বীভৎস ছিল যে কয়েকজন লোক সেখানেই মূর্ছা গেল।
"আমাকে মারো... দয়া করে আমাকে শেষ করো..." রতন গোঙাতে গোঙাতে বলল। কিন্তু তার কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে বদলে গিয়ে এক কর্কশ শকুনের ডাকে পরিণত হলো।
হঠাৎ এক দমকা হাওয়া এল। মশালের আগুনগুলো নিভে গেল এক লহমায়। অন্ধকারের ভেতর শুধু রতনের সেই সাদা চোখ দুটো জ্বলতে দেখা গেল। তান্ত্রিক তার ঝোলা থেকে একটা রুপোর ছুরি বের করে অন্ধকারের দিকে ছুড়লেন। এক বিকট আর্তনাদ শোনা গেল, তারপর সব চুপ। গ্রামের লোক যখন আবার মশাল জ্বালাল, দেখল রতন সেখানে নেই। মাটিতে পড়ে আছে শুধু এক দলা মাংস আর রতনের সেই ছেঁড়া জামাটা। তান্ত্রিক ঘামতে ঘামতে বললেন, "ও পালিয়ে গেছে। কিন্তু ও শেষ হয়নি। ওর ভেতরের সেই শকুনের আত্মা এখন পুরোপুরি ওর শরীর দখল করে নিয়েছে। ও এখন শুধু অন্ধকারেই বিচরণ করবে।"
সেই রাতের পর থেকে রতনকে আর কখনো সোজা হয়ে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। কিন্তু গ্রামের বিভীষিকা তাতে শেষ হয়নি। বরং আরও ঘনীভূত হয়েছে। এখন গভীর রাতে গ্রামের মানুষ ঘরের বাইরে খচখচ শব্দ শুনতে পায়। যেন কেউ দরজার নিচ দিয়ে তার লম্বা নখ ঢুকিয়ে ভেতরের গন্ধ শোঁকার চেষ্টা করছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, রতনের মা একদিন সকালে ঘর থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। তার ঘরে শুধু পাওয়া গেল একগুচ্ছ ধূসর পালক আর বিছানায় লেগে থাকা সেই মড়াকাটা গন্ধ।
তান্ত্রিক বলেছিলেন, ওই হাড়ের কবচ যার ওপর ভর করে, সে তার চারপাশের সব জীবন্ত অস্তিত্বকে পচিয়ে দেয়। গ্রামের গাছপালাগুলো ধীরে ধীরে মরে যেতে লাগল। কুয়োর জল হয়ে গেল কালচে আর দুর্গন্ধযুক্ত। গ্রামের পশুগুলো অকারণে মারা যেতে শুরু করল। আর প্রতিটি পশুর দেহ থেকে একই কায়দায় মজ্জা শুষে নেওয়া হতে লাগল।
গল্পের শেষ এখানেই হতে পারত, কিন্তু ডার্ক সাইকোলজির খেলাটা শুরু হলো অন্যখানে। গ্রামের মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা দিল। তারা সারাক্ষণ একে অপরের দিকে সন্দেহের চোখে তাকাতে লাগল। রতনের সেই পচা গন্ধটা যেন সবার মনে গেঁথে গেছে। মানুষ এখন টাটকা খাবারের চেয়ে বাসি আর পচা খাবারের দিকে বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। রতনকে না পাওয়া গেলেও, সেই হাড়ের কবচের প্রভাব পুরো গ্রামকে একটা ‘জীবন্ত কবরস্থানে’ পরিণত করেছে। মানুষ এখন রাতে ঘুমানোর বদলে ঘরের কোণে বসে থাকে, ঠিক যেমন রতন থাকত। তাদের চোখগুলো ধীরে ধীরে কোটরাগত হয়ে যাচ্ছে।
একদিন রাতে মন্ডল মশাই নিজে আবিষ্কার করলেন, তিনি তার নিজের হাতের চামড়া কামড়াচ্ছেন। তার কাছে মনে হচ্ছে, তার শরীরের রক্তগুলো পচে গেলে বুঝি খুব ভালো হতো। তিনি আয়নায় তাকিয়ে দেখলেন, তার গলায় একটা হালকা কালচে দাগ পড়ছে, ঠিক যেন কোনো তাবিজের ফিতে বসে যাওয়ার দাগ। তিনি চিৎকার করতে চাইলেন, কিন্তু তার গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না, শুধু এক কর্কশ ঘড়ঘড়ানি শব্দ বের হলো।
বনের গভীরে সেই বটগাছের তলায় এখন এক নতুন রাজা বাস করে। যার অর্ধেক শরীর মানুষের আর অর্ধেক শরীর এক বিশালাকার শকুনের মতো। সে একা নয়, গ্রামের অদৃশ্য আত্মাগুলো এখন তার চারপাশে ঘোরে। কালু তান্ত্রিকের সেই শকুনের হাড়ের কবচ শুধু রতনকে ধ্বংস করেনি, সে একটা পুরো জনপদকে মৃত্যুর ওপারে নিয়ে গেছে। অন্ধকার রাতে এখনো যদি কেউ সেই গ্রামের পাশ দিয়ে যায়, সে শুনতে পায় অগণিত ডানা ঝাপটানোর শব্দ। আর নাকে আসে সেই গা গুলিয়ে ওঠা পচা মাংসের গন্ধ। বাতাস ফিসফিস করে বলে ওঠে— "ক্ষুধা... বড় ক্ষুধা।"
আপনার যদি মনে হয় ঘরের কোণে কেউ বসে আছে আর আপনার ঘাড়ের দিকে তাকিয়ে নিঃশ্বাস ফেলছে, তবে একবার হাত দিয়ে দেখুন তো— আপনার গলায় কোনো অদৃশ্য ফিতের দাগ পড়ছে কি না? কারণ শকুনের সেই হাড়ের ক্ষুধা কখনো মেটে না, সে শুধু নতুন নতুন শরীর খোঁজে। অন্ধকার আপনার খুব কাছেই দাঁড়িয়ে আছে, হয়তো সে আপনার নিশ্বাসের পচা গন্ধ হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে।

(END)
Noted: This story is protected under copyright law and copyrighted by Bhoutik kotha. Unauthorized copying, posting, or sharing may result in DMCA takedown, legal action, and Facebook account penalties. Content is tracked digitally—violators will be reported and penalized.
#ভূতেরগল্প #ভৌতিক #ভুত

 #অভিশপ্ত নৌকা লেখক: আরিয়ান আহমেদনিঝুম রাতের নিস্তব্ধতা চিরে যখন পচা জলের ভ্যাপসা গন্ধ নাকে আসে, আর কুয়াশাচ্ছন্ন নদীর বু...
02/01/2026

#অভিশপ্ত নৌকা
লেখক: আরিয়ান আহমেদ

নিঝুম রাতের নিস্তব্ধতা চিরে যখন পচা জলের ভ্যাপসা গন্ধ নাকে আসে, আর কুয়াশাচ্ছন্ন নদীর বুক চিরে ভেসে আসে কাঠের ওপর কাঠের ঘর্ষণের সেই অশুভ শব্দ—'খটখট, ছলাৎ', তখন বুঝবেন মৃত্যু খুব কাছেই কোথাও বৈঠা বাইছে। মানুষ বলে ওটা মরা মানুষের নৌকা, যা অভিশাপ বয়ে বেড়ায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

পদ্মার এক শাখা নদী, স্থানীয়রা যাকে কালিন্দী বলে ডাকে, তার পাড়ে সে রাতেও নেমেছিল ঘুটঘুটে অন্ধকার। অমাবস্যার রাত না হলেও আকাশে মেঘের ঘনঘটা ছিল এমন যে, হাতের তালুও দেখা যাচ্ছিল না। জেলের দল সাধারণত দল বেঁধে মাছ ধরতে নামে, কিন্তু রহিম আর তার ছোট ভাই সজল সেদিন একটু দেরি করেই নৌকা ভাসিয়েছিল। বড় মাছের আশায় তারা নদীর অনেকটা ভেতরে চলে আসে, যেখানে লোকালয়ের আলো দেখা যায় না, শুধু শোনা যায় ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর জলের ছলছল শব্দ।
হঠাৎ নদীর মাঝখানে একখণ্ড কালো ছায়ার মতো কিছু একটা স্থির হয়ে থাকতে দেখে সজল বৈঠা থামিয়ে দিল। কুয়াশা ফুঁড়ে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এল একটা জীর্ণ, পুরনো নৌকা। নৌকার কাঠগুলো কালো হয়ে গেছে, যেন বহু বছর ধরে পচা জলের নিচে পড়ে ছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই নৌকায় কোনো আলো নেই, নেই কোনো মানুষ। অথচ নদীর স্রোতের বিপরীতে নৌকাটি যেন এক অদ্ভুত ছন্দে এগিয়ে চলছে।
"ভাই, ঐ দেখ ওটা কি? মাঝনদীতে এমনে একটা নৌকা ভাইসা আছে কেন?" সজলের গলায় স্পষ্ট ভয়ের আভাস।
রহিম অভিজ্ঞ জেলে, কিন্তু তার কপালেও চিন্তার ভাঁজ পড়ল। সে বিড়বিড় করে বলল, "নৌকা তো থামা থাকার কথা না। আর ঐটা তো মনে হইতাছে মরা মানুষের নৌকা। জেলেরা যা কয়, তবে কি হেইডাই?"
সজল একটু সাহসী হওয়ার চেষ্টা করে বলল, "ধুর ভাই, মরা মানুষের আবার নৌকা হয় নাকি? মনে হয় কুনো জেলের নৌকা রশি ছিঁড়া ভাইসা আইছে। চলেন দেখি, যদি ভালো জাল বা কোনো সরঞ্জাম থাকে।"
রহিম বাধা দিতে চাইল, কিন্তু ততক্ষণে সজলের কৌতুহল চরমে। তারা নিজেদের নৌকাটা সেই পরিত্যক্ত নৌকার একদম কাছে নিয়ে গেল। কাছে যেতেই একটা তীব্র পচা গন্ধ তাদের নাকে ধাক্কা দিল। এটা মাছের গন্ধ নয়, যেন কোনো প্রাণী বহু দিন ধরে পচে গলে একাকার হয়ে আছে।
রহিম চিৎকার করে উঠল, "সজল, ধরিস না! নৌকা ফিরায় ল। গন্ধটা ভালো ঠেকতাছে না।"
কিন্তু ততক্ষণে একটা বিচিত্র শব্দ শুরু হয়েছে। শূন্য নৌকাটির ভেতর থেকে কেউ যেন অদৃশ্য বৈঠা বাইছে। ‘ছলাৎ... ছলাৎ...’ জল কাটার শব্দ হচ্ছে, কিন্তু পানিতে কোনো ঢেউ উঠছে না। রহিম লক্ষ্য করল, সেই নৌকার পাটাতনের ওপর একটা পুরনো আমলের ভাঙা লণ্ঠন পড়ে আছে, যা থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে, কিন্তু কোনো আগুন নেই।
হঠাৎ সজল আর্তনাদ করে উঠল। সে নৌকার গলুইয়ের কাছে ঝুঁকে কিছু একটা দেখার চেষ্টা করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বাতাসের মধ্য দিয়ে কিছু একটা তীব্র বেগে এসে সজলের কপালে সজোরে আঘাত করল। ভারী কোনো কাঠের জিনিসের আঘাতের মতো শব্দ হলো—'ঠাস'।
"ওরে বাবারে! আমারে কে মারল!" বলে সজল নৌকার পাটাতনে লুটিয়ে পড়ল। তার কপাল ফেটে গলগল করে রক্ত ঝরছে।
রহিম তটস্থ হয়ে ভাইকে ধরতে গেল। "কি হইছে রে সজল? কিসে মারল তোরে?"
সজল যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে বলল, "ভাই, কেউ একজন বৈঠা দিয়া মারল। আমি কাউরে দেখলাম না, শুধু একটা বাতাস আসলো আর বাড়িটা লাগলো। উফ, মাথাটা জুইলা যাইতেছে!"
রহিম চারিদিকে টর্চের আলো ফেলল। শূন্য নৌকা, খা খা করছে অন্ধকার। কিন্তু বৈঠা বাইবার শব্দটা থামেনি। বরং সেটা আরও দ্রুত হতে শুরু করল। মনে হচ্ছিল অদৃশ্য কোনো সত্তা অত্যন্ত রাগের সাথে নৌকাটি তাদের দিকেই চালিয়ে নিয়ে আসছে। রহিমের শিরদাঁড়া দিয়ে এক হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল। সে দেখল, তাদের নৌকার চারপাশের পানি হঠাৎ করে গরম হতে শুরু করেছে, বুদবুদ উঠছে।
"কুফরি কারবার! সজল, শক্ত কইরা ধর, আমাদের এখান থেইকা ভাগতে হইব!" রহিম পাগলের মতো বৈঠা বাইতে শুরু করল।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সে যত জোরে বৈঠা বাইছে, তাদের নৌকা এক চুলও নড়ছে না। যেন পানির নিচ থেকে হাজার হাজার অদৃশ্য হাত তাদের নৌকাটাকে জাপটে ধরে রেখেছে। আর সেই পরিত্যক্ত নৌকাটি এখন তাদের নৌকার সাথে একেবারে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে।
অন্ধকারের ভেতর থেকে একটা ভারী কণ্ঠস্বর ভেসে এল। কোনো মানুষের গলার শব্দ মনে হলো না ওটা, যেন মাটির নিচ থেকে উঠে আসা কোনো হাহাকার। শব্দটা কোনো নির্দিষ্ট দিক থেকে আসছিল না, মনে হচ্ছিল পুরো নদীটাই কথা বলছে।
"আমারে কেন জাগালি? এই নৌকায় যম আছে... তোদেরও ঠাঁই হবে এইখানে..."
সজল রক্তমাখা মুখে ভয়ার্ত চোখে রহিমের দিকে তাকাল। রহিমের হাত থেকে বৈঠাটা খসে পড়ে গেল। সে দেখল, সেই পরিত্যক্ত নৌকার গলুইতে একটা অস্পষ্ট ছায়া অবয়ব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। কোনো অবয়ব নয়, যেন জমাট বাঁধা একরাশ অন্ধকার মানুষের রূপ নিয়েছে। তার হাতে একটা পুরনো বৈঠা, যা থেকে টপটপ করে রক্ত ঝরছে।
রহিম আর সজল স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। তারা বুঝতে পারল, এটা কোনো সাধারণ নৌকার গল্প নয় যা তারা বড়দের কাছে শুনেছে। এটা এক জীবন্ত অভিশাপ, যা আজ তাদের গ্রাস করতে এসেছে। নদীর মাঝখানে তখন কেবল দুই ভাইয়ের ঘন নিঃশ্বাস আর অদৃশ্য সেই বৈঠার শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল।

কালিন্দী নদীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া হিমশীতল হাওয়া তখন রহিমের হাড়ের ভেতর কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছে। সজলের কপাল থেকে ঝরে পড়া রক্ত নৌকার পাটাতনে মিশে কালচে হয়ে গেছে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই পরিত্যক্ত নৌকার ছায়া অবয়বটি নড়ছে না, কিন্তু তার নিশ্বাস নেওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে—একটানা, ঘড়ঘড়ে, যেন কোনো মুমূর্ষু মানুষের ফুসফুস থেকে জোর করে বাতাস বের করা হচ্ছে। নদীর পানি তখন স্থির, কিন্তু নৌকার চারপাশ দিয়ে কুয়াশা এমনভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে যেন তারা কোনো এক বদ্ধ ঘরে আটকা পড়ে গেছে।
রহিম কাঁপা হাতে আবার বৈঠাটা ধরার চেষ্টা করল, কিন্তু তার আঙুলগুলো যেন পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে। সে দেখল, সেই অদৃশ্য সত্তাটি ধীরে ধীরে তার হাতের বৈঠাটা উঁচিয়ে ধরছে। সজল তখন অর্ধচেতন অবস্থায় বিড়বিড় করছিল, "ভাই, ওনারা আমাদের ছাড়বে না। ওনারা অনেকজন... পাটাতনের নিচ থেকে তারা তাকায়ে আছে।" রহিমের টর্চের আলোটা ক্ষীণ হয়ে আসছিল, ব্যাটারি যেন কেউ শুষে নিচ্ছে। সেই অস্পষ্ট আলোয় সে যা দেখল, তাতে তার হৃদপিণ্ডের গতি স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। পরিত্যক্ত নৌকার পাটাতনের ফাঁক দিয়ে অনেকগুলো সাদাটে হাত বেরিয়ে আসছে। হাতগুলো শীর্ণ, নখগুলো পচে খসে পড়ছে, আর সেগুলো তাদের নৌকার কিনারা আঁকড়ে ধরছে।
"কে... কে আপনারা? আমাদের কী দোষ?" রহিম আর্তনাদ করে উঠল। তার কণ্ঠস্বর নদীর জনমানবহীন প্রান্তরে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে এল, কোনো মানুষ শুনল না।
সেই অন্ধকার ছায়া এবার কথা বলে উঠল। কণ্ঠস্বরটা এবার আগের চেয়ে স্পষ্ট, কিন্তু তাতে কোনো আবেগ নেই। "দোষ তোদের না রে। দোষ এই নদীর। এই নদী রক্ত চেনে, তৃষ্ণা চেনে। আমরাও তোদের মতোই মাছ ধরতে আসছিলাম একদিন। তারপর এই নৌকা আমাদের মুক্তি দেয় নাই। আজ তোদের পালা। একজনকে থাকতে হবে এইখানে, এই বৈঠা ধরার জন্য। নইলে এই নৌকা ভাসবে কেমনে?"
রহিম বুঝতে পারল, এটা কোনো ভূত-প্রেতের মামুলি গল্প নয়। এটা একটা অনন্ত চক্র। এই পরিত্যক্ত নৌকা আসলে একটা জ্যান্ত কবরের মতো, যা প্রতিবার নতুন শিকার ধরে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। সজল তখন যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠল। রহিমের চোখের সামনেই দেখা গেল, অদৃশ্য এক জোড়া হাত সজলের পা ধরে টেনে হিঁচড়ে সেই অভিশপ্ত নৌকার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সজলের নখগুলো তাদের নিজেদের নৌকার কাঠের ওপর আঁচড় কাটছে, বাঁচার এক শেষ চেষ্টায় সে কাঠ কামড়ে ধরছে।
"ভাই! বাঁচান! আমারে টাইনা নিয়া যাইতেছে! ওগো হাতগুলা অনেক ঠান্ডা ভাই, বরফের মতো ঠান্ডা!" সজলের গলার শিরাগুলো ফুলে উঠল।
রহিম মরিয়া হয়ে সজলের হাত ধরল। এক অদ্ভুত টানাটানি শুরু হলো। একদিকে রহিমের ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা, অন্যদিকে এক আদিম অন্ধকার শক্তি। রহিম অনুভব করল, সজলের শরীরে কোনো উষ্ণতা নেই, মুহূর্তের মধ্যে তার শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। ঠিক তখনই রহিমের কানে সেই গা শিউরে ওঠা শব্দটা এল—'মট'। সজলের পা টেনে নেওয়ার তীব্রতায় তার হাড় ভেঙে যাওয়ার শব্দ। কিন্তু সজল আর চিৎকার করল না, তার চোখ দুটো উল্টে গেল।
অন্ধকার ছায়াটি এবার রহিমের একদম সামনে। তার কোনো মুখ নেই, কেবল দুটো গর্তের মতো চোখ থেকে নীলচে আভা বের হচ্ছে। সে ফিসফিস করে বলল, "তুই বাঁচতে চাস? তাহলে ওকে দিয়ে দে। বিনিময়ে তুই ফিরে যাবি ডাঙ্গায়। নদীর এই ক্ষুধা মেটাতে একজনের রক্তই যথেষ্ট। বল, তুই কি ওর বদলে মরতে রাজি?"
রহিমের ভেতরে এক চরম মানসিক লড়াই শুরু হলো। ডার্ক সাইকোলজির এক মরণখেলা। মানুষের বাঁচার আদিম প্রবৃত্তি তাকে প্ররোচিত করল সজলের হাত ছেড়ে দিতে। রহিমের মাথায় খেলল—সে মারা গেলে তার স্ত্রী-সন্তান না খেয়ে মরবে, কিন্তু সজল তো অবিবাহিত। সজলের হাতটা রহিমের মুঠো থেকে আলগা হতে শুরু করল। সেই মুহূর্তেই রহিমের মনে হলো, সে আসলে মানুষ নেই, সেও সেই অন্ধকারেরই অংশ হয়ে যাচ্ছে।
হঠাৎ এক প্রচণ্ড ঝাপটায় সজলকে সেই পরিত্যক্ত নৌকায় তুলে নেওয়া হলো। আর সাথে সাথেই রহিমের নৌকাটা স্রোতের টানে সজোরে ছিটকে দূরে সরে গেল। রহিম দেখল, সজল সেই নৌকার পাটাতনে স্থির হয়ে শুয়ে আছে, আর সেই অদৃশ্য ছায়াটি সজলের হাতে বৈঠাটা তুলে দিচ্ছে। সজলের চোখ দুটো এখন আর মানুষের মতো নেই, সেখানে সেই একই নীলচে আভা। সে শূন্য দৃষ্টিতে রহিমের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ল।
রহিম হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে তীরের দিকে নৌকা বাইতে শুরু করল। সে যখন ঘাটে পৌঁছাল, তখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। গ্রামের মানুষ তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করল। কিন্তু রহিম কোনো কথা বলতে পারল না। তার চুল রাতারাতি সাদা হয়ে গেছে, আর দুচোখে কেবল এক অসীম শূন্যতা।
দিন যায়, রাত আসে। রহিম এখন আর মাছ ধরতে যায় না। সে সারাদিন নদীর পাড়ে বসে থাকে। জেলেরা বলে, আজও মাঝরাতে কালিন্দী নদীর বুক চিরে সেই বৈঠা বাইবার শব্দ শোনা যায়। কিন্তু এখন আর একটা নয়, দুটো বৈঠার শব্দ আসে। রহিমের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। সে মাঝরাতে শুনতে পায় সজলের ডাক। জানালার বাইরে থেকে পচা জলের গন্ধ আসে, আর ভিজে পায়ের ছাপ তার উঠোন পর্যন্ত এসে থেমে যায়।
গল্পের শেষ দৃশ্যটি আরও ভয়ানক। একদিন রহিমকে আর খুঁজে পাওয়া গেল না। গ্রামের মানুষ দেখল নদীর পাড়ে কেবল রহিমের ছেঁড়া গামছাটা পড়ে আছে। আর ঠিক সেই রাতে জেলেরা দেখল, মাঝনদীতে সেই পুরনো নৌকায় এখন দুজন বসে আছে। একজন বড়, একজন ছোট। তারা পাশাপাশি বসে শূন্যে বৈঠা বাইছে। নদীর শান্ত জল চিরে ছলাৎ ছলাৎ শব্দ হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো, নৌকার গলুইতে রাখা সেই পুরনো লণ্ঠনটা এখন জ্বলছে, আর তার আলোতে দেখা যাচ্ছে—নৌকার পাটাতনে রাখা আছে গ্রামের নিখোঁজ হওয়া মানুষের ছিন্নভিন্ন কঙ্কাল।
নদী এখন আর কেবল মাছ দেয় না, নদী এখন রক্ত চায়। আর সেই অভিশপ্ত নৌকার মাঝিরা এখন গ্রামের প্রতিটি ঘরের দরজায় টোকা দেয়। আপনি যদি মাঝরাতে নদীর পাড় দিয়ে হাঁটেন এবং শোনেন কেউ আপনার নাম ধরে পেছন থেকে ডাকছে, তবে ভুলেও ফিরে তাকাবেন না। কারণ সেই অদৃশ্য বৈঠার বাড়ি আপনার মাথার খুলি গুঁড়ো করে দিতে ঠিক আপনার পেছনেই অপেক্ষা করছে। আপনার নিশ্বাসের শব্দই এখন তাদের বেঁচে থাকার রসদ। নদীর সেই পচা গন্ধ কি আপনার নাকেও আসছে এই মুহূর্তে? ভালো করে খেয়াল করুন, আপনার জানালার ঠিক বাইরেই হয়তো কেউ ভিজে বৈঠা হাতে দাঁড়িয়ে আছে।

(END)
Noted: This story is protected under copyright law and copyrighted by Bhoutik kotha. Unauthorized copying, posting, or sharing may result in DMCA takedown, legal action, and Facebook account penalties. Content is tracked digitally—violators will be reported and penalized.
#ভূতেরগল্প #ভৌতিক #ভুত

 #পোড়া মাটির পুতুল লেখক: অনির্বাণ সায়েমযে হাত দিয়ে আপনি এই লেখাটি স্পর্শ করছেন, কল্পনা করুন ঠিক পরের মুহূর্তেই সেই হাত...
02/01/2026

#পোড়া মাটির পুতুল
লেখক: অনির্বাণ সায়েম

যে হাত দিয়ে আপনি এই লেখাটি স্পর্শ করছেন, কল্পনা করুন ঠিক পরের মুহূর্তেই সেই হাতটি অবশ হয়ে পাথর হয়ে গেল। কোনো রক্ত নেই, কোনো কাটাছেঁড়া নেই, অথচ হাড়গুলো মটমট করে ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে ঠিক যেভাবে শুকনো মাটির ঢেলা ভেঙে যায়। অন্ধকার রাতে মাটির নিচ থেকে উঠে আসা কোনো প্রাচীন অতৃপ্তি কি শরীরের রক্ত-মাংসকে তুচ্ছ মাটির পুতুলে পরিণত করতে পারে? কিছু নীরবতা কেবল কান পাতার জন্য নয়, পালানোর জন্য তৈরি হয়।

শহর থেকে অনেকটা দূরে, যেখানে বড় বড় দালানকোঠার ভিড় নেই, সেখানে একটা প্রাচীন জমিদার বাড়ির ধ্বংসাবশেষের পাশে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ চলছিল। মাটির গভীর থেকে উঠে আসছিল শত বছরের পুরনো হাড়গোড়, ভাঙা তৈজসপত্র আর রহস্যময় সব ইতিহাস। খনন দলের অন্যতম সদস্য ছিল আকাশ। তরুণ এবং জেদী আকাশ অতিপ্রাকৃত বিষয়ে বিশ্বাস করত না। তার কাছে ইতিহাস মানে কেবলই তথ্য আর প্রমাণ।
সেদিন বিকেলে যখন সূর্যটা দিঘির কালো জলের আড়ালে ডুব দিচ্ছে, ঠিক তখন আকাশের কোদালের মাথায় শক্ত কিছু একটা ঠেকলো। চারপাশের মাটি সাবধানে সরিয়ে সে যা দেখল, তাতে তার গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেল। প্রায় ফুটখানেক লম্বা একটা পোড়া মাটির পুতুল। পুতুলটা দেখতে অদ্ভুত—তার মুখটা মানুষের মতো ঠিকই, কিন্তু অভিব্যক্তিটা ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় ছিল, পুতুলটার বাম হাতটা কনুইয়ের ওপর থেকে ভাঙা। মনে হচ্ছে যেন কেউ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হাতটি বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছে।
"আকাশ, ওটা কী পেলে?" পাশ থেকে তার সহকর্মী করিম সাহেব জিজ্ঞেস করলেন।
আকাশ পুতুলটা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে দেখতে বলল, "একটা অদ্ভুত পুতুল স্যার। ফিনিশিংটা খেয়াল করেছেন? মনে হচ্ছে জীবন্ত কোনো মানুষের ছাঁচে এটা বানানো হয়েছিল। কিন্তু হাতটা ভাঙা।"
করিম সাহেব পুতুলটা দেখে কিছুটা ইতস্ততবোধ করলেন। তিনি দীর্ঘকাল ধরে এই পেশায় আছেন, মাটির নিচের অনেক রহস্য তিনি জানেন। গম্ভীর গলায় তিনি বললেন, "আকাশ, এটা এখানেই রেখে দাও। ডায়েরিতে এন্ট্রি করো, কিন্তু আজ রাতে এটা তাঁবুতে নিয়ে যাওয়ার দরকার নেই। কেমন জানি একটা অস্বস্তি হচ্ছে এটা দেখে।"
আকাশ হাসল। সে বিজ্ঞানের ছাত্র, এসব "অস্বস্তি" বা "কুসংস্কার" তার কাছে অর্থহীন। সে ভাবল, এত নিখুঁত একটা শিল্পকর্ম খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা বোকামি। চুরির ভয় আছে, আবার রাতের বৃষ্টিতে ক্ষতিও হতে পারে। করিম সাহেবের নিষেধ কানে না নিয়ে আকাশ চুপিচুপি পুতুলটা তার ব্যাগে পুরে ফেলল।
রাতে নিজের ডেরায় ফিরে আকাশ পুতুলটা টেবিলের ওপর রাখল। তেলের বাতির অল্প আলোয় পুতুলটার ছায়া দেয়ালে বিশাল হয়ে ফুটে উঠল। পুতুলটার ভাঙা হাতের জায়গাটা কেমন জানি খসখসে, যেন সেখান থেকে এখনো শুকনো মাটির গুঁড়ো ঝরছে। আকাশ বারবার সেটা পরিষ্কার করার চেষ্টা করল, কিন্তু প্রতিবারই মনে হলো তার নিজের বাম হাতের তালুটা কেমন যেন সুড়সুড় করছে।
"স্রেফ মনের ভুল," সে বিড়বিড় করে নিজেকে সান্ত্বনা দিল।
রাতের খাবার খেয়ে সে যখন শুতে গেল, তখন চারপাশ একদম নিঝুম। শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর দূরে শেয়ালের হুক্কাহুয়া শোনা যাচ্ছিল। মাঝরাতে আকাশের ঘুমটা হঠাৎ ভেঙে গেল। তার মনে হলো তার ঘরের ভেতর কেউ একজন হাঁটছে। খসখস শব্দ হচ্ছে মেঝেতে। সে উঠে বসতে চাইল, কিন্তু অবাক হয়ে দেখল তার বাম হাতটা প্রচণ্ড ভারী হয়ে আছে। যেন তার শরীরের সঙ্গে আস্ত একটা পাথরের চাঁই বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
"উফ! হাতটা অবশ হয়ে গেল নাকি?" সে অন্ধকারে হাতটা নাড়ানোর চেষ্টা করল।
হঠাৎ করেই একটা শব্দ হলো— 'মট'। ঠিক যেমন শুকনো কাঠ বা পোড়া মাটি ভাঙার শব্দ হয়। আকাশের সারা শরীর দিয়ে হিমশীতল একটা স্রোত বয়ে গেল। সে অনুভব করল তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপর থেকে একটা তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়েছে, কিন্তু সেই যন্ত্রণাটা মাংসপেশির নয়, হাড়ের ভেতর থেকে আসছে। সে মরণপণ চেষ্টায় টেবিলের ওপর থাকা টর্চটা জ্বালাল।
টর্চের আলোয় সে যা দেখল, তাতে তার চিৎকার করার ক্ষমতাও হারিয়ে গেল। টেবিলের ওপর রাখা সেই পোড়া মাটির পুতুলটা এখন আর আগের জায়গায় নেই। সেটা টেবিলের একদম কিনারে চলে এসেছে, যেন একা একা হেঁটেছে। আর আকাশের নিজের বাম হাতটা... ঠিক পুতুলটার মতো একই জায়গায় নীল হয়ে গেছে। চামড়াটা কুঁচকে মাটির মতো ফাটল ধরছে।
সে নিজের হাতটা ধরতে গেল ডান হাত দিয়ে, আর ঠিক তখনই আবার সেই শব্দ— 'মট'! কোনো চোট নেই, কোনো আঘাত নেই, অথচ তার চোখের সামনেই কনুইয়ের হাড়টা অদ্ভুতভাবে বেঁকে গেল। তার মনে হলো মাংসগুলো যেন শুকিয়ে ঝুরঝুরে হয়ে যাচ্ছে। আর্তনাদ করে আকাশ বিছানা থেকে পড়ে গেল।
পরদিন সকালে খনন দলের সদস্যরা যখন আকাশের ঘরের দরজা ভাঙল, তখন তারা দেখল আকাশ মেঝেতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। তার বাম হাতটা কনুইয়ের ওপর থেকে অবিকল সেই পুতুলের মতো ভেঙে ঝুলে আছে। ডাক্তাররা পরীক্ষা করে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন—কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই, কিন্তু হাড়ের ভেতরের মজ্জা শুকিয়ে একদম গুঁড়ো হয়ে গেছে, ঠিক যেমনটা প্রাচীন মাটির নিচে থাকা জিনিসের ক্ষেত্রে হয়।
সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্যটা ছিল টেবিলের ওপর। সেই পোড়া মাটির পুতুলটার ভাঙা হাতের জায়গায় এখন টাটকা মাংসের মতো লালচে আস্তরণ পড়েছে, যেন পুতুলটা তার হারানো হাত ফিরে পাওয়ার জন্য আকাশের রক্ত-মাংস শুষে নিতে শুরু করেছে।

শহরের হাসপাতালে যখন আকাশকে নেওয়া হলো, তখন করিডোর জুড়ে এক নিস্তব্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। ডাক্তারদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এমন কেস আগে কখনো আসেনি। এক্স-রে প্লেটগুলো হাতে নিয়ে ডাক্তাররা নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করছিলেন। আকাশের বাম হাতের হাড়গুলো কোনো দুর্ঘটনার মতো ভাঙেনি, বরং সেগুলো তাসের ঘরের মতো ধসে গেছে। হাড়ের ভেতর যে ক্যালসিয়াম থাকার কথা, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে সূক্ষ্ম বালুকণা আর পোড়া মাটির ধূলিকণা।
আকাশের জ্ঞান ফিরল বিকেলের দিকে। হাসপাতালের সাদা দেয়াল আর স্যালাইনের গন্ধ তাকে শান্তি দিতে পারল না। তার কেবলই মনে হচ্ছিল, তার শরীরের বাঁ দিকটা অন্য কারো দখলে চলে যাচ্ছে। সে তাকাতে পারছিল না তার সেই ভাঙা হাতটার দিকে। ব্যান্ডেজের ভেতর থেকে একটা পচা মাটির গন্ধ নাকে আসছিল।
করিম সাহেব খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এলেন। তার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। তিনি আকাশের বিছানার পাশে এসে বসলেন। আকাশ ক্ষীণ গলায় বলল, "স্যার, হাতটা কোনোভাবেই নড়াতে পারছি না। মনে হচ্ছে এটা আর আমার শরীরের অংশ নয়। চামড়াগুলো কেমন যেন খসখসে হয়ে গেছে, দেখলেই মনে হচ্ছে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে।"
করিম সাহেব জানালা দিয়ে বাইরের অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "আমি তোমাকে মানা করেছিলাম আকাশ। ওই জমিদার বাড়ির নিচে যা চাপা পড়ে ছিল, তা কোনো সাধারণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়। ওগুলো ছিল 'জীবন্ত পুতুল'—যাকে অভিশপ্ত তন্ত্র সাধনায় ব্যবহার করা হতো। কেউ একজন নিজের অঙ্গহানি থেকে বাঁচতে ওই পুতুলটা তৈরি করেছিল। এখন পুতুলটা তার অসম্পূর্ণতা পূরণ করার জন্য তোমার শরীরকে বেছে নিয়েছে।"
আকাশের চোখে জল চলে এল। সে আর্তনাদ করে বলল, "এসব অবাস্তব কথা বলবেন না স্যার! বিজ্ঞানে এসবের কোনো ব্যাখ্যা নেই। আমাকে বাঁচান, আমার খুব যন্ত্রণা হচ্ছে।"
"যন্ত্রণাটা মাংসের নয় আকাশ, যন্ত্রণাটা তোমার অস্তিত্বের," করিম সাহেব ফিসফিস করে বললেন। "পুতুলটা এখন কোথায়?"
আকাশ তোতলাতে তোতলাতে বলল, "ওটা... ওটা আমার ব্যাগের ভেতর আছে। আমি হাসপাতালে আসার সময় ব্যাগটা পাশেই ছিল।"
করিম সাহেব চমকে উঠে আকাশের ব্যাগের দিকে হাত বাড়ালেন। কিন্তু ব্যাগটা খুলতেই তিনি পাথর হয়ে গেলেন। ব্যাগটি শূন্য। ভেতরে মাটি ছাড়া আর কিছুই নেই। অথচ ব্যাগের তলায় জমা হয়ে আছে এক মুঠো পোড়া মাটির গুঁড়ো।
ঠিক সেই মুহূর্তে হাসপাতালের লাইটগুলো একবার জ্বলে উঠে দপ করে নিভে গেল। রুমের ভেতর একটা গুমোট গরম ভাপ তৈরি হলো। জানালার পর্দাগুলো নিজে থেকেই উড়তে শুরু করল, অথচ বাইরে কোনো বাতাস ছিল না। অন্ধকার কোণ থেকে একটা অদ্ভুত ঘড়ঘড় শব্দ ভেসে আসতে লাগল—ঠিক যেন কেউ শুকনো মাটির ওপর দিয়ে কোনো ভারী কিছু টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে।
আকাশ বিছানায় ছটফট করতে করতে চিৎকার করে উঠল, "স্যার! আমার ডান হাতটাও অবশ হয়ে আসছে! পা দুটো নড়াতে পারছি না! বাঁচান আমাকে!"
করিম সাহেব টর্চ জ্বালিয়ে দেখলেন, আকাশের বাম হাতটা এখন আর কেবল ভাঙা নয়, সেটা আস্তে আস্তে রঙ বদলে খয়েরি হয়ে যাচ্ছে। নখগুলো ঝরে পড়ে গিয়ে সেখানে মাটির স্তর জমছে। সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য হলো, আকাশের গলার চামড়াটা শুকিয়ে শক্ত হয়ে যাচ্ছে। সে মুখ হা করে কিছু বলতে চাইছে, কিন্তু কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। কেবল তার গলা থেকে শুকনো মাটি ভাঙার মতো কর্কশ শব্দ শোনা যাচ্ছে।
"আকাশ, স্থির হও! আমি আসছি!" করিম সাহেব নার্সদের ডাকার জন্য দরজার দিকে দৌড় দিলেন। কিন্তু দরজাটা ভেতর থেকে কেউ যেন অদৃশ্য হাতে আটকে দিয়েছে। শত চেষ্টাতেও সেটা খুলল না।
আকাশ তখন বিছানা থেকে মেঝেতে পড়ে গেছে। টর্চের আলোয় দেখা গেল, ঘরের ঠিক মাঝখানে সেই পোড়া মাটির পুতুলটা দাঁড়িয়ে আছে। আগে সেটার বাম হাত ভাঙা ছিল, কিন্তু এখন সেই হাতটা আশ্চর্যজনকভাবে সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। হাতের আঙুলগুলো একেবারে জীবন্ত মানুষের মতো রক্তাভ। কিন্তু পুতুলটার শরীরের বাকি অংশটা এখন ধীরে ধীরে রক্ত-মাংসের রূপ নিতে শুরু করেছে।
বিপরীত দিকে, আকাশের শরীরটা ক্রমে একটা বিশাল মাটির দলা হয়ে যাচ্ছে। তার চোখ দুটো স্থির হয়ে গেছে, চোখের মণি থেকে পানি পড়ার বদলে ঝুরঝুর করে বালি পড়ছে। আকাশের ডাগর চোখ দুটোর মণি এখন নিষ্প্রাণ মাটির ছাঁচ ছাড়া আর কিছুই নয়। সে অসহায়ের মতো তাকিয়ে দেখল, পুতুলটা তার দিকে তাকিয়ে একটা পিশাচসুলভ হাসি হাসছে। পুতুলটার ঠোঁট নড়ল। কোনো শব্দ শোনা গেল না, কিন্তু আকাশের মস্তিস্কে সেই কথাগুলো গেঁথে গেল— "আমার শরীর ছিল না, তুই দিলি। আমার হাত ছিল না, তুই দিলি। এবার আমি তোর জায়গায় বাঁচব, আর তুই থাকবি মাটির নিচে।"
হঠাৎ করেই আকাশের চিৎকার থেমে গেল। পুরো রুমটা নিস্তব্ধ। করিডোর থেকে নার্সরা যখন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকল, তারা দেখল করিম সাহেব এক কোণে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছেন। আর বিছানায় আকাশের বদলে পড়ে আছে একটা মানুষের আকারের পোড়া মাটির মূর্তি। মূর্তিটার মুখটা ঠিক আকাশের মতো অবিকল, তার চোখে সেই ভয়ংকর আতঙ্কের ছাপটা যেন মাটির কারুকার্যে চিরস্থায়ী হয়ে গেছে।
কিন্তু সেই অদ্ভুত পুতুলটা সেখানে ছিল না।
পরদিন সকালে পুলিশ আর ডাক্তাররা যখন তদন্ত শুরু করল, তখন তারা অবাক হয়ে দেখল আকাশের কোনো হদিস নেই। তারা ভাবল হয়তো আকাশ কোনোভাবে পালিয়ে গেছে। কিন্তু তারা লক্ষ্য করল না যে, হাসপাতালের জানালা দিয়ে দূরে একজন মানুষ হেঁটে চলে যাচ্ছে। লোকটার হাঁটার ভঙ্গিটা অদ্ভুত, পা দুটো কেমন যেন শক্ত হয়ে মেঝেতে পড়ছে। তার পরনে আকাশের কাপড়, কিন্তু তার গায়ের রঙটা অস্বাভাবিক রকমের তামাটে—ঠিক যেমন কড়া রোদে পোড়া মাটির রঙ হয়।
সেই লোকটা খননস্থলের দিকে ফিরে যাচ্ছে। যে মাটির গভীর থেকে তাকে তুলে আনা হয়েছিল, সেখানে অন্য কাউকে পুতে রেখে সে এবার মানুষের ভিড়ে মিশে যাবে। আকাশের ভাঙা হাতটা এখন সেই আগন্তুকের শরীরে সম্পূর্ণ নতুন এক জোড়া হাত হয়ে নড়াচড়া করছে। প্রতিবার সে যখন আঙুল ভাঁজ করছে, তখন বাতাসে এক প্রাচীন অভিশপ্ত মাটির ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে।
আকাশের অস্তিত্ব এখন সেই প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের নিচে এক মুঠো ভাঙা মাটির টুকরো হয়ে পড়ে আছে, যা কোনোদিন আর মানুষ হয়ে ফিরবে না। আর শহরের নির্জন কোনো গলিতে বা ভিড়ের মাঝে হয়তো আপনিও এমন কাউকে দেখতে পাবেন, যার গায়ের রঙ মাটির মতো তামাটে আর যার নড়াচড়া অস্বাভাবিক রকমের যান্ত্রিক। খেয়াল করে দেখবেন, হয়তো সে আপনার দিকেই তাকিয়ে অদ্ভুতভাবে হাসছে।

(END)
Noted: This story is protected under copyright law and copyrighted by Bhoutik kotha. Unauthorized copying, posting, or sharing may result in DMCA takedown, legal action, and Facebook account penalties. Content is tracked digitally—violators will be reported and penalized.
#ভূতেরগল্প #ভৌতিক #ভুত

Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bhoutik Kotha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Bhoutik Kotha:

  • Want your establishment to be the top-listed Arts & Entertainment?

Share

ভৌতিক কথার জানা অজানা ইতিহাস ।

ভুত এফ এম বন্ধ হয়ে যায় ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৯ সালে। এর পর থেকেই আমাদের ইচ্ছাছিল একটা ভৌতিক ঘটনা নিয়ে ভুত এফ এম এর মতই একটা ভৌতিক সিরিজ করবো। ঠিক এমনটা ভাবতে ভাবতেই অনেক গুলো ভৌতিক ঘটনা শেয়ার করার মত একজন মানুশ মনির ভাইকে আমরা পেয়ে যাই আর সাথে সাথে প্ল্যানিংটা কে বাস্তবায়ন করে ফেলি। ঠিক এভাবেই গড়ে উঠেছে ভৌতিক কথা। আমাদের প্রথম এপিসড এ আল্লাহর রহমতে বেশ সারা পেয়েছি । তাই আমাদের ইচ্ছা এই প্রোগ্রামটাকে সাম্নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আপনাদের ভালোবাসা এবং অনুপ্রেরণবা আমাদের কাম্য। আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সপ্তাহে দুইদিন এপইসড করা । এবং আপনাদের ভালোবাসা আছে বলেই হয়ত আমাদের পক্ষে প্রতি সপ্তাহে দুদিন করে টেলিকাস্ট করতে পারছি । আমাদের ইউটিউব চ্যানেল লিঙ্ক - https://www.youtube.com/channel/UCrZ2O60RhGy9tDk3iC6Xi9w

সাবক্স্রাইব করে সাথে থাকবেন এবং ৬ টা এপিসড দেখে আসুন আপনাদের মতামত জানাবেন ।

প্রতি শুক্র এবং শনিবার রাত ১১-১৫ মিনিটে চোখ রাখুন ভৌতিক কথা এর ইউটিউব চ্যানেল এ । BHOUTIK KOTHA is a Bengali weekly horror storytelling show which is brought to you by it's own Youtube channel, hosted by Jeffrey Khan horror storyteller of Bangladesh. In this show, Jeffrey Khan and many other guests share thier supernatural experiences & stories for their listeners. If u want to share your own story with us then email us here - [email protected]