14/03/2015
★ গল্পঃ ভালবাসি বলার অপেক্ষায়....★
======================================================
গল্পের ছেলেটির নাম নিহাদ। ফেসবুকে লেখালেখি করে। বেশীরভাগ লেখায় থাকে ভালবাসা সম্পর্কিত কথা অথবা বর্তমান জেনারেশনের মেয়েদের স্বভাব-চরিত্রের কথা। অনেকেই নিহাদের লেখার ভক্ত আবার অনেকেরই তার লেখা ভাল লাগে না। তবুও নিহাদের লেখালেখি থেমে না, এগিয়ে চলে তার আপন গতিতে। কারণ নিহাদ বিশ্বাস করে একটি জিনিস সবার ভাল লাগবে না, এটাই স্বাভাবিক তাইতো জগত এত বৈচিত্র্যময়। প্রতিদিন ভালো-মন্দ দুইধরণের মেসেজ আসে নিহাদের আইডিতে। প্রতিদিনের মত আজো নিহাদ Others ফোল্ডারের মেসেজগুলো পড়ছে, হাজারো মেসেজের ভিড়ে একটি মেসেজে ওর চোখ আটকে যায়। মেসেজটি ছিলঃ
-“এই যে মিস্টার, আপনার সমস্যা কি? আপনি মেয়েদের নিয়ে আজেবাজে লেখেন কেন? আর এত ভালবাসা ভালবাসা করেন কেন? ভালবাসা ছাড়া কি আর কোন টপিক নেই পৃথিবীতে?” (Sent From Web 5 November 8:28 PM)
(মেসেজের সাথে কয়েকটা রাগের ইমু+ভেঙানোর স্টিকার ফ্রি)
মেসেজটা দেখে নিহাদ বুঝতে পারে, মেয়েটা ওর লেখার বিরোধী, তাই কিছু না বলে মেসেজটা সীন করে রেখে দেয়।
১৭মিনিট পর আবার মেয়েটার মেসেজ,
-“কি হল রিপ্লাই দিলেন না কেন? আসলে সব ছেলেরাই এমন কথায় কথায় মেয়েদের পচায়, আর মুখে খালি ভালবাসার ফুলঝুরি ফোটায়।
এবার নিহাদ রিপ্লাই দেয়,
-আমার তো মনে হচ্ছে সমস্যা আপনার, বর্তমান যুগের মেয়েরা যেমন তার সম্পর্কে সেভাবে লিখি, আর আমি ভালবাসা নিয়েই গবেষণা করতে পছন্দ করি, এখন কারো ভালো লাগলো নাকি খারাপ লাগলো এটা ভেবে তো লেখকরা লেখালেখি করেন না।
মেসেজটা সীন হয়, কিছুক্ষণ কোন খবর নেই... একটু পর আবার মেসেজ,
-তাই বলে শুধু লেখার মাধ্যমে মেয়েদের পচাবেন? বর্তমান যুগে ভালো মেয়েও তো আছে তাইনা? আর সব ছেলেরাও কি ভালো? খারাপ ছেলেদের নিয়ে লেখেন না কেন?
-হুম, জানি। আর মেয়েদের ভালো দিক নিয়েও আমার লেখা আছে। আর খারাপ ছেলেদের নিয়েও লেখা আছে, এই যে দুটোর লিঙ্ক দিলাম পড়ে আসুন।
১২ মিনিট পর আবার মেসেজ....
-সরি ভাইয়া আসলে প্রথমে বুঝতে পারিনি, আপনি আসলেই খুব ভালো লেখেন।
-হুম, Never Judge Book By It’s Cover.
-আচ্ছা ভাইয়া, আমি কি আপনার বন্ধু হতে পারি?
-কি দরকার? আপনি তো আমার লেখা পছন্দ করেন না, তারমানে আমাকেও করেন না, বন্ধু হয়ে কি করবেন?
-প্রথমে আপনার সম্পর্কে বিরুপ ধারণা ছিল কিন্তু আপনার ঐ লেখাগুলো পড়ার পর আমার ভুল ধারণা দূর হয়েছে, আপনি ঠিকই বলেছেন কোন বইয়ের কভার পৃষ্ঠা দেখে আন্দাজ করা ঠিক না যে বইয়ের ভিতর কেমন, সেটা জানতে হলে বইটি খুলে পড়তে হবে। Anyway আমি রিকুয়েস্ট পাঠালাম, ইচ্ছে হলে একসেপ্ট করবেন।
নিহাদ মেসেজটা সীন করে রেখে দেয়। এভাবেই নিহাদ আর ঐশীর প্রথম পরিচয়। প্রতিদিন ফেসবুকে ঢুকেই নিহাদ ঐশী মেয়েটার রিকুয়েস্ট দেখতে পায়, সে ডিলিট করে দেয়, মেয়েটি আবার রিকুয়েস্ট পাঠায়। অবশেষে একদিন নিহাদ রিকুয়েস্ট একসেপ্ট ফেলে। ঐশী মেয়েটা ইনবক্সে নক করে,
- আজ আমি অনেক খুশী। এতদিনে আমার প্রতি মায়া হল?
-এত খুশী হওয়ার কিছু নেই। আজ ৫ ডিসেম্বর, আমার জন্মদিন তাই যতগুলো রিকুয়েস্ট পেন্ডিং ছিল, একসেপ্ট করেছি।
-যাই হোক অনেকগুলা থ্যাংকস আমাকে একসেপ্ট করার জন্য, আর আপনার জন্মদিনের জন্য রইল অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
-মোস্ট ওয়েলকাম।
-আচ্ছা, আপনি কিসে পড়েন?
-ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ৩য় বর্ষ। আপনি?
-ইন্টার ২য় বর্ষ।
এভাবেই চলতে থাকে তাদের কথা। ধীরে ধীরে সম্পর্ক আপনি থেকে তুমিতে নেমে আসে তারা ভালো বন্ধু হয়ে যায়। একদিন নিহাদের মোবাইলে অচেনা নাম্বার থেকে একটা কল আসে, নিহাদ তখন নতুন একটা গল্প লেখায় বিজি ছিল। Unknown নাম্বার তাই সে প্রথমে ইগনোর করে, কিন্তু আবার মোবাইলটা বাজতে থাকে, এবার সে রিসিভ করে।
-আসসালামুআলাইকুম। কি খবর?
মিষ্টি মধুর মেয়েলি কণ্ঠ, কিন্তু অপরিচিত।
- অলাইকুমআসসালাম। কে বলছেন?
-আমি, আমাকে চিনতে পারছোনা?
-আমিটা কে? পরিচয় দেন নয়তো আমি রাখলাম।
-হেই ওয়েট ওয়েট, আমি ঐশী।
-তুমি!!! তুমি আমার নাম্বার পেলা কোথায়?
-কোথায় আবার? ফেসবুক থেকে তোমার প্রোফাইলে দেয়া ছিল।
-ফেসবুক!!!! ফেসবুকে তো আমি নাম্বার দিইনি, আর দিলেও সেটা প্রাইভেসি করা থাকে।
-নিজে নাম্বার দিয়ে এখন ভাব ধরা হচ্ছে তাইনা?
-১ মিনিট মনে পড়েছে, গতকাল আমি পিসি থেকে ব্রাউজ করছিলাম, এয়ারটেল নাম্বারটা এড করার পর প্রাইভেসি দেয়ার আগেই কারেন্ট চলে যায়।
-যাক ভালো হয়েছে, আমি তোমার নাম্বারটা পেয়েছি এমনিতে চাইলে তো দিতা না। তোমার যা ভাব?
-এক্সকিউজ মি। আমি ভাব দেখলাম কবে?
-দেখাও নি? মনে আছে যেদিন আমি প্রথম তোমাকে নক করেছিলাম কি ট্যারা ট্যারা কথা.......
-দেখ, তোমার মেসেজটাই ঐরকম ছিল।
-কিরকম?
-তোমার মত ঝাল।
-মানে?
-কিছুনা।
-কিছুনা মানে? বলো কি বলতে চাচ্ছো।
-বললাম তো কিছুনা।
-ঠিক আছে আমি ফোন রাখলাম।
-হুম রাখো, টাটা।
কলটা কেটে যায়, নিহাদ ওর গল্প লেখার কাজে মনোনিবে