21/05/2026
বরাবর
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
বিষয়: রামিসা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার আবেদন।
মহোদয়,
গভীর বেদনা, ক্ষোভ এবং উদ্বেগ নিয়ে এই খোলা চিঠি লিখছি। “রামিসা” নামটি আজ কেবল একটি নাম নয় এটি আমাদের সমাজের নিরাপত্তাহীনতা, বিচারহীনতা এবং মানবিক অবক্ষয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি নিষ্পাপ প্রাণের নির্মম মৃত্যু আমাদের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। আমরা প্রশ্ন করি আর কত রামিসা হারিয়ে গেলে সমাজ জাগবে?
একটি শিশুর হাসি, একটি কিশোরীর স্বপ্ন, একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ সবকিছু মুহূর্তেই থেমে গেছে। এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, সমগ্র জাতির হৃদয়ে ক্ষত তৈরি করেছে। একজন নাগরিক হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো তার নাগরিকের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা করা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আমি আপনার কাছে বিনীত ভাবে কিছু দাবি জানাচ্ছি।
১. রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা হোক।
২. জড়িত অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক।
৩. নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর মনিটরিং ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক।
৪. বিচারপ্রক্রিয়া যেন দীর্ঘসূত্রতায় হারিয়ে না যায়, সে জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ব্যবস্থা করা হোক।
৫. পরিবারটির নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তার জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক।
আজ দেশের মানুষ কাঁদছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে গ্রামের চায়ের দোকান সবখানে একটাই প্রশ্ন: “আমরা কি সত্যিই নিরাপদ?
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে কোনো মা তার সন্তানের জন্য আতঙ্কে থাকবে না; কোনো কিশোরী স্বপ্ন দেখতে ভয় পাবে না; কোনো হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতা বা টাকার কাছে চাপা পড়ে যাবে না।
রামিসার জন্য বিচার চাই প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার।
কারণ বিচারহীনতা নতুন অপরাধের জন্ম দেয়।
মাননীয় মহোদয়,
আপনার দৃঢ় হস্তক্ষেপই পারে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে। আমরা বিশ্বাস করি, মানবিক রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে আপনি এই ঘটনার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন এবং একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।
বিনীত নিবেদক
পথিক শহিদুল
কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা
বাংলাদেশ
২১-৫-২০২৬