13/06/2020
বিচার চাই হে জননী
শামীমা নাসরীন
বিবেকের বলাৎকারে ওরা নিত্য কলুষিত করে চলেছে দ্যাখো জননীর কোমল শরীর ;
খামচে থেঁতলে দিচ্ছে প্রস্ফুটিত কুমারী প্রভাত : অবিরাম দংশনে ভাঙছে নিটোল নিতম্বের কাঁচা সমান্তরাল ফুটপাত।
গৃহবধূ কী শিশু !
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের বাতাসে আজ
কেবলই ভেসে বেড়াচ্ছে ধর্ষিতার লাশের পচা দুর্গন্ধ : পিতার মাতম! জননীর আহাজারি!
পরিচিত বাতাসটা আজ লাগছে ভীষণ ভারী।
যে শিশুটি নিবিষ্ট চিত্তে পুতুল খেলায় করেছে দৈনন্দিন সময় ক্ষেপণ ; শকুনের লোলুপতা হেনেছে বিশ্বাসের ছোবল : কচি বন্দরে তাই ফেলেছে কি দুঃসাহসে ওরা যৌবনের নিষিক্ত নোঙর!
সাধারণের অভিমানী কথামালায় উঠে আসে কিছু খোঁড়া যুক্তি ;
দুর্নীতির ঝড়ে ভেঙ্গে পড়েছে যেখানে গনতন্ত্রের মাস্তুল, পাষণ্ড ধর্ষকের আবাদে সেখানে হবে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যপ্তি!
বায়বীয় অজুহাতে জ্ঞানপাপীরা হাজির দোর্দণ্ড প্রতাপে
বুদ্ধিজীবিতার স্রোতধারায় ভেসে যায় যাবতীয় অভিযোগ যতো,
ওদিকে ভুক্তভোগীরা ক্রন্দনরত নির্জলা উপবাসে!
আলোচনা ,গোল টেবিল বৈঠক, মানববন্ধনে কী এসে যায় ধর্ষকের? কিম্বা গ্যাছে কোনো দিন? সমালোচনা, প্রতিবাদ আর পাল্টা জবাবের গোলক ধাঁধায় অতীতেও চাপা পড়েছে যৌবন ফেরী করা নপুংশকের অপকর্মের যতো বীণ!
সোহাগী আইনব্যবস্থার জানালার কাঁচ ডিঙিয়ে ফের গুচ্ছ গুচ্ছ ধর্ষণে মেতে উঠেছে নরপশু ধর্ষক !
সায়মার মতো ধর্ষিতা শিশুর মৃতদেহ আঁকড়ে আজো কাঁদছে তাই জননীর রাজপথ!
জাতীয় সঙ্গীতের চরণগুলো আজ ভুলে গ্যাছি আমি - বড্ড বেদনা আর হতাশায়!
পুরুষের চাহুনিতে সর্বত্র দেখি ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টি ;
বুকের শীতল পাটিতে প্রিয় কন্যার সম্মান লুকাই!
সভ্যতাকে কলমে ভরে আমিও তাই আজ বিদ্রোহের স্বপ্ন দেখি : অমানুষের ফাঁসির মঞ্চ আমি নিজেই সাজাই;
ঘৃণায় -দ্রোহে -দাবীতে -অনুরোধে বিবেকের মোহনায় আবার একাই দাঁড়াই !
আর মৌনতাকে সাক্ষী রেখে আমি জননেত্রী কে বলি -
"মাননীয় রাজশ্রী,তুমিও তো জননী - ঠিক যেমনটি আমি!
আমার ধর্ষিতা জননী হত্যার বিচার চাই, হে মা জননী ।"
৯/৭/২০১৯ ইং
সময়: সকাল ১১টা ৪০ মিনিট
ঢাকা।