16/06/2023
হে আমার বিষন্ন সুন্দর,
তুমি কি এতোটাই পরমাব্রতী,
কতোই তো দেখি পাখির ঝাকের মতো
দুরন্ত উড়ে চলা সুন্দরী তনয়া নয়না।
দেখিনিতো কখনো তোমার মতো
পদ্মলোচনা কোন আঁখিযুগল।
আমি তো হাজারো স্বপ্ন দেখি,
কখনো অন্ধকারে, কখনো আলোয়,
কখনো কুয়াশার আচ্ছন্নে,
কখনো গ্রীষ্মের দাবদাহে,
কখনো গোধুলির ক্লান্ত রোদে,
দিবাতে কিংবা নিশীতে।
স্বপ্নগুলো সর্বদাই সাদাকালো,
রঙ্গীন স্বপ্ন তো আর আসেনা!
কোন এক বাদক বাজায়
বিষাদের ধ্বনি সেই স্বপ্ন মাঝে।
জমিন থেকে দেখা স্বপ্নগুলোতে,
একখানি স্ব উজ্জল মুখ শুধু দেখা যায়
ঐ আকাশের নীলে।
ধীরে সেই মুখটিও যেন,
আবছায়া হয়ে আসে,
যে মুখাবয়ব টি না দেখলে
একটি দিন কল্পনাতীত ছিলো,
আজ সেই মায়াময়ী মুখচ্ছবিটিও
হারিয়ে যেতে বসেছে কি!
হ্রদপিন্ডের কম্পাংক থেকে।
হ্রদয়ের কুল ভেঙে,
তা আজ নিমজ্জিত প্রায়,
যে কুয়াশার শীতেও
ফিরে আসতো বসন্ত।
সে বসন্ত আর আসেনা,
ডাকেনা আর কোন কোকিলের সুর।
নিঃশব্দে বেদনার ধ্বনি বেজে চলে
নীল রক্তে ভেজা হ্রদয়ে।
তবুও আজ বেদনাবিধৌত
নীল কালি দিয়েই, তোমায় আঁকি।
হ্রদয়ের রং আর বেদনার বেনোজল,
আমার স্বপ্ন, আমার শব্দ,আমার কষ্ট
এই দিয়েই দিবারাত্রি নিভৃতে,
আমি করি তোমায় নির্মান।
আমিতো শস্যদানার মতো
ছড়িয়ে দিয়েছিলাম প্রার্থনাগুলোকে।
তবু তুমি বাতাসে,
তুলোর মতো উড়ে গেলে।
আজ তুষ পোড়া গন্ধের মধ্যে,
কেন বারংবার তোমায় মনে পড়ে।
শৈশব, কৈশর, যৌবন সব কিছু,
ঘূর্ণিপাকে এসে মিশে সেই তুশানলে।
কখনো প্রতিটি রাত
মূহুর্তেই বাঞ্চাল হয়ে যায়
সাদাকালো তন্দ্রাস্বপ্নকে
রঙ জড়ানোর চেষ্টায়।
কখনো সে রাত সূদীর্ঘ হয়ে ওঠে
গহীন অরন্যে নির্বাসিত
এক ছন্নছাড়া আহত জীবনের মতো।
দু চোখে পদ্মাতীরের ভাঙন নিয়ে
কেনো আবার এসেছিলে এ অসময়ে।
সব আরতীর শেষে কেনইবা,
আজ এ দু হাতের যোগফলে শুন্য।
দ্বিতীয় পত্রটি যদি শুন্যই হবার ছিলো,
তবে কেন এসেছিলে?
হে আমার বিষন্ন সুন্দর।
তবে কি বিষাদই ছিলো,
তোমার প্রত্যবর্তন
আর বিদায়ের মাঝে
আজীবনের জন্য
রেখে যাওয়া তোমায় দ্বারা,
অদৃশ্যের দেওয়া,
আমার শেষ উপহার।