11/01/2026
আমি এমন মানুষও দেখেছি—বিরিয়ানির হাঁড়ি থেকে শুধু মাংস তুলে নিতে ব্যস্ত, পরের জন আদৌ পাবে কি না সে চিন্তা নেই; অথচ আজান হলেই নামাজে দাঁড়িয়ে যায়।
***একটি বিয়ে বাড়ির অভিজ্ঞতা।
খেতে বসেই মনে হিসাব কষা শুরু—
গিফট ৬০০ টাকা, গাড়ি ভাড়া ৬০ টাকা;
মোট খরচ ৬৬০ টাকা।
অর্থাৎ, এই খরচটা খাবারের টেবিল থেকেই “উসুল” করতে হবে!
এই মানসিকতা নিয়ে কয়েকজনের খাবার একাই খেয়ে নেব—এই ভেবে সব আইটেম প্লেটে তুলে নিলাম।
খাওয়া শেষে দেখলাম, প্রায় ৬০ শতাংশ খাবারই খাওয়া হয়নি।
তবুও আফসোস নেই—কারণ খরচের টাকা তো “উসুল” হয়েছে!
হাসিমুখে বিজয়ীর ভঙ্গিতে টেবিল ছেড়ে এলাম।
কিন্তু পেছনে রয়ে গেল এক পিতা—যিনি জীবনের বহু বছরের তিল তিল করে জমানো অর্থ দিয়ে মেয়ের বিয়ের খাবারের আয়োজন করেছেন।
হয়তো এই মুহূর্তে তিনিই হিসাব কষছেন—এই আয়োজনের জন্য নেওয়া ঋণ কীভাবে শোধ করবেন।
আমি যখন অপচয়ে তৃপ্তির হাসি হাসছি, ঠিক তখনই পৃথিবীর কোথাও কোনো মানুষ খাবারের অভাবে বুকফাটা আর্তনাদ করছে—আমারই মতো রক্ত-মাংসের মানুষ।
তাই অনুরোধ—
সামর্থ্য থাকলে গিফট দিন, না থাকলে দেবেন না।
কিন্তু গিফটের টাকা “উসুলের” অজুহাতে বিয়ে বাড়িতে খাবার অপচয় করবেন না।
আসুন, প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার নিই।
অপচয় নয়—মানবিকতাই হোক আমাদের পরিচয়।
***সংগৃহীত