Golpo Kahini

Golpo Kahini Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Golpo Kahini, Arts and entertainment, kushtia, Kushtia.

কবির কষ্ট কবির বউ কবিকে বললেন, কবিতা লিখে লিখে জীবনের অর্ধেকটা পার করলে, অথচ পেটভরে দু'বেলা খেতে পাই না, ভাঙা ঘরে শুয়ে থ...
02/03/2022

কবির কষ্ট
কবির বউ কবিকে বললেন, কবিতা লিখে লিখে জীবনের অর্ধেকটা পার করলে, অথচ পেটভরে দু'বেলা খেতে পাই না, ভাঙা ঘরে শুয়ে থাকি। যদুমধু কবিরা কবিতা লিখে রাজার নিকট থেকে সোনাদানা হীরে-জহরত নিয়ে যায়- অথচ তুমি কতো নাম করা কবি। যাও আজকে রাজদরবারে গিয়ে রাজাকে কবিতা শোনাও, তিনি তোমাকে নিশ্চয়ই অনেক কিছু উপহার দিবেন। কবি রাজি হলেন এবং যথারীতি রাজদরবারের দিকে হাঁটা দিলেন।

বনজঙ্গল, খালবিল, রেললাইন, মাঠপ্রান্তর পেরিয়ে কবি যাচ্ছেন আর ভাবছেন রাজাকে কোন্ কবিতা শুনিয়ে তিনি বিমোহিত করবেন। বহুদূর গিয়ে দেখলেন একটি আজব প্রাণি রেল গাড়ির মতো ছুটছে। জীবনে এই প্রথম তার কেন্নোর সাথে দেখা। কেন্নোকে তিনি গভীরভাবে দেখলেন এবং একটি কাঠি দিয়ে খোঁচা দিলেন। কাঠির খোঁচা খেয়ে কেন্নোটি গুছিয়ে গোল হয়ে পড়ে রইল। বিষয়টি কবির মনে প্রচণ্ডভাবে রেখাপাত করলো। তিনি সাথে দুলাইন কবিতা লিখে ফেললেন-
'কুঁকড়ে মুকরে থাকো
কী ভাবো রে আমার মন?'

কবি আবার ছুটলেন রাজবাড়ির পানে। ছোট্ট নদীটি পেরিয়ে ওপারে কয়েকজন কৃষক পাট কাটছিলো। কেউ বসছে, কেউ হামাগুড়ি দিচ্ছে, কেউবা দাঁড়াচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে কবির ভাবের জগৎ আচমকা নাড়া দিয়ে গেলো। কবি নগদে লিখলেন নিচের অমর কবিতাখানি-
'একবার ওঠো একবার বসো
ওঠো আর বসো শুধু ওঠো আর বসো-
কী ভাবো রে আমার মন?'

কাশবনের ভিতর দিয়ে পায়ে চলা পথ। কবি দুরুদুরু বুকে সেই পথ ধরে চলছেন। দেখলেন বনের এপাশ থেকে একটি শিয়াল বেরিয়ে কিছুক্ষণ কবির সামনের পথ ধরে হাঁটলো। তারপর কবির দিকে একবার ফিরে তাকিয়ে বনের ওপাশটায় চলে গেলো। এই দৃশ্য দেখে আমাদের কবি একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়লেন। সাথে সাথে পাঞ্জাবির পকেট থেকে নোট বের করে কবি লিখলেন-
'যেতে যেতে শুধু ফিরে ফিরে চাও
কী ভাবো রে আমার মন?'

দুপুর প্রায় গড়িয়ে এসেছে। কবি এখন রাজদরবারের সামনে এসে হাজির। গেইটে গদা হাতে দারোয়ান রয়েছে দাঁড়িয়ে। দূর থেকে রাজ দরবারের বৈঠকখানা দেখা যায়। রাজা বালিশে হেলান দিয়ে গুড়গুড়ি টানছেন। দু'পাশে দুই খাদেম বিশাল বড় পাখা দিয়ে বাতাস করে চলেছে। সামনে বসা উজির ও সভাসদগণ রাজার গুণকীর্তনে ব্যস্ত। আমাদের কবি রাজদরবারে ঢুকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। অনেক অনুনয়-বিনয় করেও তিনি দারোয়ানদের মন গলাতে পারলেন না। এক সময় জোর করে ঢুকতে গেলে দারোয়ান তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। কবিকে ফেলে দেয়ার এই মর্মান্তিক দৃশ্য রাজামশাই রাজদরবার থেকে দেখে ফেলেন এবং ঘটনা জানতে চান। রাজাকে জানানো হয় যে, এই বুড়ো না কি একজন নামকরা কবি, সে দূরদেশ থেকে এসেছে- রাজা মশাইকে কবিতা শোনাতে চায়। অবশেষে রাজা তাকে দরবারে যাবার অনুমতি দেন।

রাজদরবারে গিয়ে কবির চোখ ছানাবড়া। এ কি! রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জসীম উদ্দিন, সত্তেন্দ্রনাথসহ রাজ্যের সকল কবি এখানে হাজির! সকলেই রাজাকে কবিতা শোনাতে ব্যস্ত। নতুন কবিকে দেখে সকল বড় বড় কবি নাক সিটকাতে লাগলো। এই বুড়ো কী কবিতা শোনাবে? রাজা গুরুগম্ভীর স্বরে বললেন- কবি, শোনাও তোমার কবিতা। আমাদের কবি নির্ভয়ে শুরু করলেন তার কবিতা পড়া।
'কুঁকড়ে মুকরে থাকো
কী ভাবো রে আমার মন?
একবার ওঠো একবার বসো
ওঠো আর বসো শুধু ওঠো আর বসো-
কী ভাবো রে আমার মন?
যেতে যেতে শুধু ফিরে ফিরে চাও
কী ভাবো রে আমার মন?'

কবিতা পড়া শেষ হলে সকলেই ঠাট্টা মশকরা নিয়ে মত্ত হয়ে পড়ে। ছি ছি ছি! এটা কোন কবিতা হলো? রাজা মশায়ের সাথে তামাশা? এর কোন মানে আছে? ওদিকে কবিতা শুনে রাজামশাই কেঁদে জারেজার। একটু পরে রাজার কান্না দেখে উজির নাজির সকলেই কেঁদে একাকার। উপস্থিত কবিগণও গর্দান যাবার ভয়ে হাউমাউ করে কেঁদে দিলেন। কিন্তু রাজা মশাইয়ের কান্না কিছুতেই বন্ধ হয় না। একসময় বুকে সাহস নিয়ে একজন কবি জানতে চাইলেন- রাজামশাই, আমি তো এই নতুন কবির কবিতার কোন মর্মার্থ উদঘাটন করতে পারি নাই। আপনার কান্নার কারণও বুঝতে পারি নাই। যদি একটু বুঝিয়ে বলেন জাঁহাপনা। একথা শুনে সকলেই একযোগে বলে ওঠে- হাঁ হাঁ, আমরাও কিছু বুঝি নাই। রাজা এবার নাক ও চোখের পানি ভালো করে মুছে নিয়ে বলতে শুরু করলেন- তাহলে শোনো, এই কবি প্রথমেই বলেছেন- 'কুঁকড়ে মুকরে থাকো, কী ভাবো রে আমার মন'? তার মানে সন্তান মায়ের পেটের মধ্যে জড়োসড়ো হয়ে থাকে- সেটিকে বুঝানো হয়েছে। একথা শুনে উপস্থিত সভাসদগণ আবেগে উঁহু উঁহু করে ওঠে।

তারপর রাজা বলেন, একবার ওঠো একবার বসো বলতে কবি বুঝাতে চেয়েছেন নবজাতক শিশু উঠে দাঁড়াতে চায় কিন্তু পারে না, সে পড়ে যায় তারপর আবার উঠে দাঁড়ায়। কবি এখানে শিশুকালের এই অবস্থাকে বুঝিয়েছেন। একথা শুনে উপস্থিত সভাসদরা নতুন কবিকে ধন্য ধন্য বলে উঠলেন। তারপর রাজা বলেন, 'যেতে যেতে শুধু ফিরে ফিরে চাও'- এই কথা দ্বারা কবি এখানে মানব জীবনের সবচেয়ে করুন পরিণতির কথা তুলে ধরেছেন। যখন এই সন্তান মারা যায় তখন মায়ের মন কেমন আকুলি বিকুলি করে? মৃত সন্তানকে যখন গোরস্তানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন মমতাময়ী মা-ও সন্তানের লাশের পিছে পিছে ছোটে। তারপর কিছু লোক তাকে ধরে ঘরে ফিরিয়ে আনে। কবি এখানে সন্তান হারা মায়ের এই অবস্থাকে 'যেতে যেতে শুধু ফিরে ফিরে চাও' বলে আখ্যা দিয়েছেন। উপস্থিত সভাসদবর্গ ও কবিগণ এবার নতুন কবিকে মাথায় তুলে নাচতে শুরু করলো। রাজামশাই বৃদ্ধ কবিকে মহাকবি উপাধি দিলেন। দু’টি হাতি ও পাঁচটি ঘোড়ার পিঠে যতো সোনার মোহর ও হিরে জহরত ধরে তার সবকিছুই উপহার হিসেবে দিলেন।

সোনাদানা নিয়ে কবি যখন বাড়ি ফিরলেন তখন রাতের আঁধার নেমেছে। কবির বউ মহা খুশি। কবিকে আজ অনেক ভালোবাসবে সে। ভালোমন্দ রান্না করে খাওয়ানোর পর কবিকে নিয়ে শুতে গেলো। ঘরের মেঝেতে বাতিটা মিটমিট করে জ্বলছে। এদিকে পড়ায় খবর রটে গেছে কবি রাজদরবার থেকে অঢেল টাকাপয়সা ও সোনাদানা নিয়ে এসেছে। কবির ভাঙাচোরা বাড়ি থেকে এগুলো সহজেই চুরি করা যায়। তিন চোর এসে বেড়ার ওপাশে টুক করে বসে আছে। কবি ও তার বউ যখনই ঘুমিয়ে পড়বে তখনই তারা সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকবে। এদিকে কবির বউ কবিকে জিজ্ঞেস করে- ওগো, তুমি কোন্ কবিতা পড়ে এতোসব উপহার সামগ্রী পেলে? কবি তখন সেই কবিতা পড়ে বউকে শোনাতে লাগলেন-
'কুঁকড়ে মুকরে থাকো
কী ভাবো রে আমার মন?'
এই কথা শুনে চোরগুলো ভয় পেয়ে গেলো। তারা ভাবলো, সর্বনাশ, আমরা এখানে কুঁকড়ে মুকরে বসে আছি- কবি তাহলে বুঝে ফেলেছে! তাহলে তো পালাতে হয়। উঠে পালাতে যাচ্ছে আরেক চোর টেনে ধরে বসিয়ে দিলো- আচ্ছা, আরেকটু দেখা যাক। ঠিক তখনই কবি তার বউকে শোনাচ্ছে-
'একবার ওঠো একবার বসো
ওঠো আর বসো শুধু ওঠো আর বসো-
কী ভাবো রে আমার মন?'
চোর তিনজন এবার নিশ্চিত হোলো- হায় হায়! এই কবি তো আমাদের উঠা বসাও দেখতে পাচ্ছে! এবার পালাই। রাস্তার কাছে গিয়ে একজন চোর মালকোঁচা মেরে আবার ফিরে আসে কবির ঘরের বেড়ার কাছে। একবার ভিতরে উঁকি দিয়ে দেখা যাক কবি আসলে কী করছে? কবি তখন বউকে শুনাচ্ছিলেন-
'যেতে যেতে শুধু ফিরে ফিরে চাও
কী ভাবো রে আমার মন?'

এই কথা শুনে চোরের দল নিশ্চিত হয় কবি তাদের ফিরে আসাটাও দেখে ফেলেছে। এবার তারা এক লাফে পগারপার। চোরেরা চলে যেতে যেতে বলে, শালার কবির বাচ্চারা বউয়ের সাথে গল্প করার সময়ও দুনিয়ার সবকিছু দেখতে পায়।

(এই কেচ্ছাটি ছোটবেলায় নানির কাছে শুনেছি)

১২০ টাকা মানিব্যাগে নিয়ে ৪ বছর আগে আজকের দিনে আমি তাকে বিয়ে করি।💙তার কিছু দিন পর আমরা দুই রুমের একটা বাসা নেই, প্রথমে ভে...
02/03/2022

১২০ টাকা মানিব্যাগে নিয়ে ৪ বছর আগে আজকের দিনে আমি তাকে বিয়ে করি।
💙
তার কিছু দিন পর আমরা দুই রুমের একটা বাসা নেই, প্রথমে ভেবেছিলাম ফ্লোরে ঘুমাবো কারন খাট কেনা তো দূরের কথা চকি কেনার টাকাও আমাদের ছিলো না, পরবর্তিতে একটা খাট কিনি। একটা খাট, একটা রেক, আর রান্না করার জন্য কিছু হাড়ি পাতিল নিয়ে আমাদের সংসার শুরু করি।

আমার খুব ভালো মনে আছে, বাসা নেওয়ার পরের দিন আমার দুইটা ফ্রেন্ড এসেছিলো, প্লেট না থাকার কারনে স্টিলের পেয়ালায় খেতে দিয়েছিলাম আর গ্লাস ছিলো না এই জন্য বতলে পানি দিয়েছিলাম।

শহরের বাসায় ফ্রিজ না থাকার কষ্ট শুধু মাত্র তারাই জানে যাদের নেই। এক মাস যাওয়ার পর কষ্ট করে একটা ফ্রিজ কিনি। আলহামদুলিল্লাহ ৬ মাসের মধ্যে বাসার সব জিনিস পত্র কেনা হয়ে গেলো। বলতে গেলে কষ্ট করেই সব কেনা হয়েছে।

তার পর দুজনেরই চাকরি হলো, সংসার কেমন করে চলবে রাত জেগে এই দুশ্চিন্তা করার দিন শেষ হলো। আলহামদুলিল্লাহ আমরা এখন ভালো আছি, সুখে আছি আপনাদের দোয়ায়।

চাকরি নেই, টাকা নেই, পরিবার মানবে না। এই বাঁধা গুলোর জন্য আমরা অনেকেই, প্রিয় মানুষটাকে হারাই, বিশ্বাস করেন এক দিন টাকা হবে, চাকরি হবে, তবে যা কে হারাইছেন সে আর আসবে না। অথচ আপনি একটু চেষ্টা করলেই তাকে ধরে রাখতে পারতেন।

তবে একটা কথা জানেন কি, পারিবারিক ঝামেলা, বেকারত্বের সমস্যা, এত সব কিছুর মথ্যেও কখনোই আমাদের ভালোবাসার মাঝে বিন্দু পরিমান ঘাটতি তৈরি হয় নাই।

ভালোবাসা থাকলে টাকার দরকার হয় না। আমি নিজে তার প্রমান।

একটা মানুষ কিভাবে এত সহজে অন্য আরেকটা মানুষ কে সহ্য করতে পারে, তা তোমাকে না দেখলে জানতেই পারতাম না। একটা মানুষের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে আরেকটা মানুষকে কি করে এতটা ভালোবাসা যায় তোমাকে না দেখলে কখনো বুঝতেই পারতাম না

মানুষ বলে, পুরানো হলে ভালোবাসা কমে যায়। বিশ্বাস করেন যত দিন যাচ্ছে ঠিক ততোটাই সম্মান,ভালোবাসা একে অপরের প্রতি মায়া, এগুলো আমাদের মাঝে বাড়ছে।

আমি হয়তো অনেক ভাগ্যবান, আল্লাহ তোমার মতো একটা মানুষকে আমার জীবন সঙ্গী করে পঠাইছেন। আমার সকল কাজের অনুপ্রেরনা তুমি, পাশে থেকে সাহস যোগানোর মানুষটা ও তুমি। অনেক বেশি ভালোবাসি তোমাকে। সারাজীবন এভাবেই পাশে থেকো। চার বছর না, তোমাকে সাথে নিয়ে চার হাজার বছর বাঁচার ইচ্ছা, তবে আল্লাহ যতোদিন বাচাঁয়, তোমাকে সাথে নিয়েই যেনো বাঁচতে পারি।

রাতের মিষ্টি হাসি-------------------------বন্ধু আওলিয়া ও বাবুলের সাথে কুষ্টিয়া মিউনিসিপ্যাল বাজারের ঐতিহ্যবাহী কাঁচা ম...
06/01/2022

রাতের মিষ্টি হাসি
-------------------------বন্ধু আওলিয়া ও বাবুলের সাথে কুষ্টিয়া মিউনিসিপ্যাল বাজারের ঐতিহ্যবাহী কাঁচা মরিচ,লেবু ও মাল্টা মিশ্রত লাল চা খেয়ে ওদের দু'জনকে বিদায় দিয়ে হেঁটেই বাসায় ফিরছিলাম।
বক চত্বরের উত্তর পশ্চিম পাশে দেখলাম পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে। ঠান্ডা লেগেছে সেক্ষেত্রে ভিটামিন সির প্রতি একটু বাড়তি কেয়ার, সকালে ১০০ গ্রাম আমলকি কিনলাম ২৫/ টাকা দিয়ে। যদিও আমাদের ক্যাম্পাসে তা available।
মুল কথায় ফিরি,পেয়ারা নিয়ে টাকা দিবো হঠাৎ একটা ছোট পিচ্চি এসে বলল একটা নেন। আমি প্রথমে শুনে ছিলাম একটা দেন। তাই ভেবে ছিলাম ওকে একটা পিয়ারা বা কিছু টাকা দিবো।
কিন্তু ভালো ভাবে খেয়াল করার পর বুঝতে পারলাম।
পিচ্চিটি অযাথা কিছু চাচ্ছে না। তার বেলুন বিক্রি করতে চাচ্ছে। দাম জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দিলো বড়টা ২০ টাকা ছোট ১০ টাকা।
আমি এবার আরেকটু কৌতুহলে জানতে চাইলাম এতো রাতে তুমি একা কেন? উত্তর দিলো মা আছে।
কোথায় ? হাত দিয়ে দেখিয়ে দিলো। দেখলাম তার মা উত্তর পূর্ব কোণে বসে আছে। এবার জানতে চাইলাম দু'টো নিলে কতো নিবে? বললো আপনি বলুন। আমি বললাম না তুমিই বলো। তখন বলল ২৫ টাকা দেন। আর কিছু না বলে বেলুন গুলো নিয়ে ওর কাছে টাকা দিলাম। পিচ্চিটি গুনে কিছু বেশি দেখতে পেয়ে বাকিটা ফেরৎ দিতে চাইলো। বললাম লাগবে না, ওটা তোমার। তুমি খুশি হয়েছো তো?
খুব মিষ্টি হাসি দিলো। অনেক বেশি তৃপ্তি নিয়ে বাসায় ফিরলাম।
সারা দিন তো শুধু নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকি,এটিও নিজেরই তার পরেও একটু অন্য রকম তৃপ্তি পেলাম।
একটু চেষ্টা করলেই আমরা সকলেই খুব অল্পতেই এ তৃপ্তির অংশীদার হতে পারি।
অনেক ধন্যবাদ তমাল স্যারকে আমাদের মজাদার চা খাওয়ানোর জন্য।
তবে দুঃখিত না বলে আসার জন্য।
খন্দকার আবদুল মজিদ

07/08/2020

আমরা আপনার জীবনের গল্প শুনতে চাই। তুলে ধরতে চাই মিডিয়াতেও।

অদম্য ইচ্ছাশক্তিতেই প্রতিবন্ধীতাকে জয় করেছে অনিকএস এম জামাল,কুষ্টিয়া: অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবল নিয়ে প্রতিবন্ধীতাকে ...
22/06/2020

অদম্য ইচ্ছাশক্তিতেই প্রতিবন্ধীতাকে জয় করেছে অনিক

এস এম জামাল,
কুষ্টিয়া: অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবল নিয়ে প্রতিবন্ধীতাকে জয় করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়েছেন শারিরীক প্রতিবন্ধী অনিক মাহমুদ (২২)। নিজেকে থামিয়ে রাখতে চান না তিনি, নিয়ে যেতে চান সামনের দিকে এবং পৌঁছাতে চান চূড়ান্ত সাফল্যের শিখরে।
বলছিলাম কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ এলাকার প্রতিবন্ধী অনিক মাহমুদের কথা।

জন্মগতভাবেই তার নিজের দুই পা অনেক চিকন ও ছোট। স্বাভাবিক মানুষের থেকে আলাদা ও শারিরীক প্রতিবন্ধী হওয়ায় হুইল চেয়ারেই তার বেড়ে ওঠা। আর হুইল চেয়ারে করেই প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে ইতিমধ্যেই নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। দক্ষতার সাথে ফ্রিল্যান্সারের মাধ্যমে কাজ করে এখন প্রতিমাসে তিনি আয় করছেন ৭০-৮০ হাজার টাকা। তার প্রতিষ্ঠানে আরও কয়েকজন তরুন বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন।

ফাইভার এবং আপওয়ার্ক-এ কাজ করছেন তিনি।
বর্তমানে শুধুমাত্র টি শার্ট ডিজাইন নিয়ে কাজ করছেন এই তরুন। ফাইভার এ লেভেল-২ সেলার এবং আপওয়ার্ক এ টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তিনি কাজ করে চলেছেন।

শুরুর গল্পটা নিয়ে অনিক মাহমুদ বলেন, কম্পিউটারের প্রতি অনেক আগ্রহ ছিলো। ২০১২ সালের দিকে বাড়ী থেকে হুইল চেয়ার করে কম্পিউটার শিখতে যেতাম আধা কিলোমিটার দুরে। তারপর বাবাকে অনুরোধ করে পোড়াদহ হাইস্কুল মার্কেটে একটা কম্পিউটার কম্পোজ, প্রিন্ট ও ষ্টেনারীজের দোকান দিলাম। নিজে কিছু একটা করবো এমন সিদ্ধান্ত থেকেই আমরা এগিয়ে যাওয়া শুরু।

২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাশের পর পড়ালেখা করা হয়নি এ তরুনের। তবে দোকানে বসেই সবসময় কম্পিউটারে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন তিনি।

এরপর ২০১৮ সালের শুরু থেকে ই শিখনের মাধ্যমে অনলাইনে গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর তিনমাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। একই সাথে বিভিন্ন ইউিটিউব চ্যানেল থেকে ভিডিও দেখে
ফ্রিল্যান্স্যারের উপর কাজ শুরু করি। পাশাপাশি অনেক বড় বড় ফ্রিল্যান্সারের পরামর্শ নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
এভাবেই আমি প্রতিদিন ১৫-১৮ ঘন্টা পর্যন্ত কম্পিউটারে প্রতিনিয়ত কাজ করেছি।

তারপর ২০১৯ সাল থেকে মোটামুটি কাজ পাওয়া শুরু করেন মার্কেটপ্লেসে। টি-শার্টে ডিজাইন নিয়েই মুলত তার কাজ শুরু। তার প্রথম কাজ পায় আপওয়ার্ক থেকে। সেটা ২৫ ডলারের। আর সর্বোচ্চ একটা প্রজেক্ট থেকে তিন হাজার ডলারের কাজ করতে পেরেছি। এখন আর আমাকে বায়ার খুঁজে পেতে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়না? প্রচুর কাজের অর্ডার আমি পেয়ে থাকি। এছাড়াও আমার ভালো লাগে আমার তৈরী ডিজাইনের টি-শার্ট বিদেশীরা পরে থাকে।

২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে ফাহিম উল করিম নামের বিছানাবন্দী এক প্রতিবন্ধীকে দেখে আমি প্রেরণা পায়। সে যদি বিছানায় থেকে সফলতা লাভ করতে পারে তবে আমি কেন হুইল চেয়ারে বসে পারবো না?

তিনি বলেন, আমি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া স্বত্ত্বেও আমার বাবা-মায়ের সহযোগীতায় আমি আজ এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি।
তিনি বলেন, আমি যেখানে বসবাস করি সেটা অনেকটাই গ্রামাঞ্চল! যেখানে ২ বছর আগেও ভালোভাবে ইন্টারনেট সেবা সবার নাগালের মধ্যে ছিল না। তাই কাজ শিখতে গিয়ে অনেকটাই প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে আমাকে।
তিনি বলেন, আমার অদম্য ইচ্ছেশক্তি ছিলো তাই আমি পেরেছি। আমার ইচ্ছে ছিল আমার জীবনে এমন কিছু একটা করবো, যেখানে আমার কারও কাছে কাজের জন্য যাওয়া লাগবে না বরং আমি আমার প্রতিষ্ঠানে কিছু তরুণদের চাকরী দিবো।
সেক্ষেত্রে অনেকটাই এখন সফল আমি। আর এই দৃঢ় মনোবল আর ইচ্ছাশক্তির কারণেই হয়তো আজ আমি সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে অনিক বলেন, বড় একটা আইটি ফার্ম গড়ে আগামীতে আরও তরুণ ও বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো এটাই আমার স্বপ্ন। পাশাপাশি তিনি এখন তিন চাকা বিশিষ্ট মোটরসাইকেল চালান। কিন্তু ভারতে শারিরীক প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন প্রাইভেট গাড়ী চালানো হয়। আমিই প্রথম বাংলাদেমী হিসেবে তেমন প্রাইভেট গাড়ী চালানোর স্বপ্নে বিভোর।

অনিক মাহমুদ জানান, ফ্রিল্যান্সার হতে হলে প্রচুর ধৈর্যের প্রয়োজন। এ কারণে অনেক তরুণ কাজ শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেন না।
তাই কখনোই ভেঙে পড়া যাবে না। আমি কখনো নিজেকে দুর্বল ভাবি না, অন্য মানুষের মতোই নিজেকে মনে করি। আর কাজ করে যায় নিজের স্বপ্নপূরনে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নিজেকে প্রতিনিয়ত আপডেট রাখাও জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তাই এখনোও নতুন নতুন কিছুর সাথে সম্পৃক্ত হই।

তার পিতা মোঃ মোজাহার আলী। তিনি হালসা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। দুই ভাইয়ের মধ্যে অনিক ছোট। বড় ভাই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে ঢাকায় একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। তিনি বলেন, আমার দুই ছেলের মধ্যে এই ছোট ছেলেকে নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্ত এখন আমি আমার এই প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য গর্ব করি। সবাই এখন অনিকের বাবা বলেই আমাকে চেনেন।

মিরপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জামসেদ আলী বলেন, কিছুদিন আগে তাকে স্মার্ট কার্ড (প্রতিবন্ধী ব্যাক্তির পরিচয়াপত্র) দিতে গিয়ে তার সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তিনি প্রতিবন্ধীদের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে আজ সফল ফ্রিল্যান্সার হয়ে কাজ করছেন অনিক। বেশ ভালো আয় করছেন তার দেখাদেখি করে আরও মানুষ এগিয়ে আসুক এমনটাই কামনা করেন তিনি।

এস এম জামাল, কুষ্টিয়া থেকে।

জীবনীর অতৃপ্তি//////“স্যার, একটু সময় দেবেন?”এইটুকুই মেসেজ। আসছে প্রতিদিন। বেশ কিছুদিন ধরে। সম্ভবত একটি মেয়ের কাছ থেকে। স...
24/04/2020

জীবনীর অতৃপ্তি//////

“স্যার, একটু সময় দেবেন?”
এইটুকুই মেসেজ। আসছে প্রতিদিন। বেশ কিছুদিন ধরে। সম্ভবত একটি মেয়ের কাছ থেকে। সম্ভবত বলছি এই কারণে, নামটি মেয়েলী। শুনেছি ইদানীং অনেক ছেলেরা মেয়ে নাম নিয়ে, অন্য মেয়ের ছবি দিয়ে, ফেসবুক একাউন্ট খোলে। পুরুষদেরকে টার্গেট করে। তারপর ইনিয়ে বিনিয়ে, নানা গল্প ফেঁদে, পুরুষদের বশে আনে। আর পুরুষগুলোও এমন বিকৃত রুচির, মেয়ে নাম শুনে, ভাড়া করা প্রোফাইল পিকচার দেখে, তাদের পৌরুষ থেকে পানি ঝরা শুরু করে। ভাবে গদগদ হয়ে মোমের মতো গলে যায়। সেই সুযোগে মেয়েরা কিংবা মেয়ে নামধারী ছেলেরা মনগড়া বিপদের কথা বলে দু’ পয়সা হাতিয়ে নেয়। এমনিতেই মেসেঞ্জারে চ্যাটিং করার মতো বাহুল্য সময় নেই আমার। তার উপর অপরিচিত মেয়ের মেসেজ দেখলে একশ হাত দূরে থাকি। ইগনোর বক্সে পাঠিয়ে দেই। না রহেগা বাঁশ, না রহেগা বাঁশরী। মেসেজ দেখবও না, ভুগবও না।

এই ধরণের মেয়েরা কিংবা মেয়ে নামধারী ছেলেরা সাধারণত হাই, হ্যালো, কী করেন, কেমন আছেন, ইত্যাদি দিয়ে চ্যাটিং শুরু করে। এই মেয়ে নামধারীটি সরাসরি একটু সময় চাইছে। নামটি আমার ফ্রেন্ড লিস্টে নেই। ফেসবুকে লেখালেখি করি। তার উপরে ডাক্তার। অনেকে আমার সাথে চ্যাটিং করতে চায়। কেউ চিকিৎসা বিষয়ক পরামর্শ নিতে। কেউ বা ব্যক্তি জীবনের না বলা কষ্টের কথা আমার সাথে শেয়ার করে মন হালকা করতে। সময় পেলে মাঝে মাঝে শুনিও তাদের কথা। রোগ শোক হলে সাধ্য মতো পরামর্শ দিই। নইলে চুপচাপ শুনি তাদের কষ্ট ব্যথা। নিজের কিংবা অন্যের ক্ষতি না করে এইটুকু তো করতেই পারি। মনে হল এই মেয়েটি আমাকে কিছু বলতে চায়। প্রোফাইলে যেয়ে দেখলাম তালাবন্ধ! নামটিও হয়ত ভুয়া। এমন কাউকে প্রশ্রয় দেয়া কি ঠিক হবে? ওয়েট এন ওয়াচ পলিসি নিলাম। সাড়া না পেয়ে হাল ছেড়ে দিয়ে এক সময় নিজেই চলে যাবে।

এখন চৈত্রমাস। সারাদিন সূর্যদেব পোড়ায় পৃথিবী রুদ্র আক্রোশে। দমবন্ধ গরমে মানুষের ওঠে নাভিশ্বাস। সন্ধ্যা হতেই আসে ঝড়। প্রচণ্ড তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড প্রকৃত। আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামে অঝোর ধারায়। শীতল হয় পোড়া পৃথিবীর তপ্ত বুক। মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে। বাসার সবাই খেয়েদেয়ে একটু শান্তিতে ঘুমাতে আগেভাগেই শুয়ে পড়ে। আকাশ ভাঙ্গা বৃষ্টি দেখলেই মনটা আমার খারাপ হয়ে যায়। বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ আমাকে উদাস করে দেয়। আকাশের মতন মনটাও তখন কাঁদে।

ফ্যানের বাতাসে আলুথালু হয়ে প্রেয়সী আমার ঘুমায় অকাতরে। আমার দুচোখে ঘুম আসে না। আমি চুপিসারে উঠে স্টাডিতে চলে আসি। বাইরে তখনও উথাল পাথাল বৃষ্টি। আমি একটা সিগ্রেট ধরিয়ে ব্যালকনিতে দাঁড়াই। বৃষ্টির ছাঁচ আমাকে ভিজিয়ে দেয়। আমি পরোয়া করি না। কী এক অবোধ্য কষ্ট বুকের ভেতর গুমরে গুমরে ওঠে। আমি সিগ্রেটে এক লম্বা টান দিয়ে কষ্টে পোড়া বুকটাকে আর একটু পুড়িয়ে দিতে চেষ্টা করি। আমি যে সূর্য! বৃষ্টি তুমি যতই ভেজাও, অন্যকে পোড়ানোর সাথে সাথে আমি যে পোড়াতে জানি আমাকেও।


সিগ্রেট শেষ করে টেবিলে আসি। মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে। বুঝতে পারছি, আজ অনেক রাত অবধি ঘুম আসবে না। বরং একটু ফেসবুকিং করি। বেশ কদিন ইনবক্স চেক করা হয় না। ওপেন করতেই অনেক মেসেজের ভিড়। সাথে সেই মেয়েটির একই মেসেজ। পাশে জ্বল জ্বল করে জ্বলছে সবুজ আলো। এখনও জেগে আছে? এমন বৃষ্টি ভেজা রাতে ওর তো ঘুমানোর কথা প্রিয় মানুষের বুকের ওমে। নাকি ও এখনও একা? কেন জানি না, ইদানীংকালের মেয়েদের বুকের গভীরে অনেক কষ্ট। আপাত সুখী এই মেয়েগুলো সে কষ্টের কথা কাউকে বলতে পারে না। শুধু একলা রাতে নীরবে নিভৃতে কাঁদে। ওর বুকেও কি তেমন কোনো গোপন কষ্ট? কেমন মায়া লাগে এই অচেনা মেয়েটির জন্য।

“কবি, আমাকে একটু সময় দেবেন?”
টিং করে শব্দ হতেই চমকে উঠি। দেখি মেয়েটি আবার মেসেজ পাঠিয়েছে। হয়ত আমার সবুজ বাতি জ্বলতে দেখেই। অবাক হয়ে দেখি, স্যার নয়, কবি বলে সম্বোধন করেছে এবার। কবিতা লিখতে না পারলেও ঐ ডাকটি শুনতে বড় ভালো লাগে। ও কি আমাকে তোষামোদ করছে? মেয়েটির প্রতি মায়ার কারণেই হোক কিংবা তোষামোদি সম্বোধন শুনেই হোক, এবার রেসপন্ড করি,
– খুব জরুরী কিছু?
– হ্যাঁ, খুব।
– বলুন কী বলতে চান।
– আমাকে তুমি করে বলবেন প্লিজ। আমি আপনার অনেক ছোট।


একটু নড়েচড়ে বসি। এক লাফেই তুমিতে নামাতে চায়? কেমন যেন এক দ্বিধায় পড়ে যাই। কন্টিনিউ করব নাকি কেটে দেব? আবার ভাবি, দেখি না, এই বৃষ্টি ভেজা রাতে মেয়েটি কী বলতে চায়? তেমন কিছু মনে হলে সোজা ব্লক।
– বেশ, বলো।
– আমি কি আপনাকে দাদাভাই ডাকতে পারি?
যা বাব্বাহ! এ দেখি পুরুষ পটানো মেয়ে। লক্ষণ ভাল না। এবার আমিই ওকে একটু খেলাতে চাইলাম।
– সে তো অনেকেই ডাকে। তুমি ডাকলেও অসুবিধা নেই।
– থ্যাংক ইউ দাদাভাই। এখন তো অনেক রাত। আমার মতো একটা অচেনা মেয়ের কথা শোনার সময় হবে আপনার?
– খুব কি সময় নেবে?
– যদি নিতে চাই? শুনবেন? এমন কিছু কথা, যা কোনদিন কোনো মেয়ে কাউকে মুখ ফুটে বলতে পারে না।
– তাহলে আমাকে কেন বলতে চাইছ?
– আপনি তো শুধু কবি বা লেখক নন। আপনি তো ডাক্তারও। ডাক্তারকে ভরসা করে অনেক কিছু বলা যায়।

এতক্ষণে বুঝতে পারি, গোপন কোনো মেয়েলী রোগের কথা বলবে মেয়েটি। আমাদের দেশের মেয়েরা ভীষণ লাজুক। তার উপর ডাক্তারের কাছে যায় বাবা, ভাই কিংবা স্বামীকে নিয়ে। চাইলেও তাদের সামনে মুখ ফুটে সব কথা বলতে পারে না। মেয়েটির ব্যাপারে খারাপ ধারণা পোষণ করার জন্য লজ্জা হয়। কম্পেনসেট করার জন্য লিখি,
– কী নাম তোমার?
– কেন? প্রোফাইলে তো আছে। নীলা।
– কিছু মনে কোরো না। ওটা কি তোমার আসল নাম?
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে মেয়েটি। তারপর লেখে,
– না। তবে আপনার আপত্তি না থাকলে আমাকে এ নামে ডাকতে পারেন। আমি জানি, এ নামটা আপনার খুব প্রিয়।

বুঝলাম, মেয়েটি তার পরিচয় গোপন রাখতে চাইছে। তবে খুব অবাক হই। মেয়েটি আমার ফ্রেন্ড লিস্টে না থেকেও আমার সম্পর্কে বেশ খোঁজ খবর রাখে দেখছি। নীলা যে আমার সহ্য হয়নি, জানে তা। মনটা আবার উদাস হয়ে যায়। রাতের আকাশ তখনও কাঁদছে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে। আমি আনমনা হয়ে বসে থাকি। টিং শব্দে বাস্তবে ফিরি। মেসেজ পাঠিয়েছে নীলা,
– আপনাকে দুঃখ দিতে চাইনি। আসলে নামটা আমারও খুব প্রিয়। আমার কোনদিন মেয়ে হলে নাম রাখব নীলা।
– বিয়ে হয়নি তোমার? স্যরি, ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে ফেললাম।
– না না, ঠিক আছে। এর চেয়েও ব্যক্তিগত কথা বলতে চাই আপনাকে। হ্যাঁ। আমার বিয়ে হয়েছে দশ বছর।
– কী কথা বলতে চাও আমাকে?
– দাদাভাই, জানিনা, কিভাবে শুরু করব। জানিনা শুনে কী মনে করবেন। ভীষণ সংকোচ হচ্ছে।
– তুমি বলো। আমি কিছু মনে করব না।


এবার অনেকক্ষণ চুপ করে থাকে নীলা। আমি ওকে সময় দিই। সময় দিই নিজকে গুছিয়ে নেবার। তবু কিছু লেখে না নীলা। শেষে আমিই লিখি,
– রাত অনেক হয়েছে নীলা। তুমি তো আমাকে দেখতে পাচ্ছ না। লজ্জা পাবারও কোনো কারণ দেখি না।
– বেয়াদবি নেবেন না দাদাভাই। মেয়েদের সেক্স কমানোর কোনো ওষুধ আছে?
আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। এমন কিছু শুনব, স্বপ্নেও ভাবিনি। নিজের সেক্সচুয়াল এবিলিটি নিয়ে অনেকেই হীনমন্যতায় ভোগে। বিশেষ করে পুরুষেরা তাদের সেক্স ড্রাইভ নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। সেই সুযোগে ফুটপাতের কবিরাজরা নানা রকম যৌন বর্ধক তৈল ও মালিশ বিক্রি করে বেশ পয়সা কামিয়ে নেয়। আমাদের কাছেও প্রচুর রুগী আসে ইরেকটাইল ডিজফাংশন নিয়ে। মেয়েরাও আসে। তবে কম। সাধারণত সেই সব মেয়েরা, যাদের স্বামীদের অভিযোগ, বউ বিছানায় আসতে চায় না। আজ পর্যন্ত আমার কাছে কোনো মেয়ে সেক্স কমানোর ওষুধ চাইতে আসেনি।

সেক্স, মানব জীবনে অতি গোপনীয় অথচ অত্যন্ত জরুরী একটি বিষয়। আমাদের দেশে এই বিষয়টির উপর প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা না থাকাতে যে যার মতো একটা ধারণা তৈরি করে নেয়। অধিকাংশই ভুল ধারণা। তার উপর আছে লৌকিক, পারলৌকিক ও ধর্মীয় কুসংস্কার। অনেকেরই ধারণা, ঐ কর্মটি যে যত দীর্ঘ সময় ধরে করে, সে ততো সফল ও সক্ষম পুরুষ। আরে বাবা, এটা কি চুইংগাম, যতক্ষণ খুশি মুখে রাখবি? বোকারা বোঝে না, চুইংগাম প্রথম ক’ মিনিটই শুধু মিষ্টি, তারপরে চিবানোই সার। লাভের মধ্যে চোয়াল ব্যথা! ইংরেজিতে সেক্সকে “মেকিং লাভ”ও বলা হয়। অর্থাৎ একে অন্যকে সুখী করা, তৃপ্ত করা, সন্তুষ্ট করা। সেটা তিন মিনিটেও হতে পারে, আবার ত্রিশ মিনিটেও না হতে পারে। এখানে সময়টা কোনো মুখ্য বিষয় নয়।

মোদ্দা কথা হলো, সবাই এটাকে বাড়াতে চায়। অথচ এ কমাতে চাইছে! তবে কি মেয়েটির স্বামী মারা গেছে? আমাদের দেশে মেয়েরা অকালে বিধবা হলে অনেকেই বাকী জীবনটা একাকীই কাটিয়ে দেয় কিংবা দিতে বাধ্য হয়। আমাদের দেশে বিপত্নীক পুরুষরা, কিংবা যে সব পুরুষরা ধর্মের দোহাই দিয়ে বা অন্য কোনো কারণে আবার বিয়ে করে, তারাও একটি আনকোরা কুমারী মেয়ে খোঁজে। বিধবারা রয়ে যায় অবহেলিত, অস্পৃশ্য। প্রসবের পর দুর্ভাগ্যজনক ভাবে যাদের সন্তান মারা যায় কিংবা বাচ্চাকে যারা বুকের দুধ পান না করায়, তারা বুকের দুধ কমানো জন্য ওষুধ চাইতে আসে, কিন্তু স্বামী মারা গেলে সেক্স কমানোর ওষুধ চাইতে আসে, শুনিনি কখনও। জিজ্ঞেস করি,
– কিছু মনে কোরো না। তোমার স্বামী কি মারা গেছে?
– না না। সে বহাল তবিয়তে বেঁচে আছে।
– তাহলে কি রাতে সে তোমার কাছে আসে না?
– আসে। প্রায় প্রতি রাতেই। কখনও কখনও একাধিক বার।


আমি কিছুটা বিভ্রান্ত বোধ করি। যে স্বামী বিয়ের দশ বছর পরও প্রায় প্রতি রাতে আসে, তাও একাধিক বার, সে তো শিব ঠাকুরের বিশেষ বরপ্রাপ্ত! তার বউ কেন সেক্স কমাতে চাইছে? ওর তো বাড়াবার ওষুধ দরকার। তবে কী? জিজ্ঞেস করেই ফেলি,
– সে কি তোমাকে সন্তুষ্ট করতে অক্ষম?
– হ্যাঁ।
– একটু খুলে বলবে? বিস্তারিত!
– সে এক দেড় মিনিটের বেশী পারে না। আমার শরীর যখন প্রচণ্ড ভাবে আলোকিত হতে চায়, তখনই সে ধপ করে নিভে যায়। আমার সমস্ত পৃথিবী নিকষ আঁধারে ছেয়ে যায়। সে ঝড় তোলে ঠিকই, কিন্তু সে ঝড়ে নিজেই ভাঙ্গা গাছের মতে ধরাশায়ী হয়ে পড়ে থাকে, আমাকে ভেজাতে পারে না। আমার শরীরে তখন হাবিয়া দোজখের আগুন। অসহ্য যন্ত্রণায় আমি ছটফট করি। বাথরুমে ঢুকে বালতির বালতি পানি গায়ে ঢালি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বারান্দায় নির্ঘুম বসে থাকি, তবু শরীরের জ্বালা জুড়ায় না। এ কষ্ট আমি আর নিতে পারছি না দাদাভাই।

থেমে যায় নীলা। হয়ত ইমোশনাল হয়ে পড়েছে। হয়ত কাঁদছে কষ্টের স্মৃতি মনে করে। এতক্ষণে আমি কারণটা বুঝতে পারি। আমাদের সমাজে এটা একটা গোপন অথচ মহামারি পর্যায়ের ব্যাধি। আমরা, পুরুষেরা, আমাদের চাহিদা মোতাবেক আমাদের অধিকারটুকু কড়ায় গণ্ডায় ঠিকই আদায় করে নিই। বিনিময়ে কতটুকু দিতে পারলাম, সে হিসাব রাখি না, কিংবা রাখার প্রয়োজন মনে করি না। অনেক মেয়েই লজ্জায়, সংকোচে কিছু বলতে পারে না। অনেকে তো জানেই না, এ ব্যাপারে তাদেরও কিছু বলার আছে। জন্মের পর থেকেই মেয়েদের উঠতে বসতে বুঝিয়ে দেয়া হয়, সে পরের ধন। যেতে হবে পরের ঘরে। মেটাতে হবে স্বামীর চাহিদা। মন জুগিয়ে চলতে হবে শশুর বাড়ির সবার। মেয়েরা যেন শুধুই সেবাদাসী। যে কষ্টে মা দাদীরা ভুগেছেন সারা জীবন, সে কষ্টের কথা বলেন না মেয়ে বা নাতনীকে। ফলে মেয়েটি জানেই না তার যৌন অধিকার কতটুকু। আমাদের দেশে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ব্যাপারে শেখানো হয় না কিছুই। ইদানীংকালে ইন্টারনেটের যুগে কেউ কেউ স্বপ্রনোদিত হয়ে শিখছে কিছু কিছু, তবে ভুল শিক্ষাও কম পাচ্ছে না। বিশেষ করে ট্রিপল এক্স রেটেড সাইটগুলোয় যে সব ভিডিও আপলোড করা হয়, তার অধিকাংশই যে একশন মুভির মত মেক করা, অতি-প্রাকৃতিক, অনেকেই তা বুঝতে পারে না।

এই মেয়েটিকে বেশ শিক্ষিত মনে হচ্ছে। সে খুব মার্জিত ভাষার এমন একটা স্পর্শকাতর বিষয় বর্ণনা করছে। মেয়েটির প্রতি আমার সহানুভূতি বেড়ে যায়। একজন ডাক্তার হিসেবে তার কষ্ট আমি বুঝতে পারি। জিজ্ঞেস করি,
– কবে থেকে এমন হচ্ছে?
– বাসর রাত থেকেই।
– কখনওই কি তোমাকে তৃপ্তি দিতে পারেনি?
– নাহ!

আমি নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারি না। এও সম্ভব? গত দশটি বছর একটি মেয়ে রাতের পর রাত যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, অথচ মুখ বুজে সহ্য করে যাচ্ছে! নির্যাতনই বলব, যৌন অতৃপ্তি একটি মেয়ের শরীরে ও মনে যে কী প্রচণ্ড বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, একজন ডাক্তার হিসেবে আমি তা বেশ ভালো করে জানি। অনেক মেয়ে তো এটাকেই তাদের নিয়তি হিসেবে মেনে নেয়। ভাবে, ভাত, কাপড় ও নিরাপত্তার বিনিময়ে তাদের যেমন রান্না করতে হয়, ঘরকন্নার কাজ করতে হয়, তেমনই রাতে শরীর দিতে হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে যখন মেয়েটি গিন্নীবান্নী হয়ে যায়, ছেলেমেয়েদের মা হয়ে যায়, সংসারে নিজের আসন পাকাপোক্ত হয়ে যায়, তখন সে গোপনে বিদ্রোহ করে বসে। রাতে বিছানায় যেতে অস্বীকৃতি জানায়। একজন অন্যজনের প্রতি অ-সহিষ্ণু হয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে শুরু হয় ঝগড়াঝাঁটি মারামারি। অনেকে লোকলজ্জার ভয়ে বাকী জীবনটা এক ছাদের নীচে, একে অন্যকে সহ্য করে যায়। যারা সহ্য করতে পারে না, তারা হয় আবার বিয়ে করে, নয়ত নিষিদ্ধ পল্লীতে যেয়ে ক্ষুধা মেটায়। অথচ একটু বেসিক সেক্স এডুকেশন, একটু সচেতনতা, একটু সহানুভূতি জীবনটাকে মধুময় করে তুলতে পারে।


– তোমাদের কোনো সন্তান হয়নি?
– হ্যাঁ। একটি ছেলে। বয়স আট। ওই তো আমার জীবনের একমাত্র আলো।
বুঝলাম, স্বামীটি ইনফার্টাইল কিংবা ইমপোটেন্ট নয়। হয়ত টেকনিক্যাল কিংবা মানসিক সমস্যা। অনেকেই ভুল টেকনিকের কারণে কিংবা অস্থিরতার কারণে কাণ্ডটি ঠিকমত করতে পারে না। জিজ্ঞেস করি,
– তুমি তাকে কিছু বলোনি?
– নাহ।
– কেন?
– বললে ও যদি লজ্জা পায়, ওর পৌরুষে যদি আঘাত লাগে, যদি মনে কষ্ট পায়।
আমি অবাক হয়ে ভাবি, হায়রে সর্বংসহা নারী, সাধে তোমাদের মা ধরিত্রীর সাথে তুলনা করা হয় না। সব কিছু সয়ে যাও নীরবে। তবু মুখে রা’টি কাটো না। তবে নীলার এই যে সয়ে যাওয়া, সেকি স্বামীর ঘরের নিরাপত্তার কারণে নাকি ভালোবাসার কারণে, এখনও বুঝতে পারছি না। জিজ্ঞেস করি,
– সে কি তা বুঝতে পারে?
– না পারার তো কথা নয়। ইউনিভার্সিটির সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী ছেলে!
– আই সি! ডাক্তার দেখায়নি?
– জানি না। হয়ত দেখিয়েছে। ব্যবসা উপলক্ষে তো প্রায়ই দিল্লী হিল্লী করে বেড়ায়। না দেখাবার তো কথা নয়।
– কত বয়স ওর?
– ছত্রিশ।
– কোনো রোগ?
– নাহ।
– বিড়ি সিগ্রেট?
– প্রচুর। ছাত্র জীবনে গাঞ্জাটাঞ্জাও খেতো খুব।

অনেকেই হয়ত জানে না, বিড়ি, সিগ্রেট, মদ, গাঁজা যৌন ক্ষমতা প্রচুর কমিয়ে দেয়। সেই সাথে যদি কারো ডায়াবেটিস থাকে, হরমোনাল প্রব্লেম থাকে। অনেক ওষুধের সাইড ইফেক্টেও সেক্স কমে যায়। তবে প্রধান কারণ হল মানসিক অস্থিরতা, ভয়। একবার না পারলে পরের বার মনোবল আরও কমে যায়, এবং তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। তখন এটা ভিসিয়াস সাইকেল হয়ে দাঁড়ায় এবং সমস্যাটা উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে। এ সবের ভালো চিকিৎসা আছে। সেক্সোলোজিষ্টরা এ ব্যাপারে কাউন্সেলিং করে ও সেক্স টেকনিক শেখায়। তবে এ ক্ষেত্রে মেয়েরা সবচে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। স্বামীটির পৌরুষের প্রতি আঙ্গুল খোঁচা না দিয়ে তার মনোবল বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
– তোমার সাথে এ ব্যাপারে সে নিজে থেকে কখনও কিছু বলেনি?
– নাহ। রাতে বেচারা খুব লজ্জা পায়। সকাল বেলা চোখে চোখ মেলাতে পারে না। কোনমতে নাস্তা করে পালিয়ে যায়। তারপরও প্রতি রাতেই আসতে চায়। আমি না বলতে পারি না।
– কেন? খুব ভালোবাসো তাকে?
– ভীষণ।
– আর সে?
– সেও। একমাত্র রাতের ব্যাপারটা ছাড়া পৃথিবীর আর সব সুখ এনে আমার পায়ে লুটিয়ে দেয়। আমরা যে প্রেম করে বিয়ে করেছি দাদাভাই।

আমার হঠাৎ সুকুমার রায়ের “ষোল আনাই মিছে” কবিতাটা মনে পড়ে। কিন্তু কিছু বলতে পারি না। যে মেয়ে একটা মানুষকে শুধু ভালোবেসে গত দশ বছর ধরে বিনা প্রতিবাদে যৌন অতৃপ্তিতে ভুগছে, যে মেয়ে জীবনে একবারও বৈবাহিক জীবনের সর্বোত্তম সুখের মূহুর্তটির দেখা পেলো না, সেই মেয়েকে এ কথা বলা যায় না। আমি চুপ করে থাকি। নীলাই আবার শুরু করে,
– জানেন দাদাভাই, বিবাহিত মহিলারা যখন রগরগে রাতের গল্প বলে, আমি তখন চুপ করে থাকি। আমার খুব কান্না পায়। আমার মরে যেতে ইচ্ছে করে। এ কোনো জীবন হল? এর চেয়ে পোকামাকড়ের জীবনও ভালো। ওরা চাইলেই আগুনে আত্মাহুতি দিতে পারে। আমি তাও পারি না। মাঝে মাঝে নিজেকে আমার সো-কেসে সাজানো নিষ্প্রাণ পুতুলের মত মনে হয়। দামী শাড়ি গহনা পরে, দামি গাড়িতে চড়ে, সুখী মানুষের ভান করে ঘুরে বেড়াই। অথচ ভেতরে ভেতরে আমি একটা জিন্দা লাশ। সুখের অভিনয় করতে করতে বড় ক্লান্ত আমি। আর পারছি না দাদাভাই।

নীলার লেখা পড়তে পড়তে আমার চোখে পানি চলে আসে। কী বলব, কী আমার বলা উচিত, বুঝতে পারি না। নীলা লিখে চলে। আহা, লিখুক। লিখে লিখে যদি হালকা হয় বুক।
– জানেন দাদাভাই, আমরা যখন প্রেম করতাম, ও যখন আমায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে দিত, লাইব্রেরীর সিঁড়ির নীচে, কিংবা কোনো আড়ালে আবডালে, ও যখন আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতো, আমার শরীরে তখন তোলপাড় করা ঝড় উঠত। আমি ভিজেটিজে একাকার হয়ে যেতাম। তখন ভাবতাম, আহা, কবে আসবে সেই দিন, যেদিন প্রণয়ের সুনামি এসে আমায় ভাসিয়ে নিয়ে যাবে, সুখের সাগরে ডুবে আমি আকণ্ঠ পান করব প্রণয়ের মৃত সঞ্জীবনী সুধা? তখন কী আর জানতাম, সে সুনামি আমার জীবনে কোনদিনই আসবে না? ও আমাকে দু’চার ফোটা বৃষ্টির মতো যা কিছু দেয়, শুষ্ক মরুর বুকে তপ্ত বালু তা নিমেষেই শুষে নেয়। আমার আর শ্রাবণ ধারায় ভেজা হয় না।

আবার চুপ করে যায় নীলা। কী করছে ও? কাঁদছে কি আকুল হয়ে? শরীর ও মনের যন্ত্রণা লোনা জল হয়ে ঝরছে কি দু’চোখ বেয়ে? অদেখা এই মেয়েটির জন্য বুকটা কেমন করে ওঠে। লিখি,
– ফোরপ্লের নাম শুনেছ? ও করে ওসব?
– ফোরপ্লে লাগে না দাদাভাই। ও আমাকে ছুঁয়ে দিলেই আমি জেগে উঠি। এই শরীরে যে রাক্ষুসে ক্ষুধা দাদাভাই। যে শরীর দশ বছর ধরে বুভুক্ষ, তার কোরমা পোলাউ লাগে না। এক মুঠো ভাত দেখলেই হাহাকার করে ওঠে। দেবেন আপনি আমাকে দাদাভাই? এমন কোনো ওষুধ, যা খেলে এ মরণ ক্ষুধা মিটে যায় চিরতরে?

কেমন করে বলি ওকে, শরীরের ক্ষুধা যে পেটের ক্ষুধার মতই। পেটের ক্ষুধা যেমন ভাত ছাড়া মেটে না, শরীরের ক্ষুধাও তেমন রমণ ছাড়া মেটে না। একটু ভেবে নিয়ে লিখি,
– তুমি যে সেক্স কমানোর ওষুধ চাইছ, তাতে তো তোমার কষ্ট আরও বেশী হবে। ও যখন তোমাকে চাইবে, আর তোমার শরীর জাগবে না, শুকিয়ে থাকবে পথ ঘাট, তখন তো যন্ত্রণা আরও বেশী হবে।
– হোক। সে তো এক মিনিটের জন্য। সারারাত তো জ্বলে জ্বলে মরতে হবে না। তাছাড়া মেয়েদের সেক্স করার জন্য শরীর জাগাটা কি খুব জরুরী? তাই যদি হবে, তাহলে বারবনিতাদের? যারা প্রতি রাতে একাধিক পুরুষকে নেয়, তাদের কি প্রতিবারই শরীর জাগে? ওরা টাকার জন্য শরীর দেয়, আমি নাহয় ভাত কাপড় আর সামাজিক বন্ধনকে টিকিয়ে রাখতে শরীর দেবো।

নিজের অজান্তেই খুব কঠিন একটা কথা বলে ফেলে নীলা। আসলেই তো! আমরা যারা মন্ত্র পড়ে বউ ঘরে নিয়ে আসি, ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হবার আগেই তো শরীর ভোগ করি। ক’জনে তাদের মনের খবর নিই? ক’জনে তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার মূল্য দেই? ক’জনে তাদের পূর্ণ তৃপ্ত করি? অথচ চাহিবা মাত্র আমাদের চাহিদা মেটাতে তারা তৈরি থাকে। এসব কথা নীলাকে বলি না। এসব কথা ওকে বলা যায় না। বরং লিখি,
– ওভাবে বলছ কেন? তুমি তো ওকে ভালোও বাসো।
– সেটাই তো জ্বালা দাদাভাই। সেই ভালোবাসাই তো ফিকে হয়ে যাচ্ছে দিনে দিনে। এখন রাত্রি নামলেই এক আতঙ্ক গ্রাস করে আমাকে। ওকে দেখলেই রাতের বিভীষিকা মনে পড়ে। জানেন দাদাভাই, আপনাকে বলতে লজ্জা নেই, ও অনেক রাত করে বাড়ি ফেরে। মাঝে মাঝে এমনও মনে হয়, আর যদি না ফিরত কোনদিন! তখনই ধিক্কার দেই নিজেকে। সুখে দুঃখে আমৃত্যু পাশে থাকার অঙ্গীকার করে ভালোবেসে বিয়ে করেছি দুজনে। বিয়ের আগে ও এই অসুবিধার কথা জানত না। ও তো আমাকে ঠকায়নি। যে দোষ ওর নয়, সে দোষে দোষী করে কিভাবে ওর অমঙ্গল চাই? বিয়ের পর কোনো অসুখে আমার যৌন ক্ষমতাও তো চলে যেতে পারত? তখন কি ও আমাকে ফেলে দিত? তাই মিনতি করছি, তলানিতে পড়ে থাকা ভালোবাসাটুকু শেষ হবার আগেই একটা কিছু দিন।

নীলার প্রতি শ্রদ্ধায় ভরে যায় মন। কী অদ্ভুত যাদু ভালোবাসায়। কী জটিল রহস্যময় মানুষের মন। ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখার জন্য মেয়েটি ভালোবাসার অনুভূতিটাকেই হত্যা করতে চাইছে সে। মেয়েদের যৌন চাহিদা কমানোর ওষুধের নাম আমি জানিনা তা নয়। কিন্তু ওকে তা দিতে মন চাইল না। ছেলেটির যেহেতু চাহিদাও আছে, ইরেকশনও হয়, সঠিক চিকিৎসা, স্ত্রীর সহানুভূতি ও সহযোগিতা, ছেলেটির স্থায়িত্ব বাড়াতে পারে। অন্তত শেষ চেষ্টা না করে সব শেষ করে দেয়া ঠিক হবে না। পুরুষরা তাদের অক্ষমতা স্বীকার করতে নারাজ। এতে তাদের পৌরুষে, তাদের অহমে খুব লাগে। একটু চিন্তা করে লিখি,
– তোমার কথা শুনে মনে হল, স্বামী তোমাকে খুব ভালোবাসে। ঠিক?
– হ্যাঁ দাদাভাই। আমি ছাড়া সে কিচ্ছু বোঝে না। রাতের যন্ত্রণার পর সারাদিন আমার মেজাজ খিটখিটে থাকে। ও নীরবে আমার সব অত্যাচার সহ্য করে।
– তাই যদি হয়, তবে ওর সাথে সব খোলামেলা আলোচনা করো। যেভাবে আমার সাথে করলে। বলো, তোমার কতটা কষ্ট হয়। সে যদি সত্যি সত্যি তোমাকে ভালোবাসে, তবে আমার বিশ্বাস, তোমাকে সুখ দিতে না পারুক, কষ্ট সে কখনোই দিতে চাইবে না। সে হয়ত জানেই না, তোমার এত কষ্ট হয়। ভালোবাসার কাছে পৌরুষের অহমিকা খুবই তুচ্ছ ব্যাপার।
– ব্যাপারটা এ ভাবে ভেবে দেখিনি দাদাভাই।
– দেখবে কেমন করে? তোমরা যে নারী। শুধু দিতেই জানো। আদায় করতে জানো না। একবার বলেই দেখো না। ও ঠিক বুঝতে পারবে। তারপর দুজন মিলে কোনো সেক্সোলোজিস্টের কাছে যাও। দেশে না চাও, দেশের বাইরে যাও। দেখবে, তোমার সেই স্বপ্নের সুনামি বাসর, একদিন তোমাকে ঠিক ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।
– তাই করব দাদাভাই। তাই করব। এখন বুঝতে পারছি, কেউ কেউ কেন আপনাকে দেবতা ভাবে। ধন্যবাদ দেবো না। তবে যদি কোনদিন দেখা পাই, আপনার অজান্তেই আপনাকে একবার ছুঁয়ে দিতে চাই। দেখতে চাই, আপনি সত্যি সত্যি মানুষ না দেবতা?

বলেই সবুজ বাতি নিভিয়ে দেয় নীলা। আমি একলা ঘরে হো হো করে হেসে উঠি। আমার হাসি দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে আমাকেই ব্যাঙ্গ করতে থাকে। ঐ বোবা দেয়ালও জানে, দেবতা তো দূরের কথা, আমি একজন ভালো মাপের মানুষও নই। আমি শুধু কথার মায়াজালে মানুষকে মুগ্ধ করি। আমি এক চতুর কথার বেপারী।

বি.দ্র. : এই গল্পের চরিত্রটি কাল্পনিক। কারও সাথে মিলে গেলে সেটা নিতান্তই কাকতালীয়।

Address

Kushtia
Kushtia
7000

Telephone

01778390720

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Golpo Kahini posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share