11/08/2024
Title:- Disparity Evasion (বৈষম্যের ছল)
আমরা মানব জাতি। আমাদের জন্ম মানুষ রূপে। পানির উপরে অবস্থিত এই ভূপৃষ্ঠে অসংখ্য প্রাণীকুলের বসবাস। এদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে মানব জাতি। কিন্তু এই মানব জাতির উৎপত্তি কোথা থেকে হয়েছে এই নিয়ে এখনো অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। কোন কোন বিজ্ঞানী মনে করে থাকেন যে, মানব জাতির উৎপত্তি হয়েছে বানর থেকে। আবার কেউ মনে করেন শৈবাল থেকে আমরা এসেছি। আবার অনেকের ধারণা আমাদের উৎপত্তি এলিয়েনেশনের মাধ্যমে। তবে আমাদের সৃষ্টি যেভাবেই হোক না কেন আমরা আমাদের ভূপৃষ্ঠের সেরা জীব (মানব জাতি)। আমাদের আধিপত্য সকল প্রাণীকুলে। আমরা সৃষ্টির সেরা জীব হলেও আমাদের মধ্যে কিছু বৈষম্য লক্ষণীয় যা অন্য কোন প্রাণীদের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না। সমাজ বিজ্ঞানী কার্ল মার্কস বলেছেন, মানব জাতি ২টি ভাগে বিভক্ত যথাক্রমেঃ ১। উৎপাদক শ্রেণি, ২। শোষক শ্রেণি। জার্মান দার্শনিক এডিয়েন এর মতে মানব জাতির কোন ধর্ম নেই। মানব জাতি বিলাসিতার জন্য প্রচলিত নিয়ম ব্যবস্থার দাস এবং সমাজ ব্যবস্থার পুতুল হয়ে আছে।
সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে মানব জাতি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে নিজেদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে আসছে। প্রথমদিকে সেটা বর্ণ এবং স্বভাবগত কারণে হলেও পরবর্তীতে ধীরে ধীরে অসংখ্য বৈষম্য তৈরি হয়েছে যার প্রধান কারণ ধর্ম। পৃথিবীতে প্রায় ৫০,০০০ এর বেশি ধর্ম রয়েছে। মানব সভ্যতার ইতিহাস লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ধর্মকে কেন্দ্র করে অসংখ্য মানুষ নিজস্ব গোত্র ও নিজস্ব স্বত্বা তৈরি করেছে, মানুষের থেকে মানুষকে সরিয়েছে, দেশ ত্যাগ করেছে, দাঙ্গার সৃষ্টি সহ অসংখ্য অপকর্ম করেছে।
আমরা যখন জন্ম নেই তখন আমরা কেউই নিজদের ধর্ম পছন্দ করে মায়ের গর্ভে আসি না। শিল্পকর্মটির মাধ্যমে পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে বর্তমানে প্রচলিত ধর্মের বৈষম্য এবং গোঁড়ামিকে তুলে ধরেছি। এখানে পানি দ্বারা সমুদ্রপৃষ্ঠকে বুঝিয়েছি এবং দাবার ছক হচ্ছে ভূপৃষ্ঠ। মাটি রঙের দাবা সমাজের উৎপাদক শ্রেণি এবং কালো রং এর ছক শোষক শ্রেণিকে ইঙ্গিত করে। দাবার ছক দ্বারা আমরা জাতিকে নিয়ে যে খেলা চলছে সেটা বোঝানোর চেষ্টা করেছি। ৫০,০০০ হাজার ধর্মের মধ্যে প্রধান অবস্থানে আছে যথাক্রমেঃ ১। সনাতন, ২। খ্রিষ্টান, ৩। মুসলিম, ৪। বৌদ্ধ। যদিও এই ধর্মের মধ্যের অনেক বৈষম্য এবং ভেদাভেদ রয়েছে। এখানে আমরা ধর্মের লোগোগুলোর মধ্যে রং করে দিয়েছি কারণ প্রতি ধর্মেরই একটি নিজস্ব রং রয়েছে। এসকল মানুষ রং এর মধ্যেও ধর্মকে দেখতে পায় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে রং এর কোন ধর্ম নেই।
এখানে একটি শিশুকে দেখিয়েছি এবং একটি ছক্কা দেখিয়েছি। যেটি দ্বারা আমাদের জন্মের আগেই ধর্ম আমাদের বেছে নেয়, আমরা জন্মের পরে ধর্মকে বেছে নেই না সেটাকে ইঙ্গিত করছি। অথচ এরপরেও ধর্ম নিয়ে আমাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। প্রকৃতপক্ষে ধর্ম আমাদের তার পুতুল করেছে। ধর্মের দোহাই দিয়ে মানব জাতি মনুষ্যত্ব বিলীন করে দিচ্ছে যেখানে মানুষের প্রধান বৈশিষ্ট্যই মনুষ্যত্ব।
পরিশেষে বলবো, মায়ের গর্ভ থেকে আমরা ধর্ম পছন্দ করে আসি না। ধর্ম মানা যদি অধিকার হয় তাহলে সেটা না মানার অধিকারও আমাদের আছে। তাই ধর্ম মানা বা না মানা সম্পূর্ণ নিজের ব্যাপার। আমার মনে হয়, প্রতিটা ধর্ম হচ্ছে এক একটি জীবন ব্যবস্থা। আর এই জীবন ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে আমাদের মনুষ্যত্ব বিলিয়ে না দেই । ধর্মের দোহাই দিয়ে মানব জাতির মধ্যে বৈষম্য তৈরি করা ঠিক নয়।
আমরা মানুষ এটাই আমাদের মূল ধর্ম।
(Group Work)