Zayed

Zayed Be humble, Polite & Generous. Build your network as much as high.

তারাবীহ’র গল্প (লেট আপলোড) – পর্ব ২৪ - শেষ পর্ব (৩য় বছর)৬ এপ্রিল - খিলগাঁও গভ. কোয়ার্টার জামে মসজিদ---------------রমজান...
10/04/2024

তারাবীহ’র গল্প (লেট আপলোড) – পর্ব ২৪ - শেষ পর্ব (৩য় বছর)
৬ এপ্রিল - খিলগাঁও গভ. কোয়ার্টার জামে মসজিদ

---------------

রমজান বিদায় হয়ে যাচ্ছে আমাদের থেকে। সামনের রমজান মাসের অপেক্ষায় থাকবো এই ১১ টি মাস। ২৭ রমজানের রাতে মূলত খতম তারাবীহ শেষ হয়। তেলাওয়াত খুব ভালো ও সুর আছে, আজ এমন একটা মসজিদে পড়তে হবে তারাবীহ। কারন এই ৩০ পারাই আমি ২০ রাকাত তারাবীহ দিয়ে শেষ করি। প্রতিবার ২৭ রমজানের আগেই খুলনা চলে যাই। খুলনার কোন মসজিদে ২০ রাকাত পড়ি। এবারই কাজের চাপে একটু দেরীতে যাওয়া হচ্ছে।

খিলগাঁও তিলপাপাড়া মসজিদের নামাজ পড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। এই হাফেজ সাহেবের সুর ভালো। অফিস থেকে আগে আগেই বের হয়ে দোতলায় গিয়ে বসলাম। রাজু, জহির ভাই কেউ নেই। একা একাই নামাজ পড়বো। আজ এশা ১৫ মিনিট পর শুরু হবে। তারাবীহ নামাজের কালেকশন চলছে। আমি অল্প কিছু টাকা কন্ট্রিবিউট করলাম।

এশার পর তারাবীহ শুরু হলো। মন আগে থেকেই খারাপ। কষ্টে বুক ব্যাথা করছে। খতম তারাবীহ’র শেষ দিন। হাফেজ সাহেব শুর করলেন। সুরা নাবা থেকে শুরু। একটা একটা করে সুরা পড়ে যাচ্ছেন। চোখে অশ্রু বাসা বাঁধছে। দুইজন হাফেজ সাহেব মিলে ২০ রাকাত পড়ালেন। অসাধারণ সুর দুইজনের। নামাজ শেষে বেতের না পড়েই বের হলাম। ওই রাতে নামাজ পড়ে তারপর বেতের পড়বো।

খুব কষ্ট হচ্ছে। আসলেই হচ্ছে। আপন মানুষ চলে গেলে যেমন কষ্ট ওরকম। আবার রমজান আসবে সামনের বছর। আবার এভাবে হয়তো তারাবীহ পড়বো। আল্লাহ যদি সুযোগ রাখেন।

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ২২ (৩য় বছর)৪ এপ্রিল - বাইতুল আমান জামে মসজিদ, কদমতলা, বাসাবো---------------আজ ২৫ রমজানের ক্বদরের র...
04/04/2024

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ২২ (৩য় বছর)
৪ এপ্রিল - বাইতুল আমান জামে মসজিদ, কদমতলা, বাসাবো

---------------

আজ ২৫ রমজানের ক্বদরের রাত। রমজান বিদায়লগ্নে। তাকওয়া অর্জন ও ধর্মীয় চর্চার মাস বিদায়ের ঘন্টা বাজাচ্ছে। যারা প্রাকটিসিং মুসলিম, তাদের ভিতরে কষ্ট হয়। অনেক কষ্ট। হওয়াটাই স্বাভাবিক। যারা উপযুক্ত কোন কারণ ছাড়া রোজা না রাখার ঔদ্ধত্ব করে, তাদের ধরে বাটাম দেয়া উচিৎ। পরকালের বাটাম তো প্রিজার্ভ করাই আছে।

আজ সাংবাদিক নেতা শাহীন হাসনাত ভাইয়ের দাওয়াত পেয়ে বাসাবো কদমতলার ঐতিহ্যবাহী বাইতুল আমান জামে মসজিদে তারাবীহ পড়তে গেলাম। শাহীন ভাইয়ের সাথে দেখা হয়নি। ইতিকাফে বসেছেন।

অফিসে ইফতারী করে কাজ করেছে একটু। জহির ভাইকে ফোন দিয়ে শুনলাম উনি আসবে কিনা। না আসবেনা। শপিং এ গেছে। রাজুও নেই। অফিস থেকে নেমে রিকশা নিলাম ৫ মিনিটে মসজিদের সামনে। ততক্ষণে শেষ রাকাত চলছে। দৌড় দিয়ে তিনতলায় উঠে নামাজ ধরলাম। মসজিদটা একটু পুরোনো গোছের, লম্বাটে। একটু নোংরা। পুরোনো হবার কারণে মনে হয়।

এশা শেষে তারাবীহ শুরু হলো। 8G স্পিডে হাফেজ সাহেব একে ৪৭ চালানো শুরু করলেন। সুর আছে হাফেজ সাহেবের গলায়। কিন্তু অবস্থা এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো। ঢিচক্যাও.... গুলির বেগে কুরআন তেলাওয়াত চলছে। হিসেব করে দেখলাম, ১ মিনিট ৪০/৫০ সেকেন্ডে এক এক রাকাতের তেলাওয়াত শেষ হচ্ছে। সুরা ফাতিহা পড়ছেন দুই দমে। এভাবে এইট জি স্পিডে শেষ হলো ৮ রাকাত। সব মিলিয়ে ৮ রাকাত পড়েত লাগলো মাত্র ২৮-৩০ মিনিটের মতো।

ভালো লাগেনি। আজ তারাবীহ পড়ে। শাহীন হাসনাত ভাই যদি যেখে, তাহলে বুঝতে পারবে আমার রিভিউ। তারাবীহ পড়ে বেতের নামাজ না পড়ে অফিসে এলাম। ক্বদরের রাত, ওই রাতে নামাজ পড়ে বেতের পড়বো।

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ২০ (৩য় বছর)১ এপ্রিল - মায়াকানন জামে মসজিদ, সবুজবাগ---------------রমজান বিদায়ের সুর বাজাচ্ছে। শেষ দ...
01/04/2024

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ২০ (৩য় বছর)
১ এপ্রিল - মায়াকানন জামে মসজিদ, সবুজবাগ

---------------

রমজান বিদায়ের সুর বাজাচ্ছে। শেষ দশকটা আসলে বুকে ব্যাথা করে। যেভাবে প্রিয়জন চলে গেলে বুকে একটা চাপ অনুভুত হয়। রমজানের বিদায়ে ঠিক ওইরকম একটা চাপ লাগে বুকে। বাসায় ইফতার করে অফিসে এলাম। অফিসে কাজের চাপও কমে আসছে। তারাবীহর ঠিক আগে জহির ভাই মেসেজ দিয়ে বললো মায়াকানন জামে মসজিদে তারাবীহ পড়বে। সেদিন রিকশায় করে আসতে আসতে এই মসজিদের তেলাওয়াত শুনেছিলাম। খুবই ভালো মাশাল্লাহ্। জহির ভাই বললো মসজিদের নীচেই দাড়িয়ে থাকবে। আমি গেলে একসাথে ঢুকবে মসজিদে।

অফিস থেকে তড়িঘড়ি করে বের হয়ে রিকশা নিলাম। ৮.১৫ তে এশার জামায়াত ধরতেই হবে। অফিস থেকে যেতে সময় লাগলো মাত্র ৫ মিনিট। খুব কাছেই। বুঝতে পারিনি আসলে। গিয়ে দেখি নামাজ ৮.৩০ এ। জহির ভাই আর আমি মসজিদে ঢুকলাম। মসজিদটি স্কয়ার সাইজের। ছোট আকৃতির। ভিতরে একটা মাত্র পিলার। কিন্তু উপরে আবার ৬ তলা দেখা যাচ্ছে। যেহেতু মহল্লার মসজিদ। নীচতলায় সব মসজিদ কমিটি আর এলাকার প্রভাবশালী লোকেরা আসন গেড়ে বসেছে, শেষ কাতারের আগের কাতারে। মনে হচ্ছে পাহারা দিতে বসেছে। কেউ কেউ আবার জায়ানামাজ বিছিয়ে জায়গা দখল করে মনে হয় চা শাটতে গেছে বাইরে। ৮.৩০ এ নামাজ শুরু হলো। সাউন্ড সিস্টেম উন্নতমানের। ইকো দেয়া আছে। তেলাওয়াত ভালো মাশাআল্লাহ্। এশা শেষে তারাবীহ শুরু হবে। এরই মধ্যে সামনের কাতার থেকে দুজন লোক বের হয়ে বাইরে যাচ্ছে। আমরা একদম পিছনের কাতারে। ওই দুজন লোককে মসজিদ কমিটির লোকেরা পারলে চোখ দিয়ে খেয়ে ফেলবে। কেন তারা সামনে বসেও আগে বের হচ্ছে। আমি জহির ভাইয়ের কানে কানে মসজিদ কমিটির লোকগুলোতে নিয়ে টিপ্পনি মার্কা কথা বলে হাসলাম।

তারাবীহ শুরু হলো। হাফেজ সাহেবের তেলাওয়াতে সুদাইসের সুর পেলাম। খুব ভালো তেলাওয়াত করছেন মাশাল্লাহ। সুর হলে তারাবীহ পড়তে কষ্ট হয়না। ঘুমও আসেনা। এভাবে ৮ রাকাত শেষে ভয়ে ভয়ে বের হচ্ছি। মসজিদ কমিটির লোকগুলো তাকায় কিনা সেই ভয়ে আছি। না তাকায়নি।

আজ বেতের পড়লাম না। কারণ বারান্দায় জায়গা নেই। রাতে পড়ে নিবো।

তারাবীহ’র গল্প (লেট আপলোড) – পর্ব ১৯ (৩য় বছর)৩১ মার্চ - বাইতুন নুর জামে মসজিদ, বটতলা, বিজয়নগর---------------অফিসে কাজের...
01/04/2024

তারাবীহ’র গল্প (লেট আপলোড) – পর্ব ১৯ (৩য় বছর)
৩১ মার্চ - বাইতুন নুর জামে মসজিদ, বটতলা, বিজয়নগর

---------------

অফিসে কাজের চাপ অনেক। আজ আর বাসায় ইফতারি করা হবেনা। ইফতারির ঠিক আগে জহির ভাইকে ফোন দিলাম, একসাথে ইফতারি করবো তাই। জহির ভাই অফিসের ঠিক নীচে আসলেন। তখন বেজে গেছে ৫.৫৫। ৬. ১৭ তে ইফতার। তাড়াহুড়ো করে রিকশা নিলাম। তিলপাপাড়া ঢাকা হোটেল টার্গেট। খুব নামকরা হোটেল। খাবারের মান খুবই ভালো। দাম একটু বেশি। কিন্তু ভালো, আসলেই ভালো। এই হোটেলের মেসিয়ারগুলো আমাকে পীরের মতো সম্মান করে। গেলেই কাড়াকাড়ি লাগিয়ে দেয় কোন টেবিলে আমাকে বসিয়ে আপ্যায়ন করবে। অন্য রকম খেদমত করে। আমিও খুশি হয়ে টিপস দেই মন খুলে।

হোটেলের মধ্যে প্রচুর ভিড়। সবাই দাড়িয়ে আছে, বসার জায়গা নেই। যাবার সাথে আমাকে আর জহির ভাইকে টেবিল ম্যানেজ করে দিলো। খুব জম্পেশ ইফতারি করলাম। বিল দিতে ডাকছি দুজনকে। এসে বললো, স্যার আপনাদের আজ ইফতারি ফ্রি। আমাদের পক্ষ থেকে খাওয়ালাম। আমিতো অবাক। কোন কথাই মুখে আসছে না। শেষ মেষ দুজনকে ৪০০ টাকা টিপস দিয়ে বের হলাম। খুশিতে তাদের চোখ জ্বলজ্বল করে উঠলো।

ইফতারি করে জহির ভাই ইস্কাটনে গেল। আমি অফিসে। আজ আর সাথী কেউ নেই। রাজুও ব্যস্ত। ঠিক করলাম, বিজয় নগর বটতলা মসজিদে যাবো। আগে ওর পাশে আমার অফিস ছিলো। ওই মসজিদে অনেক নামাজ পড়েছি। অফিস থেকে নেমে একটা বাইক নিলাম। যেতে মাত্র ১০ মিনিট লাগলো। মসজিদে গিয়ে দেখি নামাজ ৮.৩০ এ। এই মসজিদের মিম্বর দোতলায়। নীচতলায় অজুখানা আর দোকান। দোতলায় জায়গা নেই। তিনতলায় উঠে গেলাম। ইমাম সাহেবের আলোচনা শেষ হতেই বেজে গেল ৮.৩২। এবার সেক্রেটারি উঠে তারাবীহর ডোনেশন কালেকশন এর ব্যাপারে কথা বলছেন। এশার জামায়াত শুরু হলো ৮.৩৭ এ। তেলাওয়াতে সুর এভারেজ এর থেকে একটু কম। এশার পর শুরু হলো তারাবীহ। সাউন্ড সিস্টেম ভালো। কিন্তু সুর তেমন একটা ভালো লাগছেনা। এই বছর রমজানে একটা অভিজ্ঞতা হলো। বড় মসজিদ গুলোতে হাফেজ সাহেবদের তেলাওয়াতের সুর ভালোনা। এটা কোনমতেই মেনে নেয়া যায়না। আজ তারাবীহতে ব্যাপক ঘুম আসছে।

৮ রাকাত শেষ করে বেতের না পড়েই নীচে নামলাম। ক্বদরের রাত। ওই রাতে একটু তাহাজ্জুদ পড়ে তারপর বেতের পড়বো ইনশাল্লাহ্।

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ১৮ (৩য় বছর)৩০ মার্চ - মুগদা কেন্দ্রীয় মসজিদ------------দেখতে দেখতে ১৯ টি রমজান চলে গেল। বেদনার অবগ...
30/03/2024

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ১৮ (৩য় বছর)
৩০ মার্চ - মুগদা কেন্দ্রীয় মসজিদ

------------

দেখতে দেখতে ১৯ টি রমজান চলে গেল। বেদনার অবগাহন। যে মাসের জন্য সারাবছর অপেক্ষায় থাকা সেই মাহে রমজানের বিদায় দশক শুরু হবে কাল থেকে। আজ ২০ রমজানের তারাবীহ পড়লাম। আগামীকাল কদরের রাত। ২১ রমজানের রাত। এর মধ্যে অনেকের এলাকায় তারাবীহ নামাজ পড়ার দাওয়াত পেয়েছি। কিন্তু রমজানে একটু দুরে যাওয়া কঠিন আসলে। কারণ ইফতারীর পরপরই দুরে গিয়ে তারাবীহ পড়তে শরীর সায় দেয়না। তারপরও পরিকল্পনা আছে এর মধ্যে একবার ধানমন্ডি আর গুলশান এ পড়বো। ইনশাল্লাহ্।

তারাবীহ নামাজে এখন প্রায় রেগুলার সঙ্গী জহির ভাই। রাজু পারিবারিক কারণে ব্যস্ত। তাই প্রতিদিনই ইফতারীর পর জহির ভাই ফোন দিচ্ছেন। বাসায় ইফতারি করে অফিসে ঢু মারলাম। জহির ভাই হাজির ৭.৫০ এ। ঠিক করতে পারছিনা কোন মসজিদে যাবো। ভাবতে ভাবতে ৮.০০ টা। এখন বেশি দুরেও যাওয়া যাবেনা। অজু করে অফিস থেকে নেমে রিকশা নিলাম বিজয় নগর বটতলা মসজিদে যাবার। হাতে মাত্র ১০ মিনিট আছে। খিলগাও রেলগেটে যেতেই ৮.১০ বেজে গেল। ওখানে গেলে আর এশার জামায়াত পাবোনা। তাই ইনস্ট্যান্ট রিকশা ইউটার্ন করে কমলাপুরের দিকে ছুটলাম। এরই মধ্যে ৮.২০ বেজে গেছে। পথেই মায়াকানন মসজিদে নেমে এশা আদায় করলাম। এই মসজিদে তারাবীহ পড়ার প্ল্যান নেই। এশা পড়ে ভাগবো। কারণ এই মসজিদের সাউন্ড সিস্টেম ভালোনা। তেলাওয়াতও অনেকটা রুরাল স্টাইল।

এশার নামাজ পড়ে আবার রিকশা নিলাম। গন্তব্য এবার মুগদা কেন্দ্রীয় মসজিদ। খুবই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। শুনেছি এই মসজিদের তেলাওয়াত ভালো। তাই লোভে পড়ে আসা। মসজিদের ঢুকে দেখি অলরেডি ২ রাকাত হয়ে গেছে। হাফেজ সাহেবের তেলাওয়াত ভালো মাশাআল্লাহ্। শুধু একটু তাড়াতাড়ি পড়ছেন। তাও অতোটা না। ১০ এ সাড়ে ৬ দেয়া যায়। তবে মসজিদটা অনেক পুরোনো হবার কারণে স্ট্রাকচারে ৯০ দশকের ছোঁয়া লেগে আছে। একটু অপরিস্কারও লাগছে। পুরোনো হবার কারণে বোধহয়। ভিতরে পর্যাপ্ত আলো বাতাস পাস হবার জায়গা নেই। একটু গরমও লাগছে।

৮ রাকাত শেষ করে বেতের পড়ে নিলাম। বের হয়ে অফিসের দিকে যাচ্ছি। পথে মায়াকাননে আরেকটা মসজিদ পেলাম। অসাধারণ তেলাওয়াত করছেন হাফেজ সাহেব। রিকশায় যেতে যেতে শুনলাম। কাল এই মসজিদে আসতে পারি...

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ১৭ (৩য় বছর)২৯ মার্চ - জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররম------------শেষমেষ বাইতুল মোকাররমে যাওয়া হলো আজ। প...
29/03/2024

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ১৭ (৩য় বছর)
২৯ মার্চ - জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররম

------------

শেষমেষ বাইতুল মোকাররমে যাওয়া হলো আজ। প্রতি বছরই ওখানে তারাবীহ পড়ার সুযোগ হয়। এবারও শুরু থেকে যাবো যাবো করে যাওয়া হচ্ছিলোনা। আজ নয়াপল্টনে একটা ইফতার মাহফিলের দাওয়াত ছিলো। ওখানে ইফতার করে প্ল্যান করলাম বাইতুল মোকাররমে যাবার। ইফতার করে জহির ভাইকে ফোন দিলাম। জহির ভাই একটা কসফিউজড মানুষ। বললো যাবে। আমি অপেক্ষা করছি, কিন্তু কিছুক্ষণ পরে ফোন দিয়ে বললো আসবেনা। মেজাজ খারাপ হলো খানিক।

নয়া পল্টন থেকে হেটে হেটে বাইতুল মোকাররমে গেলাম। পথে এক বন্ধুর সাথে দেখা। জোর করে হোটেল বাসমতিতে ঢুকে পুদিনা চা খাওয়ালো। এক কাপ ১৫ টাকা। দারুন স্বাদ। এই হোটেলের ২য় তলায় ২০০৯ সালের দিকে প্রায়ই মিটিং করতাম, আড্ডা দিতাম। পুরোনো স্মৃতি মনো পড়লো। বন্ধুর সাথে আড্ডা দিতে দিতে ৭.৪৫। আজান হচ্ছে বাইতুল মোকাররমে। মসজিদে ঢুকে অজু করে নিলাম। নামাজ ৮.১৫ তে। মূল হলে ঢুকে ২ রাকাত দাখলুল মসজিদ পড়ে নিলাম। এই নামাজের অনেক সওয়াব। মসজিদে ঢুকে না বসেই এই নামাজ পড়তে হয়। এই নামাজকে মসজিদের হক্ব বলা হয়। মানে মসজিদকে সম্মান প্রদর্শনে এই নামাজ পড়তে হয়।

এশার জামায়াতের জন্য অপেক্ষা করছি। নামাজ শুরু হলো। তেলাওয়াত মোটামুটি চলে। এশা শেষে তারাবীহ শুরু হলো। তেলাওয়াতের সুর ১০০ তে ৪০। মানে কোন মতে পাস। এফ গ্রেড পাওয়া থেকে বেঁচে যাবার মতো তেলাওয়াত। বাইতুল মোকাররমের মতো জাতীয় মসজিদে এই তেলাওয়াত কোন মতেই গ্রহণযোগ্য নয়। নামাজের মধ্যেই মেজাজ বিগড়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের প্রতি এতো মেজাজ খারাপ হলো তা বলার নয়। অথচ গত ২ বছর আগেও ভালো তেলাওয়াত ছিলো। তেলাওয়াত শুনে মনে হচ্ছে আজ দু রাকাত পড়েই বের হয়ে যাবো। কোন জাতের না আসলে। এর থেকে নিভৃত গ্রামের মসজিদের তেলাওয়াতও সুন্দর হয় বোধ হয়। ঘুম আসছে কঠিন ভাবে। কোনমতে ৮ রাকাত পড়ে বেতের আদার করে বের হলাম।

কাল এলাকার আশেপাশের কোন মসজিদের পড়তে হবে। এবারের রমজানে হাতে গোনা ৪-৫ টা মসজিদে মাত্র তেলাওয়াত ভালো পেলাম। বাকী সব আন্ডার এভারেজ...

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ১৬ (৩য় বছর)২৮ মার্চ - বাইতুল আজিম শহীদি জামে মসজিদ, মালিবাগ বাজার (পুনরায়)-----------------একবার ভ...
28/03/2024

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ১৬ (৩য় বছর)
২৮ মার্চ - বাইতুল আজিম শহীদি জামে মসজিদ, মালিবাগ বাজার (পুনরায়)

-----------------

একবার ভালোকিছু হলে লোভে পড়ে মানুষ ওখানে আবার যায়। সেরকমই হলো বিষয়টা। গতকাল মালিবাগ বাইতুল আজিম জামে মসজিদে তেলাওয়াত ভালো শুনে মন ভরেনি। তাই নেশা’র মতো আবার ওখানে গেলাম আজ। যদিও পরিকল্পনা ছিলো ভিন্ন। এক জায়াগায় ইফতার ছিলো। কিন্তু অনুষ্ঠান স্থগিত হবার কারণে অফিসে বসেই ইফতার সারলাম। ইফতারের পর কিছু কাজ করে রাজুকে ফোন দিলাম। নাহ, ও আজ যাবেনা। জহির ভাইকে ফোন দিয়ে বললাম আমি মগবাজার ওয়্যারলেস রেলগেটে আসছি আপনি আসেন। জহির ভাই ইস্কাটনে। ওখান থেকে আসবে।

অফিস থেকে বের হতে হতে ৮.১০। বাইক ছাড়া গতি নেই। কারণ ৮.১৫ তে এশার জামায়াত বেশিরভাগ মসজিদে। বাইক নিয়ে মৌচাক পৌছুলাম যখন, ঘড়িতে তখন ৮.২০। পাক্কা ১০ মিনিটের জ্যাম খেলাম মৌচাক মোড়ে। বাইকে বসে উসখুস করছি। এশার জামায়াত মিস হলো তাই। মানুষ অলরেডি রাস্তায় নেমে গেছে ঈদের কেনাকাটা করতে। মালিবাগ মোড় থেকে মৌচাক মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে মানুষ আর মানুষ। সামনের দিনগুলোতে আরো বাড়বে। জ্যামের মধ্যেই জহির ভাইকে ফোন দিয়ে বললাম মালিবাগ রেলগেট বাইতুল আজিম শহীদি জামে মসজিদে আসতে। কারণ ওখানে এশার জামায়াত ৮.৩০ এ। তারাবীহ নফল নামাজ। নফল ধরতে গিয়ে যদি ফরজ জামায়াত মিস হয়, তাহলে আর নামাজ পড়ে কী লাভ? তাই বাইক ঘুরিয়ে গতকালের মসজিদে যাবার জন্য প্ল্যান চেঞ্জ করলাম। মসজিদের সামনেই বেচারা জহির ভাই আমার অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছে। সালাম দিয়ে একসাথে মসজিদে ঢুকলাম। ইমাম সাহেব কি বিষয়ে জানি চাঁদা কালেকশন করছেন। তাতে ৮.৩৫ বেজে গেল। মসজিদের শেষের দিকে দুজন দাড়িয়ে এশা আদায় করলাম।

তারাবীহ শুরু হলো। নাহ, গতকালের যে হাফেজ সাহেব শেষ ১০ রাকাত পড়িয়েছিলেন উনি আজ শুরুর ১০ রাকাত পড়াবেন। এটাই বোধ হয় নিয়ম। উনিও খারাপ পড়ান না। তবে ওই হাফেজের মতো না। ১০ রাকাত শেষ করে সুরওয়ালা হাফেজ সাহেবের তেলাওয়াত শুনতে আরো ২ রাকাত পড়লাম। আজ হাফেজ সাহেব গতকালের থেকে একটু হাই স্কেলে ধরেছেন। কষ্ট হচ্ছে একটু। অসম্ভব সুর কন্ঠে। মাশাল্লাহ্। এই প্রথম ১২ রাকাত তারাবীহ পড়লাম এই রমজানে।

বেতের পড়ে রিকশা নিয়ে চললাম অফিসের দিকে। আকাশে রমজানের চাঁদটা ক্ষয়ে যেতে শুরু করেছে। আহা! আবার ১ বছর পর আসবে... বুকের কোথায় যেন মোচড় দিয়ে উঠলো কষ্টে...

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ১৪ (৩য় বছর)২৬ মার্চ - খিলগাঁও শাহী জামে মসজিদ-----------------রমজানের মাঝামাঝি সময়। এখন প্রায়ই ইফত...
26/03/2024

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ১৪ (৩য় বছর)
২৬ মার্চ - খিলগাঁও শাহী জামে মসজিদ

-----------------

রমজানের মাঝামাঝি সময়। এখন প্রায়ই ইফতার করতে হচ্ছে বাইরে। আজও বাইরে ইফতার ছিলো। ইফতারি অফিসে আসতে আসতে ৭.৪৫ বেজে গেল। এর মধ্যে বিশিষ্ট ভদ্র মিচকে টাইপের বড় ভাই বন্ধু মানুষ জহির ভাইয়ের ফোন। জহির ভাই খুব ভালো মানুষ। তবে এই লোকের সাথে যারা প্রফেশনাল লাইফে উঠাবসা করে, এর ১০০% বাট*পার ও ধু*ড় প্রকৃতির। জহির ভাই তাদের মধ্যে গোবরে পদ্মফুল। মানে এতো পরিমানে বাট*পার যে, ছোট ছোট বাট*পার গুলো এদের কাছে ধরা খেয়ে যাবে। উনি মাঝে মাঝে যাচাইয়ের জন্য আমার সাথে ফোনে কথা বলায় দেয়। আমি আবার এইসব বাট*পারদের সাথে ১ মিনিট কথা বলেই রিপোর্ট দিয়ে দেই যে, মাত্রা কতটুকু। জহির ভাই ফোন দিলেন একটা নতুন অর্গানাইজেশন এর এক্সিকিউটিভ কমিটিতে আমাকে রাখবে সংক্রান্ত একটা মিটিং এর জন্য। তারাবীহর পর বসতে চায়। আমি সময় দিলাম।

জহির ভাই অফিসে এলেন। দুজনে ঠিক করলাম শান্তিনগর চামেলীবাগ মাদ্রাসা মসজিদে নামাজ পড়বো। এই মসজিদের তেলাওয়াত সুন্দর। গতবছরের আগের বছর পড়েছিলাম। রিকশা নিয়ে মসজিদের সামনে গিয়ে মন খারাপ হলো। কনস্ট্রাকশান এখনও শেষ হয়নি। গতবছর থেকে শুরু হয়েছে। পুরো মসজিদ আন্ডার কনস্ট্রাকশান। আশায় বুক বাঁধলাম যে তেলাওয়াত নিশ্চই ভালো হবে। ৮.১৫ তে এশার জামায়াত। ইমাম সাহেব নামাজে দাড়ালেন। অসাধারণ তেলাওয়াত। মুগ্ধতায় ৪ রাকাত এশা শেষ হলো। তারাবীহ শুরু হলো। নাহ মেজাজটা পুরোটই গেল এবার। দেখলাম মুরগী, খেলাম ডাল টাইপ অবস্থা। একে-৪৭ এর মতো গু*লি বর্ষিত হচ্ছে। মান যা তা অবস্থা। এতা বড় মাদ্রাসা মসজিদ এই টাইপ তেলাওয়াত একদম অগ্রহনযোগ্য।

তারাবীহর মাঝে আমার সামনের কাতারের এক ষাটোর্ধ্ব লোকের ফোন বিরতি নিয়ে বেজেই যাচ্ছে। লোকটি লুঙ্গির ভাজ থেকে মোবাইল বের করে অফ করছে। আবার রিং আসছে। খুবই বিরক্তিকর। একপর্যায়ে দেখলাম নামাজের মধ্যেই ফোন কানে নিয়ে কি যেন বললো। আমি নামাজের মধ্যে এই কীর্তি কলাপ দেখছি আর হাসি পাচ্ছে। নামাজ মনে হয় আমারটাও গেছে কিনা কে জানে। আমি মসজিদ থেকে আসা পর্যন্ত দেখলাম ওই লোকের ফোন বেজে যাচ্ছে বিরতি নিয়ে। বেচারা মনে হয় মোবাইল অফ করতে পারেনা।

তারাবীহ ৮ রাকাত শেষে বেতের পড়ে বের হলাম। জহির ভাই একগাদা কথা শোনালো। তেলাওয়াত ভালো হয়নি তাই। দুইজনে গজ গজ করতে হেটে গেলাম বেইলী রোডে। পোড়া বিল্ডিংটার পাশে একটা রেস্টুরেন্ট এ কফি খেতে বসলাম। আল্লাহ ওই পোড়া মানুষগুলোকে জান্নাত দান করুন...

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ১৩ (৩য় বছর)২৫ মার্চ - খিলগাঁও শাহী জামে মসজিদ-----------------গতকাল তারাবীহ পড়া হয়ে উঠেনি। আমার সে...
25/03/2024

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ১৩ (৩য় বছর)
২৫ মার্চ - খিলগাঁও শাহী জামে মসজিদ

-----------------

গতকাল তারাবীহ পড়া হয়ে উঠেনি। আমার সেজকাকা ইন্তেকালের পর মনটা কোনভাবেই ভালো হচ্ছেনা। রোজা রেখে ১২ ঘন্টার মধ্যে, না ঘুমিয়ে ঢাকা-খুলনা-ঢাকা জার্নি করে একদম ক্লান্ত ছিলাম। মাথা ব্যাথাও উঠেছিলো। এবার এটা নিয়ে দুটো তারাবীহ মিস হলো।

আজ প্ল্যান ছিলো রাজুকে নিয়ে বের হবার। ইফতারীর পর অফিসে এসে রাজুকে ফোন দিলাম। পাওয়া গেল। ততক্ষণে ৮.০৫ বেজে গেছে। অফিস থেকে বের হয়ে রিকশা নিয়ে রাজুকে পিক করলাম তিলপাপাড়া ঢাকা হোটেল এর সামনে থেকে। ঢাকা হোটেল খুবই নামকরা। এখানকার পরাটা আর গরুর গোশ একবার যে খেয়েছে দ্বিতীয়বার আসতেই হবে তাকে। এই পরাটা আর গরুর গোশ টানা ৩-৪ মাস খেয়ে আমার হাই বিপি সিগনাল দিয়েছিলো। এখন রয়েসয়ে খাই।

রাজুকে রিকশায় উঠিয়ে চললাম খিলগাঁও শাহী মসজিদের উদ্দেশ্যে। খিলগাঁও সি ব্লকে খিদমাহ হসপিটালের পাশে এই শাহী মসজিদ। খুবই নামকরা মসজিদ। কিন্তু মাঝে মধ্যে জুতো চুরি হয়। পরশু বছর, মানে গত বছরের আগের বছর আমি আর রাজু তারাবীহ পড়ার সময়ই জুতো চুরি হয়েছিলো। রাজুর যে জুতো চোর নিয়েছিলো, ওটা চুরি করার মতো ছিলোনা। তারপরও চোরের কী মনে হয়েছে, নিয়ে গেছে ব্যস। শাহী মসজিদের সামনে নামার পর শুনলাম এশার জামায়াত ৮.৩০ -এ। ১০ মিনিট সময় আছে। এই ফাকে আদা চা মেরে দিলাম। যাতে ঘুম না আসে।

মসজিদে ঢুকে নীচতলায় গিয়ে দাড়ালাম। ইমাম সাহেব সুরা নুর নিয়ে কথা বলছেন। তারমানে আজকে সুরা ‍নুর পড়ানো হবে। এশার জামায়াত শুরু হলো। সাউন্ড সিস্টেম ভালো। হালকা ইকো দেয়া আছে। শুনতে ভালোই লাগছে। এশা’র পর তারাবীহ শুরু হলো। হাফেজ সাহেবের সুর ফার্স্ট ক্লাস থেকে একটু কম। মানে ৫৫। এখনকার সময় বলতে গেলে B-। সাইন্ড সিস্টেম টা ভালোর জন্য প্রতিটা আরবী শব্দ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। ভালো লাগছে মাশাল্লাহ্। এর ফাকে আমার ঘুমও পাচ্ছে হালকা। তবে ওই লেভেলের ঘুম না। এভাবে ৮ রাকাত শেষ হলো।

দোতলায় উঠে বেতের পড়ে নীচে নামলাম। ঝিরি ঝিরি বাতাস। রমজানের চাঁদ টা পুরোপুরি গোল হয়ে এবার ক্ষয়ে যেতে শুরু করেছে। অলরেডি মায়া লাগা শুরু হয়েছে রমজানের জন্য... চলে যাচ্ছে ও...

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ১২ (৩য় বছর)২৩ মার্চ - মহাসড়ক জামে মসজিদ---------------”কুল্লু নাফিসিন জা ইকাতিল মউত - প্রত্যেক ব্য...
23/03/2024

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ১২ (৩য় বছর)
২৩ মার্চ - মহাসড়ক জামে মসজিদ

---------------

”কুল্লু নাফিসিন জা ইকাতিল মউত - প্রত্যেক ব্যক্তিরই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে”।

আজ আমার বংশের সর্বশেষ পিলার সেজকাকা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। গত তিনমাসের ব্যবধানে ছোট কাকা ‍ও সেজ কাকা আল্লাহর কাছে চলে গেলেন। আব্বুদের ৪ ভাই ৩ বোনের মধ্যে এখন বেঁচে রইলেন শুধু মেঝফুফু। উনি গ্রামে থাকেন। সেজকাকাও গ্রামে থাকতেন। নিভৃত গ্রাম। ভবানীপুর। ওখানেই কাকাদের বেড়ে ওঠা। কৃষিকাজ ছিলো প্রধান পেশা। আমার আব্বু এসএসসির পর শহরে চলে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। পাট মন্ত্রনালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। জীবন সংসার স্থায়ীভাবে করেছেন খুলনাতে। আমাদের বেড়ে ওঠা খুলনা শহরে। তাই ওভাবে গ্রামে আমাদের কখনওই যাওয়া হতোনা। ছোটকাকা যশোর থাকতেন। সড়ক দুর্ঘটনায় এইতো গত ডিসেম্বরে চলে গেলেন আল্লাহর কাছে। এভাবে ৩ মাসের ব্যবধানের দুই কাকাকে হারানোর বেদনা অসহনীয়। আমি সাধারণত কোন দুঃখের খবর ফেসবুকে লিখিনা। কিন্তু তারাবীহ’র গল্প লিখতে গিয়ে চলো এলো।

খুব শান্তিময় মৃত্যুর স্বাদ নিলেন আমার সেজকাকা। পবিত্র রমজানে সেহরীর আগে ঘুমন্ত অবস্থায় তিনি চলে গেলেন। সেহরীতে কাকার মৃত্যুর খবর পেয়ে মাত্র দুঘন্টা ঘুমিয়ে সকাল ৭ টায় উঠে যাত্রাবাড়ী বাস ধরতে গেলাম। আমি গ্রীনলাইন ছাড়া জার্নি করিনা। সেফটি ও কমফোর্টের জন্য। আমার কাছে জার্নিতে সময়ের থেকে সেফটি ও কমফোর্ট বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সকালে ওই সময় রানিং এ গ্রীনলাইন পাওয়া যাবেনা। তাই যাত্রাবাড়ি থেকে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস এর এসি গাড়িতে চড়লাম। ৮.২০ গাড়ি ছাড়লো। মাত্র ২ ঘন্টা ২০ মিনিটে গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইনে নেমে ওখান থেকে অটোরিক্সা নিয়ে সোজা চাপাইল ব্রীজ। সেখান থেকে ভাড়ায় বাইক নিয়ে মাত্র ৩০ মিনিটে আমাদের আদি দাদা বাড়ি তেরখাদা বাজার। বাজার থেকে ভ্যানে করে ২০ মিনিটে নিভৃত গ্রাম ভবানীপুরে, আমাদের দাদাবাড়িতে। ছোটমামাও খুলনা থেকে এসেছেন জানাজায় শরীক হতে। ভাইজান সহ অন্যান্য চাচাতো ভাইরাও ঢাকা থেকে গেছে।

এসএস এর খাটিয়ার শুয়ে আছেন আমাদের বংশের সর্বশেষ খুটি সেজকাকা। আবেগ গুলোকে আমি কখনই বর্ণনা করিনা। তাহলে সেটা আর আবেগ থাকেনা। স্বাভাবিক ভাবেই বাড়িতে সব আত্মীয়স্বজন এসেছেন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। জোহরের নামাজ পড়ে জানাজায় ইমামতি করালো তারই সন্তান আমার চাচাতো ভাই আশিক। দুটি জানাজা শেষে চাচাকে কবরে রেখে ঢাকার পথ ধরলাম। ৩.৩০ এ রওনা হলাম। ঠিক একই ভাবে। মোটর ভ্যান, বাইক, তারপর টু্ঙ্গিপাড়া বাস। ফরিদপুরের ভাঙা পার হয়ে হাইওয়েতে একটা পেট্রোল পাম্প এ বাস ১৫ মিনিটের জন্য দাড়ালো ইফতার ও নামাজের জন্য। পাশে ছোট একটা হোটেলও আছে। ইফতার-নামাজ শেষে আবার বাসে উঠে যাত্রাবাড়ি পৌছুলাম ৭.৩০ এ। ওখান থেকে উবার বাইক নিয়ে অফিসের সামনে নামলাম ৭.৪৫ এ। এশার নামাজ পড়ে তারাবীহ মাত্র দু-রাকাত পড়েছি। শরীর অনেক ক্লান্ত।

রোজ রেখে মাত্র ১২ ঘন্টায় ঢাকা-খুলনা-ঢাকা। দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন। ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভালোকে ভালো বলতেই হবে।

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ১০, ১১ (৩য় বছর)২০ মার্চ - টিএন্ডটি কলোনী মসজিদ, ফকিরাপুল২১ মার্চ - শাজাহানপুর জামে মসজিদ----------...
22/03/2024

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ১০, ১১ (৩য় বছর)
২০ মার্চ - টিএন্ডটি কলোনী মসজিদ, ফকিরাপুল
২১ মার্চ - শাজাহানপুর জামে মসজিদ

---------------
পর্ব ১০ - টিএন্ডটি কলোনী মসজিদ, ফকিরাপুল

গতকাল ২০ মার্চ ১০ রমজান, ইফতার ও আলোচনা অনুষ্ঠানের একটা ইনভাইটেশন ছিলো। ইফতারীর পর বিড়াল-কুকুর বৃষ্টি নামলো। চললো ১ ঘন্টা ধরে। সারা ঢাকা পানির নীচে চলে গিয়েছিলো মনে হয়। বিজয়নগর নাইটেঙ্গেল মোড়ের একটা অফিসের নীচে দাড়িয়ে থাকলাম ২০ মিনিটের মতো। একটা সিএনজি নিয়ে অফিসে আসার প্ল্যান। অলরেডি ৮.৩৫। মানে এশার জামায়াত মিস। মন খারাপ হলো। কারণ এবার সব মসজিদের ৮.১৫ তে নামাজ।

সিএনজি বিএনপি অফিস ক্রস করছে, কী মনে করে ফকিরাপুল টিএন্ডটি কলোনির সামনে গিয়ে সিএনজি ছেড়ে দিলাম। মনে করলাম, এখানেই একা একা এশার নামাজ পড়ে তারপর তারাবীহ পড়বো। কী মিরাকেল, আল্লাহ্। এখানে এসে দেখি ৮.৩০ এ এশার জামায়াত। দুই রাকাত শেষ। আমি ৩য় রাকাত ধরলাম। নামাজের ভিতরই মনে মনে ভাবছি। ইস, আল্লাহ এভাবেই বোধ হয় মানুষের মনে কথা বুঝতে পারে। কারণ আমি অনেক আফসোস করছিলাম এশার জামায়াত মিস হবার জন্য। আমি না এরকম অনেক ছোট খাটো আল্লাহর হেল্প পেয়েছি। অনেকের বিশ্বাস হবেনা। এসব হলে হয় কী জানেন? আল্লাহর উপর বিশ্বাস বেড়ে যায়। আল্লাহ যে আছেন, তা প্রমাণিত হয়।

এশার পর তারাবীহ শুরু হলো। অসাধারণ তেলাওয়াত। আজ পর্যন্ত যতবার এই মসজিদে তারাবীহ পড়েছি, একবারও খারাপ তেলাওয়াত পাইনি। কারণ এই মসজিদের উপরে নামকরা একটি আলিয়া মাদ্রাসা আছে। মিসবাহুল উলুম কামিল মাদ্রাসা। এর কারণেই মূলত হাফেজগুলো সব সুরওয়ালা হয়। মোহিত হয়ে ৮ রাকাত তারাবীহ শেষ করলাম। বেতের পড়ে রিকশা নিলাম অফিসের যাবার জন্য। যাহ্, ছবি তুলতে ভুলে গেছি। অফিসে এসে কাজের ব্যস্ততায় গল্প লিখতেও ভুলে গেছিলাম। তাই আজ এক সাথে দু-পর্ব লেখা।

----------------------

পর্ব ১১ - শাজাহানপুর জামে মসজিদ (মির্জা আব্বাসের বাড়ির পাশে)

আজ কোথাও ইফতার দাওয়াত ছিলোনা। বাসায় ইফতারি করে বের হয়েছি। আমার বড় ছেলে ইবসান এবার স্বতস্ফূর্ত ভাবে রোজা রাখছে। আজ তার ৫ টা হলো আলহামদুলিল্লাহ। বয়স প্রায় সাড়ে সাত। রোজা রাখতে ব্যাপক উৎসাহী। অফিসে এসে একটু কাজ করে, তারাবীহ কোথায় পড়বো ভাবছি। রাজুকে ফোন দিলাম। নাহ, ও এবার চরম ঝামেলা করছে। একদিন তারাবীহ পড়ে তো অন্যদিন খবর নেই। আজও যাবেনা। মুখের উপর বলে দিলো। একা একাই যেতে হবে। অফিস থেকে বের হতে হতে ৮.১৫ বাজলো। এশার জামায়াত মিস হবার ভয়ে অফিসের পাশের মসজিদে নামাজ পড়ে রিকশা নিলাম দুরে কোথাও যাবার। পরে কী ভেবে ভাইরাল ”খলিল গোস্ত বিতানের” পাশের গলি দিয়ে ঢুকলাম শহীদবাগ -এ। এটা মূলত শাজাহানপুর জামে মসজিদ। মসজিদের বারান্দায় লাউড স্পিকার মাইক লাগানোর কারণে অনেক দুর থেকে তেলাওয়াত শোনা যাচ্ছে। মসজিদে গিয়ে বুঝা গেল দুই রাকাত শেষ। ৪র্থ রাকাতে তারাবীহ ধরলাম। মোটামুটি ভালো তেলাওয়াত। একটু লো স্কেলে পড়ছে। দোতলা আলো আধারীতে অন্য রকম একটা মায়া দিচ্ছে। দোতলায় গোল্ডেন কালারের বড় বড় ৩ টা ঝাড় বাতি। ওই আলোতেই মূলত পুরো দোতলা ডিম লাইটের মতো আলোকিত।

এই মসজিদে গত বছরও নামাজ পড়েছি। গত বছরের হাফেজ সাহেবের তেলাওয়াত এবারের থেকে ভালো ছিলো। মসজিদটায় খুদে মুসল্লী অনেক। ধুমধাম শব্দ হচ্ছে তাদের দৌড়ানোর। আর ব্যাপক গ্যাজাচ্ছে তারা। কিন্তু স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছেনা কোন বিষয় নিয়ে তারা ফ্যানা উঠাচ্ছে। গ্যাজানোর টপিকের মধ্যে ক্রিকেট ও পিএস ২/৩ কনফার্ম আছে। আমাদের সময় আমরা রেসলিং আর ক্রিকেট নিয়ে বেশি গ্যাজাতাম। তখন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট খেলতো না। বাংলাদেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ ক্রিকেটে পাকিস্তান সাপোর্ট করতো। আওয়ামীলীগের প্রায় সব নেতারাও ক্রিকেটে পাকিস্তান সাপোর্ট করতো তখন। নিজের চোখে দেখা। এখন আর তারা মুখ ফুটাবেনা, কারণ মুখ ফুটালেই শেষ।

তারাবীহ শেষে বেতের পড়ে রিকশা নিলাম ফকিরাপুল টিএন্ডটি কলোনি মসজিদের উদ্দেশ্যে। কারণ গতকাল ছবি তুলতে ভুলে গেছিলাম। আজ তুলতে হবে।

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ৯ (৩য় বছর)২০ মার্চ, ২০২৪//খিলাগাঁও চোধুরী পাড়া মাটির মসজিদ ও খিলগাঁও চৌরাস্তা মসজিদ মাদ্রাসা//----...
20/03/2024

তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ৯ (৩য় বছর)
২০ মার্চ, ২০২৪
//খিলাগাঁও চোধুরী পাড়া মাটির মসজিদ ও খিলগাঁও চৌরাস্তা মসজিদ মাদ্রাসা//

---------------

একটা তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো আজ। দুই মসজিদ মিলিয়ে ৮ রাকাত তারাবীহ পড়লাম। অফিসে আজ সকল সহকর্মীসহ ইফতার করার সুযোগ হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। রমজানে শিডিউল একটু পরিবর্তনের কারণে প্রায় সবাই ইফতারের পর অফিস করছে। তাই একসাথে সবাইকে পাওয়া কঠিন। আজই অফিসিয়ালি ইফতারী করা হলো। অফিসের ইফতারী মানে সবাই একসাথে ইফতারী আয়োজনে কাজ করা। কী যে আনন্দ তা বলে বোঝানো যাবেনা। অফিস প্রধান হবার পরও কাজ করে অন্য রকম শান্তি অনুভব করি।

জমপেশ ইফাতারী করে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। রাজুর অন্য ব্যস্ততা থাকার কারণে আজ যাবেনা আমার সাথে। ইফতারী করেই বেরিয়ে গেল। আগে থেকে বাইতুল মোকাররমে যাবার কথা থাকলেও একা বিধায় যাওয়া হলোনা। মোটর রিকশা নিয়ে খিলগাঁও চৌরাস্তার পাশে ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের পিছনের মাদ্রাসা মসজিদের ঢুকলাম। ততক্ষণে এশার দু-রাকাত শেষ।

এশার পর সুন্নত পড়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম তারাবীহ নামাজের। হাফেজ সাহেব শুরু করলেন। এরকম ফালতু সাউন্ড সিস্টেম আমি অন্তত ঢাকার কোন মসজিদের দেখিনি। হাফেজ সাহেবের পড়া কিছুই বোঝা যাচ্ছেনা। বিশ্বাস করেন এক শব্দও না। গম গম বো বো আর হালকা সুর ছাড়া কোনকিছুই বোঝা যাচ্ছেনা। আর হাফেজ সাহেবের ভয়েস ডেলিভারিও ভালোনা। নামাজের মধ্যেই মনে হলো আজ দু-রাকাত পড়েই চলে যাবো। যারা এতোদিন ধরে তারাবীহ পড়ছে এবং আরো সামনে পড়বে, তারা যে কেন এই বিষয়ে কমপ্লেইন করেনি, বুঝে আসছেনা। এভাবে কোন শব্দ না শুনে নামাজ পড়া যায়? মানে হাফেজ সাহেব ভুল করলেও তো লোকমা দিয়ে শুধরে দেয়ার উপায় নেই। এখানে ৮ রাকাত তো দুরের কথা, ২০ রাকাত কিভাবে পড়ে জানিনা। আর এই নামাজ পড়ে আদৌ কী কিয়ামুল লাইলের সওয়াব পাওয়া যাবে কিনা, প্রশ্ন থেকে যায়।

দু-রাকাত পড়ে বের হয়ে রিকশা নিলাম। ওখান থেকে খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া মাটির মসজিদ বেশি দূরে না। ৫ মিনিটের মতো সময় লাগলো। এর মধ্যে ৩য় ও ৪র্থ রাকাত শেষ। মাটির মসজিদে গিয়ে ৫ম রাকাত ধরলাম। মাটির মসজিদ শুনে মনে হতে পারে ছাপড়া টাইপ মসজিদ। আসলে না। কোনকালে মনে হয় মাটির ছিলো, এখন বিশাল মিনার ওয়াল ঐতিহ্যবাহী মসিজদ। সবাই চিনে।

এখানের তেলাওয়াতও গম গম করছে সাউন্ড সিস্টেম এর জন্য। তবে ৮ রাকাতের পরের ২য় হাফেজ সাহেব টার পড়া ভালো মোটামুটি। যদিও উনি স্পিডে পড়ছেন। ৮ রাকাত পড়ে বেতের নামাজ শেষ করে বের হলাম।

কাল আর একা যাবোন। রাজু না গেলে ওকে জরিমানা করা হবে।

Address

Khilgaon

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Zayed posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Zayed:

Share