22/03/2024
তারাবীহ’র গল্প – পর্ব ১০, ১১ (৩য় বছর)
২০ মার্চ - টিএন্ডটি কলোনী মসজিদ, ফকিরাপুল
২১ মার্চ - শাজাহানপুর জামে মসজিদ
---------------
পর্ব ১০ - টিএন্ডটি কলোনী মসজিদ, ফকিরাপুল
গতকাল ২০ মার্চ ১০ রমজান, ইফতার ও আলোচনা অনুষ্ঠানের একটা ইনভাইটেশন ছিলো। ইফতারীর পর বিড়াল-কুকুর বৃষ্টি নামলো। চললো ১ ঘন্টা ধরে। সারা ঢাকা পানির নীচে চলে গিয়েছিলো মনে হয়। বিজয়নগর নাইটেঙ্গেল মোড়ের একটা অফিসের নীচে দাড়িয়ে থাকলাম ২০ মিনিটের মতো। একটা সিএনজি নিয়ে অফিসে আসার প্ল্যান। অলরেডি ৮.৩৫। মানে এশার জামায়াত মিস। মন খারাপ হলো। কারণ এবার সব মসজিদের ৮.১৫ তে নামাজ।
সিএনজি বিএনপি অফিস ক্রস করছে, কী মনে করে ফকিরাপুল টিএন্ডটি কলোনির সামনে গিয়ে সিএনজি ছেড়ে দিলাম। মনে করলাম, এখানেই একা একা এশার নামাজ পড়ে তারপর তারাবীহ পড়বো। কী মিরাকেল, আল্লাহ্। এখানে এসে দেখি ৮.৩০ এ এশার জামায়াত। দুই রাকাত শেষ। আমি ৩য় রাকাত ধরলাম। নামাজের ভিতরই মনে মনে ভাবছি। ইস, আল্লাহ এভাবেই বোধ হয় মানুষের মনে কথা বুঝতে পারে। কারণ আমি অনেক আফসোস করছিলাম এশার জামায়াত মিস হবার জন্য। আমি না এরকম অনেক ছোট খাটো আল্লাহর হেল্প পেয়েছি। অনেকের বিশ্বাস হবেনা। এসব হলে হয় কী জানেন? আল্লাহর উপর বিশ্বাস বেড়ে যায়। আল্লাহ যে আছেন, তা প্রমাণিত হয়।
এশার পর তারাবীহ শুরু হলো। অসাধারণ তেলাওয়াত। আজ পর্যন্ত যতবার এই মসজিদে তারাবীহ পড়েছি, একবারও খারাপ তেলাওয়াত পাইনি। কারণ এই মসজিদের উপরে নামকরা একটি আলিয়া মাদ্রাসা আছে। মিসবাহুল উলুম কামিল মাদ্রাসা। এর কারণেই মূলত হাফেজগুলো সব সুরওয়ালা হয়। মোহিত হয়ে ৮ রাকাত তারাবীহ শেষ করলাম। বেতের পড়ে রিকশা নিলাম অফিসের যাবার জন্য। যাহ্, ছবি তুলতে ভুলে গেছি। অফিসে এসে কাজের ব্যস্ততায় গল্প লিখতেও ভুলে গেছিলাম। তাই আজ এক সাথে দু-পর্ব লেখা।
----------------------
পর্ব ১১ - শাজাহানপুর জামে মসজিদ (মির্জা আব্বাসের বাড়ির পাশে)
আজ কোথাও ইফতার দাওয়াত ছিলোনা। বাসায় ইফতারি করে বের হয়েছি। আমার বড় ছেলে ইবসান এবার স্বতস্ফূর্ত ভাবে রোজা রাখছে। আজ তার ৫ টা হলো আলহামদুলিল্লাহ। বয়স প্রায় সাড়ে সাত। রোজা রাখতে ব্যাপক উৎসাহী। অফিসে এসে একটু কাজ করে, তারাবীহ কোথায় পড়বো ভাবছি। রাজুকে ফোন দিলাম। নাহ, ও এবার চরম ঝামেলা করছে। একদিন তারাবীহ পড়ে তো অন্যদিন খবর নেই। আজও যাবেনা। মুখের উপর বলে দিলো। একা একাই যেতে হবে। অফিস থেকে বের হতে হতে ৮.১৫ বাজলো। এশার জামায়াত মিস হবার ভয়ে অফিসের পাশের মসজিদে নামাজ পড়ে রিকশা নিলাম দুরে কোথাও যাবার। পরে কী ভেবে ভাইরাল ”খলিল গোস্ত বিতানের” পাশের গলি দিয়ে ঢুকলাম শহীদবাগ -এ। এটা মূলত শাজাহানপুর জামে মসজিদ। মসজিদের বারান্দায় লাউড স্পিকার মাইক লাগানোর কারণে অনেক দুর থেকে তেলাওয়াত শোনা যাচ্ছে। মসজিদে গিয়ে বুঝা গেল দুই রাকাত শেষ। ৪র্থ রাকাতে তারাবীহ ধরলাম। মোটামুটি ভালো তেলাওয়াত। একটু লো স্কেলে পড়ছে। দোতলা আলো আধারীতে অন্য রকম একটা মায়া দিচ্ছে। দোতলায় গোল্ডেন কালারের বড় বড় ৩ টা ঝাড় বাতি। ওই আলোতেই মূলত পুরো দোতলা ডিম লাইটের মতো আলোকিত।
এই মসজিদে গত বছরও নামাজ পড়েছি। গত বছরের হাফেজ সাহেবের তেলাওয়াত এবারের থেকে ভালো ছিলো। মসজিদটায় খুদে মুসল্লী অনেক। ধুমধাম শব্দ হচ্ছে তাদের দৌড়ানোর। আর ব্যাপক গ্যাজাচ্ছে তারা। কিন্তু স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছেনা কোন বিষয় নিয়ে তারা ফ্যানা উঠাচ্ছে। গ্যাজানোর টপিকের মধ্যে ক্রিকেট ও পিএস ২/৩ কনফার্ম আছে। আমাদের সময় আমরা রেসলিং আর ক্রিকেট নিয়ে বেশি গ্যাজাতাম। তখন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট খেলতো না। বাংলাদেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ ক্রিকেটে পাকিস্তান সাপোর্ট করতো। আওয়ামীলীগের প্রায় সব নেতারাও ক্রিকেটে পাকিস্তান সাপোর্ট করতো তখন। নিজের চোখে দেখা। এখন আর তারা মুখ ফুটাবেনা, কারণ মুখ ফুটালেই শেষ।
তারাবীহ শেষে বেতের পড়ে রিকশা নিলাম ফকিরাপুল টিএন্ডটি কলোনি মসজিদের উদ্দেশ্যে। কারণ গতকাল ছবি তুলতে ভুলে গেছিলাম। আজ তুলতে হবে।