21/09/2015
আমি কামরুজ্জামান অনিক। মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় সন্তান এবং একমাত্র ছেলে। এই দুটো থেকে যে কোন একটা তকমা সাথে থাকলে যে কারো জীবন আনন্দ, আদর আর ভালবাসায় ভরপুর হয়ে ওঠে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে পুরোটাই ব্যতিক্রম। ঘৃণা, ক্রোধ, রাগ, ঝগড়া আর অন্যায় দেখেই আমার বেড়ে ওঠা। ভালবাসায় ছোঁয়া জীবনে খুব কমই এসেছে আমার। আবেগ-অনুভূতি যতটুকু পেয়েছি পুরোটাই কষ্টের।
২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬, আমার জন্ম। তখন তো আর বোধশক্তি নেই। যখন একটু আধটু বুঝি, হাঁটার জন্য যখন একটা আঙ্গুল দরকার তখন ওটা পাইনি। মিসিং, নানুবাড়িতে থাকতাম। আব্বু ছিলেন ডাক্তার, আম্মু তখনো পড়াশোনা করেন। সারাদিন ব্যস্ততার পর রাতে এসে দেখতেন আমি ঘুমিয়ে আছি। আবার ঘুম থেকে উঠে দেখতাম আব্বু নেই। নানুর কাছেই থাকতাম সারাদিন।
আবার যখন আম্মুর কাছে শহরে চলে যেতাম, সকালে আম্মু কলেজে যেত ফিরতো বিকেলে। এসে রান্নাবান্না করে আমাকে নিয়ে গল্প করতেন, মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন, কপালে চুমু এঁকে দিতেন। আনন্দে চোখে পানি চলে আসতো, কারন আবার ৪-৫ দিন পর গ্রামে ফিরতে হবে। আবার সেই চিরচেনা মায়াহীন দুনিয়া! আম্মুকে জড়িয়ে ধরে অনেক কাঁদতাম। তখনি হয়তো বুঝতে শিখেছিলাম, কান্ন কি!!
গ্রামে এলে যখন দেখতাম আমার খেলার সাথীরা খেলা শেষে তার আম্মুর কাছে চলে যেত। আমি চেয়ে দেখতাম। ঘরে গিয়ে কেঁদে বালিশ ভেজাতাম। কাঁদতে কাঁদতে মানুষের চোখের জল শেষ হতে শুনেছি। আসলে জল শেষ হয়নায়না। অনুভূতিগুলো ভোঁতা হয়ে যায় কিন্তু আমার অনুভূতি আরো বেড়েই চলেছে আজ পর্যন্তই!!
পিচ্চি থেকে একটু ভালবাসার অভাব বোধ করতাম। চাইতাম যে কেউ আমাকে সময় দিক। আমার আঙ্গুল ধরে হাঁটতে সাহায্য করুক। মুখে তুলে কেউ খায়িয়ে দিক। কিন্তু সে দিন আর আসেনা। হ্যাঁ, এসেছিলো অনেকটা পরে। যখন প্রাইমারিতে ভর্তি হলাম তখন। আম্মু পড়াশোনা শেষ করে যখন ফিরে এসেছিলো। কিন্তু না, শুধু আম্মুই ফিরে এসেছিলো, জীবনে ভালবাসার ছোঁয়া আসেনি। আম্মু ফিরে এসে জীবনটা আরো কালো হয়ে যায়, ঘনকালো!
আব্বু শুধু ঝগড়া করতো। যখন টাইম পেত তখনই ঝগড়া। ঘরে একা একা থাকতে থাকতে আমি হয়ে গেলাম বিচিত্র এক প্রাণী। সহজে কাউকে বন্ধু হিসেবে মেনে নিতে পারতাম না। সবসময় একা থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতাম। কারো সামনে গেলে নিজেকে এক বিচিত্র চিড়িয়া মনে হতো। সবাই কেমন করে যেন তাকাতো যেন মনে হচ্ছে ডাইনাসোর দেখছে। খেলাধুলা, আড্ডা, ঘুড়াঘুরি সব একাই করতাম। যেন আমার রাজ্যে আমিই রাজা। ঘরে দুজন শিক্ষিত মানুষ থাকা সত্ত্বেও আমার পড়াশোনার খবর কেউ রাখতো না। পড়তে বসে পড়াশোনা করছি না কোথাও আটকে আছি সে খেয়াল রাখার সময় কারো হতোনা। তখন বুঝলাম, ভালবাসা না থেকে অভাব বোধ করাটাই ভাল ছিলো। অ্যাট লিস্ট, কাঁদতে তো পারতাম। বাট, তখন আমার কাঁদার রাস্তাও বন্ধ হয়ে যায়।
ছোটকাল পার হয়ে যায় এভাবে হেলা-ফেলায়: বন্ধুহীন, শান্তিহীন, স্বপ্নহীন ভাবে। হাই স্কুল লাইফে এসে দুনিয়া কিছুটা বুঝতে শুরু করি। আমার পরাশোনা করা দরকার। ভাল স্টুডেন্ট হওয়া দরকার। বাট, মূলে তো ঘুণে ধরা। এরপরে মোটামোটি মধ্যবিত্ত টাইপের একটা স্টুডেন্ট হয়ে গেলাম কোনভাবে। ক্লাস সেভেনে যখন পড়ি তখন একদিন স্কুলে ভিজিটর আসে। সবাইকে লক্ষ্য জিজ্ঞেস করে সবাই টিচার, ডাক্তার, আর ব্যবসায়ী দিয়ে চালিয়ে দিচ্ছে। আমি অন্যরকম কিছু একটা বলতে চাচ্ছিলাম। বলে দিলাম "ইঞ্জিনিয়ার"!!
যাওয়ার সময় উনি বলেছিলেন, "জীবনে কিছু পার আর না পার, লক্ষ্যটা অটুট রেখো। নিশ্চিত, লাইফে তার মূল্য তুমি পাবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, নৈতিকতা। নীতির মধ্যে থাকলে দুর্নিতি তোমায় ছুঁতেও পারবে না"। কথাগুলো খুব লেগেছিলো ব্রেইনে। জীবন বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলাম।
সেদিনের পর থেকে আমি মানুষ থেকে রোবটের মত হয়ে গেলাম। সবকিছু নিয়ে তলিয়ে চিন্তাভাবনা করতাম। কতবার এটা সেটা করতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করেছি তার হিসেব নেই। একবার কারেন্ট সম্পর্কে জানতে ইচ্ছে হলো। এমন শক খেলাম, তারপর উঠে পড়ে লাগলাম। তারপর আমি পেরেছিলাম কারেন্টের মন্ত্রটা জানতে। এমন অনেক হাস্যকর ঘটনা আছে। আম্মুর একটা ফোন ছিলো। হঠাৎ নষ্ট হয়ে যায়। আম্মু আবার নতুন ফোন কিনে তারপর ঐ ফোন নিয়ে ঘাটাঘাটি করে ওটা ঠিক করে ফেলি বাট কাউকে বলিনি।
আমার ফেইসবুকে আসার কাহিনীটাও বেশ মজার। তখন আমার একটা বাংলালিংক সিমকার্ড ছিলো। আর গ্রামে ছিলো বাংলালিংকের সবচেয়ে পঁচা নেটওয়ার্ক। কথা বুঝা যেতো না। আর ঐ ফোনটাও ছিলো বিদঘুটে আমলের। তখন কাউকে ফোন করতাম না। ফোন ঘাটতে ঘাটতে WAP লিখাটাতে ঢুকতাম বাট বারবার কানেকশন ফেইল! কিছুই বুঝতাম না। তারপর লাইব্রেরিয়ান আঙ্কেলের কাছে জানলাম এটা ইন্টারনেট। উনি আমার আগ্রহ দেখে একটা ইন্টারনেট শেখার বই গিফট করেছিলেন। শিখে গেলাম। আর যে ওয়েব এড্রেসই দেখতাম, "ঢু" মেরে আসতাম। একদিন কোথায় যেন www.facebook.com ওয়েব এড্রেসটা দেখলাম। ব্যস, দুইদিন ট্রাই করার পর ৯ মে ২০০৯ তে হয়ে যাই একটা ফেবু একাউন্টের মালিক। যেই একাউন্টে প্রোফাইল পিক দেওয়া হয়েছিলো ২০১২ তে। আর এসএসসি পাশ করার পর ৪ বছরে ফ্রেন্ড ছিলো ৩৭ জন!!
ক্লাস নাইনে সাইন্স নিলাম। পরিবারের দন্দ্ব তখনো চলছিলো বাট আই ওয়াজ রোবট! যা হবার হয়ে যাক, আমার কি এর মধ্যে ২০০৮ এ আম্মুর চাকরী হয়ে যায়। আম্মুও বিজি হয়ে যায়। পড়াশোনা পড়াশোনার গতিতে চলছিলো আর আমি আমার!
একটা ফ্রেন্ড ছিলো। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, আমার বড় ভাই, আমার দোস্ত, আমার দুশমন; সব! নাম বলবো না। সব কিছু জানতো ও আমার। খুব ভালোবাসতো আমায়। আমার ফ্যামিলি আমায় ভালবাসা দেয়নি বাট ওর কাছ থেকে এটা পেয়েছি। বাট ওপরওয়ালার এটা সহ্য হয়নি। এসএসসি টেস্টের ৭ দিন আগে কেড়ে নিলেন ওকে। পুরোপুরি একা হয়ে গেলাম, নিঃসঙ্গ! প্রত্যেকটা বিকেল কেঁদে পার করতাম। ৩ টি বছর হয়ে যাচ্ছে ও নেই, কিন্তু দুনিয়া কি থেমে আছে? না আমি? দুনিয়া ভুলে গেছে ওকে। আমিও ভুলে গেছি। কিন্তু মন থেকে দাগটা মুছবার নয়!
এসএসসি পাশ করলাম। তখন আব্বুর কর্তৃত্ব দেখানোর ইচ্ছে হলো। কিন্তু আমি আমার মতোই ছুটছিলাম আমার লক্ষ্যে। পলিটেকনিকেলে এক্সাম দিলাম। রেজাল্ট খুব ভাল ছিলোনা, ছিটকে পড়লাম। এদিকে ইন্টারমিডিয়েট ভর্তি শুরু। আব্বু কোন এক রামছাগলের পরামর্শে কমার্সে ভর্তি করালো। বাট আমি তখনো রোবট। আমি আমার লক্ষ্যে অটল। সেকেন্ড শিফটে চান্স পেয়ে গেলাম। ফেভারিট কলেজ, ফ্যাভারিট সাব্জেক্ট, বাট কপাল সাপোর্ট দিলোনা! আব্বু ভর্তি হতে দিলোনা। সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম আমি। রোবটিক্স পাওয়ারটা চলে গেলো আমায় ছেড়ে। ফিরে এলো ছোটবেলার সেই আবেগ। কষ্টমাখা নতুন নতুন প্রত্যেকটা সকাল। কান্নাভেজা ঘনকালো প্রত্যেকটা রাত! পড়াশোনা আর হয়ে উঠেনা!!
ছুটলাম নতুন মিশনে যেখানে স্বাভাবিক একটা জীবন হবে। ফ্যামিলি থাকবে, কিছু ফ্রেন্ড থাকবে, স্পেশাল একটা মানুষ থাকবে। হয়ে উঠেনা। না আমার মিশন, না পড়াশোনা। আরেকদিকে অপরিচিত সাব্জেক্ট সব। সব মিলিয়ে জীবনের বিশ্রি সময়টুকু পার করছিলাম। জীবনে এরচেয়ে বিশ্রি অভিজ্ঞতা স্তরে স্তরে উপভোগ করতে হবে জানতাম।
এইচএসসি শুরু হয়ে গেলো। ৫ টা এক্সাম যাওয়ার পর একটা অপরিচিত আইডি থেকে মেসেজ আসলো "এক্সাম কেমন হচ্ছে?"
পরিচয়, কথা বলা, শেয়ারিং-কেয়ারিং, ভাল একটা বন্ধুত্ব। কিন্তু কপাল এটাও রাখলো না। বন্ধুত্ব শব্দটা ছায়ারাজ্যের আঁধারে হাড়িয়ে গেল। পড়ে রইলো ওর মেসেজেস, ওর গলার স্বর, আর বন্ধু শব্দটার হ্যাঙ্গোভার! ভুলতে পারিনি। হয়তো কোনদিন ভুলতে পারবোও না। নাহয়, আমিও কোনদিন স্বার্থপর হয়ে যাব। ভুলে যাব সবকিছু। সুখে থাকবো আমার আমিকে নিয়ে। ভাল থাকবো খুব। আসবে কি কখনো সেই সুদিন?
এক্সাম প্রায় শেষের দিকে। মে মাসের ৭ তারিখ। একদিন হল থেকে ফিরে চেঞ্জ করে বসলাম এমন সময় ভাইয়ার ফোন এলো।
- বাড়ি আসবি?
- মাথা খারাপ? সামনে হিসাববিজ্ঞান এক্সাম।
- যদি আসতে হয়?
- কেন আসবো হু?
- আল্লাহ আনালে তো আসবি?
- ওটা তখন দেখা যাবে। এখন কি হইছে বল।
- দাদুর শরীরটা ভাল না।
- .............. (আমি এক্ষুণি আসছি)
যেই মহিলা আমার পিচ্চিকালের সবকিছু ছিলো, আমার নানু আমায় ছেড়ে চলে গেলো। সব্বাই স্বার্থপর। কেউ কথা রাখেনা। আমায় বলেছিলো আমার পাশ দেখে যাবে। কিন্তু এক্সাম শেষ হবার আগেই বিদাই নিলেন। সেদিন শত চেষ্টা করেও কাঁদতে পারিনি। শুধু হাসি পাচ্ছিলো, বুক ফাটা আর্তনাদের হাসি। হ্যাঁ, আমি কেঁদেছিলাম। রেজাল্টের কিছুদিন আগে। সারারাত কেঁদে পার করেছিলাম। আমার নানু আমার কাছে নেই। নানার পাশে স্ব-মহিমায় শুয়ে আছে। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন! ঘুমোক, অনেক কষ্ট করেছে জীবনে!
১৮ মে, এক্সাম শেষ। বাড়িতে ফিরে যাবার কথা। ফিরলাম না। ১৯ তারিখ, আবারো রয়ে গেলাম। ২০ তারিখ সকাল ৭ টায় মামাতো ভাইয়ের ফোন।
- হ্যালো, কই তুমি?
- বাসায় আছি।
- ভাইয়ারা কই?
- পলাশ ভাইয়া, ওর এক ফ্রেন্ডের ঐখানে গেছে আর সজল ভাইয়া সাথেই আছে। কেন?
- আব্বুর শরীরটা ভাল না। বাসায় আস তো।
গেলাম। ডায়াবেটিকস, বমি হইছে। শরীর চলেনা। ধরাধরি করে নিয়ে গেলাম হাসপাতালে। এখানে হলোনা, ময়মনসিংহ ট্রান্সফার করা হলো। দিন শেষে খবরটা বেশ নাড়িয়ে দেওয়ার মতোই ছিলো। মামাও ওপারের বাসিন্দা হয়ে গেলেন।
রেজাল্ট খারাপ হলো। লাইফের লক্ষ্য তো আরো আগেই গুড়েবালি হয়েছে, এখন ফিউচার ফিউজ হওয়ার মতো একটা রেজাল্ট! ভালোই লাগে বেশ!! কপাল আমার উল্টোদিকে চলা শুরু করছে অনেক আগেই। এখন নতুন করে আর কি হবে? আর কোন রাস্তা হয়তো খোলা নেই। তবে আমি হাঁটা শুরু করবো, রাস্তা ছাড়াই হাঁটবো।
অমানুষ তকমাটা বেশ ভালোই উপভোগ করি এখন। আসলেই তো আমি অমানুষ। যার জীবনে আর কিছু হবার নেই। কিন্ত এই অমানুষ চায়না দুনিয়াতে আরেকটা অমানুষ আসুক। চাইনা আমি কেউ আমার মতো পরিস্থিতির শিকার কোন অমানুষ এ পৃথিবীতে। "শোন সব অমানুষ, এই দুনিয়া তোমাদের জন্য আনফিট"। অমানুষদের ভাল থাকার কোন স্থান নেই এ পৃথিবীতে সর্বত্র তোমাদের জন্য ঘৃণায় ছড়াছড়ি!
জীবনে তেমন কিছু হতে পারিনি। ছোটখাটো স্বপ্ন দেখা একটা সাধারন মানুষ। আর বিশাল বড় কিছু হবার টার্গেটও নেই, শুধু হাতেগোনা কয়েকটা ইচ্ছা ছাড়া।
আমার ভালবাসার মানুষটার এর কাছে হবো আমি প্রশস্ত মনের একজন মানুষ, যে কখনো ছেড়ে যাবেনা। আমার স্ত্রীর কাছে হবো আমি একজন আদর্শ স্বামী, যে বন্ধুর মতো সবসময় তাকে সাপোর্ট করে যাবে আর যার কাছে ভালবাসার কমতি থাকবেনা। ছোটখাটো অভিমান সবসময় লেগেই থাকবে বাট এটা কখনো ঝগড়ায় গড়াবে না। আমার সন্তানদের কাছে হবো আদর্শ বাবা, যে তাদেরকে সমসময় সাপোর্ট করবে আর সকল কাজে হেল্প করবে। একদম আমার আব্বুর মতো বাবা হবোনা। অ্যাট লিস্ট এই চেষ্টাটা করবো যেন আমার সন্তান সবসময় বলতে পারে "মাই ফাদার ইজ মাই ওয়ার্ল্ড"। আমার ফ্যামিলির কাছে হবো একটা বটবৃক্ষ। শীতলতার ছায়া, যে কি না সবার দুঃখগুলো মুছে দিতে পারবে।
অফটপিকঃ জীবন থেকে মানুষ শিক্ষা লাভ করে। ভিন্ন জন ভিন্ন রকমের শিক্ষা পায়। কেউ ভাল থাকার, আবার কেউ ভাল রাখার। কেউ খারাপ থাকার, কেউ দুনিয়াটা নোংরা করার। প্রাথমিক শিক্ষাটা পরিবার থেকেই আসে। পরিবারে ভাল কিছু শিক্ষা পেলে জীবন হয়ে যায় পরিষ্কার, স্বচ্ছ! এখানেই জীবনের গোড়াপত্তন হয়। পরিবারের মূল মানুষদের হতে হয় উদার, যে সবাইকে স্বপ্ন বুনতে সাহায্য করে। যার যেটা পছন্দ সে সেটাই করার স্বাধীনতা পাবে। আসুননা না; সবাই বদলে যাই, বদলে দিই, পরিবর্তনের হাওয়া বইয়ে দিই। না আসুক আর কোন অমানুষ সেই প্রতিজ্ঞা করি।
প্রতিজ্ঞা করুন, ভাল একজন মানুষ হবেন। পবিত্র মনের একজন বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড হবেন। সুন্দর মনের একজন স্বামী/স্ত্রী হবেন। বন্ধুর মতো একজন বাবা/মা হবেন। চলুন, আসতে দেব না আর কোন অমানুষ!
চলুন ঘৃণা করি অমানুষ শব্দটাকে আর ভালবাসি তার মধ্যে থাকা ভাল মানুষটাকে। সুযোগ দিন না একটা অমানুষকে মানুষ হবার!!
:
:
গল্পঃ অমানুষ
:
লিখাঃ Kamruzzaman Anik (ডার্ক ক্লাউড)