LCAnik.info

LCAnik.info Connecting Peoples...... A prayer for Love & Respect.....

28/01/2016

১. যে শিশু উপহাস নিয়ে বাঁচে,সে
ভিরু হয়ে বড় হয়
২. যে শিশু সমালোচনার মধ্যে বড় হয়,সে
শুধু নিন্দা করতে শেখে
৩. যে শিশু সন্দেহের মধ্যে বড় হয়,সে
প্রতারণা করতে শেখে
৪. যে শিশু বিরোধিতার মধ্যে বড়
হয়,সে শত্রুতা করতে শেখে
৫. যে শিশু স্নেহের মধ্যে বড় হয়,সে
ভালবাসতে শেখে
৬. যে শিশু উৎসাহ পেয়ে বড় হয়,সে
আত্মবিশ্বাসী হয়
৭. যে শিশু সত্যের মধ্যে বড় হয়,সে
সুবিচার করতে শেখে
৮. যে শিশু প্রশংসার মধ্যে বড় হয়,সে
অন্যদের গুণ ধারণ করতে শেখে
৯. যে শিশু ভাগ করে খাওয়ায় অভ্যস্ত
হয়,সে সু বিবেচক হয়
১০. যে শিশু ধৈর্যের মধ্যে বড় হয়,সে
সহনশীল হয়
১১. যে শিশু সুখী পরিবেশে বড় হয়,সে
ভালোবাসা ও সৌন্দর্য শেখে।
★ ভালো লাগলে শুধু একটা Thanks....

08/01/2016

"তোমার কবিতার শব্দে তুমি ____
(মোনালী রাফি)
তোমার কবিতার শব্দের মধ্যে থেকে চলে আসে হৃদয়ের না বলা দুঃখ
কি সুন্দর সাজিয়ে দাও
কবিতার শরীরে অন্ধকার পোষাক !
তোমার কবিতার শব্দবলীতে নারীরে কাঁদবে -
এমনি কি পুরুষ হৃদয় নতুন ভাবে
তোমার কবিতা উপলব্ধি করবে ___
তোমার কবিতার মধ্যে থেকে চলে আসে ,
বিষাদের দিন রাত্রির কথা "
পরিচ্ছন্ন সকাল তোমাকে পরেনি হাসাতে !
তোমার কবিতার মধ্যে থেকে চলে আসে,,
কেন তুমি নীল পাঞ্জাবিটা পরে
দোতালার সিঁড়িতে পা রাখো না ???
নিমন্ত্রিত কিংবা ইচ্ছে করে
যাওনা কোন স্বজন প্রিয় বাড়ি !
-
তোমার কবিতা না পড়লে আমি আজীবন
তোমার ভিতরটা দেখতে পেতাম না !
তোমার কবিতা না পড়লে
অন্ধকারে যে কষ্ট আছে তা জানা হোতনা
তোমার কবিতার মধ্যে শব্দবলীর আবেগ ভেসে আসে
তোমার সান্নিধ্যের লোভ !
তোমাকে দেখতে পাওয়া
সেটাও জানানো হোতনা আর ..
-
কবিতা কেবল তোমার জন্য হয়েছে উত্সবমুখি
কবিতা কেবল তোমার জন্য তোমাকে করেছে নীল
তোমার কবিতা শব্দে চলে আসে হৃদয়ের না বলা দুঃখ .........

11/11/2015

সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, কষ্ট-ভালবাসা সবকিছুর সমন্বয়েই জীবন। ফ্যামিলি, ফ্রেন্ডস, সিক্রেট একজন, শত্রু সবকিছুই থাকে একজন মানুষের লাইফে। মাঝেমাঝে হয়তো দেখা যায় শত্রু থেকে কাছের মানুষগুলো থেকে বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলে। এতে অনেকে অনেক কিছুই চিন্তা করেই বসে। রিলেশন রাখবো না, কথা বলবো না, ভালবাসবো না, ছেড়ে চলে যাবো, মরে যাবো; আরো কত কিছুই!
কিন্তু একবার কি কেউ ভেবে দেখে কাছের মানুষগুলোর কত সুখের স্মৃতি জীবন জুড়ে ছড়িয়ে আছে। এতকিছুর পরেও কিভাবে এসব উল্টাপাল্টা ভাবে?
আসুন সবাই ভালবেসে বাঁচতে শিখি; বাঁচাতে শিখি!
চলুন সবাই মিলে দুঃখগুলো স্কীপ করে দিই। বেঁচে থাকার আনন্দই আলাদা!!
লিখাঃ Kamruzzaman Anik (ডার্ক ক্লাউড)

20/10/2015

- হ্যালো।
- বলুন ম্যাডাম।
- কই তুমি?
- বাম পাশে।
- কই দেখিনা তো।
- ধুরু, তোমাকে বুক চিরে দেখতে বলছি?
- ফাইলামি রাখো। কই তুমি বলো।
- কই আর। বাসায়ই আছি।
- সকালে খাইছো?
- তার জন্য ব্রাশ করতে হবে।
- কি? এখনো ব্রাশ করো নাই?
- সকালে করবো।
- সকাল কয়টায় হয়?
- জানিনা। আমার তো ১০-১১ টার মধ্যেই হয়।
- ৯ টা বাজে। উঠবা না আমি কিছু করবো?
- ওয়েট ম্যাডাম। এক্ষুণি উঠছি।
- ব্রাশ, ফ্রেস, ব্রেকফাস্ট, স্টাডি। এর মধ্যে ফোনে হাত দিলে খুন করে দেব।
- আম্মুউউউউউ!
- ঐ, একদম আম্মুকে ডাকবা না।
- তোমার আম্মুকে ডাকি নাই। আমার আম্মুকে ডাকছি।
- যাকেই ডাকো। এইখানে আম্মুর কোন কাজ নাই। ফোন রাখো। টাটা, লাভিউ। টুটটুটটুট.....
- যা বাবা! আমাকে টাটা বলার টাইমটাও দিলোনা?? আম্মুউউউউউ!!
- আবার??
- ও, তুমি ফোন রাখো নাই তাইলে। ভালোবাসি।
- হয়েছে, এবার যান। ফ্রেস হন।
- ওকে, বাই!
একটা স্বপ্ন; সুখের, দুঃখের, হাসির, কান্নার, বেদনার, আনন্দের। যে স্বপ্নটা ধরে একটা বৃত্ত দাঁড়িয়ে থাকে। যে বৃত্তে থাকে কয়েকজন মানুষ। একটা পরিবার। সবকিছুই থাকে স্বপ্নটাতে। স্বপ্নের রশিটা কখনো ছিঁড়ে যায়না। মায়ার বাঁধনে আবদ্ধ সেই রশি। এই গল্পটা এমনি একটা মায়ার বাঁধনের। দুটো পরিবার থেকে তৃতীয় পরিবার হবার গল্প।
এইপাশে আছি আমি। অনিক। আমার বউয়ের দেয়া নাম মেঘ। আমার বউ; স্যরি, ভবিষ্যৎ বউ ইসরাত। ভালোবেসে ইসু বলেই ডাকি। নীল ইসু। কিউট না? উপ্পস, আমার তো ব্রাশ করতে হবে। বাকিটা এসে বলছি, টাটা।
- হ্যালো বাবু।
- কেমন আছো?
- খুব খুব খুউউউব ভালো না!
- তাই বাবুতা?
- হুঁম।
- তো কি হইছে শুনি।
- ব্রাশ, ফ্রেস, ব্রেকফাস্ট, স্টাডি; কত্ত কাজ করছি দেখছো?
- আহালে বাবুতা। থাক, কালকে থেকে এগুলো আর করতে হবেনা।
- বিয়ের আগে বিধবা হবার ইচ্ছা হইছে?
- একতু একতু!
- তাইতো বলি। নাহলে এমন পরামর্শ হাউ সম্ভব?
- আচ্ছা, এখন ফোন রাখেন। পরে কথা বলবো। এখন আমার কাজ আছে।
- আহারে, আমার বউতার কত্তো কাহ করতে হয়!
- হুঁম, টাটা।
- বাই, লাভিউ।
- টু......
এই ছিলো প্রেমপর্ব। পাক্কা ৫ বছরের প্রেমপর্ব। আসলে হইছে কি, আমরা সেম এইজ। প্রেমটা এতদিন গড়াতে অবশ্যই কষ্ট হইছে বিকজ, আই অ্যাম টু মাচ পিচ্চি। সেম এইজের মেয়েরা একটু বেশিই বুঝে কি না! আমরা এখন একটা রেস এ আছি। অবশ্যই ও আমার সাথে দৌড়ে পারবে না। কিন্তু সেটা দৌড়ের রেস না। সো, ও জিততেও পারে। প্রতিষ্ঠিত হবার রেস। পাঁচ বছর প্রেম করেছি, বিয়ে করতে হবেনা? কিছুদিনের মধ্যে একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে ঢু দিলে ঢুকে পড়লাম। ফ্যামিলি চলার মতো একটা স্যালারি আসে। এবার বিয়ে করা যায়।
- আম্মু।
- কি?
- তোমার শরীরটা ভাল লাগছে না। চলো ডাক্তার দেখাই।
- কই? আমি তো ভালোই আছি।
- ও, আচ্ছা। তবুও যাই না! চেকআপ করিয়ে নিয়ে আসলে ক্ষতি কি?
- বাহ্! বাবাজানের এত উন্নতি হঠাৎ?
- বড় হইছি না?
- অবশ্যই বড় হইছিস। তাইতো বিয়ের আগে বাবুর মা ফোন দেয়!
- কিইইইই?
- বাবুর মা নাম্বার থেকে ফোন আসছিলো। মেঘকে চায়।
- দেখছো। রং নাম্বার। এখানে মেঘ বলে তো কেউ নেই।
- হ্যাঁ, রং নাম্বার। তাইতো সুন্দর করে "বাবুর মা" লিখে নাম্বারটা সেভ করা।
- আসলে আম্মু। তুমি যা ভাবছো তা না।
- তা তো অবশ্যই না। আমি ভাবছি এটা তোর ফ্রেন্ড বাবুর মা। কিন্তু আসলে তা না।
- রাইট, এটা বাবুর মার নাম্বার।
- আসলে আমি যা ভাবছি তা না। বিয়ের ব্যাপারে কিছু ভাবছিস?
- আম্মুউউ! কি যে বলোনা।
- হইছে, আর অভার এক্ট করা লাগবে না।
- পরিচয় করাবি না?
- পরে।
- দেখতে অবশ্যই পরীর মতো। তাই না।
- আমি দেখিনি?
- কি?
- মানে পরী দেখিনি।
- তবেরে...........
যাক বাবা। বেঁচেই গেলাম মনে হয়েছিলো। আব্বু-আম্মু, শ্বশুর-ফ্যামিলি সবাই ভালভাবেই মেনে নিয়েছিলো। ছোট বোনদুটোর সাথে তো আপন বোনের মতোই চলছিলো বাট এটা আমার প্রব্লেম ছিলো। একসাথে হলেই আমায় নিয়ে চক্রান্ত! কিভাবে কতবার আমায় ফাঁসানো যায় সারাদিন সেই চিন্তা। বিয়ের আগপর্যন্ত একটু এমন হলেও প্রব্লেম ছিলোনা। কিন্তু বিয়ের পর "বেঁচেই গেলাম" ফিলটা চলেই গেলো। সবসময় "মরেই গেলাম" টাইপের হেভি হেভি ফিল হওয়া শুরু করলো। তবে এটা খুব ভাল লাগতো যে আমার বউটা আমায় প্রচন্ড ভালোবাসে। আগের চেয়ে অনেকটা বেশি।
- ঐ, আমার যৌতুক কই?
- আমি কেন যৌতুক দেব?
- আমি বলছি তাই।
- যৌতুক তো ছেলেরা নেয়। সেই হিসেবে আমি নেব। তুমি কেন?
- তুমি আমার যৌতুক দিবানা? আমি কালই বাড়ি চলে যাবো, হু!
- বাড়ি তো এটাই। আর কই যাবা?
- বাড়ির সামনে গিয়ে বসে থাকবো।
- থাক, হইছে অনেক। এই নাও ছোট যৌতুক।
- ওয়াও! কিটক্যাট? ইউ আর টু গুড্ডু!! উম্মম্মম্মম্মম্মাহ্
- টু।
- কি টু?
- বিয়ের আগে তোমায় লাভিউ বলছিলাম। তুমি শুধু টু বলছিলা।
প্রতিশোধ নিলাম।
- মাইর খাবা?
- উঁহু! ভালবাসা খাবো।
- হইছে অনেক, চলো খাবা।
- শোন।
- কি?
- উম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্মাহ্!
- ইউ আর টু হার্ড অনি।
- আই নো ম্যাডাম।
আব্বু-আম্মু, পাগলী দুটো বোন আর তাঁদের নতুন সঙ্গী, অফিস, ফ্রাইডে, বন্ধুবান্ধব; সবমিলিয়ে ভালোই চলছে আমার ভালবাসা মাখা প্রত্যেকটা দিন। আমার হবু বাবুর আম্মু একটা যৌতুক চেয়েছিলো আমার কাছে। দেইনি এখনো। দুটো সারপ্রাইজ একসাথে দেব। বিয়ের ১ বছর হতে কিছুদিন বাকি। হঠাৎ করে একদিন রাতে ইসু কেমন যেন শুরু করেছে। আম্মু দৌড়ে এসে ইসুর কাছে বসে বললো এম্বুলেন্স ডাকতে। ইসু আমার দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দ হাসি দিলো। হসপিটালে নিয়ে গেলাম ইসুকে। আমার শ্বশুর-শ্বাশুরী, সম্বন্ধী সাহেব, আদরের শ্যালিকা আসলো। ওখান থেকে আমার দু বোন, আম্মু আর শ্যালিকাকে বাসায় পাঠিয়ে দিলাম। একটু পর ডাক্তার সাহেব বললো আপনার ছেলে হয়েছে। আই ওয়াজ টু হ্যাপি!!
- হ্যালো আম্মু, তোমার জন্য একটা বর দেখছি। নাম কাব্য। উচ্চতা প্রায় এক ফিট। তুমি বিয়ে করতে রাজি?
- আলহামদুলিল্লাহ!
- আরে, তুমি হা বলে দিলা?
- শয়তান ছেলে।
অতঃপর টুটটুটটুট.... যা বাবা। কি এমন করলাম?
- কাব্য। কই তুই?
- কাব্য কে? (শ্বাশুমা)
- আপনার হবু বর।
- শয়তান ছেলে।
- আম্মুও বলছে।
- কি?
- শয়তান ছেলে।
- তো, বাবু হবার আগেই নাম ঠিক করে রাখছিলা বুঝি?
- আমি না। আপনার মেয়েই করছে।
- ঐ, আমি একা? (ইসু)
- আহারে বাবু। কিছুক্ষণ আগে আম্মু হইছো এখন তো অ্যাটলিস্ট বাচ্চাদের মতো আচরণ করা ছাড়ো।
- তুমিও তো বাবা হইছো। তুমি ছাড়ছো?
- ওকে। হিসসসসস! একদম চুপ!
- হুঁম, হইছে। এখন কোলে নাও।
নার্স কাব্যকে আমার কোলে তুলে দিলো। নাহ্। আমায় দেখে কাঁদেনি। মুখটা কাছে বাড়িয়ে দিলাম। চুমোও খায়নি। কি আর করার? আমিই খেলাম।
- ঐ, এতো জোরে কেউ চুমো খায়?
- সবসময় তো আরো জোরেই খাই।
- তুমি একটা ইয়ে, মুখে কিছু আঁটকায় না।
- আমরা বাপ-ছেলে চুমো খাচ্ছি। তোমার প্রব্লেম কি, হু?
- থাক। পাগলের সাথে প্রলাপ করার কোন ইচ্ছেই আমার নেই। বেশি করে খাও।
বাবা হবার মতো আনন্দের ফিলিংস মনে হয় পৃথিবীতে আর নেই। অন্যরকম একটা আনন্দ যোগ হয়। বলে বোঝাতে পারবো না। ছেলে আমার কিন্তু টানাটানি সবার। হলো কিছু? আমি চাই আমার আব্বু হোক। ভাইয়া, শ্যালিকা চায় তাদের আব্বু হোক। বেচারা একটা কতজনের আব্বু হবে?
আজ ওদের বাসায় নিয়ে যাব। বাসার সামনে গিয়ে ইসু আমায় জড়িয়ে ধরে বড় একটা চুমো খেল। ওর যৌতুক চোখের সামনে। সাইকেল। এটাই যৌতুক হিসেবে বিয়ের আগেই আমার কাছে চেয়েছিলো। আজ ডাবল সারপ্রাইজ দিলাম।
বাসায় আসার পর সবাই একসাথে বসে আড্ডা দিচ্ছি। আড্ডার টপিক কি দিয়ে শুরু হইছিলো, কি চলতেছে, আর কি দিয়ে শেষ হবে তা একমাত্র আল্লাহই ভাল জানেন। আপাতত কাব্যর নাম রাখা নিয়ে চলতেছে। অবশ্য এই অনেক হাসাহাসি হইছে নাম রাখা নিয়ে। টপিক, বেবি হবার আগে নাম রাখা।
- শোন। (ইসু)
- বল।
- একটু এদিকে আসবা?
- হুঁম, এখন বলো।
- আচ্ছা, আমরা যে আরো ৬ বছর আগে নাম ঠিক কিরেছিলাম, এটা বলে দেব?
- শোলে চড়তে চাও? কি হবে জানো?
অতঃপর আমার আদরের বোন দ্বারা এই নিউজও লিক। সবাই হাসতে হাসতে প্রায় অজ্ঞান। অর্ধেকটা নাম সবাই মিলেই রেখেছে। রাফসান শাহাদ। পুরোটা রাফসান শাহাদ কাব্য। আমার কাব্য। আমাদের কাব্য। আমাদের সবার কাব্য।
আমি মেঘ। তুমি নীল। আমাদের কাব্য। এটা আমাদের কথা। আমাদের স্বপ্নে বাঁধিয়ে রাখা "মেঘনীল কাব্য"
'
'
গল্পঃ মেঘনীল কাব্য
By: Kamruzzaman Anik (ডার্ক ক্লাউড)

19/10/2015

কেউ কারো পায়ে ধরার মতো অপরাধ করলে যে অপরাধী সেই কেবল অপরাধী হয়না। যার পায়ে ধরে অপরাধ মুক্তি চায় তারও কিছুটা অপরাধ থেকে থাকে। অপরাধী পায়ে ধরে তার ক্ষমার জন্য প্রার্থনা করে। আর ক্ষমাকারী মাথাটা ঝুঁকিয়ে অপরাধীকে তুলে ক্ষমা করার পাশাপাশি নিজের কিঞ্চিৎ অপরাধেরও ক্ষমা অর্জন করেন।
:
★ Kamruzzaman Anik (ডার্ক ক্লাউড)

18/10/2015

ঠাস ঠাস করে বাইরে বাজ পড়ার শব্দ হচ্ছে। কোন এক সময় বৃষ্টিভেজা এই দিনগুলো খুব ভালবাসতো অভি। ভালবাসা খুঁজে বেড়াতো এই দিনগুলোতে। একান্ত একাকিত্বে বসে ভাবতো শুধু ওর স্বপ্নগুলোর কথা। হয়তো সবার এরকম হয়না। কিন্তু বেশিরভাগ ছেলেমেয়েই এমন হয়ে থাকে। বৃষ্টিভেজা দিনগুলো একটু অন্যরকম ভাবে উপভোগ করে। আজ অভি সেই আমির মধ্যে কত পার্থক্য। মাঝে মাঝে আয়নার সামনে দাঁড়ালে মনে হয় দুদিকে দুটো আলাদা সত্ত্বা। আয়নার মধ্যের অভিটা আগের অভির মতোই আছে। সেই দাবদাহে পুড়ে যাওয়া শরীরের রঙ, দুর্বাঘাস টাইপ চুল, পিচ্চি টাইপের একটা চেহারা, চোখে এখনো সেই চশমা; সব আগের মতোই আছে। শুধু আয়নার বাইরের অভিটাই বদলে গেছে। অনেক বদলে গেছে।
১২ বছর আগে......
- আম্মুউউউ!
- কি হইছে বাবা?
- পানি দাও কেন?
- ঘুম থেকে উঠতে।
- আরো পরে উঠবো। এখন ঘুমাবো।
- সকাল ৮ টা বাজে তো বাবা। স্কুলে যাবা না?
- না, আজ তুমি একা যাও।
- তুমি না গেলে আমি স্কুলে কি করবো?
- আমার ক্লাস করবা। আজকে পড়া শিখিনি, তাই তুমি যাবা।
- আচ্ছা থাক, আজ কারোরই যেতে হবেনা।
- ইয়াহুউউউউ!!
- কি হলো ঘুমাবা না?
- স্কুলেই তো যেতে হবেনা।
ঘুমিয়ে কি করবো। আব্বু কোথায়?
- ঘুমায়।
- তাই নাকি? এখনো ঘুমায়। আজকে তো খবরই আছে।
অতঃপর ৫ মিনিটের মধ্যে বাবা-ছেলে দুজনেরই ঘর থেকে শান্তশিষ্ট বিদাই এবং ওয়াশরুম। কিন্তু বেডের অবস্থাটা একটু খারাপ আর কি! আরেকটা বালিশ গেলো!!
বাবা, মা আর অভি। তিনজনের সুখের সংসার। ভালবাসার কমতি নেই কোথাও। সবসময় হাসি-আনন্দ আর দুষ্টুমি দিয়েই চলে এই পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবারের সুখগুলো আকাশের মতো বিশাল; শেষ হবার নয়। এই সুখেও ছেদ পড়েছিল কোন একদিন। আরো চার বছর পরের কথা, অভি তখন ক্লাস ফাইভে পড়ে। কোন এক দিন বিকেলে ওর বাবা অফিস থেকে ফিরে আসছিলো। রিক্সায় করে ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের হাতে প্রাণ হারায় ওর বাবা। সুখের আকাশটার সীমানা শূণ্যে চলে এসেছিলো তখন থেকেই। অভির আম্মু খুব কষ্ট করে ফ্যামিলিটা হ্যান্ডেল করতেন। ক্লাস ফাইভে বৃত্তি, ক্লাস এইটে বৃত্তি পেয়ে মায়ের স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পেরেছিলো। কষ্টগুলোর মূল্য দিতে চাইতো সবসময়। এসএসসি টেস্ট শুরু হতে আর কিছুদিন বাকি।
- আম্মু
- হ্যাঁ বাবা, কিছু বলবি?
- তোমার শরীরটা ইদানীং কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে।
- ও কিছুনা। ঠিক হয়ে যাবে।
- আম্মু, একটা কথা বলার ছিলো।
- বল।
- এই মাসের শেষের দিকে টেস্ট শুরু হয়ে যাবে।
- হুঁম, জানিই তো।
- আচ্ছা, তাহলে আমি যাই।
- শোন।
- বলো আম্মু
- আব্বুকে মনে পড়েছে?
- ................ (নির্বাক দু ফোটা চোখের জল ফেলে মায়ের কোলে শুয়ে পড়লো)
- কাঁদিস না বাবা। তোকে তোর বাবার মতো হবে। অনেক স্ট্রং হতে হবে তোকে। অনেক কিছু করতে হবে। এভাবে ভেঙ্গে পড়লে হবে?
- আম্মু, তুমি কখনো আমায় ছেড়ে যাবেনা তো?
- আমি গেলে আমার পাগলটাকে কে সামলাবে শুনি? কোন একটা পাগলীর হাতে তুলে না দিয়ে আমি কোত্থাও যাচ্ছিনা।
- যাও আম্মু! তুমি শুধু মজা করো।
- আগেও তো করতাম।
- আগে তো আব্বু ছিলো।
- তাতে কি মজাও করবো না আমার ছোট্ট বাবাটার সাথে?
- হু, এখন আমি ঘুমাবো। টাটা।
যথারীতি টেস্টেও ফার্স্ট হলো। মায়ের চোখের জল শুকিয়ে গেছে। সেই জলে কতো না মায়া, ভালবাসা ছিলো। সেই জল দেখতে অভির অনেক ইচ্ছা। দেখবে ও; কোন এক সুদিনে।
দেখতে দেখতে এসএসসি শুরু হয়ে গেলো। অনেক পড়াশোনা ওর। এদিক-ওদিক তাকানোর কোন সময় নেই। ওকে দুজনের স্বপ্নপূরণ করতে হবে। বাবার ইচ্ছে ও ভাল একজন মানুষ হবে। আর মায়ের ইচ্ছে বাবার মতো হবে। একসাথে দুই ইচ্ছেপূরণ! ওর বাবার চেয়ে ভাল কোন মানুষ ও কল্পনা করতে পারেনা। এসএসসি শেষ। রেজাল্টের কিছুদিন বাকি। ও জানে গোল্ডেন পাবেই। খুব ভাল পরীক্ষা দিয়েছে ও। সেই অনুযায়ী রেজাল্টও হলো। মায়ের চোখে অভি সেদিন অনেক জল দেখেছিলো অভি। মাকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ কেঁদেছিলো।
বাবা নেই। মধ্যবিত্ত পরিবারের টানাপোড়ন তো আছেই। ভাল কলেজে পড়া আর হয়ে উঠলো না। অভির আম্মু তবুও বলেছিলো ভাল কলেজে ভর্তি হতে কিন্তু ওর এতটুকু জ্ঞান ছিলো। কাছের একটা সরকারী কলেজে ভর্তি হলো। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই টিচারদের নজরে এসে গেলো অভি। প্রাইভেট পড়তো না ও। জানে, প্রাইভেট পড়লে ওর আম্মুর কষ্ট আরো বেড়ে যাবে। টিচাররা ওকে খুব ভালোবাসতো। ওকে সব শিক্ষকই টাইম দিতো। কোন প্রব্লেম হলে সরাসরি স্যারের কাছে চলে যেতো। উনারাও স্বাভাবিকভাবেই নিতেন। ততদিনে ইশারা পড়ে ইশারার। ওর ক্লাসমেট, অন্য গ্রুপের। খুব স্মার্ট মেয়ে। তবে সবার থেকে আলাদা। সবার সাথে মিশে। খুব ভাল মনের একটা মেয়ে। নিজে থেকে এসেই অভির সাথে ফ্রেন্ডশিপ করে। ভালোই চলছিলো সবকিছু। পড়াশোনা, আম্মু, বন্ধুবান্ধব, টিচার সবার সাথেই ওর ভাল সম্পর্ক।
ইশারা অভির প্রতি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। তুইতে তুমিটাকে খুঁজতে চেষ্টা করছে। অভির সম্পর্কে অ তেমন কিছুই জানেনা। একবার জিজ্ঞেস করেছিলো বাট অভি সেটা এড়িয়ে যায়। তারপর আর সময় সুযোগ টাইমিং হয়ে উঠেনি। আজকেই জিজ্ঞেস করে সব জানতে হবে। অভিকে নিজের করে নিতে হবে ওর।
- অভি শোন।
- বল।
- ক্লাস শেষ।
- তোর কি মনে হয়?
- শেষ বলেই তো মনে হচ্ছে।
- তবে জিজ্ঞেস করছিস যে?
- না, এম্নিই। একটা কথা জিজ্ঞেস করবো?
- কি কথা?
- তুই তোর ফ্যামিলির ব্যাপারে তো কিছুই বলিস নি।
- জেনে কি এসে যায়? চল, ফুচকা খাওয়াবি।
- তোর ফ্যামিলির ব্যাপারে বললে কি হয়?
- শুধু শুধু পেইন নিয়ে কি লাভ? তারচেয়ে চল ফিরি, তোকে তোর বাসার কাছে ছেড়ে যাবো।
- যাবোনা। তুই বলবি কি না বল?
- বলতেই হবে?
- হু। বলতেই হবে।
- আচ্ছা, শোন তাহলে...............
অতঃপর বলা শেষে ইশারার চোখের কোণে দুফোটা জলের ছায়া। কত মায়ার সে জল। যতটুকু না অভির প্রতি দুর্বল ছিলো তারচেয়ে আরো বেশিই হয়ে গেলো আজ। ওকে আপন করে নিতেই হবে; যে করেই হোক।
- অভি।
- হু।
- চল, ফুচকা খাই।
- না রে। আজ থাক। অন্য কোনদিন।
- বাদাম?
- না।
- অন্যকিছু?
- কিচ্ছু খাবোনা রে!
- শোন।
- বল।
- কাউকে ভালোবাসিস?
- ধুরু! এসব কখন? তুই?
- হু। বাট বলতে পারছি না।
- কে রে সেই কপালপোড়া?
- তুই?
- আরে, আমার কপাল তো আগে থেকেই পোড়া। তুই যার কপাল পুড়তে চাইছিস সেটা কে?
- সেটাই তুই!
- মানে?
- বুদ্ধু!!
- স্যরি! এটা অসম্ভব। আমি আমার আব্বু-আম্মুর স্বপ্নের রেসে আছি। এসব আমাকে দিয়ে হবেনা। আসি।
চলে যাচ্ছে অভি। পিছু থেকে অভির চলে যাওয়া দেখছে ইশারা কিন্তু কিছুই করার নেই। ফিরবে না ও। দিনটা ঘোলা করে আসছে। বৃষ্টি আসবে হয়তো। আসুক। আজ বৃষ্টিতে সব চোখের জল ধুয়ে যাক। প্রচন্ড শব্দে বাজ পড়ছে। অভি পিছু ফিরছে না, আর ইশারা অভিকে দেখেই চলেছে। চলে যাচ্ছে চোখের সীমানার বাইরে।
আজও সেই বৃষ্টি। বাজ পড়ছে বাইরে। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে অভি। ইশারার কথা ভাবছে। কোথায় মেয়েটা?
- অভি।
- হ্যাঁ মা।
- কিছু হইছে?
- কই? না তো মা। আমি ঠিক আছি।
- তাহলে এখানে একা একা কি করছিস?
- এম্নিই বৃষ্টি দেখছিলাম।
- তোর রুমে আয় তো একটু।
- আচ্ছা যাও, আমি আসছি।
আরো কিছুক্ষণ ভেবে তারপর উঠে গেলো রুমের দিকে। মেঘলা দিনটা অস্বস্তি লাগছে। তাই রুমে এসেই চোখগুলো বন্ধ করে সোজা বিছানায়।
- ভালো আছো?
- .............. (কন্ঠটা পরিচিত মনে হলো, সোজা উঠে সামনে তাকিয়ে দেখে এ তো সেই) তুমি এখানে?
- কেন? থাকতে পারিনা?
- না, ঠিক তা না। তাই বলে বাসায়?
- অন্য কোথাও হলে ভাল হতো?
- হুঁম।
- কেন?
- আম্মু দেখলে কি ভাববে?
- আম্মু সব জানেন।
- কিইইইই?
- জ্বি।
- দেখো ইশারা, তুমি আমার ব্যাপারে তো সব জানোই। এই মেঘলা মনে তোমায় ঠাঁই দিয়ে তোমার কষ্ট বাড়াতে চাইনা।
- কিন্তু এই মেঘলা মনে আমি অঝোর শ্রাবণ ঝরাতে চাই।
- ইশারা, এটা সম্ভব না।
- আম্মু আমায় নিয়ে এসেছেন। এখন তুমি না বললে আবার ফিরে যাবো।
- কিইইইইই???
অতঃপর বিনা মেঘে বজ্রপাত!!
অভির কথাগুলো শুনে ঐদিন ইশারা খুব কষ্ট পেয়েছিলো অভির কষ্টগুলোর কথা ভেবে। সেদিনই অভির আম্মুর কাছে এসে সব বলেছিলো। ইশারা খুব লক্ষ্মী একটা মেয়ে। বাবা-মায়ের ভালবাসা তো দূর, কেমন হয় তাও ওর অজানা। একটা এতিম খানায় বড় হয়েছে ও। পড়াশোনায় ভাল বলে ওখান থেকে বাইরে পড়াশোনার জন্য পাঠায়। অভির আম্মুকে 'আম্মু' বলেই ডাকে। ঐদিন অভির আম্মু ওকে আপন করে নেয়। ইশারা আজ ওখান থেকে চলে এসেছে। অভির আম্মু গিয়ে নিয়ে এসেছে।
- তাহলে আর কি করার?
- চলো বিয়ে করে ফেলি!
- আম্মুউউউউ!
- ঐ বোকা, আম্মুকে ডাকো কেন?
- আমি বিয়ে করবো না।
- কেন?
- আমি এখনো পিচ্চি আছি।
- ওরে পিচ্চিরে! দাঁড়াও দেখাচ্ছি।
- আম্মুউউউউউউউউ
অতঃপর অভির আম্মুকে ডাকার জন্য মুখটা কোথাও হারিয়ে গেলো। মেঘলা মনে আজ শ্রাবণ ধারা বইতে শুরু করলো।
- ঐ, তোরা খেতে আসবি।
- আসছি আম্মু।
- চলো।
- হু! তাই চলো।
অতঃপর আসছে। চলছে সুখের পর্ব। মেঘলা মনের বৃষ্টিধারা!!
'
'
গল্পঃ মেঘলা মন
By: Kamruzzaman Anik (ডার্ক ক্লাউড)

15/10/2015

বাংলা নববর্ষ, ইংরেজী New Yearহলে এতোক্ষনে টাইমলাইন,ইনবক্সশুভেচ্ছায় ভেসে যেত
কিন্তু আজ আরবী নববর্ষ,
অনেকে হয়তো জানেই না
সবাইকে হিজরী নববর্ষের শুভেচ্ছা_____
"শুভ নববর্ষ ১৪৩৭"

11/10/2015

কাউকে ভরসা করে বা কাউকে আঁকড়ে ধরে ভাল থাকার নাম ভাল থাকা না; এর মানে দাঁড়ায় মগ্ন থাকা নেশাগ্রস্থের মতো। নেশা কেটে গেলেই আবার যেমন আরো কঠিনতম জীবন সামনে দাঁড়ায় তেমনি সেই কেউ যদি ছেড়ে দেয় তাহলে খারাপও থাকা যায়না।
একা যে ভাল থাকতে পারে ভাল থাকার আনন্দটা শুধু সেই বুঝে। একা একা ভাল থাকতে চেষ্টা করুন। সত্যিই ভাল থাকবেন।
:
কামরুজ্জামান অনিক

11/10/2015

দেখলি?
তুই নাই, আজ ৩ বছর।
কই দুনিয়া তো থাইমা নাই!
আমিও তো আমার গতীতে চলতেছি। দুনিয়া বড় স্বার্থপর রে!
সব ভুলাইয়া দেয়। তুই যেদিন দুনিয়ার মায়া ছাড়ছিলি, ঐদিন মনে হইছিলো, বাঁইচা থাকার কোন অর্থই আর নাই। কিন্তু কি তে কি?
সত্যিই তোরে ভুলি নাই, তুই বিশ্বাস কর! এখনো তোর কথা মনে হইলে একটা হাসি দেই। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস দিয়া সেই হাসি থামাইয়া চোখের ফোয়ারা ছুটাই। এখনো তোরে আমি ভুলি নাই রে!
তোর ঐ ফ্যাভারিট গানটা আমি এখনো আমার ফোনে রাখছি। ৩ বছর যাবৎ অতি যত্নের সাথে গানটার সেবা করতেছি। গানটা এখনো আমায় কাঁদায়। তুই ছিলি আমার সবটা জুরে। কিন্তু আজ ঐ আঁধারে। কষ্ট হয়না তোর?
স্বার্থপর তো তুই!
এত কাঁদি তোর জন্য। একবার কি চোখের জল মুছে দিছিস? একবার কি স্বান্ত্বনা দিয়ে বলছিস, "এই পাগল কাঁদিস না, আমি তো এখানেই"। বলিস নাই। আর বলবিও না। ভালোবাসতাম তোকে।
আমার ভালবাসাগুলো এমনই হয় জানিস? তোর পরে এমন করে কেউ আমায় এতটা ভালবাসেনি। আজকালকার ভালবাসাগুলো কেমন যেন। যদিও কেউ ভালবাসে, মনের খবর রাখেনা। বললেও বুঝেনা আমায়। তোর মত এমন কেউ আর নেই যে আমার গলা শোনে, চেহারা দেখে বলতে পারে আমি ভাল নেই। তুই কেন এত ভালোবাসছিলি আমায়। তুই যদি আমার লাইফে না আসতি তাহলে ভালবাসা কি বুঝতামই না। তাহলে হয়তো এতটা কষ্ট পেতাম না। তুই আগলে রেখে ছেড়ে দিলি। এখন ঐ আগলে রাখাটাকে সারাক্ষণ মিস করি। আমিও স্বার্থপর। আমার প্রয়োজনেই তোকে চাই। একটু দূরে সরে যেতিস আমার থেকে। তবুও থাকতি। জানতাম তুই এখনো আছিস।
কিন্তু, কই তুই?
কেন ডাকিস না?
কেন ডাকে সাড়া দিস না?
কেন সারাক্ষণ আমায় কাঁদাস?
কেন শুধু এমনই হয় আমার সাথে?
শুধু একটা বার এসে আমায় বুকে জড়িয়ে নে প্লিজ!!
আর কিচ্ছু চাইবো না তোর কাছে!
শুধু এই অনুরোধটা রাখ প্লিজ!
ও, রাখবি কেন?
লাগবে না আমার!
পর করে দে আমায়।
একাই ভাল আছি আমি!!
কাঁদতে জানি আমি।
কোন দুঃখ নেই আমার।
শুধু তুই ভাল থাকিস।
ভালবাসতে হবেনা আমায়।
শুধু ভাল থাকিস।
জানবো আমার ভালবাসাটা ভাল আছে।
ক্ষমা করে দে আমায়, তোর জন্য কিছুই করতে পারলাম না!
আমি আমায় ঘৃণা করি তো।
কিভাবে তোর জন্য কিছু করবো বল।
তোর কবরটাও না পুরনো হয়ে গেছে রে! আমায় নিয়ে নে না প্লিজ! নতুন হয়ে যাক। ভাল থাকবো তোকে নিয়ে। অনেক ভাল!!
তোর গানটা শুনছি, জানিস?
কষ্ট দিলে দুঃখ নাই;
আরো কষ্ট পেতে চাই;
ডুকরে ডুকরে কাঁদে চোখ;
অনেক যন্ত্রনায়!
ফ্যাভারিট ছিলো তোর। মিল আমার সাথে! কি অসম্ভব ভালবাসার মিল! ভাল থাকিস।
তোর মতো কেউ আর কেয়ার করে না রে! সবাই ফাঁকি দেয়। অনেক অবহেলা করে আমায়। করবেই না কেন? আবেগ গলায় জড়িয়ে কি লাভ? সবাই তো আর তোর মতো বোকা না, যে এমন একটা প্রব্লেম সাথে রাখবে যে কাউকে ভাল রাখতে জানেনা।
যাই হোক, ভাল থাকিস। চোখে সব ঘোলা দেখছি। সব অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পারলে ক্ষমা করিস আমায়!! :'( :'(
তোর ছোটভাই
তোর আবেগী
তোর বন্ধু
এই আমি
অমানুষ
:
কামরুজ্জামান অনিক

21/09/2015

আমি কামরুজ্জামান অনিক। মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় সন্তান এবং একমাত্র ছেলে। এই দুটো থেকে যে কোন একটা তকমা সাথে থাকলে যে কারো জীবন আনন্দ, আদর আর ভালবাসায় ভরপুর হয়ে ওঠে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে পুরোটাই ব্যতিক্রম। ঘৃণা, ক্রোধ, রাগ, ঝগড়া আর অন্যায় দেখেই আমার বেড়ে ওঠা। ভালবাসায় ছোঁয়া জীবনে খুব কমই এসেছে আমার। আবেগ-অনুভূতি যতটুকু পেয়েছি পুরোটাই কষ্টের।
২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬, আমার জন্ম। তখন তো আর বোধশক্তি নেই। যখন একটু আধটু বুঝি, হাঁটার জন্য যখন একটা আঙ্গুল দরকার তখন ওটা পাইনি। মিসিং, নানুবাড়িতে থাকতাম। আব্বু ছিলেন ডাক্তার, আম্মু তখনো পড়াশোনা করেন। সারাদিন ব্যস্ততার পর রাতে এসে দেখতেন আমি ঘুমিয়ে আছি। আবার ঘুম থেকে উঠে দেখতাম আব্বু নেই। নানুর কাছেই থাকতাম সারাদিন।
আবার যখন আম্মুর কাছে শহরে চলে যেতাম, সকালে আম্মু কলেজে যেত ফিরতো বিকেলে। এসে রান্নাবান্না করে আমাকে নিয়ে গল্প করতেন, মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন, কপালে চুমু এঁকে দিতেন। আনন্দে চোখে পানি চলে আসতো, কারন আবার ৪-৫ দিন পর গ্রামে ফিরতে হবে। আবার সেই চিরচেনা মায়াহীন দুনিয়া! আম্মুকে জড়িয়ে ধরে অনেক কাঁদতাম। তখনি হয়তো বুঝতে শিখেছিলাম, কান্ন কি!!
গ্রামে এলে যখন দেখতাম আমার খেলার সাথীরা খেলা শেষে তার আম্মুর কাছে চলে যেত। আমি চেয়ে দেখতাম। ঘরে গিয়ে কেঁদে বালিশ ভেজাতাম। কাঁদতে কাঁদতে মানুষের চোখের জল শেষ হতে শুনেছি। আসলে জল শেষ হয়নায়না। অনুভূতিগুলো ভোঁতা হয়ে যায় কিন্তু আমার অনুভূতি আরো বেড়েই চলেছে আজ পর্যন্তই!!
পিচ্চি থেকে একটু ভালবাসার অভাব বোধ করতাম। চাইতাম যে কেউ আমাকে সময় দিক। আমার আঙ্গুল ধরে হাঁটতে সাহায্য করুক। মুখে তুলে কেউ খায়িয়ে দিক। কিন্তু সে দিন আর আসেনা। হ্যাঁ, এসেছিলো অনেকটা পরে। যখন প্রাইমারিতে ভর্তি হলাম তখন। আম্মু পড়াশোনা শেষ করে যখন ফিরে এসেছিলো। কিন্তু না, শুধু আম্মুই ফিরে এসেছিলো, জীবনে ভালবাসার ছোঁয়া আসেনি। আম্মু ফিরে এসে জীবনটা আরো কালো হয়ে যায়, ঘনকালো!
আব্বু শুধু ঝগড়া করতো। যখন টাইম পেত তখনই ঝগড়া। ঘরে একা একা থাকতে থাকতে আমি হয়ে গেলাম বিচিত্র এক প্রাণী। সহজে কাউকে বন্ধু হিসেবে মেনে নিতে পারতাম না। সবসময় একা থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতাম। কারো সামনে গেলে নিজেকে এক বিচিত্র চিড়িয়া মনে হতো। সবাই কেমন করে যেন তাকাতো যেন মনে হচ্ছে ডাইনাসোর দেখছে। খেলাধুলা, আড্ডা, ঘুড়াঘুরি সব একাই করতাম। যেন আমার রাজ্যে আমিই রাজা। ঘরে দুজন শিক্ষিত মানুষ থাকা সত্ত্বেও আমার পড়াশোনার খবর কেউ রাখতো না। পড়তে বসে পড়াশোনা করছি না কোথাও আটকে আছি সে খেয়াল রাখার সময় কারো হতোনা। তখন বুঝলাম, ভালবাসা না থেকে অভাব বোধ করাটাই ভাল ছিলো। অ্যাট লিস্ট, কাঁদতে তো পারতাম। বাট, তখন আমার কাঁদার রাস্তাও বন্ধ হয়ে যায়।
ছোটকাল পার হয়ে যায় এভাবে হেলা-ফেলায়: বন্ধুহীন, শান্তিহীন, স্বপ্নহীন ভাবে। হাই স্কুল লাইফে এসে দুনিয়া কিছুটা বুঝতে শুরু করি। আমার পরাশোনা করা দরকার। ভাল স্টুডেন্ট হওয়া দরকার। বাট, মূলে তো ঘুণে ধরা। এরপরে মোটামোটি মধ্যবিত্ত টাইপের একটা স্টুডেন্ট হয়ে গেলাম কোনভাবে। ক্লাস সেভেনে যখন পড়ি তখন একদিন স্কুলে ভিজিটর আসে। সবাইকে লক্ষ্য জিজ্ঞেস করে সবাই টিচার, ডাক্তার, আর ব্যবসায়ী দিয়ে চালিয়ে দিচ্ছে। আমি অন্যরকম কিছু একটা বলতে চাচ্ছিলাম। বলে দিলাম "ইঞ্জিনিয়ার"!!
যাওয়ার সময় উনি বলেছিলেন, "জীবনে কিছু পার আর না পার, লক্ষ্যটা অটুট রেখো। নিশ্চিত, লাইফে তার মূল্য তুমি পাবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, নৈতিকতা। নীতির মধ্যে থাকলে দুর্নিতি তোমায় ছুঁতেও পারবে না"। কথাগুলো খুব লেগেছিলো ব্রেইনে। জীবন বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলাম।
সেদিনের পর থেকে আমি মানুষ থেকে রোবটের মত হয়ে গেলাম। সবকিছু নিয়ে তলিয়ে চিন্তাভাবনা করতাম। কতবার এটা সেটা করতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করেছি তার হিসেব নেই। একবার কারেন্ট সম্পর্কে জানতে ইচ্ছে হলো। এমন শক খেলাম, তারপর উঠে পড়ে লাগলাম। তারপর আমি পেরেছিলাম কারেন্টের মন্ত্রটা জানতে। এমন অনেক হাস্যকর ঘটনা আছে। আম্মুর একটা ফোন ছিলো। হঠাৎ নষ্ট হয়ে যায়। আম্মু আবার নতুন ফোন কিনে তারপর ঐ ফোন নিয়ে ঘাটাঘাটি করে ওটা ঠিক করে ফেলি বাট কাউকে বলিনি।
আমার ফেইসবুকে আসার কাহিনীটাও বেশ মজার। তখন আমার একটা বাংলালিংক সিমকার্ড ছিলো। আর গ্রামে ছিলো বাংলালিংকের সবচেয়ে পঁচা নেটওয়ার্ক। কথা বুঝা যেতো না। আর ঐ ফোনটাও ছিলো বিদঘুটে আমলের। তখন কাউকে ফোন করতাম না। ফোন ঘাটতে ঘাটতে WAP লিখাটাতে ঢুকতাম বাট বারবার কানেকশন ফেইল! কিছুই বুঝতাম না। তারপর লাইব্রেরিয়ান আঙ্কেলের কাছে জানলাম এটা ইন্টারনেট। উনি আমার আগ্রহ দেখে একটা ইন্টারনেট শেখার বই গিফট করেছিলেন। শিখে গেলাম। আর যে ওয়েব এড্রেসই দেখতাম, "ঢু" মেরে আসতাম। একদিন কোথায় যেন www.facebook.com ওয়েব এড্রেসটা দেখলাম। ব্যস, দুইদিন ট্রাই করার পর ৯ মে ২০০৯ তে হয়ে যাই একটা ফেবু একাউন্টের মালিক। যেই একাউন্টে প্রোফাইল পিক দেওয়া হয়েছিলো ২০১২ তে। আর এসএসসি পাশ করার পর ৪ বছরে ফ্রেন্ড ছিলো ৩৭ জন!!
ক্লাস নাইনে সাইন্স নিলাম। পরিবারের দন্দ্ব তখনো চলছিলো বাট আই ওয়াজ রোবট! যা হবার হয়ে যাক, আমার কি এর মধ্যে ২০০৮ এ আম্মুর চাকরী হয়ে যায়। আম্মুও বিজি হয়ে যায়। পড়াশোনা পড়াশোনার গতিতে চলছিলো আর আমি আমার!
একটা ফ্রেন্ড ছিলো। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, আমার বড় ভাই, আমার দোস্ত, আমার দুশমন; সব! নাম বলবো না। সব কিছু জানতো ও আমার। খুব ভালোবাসতো আমায়। আমার ফ্যামিলি আমায় ভালবাসা দেয়নি বাট ওর কাছ থেকে এটা পেয়েছি। বাট ওপরওয়ালার এটা সহ্য হয়নি। এসএসসি টেস্টের ৭ দিন আগে কেড়ে নিলেন ওকে। পুরোপুরি একা হয়ে গেলাম, নিঃসঙ্গ! প্রত্যেকটা বিকেল কেঁদে পার করতাম। ৩ টি বছর হয়ে যাচ্ছে ও নেই, কিন্তু দুনিয়া কি থেমে আছে? না আমি? দুনিয়া ভুলে গেছে ওকে। আমিও ভুলে গেছি। কিন্তু মন থেকে দাগটা মুছবার নয়!
এসএসসি পাশ করলাম। তখন আব্বুর কর্তৃত্ব দেখানোর ইচ্ছে হলো। কিন্তু আমি আমার মতোই ছুটছিলাম আমার লক্ষ্যে। পলিটেকনিকেলে এক্সাম দিলাম। রেজাল্ট খুব ভাল ছিলোনা, ছিটকে পড়লাম। এদিকে ইন্টারমিডিয়েট ভর্তি শুরু। আব্বু কোন এক রামছাগলের পরামর্শে কমার্সে ভর্তি করালো। বাট আমি তখনো রোবট। আমি আমার লক্ষ্যে অটল। সেকেন্ড শিফটে চান্স পেয়ে গেলাম। ফেভারিট কলেজ, ফ্যাভারিট সাব্জেক্ট, বাট কপাল সাপোর্ট দিলোনা! আব্বু ভর্তি হতে দিলোনা। সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম আমি। রোবটিক্স পাওয়ারটা চলে গেলো আমায় ছেড়ে। ফিরে এলো ছোটবেলার সেই আবেগ। কষ্টমাখা নতুন নতুন প্রত্যেকটা সকাল। কান্নাভেজা ঘনকালো প্রত্যেকটা রাত! পড়াশোনা আর হয়ে উঠেনা!!
ছুটলাম নতুন মিশনে যেখানে স্বাভাবিক একটা জীবন হবে। ফ্যামিলি থাকবে, কিছু ফ্রেন্ড থাকবে, স্পেশাল একটা মানুষ থাকবে। হয়ে উঠেনা। না আমার মিশন, না পড়াশোনা। আরেকদিকে অপরিচিত সাব্জেক্ট সব। সব মিলিয়ে জীবনের বিশ্রি সময়টুকু পার করছিলাম। জীবনে এরচেয়ে বিশ্রি অভিজ্ঞতা স্তরে স্তরে উপভোগ করতে হবে জানতাম।
এইচএসসি শুরু হয়ে গেলো। ৫ টা এক্সাম যাওয়ার পর একটা অপরিচিত আইডি থেকে মেসেজ আসলো "এক্সাম কেমন হচ্ছে?"
পরিচয়, কথা বলা, শেয়ারিং-কেয়ারিং, ভাল একটা বন্ধুত্ব। কিন্তু কপাল এটাও রাখলো না। বন্ধুত্ব শব্দটা ছায়ারাজ্যের আঁধারে হাড়িয়ে গেল। পড়ে রইলো ওর মেসেজেস, ওর গলার স্বর, আর বন্ধু শব্দটার হ্যাঙ্গোভার! ভুলতে পারিনি। হয়তো কোনদিন ভুলতে পারবোও না। নাহয়, আমিও কোনদিন স্বার্থপর হয়ে যাব। ভুলে যাব সবকিছু। সুখে থাকবো আমার আমিকে নিয়ে। ভাল থাকবো খুব। আসবে কি কখনো সেই সুদিন?
এক্সাম প্রায় শেষের দিকে। মে মাসের ৭ তারিখ। একদিন হল থেকে ফিরে চেঞ্জ করে বসলাম এমন সময় ভাইয়ার ফোন এলো।
- বাড়ি আসবি?
- মাথা খারাপ? সামনে হিসাববিজ্ঞান এক্সাম।
- যদি আসতে হয়?
- কেন আসবো হু?
- আল্লাহ আনালে তো আসবি?
- ওটা তখন দেখা যাবে। এখন কি হইছে বল।
- দাদুর শরীরটা ভাল না।
- .............. (আমি এক্ষুণি আসছি)
যেই মহিলা আমার পিচ্চিকালের সবকিছু ছিলো, আমার নানু আমায় ছেড়ে চলে গেলো। সব্বাই স্বার্থপর। কেউ কথা রাখেনা। আমায় বলেছিলো আমার পাশ দেখে যাবে। কিন্তু এক্সাম শেষ হবার আগেই বিদাই নিলেন। সেদিন শত চেষ্টা করেও কাঁদতে পারিনি। শুধু হাসি পাচ্ছিলো, বুক ফাটা আর্তনাদের হাসি। হ্যাঁ, আমি কেঁদেছিলাম। রেজাল্টের কিছুদিন আগে। সারারাত কেঁদে পার করেছিলাম। আমার নানু আমার কাছে নেই। নানার পাশে স্ব-মহিমায় শুয়ে আছে। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন! ঘুমোক, অনেক কষ্ট করেছে জীবনে!
১৮ মে, এক্সাম শেষ। বাড়িতে ফিরে যাবার কথা। ফিরলাম না। ১৯ তারিখ, আবারো রয়ে গেলাম। ২০ তারিখ সকাল ৭ টায় মামাতো ভাইয়ের ফোন।
- হ্যালো, কই তুমি?
- বাসায় আছি।
- ভাইয়ারা কই?
- পলাশ ভাইয়া, ওর এক ফ্রেন্ডের ঐখানে গেছে আর সজল ভাইয়া সাথেই আছে। কেন?
- আব্বুর শরীরটা ভাল না। বাসায় আস তো।
গেলাম। ডায়াবেটিকস, বমি হইছে। শরীর চলেনা। ধরাধরি করে নিয়ে গেলাম হাসপাতালে। এখানে হলোনা, ময়মনসিংহ ট্রান্সফার করা হলো। দিন শেষে খবরটা বেশ নাড়িয়ে দেওয়ার মতোই ছিলো। মামাও ওপারের বাসিন্দা হয়ে গেলেন।
রেজাল্ট খারাপ হলো। লাইফের লক্ষ্য তো আরো আগেই গুড়েবালি হয়েছে, এখন ফিউচার ফিউজ হওয়ার মতো একটা রেজাল্ট! ভালোই লাগে বেশ!! কপাল আমার উল্টোদিকে চলা শুরু করছে অনেক আগেই। এখন নতুন করে আর কি হবে? আর কোন রাস্তা হয়তো খোলা নেই। তবে আমি হাঁটা শুরু করবো, রাস্তা ছাড়াই হাঁটবো।
অমানুষ তকমাটা বেশ ভালোই উপভোগ করি এখন। আসলেই তো আমি অমানুষ। যার জীবনে আর কিছু হবার নেই। কিন্ত এই অমানুষ চায়না দুনিয়াতে আরেকটা অমানুষ আসুক। চাইনা আমি কেউ আমার মতো পরিস্থিতির শিকার কোন অমানুষ এ পৃথিবীতে। "শোন সব অমানুষ, এই দুনিয়া তোমাদের জন্য আনফিট"। অমানুষদের ভাল থাকার কোন স্থান নেই এ পৃথিবীতে সর্বত্র তোমাদের জন্য ঘৃণায় ছড়াছড়ি!
জীবনে তেমন কিছু হতে পারিনি। ছোটখাটো স্বপ্ন দেখা একটা সাধারন মানুষ। আর বিশাল বড় কিছু হবার টার্গেটও নেই, শুধু হাতেগোনা কয়েকটা ইচ্ছা ছাড়া।
আমার ভালবাসার মানুষটার এর কাছে হবো আমি প্রশস্ত মনের একজন মানুষ, যে কখনো ছেড়ে যাবেনা। আমার স্ত্রীর কাছে হবো আমি একজন আদর্শ স্বামী, যে বন্ধুর মতো সবসময় তাকে সাপোর্ট করে যাবে আর যার কাছে ভালবাসার কমতি থাকবেনা। ছোটখাটো অভিমান সবসময় লেগেই থাকবে বাট এটা কখনো ঝগড়ায় গড়াবে না। আমার সন্তানদের কাছে হবো আদর্শ বাবা, যে তাদেরকে সমসময় সাপোর্ট করবে আর সকল কাজে হেল্প করবে। একদম আমার আব্বুর মতো বাবা হবোনা। অ্যাট লিস্ট এই চেষ্টাটা করবো যেন আমার সন্তান সবসময় বলতে পারে "মাই ফাদার ইজ মাই ওয়ার্ল্ড"। আমার ফ্যামিলির কাছে হবো একটা বটবৃক্ষ। শীতলতার ছায়া, যে কি না সবার দুঃখগুলো মুছে দিতে পারবে।
অফটপিকঃ জীবন থেকে মানুষ শিক্ষা লাভ করে। ভিন্ন জন ভিন্ন রকমের শিক্ষা পায়। কেউ ভাল থাকার, আবার কেউ ভাল রাখার। কেউ খারাপ থাকার, কেউ দুনিয়াটা নোংরা করার। প্রাথমিক শিক্ষাটা পরিবার থেকেই আসে। পরিবারে ভাল কিছু শিক্ষা পেলে জীবন হয়ে যায় পরিষ্কার, স্বচ্ছ! এখানেই জীবনের গোড়াপত্তন হয়। পরিবারের মূল মানুষদের হতে হয় উদার, যে সবাইকে স্বপ্ন বুনতে সাহায্য করে। যার যেটা পছন্দ সে সেটাই করার স্বাধীনতা পাবে। আসুননা না; সবাই বদলে যাই, বদলে দিই, পরিবর্তনের হাওয়া বইয়ে দিই। না আসুক আর কোন অমানুষ সেই প্রতিজ্ঞা করি।
প্রতিজ্ঞা করুন, ভাল একজন মানুষ হবেন। পবিত্র মনের একজন বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড হবেন। সুন্দর মনের একজন স্বামী/স্ত্রী হবেন। বন্ধুর মতো একজন বাবা/মা হবেন। চলুন, আসতে দেব না আর কোন অমানুষ!
চলুন ঘৃণা করি অমানুষ শব্দটাকে আর ভালবাসি তার মধ্যে থাকা ভাল মানুষটাকে। সুযোগ দিন না একটা অমানুষকে মানুষ হবার!!
:
:
গল্পঃ অমানুষ
:
লিখাঃ Kamruzzaman Anik (ডার্ক ক্লাউড)

16/09/2015

প্রত্যেকটা মানুষের একটা স্বপ্ন থাকে। তার স্বপ্ন, তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন, তার ভাল থাকার স্বপ্ন। সবাই স্বপ্নের পেছনে ছুটে।
এদের মধ্যে কয়েকজন আছে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে তাদের দেখা স্বপ্নের পেছনে ছুটে।
আর কিছু তাদের জীবন থেকে পালাতে স্বপ্নের পেছনে ছুটে। অনেক দূরে, তাদের স্বপ্নে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে চায়। এত দূর, যেখানে তাদের আগের জীবনের কোন চিহ্ন না থাকে।
আর এই ফাঁদে পা দিয়ে কেউ খেয়াল করেনা যে সে সঠিক কাজটি করছে না ভুল! শুধু ছুটে চলে তাদের জীবন থেকে দূরে। অনেক অনেক দূরে!
'
'
By: Kamruzzaman Anik (ডার্ক ক্লাউড)

13/09/2015

"সত্যের জন্য সব কিছুকে ত্যাগ করা চলে, কিন্তু কোন কিছুর জন্য সত্যকে বর্জন করা চলে না" !!!
-স্বামী বিবেকানন্দ"

Address

Union: Nazirpur; Vill: Haripur PO: Anandapur
Kalmakanda
2430

Telephone

1614362636

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when LCAnik.info posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share