কামরুজ্জামান'

কামরুজ্জামান' "যা নীরবে দেখি, তারই ছাপ রেখে যাই
কবিতা, ছবি ও ভাবনায়।"

খোলা আকাশ, আবছা অন্ধকার,চারিদিকে নিরব নিথর, কোথাও কেউ নেই,তার মধ্যে চেনা অচেনা কত শব্দ,কেউ তাকে দেখছে না জেনেও সে ফুটেছে...
20/08/2026

খোলা আকাশ, আবছা অন্ধকার,
চারিদিকে নিরব নিথর, কোথাও কেউ নেই,
তার মধ্যে চেনা অচেনা কত শব্দ,
কেউ তাকে দেখছে না জেনেও সে ফুটেছে,
সে ফুটেছে তার প্রয়োজনে.....

ছবি: কামরুজ্জামান
সময়: 11:05 pm

18/08/2026

প্রথম প্রেম ছিল লাজুক বিকেলের মতো,
চোখে চোখ রাখলেই কাঁপতো নিঃশ্বাস।
ছোট ছোট কথায় জমে উঠতো
এক পৃথিবী ভরা ভালো লাগা।

প্রথম প্রেম হয়তো জীবনের গল্পে সবচেয়ে দীর্ঘ অধ্যায় নয়, কিন্তু তার স্মৃতিটাই অনেক সময় সবচেয়ে গভীর হয়ে থেকে যায়।

লেখক: আজমল হোসাইন অপূর্ব
পাঠ: কামরুজ্জামান

#প্রথমপ্রেম #আজমলহোসাইনঅপূর্ব #বাংলাসাহিত্য #বাংলালেখা #প্রেম #ভালোবাসা #প্রেমেরকথা #স্মৃতি #অনুভূতি #কবিতা #বাংলাকবিতা #সাহিত্যপ্রেমী #ভালোবাসারঅনুভূতি #প্রথমভালোবাসা

পুরনো ছবিগুলো এক একটা করে দেখতে দেখতে এই ছবিটা সামনে আসলো, কিছুক্ষণের জন্য থেমে গেলাম। ছবিটার মধ্যেই যেন নিজের শৈশবকে খু...
13/08/2026

পুরনো ছবিগুলো এক একটা করে দেখতে দেখতে এই ছবিটা সামনে আসলো, কিছুক্ষণের জন্য থেমে গেলাম।
ছবিটার মধ্যেই যেন নিজের শৈশবকে খুঁজে পেলাম আবার, সেদিন যে স্মৃতিগুলোর মূল্য সেদিন বুঝিনি, কিন্তু আজ মনে হয় ওগুলোই ছিল আমার জীবনের সবথেকে সোনালী সময়, ওগুলোই ছিল আমার জীবন....

মাছ ধরা নিয়ে কত কত সুন্দর সুন্দর স্মৃতিই না রয়েছে।
লেখা শুরু করলে শেষ হবেনা.....

শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি যখন শেষ হয়ে শনিবার স্কুল খুলতো, অপেক্ষা করতাম আবার কবে বৃহস্পতিবার আসবে, কারণ বৃহস্পতিবার হাফ স্কুল, দুপুরের পরপরই স্কুল ছুটি হয়ে যাবে। ছুটির ঘন্টা বাজতেই পায়ে যেন ডানা গজাতো সেদিন.... ছুটে আসতাম বাসায়।

বাসায় ফিরে কাঁধ থেকে ব্যাগ ছুড়ে ফেলতাম খাটের উপর।
ভাত খাওয়ার কোনো ধৈর্য থাকতো না সেদিন, আধপেটা বা খালি পেটেই ছিপ কাঁধে নিয়ে দে দৌড়। পিছন থেকে মায়ের মমতার ডাক " খেয়ে যা! খেয়ে যা!"

কোনো কোনোদিন তাড়াহুড়োতে মাছ রাখার পাত্র নিতে ভুলে গিয়েছি, কোনোদিন আবার মাছের খাবার,
সেটা নিয়ে আবার কি বিড়ম্বনা!
জমির আইল খুঁড়ে খুঁড়ে কাদা মেখে কেঁচো খোঁজা, অথবা পাষান বন্ধুর কাছে অনুনয়-বিনয় করে কেঁচো ধার চাওয়া, কেঁচোও যে কত মূল্যবান হতে পারে সেই অনুভূতি পাষণ্ডের সেই ব্যবহারে সেদিন বুঝেছি।

কখনো কখনো আবার কাঙ্খিত জায়গায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে নেমে এসেছে সন্ধ্যা, তারপর হয়তো সাথে করে দুই একটা মাছ নিয়ে ফিরেছি বাসায় নয়তো খালি হাতে, আসতে আসতে বন্ধুদের সাথে কত কথা,কত তর্ক, আগামীকালকের জন্য কত কত পরিকল্পনা।

এক এক জনের এক, এক প্রস্তাব। কেউ বলেছে এ মাঠে তো কেউ বলেছে ও মাঠে, কেও বলেছে আগামীকাল খুব সকালে উঠে খালে যেতে হবে, এভাবেই রাস্তাজুড়ে চলেছে পরিকল্পনার পর পরিকল্পনা। এভাবেই গল্প করতে করতে বাসায় ফিরেছি, ততক্ষণে পৃথিবীর গায়ে নেমে এসেছে রাতের চাদর।

তারপর শুধু রাত পোহানোর অপেক্ষা। ভোর হতে না হতেই শুরু হয়ে যেত ব্যস্ততা—কেঁচো খোঁড়া, ভালো একটা পাত্র বাছাই, সাথে একটা গামছা। আর মায়ের সেই চিরচেনা মমতামাখা আদেশ , "ওরে কিছু খেয়ে যা! কিছু খেয়ে যা" কিন্তু কে শোনে কার কথা,সকাল সকাল পৌঁছাতেই হবে যে! না খেয়েই দৌড় লাগাতাম বন্ধুর বাড়ির দিকে।

অনেক দূরের পথ, যদি কোন ভাবে ছিপের সুতা কেটে যাই, বড়শি হারিয়ে যায়, সেই প্রস্তুতি নিতে যেন কোনভাবেই ভুল হতো না সেই ব্যস্ততার মাঝেও। কারণ সেদিনের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া, যেখানে যাচ্ছি সেখানে যেন মাছেরা ঝাকে ঝাকে খেলা করে। সরল মনের কি বিশ্বাস! কি প্রত্যাশা!

খালের ধারে পৌঁছেই শুরু হতো আসল গবেষণা,
মাছের সাইকোলজি বুঝে জায়গা নির্ধারণ করা।
এই জায়গা বেশি ঝোপালো, রোদ্রের মধ্যে মাছ এখানে এসে হয়তো বিশ্রাম করবে, আরো কত কি।

ছিপ মাটির উপর রেখে শুরু হতো বড়শিতে কেঁচো গাঁথা, সে সময় যদি কেউ ছিপ ডিঙিয়েছে তো তার সাথে বেঁধে যেতো হলুস্থুল কান্ড, সরল মনে কে বা কারা ঢুকিয়ে দিয়েছে এ বিশ্বাস, ছিপ ডিঙ্গালে মাছ হয় না সেদিন।

প্রস্তুতি শেষে পানিতে ছিপ ফেলে শুরু হতো আসল অপেক্ষা ,যদি পাশের বন্ধুর ছিপে আগেভাগে মাছ উঠেছে তো ভিতরে জ্বালা উঠেছে হিংসায়।
অপেক্ষা করতে করতে যখনই সুতায় টান লেগেছে মনে হয়েছে হয়তো এখানকার সব থেকে বড় মাছটা এখন আমার বড়শি গিলছে, কত সতর্কতা,কত কৌশলী টান।
যেভাবেই হোক মাছটাকে উঠাতেই হবে।

কখনো উঠেছে, আবার কখনো উঠেও হাত ফসকে পানিতে পড়েছে, তখন মনটা মলিন হয়ে গিয়েছে আবার। তারপরও প্রত্যাশা হারায়নি, আবার চেষ্টা,আবার টানের অপেক্ষা, কখনো কখনো মাছ না পেয়ে বিধাতার প্রতি কত অভিমানের সংলাপ, কত অলিখিত অভিযোগ, সে সব হাসির কথা নাইবা বললেম।

আর যেদিন মাছ রাখার পাত্রে অনেকগুলো মাছ ধরা পড়েছে সেদিন আমায় পায় কে, আমিই যেন রাজার রাজা সেদিন, মুখে কি হাসি, মাছ না পাওয়া বন্ধুকে খুব নরম ভাবে পচানো, সহানুভূতি দেখিয়ে দু একটা মাছ তাকে দেওয়া।

যখন প্রায় সন্ধ্যা নামার উপক্রম তখন বাসায় ফেরার প্রস্তুতি শুরু,বাসায় গিয়ে সবার আগে মাকে গিয়ে দেখাবো, বলব দেখো কত মাছ ধরেছি আজকে,মা খুব খুশি হবেন।
কিন্তু বেশিরভাগ সময় হতো হিতের বিপরীত, সন্ধ্যা করে ফেরার কারণে কত ঝড় ঝাপটা বয়ে যেত। তারপরও মা তো! সন্তানের এমন চেষ্টায় সেও খুব আনন্দ পেত, হয়তো রাগ ভেঙ্গে বলেই ফেলতো "অনেক মাছ হয়েছে তো আজ"

আবার,যদি কোনোদিন হঠাৎ বৃষ্টি নেমেছে, ছিপ পেতে রেখে কোন তালগাছ বা বড় গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছি, কোনভাবে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা, দু এক বন্ধু বলেছে বৃষ্টি হলে নাকি মাছেরা আনন্দে মেতে ওঠে, তখন তারা নাকি বরশি গেলে না। এই বিশ্বাসে বৃষ্টি আসলে মনটা খারাপ হয়ে যেত আর বুঝি মাছ সেদিন বরশি গিলবে না, খালি হাতে বাসায় ফিরতে হবে।

আবার কোনদিন, বড়শিতে যখন ভারী টান অনুভব করেছি বুঝতে বাকি নেই এই বরশি গিলেছে, সর্বনাশা কোনো অপদ, সাপ নয়তো গুইসাপ। কখনো ভয় পেয়ে বড়দের সাহায্য চেয়েছি।
বড়শির সাথে যদি কোনোভাবে ডাঙ্গায় উঠেছে, তো তার আর রক্ষা নেই, এক একটা বন্ধু হয়ে উঠেছে এক একটা আজরাইল। এক একটা যমদূত।

আহ ! কি সময়টাই না কাটিয়েছি সেদিন।

দেখতে দেখতে জীবনের মাঝামাঝি সময়ে চলে এসেছি। কিন্তু আজও কাউকে মাছ ধরতে দেখলে মনটা ফিরে যায় সেই দিনগুলোতে। মনে হয়, একবার হলেও তার হাত থেকে ছিপটা নিয়ে সেই পুরনো টানটা আবার অনুভব করি.......

১০ সেকেন্ডের মনোযোগের এই যুগে কেউই এত বড় লেখাপড়বে না জেনেও কেন যে লিখে ফেললাম জানিনা, তারপরও লিখতে মন চাইলো লিখলাম।
আর যদি কেউ পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে আপনার অনুভূতি জানিয়ে যাবেন,
এমন একটা সোনালী দিন কি আপনি পার করেছেন? এমন একটা টান কি আপনি শৈশবে অনুভব করেছেন?

লেখা ও ছবি : কামরুজ্জামান।

কবিতা: বিলীন লেখা: কামরুজ্জামান। একদিন তোমাকে ভালোবেসেছিলাম,যেমন শীতের শেষে নদী তার পুরোনো কুয়াশাকে ভালোবাসে,যেমন সন্ধ্...
12/08/2026

কবিতা: বিলীন
লেখা: কামরুজ্জামান।

একদিন তোমাকে ভালোবেসেছিলাম,
যেমন শীতের শেষে নদী তার পুরোনো কুয়াশাকে ভালোবাসে,
যেমন সন্ধ্যার মাঠে একা পাখি
শেষ আলোটুকু বুকে নিয়ে ফিরে যায় ভাঙা নীড়ে।

তখন মনে হতো,
তোমার মুখটি একে রাখি চোখের পাতার নিচে কালি দিয়ে।
গভীর কোনো ঘুমের ভেতর,
পৃথিবীর সব আলো নিভে গেলেও যেনো তোমাকে দেখতে পাই অবলীলায়।

তুমি শুধু একবার চোখ তুললেই
আমি কত কথা বুঝে নিতাম;
একটি পাপড়ির সামান্য কাঁপনে
আমাদের সমস্ত নীরবতা অর্থ খুঁজে পেত।

তারপর একদিন, হয়তো খুব সামান্য সময়ের জন্যই ,
আমি চোখের পাতা ফেললাম।
চোখ খুলে দেখি, তুমি কোথাও নেই!
বাইরে বৃষ্টি পড়ছে;
জানালার কাঁচে শহরের আলো ভেঙে যাচ্ছে,
আর আমার ভেতর থেকে
একটি পুরোনো ঋতু নিঃশব্দে সরে যাচ্ছে বহুদূর।

তোমার আঙুলে যে প্রতিশ্রুতির আংটি পরিয়েছিলাম,
সেই গোলাকার ধাতুর ভেতর আমি নিজেরই এক অদৃশ্য শিকল দেখতে পেলাম।

সময় চলে গেল-
আর আমরাও পাশাপাশি থেকেও
নদীর দুপারে চলে গেলাম দুজন।
তুমি তোমার তীরে,
আমি আমার আমার তীরে।

তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি বলে
দ্বিধা ভেঙে তবুও বলেছিলাম “ভালোবাসি”

কী আশ্চর্য,
কখনো কখনো একটি মিথ্যা ভালোবাসার শব্দও
সত্যিকারের ছুরির চেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।

এখন মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে মনে হয়,
আমি কি তোমাকে সত্যিই ভালোবাসতাম?
তুমি কি সত্যি ভালোবাসতে আমায়?

নাকি আমরা দুজনেই একটি মৃত ঋতুর পাশে বসে
তার উষ্ণতার কথা মনে করতাম?

জানালার বাইরে রাত গভীর হয়;
দূরে কোনো অচেনা পাখি ডাকে,আমি বুঝে যায়;

কিছু সম্পর্ক থেকে যায় কেবল চোখের পলকের আড়ালে;
চিরচেনা মুখটি দেখা যায় না আর......

(কোন লাইনটা সব থেকে ভালো লেগেছে
জানাতে ভুলবেন না)

10/08/2026

ঘুম থেকে উঠে ফোনটা হাতে নিয়েই দেখি লেখাটা নিউজফিডে ভাসছে, অজ্ঞাতনামা একটা লেখা কবির নাম কবিতার নাম কোনোটাই নেই। কি মনে হলো ফোনের রেকর্ডিং চালু করে একটা ভয়েস অভার দিলাম। প্রথম চেষ্টাতেই যেটুকু হলো সেটুকুই নিয়েই অন্যান্য কাজ শুরু করলাম।

কেমন হয়েছে জানাবেন।

তবে হ্যাঁ নিজের মত একটা নাম দিয়ে দিয়েছি, নামহীন কবিতা শূন্য শূন্য লাগে।

কবিতা: অসমাপ্ত অঙ্ক
পাঠ : কামরুজ্জামান
মিউজিক কৃতজ্ঞতা: Krishna Das

#কামরুজ্জামানের_পাঠ #কবিতা #বাংলাকবিতা

রেলপথ দূরে চলে গেছে,যেন সময়েরই কোনো নীরব অভ্যাস। আমি শুধু দাঁড়িয়ে আছি; আকাশের নীল আর গাছের সবুজের ভেতরনিজের অদেখা পথট...
07/08/2026

রেলপথ দূরে চলে গেছে,
যেন সময়েরই কোনো নীরব অভ্যাস।
আমি শুধু দাঁড়িয়ে আছি;
আকাশের নীল আর গাছের সবুজের ভেতর
নিজের অদেখা পথটুকু খুঁজে নিতে।....

05/08/2026

তাহাকে ধরিয়া রাখিলে হয়তো রাখিতে পারিতাম, কিন্তু সে চেষ্টা করিলাম না। সেও আর ফিরিয়া আসিল না—আমারও যতক্ষণ না ঘুম আসিল, শুধু এই কথাই ভাবিতে লাগিলাম।

জোর করিয়া রাখিয়া লাভ হইত কি?

— শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

-------------------------------------------------
উপন্যাস : শ্রীকান্ত
লেখক: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
পাঠ: কামরুজ্জামান
মিউজিক কৃতজ্ঞতা: Krishna Das

01/08/2026

"অপ্রাপ্তির কারণটা আমি নিজেই"
লেখা : Ashraf Ahmed
পাঠ: কামরুজ্জামান

সম্প্রীতি উনার লেখার সাথে আমার পরিচয়, খুব অল্প সময়ে হয়ে উঠছে সখ্যতা,প্রথমবারের মতো আপনার লেখা পাঠ করার দুঃসাহস করলাম, ত্রুটিগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

22/07/2026

বসন্ত নয় অবহেলা।
কবি: দর্পণ কবির
পাঠ: কামরুজ্জামান'

“স্নেহের গভীরতা কখনোই কালের স্বল্পতা দিয়ে মাপা যায় না।”এই বিষয়টি নিয়ে কবিরা শুধু শূন্য কল্পনা করেননি। সংসারে এর সত্য...
20/07/2026

“স্নেহের গভীরতা কখনোই কালের স্বল্পতা দিয়ে মাপা যায় না।”

এই বিষয়টি নিয়ে কবিরা শুধু শূন্য কল্পনা করেননি। সংসারে এর সত্যতা প্রতিনিয়ত দেখা যায়। তাই, একজনের চলে যাওয়ার প্রয়োজন যেমন সত্য, তেমনি অন্যজনের আকুল কণ্ঠে তাকে থেকে যাওয়ার আন্তরিক অনুরোধও সমান সত্য। এ নিয়ে আমার মনে বিন্দুমাত্রও সংশয় জাগেনি।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(শ্রীকান্ত)

এই কয়েকটি বাক্যের মধ্যেই যেন মানুষের সম্পর্কের এক চিরন্তন সত্য ধরা আছে। আমরা প্রায়ই মনে করি, দীর্ঘদিনের পরিচয় মানেই গভীর সম্পর্ক। অথচ বাস্তব জীবন বারবার দেখিয়ে দেয়, সম্পর্কের গভীরতা সময়ের দৈর্ঘ্যে নয়, অনুভূতির তীব্রতায় মাপা হয়। কখনো অল্প সময়েই একজন মানুষ আমাদের জীবনে এমন এক স্থান করে নেন, যা বহু বছরের পরিচয়ও স্পর্শ করতে পারে না।

জীবনের আরেকটি নির্মম সত্য হলো, সব বিদায় ভালোবাসার অভাব থেকে আসে না। অনেক বিদায় আসে দায়িত্বের কারণে, পরিস্থিতির কারণে, কিংবা জীবনের অনিবার্য গতির টানে। আবার যে মানুষটি প্রিয়জনকে থেকে যেতে বলে, তার আকুলতাও কোনো দুর্বলতা নয়। সেটিও ভালোবাসারই এক নির্মল ও স্বাভাবিক ভাষা। তাই একজনের চলে যাওয়া যেমন সত্য, তেমনি অন্যজনের তাকে হারাতে না চাওয়াও সমান সত্য। জীবন প্রায়ই এমন দুই সত্যকে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে দেয়, যেখানে কোনো পক্ষই পুরোপুরি ভুল নয়।

এই কারণেই শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আমার সবচেয়ে প্রিয় লেখকদের একজন। তাঁর লেখার শক্তি কেবল গল্প বলায় নয়, মানুষের অন্তর্জগতকে অবলীলায় ভাষা দেওয়ায়। তিনি এমনভাবে জীবনকে দেখেছেন, যেন সাধারণ মানুষের নীরব অনুভূতিগুলোও তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। তাই তাঁর শব্দচয়ন কখনো আড়ম্বরপূর্ণ নয়, অথচ প্রতিটি বাক্য পাঠকের ভেতরে দীর্ঘ প্রতিধ্বনি তোলে।

আমার কাছে শরৎচন্দ্রের সবচেয়ে বড় শিল্প এই যে, তিনি দর্শনকে আলাদা করে শেখান না। তিনি গল্প বলেন, আর সেই গল্পের ভেতর দিয়েই জীবনকে বুঝতে শেখান। তাঁর সহজ-সাবলীল ভাষা, সূক্ষ্ম উপমা আর মানবমনের গভীর পর্যবেক্ষণ সাধারণ কথাকেও অসাধারণ করে তোলে। তাই তাঁকে শুধু পড়া যায় না, প্রতিবার নতুন করে অনুভব করা যায়।

ছবি : কামরুজ্জামান

Address

Jessore, Khulna
Jessore
7400

Telephone

+8801714800390

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when কামরুজ্জামান' posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category