02/03/2025
শেষ বিকেলের ভালোবাসা
বিকেলবেলা শহরের পার্কটা বেশ নির্জন থাকে। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে রোদের শেষ আলো মাটিতে ছায়া ফেলছে। একটা বেঞ্চে বসে আছে নায়লা, হাতে পুরোনো একটা ডায়েরি। সে আসলে অপেক্ষা করছে—ফারহানের জন্য।
ফারহান ও নায়লার পরিচয় কয়েক বছর আগে, এক কলেজের অনুষ্ঠানে। প্রথম দিন থেকেই তাদের বন্ধুত্বটা অন্যরকম ছিল—একটা অদ্ভুত বোঝাপড়া, যেখানে কথার চেয়ে নীরবতাই বেশি কথা বলত।
কিন্তু জীবন তো সবসময় মনের মতো চলে না। কলেজ শেষের পর ফারহান হঠাৎ করেই বিদেশে চলে যায়। যাওয়ার আগে শুধু বলেছিল, "একদিন ফিরব, তোমার জন্য।"
নায়লা অপেক্ষা করেছে। প্রথম কয়েক মাস চিঠি লিখত, কিন্তু উত্তর আসেনি। ধীরে ধীরে তার মনে হতে লাগল, ফারহান হয়তো ভুলে গেছে। তবুও, কোনো এক অজানা আশায় প্রতিদিন এই পার্কে এসে বসে থাকত।
আজও সে এসেছে, ঠিক আগের মতোই। কিন্তু আজকের দিনটা অন্যরকম লাগছে। বাতাসে এক ধরনের উত্তেজনা, যেন কিছু একটা হতে যাচ্ছে।
হঠাৎ পেছন থেকে পরিচিত এক গলা—
"নায়লা!"
সে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।
ফারহান! পাঁচ বছর পরও তাকে একদম আগের মতোই লাগছে, শুধু চোখে একটু ক্লান্তি আর মুখে পুরনো স্মৃতির ছাপ।
নায়লার চোখে বিস্ময়, অভিমান আর আনন্দের মিশ্র অনুভূতি।
"তুমি এসেছ?" তার কণ্ঠ কাঁপছিল।
ফারহান হেসে বলল, "বলেছিলাম না, একদিন ফিরব?"
নায়লা চুপ করে রইল। পাঁচ বছর ধরে জমে থাকা হাজারটা প্রশ্ন, অভিমান, অভিযোগ—সব যেন এক মুহূর্তে হারিয়ে গেল।
ফারহান তার দিকে একটা ছোট বাক্স বাড়িয়ে দিল।
"এটা তোমার জন্য।"
নায়লা ধীরে ধীরে খুলল। ভিতরে একটা আংটি!
ফারহান গভীরভাবে তার চোখে তাকিয়ে বলল, "এবার আর হারিয়ে যাব না, নায়লা। চলো, নতুন করে শুরু করি?"
নায়লার চোখ ভিজে এল, কিন্তু সে হাসল। একদম সেই আগের দিনের মতো।
সূর্য ডুবে যাচ্ছে, আকাশ লাল হয়ে উঠেছে। আর সেই লাল আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে দুটো হাত একসাথে জড়িয়ে গেল—ভালোবাসার নতুন শপথে।
শেষ।