07/08/2025
“চোখে চোখে”
অর্ণব।
প্রতিদিন ক্লাসে আসে, সবার সঙ্গে মিশে চলে, কিন্তু কিছু একটা আলাদা।
হয়তো তার হালকা হাসি, হয়তো ক্লাসে চুপচাপ বইয়ের পাতায় ডুবে থাকা মনোযোগ—নিশাতের চোখে সে একেবারে অন্য রকম।
প্রথম দিনই দেখে মুগ্ধ হয়েছিল নিশাত।
একদম বইয়ের মতো, সেই নায়কদের মতো—যারা চিৎকার করে প্রেম করে না, বরং নীরবে অনুভব করায়।
নিশাত কিছু বলত না। শুধু লুকিয়ে লুকিয়ে তাকাত।
লাঞ্চ ব্রেকে কোথায় বসে, কার সঙ্গে হাঁটে, কোন কলম ব্যবহার করে—সবই যেন নিশাতের নজরে।
কখনও ভাবত—একদিন বলেই দেবে,
“তোমাকে দেখলেই মনে হয়, দিনটা একটু ভালো যাবে।”
কিন্তু সাহস কই?
একদিন ল্যাব ক্লাসে হঠাৎ করেই তারা এক গ্রুপে পড়ে গেল।
অর্ণব পাশে এসে বসলো। নিশাতের বুকের মধ্যে তখন বাজছে এক রকম ছোট্ট যুদ্ধ।
– “তোমার নাম নিশাত, তাই না?”
– “হ্যাঁ… তুমি কী করে জানো?”
– “তোমাকে অনেকদিন ধরেই দেখছি। তুমি খুব চুপচাপ থাকো, কিন্তু চোখ সব বলে দেয়।”
নিশাতের মুখ গরম হয়ে উঠল, মাথা নিচু করে বলল,
– “তুমি তাহলে দেখো?”
– “হ্যাঁ,” অর্ণব হেসে বললো, “প্রতিদিন।”
সেই মুহূর্তটা যেন একদম সিনেমার মতন।
এরপর থেকে তারা আর একে অপরের দিকে লুকিয়ে তাকায় না।
চোখে চোখ পড়লে দু’জনেই হেসে ফেলে।
ভালোবাসা হয়তো বলা হয়নি এখনো।
কিন্তু যে অনুভবটা একসাথে থাকা মানে, সেটাই তো সবচেয়ে সুন্দর প্রেম।
দ্বিতীয় পর্ব শীঘ্রই আসবে