29/07/2026
ক্ষমা করে দিও আমাদের…
কারন আমরা নার্স..🥺
ক্ষমা করে দিও—
যখন হরতাল, অবরোধ, বন্যা কিংবা দুর্যোগে মানুষ সময়মতো অফিস-আদালতে পৌঁছাতে পারে না, কিন্তু হাসপাতালের অসুস্থ রোগীরা যেন সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়—সেই দায়িত্বে নার্সরা ঠিকই সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছে যায়।
ক্ষমা করে দিও—
করোনা মহামারির সময়, কাঁচের ব্যারিকেডের ওপাশে না থেকে ,সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকি জেনেও আমরা রোগীর একেবারে পাশে দাঁড়িয়ে সেবা দিয়েছিলাম।
৬ মাস, ১ বছরের ছোট্ট সন্তানকে বাসায় রেখে, Quarantine-এ থেকে রোগীদের সেবা দিতে গিয়েছিলাম।
ক্ষমা করে দিও—
হাসপাতালে শিশুদের জন্য কোনো Child Care Center না থাকায়, দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে বাসায় রেখে আমরা প্রতিদিন আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাই।
ক্ষমা করে দিও—
জাতিসংঘের সুপারিশ অনুযায়ী পর্যাপ্ত নার্স না থাকা, অতিরিক্ত রোগীর ভিড়, সীমিত সম্পদ আর অসহনীয় ওয়ার্কলোডের কারণে আদর্শ সেবা দেওয়া সম্ভব না হলেও, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু চালিয়ে যাই।
ক্ষমা করে দিও—
যখন আমাদের Capacity-এর বহু বাইরে, পর্যাপ্ত জনবল, Equipment ও Supply ছাড়াই আমরা প্রতিদিন সেবা দিয়ে যাই।
ক্ষমা করে দিও—
যখন হাসপাতালের আলমারিতে বছরের পর বছর ভিআইপি-দের জন্য বেডশিট তালাবদ্ধ থাকে, অথচ সাধারণ রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি থেকেই যায়।
ক্ষমা করে দিও—
যখন বেতন, Bonus, Transfer, Promotion, Pension কিংবা যেকোনো প্রশাসনিক কাজের অনুমোদনের প্রতিটি ধাপে হয়রানি, অনিয়ম কিংবা ঘুষের চাপ নীরবে সহ্য করে; কোনো প্রতিবাদ না করে রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
ক্ষমা করে দিও—
সারাজীবন উচ্চশিক্ষা নিয়ে, এমনকি নার্সিংয়ে পিএইচডি শেষ করেও কোনো পদোন্নতি ছাড়া এন্ট্রি লেভেলেই অবসর নিতে হয়—এমন তীব্র মানসিক চাপ নিয়েও আমরা নিরলস সেবা দিয়ে যাই।
ক্ষমা করে দিও—
যখন সব মানসিক কষ্ট, অপমান, ক্লান্তি আর চাপ বুকের ভেতর লুকিয়ে রেখে, রোগীর সেবা করে যাই।আমরা প্রতিদিন চেষ্টা করি আমাদের সর্বোচ্চটুকু দিতে।আমাদের ভুল থাকলে ক্ষমা করে দিও।
যদি দরকার মনে হয় নার্সিং পেশাটা বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত করে দাও, কিন্তু আমাদের ত্যাগ, সংগ্রাম, মানবিকতা আর পেশাগত মর্যাদাকে অবহেলা কোরো না।
— একজন বাংলাদেশি নার্স