10/10/2025
লে. কর্নেল (অব.) মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান: সেনাবাহিনী-বিরোধী প্রচারণার আড়ালে এক ভিন্ন উদ্দেশ্য
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন এক চরিত্রে পরিণত হয়েছেন, যিনি সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধান ও বর্তমান দায়িত্বশীল অফিসারদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বিষোদগার করছেন।
তার সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্ট ও ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে—তিনি সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিষয়, কর্মকর্তাদের নাম ধরে অপমান করছেন, এমনকি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ ছুঁড়ে দিচ্ছেন।
একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে এমন আচরণ শুধু দায়িত্বহীন নয়—এটি উদ্দেশ্যমূলক, পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক।
⚙️ ১. খালেদা জিয়ার বাড়ি উচ্ছেদে সক্রিয় ছিলেন মুস্তাফিজ
২০১০ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্ট বাসা উচ্ছেদ অভিযানে মোস্তাফিজুর রহমান সরাসরি অংশ নেন।
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে তিনি সেই অভিযানে অতি উৎসাহী ভূমিকা পালন করেন এবং বাড়ির ভেতরে প্রবেশ পর্যন্ত করেন—এমন তথ্য পরে গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়।
অর্থাৎ, খালেদা জিয়ার প্রতি আজকের তার “সহানুভূতি” আসলে কৃত্রিম; রাজনৈতিক অবস্থান বদলে নিজেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখার এক উদাহরণ মাত্র।
🎖️ ২. শেখ হাসিনার কাছ থেকে পুরস্কার নিয়েছিলেন
২০১৬ সালে সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পদক গ্রহণ করেন।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ২০২১ ও ২০২৫ সালে তিনি সেই পুরস্কার গ্রহণের ছবিটি নিজের ফেসবুকে গর্বের সঙ্গে পোস্ট করেন—এমনকি কভার ফটো হিসেবেও ব্যবহার করেন।
শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার নেওয়া ব্যক্তি আবার হাসিনা বিরোধী হয় কী করে!
📉 ৩. সেনাবাহিনীতে ছিলেন গড়পড়তা অফিসার, পদোন্নতিতে ব্যর্থ
২৪তম বিএমএ লং কোর্সের অফিসার হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীতে কখনোই “অসাধারণ” ছিলেন না।
সেনা সূত্র মতে, তিনি দুইবার পদোন্নতি বোর্ডে ব্যর্থ হন।
পরবর্তীতে তোষামোদি ও সম্পর্কের জোরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন, কিন্তু তাতেও তাঁর ক্যারিয়ার বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।
তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও ব্যক্তিগত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে, তদন্ত শুরু হয়—আর তখনই তিনি বিদেশে চলে যান।
অর্থাৎ, যতোটুকু যোগ্যতা ছিল, ততোটুকুই পেয়েছিলেন; সেনাবাহিনীতে ব্যর্থ হয়েই এখন বাহিনী ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আক্রোশ উগড়ে দিচ্ছেন।
🔁 ৪. একসময় ওয়াকারের প্রশংসা, এখন বিষোদগার
১১ জুন ২০২৪ তারিখে কণক সরওয়ারের টকশোতে মুস্তাফিজ বলেছিলেন—
“জেনারেল ওয়াকার উজ জামান একজন ভিন্নধারার অফিসার, সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবেন।”
কিন্তু দুই মাসের মধ্যেই সেই প্রশংসা উল্টে গেল বিষে ভরা সমালোচনায়।
এখন তিনি জেনারেল ওয়াকারকে নিয়ে কটাক্ষ করে লিখছেন—“ওয়াকার মাস্ট গো”, এমনকি সরাসরি তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলছেন।
এমন দ্রুত অবস্থান বদল ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও জনপ্রিয়তার লোভ ছাড়া আর কিছু নয়।
⚠️ ৫. মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও স্মৃতিভ্রংশের স্বীকারোক্তি
মোস্তাফিজ নিজেই একাধিকবার ভিডিওতে স্বীকার করেছেন—
“আমার মানসিক অবস্থা ভালো না” এবং “আমি একেক সময় একেক কথা বলি।”
তার বক্তব্যগুলোতেও দেখা যায়, একই বিষয়ের ওপর পরস্পরবিরোধী মন্তব্য।
একবার বলেন “প্রধানমন্ত্রী দেশে নেই”, পরের ভিডিওতে বলেন “তিনি দেশে ফিরেছেন”—এমন অসংলগ্ন কথাবার্তাই প্রমাণ করে, তিনি মানসিকভাবে অস্থিতিশীল এবং নিজের কথার দায় নিতে সক্ষম নন।
একজন প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের অস্থির আচরণ কেবল লজ্জাজনকই নয়, বরং বিপজ্জনকও।
💰 ৬. ‘ভিউ ব্যবসা’ই এখন আসল কাজ
যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান এখন ইউটিউব ও ফেসবুক লাইভকে বানিয়েছেন আয়ের উৎস।
ভিডিও ভিউ বাড়াতে তিনি সরকার ও সেনাবাহিনী সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর গল্প বানান।
তার বক্তব্যে দেখা যায় নাটকীয়তা, বিকৃত তথ্য এবং সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে উস্কানি।
এভাবে তিনি কেবল জনপ্রিয়তা নয়, রাজনৈতিক আশ্রয় ও বিদেশি সহানুভূতিও পেতে চান।
তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ নয়—‘গুজব-বাণিজ্য’ই তার মূল ব্যবসা।
আর সেই গুজবের পেছনে লুকিয়ে আছে এক গভীর রাজনৈতিক পরিকল্পনা:
দেশের সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করে রাষ্ট্রের ভিত দুর্বল করা।
🪖 ৭. বর্তমান অফিসারদের বিরুদ্ধে লিখে সেনাবাহিনীর মনোবল ভাঙছেন
তার সাম্প্রতিক পোস্টগুলোতে দেখা যায়—তিনি নাম ধরে সেনা অফিসারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন,
কেউ ‘ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্ট’, কেউ ‘গুমে জড়িত’, কেউ ‘দুর্নীতিবাজ’।
এই অভিযোগগুলোর কোনো প্রমাণ নেই, নেই নথি বা তথ্যসূত্র।
তবুও তিনি এসব কথা ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি ও সন্দেহের পরিবেশ তৈরি করছেন।
একজন অবসরপ্রাপ্ত অফিসার হয়েও তিনি বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন—যা স্পষ্টভাবে মনোবল ভাঙার প্রচেষ্টা।
🔍 উপসংহার: সেনাবাহিনী বিরোধিতা নয়, এটা ব্যক্তিগত প্রতিশোধ
লে. কর্নেল (অব.) মোঃ মুস্তাফিজুর রহমানের বর্তমান কর্মকাণ্ড কোনো মতপ্রকাশ নয়—এটি এক সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের অংশ।
একসময় সেনাবাহিনীর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, খালেদা জিয়ার বাড়ি উচ্ছেদে নেতৃত্ব দিয়ে, শেখ হাসিনার কাছ থেকে পুরস্কার নিয়ে,
আজ তিনি সেই সেনাবাহিনীরই বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন—এটা কেবল দ্বিচারিতা নয়, এটা বিশ্বাসঘাতকতা।
তিনি “সত্য বলার” নামে আসলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, “বিশ্লেষণ” করার নামে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন,
আর “দেশপ্রেম” নামে ব্যক্তিগত হতাশা ও ক্ষোভকে বিক্রি করছেন।
এই ধরনের ব্যক্তি শুধু নিজের নয়—দেশের ভাবমূর্তিরও ক্ষতি করেন।
জনগণের উচিত এমন “ভিউ-সৈনিক”দের মিথ্যা নাটক না দেখা,
বরং প্রশ্ন করা—যে নিজের বাহিনীর প্রতি বিশ্বাস রাখতে পারে না, সে কাকে ভালোবাসে—দেশকে, নাকি ভিউকে❓