26/07/2025
পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের ‘সুচিত্রা সেন ছাত্রীনিবাস’ এর নাম পরিবর্তন করে ‘জুলাই ৩৬ ছাত্রীনিবাস’ করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
মহানায়িকা সুচিত্রা সেন এমন একজন অভিনেত্রী, ফেসবুকে যার একটা সিনেমার অংশ দেখার পর ঐ সপ্তাহে তাঁর ১৯ টি সিনেমা দেখেছিলাম।
উল্লেখ্য, উপমহাদেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক পুরষ্কার প্রাপ্ত (মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কার) মহানায়িকা সুচিত্রা সেন তৎকালীন পাবনার অন্তর্ভুক্ত সিরাজগঞ্জ মহকুমার বেলকুচি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের খ্যাতনামা কবি রজনীকান্ত সেনের নাতনী । তাঁর বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা হয় পাবনা শহরে। মহানায়িকা যে অভিনয় দক্ষতা, সৌন্দর্য আর ব্যক্তিত্ব দেখিয়েছেন, তার চৌদ্দ সীমানার আশেপাশেও পরবর্তীকালে কেউ পৌঁছাতে পারে নি। এমন একজন গুণী অভিনেত্রীর নামে নিজ শহরে এই ছাত্রীনিবাস ছিল, সেটা পরিবর্তন করার কোনো প্রয়োজন বা যুক্তি খুঁজে পাই না। হয় এটার পিছনে ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িক মনমানসিকতা কাজ করেছে, অথবা ফ্রি-ফায়ার বা পাবজি পাগল পোলাপানের মূর্খতা কাজ করেছে।
মহানায়িকা সবসময় বাংলাদেশ ও এদেশের চলচিত্রের খোঁজ খবর রাখতেন। তাঁর বেশকিছু পছন্দের বাংলাদেশী পণ্য লোক মাধ্যমে নিয়ে যেতেন। অন্তরালে থাকাকালীনও তিনি বাংলাদেশের নায়ক আলমগীর কে একাধিকবার সাক্ষাত করার সুযোগ দেন। বলেন সাবানার অভিনয় তাঁর বেশ ভালোলাগে। সাবানার অভিনয়কে তিনি সেদিন একটা স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। মহানায়িকা সুচিত্রা সেন বাংলাদেশে আসতে চাইতেন। কিন্তু তাঁর ৩৬ বছরের অন্তরালে জীবন যাপনের কারনে হয়তো সেই আশা পূরণ হয়ে ওঠে নি।
ইতিহাস কখোনো মুছে ফেলা যায় না। যত চক্রান্তই করা হোক, দিনশেষে মহানায়িকা সুচিত্রা সেন বেঁচে থাকবেন কোটি কোটি ভক্তদের অন্তরে।
❤️❤️❤️❤️