18/11/2024
অতি সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একটা ‘সুখবর’ অত্যন্ত গুরুত্ব ও গর্বের সঙ্গে প্রচারিত হচ্ছে যে বাগেরহাটে তৈরি কাঠের ঘর যাচ্ছে ইউরোপের বেলজিয়ামে।
‘পরিবেশবান্ধব’ ও দৃষ্টিনন্দন এসব কাঠের ঘরের চাহিদা বাড়ছে ইউরোপে। সেই চাহিদা মেটানোর সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান।
জানা গেছে, ব্রিটেন, ভিয়েতনামসহ আরও কিছু দেশের সঙ্গে দরপত্রে অংশ নিয়ে এই কাজ পেয়েছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশের নিজস্ব সামগ্রী ব্যবহার করে দেশীয় কারিগরদের হাতে তৈরি।
কাঠের ঘর রপ্তানি হবে ইউরোপে, সেই ঘর ইউরোপের একটি দেশের নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে দিয়ে আসবেন আমাদের কারিগরেরাই—এটা আত্মতৃপ্তি লাভ করার মতো একটা অর্জন বটে।
একসময় ক্রোয়েশিয়া, বুলগেরিয়াসহ আরও কিছু দেশ কাঠের ঘর রপ্তানি করত। কিন্তু এখন তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হয়ে গেছে বলে নিজেদের বনজ সম্পদ উজাড় করার কাজটি বন্ধ করে দিয়েছে তারা।
তাই ইউরোপকে পরিবেশবান্ধব করার দায়িত্ব পড়েছে বাংলাদেশের ওপর। অবশ্য লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়ার মতো দেশগুলো এখনো কাঠের ঘর রপ্তানি করে যাচ্ছে ইউরোপের অন্যান্য দেশে।
আমরা যদি কাঠের ঘর রপ্তানিকারক দেশগুলোর বনজ সম্পদের সঙ্গে আমাদের তুলনা করি, তাহলে দেখতে পাই ক্রোয়েশিয়ার বনভূমি দেশটির আয়তনের ৩৪ শতাংশ আর বুলগেরিয়ার ৩৬ শতাংশ।
লিথুয়ানিয়ায় এই হার ৩৪ এবং এস্তোনিয়ায় ৫২ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশের আয়তনের মাত্র ১৬ শতাংশ বনভূমি (বাস্তবে আরও কম হতে পারে)।
এ রকম যখন আমাদের বাস্তব পরিস্থিতি, তখন ইউরোপে ‘পরিবেশবান্ধব’ কাঠের ঘর রপ্তানির মাধ্যমে আমাদের দেশের পরিবেশের যে ক্ষতি হবে সে, বিবেচনা এখনো কারও মধ্যে দেখা যায়নি।
এ রকম অবিমৃশ্যকারী কাজকে উৎসাহ দেওয়ার ঘটা দেখে বিশ্বাস করার সংগত কারণ রয়েছে যে আমাদের দেশে পরিবেশসচেতন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়।
লেখকঃ ফারুক মঈনউদ্দীন
যাই হোক , একটা মজার বিষয় হলো আমাদের দেশের পরিবেশ নিয়ে মানুষের চিন্তা খুব একটা বেশি না। ধরা যাক কয়েক দিন আগের নরডিক একটা দেশের আমাদের দেশে প্লাস্টিক রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট করে আমাদের দেশে তাদের ময়লা ডাম্প করার নিউজে প্রচুর মানুষ সহমত জানিয়েছে!
আজকের এই নিউজ টাও সেইম! এমন যদি হতো- আমাদের কাঠ বা গাছ কাটতে হবেনা এই কাজের জন্য , আমদানি করে আনা হবে কিংবা এই কাজের জন্য কৃত্তিম বনাঞ্চল তৈরি করে সেই কাঠ দিয়েই রপ্তানি করা হবে তাহলেও একটা কথা ছিলো!
কিন্তু তা তো আর হবার না। গাছ কাটা হবে আমাদের দেশের ন্যাচারাল রিজার্ভের ই! বেশির ভাগ দেখা যাবে চোরা পথে আনা।
মানুষ আপাতত কয়টা পয়সা পাচ্ছে তাই সই, তা নিয়েই সবাই বিজি! ঠিক গারমেন্টস এর মত, একটা জিন্স বানাতে হাজার হাজার লিটার পানি নস্ট হয় সেসব কেউ দেখার না, কিন্তু ১ ডলার আয় করতে পারছি এটাই বড় কথা।
পরিবেশ জাহান্নামে যাক।
© রাসেল নিরব