09/06/2025
পবিত্র ভূমির জন্য সোচ্চার ক|| ফিরর|| গাফেল মুসলিমদের চেয়ে ভালো—এধরণের ঢালাও আলাপ এখন বেশ জোরেশোরে হচ্ছে।
বারবার এধরণের কথা বলার একটা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব আছে। এর ফলে এমন একটা ধারণা নিজের অজান্তের তৈরি হয় যে:
মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মাহ যেন অন্যদের তুলনায় নিচু হয়ে গেছে। যেন ঈমান আছে কি নেই, তার কোনো প্রভাবই মানুষের চরিত্রে পড়ে না।
এই ধরণের ঢালাও মন্তব্য না-ইনসাফীও বটে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
❝যে বলে, ‘লোকেরা ধ্বংস হয়ে গেছে,’ সে-ই তাদের মধ্যে সবচেয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত।❞
নিঃসন্দেহে, এমন অনেকে আছে যার মুসলিম হবার দাবি করে, কিন্তু তারা নিজেদের উম্মাহর দায়-দায়িত্ব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছে। এরা শুধু নিজেদের খেয়াল-খুশির পেছনে ছুটে বেড়ায়। এরা বন্যার স্রোতে ভেসে চলা ফেনার মতো।
এটা-ও সত্য যে, কিছু মানুষ নিজেদেরকে উম্মতে মুহাম্মদ ﷺ-এর অংশ দাবি করলেও, বাস্তবে তারা নিজেদের ভাই-বোনদের ওপর নির্যাতনে অংশগ্রহণ করে। এই ধরনের লোকেরা উম্মাহর পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যাত।
কিন্তু এই উম্মাহর মধ্যকার বিপুল কল্যাণকে অস্বীকার করা নাইনসাফী। এই উম্মাহর মধ্যে থাকা কল্যাণকে পরিকল্পিতভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়, দমন করা হয়, গলা টিপে মারা হয়। এটা চলছে আজ বহু বছর ধরে। তারপরও দেখুন:
➤ এই উম্মাহর কত মানুষ আছেন যাদের অন্তর এখনো জীবিত। যারা গা য||বাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। ত্যাগ স্বীকার করেছেন, বিনা অপরাধে জেলে গেছেন, অপমানিত হয়েছেন, দীর্ঘ কারাদণ্ড পেয়েছেন। যার বোঝা টানতে হয়েছে তাদের সন্তান, স্ত্রী ও পিতামাতাকে?
➤ কত মানুষ রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভে কিংবা মানববন্ধনে। কত মানুষ হাত খুলে দান করেছেন। এতো পরিমান দান হয়েছে যা শুধু গা য||-র জন্যই না, বরং একটা গোটা দেশের জন্য যথেষ্ট?
➤কত ডাক্তার, স্বেচ্ছাসেবক, সাংবাদিক নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন ছেড়ে দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পৌঁছে গেছেন গা য||য় চিকিৎসা দিতে, সেবা করতে, এবং যালিমের যুলুম আর মযলুমের কষ্টের বিবরণ রাখতে?
➤ আরব বসন্তের পর এই উম্মাহর কত আলিম ও দায়ী কারাগারে বন্দি হয়ে আছেন। হাজার হাজার তরুণ ও বৃদ্ধ আজও অন্ধকার কনক্রিটের দেয়ালের ভেতর পচে মরছেন।যাদের কেউ একসময় ভালোবাসতো, এখন সবাই ভুলে গেছে। অথচ এরা উম্মাহর জন্য বিশাল অবদান রেখেছেন।
➤ এই উম্মাহর মধ্যে কতো মানুষ আছে যারা প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে এবং ঘুমাতে যাবার সময় নিজেদের ভাইদের দুরবস্থার কথা চিন্তা করে প্রচণ্ড কষ্ট পারেন।যদি কোনো পথ থাকতো, তারা নিজেদের সর্বস্ব কুরবানী করতেন।
হ্যাঁ, নিখাদ কষ্টের জায়গা থেকে উম্মাহর ব্যাপারে হতাশা কিংবা অন্যদের প্রশংসা অনেক সময় আসে। কিন্তু এই আবেগের কারণে আমরা সত্যকে বিকৃত করতে পারি না। এই আবেগের কারণে আমরা এই উম্মাহকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পারি না। এই উম্মাহর আল্লাহ-প্রদত্ত মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারি না।
যেসব অমুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট পবিত্র ভূমির মুসলিমদের পাশে দাড়িয়েছেন আমরা তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আমরা আল্লাহর কাছে দুআ করি তনি যেন তাদের হিদায়াত দেন, তাদের অন্তরগুলোকে যেন ইসলামের প্রতি খুলে দেন। কারণ আমরা তাদের জন্যও কল্যাণ কামনা করি, যেমনটা তারা আমাদের ভাই-বোনদের জন্য চেয়েছেন।
আর আমাদের, মুসলিমদের অবিচল থাকতে হবে। সম্ভাব্য সব উপায়ে আমাদের ভাইদের পাশে থাকতে হবে। হতাশ না হয়ে, এবং এমন আত্ম-সমালোচনায় না জড়িয়ে যা আমাদের দুর্বল করে দেয়।
আমরা আল্লাহর কাছে দুআ করি, যারা আমাদের ভাই-বোনদের সাহায্য করায় বাঁধা দিচ্ছে, তিনি যেন দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের বিচার করেন। আর তিনি যেন আমাদেরকে এমনভাবে পবিত্র ভূমির অধিবাসীদের সাহায্য করার তাওফিক দেনযা তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উপযুক্ত হবে।
ড. ইয়াদ কুনাইবি হাফিযাহুল্লাহ