Chasa Habib-পেইজ

Chasa Habib-পেইজ বাংলাদেশী কবি ও গবেষক

Bangladeshi Poet, Writer, and a Researcher

চাষা হাবিব
কবি, গবেষক ও সাহিত্যিক
যে বিষয়ে লেখেনঃ কবিতা, প্রবন্ধ ও গল্প
জন্ম তারিখঃ ১৬ নভেম্বর ১৯৮০, দাদুল (কাজিহাল) ফুলবাড়ি, দিনাজপুর।
প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যাঃ ১৩ টি; কাব্যগ্রন্থ-5, গবেষণা প্রবন্ধ-৮
প্রকাশিতব্য গ্রন্থ– ২০ টি (কাব্যগ্রন্থ-১০,গবেষণা প্রবন্ধ ৯, গল্প ১), এছাড়া বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধ ৬০/৭০টি
রক্তের গ্রুপঃ B (+)

প্রথম কবিতা গ্রন্থ-“অন্জলি ভরে ওঠে গন্ধ ভরা বাতাসে"
২য়-গবেষণা গ্রন্থ-আটপুকুর হাট গণহত্যা
৩য়-কাব্যগ্রন্থ-বেগুনির ওপারে
৪র্থ-কাব্যগ্রন্থ-"চাষার খসড়া"
৫ম-কাব্যগ্রন্থ-"যাযাবর ক'ছত্র"
৬ষ্ঠ-শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ-"বর্ণমালায় ছড়া"
৭ম-শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ-"বোকা পালোয়ান-
৮ম-গবেষণা গ্রন্থ-"১৯৭১: ফুলবাড়ি, দিনাজপুর"
৯ম-গবেষণাগ্রন্থ- কড়া, সমতলের বিপন্ন আদিবাসী কড়ার জীবনালেখ্য
১০ম-গ্রন্থ- কবি মাহমুদ আখতার জীবন ও কর্ম
১১তম গ্রন্থ- বিদ্রোহী কবিতার ১০০ বছর: পুনপাঠ
১২তম গ্রন্থ- বঙ্গবন্ধুর ভাষণে গণমানুষ
১৩তম গ্রন্থ- সাঁওতাল বিদ্রোহ ও দিনাজপুরের সাঁওতাল

ইমেইলঃ [email protected]

“দ্য ইকোনমিস্ট ২০২৬”-এর প্রচ্ছদ কি নিছক একটি প্রচ্ছদ, নাকি ভবিষ্যতের কোনো গোপন সংকেত?রাজনীতি, অর্থনীতি, যুদ্ধ, প্রযুক্তি...
10/09/2026

“দ্য ইকোনমিস্ট ২০২৬”-এর প্রচ্ছদ কি নিছক একটি প্রচ্ছদ, নাকি ভবিষ্যতের কোনো গোপন সংকেত?

রাজনীতি, অর্থনীতি, যুদ্ধ, প্রযুক্তি, ক্ষমতা ও মানবসভ্যতার রূপান্তরের যে প্রতীকগুলো সেখানে ছড়িয়ে আছে, সময়ের সঙ্গে তাদের অনেকগুলোই যেন বাস্তবতার আয়নায় প্রতিফলিত হচ্ছে। বিস্ময় জাগে, সন্দেহও জাগে। মনে হয়, আমরা কি ভবিষ্যৎকে দেখছি, নাকি ভবিষ্যৎকে আমাদের সামনে ধীরে ধীরে মঞ্চস্থ হতে দেখছি?

তাহলে কি পৃথিবীর ঘটনাপ্রবাহ সত্যিই এতটা আকস্মিক?

নাকি পর্দার আড়ালে এমন কিছু শক্তি আছে, যারা বহু আগেই সম্ভাব্য ভবিষ্যতের নকশা এঁকে রেখেছে, আর আমরা সেই নকশার ভেতরেই নিজেদের স্বাধীনতার গল্প লিখে চলেছি?

হয়তো এ কারণেই প্রচ্ছদটি এত অস্বস্তিকর। কারণ এটি কেবল ভবিষ্যতের ছবি নয়, বরং ক্ষমতার প্রকৃতি নিয়ে এক গভীর প্রশ্ন।

আমরা যাদের রাষ্ট্রনায়ক ভাবি, যারা অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণ করেন, যারা জনমত তৈরি করেন, কিংবা যারা সংস্কৃতির ভাষ্য নির্মাণ করেন—তাঁরাই কি শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তের মালিক? নাকি তারাও বৃহত্তর কোনো অদৃশ্য কাঠামোর অংশ?

সম্ভবত সবচেয়ে ভয়ংকর নিয়ন্ত্রণ সেটিই, যেখানে মানুষকে জোর করে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় না; বরং তাকে এমনভাবে চিন্তা করতে শেখানো হয়, যাতে সে নিজের নিয়ন্ত্রিত অবস্থাকেই স্বাধীনতা বলে মনে করে।

আমরা তাই হয়তো কেবল দর্শক নই।
হয়তো আমরা সেই মঞ্চের চরিত্র, যার চিত্রনাট্য অন্য কেউ লিখছে।

প্রশ্ন একটাই—
ভবিষ্যৎ কি আমরা তৈরি করছি, নাকি ভবিষ্যৎ আমাদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে?

সময়ই উত্তর দেবে।

বাকি সব দেখার অপেক্ষা...

কবিতার শরীলখান।। চাষা হাবিবকবিতার শরীলে ঢুকে যায় বাঁশ-বাজারের ফর্দ, গলিত হয় দৈনিক জীবন, টিনের চাল, খড়ের চাল, সবি ফুটো কর...
25/08/2026

কবিতার শরীলখান।। চাষা হাবিব

কবিতার শরীলে ঢুকে যায় বাঁশ-বাজারের ফর্দ, গলিত হয় দৈনিক জীবন, টিনের চাল, খড়ের চাল, সবি ফুটো করে পকেট আর মুই শালা মাদারচোত হয়ে বইসা আছি সেই কবে কাল, বলতে বলতেই লোকটা উপর্যুপরি নিজের গালে নিজেই চড়-থাপ্পড়-কিল মারে।

শালার জীবন রে বলতেই লোকটা পিরানের বোতাম খুলে চিক্কুর দেয়, বুক খুলে দম নেয়। লোকটা ওপাড়ার ছমির শেখের ভাতিজার চাচা, লোকে কয়। তেনাদের নাকি এক ফালি পাথার আছিলো-উজানের কালে; অথচ আজ সে সমানে ঘামতেই থাকে, দরদর করে ঘামতে ঘামতেই লোকটা বাপ হয়, আর তখন থেকেই কান্নার বদলে ঘেমেই চলে রোজ রোজ। বাপেরা তো কাঁন্দে না, শুধুই ঘামে। সকালে বাজারে থলে হাতে, দুপুরে খাবারের মাদুরে, বিকেলের নাঙ্গা গোধূলিতে, রাতের নরম শরীলে থকথকে পলির শিশির হয়ে ঢুকে যায় দাপরের জলে। আর এরপর থেইকে ঘাম আর ঘাম, সেই ঘামে ভিজে যায় হামার সখিমন মা, বাবুর বউ সায়মা ভাবী, শামসুন খালা, কামালের বড়ভাই জব্বারের বউ-বেটি সখিনার আঁচল। বাপের অক্ষমতায় সেই ঘাম আর শুকাতে পারে না; বাজান-বলেই লোকটা হই হই করে টান দেয়-গীত গায়।

মুই শালা চুদিরভাই, চুষে খায় তামান। কত হলে বাহে তোমার হয়, কত হলে বাহে তোমার জ্বালা কমে, হামার শরীল শালার সংবিধান; সব বেইচ্যা খায়। সাতচল্লিশ গেলো, বায়ান্ন গেলো, একাত্তর ওতো চোখের সামনোত; শুনবার পাইছি-শুনছিও; হাজার বছরে কত পানি সেই যে গড়ালো আদিগঙ্গা থেকে আমুর-নাফ-দোজলা-ফোরাত- নীলের জলে-সব জানি বাপ, সব জানি। দেইখতে দেইখতে সব খায়, সব নেয়; ত্রিশ লাখ প্রাণ আজ অসাম্যে ফকফকা উজ্জ্বল। মুই শালা রোদে পুড়ে যাঁও, বিষ্টিত ভিজে যাঁও। মফিজ কয় শহরের দালান, অফিসের চেয়ার। বড়বাবু আরও বড় হয়, পোয়াতি বউ মতিজন সুড়সুড়ি খায়। দাঁড়িতে হাত ঘষতে ঘষতে শালারা হামার মালকোঁচা খুলে দেয়। পাড়ার দোকানি কয়, এখন সবই বিজনেস; তেল হইচে অঙ্গার, ডাল হইচে শীৎকার, চাল খুলে গোয়া মারে চুকানি হায়দার সরকার। মহাজনে বিষ দেয়, মুই শালা নচ্ছার, সব খুলে নাঙ করি, আজ য্যান হইলাম ছারখার; বলতে বলতেই লোকটা কবিতা হয়। চায়ের পাতা যেমন ফুটপাতে পিষে যায় তেমনই কাব্য কয়।

শোনরে মামুর বেটা, বাবারা কাঁদে না, ঘেমে যায়, শালার ছাও চুপ যাঁও; কইতে কইতেই লোকটা ফিট হয়, দম ধরে পড়ে থাকে হাটখোলার রাস্তায়। তখনও রাষ্ট্রু তদন্তে নেমেই মুলতবি সভাতে বিড়ি খায়, মুই শালার মফিজ হইয়েই সবকিছু স্বাক্ষীতে মজলিসি মুত খাও। এভাবেই কবিতার শরীলখান জ্বলে যায়-পুড়ে যায় আর লোকটা ভিন্ন ভিন্ন পথে রোজ রোজ হাটত যায়।

২৫ আগষ্ট ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ; দিনাজপুর।

স্মৃতিবয়ন আত্মকথা...প্রথম পাঠ আসছে...কোন প্রচ্ছদটি ভালো হয়...
20/08/2026

স্মৃতিবয়ন আত্মকথা...
প্রথম পাঠ আসছে...
কোন প্রচ্ছদটি ভালো হয়...

চুরকা মুর্মু: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক বিস্মৃত বীর শহীদবাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুধু বাংলাদেশের ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল ন...
18/08/2026

চুরকা মুর্মু: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক বিস্মৃত বীর শহীদ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুধু বাংলাদেশের ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এর অভিঘাত ছড়িয়ে পড়েছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অসংখ্য জনপদে। সীমান্তের ওপারে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) এবং অগণিত সাধারণ মানুষ। তাঁদেরই একজন ছিলেন চুরকা মুর্মু। তিনি অস্ত্রধারী সৈনিক ছিলেন না, কিন্তু দেশ ও মানুষের প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

শৈশব ও বেড়ে ওঠা

চুরকা মুর্মু জন্মগ্রহণ করেন ২ জুলাই ১৯৫১ সালে, তৎকালীন পশ্চিম দিনাজপুর জেলার (বর্তমান দক্ষিণ দিনাজপুর) বালুরঘাটের সীমান্তবর্তী চকরামপ্রসাদ গ্রামে। তিনি এক দরিদ্র সাঁওতাল পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা খেলা মুর্মু এবং মাতা সুমি হাঁসদা।

দারিদ্র্য সত্ত্বেও তাঁর বাবা-মা ছেলেকে পড়াশোনার সুযোগ করে দেন। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা শেষ করে তিনি বালুরঘাটের জয়চাঁদলাল প্রগতি বিদ্যাচক্র বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। শান্ত, বিনয়ী ও সাহসী স্বভাবের কারণে তিনি শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন সূত্রে তাঁকে বিদ্যালয়ের উচ্চ শ্রেণির ছাত্র এবং সমাজসেবামূলক কাজে সক্রিয় তরুণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৮ আগস্ট ১৯৭১: যেদিন ইতিহাস হয়ে গেলেন চুরকা

১৮ আগস্ট ১৯৭১, ভোরের আলো ফোটার আগেই চকরামপ্রসাদ সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল হামলা চালায়। বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, তারা মুক্তিবাহিনীর ছদ্মবেশে সীমান্ত অতিক্রম করে এলাকায় প্রবেশ করে এবং গুলিবর্ষণ শুরু করে। তাদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সেখানকার BSF ক্যাম্প।

হঠাৎ গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে গ্রামবাসীরা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটতে থাকেন। কিন্তু চুরকা মুর্মু পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বিপদের দিকে এগিয়ে যান।

তিনি দ্রুত BSF ক্যাম্পে পৌঁছে জওয়ানদের পাকিস্তানি সেনাদের হামলার খবর দেন। সে সময় ক্যাম্পে জওয়ানের সংখ্যা ছিল খুবই কম। শুরু হয় প্রতিরোধ।

যুদ্ধের মধ্যে গোলাবারুদ সরিয়ে নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সাহায্যের প্রয়োজন হলে চুরকা কোনো দ্বিধা না করে জওয়ানদের সঙ্গে গোলাবারুদের বাক্স বহন করতে শুরু করেন।

একপর্যায়ে পাকিস্তানি সেনারা দুই দিক থেকে ঘিরে ফেললে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। চুরকা বুঝতে পারেন, গোলাবারুদ শত্রুর হাতে পড়লে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। তাই তিনি সেগুলো নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং কয়েকটি বাক্স পুকুরে ফেলে দেন, যাতে সেগুলো শত্রুর কাজে না লাগে।

শেষ বাক্সটি সরানোর সময় তাঁর পা পিছলে যায় এবং তিনি পুকুরে পড়ে যান। শব্দ শুনে পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

মাত্র ২০ বছর বয়সে সেখানেই শহীদ হন চুরকা মুর্মু।

সেদিন এক সাধারণ সাঁওতাল পরিবারের তরুণ প্রমাণ করেছিলেন, বীরত্বের জন্য ইউনিফর্মের প্রয়োজন হয় না। মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, সাহস ও আত্মত্যাগই একজন সাধারণ মানুষকে অসাধারণ করে তোলে। তাঁর এই আত্মবলিদানের কারণেই বিভিন্ন প্রকাশনায় তাঁকে “The Great Soldier Without Uniform” বা “ইউনিফর্মহীন মহান সৈনিক” হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে।

আজও স্মরণে চুরকা

চুরকা মুর্মুর আত্মত্যাগ বিস্মৃত হয়নি।

বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে, ১৯৮২ সাল থেকে “চুরকা মুর্মু স্মৃতি সমিতি” প্রতিবছর তাঁর শহীদ দিবস পালন করে আসছে। তাঁর স্মরণে আয়োজন করা হয় স্মরণসভা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার বিভিন্ন কর্মসূচি।

চকরামপ্রসাদের মানুষ আজও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর স্মৃতি লালন করেন। সীমান্তে কর্মরত BSF সদস্যরাও সময়ে সময়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তাঁর জীবন ও আত্মত্যাগকে কেন্দ্র করে “Churka Murmu: A Story of a Forgotten Hero” শিরোনামে একটি তথ্যচিত্রও নির্মিত হয়েছে, যার উল্লেখ বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবের নথিতে পাওয়া যায়।

বালুরঘাটের ‘ট্যাঙ্ক মোড়’: একাত্তরের আরেক স্মৃতি

চুরকা মুর্মুর আত্মত্যাগের সঙ্গে যে সীমান্তভূমির ইতিহাস জড়িয়ে আছে, সেই বালুরঘাট শহরেও আজও একাত্তরের স্মৃতি বহন করে একটি যুদ্ধট্যাঙ্ক।

বালুরঘাটের রঘুনাথপুর এলাকায় সংরক্ষিত রয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত একটি পাকিস্তানি যুদ্ধট্যাঙ্ক। যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয়ের স্মারক হিসেবে এটি সেখানে স্থাপন করা হয়। এই ট্যাঙ্ককে ঘিরেই এলাকার পরিচিত নাম হয়ে ওঠে “ট্যাঙ্ক মোড়”।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ট্যাঙ্কটিকে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ এবং ভারতীয় বিজয়ের স্মারক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, বালুরঘাটের মাটিতে একদিকে রয়েছে চুরকা মুর্মুর আত্মবলিদানের স্মৃতি, অন্যদিকে রয়েছে যুদ্ধের বাস্তব নিদর্শন সেই ট্যাঙ্ক। দুটিই স্মরণ করিয়ে দেয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সীমান্তের দুই পারের মানুষেরও যৌথ ইতিহাস।

শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে আমরা মুক্তিযোদ্ধা, ভারতীয় সেনা এবং অসংখ্য সহায়তাকারী মানুষের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। সেই দীর্ঘ তালিকায় এমন অনেক সাধারণ মানুষের নাম রয়েছে, যাঁদের আত্মত্যাগ ইতিহাসের মূলধারার আলোচনায় যথেষ্ট স্থান পায়নি।

চুরকা মুর্মু তাঁদেরই একজন।

তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন না। তিনি কোনো নিয়মিত সেনাসদস্যও ছিলেন না। তবু একাত্তরের সেই সংকটময় দিনে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দাঁড়িয়ে BSF জওয়ানদের সহায়তা করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করা মানুষের নয়; স্বাধীনতার ইতিহাস তাঁদেরও, যারা বিপদের মুহূর্তে অন্যের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের জীবন দিয়ে সাহসের নতুন সংজ্ঞা লিখে গেছেন।

শহীদ চুরকা মুর্মুর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

একাত্তরের সকল শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা, ভারতীয় সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য এবং স্বাধীনতার সংগ্রামে অবদান রাখা সকল অজানা-অচেনা সহযোদ্ধার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা।

আমার “সাঁওতাল বিদ্রোহ ও দিনাজপুরের সাঁওতাল’ শীর্ষক গ্রন্থের মধ্যে (১২৬-১২৮ পৃষ্ঠায়) চুরকা মুর্মু স্থান পেয়েছেন।

পড়ার আমন্ত্রণ...
11/08/2026

পড়ার আমন্ত্রণ...

প্রয়াত গল্পকার ইতি ইব্রাহিম ভাইকে নিয়ে- “ইতি ইব্রাহিমের গল্পে সমাজবাস্তবতা ও বিচ্ছিন্নিতার চিত্রণ’শীর্ষক প্রবন্ধে নিবেদি...
10/08/2026

প্রয়াত গল্পকার ইতি ইব্রাহিম ভাইকে নিয়ে-
“ইতি ইব্রাহিমের গল্পে সমাজবাস্তবতা ও বিচ্ছিন্নিতার চিত্রণ’
শীর্ষক প্রবন্ধে নিবেদিত ক’টি লাইন ছিল, যা সম্পাদনায় বাদ পড়েছে।
প্রবন্ধটি কবি ও প্রাবন্ধিক মাসুদ মুস্তাফিজ সম্পাদিত ‘ইতিকথা’ য় প্রকাশিত হয়েছে।
বাদ পড়া নিবেদিত ‘অকাল ইতি’ বন্ধুদের জন্যে... পড়ার আমন্ত্রণ।

02/08/2026

বিশ্ব বোন দিবসে...

বোন: অসম্ভবের অন্য নাম
চাষা হাবিব

বোন, তোমার নাম উচ্চারণে আয়নার ভেতর অন্য এক ঋতুর জন্ম হয়। শহরের সব ঘড়ি উল্টো দিকে হাঁটতে শেখে– তোমার ছায়ায়। চাঁদের পকেটে লুকিয়ে রাখা আমাদের শৈশব নক্ষত্র আলোয় পাখি হয়ে বসে জানালায়।

আমাদের রক্তনদী উজানে বয়ে যায়, তবু তার জল বৃদ্ধ হয় না। আজও নিজের উৎস খুঁজে ফেরে তোমার মমতায়।

একটি নীল ঘুড়ি আকাশের ডানায় তোমার নাম লিখে রাখে। বাস্তবের দেয়ালে আজ স্বপ্নের শেওলা, সেখানে তোমার হাসি সবুজ আলো। সময় তার ঘড়ি খুলে তোমার কবজিতে পরায়– অনন্তকাঁটায় বোবাজল।

পৃথিবী যত ভেঙে যায়, ততই তুমি অদৃশ্য সেতু হয়ে অসম্ভবের ওপারে পার কর আমায়। জানি, সব বিদায়ই কেবল ভাষার ভুল, সম্পর্কের নয়।

তাই তোমাকেই বলি, তুমি অলৌকিকতা নও, অসম্ভবের অন্য নাম– বোন আমার।

২ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রি. দিনাজপুর।

আজ মহাকবি’র ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। মহাকবি কায়কোবাদ(২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ১৮৫৭ - ২১ জুলাই, ১৯৫১)  মহাকবি কায়কোবাদ, বাংলা মুসলি...
21/07/2026

আজ মহাকবি’র ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।

মহাকবি কায়কোবাদ
(২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ১৮৫৭ - ২১ জুলাই, ১৯৫১)

মহাকবি কায়কোবাদ, বাংলা মুসলিম সাহিত্যধারার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মহাকবি কায়কোবাদ এমন এক কবির নাম, যিনি মুসলিম ঐতিহ্য, ইতিহাস, দেশপ্রেম এবং মানবিক চেতনাকে কাব্যের ভাষায় অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী আমাদের শুধু একজন কবিকে স্মরণ করার দিন নয়, বরং বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তাঁর অসামান্য অবদান নতুন করে উপলব্ধি করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

তিনি কায়কোবাদ, মহাকবি কায়কোবাদ বা মুন্সী কায়কোবাদ নামে পরিচিত হলেও তার প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরায়শী । কাব্যের আদর্শ ও প্রেরণায় তিনিই আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।

কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্য ‘মহাশ্মশা ‘ (১৯০৪) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাকাব্য। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত এই কাব্যে তিনি বীরত্ব, আত্মত্যাগ, ইতিহাসবোধ এবং জাতীয় চেতনার এক অসাধারণ শিল্পরূপ নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও বিরহ বিলাপ (১৮৭০-প্রথম কাব্যগ্রন্থ), কুসুম কানন (১৮৭৩), অশ্রুমালা (১৮৯৬), শিব-মন্দির বা জীবন্ত সমাধি (১৯২১), অমিয় ধারা (১৯২৩), শ্মশানভষ্ম (১৯২৪), মহররম শরীফ (১৯৩৩-মহাকাব্যোচিত বিপুল আয়তনের কাহিনী কাব্য), শ্মশান ভসন (১৯৩৮), প্রেমের বাণী (১৯৭০), প্রেম পারিজাত (১৯৭০), মন্দাকিনী ধারা (১৯৭১) ও গওস পাকের প্রেমের কুঞ্জ (১৯৭৯) তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম, যা তাঁর কাব্যপ্রতিভার বহুমাত্রিক পরিচয় বহন করে।

তাঁর কবিতার ভাষা ছিল সহজ, আবেগময়, অলংকারসমৃদ্ধ, গাম্ভীর্যপূর্ণ ও মহাকাব্যিক। তাঁর শব্দ চয়ন বাংলা কাব্যের ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত। দীর্ঘ উপমা, অনুপ্রাস, রূপক এবং বাগ্মিতাপূর্ণ বাক্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, ইতিহাসচেতনা ও মানবিক অনুভূতি তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তিনি বিশ্বাস করতেন, সাহিত্য মানুষের মননকে জাগ্রত করে এবং জাতিকে আত্মপরিচয়ের পথে এগিয়ে নেয়।

আধুনিক পাঠকের কাছে এই ভাষা অনেক সময় অতিরিক্ত ভারী ও অলংকারনির্ভর মনে হতে পারে। যেখানে প্রায় সমসাময়িক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভাষাকে অধিকতর স্বাভাবিক ও সংগীতময় করেছেন, আর কাজী নজরুল ইসলাম ভাষায় বিপ্লবী প্রাণশক্তি এনেছেন, সেখানে কায়কোবাদ অনেকাংশে উনিশ শতকের মহাকাব্যিক ভাষার মধ্যেই অবস্থান করেছেন। ফলে তাঁর কাব্য নতুন যুগের কাব্যরীতির সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খায়নি। ফলে তিনি অনেকটা ব্রাত্য আবার মুসলিম মানসের হওয়ায় অনেকটা অপঠিতের কাতারে চলে গেছেন- আফসোস!

আমরা জানি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ ও বিংশ শতাব্দীর সূচনাকাল ছিল সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের যুগ। এই সময়ে বাংলা ভাষায় মুসলিম সমাজের সাহিত্যচর্চা নতুন গতি লাভ করে। এ ধারার অন্যতম প্রধান কবি মহাকবি কায়কোবাদ। তিনি শুধু কবি নন, বরং বাংলা মুসলিম সাহিত্যধারার নবজাগরণের এক গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতা। তাঁর কাব্যে ইতিহাস, ধর্মীয় চেতনা, জাতিসত্তা, মানবতাবোধ এবং নন্দনতত্ত্বের এক অনন্য সমন্বয় লক্ষ করা যায়। তাঁর কাব্যে মুসলিম বীরত্ব, অতীত ঐতিহ্য এবং নৈতিক মূল্যবোধের পুনরাবিষ্কার ঔপনিবেশিক শাসনের প্রেক্ষাপটে এই প্রয়াস ছিল আত্মমর্যাদা পুনর্গঠনের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অংশ।

কায়কোবাদ তাঁর জীবদ্দশায় ব্যাপক সম্মান অর্জন করেন এবং বাংলা সাহিত্যে 'মহাকবি' হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। যদিও আধুনিক বাংলা কবিতার আবির্ভাবে তাঁর কাব্য কিছুটা আড়ালে পড়ে যায়, তবুও বাংলা মহাকাব্যের ইতিহাস, মুসলিম সাহিত্যধারা এবং ইতিহাসভিত্তিক কাব্যরীতির আলোচনায় তাঁর গুরুত্ব আজও অমলিন।

বর্তমান সময়ে কায়কোবাদের সাহিত্য নতুনভাবে পাঠের দাবি রাখে। বিশেষ করে উত্তর-ঔপনিবেশিক (Postcolonial) সাহিত্যতত্ত্ব, সাংস্কৃতিক ইতিহাস, জাতীয়তাবাদ এবং স্মৃতি-রাজনীতির আলোকে তাঁর সাহিত্য পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে। তিনি ইতিহাসকে কীভাবে কাব্যে রূপান্তর করেছেন, কীভাবে একটি জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় নির্মাণে সাহিত্যকে ব্যবহার করেছেন এবং তাঁর কাব্যে ইতিহাস ও কল্পনার সম্পর্ক কীভাবে নির্মিত হয়েছে, এসব প্রশ্ন আজও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণায় তাঁর রচনা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাঁর সৃষ্টিশীল শক্তি, নন্দনচেতনা, ইতিহাস-অনুধাবন, ভাষারীতি ও সীমাবদ্ধতা, সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা প্রয়োজন।

তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি। কায়কোবাদের সাহিত্য পুনর্পাঠ আমাদের আত্মপরিচয় এবং বাংলা সাহিত্য-ঐতিহ্যের গভীরতা উপলব্ধি করতে সহায়তা করবে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ধারাবাহিক বিকাশে তাঁর অবদান গবেষণা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা আমাদের সাংস্কৃতিক দায়িত্ব বলে মনে করি।

চাষা হাবিব
কবি ও গবেষক

হঠাৎ করেই শেখ সাদী (র.) এর বিখ্যাত কবিতাটির গদ্যকবিতায় ভাবানুবাদ করলাম, জানিনা কেমন হলো.... পড়ার আমন্ত্রণ
17/07/2026

হঠাৎ করেই শেখ সাদী (র.) এর বিখ্যাত কবিতাটির গদ্যকবিতায় ভাবানুবাদ করলাম, জানিনা কেমন হলো.... পড়ার আমন্ত্রণ

পাতা ঝরার দিনেপাতা-ফুল-পাখি হয় বেদনার ধূপজ্বলে,অথচ তোমার দেশে ধ্বসে পড়া আগুনেআমিও পাতা কুড়াই এখনো—খসে যাওয়া জরা ভুলে।..(...
27/04/2026

পাতা ঝরার দিনে
পাতা-ফুল-পাখি হয় বেদনার ধূপজ্বলে,
অথচ তোমার দেশে ধ্বসে পড়া আগুনে
আমিও পাতা কুড়াই এখনো—খসে যাওয়া জরা ভুলে।..
(ঝরাপাতা।। চাষা হাবিব)

ধন্যবাদ চিন্তার ঘ্রাণ ও কবি তানজির সৌরভ

Address

Sadar
Dinajpur
5200

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Chasa Habib-পেইজ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Chasa Habib-পেইজ:

Shortcuts

Share

Category