The Theatre Factory

The Theatre Factory The Theatre Factory is a theatre group based on Dhaka, Bangladesh.

"দেশ নাটক" দলের ইশরাত নিশাত (নিশাত আপা) আর নেই...
19/01/2020

"দেশ নাটক" দলের ইশরাত নিশাত (নিশাত আপা) আর নেই...

শম্ভু মিত্র (২২ অগস্ট, ১৯১৫ – ১৯ মে, ১৯৯৭) ছিলেন বাংলা তথা ভারতীয় নাট্যজগতের এক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব, স্বনামধন্য আবৃত্ত...
25/03/2019

শম্ভু মিত্র (২২ অগস্ট, ১৯১৫ – ১৯ মে, ১৯৯৭) ছিলেন বাংলা তথা ভারতীয় নাট্যজগতের এক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব, স্বনামধন্য আবৃত্তিশিল্পী ও চলচ্চিত্র অভিনেতা। ১৯৩৯ সালে বাণিজ্যিক নাট্যমঞ্চে যোগ দেন। পরে ভারতীয় গণনাট্য সংঘের সদস্য হন। ১৯৪৮ সালে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গড়ে তোলেন নাট্যসংস্থা বহুরূপী। ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বহুরূপীর প্রযোজনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সফোক্লিস, হেনরিক ইবসেন, তুলসী লাহিড়ী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট নাট্যকারের রচনা তাঁর পরিচালনায় মঞ্চস্থ হয়। শম্ভু মিত্রের স্ত্রী তৃপ্তি মিত্র ও কন্যা শাঁওলী মিত্রও স্বনামধন্য মঞ্চাভিনেত্রী। শাঁওলি মিত্রের নাট্যসংস্থা পঞ্চম বৈদিকের সঙ্গে আমৃত্যু যুক্ত ছিলেন শম্ভু মিত্র। তাঁর পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য নাটকগুলি হল নবান্ন, দশচক্র, রক্তকরবী, রাজা অয়দিপাউস ইত্যাদি। তাঁর রচিত নাটকের মধ্যে চাঁদ বণিকের পালা সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৬ সালে নাটক ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে ম্যাগসেসে পুরস্কার ও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়।

অনেক দিন আগে, ১৯৫১ সালে ‘বাংলা থিয়েটার’ শিরোনামে একটি লেখায় শম্ভু মিত্র লিখেছিলেন, ‘বিদেশিদের কাছে ধার করা জিনিস নিয়ে নাচানাচি করছি— এই ব্যঙ্গ করলে পরাধীন জাতির আত্মাভিমানে ঘা লাগে। এবং হৃদয়ের নির্দেশ অমান্য করে জোর করে উলটো পথে চলে আমরা প্রমাণ করতে চাই যে দেশাত্মবোধে আমরা কারও চেয়ে কম নই। কিন্তু এ প্রচেষ্টা আজও পর্যন্ত নন্দিত হয়নি সাধারণ্যে। বাঙালি থিয়েটার ভালোবাসে। শুধু শহুরে বাবুরা নয়, গ্রামের চাষীরাও। এই যাত্রা তাই থিয়েটারের পদাঙ্ক অনুসরণকারী, প্রতিপক্ষ নয়।’

অর্থাৎ ‘বহুরূপী’র প্রধান নট ও নির্দেশক মেনে নিয়েছিলেন যে, ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্টের পর স্বাধীন দেশের বুকে তাঁর দল বা তাঁদের মতো আরও কেউ কেউ যে নাট্যচর্চা শুরু করেছিল, তা আসলে ওই সাহেবদের শেখানো প্রসেনিয়াম থিয়েটারের অনুব্রজন করে চলা। সেই কবেকার সাঁ সুসি বা চৌরঙ্গি থিয়েটারে যে ধরনের নাটক হত, যে রকমের নাটকের আদলে বেলগাছিয়া, পাইকপাড়া, পাথুরিয়াঘাটায় বা অন্য অনেক বাবুবাড়ির নাটমন্দিরে বঙ্গসন্তানদের শৌখিন নাট্যচর্চার শুরু হয়েছিল, যার খেই ধরে গিরিশচন্দ্র ঘোষ থেকে শুরু করে তাঁর গুরু শিশির ভাদুড়ি পেশাদার থিয়েটারের পতাকা উড়িয়েছেন, তার খোল বা নলচে কোনওটাই দেশি নয়। সেটি ‘ধার করা’। ধার করা জিনিসকে নিজের বলে চালানোর মধ্যে এক ধরনের আত্মপ্রবঞ্চনা আছে। অথচ দেশ থেকে লালমুখো সাহেবের পাল মানে মানে বিদায় হয়েছে বলে স্বাদেশিকতার দোহাই দিয়ে বা ‘নবনাট্য’ লেবেল সেঁটে রাতারাতি কোনও বদল আনার মতো পরিস্থিতি নেই। এ তো টেক্সটবুক নয় যে কমিশন গড়া হল আর ১৮৫৭ সালে যা হয়েছিল তার নাম ‘সিপাহী বিদ্রোহ’ না বলে ‘ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম’ বলার নিদান হেঁকে দিলাম! শত্তুরের মুখে ছাই লেপে দেওয়া সোজা। কিন্তু একশো-দেড়শো বছর ধরে বিলিতি থিয়েটারের যে ধাঁচা শহর থেকে দূরে, আরও দূরে ছড়িয়ে পড়েছে, তার সঙ্গে আপাতত সন্ধি স্থাপন না করলে থিয়েটার বস্তুটিই উবে যেতে পারে। যেমন দেশ জুড়ে লিংক ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে ইংরেজিকেও রাজভাষার তকমা দিতে হয়েছে, তেমন প্রসেনিয়াম থিয়েটারকেও দিতে হবে বইকী!

এই ভাবনাকে সামনে রেখেই ‘বহুরূপী’ পথ চলতে শুরু করেছিল। শম্ভু মিত্র কোনও দিন সে দলের সভাপতি হননি। সম্পাদকও হননি। কিন্তু, যত দিন ‘বহুরূপী’তে ছিলেন তত দিন তাঁর শিল্পদর্শনকে শিরোধার্য করেই দল চলেছে। ১৯৪৯ সালের ‘পথিক’ থেকে ১৯৭১ সালের ‘চোপ, আদালত চলছে’— সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে। এই ট্র্যাডিশনের আনাচে কানাচে চোখ রাখলে ক্রমবিবর্তনের একটি ছবি স্পষ্ট হয়।

কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেন ‘বহুরূপী’ গড়ে ওঠার পর শম্ভু মিত্রের প্রথম নির্দেশিত নাটক ‘নবান্ন’। এ দাবি অসার। কারণ, ‘বহুরূপী’ নামটিরই তখন কোনও অস্তিত্ব ছিল না। শম্ভু মিত্র ও বিজন ভট্টাচার্যের যুগ্ম পরিচালনায় ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের ‘নবান্ন’ প্রযোজনার সঙ্গে এই নবীকৃত ‘নবান্ন’-র ফারাক ছিল না বললেই চলে। তা ছাড়া, ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের ‘নবান্ন’-এ যাঁরা অভিনয় করতেন তাঁদের অনেকে এই ‘নবান্ন’-তেও ছিলেন। সব চেয়ে বড় কথা নবীকৃত ‘নবান্ন’-র অভিনয় হয়েছিল হাতে গোনা। আর আমন্ত্রিত অভিনয়? একটিও নয়! ফেলে আসা মতাদর্শের বোঝা সাত তাড়াতাড়ি নামিয়ে রেখেছিলেন শম্ভু মিত্র ও তাঁর সঙ্গীরা। ১৯৪৯ সালে তুলসী লাহিড়ীর ‘পথিক’ প্রযোজনা করেই খাতা খুলেছিল ‘বহুরূপী’।

যে নবনাট্যের সন্ধানে ‘বহুরূপী’র পথ চলা শুরু, তার একটি প্রাথমিক শর্তই ছিল নতুন নাট্যকারদের বরণ করা। তুলসী লাহিড়ী সে আমলের প্রতিষ্ঠিত নাট্যকার। তাঁর লেখালেখিতে স্বদেশ ও সমকাল বিধৃত। তাই একে একে তাঁর ‘পথিক’ (১৯৪৯), ‘ছেঁড়া তার’ (১৯৫১) প্রযোজনা করেছে ‘বহুরূপী’। সে আমলে জনপ্রিয় মন্মথ রায়, শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, বিধায়ক ভট্টাচার্যের সঙ্গে মৌলিক পার্থক্য ছিল ‘বহুরূপী’র সামাজিক দায়িত্ববোধ সংক্রান্ত শপথের। তাই বলে ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের ঘনিষ্ঠ নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্য, দিগিন্দ্রচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, ঋত্বিক কুমার ঘটকের কাছেও হাত পাতেননি শম্ভু মিত্র। নিজে কলম ধরেছেন। লিখেছেন ‘উলুখাগড়া’ (১৯৪৯), ‘বিভাব’ (১৯৫১)। এর মধ্যে দ্বিতীয় নাটকটি তাঁর নিজের খুব প্রিয় ছিল। নাটকের ফর্ম ও প্রেজেন্টেশন নিয়ে যে এক্সপেরিমেন্ট তিনি করতে চেয়েছিলেন, সেই সুযোগ কড়ায়-গণ্ডায় উশুল করেছিলেন ‘বিভাব’-এ। দর্শক তৈরি থাকলে এ নাটকের অনেক অভিনয় হতে পারত!

এর পরই শম্ভু মিত্র হাত দিলেন ‘চার অধ্যায়’ (১৯৫১)-এ। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তিনি আগেও কাজ করেছেন। করেছেন পরেও। কিন্তু, স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় একটি রবীন্দ্র উপন্যাসের নাট্যরূপ দিয়ে নির্দেশনা দেওয়ার মূলে ছিল সন্ত্রাসবাদী স্বাধীনতা আন্দোলনের দার্শনিক ভিত্তিকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করানোর আগ্রহ। স্কুলপাঠ্যে ক্ষুদিরাম বসুকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলা উচিত হয়েছে কিনা তা নিয়ে ইদানীং চাপানউতোর চলছে। ইন্দ্রনাথ-অতীন-এলাদের মতো স্বঘোষিত সন্ত্রাসবাদীদের পথ ও পাথেয় নিয়ে সেই ১৯৫১ সালেই জিজ্ঞাসু হয়েছিলেন শম্ভু মিত্র। নিজের মতো করে একটি উত্তর খাড়াও করেছিলেন তিনি। আমআদমিকে লুঠ করে স্বরাজ আনার রাজসূয় যজ্ঞকে এক রকম নিন্দাই করেছিল তাঁর ‘চার অধ্যায়’।

এই সময় থেকেই ‘বহুরূপী’র বেশির ভাগ নাটকে সমষ্টির চাইতে ব্যক্তিকেই প্রাধান্য পেতে দেখি আমরা। তা বলে বার্নার্ড শ-এর মতো ‘ম্যান অ্যান্ড সুপারম্যান’-এর ধন্দে পড়েননি শম্ভু মিত্র। তাঁর অনুমোদন নিয়ে আন্তেন চেকভ বা জে বি প্রিস্টলির বাংলা রূপান্তর প্রযোজনা করেছে ‘বহুরূপী’। নিজে বঙ্গীকরণ করেছেন রিয়ালিস্টিক থিয়েটারের পুরোধা হেনরিক ইবসেনের ‘এনিমি অফ দ্য পিপল’-এর। তৈরি হয়েছে ‘দশচক্র’ (১৯৫২)। আজ মনে হয় ট্র্যাজিক হিরো ডাক্তার অমলেন্দু বসুর মধ্যে নিজেকেই দেখতে পেয়েছিলেন শম্ভু মিত্র। এর ছ’বছরের মাথায় আবার ইবসেনে ফিরেছিলেন। ‘ডলস হাউস’ থেকে গড়ে নিয়েছিলেন ‘পুতুল খেলা’ (১৯৫৮)। এ নাটকে নারীর স্বাধীন হওয়ার স্পৃহাকে অকুণ্ঠ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। মনে রাখতে হবে, এর কয়েক বছর আগেই বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট তার ঐতিহাসিক রায় জানিয়েছিল। আর এ নাটকের এক বছর আগে ‘বহুরূপী’র নির্দেশক লিখেছিলেন, ‘যে-কোনো নাট্যরূপই আমরা অবলম্বন করি না কেন, উদ্দেশ্য হল আজকের দিনের সমস্যাকে দর্শকের মনের সামনে তুলে ধরা, আজকের কষ্টকে আর আজকের চেষ্টাকে প্রতিফলিত করা।’ শম্ভু মিত্র তাঁর যুগধর্মকে অস্থিমজ্জায় বুঝতেন। তাই ‘বুলু’কে এমন মমতা দিয়ে গড়েছিলেন বাংলার মাটিতে।

‘রক্তকরবী’তে গোঁসাই চরিত্রে কুমার রায়।

‘বহুরূপী’র ‘রক্তকরবী’ (১৯৫৪) তো কিংবদন্তি। আমরা এত কাল এ নাটকের প্রয়োগকুশলতায় মগ্ন থেকেছি। রবীন্দ্রনাট্যের প্রথম সফল নির্দেশকের উষ্ণিক পরিয়েছি শম্ভু মিত্রের মাথায়। কেউ কেউ পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শ্রমজীবী মানুষের ‘সওগাত’ হিসেবে একে বুঝতে চেয়েছেন। সত্যি বলতে কী, জওহরলাল নেহরুর সরকার এই প্রযোজনাটিকে যে ভাবে বিদেশি অতিথি-অভ্যাগতদের সামনে উপস্থাপনার ব্যবস্থা করেছিল, তাতে বুঝতে বাকি থাকে না যে, তারা এই নাটকটিকে ভারতীয় সংস্কৃতির পরাকাষ্ঠা বলেই বিবেচনা করেছে। আমাদের মনে হয়, প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বৃহৎ শিল্প উদ্যোগের ঢালাও বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে একটি নান্দনিক উচ্চারণ হিসেবেও ‘রক্তকরবী’কে দেখা উচিত। ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘে থাকার সময় ‘মুক্তধারা’ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন শম্ভু মিত্র। ১৯৫৯ সালে আবার ফিরিয়েও আনেন। ভাকরা নাঙ্গালের মতো বৃহৎ বাঁধ প্রকল্পের বিরুদ্ধে তাঁর কিছু বলার ইচ্ছে হয়েছিল নিশ্চয়ই। নইলে দু’বার একই নাটক ফিরিয়ে আনার সাধনা কেন? তাঁকে অরাজনৈতিক কলাকৈবল্যবাদী বলার আগে এই দৃষ্টান্তগুলি মাথায় রাখা উচিত। ‘কাঞ্চনরঙ্গ’ (১৯৬১)-এর মতো মজাদার নাটকের মধ্যেও সামাজিক প্রহসনের একটি ফল্গুধারা বয়ে গিয়েছে।

‘বিসর্জন’ (১৯৬১), ‘রাজা অয়দিপাউস’ (১৯৬৪), ‘রাজা’ (১৯৬৪) নাটকের মধ্যে আঁধারে আলোর সন্ধান করেছেন শম্ভু মিত্র। বিশেষত শেষ দু’টি নাটক সম্বন্ধে তিনি নিজেই ‘অন্ধকারের নাটক’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন। এই অন্ধকারের মধ্যে ‘নেহরুভিয়ান সোশ্যালিজম’-এর ব্যর্থতার হতাশা যেমন আছে, তেমন আছে একের পর এক প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যুদ্ধ-বিবাদে লিপ্ত ভারতের বুকে হিংসার বাতাবরণও। এর দরুন রবীন্দ্রনাটক যে বহুবিধতার মধ্যে দর্শক ও নাট্যবিদের অনুমোদন পেতে পারে তা আর প্রমাণের অপেক্ষায় থাকল না। এই পর্বে আঙ্গিকের দিক থেকেও একটি নতুন দিগন্তের সন্ধান করেছেন শম্ভু মিত্র। ক্ল্যাসিক্যাল গ্রিক ট্র্যাজেডির আঙ্গিককে বাংলার মঞ্চে এনেছেন। তাঁর সমকালে বাংলায় তো বটেই, ভারতেও গ্রিক-রোমান সূত্র আহরণ করার রেওয়াজ চালু হয়নি।

আমাদের কাছে তাঁর নির্দেশক জীবনের শেষ চার বছরের কাজ খুব গুরুত্বপূর্ণ। নাট্যকার বাদল সরকারকে সর্বভারতীয় দর্শকের কাছে উপস্থাপন করার ষোলো আনা কৃতিত্ব তাঁর। ঘটনাচক্রে ‘এবং ইন্দ্রজিৎ’ করা হয়নি। কিন্তু, ‘বাকি ইতিহাস’ (১৯৬৭) থেকেই রিয়ালিজম থেকে খানিক সরে কিছুটা অ্যাবসার্ড থিয়েটারের দিকে বাঁক নিল ‘বহুরূপী’। ছাত্র রাজনীতির আবর্তে ঢুকে পড়ল নীতীশ সেনের ‘বর্বর বাঁশি’ (১৯৭১) দিয়ে। আবার ‘পাগলা ঘোড়া’ (১৯৭১)-য় ফিরল মৃত্যুচেতনায় আকীর্ণ কিমিতিবাদ।

এর পর আর বাংলা নয়, ভারতনাট্যের নয়া ভগীরথদের চিনতে চাইলেন শম্ভু মিত্র। নাটমঞ্চ প্রসার সমিতির অভিনয়ে পেলেন গিরীশ কারনাডকে। বিজয় তেন্ডুলকরকে আনলেন ‘বহুরূপী’র প্রযোজনায়। হামেশাই যাতায়াত ছিল মহারাষ্ট্রে। নাড়ি ধরতে দেরি হয়নি। ‘শানতাতা, কোর্ট চালু আহে’ থেকে ‘চোপ, আদালত চলছে’ (১৯৭১) যখন হচ্ছে, তখন দেখতে পাই বাস্তবধর্মী নাটক নির্মাণের খড়ির গণ্ডি মুছে ফেলে অনেক দূরে চলে গিয়েছেন শম্ভু মিত্র। পাশে পাচ্ছেন সুদূরের সত্যদেব দুবে, শ্রীরাম লাগুদের।

শেষে ফিরতে চেয়েছিলেন বঙ্গনাট্যের মূলে। ‘চাঁদ বণিকের পালা’-য় ধরা ছিল তাঁর নাট্যদর্শনের সারাৎসার। প্রসন্ন, করন্থ, তনবির, পানিক্কর প্রমুখ সর্বভারতীয় নাটমঞ্চে দাপিয়ে বেড়ানোর আগেই লোকায়ত নাট্যনির্মাণের নীল নক্শা ছকেছিলেন শম্ভু মিত্র। আরব্ধ সে কাজ অসম্পূর্ণ থেকেছে। কিছুটা অনিবার্য ভাবেই একা থেকে আরও একা হতে হতে সংগঠনভিত্তিক নাট্যের অঙ্গন থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি। কিন্তু, সিকি শতকের এই অভিযাত্রাই বলে দিচ্ছে, কেন তাঁকে আধুনিক ভারতনাট্যের প্রথম পুরুষ বলতে আমাদের কোনও সংশয় থাকার কথা নয়। শতবার্ষিকী মূল্যায়নের প্রথম পর্বে এই দিকেই আমাদের দৃষ্টিনিক্ষেপ করা উচিত।

Don't worry if you haven't acted before!! Share your talents and efforts with us in our floor. Come and join with us!Inb...
25/02/2019

Don't worry if you haven't acted before!! Share your talents and efforts with us in our floor.
Come and join with us!

Inbox us!! or, Details: 01672074417

25/02/2019
নুরুল মোমেন( নভেম্বর ২৫, ১৯০৮ – ফেব্রুয়ারি ১৬, ১৯৯০)যিনি বাংলাদেশের নাট্যগুরু হিসেবেও পরিচিত, ছিলেন একজন বাংলাদেশী অধ্য...
15/04/2018

নুরুল মোমেন
( নভেম্বর ২৫, ১৯০৮ – ফেব্রুয়ারি ১৬, ১৯৯০)

যিনি বাংলাদেশের নাট্যগুরু হিসেবেও পরিচিত, ছিলেন একজন বাংলাদেশী অধ্যাপক, শিক্ষাবিদ, নাট্যকার ও নির্দেশক, এবং প্রাবন্ধিক। আধুনিক বাংলা নাটকে অগ্রণী ভুমিকার জন্য তাকে "নাট্যগুরু" হিসেবে সম্বোধন করা হয়।

প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা
নুরুল মোমেন নভেম্বর ২৫, ১৯০৮ সালে তৎকালীন যশোর জেলা বর্তমান ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা নুরুল আরেফিন ছিলেন একজন জমিদার ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। তিনি কলকাতায় প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে ১৯১৬ সালে খুলনা জিলা স্কুলে ভর্তি হন। দশ বছর বয়সে তার প্রথম পদ্য "সন্ধ্যা" ১৯১৯ সালে সেসময়কার "ধ্রুবতারা" নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯২০ সালে তিনি ঢাকা মুসলিম হাই স্কুল-এ ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই ১৯২৪ সালে ম্যাট্রিক, "ঢাকা ইন্টারমেডিয়েট কলেজ" থেকে ১৯২৬ সালে আইএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে বিএ পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রথম বছরেই (১৯২৭) তিনি ক্রীড়া ও নাট্য প্রতিযোগীতায় প্রথম হন। রবিন্দ্রনাথের 'মুক্তধারায়' বটু চরিত্রায়ন করে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। সেটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম নাট্য প্রতিযোগিতা এবং নুরুল মোমেন তখন থেকেই পূর্ব বাংলার নাটকে পথিকৃতের ভূমিকা রাখেন। এর পরের ৩ বছর তিনি কার্জন হলে বহু নাটক পরিচালনা ও অভিনয় করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএল ডিগ্রি লাভ করে ১৯৩৬ সালে কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি শুরু করেন।

উল্লেখযোগ্য রচনা সমূহ:
রূপান্তর
নেমেসিস
যদি এমন হতো
নয়া খান্দান
আলোছায়া
শতকরা আশি
আইনের অন্তরালে
রুপকথা
ভাই ভাই সবাই
এইটুকু এই জীবনটাতে
যেমন ইচ্ছা তেমন
আদিখ্যাতা
লন্ডন প্রবাসে
হ-য-ব-র-ল
অন্ধকারটাই আলো
ঠিক চলার পথ

১৯৩৯ সালে ঢাকায় "অল ইন্ডিয়া রেডিও" প্রতিষ্ঠা হলে, মোমেন নতুন এই মাধ্যমের সুযোগ গ্রহণ করেন এবং তার প্রথম লেখক হয়ে ওঠেন। ১৯৪১ রেডিওর জন্য রচনা ও নির্দেশনা দেন কমেডি নাটক "রুপান্তর"। এই নাটকের প্রগতিশীল প্লট এবং প্রধান চরিত্র নারী হওয়ার কারণে প্রথাগত মুস্লিম বাংলা নাটকের মধ্যে নতুন ধারার উন্মেষ ঘটে যার ফলশ্রুতিতে কবি ও সাহিত্য সমালোচক মোহিতলাল মজুমদার তার প্রশংসা করেন এবং পরবর্তিতে আনন্দবাজার পত্রিকা তাদের পূজা সংখ্যায় নাটকটি প্রকাশ করেছিল।

Any comprehensive discussion regarding Bangladeshi theatre cannot be completed without mentioning Syed Jamil Ahmed. The ...
08/04/2018

Any comprehensive discussion regarding Bangladeshi theatre cannot be completed without mentioning Syed Jamil Ahmed. The Founder of the Department of Theatre and Music in Dhaka University has established himself as a prominent scholar in the field of theatre and arts. He is a great contributor to the academic study of theatres in Bangladesh, who has opened doors to the scholarly interpretation of indigenous theatrical forms. In fact, “indigenous theatrical forms” is the term most associated with Dr. Syed Jamil Ahmed's research topics, since he has done extensive research into this specific subject, by bringing out the ingenuity of different cultural and social perspectives when it comes to theatre. It is to be noted that “indigenous theatrical forms” was the subject of his PhD-winning thesis, an honor bestowed upon him by Dhaka University. His thesis is known by experts for bringing out the cultural richness of this nation and contributing greatly to the anthropology of theatre.

Syed Jamil Ahmed is one of the cornerstones of the development of Bangladeshi theatre. He has not only garnered considerable success in theatre production, he has a wide number of books and journals under his name. In his writings, the most common themes include religious and social practices among theatres of various cultures. The titles of some of his most well-received journals are Theatre and Islam, Contemporary Theatre in Bangladesh: A Critique, Negotiating Theatre in place of War, Buddhist Theatre in Ancient Bengal, etc. His journals mostly revolve around close examination of theatre from different cultural perspectives, as well as discussions on how religion and society can be represented in theatrical forms.

In his theatrical productions, he has exhibited a variety of indigenous forms like Pala Gan and Shong Jatra, as well as adaptations of famous tales such as The Thousand and One Nights and Padma Puran. His most notable theatre productions include Kamala Ranir Sagar Dighi (1997), Ek Hazar Aur Ek Thi Rate (1998), Behular Bhasan (2004), Pahiye (2006) and Shong Bhong Chong (2009), which have been performed all around Dhaka, Karachi and New Delhi. All of his productions have been the subject of praise from critics all around the world, and has earned him multiple prestigious awards, including the Nandikar National Theatre Award of Calcutta and the B.V. Karanth Award of India's National School of Drama (NSD). NSD also happens to be the institution from where he graduated from, in 1978. Moreover, in 1989 he received his Masters of Arts Degree in Theatre from England's University of Warwick. He is also a notable two-time award-winner of the Fulbright Fellowship, a true signifier of his academic prowess.

Syed Jamil Ahmed is a man driven towards constant exploration of knowledge. He has travelled to many parts of the globe to learn more about theatres and arts, and has attended workshops as well as taught classes all over North America, Europe and Asia. His dedication in his field is timeless, and the contribution he has left behind till present day solidifies him as an unshakable cornerstone of Bangladeshi theatre.

Sources: The Daily Star

15/05/2016
হেনরিক ইবসেনহেনরিক যোহান ইবসেন (জন্ম মার্চ ২০, ১৮২৮ – মে ২৩, ১৯০৬) একজন স্বনামধন্য নরওয়েজীয় নাট্যকার যিনি আধুনিক বাস্ত...
01/01/2014

হেনরিক ইবসেন

হেনরিক যোহান ইবসেন (জন্ম মার্চ ২০, ১৮২৮ – মে ২৩, ১৯০৬) একজন স্বনামধন্য নরওয়েজীয় নাট্যকার যিনি আধুনিক বাস্তবতাবাদী নাটকের সূত্রপাত করেছেন। তাকে সম্মান করে বলা হয় আধুনিক নাটকের জনক।ইবসেন নরওয়ের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ লেখক এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাট্যকার হিসেবে আসীন। তিনি নরওয়ের জাতীয় প্রতীকে পরিণত হয়েছেন বলা যায়।

বার্গেনের একটি নরওয়েজীয় নাট্যগোষ্ঠীতে তিনি কয়েক বছর চাকরি করেন। এখানে তিনি ১৪৫টিরও বেশি নাটকে নাট্যকার, পরিচালক এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন। ইবসেন ১৮৫৮ সালে ক্রিস্টিয়ানিয়ার জাতীয় থিয়েটারের সৃজন পরিচালক নিযুক্ত হন। তিনি সুজানা থোরেনসেন নামীয় ভদ্রমহিলাকে বিয়ে করেন, যার গর্ভে তার একমাত্র সন্তান সিগার্ড ইবসেন জন্ম নেয়। এই দম্পতি খুবই অর্থকষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করেছেন এবং নরওয়ের জীবন নিয়ে ইবসেন খুব হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। ১৮৬৪ সালে তিনি ক্রিস্টানিয়া ত্যাগ স্বেচ্ছা নির্বাসনে ইতালি চলে যান। তিনি এর পরের ২৭ বছর আর স্বদেশে ফিরে আসেননি। যখন ২৭ বছর পর তিনি দেশে ফিরেন, ততদিনে তিনি নাট্যকার হিসেবে খ্যাতির শীর্ষে আরোহন করেছেন।

নাটক ব্র্যান্ড (১৮৬৫) তাকে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়, যেটির জন্য তিনি ছিলেন ক্ষুধার্থের মত অপেক্ষা করছিলেন। ১৮৬৭ সালে তিনি প্রকাশ করেন পিয়ার গিন্ট, যেটির সুরারোপ করেছেন জনপ্রিয় সুরকার এডভার্ড গ্রেগ। ইবসেন পরে কিয়েরকেগরের রচনায় আকৃষ্ট হন এবং Either/Or ও ফিয়ার এন্ড ট্রেম্বলিং বই দুটি পড়েন। ইবসেনের পরবর্তী নাটক পিয়ার গিন্ট' কিয়েরকেগরের সচেতন নজরে এসেছিল। সাফল্যের সাথে সাথে ইবসেনের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তিনি নাটকে তার বিশ্বাস, বিচার ও চেতনার প্রকাশ ঘটাতে শুরু করেন। এই ধরনের নাটককে তিনি নাম দিয়েছেন "drama of ideas"। তার পরবর্তী নাটকের সিরিজকে ইবসেন নাটকের স্বর্ণযুগ বলা হয়ে থাকে, যেখানে তার ক্ষমতা, সৃজনীশক্তি ও প্রভাবের পূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে। এই ধরনের নাটক তখন ইউরোপে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

১৮৬৮ সালে ইবসেন ইতালি ছেড়ে জার্মানির ড্রেসডেনে গমন করেন। এখানে তিনি তার প্রধান সাহিত্য কর্মগুলো রচনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে এমপেরর এন্ড গ্যালিলিয়ান (১৮৭৩), যা রোমান শাসক জুলিয়ান দ্য অ্যাপোস্টেট এর জীবন ও সময় নিয়ে নির্মিত হয়েছে। ১৮৭৫ সালে ইবসেন মিউনিখে চলে যান এবং এখান থেকে ১৮৭৯ সালে প্রকাশ করেন বিখ্যাত নাটক আ ডলস হাউস।
১৮৮২ সালে তিনি প্রকাশ করেন অ্যান এনিমি অফ দ্য পিপল।

মলিয়েরজ্যঁ-ব্যাপ্টিস্ট পোকেলিন, যিনি তার মঞ্চনাম মলিয়ের নামেই পরিচিত, ছিলেন একজন ফরাসী নাট্যকার ও অভিনেতা। পশ্চিমা সাহ...
31/12/2013

মলিয়ের

জ্যঁ-ব্যাপ্টিস্ট পোকেলিন, যিনি তার মঞ্চনাম মলিয়ের নামেই পরিচিত, ছিলেন একজন ফরাসী নাট্যকার ও অভিনেতা। পশ্চিমা সাহিত্যের সেরা হাস্য-রসাত্বক লেখকদের একজন হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়। তার রচনাগুলোর মধ্যে ল্য মিসান্‌থ্রপি, ল্য এক্ল্‌ দেস্‌ ফেমেস্‌, টারটুফে অউ ল্য ইম্পোস্তার, ল্য আভ্রে, ল্য মালাদে ইমাজিনারে, ল্য বুর্জোয়িস জেন্টিওম্মে উল্লেখযোগ্য।

সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম ও কলেজ দে ক্লেরমন্ট- এর মতো নামকরা পড়াশোনা করার সুবাদে থিয়েটারে যোগ দেয়া তার জন্য বেশ সহজ হয়েছিল। ভ্রামমাণ অভিনেতা হিসেবে তের বছরের অভিজ্ঞতা তার লেখার হাস্যরসাত্বক উপাদানকে উন্নত করতে সাহায্য করেছিল। যেখানে তিনি ইতালীয় ঘরানার কমেডিয়া দেল'আর্টে এর উপাদানের সাথে ফরাসী পরিমার্জিত হাস্য-রসের সংমিশ্রণ ঘটান।

ওরলিয়েন্স এর ডিউক, ১ম ফিলিপ -যিনি ছিলেন রাজা চতুর্দশ লুইসের ভাই- এর মতো কয়েকজন প্রভাবশালী অভিজাতের পৃষ্ঠপোষকতায়, মলিয়ের লুভ্র্‌ -এ রাজার সম্মুখে একটি নাটক মঞ্চস্থ করতে সক্ষম হন। পিয়েরে কর্ণেলী- এর একটি ক্লাসিক নাটক ও তার নিজের লেখা প্রহসন ল্য ডক্টর আম্যোরাক্স মঞ্চস্থ করার মধ্য দিয়ে মলিয়ের লুভ্র্‌ এর নিকটেই পেটিট ব্যোর্বন নামক প্রশস্থ কক্ষ নাটক প্রদর্শনের কাজে ব্যবহার করার সুযোগ পান। পরবর্তীকালে তিনি প্ল্যাইস রয়্যাল ব্যবহারের সুযোগ পান। উভয় মঞ্চেই তার নাটকগুলো সাফল্য লাভ করে, যার মধ্যে ল্য প্রেসিউস রিডিকুলেস, ল্য এক্ল্‌ দেস্‌ মারিস, ল্য এক্ল্‌ দেস্‌ ফেমেস্‌ উল্লেখযোগ্য। রাজার সুনজরে পড়ার সুবাদে তার নাট্যদল রাজ ভাতাও লাভ করে এবং ত্রপে দে র‍্য বা রাজনাট্যদল উপাধিতে ভূষিত হয়। বিনোদনের জন্য সরকারী লেখক হিসেবে মলিয়ের নিয়োজিত হন।

যদিও মলিয়ের রাজা ও প্যারিসের অধিবাসীদের কাছ থেকে ভূয়সী প্রশংসা পান, তার বিদ্রুপাত্বক লেখা নীতিবিদ ও রোমের ক্যাথলিক চার্চের সমালোচনার মুখে পড়ে। ধর্মীয় ভন্ডামিকে আক্রমণ করে রচিত টারটুফে অউ ল্য ইম্পোস্তার চার্চের তীব্র সমালোচনার শিকার হয় এবং ডন জুয়ান মঞ্চস্থ করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নাটকের কাজে অত্যাধিক পরিশ্রমের ফলে তার স্বাস্থ্য দূর্বল হতে শুরু করে, ফলশ্রুতিতে ১৬৬৭ সালে তিনি বাধ্য হন মঞ্চ থেকে সাময়িক অবসর নিতে। ১৬৭৩ সালে ফুসফুসজনিত যক্ষ্মায় আক্রান্ত অবস্থাতেই তার জীবনের শেষ নাটক ল্য মালাদে ইমাজিনারে তে অভিনয় করেন। কিন্তু আর্গন নামক স্বাস্থ্য আতঙ্কিত রোগীর ভূমিকায় অভিনয়রত অবস্থাতেই উপর্যুপরি কাশি ও রক্তস্রাবের শিকার হন। তিনি নাটকটির অভিনয় শেষ করে মঞ্চেই ঢলে পড়েন এবং কয়েক ঘন্টার মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন।

বের্টোল্ট ব্রেখটবের্টোল্ট ব্রেখট(১০ই ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৮ - ১৪ই আগস্ট, ১৯৫৬) একজন বিখ্যাত জার্মান কবি, নাট্যকার ও মঞ্চ পরিচ...
30/12/2013

বের্টোল্ট ব্রেখট

বের্টোল্ট ব্রেখট(১০ই ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৮ - ১৪ই আগস্ট, ১৯৫৬) একজন বিখ্যাত জার্মান কবি, নাট্যকার ও মঞ্চ পরিচালক।

ব্রেখট জার্মানির বায়ার্ন রাজ্যে জন্ম নেন। জীবনের প্রথম ২৫ বছর তিনি সেখানেই কাটান। তার প্রথমদিককার সাহিত্য এখানেই প্রকাশিত হয়। ১৯১৭ সাল থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত ব্রেশ্‌ট মিউনিখে চিকিৎসাবিদ্যার ওপর পড়াশোনা করেন, কিন্তু তাঁর ঝোঁক ছিল সাহিত্যের দিকে। ১৯২৪ সালে ব্রেশ্‌ট ঠিকানা বদল করে বার্লিনে যান। সেখানে তিনি কিছুদিনের জন্য মঞ্চ পরিচালক মাক্স রাইনহার্ট ও এর্ভিন পিস্কাটর, এবং নাট্যকার কার্ল ৎসুক্‌মাইয়ারের সাথে কাজ করেন। ১৯২৮ সালে ব্রেশ্‌ট সুরকার কুর্ট ভাইলের সহযোগিতায় ইংরেজি অপেরা "দ্য বেগার্স অপেরা"-র একটি সম্পূর্ন সংশোধিত সংস্করণ প্রস্তুত করেন। অপেরাটি ডি দ্রাইগ্রোশেন্‌ওপার (Die Dreigroschenoper) নামে বার্লিনের থিয়েটার আম শিফবাউয়ারডাম-এ মুক্তি পায় ও দারুণ সাফল্য লাভ করে।

১৯৩০ সালে ব্রেশ্‌টের আউফষ্টিগ উন্ট ফাল ডের ষ্টাট মাহাগোনি অপেরাটি মুক্তি পাওয়ার পর চরম নিন্দিত হয়। ১৯৩১ সালে ডি দ্রাইগ্রোশেন্‌ওপার-এর চলচ্চিত্র সংস্করণ মুক্তি পায়। ১৯৩৩ সালে, রাইখষ্টাগে আগুন লাগার একদিন পর ব্রেশ্‌ট সপরিবারে জার্মানি ত্যাগ করেন। প্রথমে প্রাগ শহরে ও পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। কিছুদিন (১৯৪৫-১৯৪৭) তিনি হলিউডে কাজ করেন। ১৯৪৭ সালে মার্কিন-সোভিয়েত ঠান্ডা যুদ্ধের জের হিসেবে ব্রেশ্‌টকে অন্যান্য অনেক চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বের সাথে মার্ক্সবাদী সাম্যবাদী সন্দেহে জেরা করা হয়। জেরার পরপরই একই দিনে, ৩০শে অক্টোবর, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন। ১৯৪৯ সালে ব্রেশ্‌ট জুরিখ ছেড়ে পূর্ব বার্লিনে চলে আসেন। এখানে তিনি বার্লিনার অঁসম্বল গঠন করেন। ১৯৫৬ সালের ১৪ই আগস্ট ব্রেশ্‌ট পূর্ব বার্লিনে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।

ব্রেখট কবি হিসেবেই বেশি পরিচিত। তাঁর নাটকগুলির বেশির ভাগই অন্যের রচনার উপর ভিত্তি করে লেখা। তবে তাঁর সৃষ্টিশীলতা অন্যখানে; ব্রেশ্‌ট তাঁর "ফেরফ্রেমডুংস্‌এফেক্ট" ("Verfremdungseffekt", অর্থাৎ দূরত্বের ক্রিয়া)-এর জন্য পরিচিত ছিলেন, যার মাধ্যমে তিনি নাটকের দর্শকদেরকে নাটকীয় ইন্দ্রজালের নিষ্ক্রিয় পর্যবেক্ষকের ভূমিকার পরিবর্তে সক্রিয়, চিন্তাশীল অংশগ্রহণকারীর ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতেন। আজকাল ব্রেশ্‌টের মূল পরিচিতি ডি দ্রাইগ্রোশেনওপার অপেরায় লেখা তাঁর গানগুলির জন্য। অন্য অনেক শিল্পীর মত ব্রেশ্‌টও মৃত্যুর পরেই তার শিল্পকর্মের স্বীকৃতি পান।
১৯৩৩ সালে নাৎসিদের অত্যাচারে দেশ ছাড়ার পর ব্রেশ্‌ট বাকী জীবনটা অনেকটা ভবঘুরের মতই দেশ থেকে দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন; নিজের দেশ বলে তার কিছু ছিল না। কিছুদিন হলিউডে কাজ করলেও সে জায়গাটি তার পছন্দ হয়নি। পশ্চিমে তিনি নিন্দিত হয়েছিলেন কট্টর মার্ক্সবাদী হিসেবে। সাম্যবাদী সন্দেহে তাঁকে জেরা করা হয়। ১৯৪৯ সালে পূর্ব বার্লিনে ফেরত আসার পরে সেখানেও মূলধারার বাইরের নাটক লেখার কারণে সন্দেহের শিকার হন।

স্যামুয়েল বেকেট(১৯০৬-১৯৮৯) আধুনিক ইংরেজী সাহিত্যের স্বনামধন্য নাট্যকার স্যামুয়েল বার্কলে বেকেট। তিনি ছিলেন আধুনিক ইংরেজি...
28/12/2013

স্যামুয়েল বেকেট(১৯০৬-১৯৮৯)

আধুনিক ইংরেজী সাহিত্যের স্বনামধন্য নাট্যকার স্যামুয়েল বার্কলে বেকেট। তিনি ছিলেন আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যের একজন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব এবং নাট্যকার। স্যামুয়েল বার্কলে বেকেট ১৯০৬ সালের ১৩ এপ্রিল আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘মার্ফি’ ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় বেকেট নাৎসী বাহিনীর বর্বরতা সহ্য করতে না পেরে ফ্রান্সের সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেন।

বেকেটের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকর্ম ‘ওয়েটিং ফর গডো’ ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয়। এই নাটকের চরিত্রগুলো যখন কথা বলে তখন তাদের মনে হয় বাস্তবতা থেকে খানিকটা দূরের মানুষ, তারা কবিতার মতো কথা বলে।

১৯৬৯ সালে তিনি লাভ করেন সাহিত্যে সর্বোচ্চ সম্মান নোবেল পুরস্কার।

সেলিম আল দীন (১৮ই আগস্ট, ১৯৪৯ — ১৪ই জানুয়ারি, ২০০৮) একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার ও গবেষক। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে...
27/12/2013

সেলিম আল দীন (১৮ই আগস্ট, ১৯৪৯ — ১৪ই জানুয়ারি, ২০০৮) একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার ও গবেষক। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি নাটকের আঙ্গিক ও ভাষার উপর গবেষণা করেছেন। বাংলা নাটকের শিকড় সন্ধানী এ নাট্যকার ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাট্যের বিষয় ও আঙ্গিক নিজ নাট্যে প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলা নাটকের আপন বৈশিষ্টকে তুলে ধরেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সেলিম আল দীন, যুক্ত হন ঢাকা থিয়েটারে। ১৯৭৪ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসাবে যোগ দেন। মধ্যযুগের বাংলা নাট্যরীতি নিয়ে গবেষণা করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। বাংলাদেশে একমাত্র বাংলা নাট্যকোষেরও তিনি প্রণেতা। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনাচরণকেন্দ্রিক এথনিক থিয়েটারেরও তিনি উদ্ভাবনকারী।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠা সেলিম আল দীনের হাত ধরেই। ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সেলিম আল দীন ১৯৮১-৮২ সালে নাট্য নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফকে সাথী করে গড়ে তোলেন গ্রাম থিয়েটার।

তাঁর প্রথম রেডিও নাটক বিপরীত তমসায় ১৯৬৯ সালে এবং টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় লিব্রিয়াম (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে। আমিরুল হক চৌধুরী নির্দেশিত এবং বহুবচন প্রযোজিত প্রথম মঞ্চনাটক সর্প বিষয়ক গল্প মঞ্চায়ন করা হয় ১৯৭২ সালে। তিনি শুধু নাটক রচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বাংলা ভাষার একমাত্র নাট্য বিষয়ক কোষগ্রন্থ বাংলা নাট্যকোষ সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদনা করেছেন। তার রচিত হরগজ নাটকটি সুয়েডীয় ভাষায় অনূদিত হয় এবং এ নাটকটি ভারতের রঙ্গকর্মী নাট্যদল হিন্দি ভাষায় মঞ্চায়ন করেছে।
সেলিম আল দীনের প্রথমদিককার নাটকের মধ্যে সর্প বিষয়ক গল্প, জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, মূল সমস্যা, এগুলোর নাম ঘুরে ফিরে আসে। সেই সঙ্গে প্রাচ্য, কীত্তনখোলা, বাসন, আততায়ী, সয়ফুল মূলক বদিউজ্জামান, কেরামত মঙ্গল, হাত হদাই, যৈবতি কন্যার মন, মুনতাসির ফ্যান্টাসি ও চাকা তাকে ব্যতিক্রমধর্মী নাট্যকার হিসেবে পরিচিত করে তোলে। জীবনের শেষ ভাগে নিমজ্জন নামে মহাকাব্যিক এক উপাখ্যান বেরিয়ে আসে সেলিম আল দীনের কলম থেকে।

১৯৮৪ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ২০০২ সালে পান কথাসাহিত্য পুরস্কার। ১৯৯৪ সালে তিনি নান্দিকার পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৪ সালে শ্রেষ্ঠ টেলিভিশন নাটক রচয়িতার পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি পান শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার পান ২০০১সালে। সেলিম আল দীন বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্মানীয় পুরস্কার একুশে পদক লাভ করেন ২০০৭ সালে। ১৯৯৫ সালে তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে নাটক এর উপর গবেষণা করে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন।

তিনি ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারী মৃত্যুবরণ করেন।

Address

Section 11, Block A, Road 4, House 2, Mirpur
Dhaka
1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Theatre Factory posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share