15/02/2024
বইমেলার পথে
বইমেলায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে দুপুর ঠিক দুইটায় শাহবাগ মোড়ে বাস থেকে নামলাম। ফুলের দোকানগুলোর পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বাতাসে তোমার শরীরের চিরচেনা সেই ঘ্রাণ পেলাম। চিন্তিত হয়ে ভ্রু কুঁচকে মাথা নিচু করে থমকে দাঁড়ালাম। চোখের কোনের ঝাপসা আড়দৃষ্টিতে মনে হলো তোমার ছায়া দেখলাম। আড়চোখেই মনোযোগ দিয়ে দৃষ্টি পরিষ্কার করলাম। হ্যাঁ, তোমার ছায়াই। আমার পায়ের নীচ থেকে ফুটপাত যেন কিছুটা ধ্বসে গেল। আমি সারা শরীরে পাঁচ মাত্রার ঝাঁকুনি অনুভব করলাম। তোমার মুখের দিকে তাকানোর সাহস আমার নাই। কি করে তাকাই? আমিই তো অপরাধী। সেই কবে তোমাকে পরিত্যাগ করেছি। অবশ্য আমিও শাস্তি হিসেবে পরিত্যক্ত হয়েছি ভাষাহীন আনন্দ থেকে। তুমি কি আজ নীল পাড়ের আকাশি শাড়ি পরেছো? হাতে রেশমী চুড়ি, কপালে বড় গোল টিপ পরেছো? না, এসব জানার দেখার অধিকার এখন আর আমার নাই। কেন তুমি এসে পাশে দাঁড়ালে! আমি বরং চলি। নয়তো আবার তোমার প্রেমে পড়ে যাবো। তাহলে কেলেঙ্কারির শেষ থাকবে না। আগের দিন সময় মুঠো মুঠো করে গিলে খেয়েছে। ঘরে এখন আমার বউ আছে। আমি বেখেয়ালি হতে পারবো না। রাত করে বাড়ি ফিরতে পারবো না। সবুজ ঘাসে তোমার কোলে মাথা রেখে আকাশ দেখতে পারবো না। রিক্সায় হুড তুলে গভীর মনোযোগে তোমার সাথে প্রেম করতে পারবো না। তোমার হাত ধরে মাথার উপর আগুনের গোলা আর ভেতরে সব ভাংচুরের স্বপ্ন দেখতে পারবো না। না না আমার চিন্তার সময় নাই। আমি যাই। একি তুমি পা মিলিয়ে আমার সাথে হাঁটছো কেন? দেখ, আগে আমরা একসাথে আমার বাম পায়ের সাথে তোমার ডান পা, তোমার বাম পায়ের সাথে আমার ডান পা মিলিয়ে হেঁটেছি। অনেক চেষ্টা করে দু'জনে একই তাল লয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া ছাড়া রপ্ত করে ফেলেছিলাম ঠিক আছে, কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই। তোমাকে ব্যবহারের দীর্ঘ অনভ্যাসে আমি এখন ছন্দহীন আবোলতাবোল পয়ার। গদ্যের বুকেও স্থানে স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যার ভেতর থেকে ভকভক করে বেরিয়ে আসে দুর্গন্ধ। তুমি সহ্য করতে পারবে না। আমার সাথে এসো না। আমাকে ছেড়ে দাও। তোমাকে ধারন করার ক্ষমতা আমার নাই। হয়তো ছিল না কোনকালেই। কেন বোঝো না? রঙের ভেতরে রঙ দিয়ে তোমাকে সাজিয়ে তোলার অবসর আমার নাই। আমি এখন একরঙা-ছাই। না আঙুলে আঙুল আলতো করে ছুঁয়ে দিও না। এসবে আমি এখন গলে যাই না। গলার মতো সময় কোথায় বলো! সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকি অর্থের সন্ধানে যেন চাতক পাখি, বেঁচে থাকার জন্য একফোঁটা জল যার খুব প্রয়োজন। এত যে বলছি সময় নেই সময় নেই। তুমি আবার তাতে আমাকে বর্তমানে অনেক টাকাওয়ালা মনে করো না। তোমাকে বলতে দ্বিধা নেই। কারন তুমিই সবচেয়ে ভালো জানো আমার ফেলা আসা অতীত। শোনো, এই যে বইমেলায় যাচ্ছি, তা কিন্তু বই কিনতে না। আসলে বই কেনার পয়সাও এই মুহূর্তে আমার পকেটে নাই। তাহলে বই মেলায় কেন যাচ্ছি? এ প্রশ্ন তুমি করতেই পারো। বইমেলায় যাচ্ছি কারন সেখানে এমন একজন আছে যিনি আমাকে অনলাইন থেকে টাকা ইনকামের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি বাৎলে দেবে। ওই ইউটিউবে কিভাবে ভিডিও দেখেই নাকি টাকা ইনকাম করা যায়। কোন মাথা খাটাতে হয় না। কি আমার শরীর থেকে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে? আমি আগেই বলেছিলাম। না আমাকে জড়িয়ে ধরার কোন চেষ্টা করো না। দোহাই তোমার আমাকে ছেড়ে দাও কবিতা, আমি দু'মুঠো খেয়ে বাঁচি। বেঁচে থাকাই এখন আমার বড় সফলতা। তুমি যাও তোমার যেখানে খুশি। আমি চললাম। ভালো থেকো কবিতা।