08/10/2024
৫ আগস্ট বাংলাদেশের সামনে এক অবারিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছিলো। এই দিনটি ঐক্যবদ্ধভাবে দল-মত-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকলে মিলে মিশে একটি অনবদ্য বাংলাদেশ তৈরির সুযোগ এনে দিয়েছিলো আমাদের সামনে। কিন্তু আমরা মনে হয় প্রকৃতির (যার নিয়ন্ত্রক মহান আল্লাহ) সেই বিশাল অবদানকে হেলায় হারাতে বসেছি। কী নিদারুন ভয়াবহ সিচুয়েশন চিন্তা করুন, কোনও একটি দল, আবারও রিপিট কোনও একটি দল জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারলো না, এইমুহুর্তে আমাদের করনীয় বর্জনীয় দিক কী!
ফ্যাসিবাদ পতনের মধ্য দিয়ে একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চাহিদার আলোকে নতুন করে কীভাবে নির্মাণ করা যায় তার একটা রূপকল্প তৈরি করা, অচেনা অনভিজ্ঞ লোকদের দিয়ে পরিচালিত একটি সরকারকে বাঞ্চিত সহায়তা করে তাকে শক্তিশালী করা, নিজেদের দলীয় রাজনৈতিক সংস্কার আর কর্মীদের মানোন্নয়নের দিকে কোনও দলই নজর দেয়নি।
ইসলামী রাজনৈতিক দল আর আল আলেম-ওলামাগণের অবস্থা আরো হতাশাজনক। তাদের প্রযোজনায় হুংকার, হুমকি, নিজেদের ক্ষমতারকেন্দ্রবিন্দুতে বিবেচনাপ্রসূত আচরণ, প্রতিপক্ষের উপর অক্রমনাত্বক হয়ে ওঠার অনভিপ্রেত প্রদশর্নী শুরু হলো। ধরুন, আপনারা যদি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী-ই চর্চা করবেন, তাহলে এটা ছিলো (৩৬ জুলাইর পট-পরিবর্তন) অনেকটা হুদায়বিয়ার সন্ধিকালীন ট্রানজেশনের মতো। (এরপর ফাতহে মক্কা, নবীজীর ওফাত, সিদ্দিকে আকবর আবুবকরের শাসনামল পেরিয়ে হযরত ওমর রাযিআল্লাহু আনহুম এর শাসনকালটা ছিলো মূলত: বিজয়ী ইসলাম অবলোকনের প্রকৃত সময়কাল।) কিন্তু উনাদের আচরণ এবং তৎপরতা মোটেই দূরদর্শী ও সাস্টেইনেবল ভিক্টরির ম্যাচুইরিটি প্রদর্শন করেনি। করণীয় নির্ধারণেও ছিলো এমনকি এখনো আছে বালখিল্য, প্রচারনাবাহুল্য, ক্ষমতার মোহ এবং অপরিমিত আত্মতুষ্টির সমষ্টি। সমগোত্রীয় মজলুমানদের সাথে খোঁচা-খুচি , গায়ে পড়ে দূরত্ব বৃদ্ধির অপসংস্কৃতি অতীব দৃষ্টিকটু। ফলে পতিত ফ্যাসিস্টরা সংঘটিত হচ্ছে আর বিষবাস্প ছড়াচ্ছে।
এবার সবাই মত্ত হয়ে গেলো আমোদ-প্রমোদে। ইসলামেতো নাচ-গান নিষিদ্ধ তাই এর বিকল্প হিসেবে সুফিবাদী সংস্কৃতির ধার করা উপকরণ কাওয়ালী, প্রতিপক্ষ নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, ঠাট্টা-তামাশা-মজা-মস্করার পশরা, একপেশে সুরেলা আবৃত্তি আর দলীয় গীতিআলেখ্যকে দিয়ে সাজানো উদযাপনে ব্যস্ত হয়ে গেলো সবাই। বক্তৃতায় চলছে একপেশে হুংকার আর রাষ্ট্রক্ষমতার পক্ষে জনমত তৈরির পুরোনো ব্যর্থ কৌশল।
উন্নত ইসলামী আদর্শিক চিন্তার আলোকে সমাজ ও রাষ্ট্র পূণর্গঠনে নির্দেশনার অভাব, শুদ্ধ ও উন্নত সংস্কৃতিক কাঠামো উপস্থাপনের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে পীড়াদায়ক।
এই সরকারের চলমান স্থবিরতা, নতুন প্রত্যাশা দূরে থাক, স্বাভাবিক কাজকর্মেই তার অসারতার প্রদর্শন জনগণকে আশাহত করছে। ‘’আগেই ভালো ছিলাম’’ বা ‘’কী লাভ হলো’’ প্রান্তিক মানুষদের এসব সংলাপ শুধু এই সরকারের জন্যই না, ফ্যাসিজম বিরোধী প্রতিটি সৈনিকের গালে এক লজ্জাস্কর চপেটাঘাত।
বর্তমান সরকারের মেয়াদ উত্তরণ (সাফল্য বা ব্যর্থতায়), সংস্কার, নির্বাচন এরপর সেই নির্বাচনে জয়-পরাজেয়র আলোকে ক্ষমতাভোগ; অনেক অনেক অনেক দূরের আলাপ। নিজেদের চোখখে দূরদৃষ্টিময় করুন। এমন খন্দকের রক্ষণবূহ্য গড়ে তুলুন, যার খননকালের পাথরের ঘর্ষণে বিম্বিত আলোকচ্ছটায় রোমের রাজপ্রাসাদের পতন দৃষ্টিগোচর হয়। দূরদৃষ্টি খুবই প্রয়োজন ইসলাম ও মানুষের স্বার্থে।
মনে রাখতে হবে, আপনার পরিকল্পনায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সাহায্য তখনি আসবে যখন সেটার গুণগত মান শয়তানের পরিকল্পনা অপেক্ষা উত্তম হবে।
পরাজিত শক্তির উৎপীরক পদনিক্কন অনেক অশুভ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ… #কাণ্ডারীহুঁশিয়ার!
#কথাবার্তাবলতেইহবে #গড়তেহলেভাঙ্গতেহবে