HearTs Hacker

HearTs Hacker লা ইলাহ ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ।। Amra manus tai sobai ke manobik disti te dekhbo. Aj hoyto apnar onk taka poysha ace. Eibar ektu bhaben to apni jod

Agamil kal je apnar ei taka poysha thakbe tar kono niccoyota nei. Hoyto taka poysha thakbe kintu apni thakben na.

30/09/2025

বেশি শিক্ষিত, ই'গো ওয়ালা, বেশী ফ্যাশনেবল, টাকার গ'র'ম দেখানো, উচ্চবিত্ত মা'নুষদের থেকে নিজেকে দূরে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য'বোধ করি!🖤🌸

 #অশ্রুজলে_বোনা_বিয়ে(সিজন ৩)  #ইয়াসমিন_খন্দকারআমিনা তার ছেলে আবরাজকে শক্ত করে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে। তার চোখ জলে টইটুম্বু...
23/08/2025

#অশ্রুজলে_বোনা_বিয়ে(সিজন ৩)

#ইয়াসমিন_খন্দকার

আমিনা তার ছেলে আবরাজকে শক্ত করে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে। তার চোখ জলে টইটুম্বুর। আমিনা বলে,"আমাকে একবার মা বলে ডাকো বাবু..তোমার থেকে মা ডাক শোনার জন্য যে আমি এতগুলো দিন চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় ছিলাম।"

আবরাজ জাঈদের দিকে তাকায়। জাঈদ তাকে ইশারা করে আমিনাকে মা ডাকতে। তখন আবরাজ বলে ওঠে,"মাম্মি!"

আমিনা কি প্রতিক্রিয়া দেবে আর বুঝতে পারে না৷ সে মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। আবরাজকে জড়িয়ে ধরে ছোট বাচ্চাদের মতো কাঁদতে থাকে। এদিকে আকাশ ক্ষিপ্তগতিতে জাঈদের দিকে এগিয়ে এসে বলে,"এরকমটা কিভাবে করতে পারলে তুমি জাঈদ ভাইয়া? তুমি জানো, আপু এই ৬ টা বছর কিভাবে তিলে তিলে শেষ হয়ে গেছে। তুমি যদি সত্যি তোমাদের ছেলেকে খুঁজে পেয়েছিলে তাহলে তাকে নিয়ে ফিরে এলে না কেন? কেন আমার বোনের লাইফটা এভাবে শেষ করে দিলে।"

আরুশি এগিয়ে আসেন৷ তিনিও জাঈদের গালে ঠাস করে থাপ্পড় বসিয়ে দেন। জাঈদ লজ্জায় মাথা নত করে নেয়। আরুশি বলে,"আর কত আমায় ছোট করবে তুমি? তোমায় জন্ম দিয়ে আমি কি এমন পাপ করেছিলাম যার জন্য আজ এই দিন দেখতে হচ্ছে।"

আরহাও নিজের ভাইকে তীব্র ভৎসনা করে বলে,"তোমার থেকে এমনটা আশা করিনি আমি ব্রো। তুমি আমিনা আপুর সাথে এত বড় অন্যায়টা কিভাবে করলে? আর রিয়ু তুই...তুই তো আমাদের সত্যটা জানাতে পারতি। তোর সাথে আমার কত কথা হতো। তবুও তুই কিছু বললি না।"

এমন সময় মাশরাফি সেখানে উপস্থিত হয়। সে এসেই রিয়াশার গালে ঠাস করে থাপ্পড় মারে। মাশরাফির সাথে মিসেস রুমিও ছিলেন। মাশরাফি বলে,"জাঈদ ভাই একা অন্যায় করে নি তার এই অন্যায়ে তুইও সঙ্গ দিয়েছিস রিয়াশা। এর জন্য তোকে আমরা কখনো ক্ষমা করব না।"

রিয়াশা অসহায় চোখে তাকায়। জাঈদ বলে,"রিয়াশার কোন দোষ নেই৷ আমিই ওকে ব্ল্যাকমেইল করে সবটা লুকিয়ে রাখতে বলেছিলাম। তোমরা প্লিজ ওর উপর রাগারাগি করো না। যা শাস্তি দেবার আমাকে দাও।"

আরুশি বলে ওঠেন,"হ্যাঁ, তোমাকে তো শাস্তি পেতেই হবে। তুমি যা করেছ তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। আজ থেকে তুমি আমাদের কারো কেউ নও। এত বছর যখন আমাদের থেকে আমাদের বাড়ির ছেলেকে আলাদা রেখেছ তখনই তোমার সাথে আমাদের সব সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে।"

"মাম্মা!"

"চুপ, আমাকে আর মাম্মা বলে ডাকবে না। এখনই বেরিয়ে যাও এখান থেকে। আমরা কেউ তোমার মুখ দেখতে চাই না।"

এমন সময় আফিফা খান বলে ওঠেন,"এত বছর পর, পরিবারটা আবার এক হলো তখন এসব ভুল বোঝাবুঝি বাড়িয়ে কি লাভ আরু? সব মিটিয়ে নে তোরা। আমি শেষ বয়সে এসে পরিবারকে একসাথে দেখতে চাই।"

এদিকে জাঈদ অপরাধবোধে ভেতর থেকে একদম শেষ হয়ে যাচ্ছিল। সে বলে,"না, মাম্মা ঠিকই বলেছে। দোষী যখন আমি তখন শাস্তিও আমাকেই পেতে হবে। আমি চলে যাব সব ছেড়ে। আমাদের ছেলে রাজকে আমি আমিনার থেকে এত বছর আলাদা রেখে যে পাপ আমি করেছি তার প্রায়শ্চিত্ত আমায় করতেই হবে। আমি আজ রাজকে আমিনার কোলে তুলে দিয়ে চলে যাব এই বাড়ি ছেড়ে। বাকি জীবনটা আমি একা কাটাবো। এটাই আমার শাস্তি।"

বলেই সে আবরাজের কাছে এসে তার কপালে চুমু খায়। আমিনা জাঈদের থেকে মুখ ফিরিয়ে ছিল। জাঈদ আমিনার সামনে হাতজোড় করে ক্ষমা চায় অতঃপর আমিনার পায়ের কাছে বসে বলে,"পারলে আমায় ক্ষমা করো..."

বলেই সে আবরাজকে বলে,"তুমি নিজের মাম্মিকে সবসময় ফিরে পেতে চাইনে না রাজ? আজ আমি তোমাকে তোমার মাম্মির কাছে ফিরিয়ে দিলাম। এখন বাকি জীবনটা তুমি নিজের মাম্মির সাথে কাটাও।"

আবরাজ বলে ওঠে,"তুমি কোথায় যাবে পাপ্পা? আমি তো মাম্মি, পাপ্পা দুজনের সাথেই থাকতে চেয়েছি সবসময়।"

"আমি যে অনেক বড় ভুল করেছিলাম রাজ। তোমাকে আমি এতগুলো বছর তোমার মায়ের থেকে দূরে রেখেছিলাম। তার জন্য একটু শাস্তি তো আমি ডিজার্ভ করি।"

আবরাজ বলে ওঠে,"প্লিজ পাপ্পা..আমাকে ছেড়ে যেও না। আই নিড ইউ.."

"না, রাজ। ছেলেমানুষী করো না। তোমার এখন তোমার মায়ের সাথে থাকা দরকার। এতবছর আমার জন্য তুমি মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছ। এখন মা-ছেলে মিলে সেই সব অভাব পুষিয়ে নাও।"

বলেই জাঈদ বের হয়ে যেতে নেয়। আবরাজের চোখে জল৷ আমিনা সেটা দেখে বলে,"দাঁড়াও জাঈদ.."

জাঈদ দাঁড়িয়ে যায়। আমিনা জাঈদের কাছে এগিয়ে গিয়ে বলে,"এতবছর তুমি আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছ। কিন্তু আমার ছেলেকে কষ্ট দেয়ার কোন অধিকার তোমার নেই। তোমাকে এখানেই থাকতে হবে, আমাদের ছেলের জন্য।"

আকাশ বলে ওঠে,"এসব তুমি কি বলছ আপু? জাঈদ ভাইয়া এত কিছু করার পরেও তুমি তাকে এখানে থাকতে বলছ। এত বছরের এত কষ্ট নিমেষেই ভুলে গেলে? তুমি কি ওকে ক্ষমা করতে চাইছ?"

আমিনা জাঈদের দিকে তাকিয়ে বলে,"ও আমার সাথে যা করেছে তাতে আমি মৃত্যুর আগে অব্দি ওকে ক্ষমা করতে পারবো না। কিন্তু তাই বলে ওর সাথে প্রতিশোধের নেশায় এখন আমি নিজের ছেলেকে কষ্ট পেতে দেব না।"

আরুশি কিছু বলতে যাবেন তখন আমিনা তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে,"প্লিজ বড় আম্মু,,,অন্তত আমার বাবুর জন্য হলেও জাঈদকে এখানে থাকার অনুমতি দাও। আমার ছেলেটা ছোটবেলা থেকে মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমি চাই না, এখন আমাদের জেদ বা প্রতিশোধের নেশায় ও বাবার আদর থেকেও বঞ্চিত হোক। এতে ওর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।"

সায়রা খান বলে ওঠেন,"আমি আমিনার এই সিদ্ধান্তে ওর পাশে আছি। মানছি জাঈদ ভুল করেছে। কিন্তু এখন আমরা আবার সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে পারি না। শাস্তি অন্যভাবেও দেয়া যায়। বারবার কেন শাস্তির নামে একজনকে পরিবার থেকে বিছিন্ন করতে হবে? প্রথমে আরহাকে, তারপর আমিনাকে..এভাবে আর কতদিন এই একই প্রতিশোধের গেইম চলবে? এবার এর ইতি ঘটুক। জাঈদ এই বাড়িতেই থাকবে।"

জাঈদ আমিনার দিকে তাকিয়ে বলে,"আমি আমাদের ছেলেকে এতবছর তোমার থেকে দূরে রাখলাম আর তুমি কিনা সুযোগ পেয়েও আমার থেকে আমার ছেলেকে দূরে যেতে দিচ্ছ না। তোমার এই কাজ যে আমার অপরাধবোধ আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে আমিনা।"

আমিনা বলে,"আমি শুধু আমার ছেলের থেকে ওর বাবাকে আলাদা করতে চাই না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমি তোমাকে ক্ষমা করেছি। জীবনে যতদিন বেচে আছি ততদিন আমি শুধু তোমাকে ঘৃণাই করে যাবো।"

বলেই আমিনা তার ছেলে রাজকে কোলে তুলে নিয়ে রুমের দিকে যায়। আরুশিও বলে ওঠে,"আমার কাছেও তুমি নিজের অবস্থানটা হারিয়ে ফেলেছ জাঈদ। তুমি আর আমার ছেলে নও, শুধু আমিনার জন্য আমি তোমাকে এই বাড়িতে থাকতে দিচ্ছি। কিন্তু আমাদের কারো সাথে তোমার কোন সম্পর্ক থাকবে না। খবরদার আমাকে মাম্মা বলে ডাকবে না কিংবা আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করবে না। তোমাকে দেখলেও আমার মাথাটা ঘৃণা আর রাগে ফেটে পড়ছে।"

বলে তিনিও চলে যান। সায়রা খানও বলেন,"আমার মেয়ের সাথে তুমি অনেক অন্যায় করেছ। আমি কোনদিনও তোমায় ক্ষমা করব না।"

আকাশও বলে,"আমার কাছে তুমি একসময় রোল মডেল ছিলে। কিন্তু আজ আমার মনে হচ্ছে, তুমি যদি আমার বড় না হতে তাহলে তোমার গালে ঠাস করে দুটো থাপ্পড় বসিয়ে শান্তি পেতাম।"

আরহাম ও আফিফা খান কিছু না বলে চুপচাপ চলে যান। আরহা বলে ওঠে,"আমিও তোমায় কখনো ক্ষমা করবো না ব্রো। আমার ব্রো এই দুনিয়ার সবথেকে জঘন্য মানুষ আজ থেকে আমার কাছে।"

বলেই সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। মাশরাফি আরহাকে সামলায় আর রিয়াশাকে বলে,"আজ থেকে রিয়াশার সাথেও আমাদের কোন সম্পর্ক নেই।"

রিয়াশা কান্নায় ভেঙে পড়ে। মিসেস রুমিসহ সবাই তার থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে যায়। পাশে দাঁড়ানো সাফোয়ান রিয়াশার অশ্রুসিক্ত চোখের দিকে তাকিয়ে দুঃখবোধ করে। তার ভীষণ মায়া কাজ করে এই অচেনা মেয়েটার প্রতি। তাই তো নিজের পকেট থেকে টিস্যু বের করে রিয়াশার দিকে বাড়িয়ে দেয়।
To be continue....

—"মানা করেছিলাম না বোরখা-হিজাব ছাড়া বাসা থেকে বের না হতে? করেছিলাম কি না বলোওও?"কলেজ মাঠের ভিড় ঠাসা পরিবেশে এমপি সারফারা...
23/08/2025

—"মানা করেছিলাম না বোরখা-হিজাব ছাড়া বাসা থেকে বের না হতে? করেছিলাম কি না বলোওও?"

কলেজ মাঠের ভিড় ঠাসা পরিবেশে এমপি সারফারাজ ইউসুফ খানের ধ*মকের স্বরে বলা কথায় মুহূর্তেই কেঁপে উঠলো পিহুর ছোট্ট মনটি। হরিণীর মতো টানা টানা কাজল কালো চোখ দু’টো নোনাজলের পুকুরে পরিণত হয়ে গিয়েছে। অ*প*মানে-লজ্জায় মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে আছে কলেজ মাঠের মাঝখানে ইউসুফের সম্মুখে পিহু।
ওর পরণে টকটকে লাল জর্জেটের একটা থ্রি-পিস রয়েছে। ওড়নাটা একপাশ দিয়ে নেওয়া। অন্যপাশে হাঁটু ছুঁই ছুঁই চুলগুলো বিরাজ করছে। লাল এই রঙটা ওর উজ্জ্বল শ্যমলা শরীরে অদ্ভুত মানিয়েছে। পরক্ষণেই কাচুমাচু কণ্ঠে পিহু বললো....

—"আমার কোনো বোরখা নেই। মাত্র দুইটা জামা আছে। কেবল এই দু’টোই বাড়ির বাহিরে পড়ে আসার উপযুক্ত। এই জামা দু’টোও আমার না। আমার বড় বোনের। এক বছর ব্যবহার করার পর ওর কাছে আর ভালো না লাগায় আমাকে পড়ার জন্য দিয়েছে।"

ইউসুফ কিছুটা থ*ম*কালো পিহুর এরূপ কথা শুনে। ভ্রু কুঁচকে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত একবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পরখ করলো সে পিহুকে। ভ*য়ে গুটিয়ে যাচ্ছিলো পিহু। পরক্ষণেই ইউসুফ নিজের শক্ত হাত দ্বারা পিহুর ডান হাতের কব্জি চেপে ধরে কলেজ গেইটের দিকে হাঁটা শুরু করলো। ভয়ে সিঁটিয়ে আসা মনে কিন্ঞ্চিত সাহস সন্ঞ্চার করে পিহু বললো.....

—"ক-কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে? সবাই দেখছে। আপনার আমার সাথে এমন আচরণ করা ভা-ভালো দেখাচ্ছে না যে তা কি আপনার নজরে পড়ছে না?"

ইউসুফ থেমে দাঁড়িয়ে চোখেমুখে তীব্র কঠোরতার ছাপ ফুটিয়ে আশেপাশে একবার দৃষ্টি বুলিয়ে নিলো। তার এই একটিমাত্র নজরই যথেষ্ট ছিলো শ্বাসরুদ্ধ নীরবতায় পুরো কলেজকে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। শিক্ষক-শিক্ষিকারা চোখ নামিয়ে দ্রুত পায়ে অফিস রুমের দিকে চলে গেলেন। ছাত্র-ছাত্রীরাও আ*ত*ঙ্কে মুখ চাওয়া-চাওয়ি না করেই ছুটে গেলো নিজ নিজ ক্লাসকক্ষে। কয়েক সেকেন্ড আগেও যেখানে ঠাসা ভিড় জমে ছিলো। সেই নীরব পরিবেশে এখন কেবল ইউসুফ আর পিহুর নিঃশ্বাসের শব্দও শোনা সম্ভব হচ্ছে যেনো। পরপরই ইউসুফ ঘাড় হালকা ঘুরিয়ে পিহুর দিকে তাকিয়ে বললো......

—"নিজের কামাইয়ে খাই, নিজের ক্ষমতায় চলি। কারো বাপের হোটেলে খাই না। তাই কে কিভাবে আমার আচরণ নিলো না নিলো সেটা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই।"

পিহু এবার আরো একটু সাহস দেখিয়ে বললো....

—"আপনি অনেক ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ সেটা এই কলেজের প্রতিটা ইট-পাথরও জানে। কিন্তু আমি! আমি অতি সাধারণ পরিবারের মেয়ে। আমার কোনো ক্ষমতা নেই। তাই আমার লাজ-লজ্জাও আছে। হাত ছাড়ুন আমার।"

মুহূর্তেই ইউসুফের চোয়াল শক্ত হলো। কণ্ঠ নিচু করে হাড় হিম করে দেওয়ার মতো করে বললো.....

—"মুখ দিয়ে আর একটা শব্দ উচ্চারণ করলে এই কলেজের মাটির নিচেই তোমাকে জীবন্ত পুঁ*তে ফেলবো। তখন না থাকবে তোমার বাহ্যিক অস্তিত্ব আর না থাকবে আত্মীক অস্তিত্ব বুঝলে!"

ইউসুফের কথায় পিহুর ভিতরটা এবার ভ*য়ে পুরোপুরি জমে গেলো যেনো৷ একটা শব্দ মুখ থেকে বের করার সাহস সে করে উঠতে পারলো না। ইউসুফ পিহুর হাত ওভাবেই শক্ত করে ধরে কলেজের গেইট পেরিয়ে বাইরে তার দাঁড় করিয়ে রাখা কালো বিএমডব্লিউ গাড়িটার সামনে এসে দাঁড়ালো। মুহূর্তের মধ্যে গাড়ির দরজা খুলে দিলো একজন কালো পোশাকধারী বডিগার্ড।

ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে আ*ত*ঙ্কে আচ্ছন্ন পিহুকে বসিয়ে দিয়ে ইউসুফ স্বয়ং ড্রাইভিং সিটে বসে পড়লো। ইউসুফের গাড়ির ঠিক পিছনেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে আরও তিনটি কালো গাড়ি। প্রতিটি গাড়ি ভর্তি রয়েছে কালো পোশাকধারী বিশাল বিশাল ব*ন্দু*ক হাতে নেওয়া বডিগার্ডসরা। ইউসুফ গাড়ি স্টার্ট করলো। কালো কাফেলার মতো গাড়িগুলো কলেজ এড়িয়ে ছেড়ে বেরিয়ে এলো।

প্রায় ত্রিশ মিনিট পর রাজধানীর ব্যস্ততম সড়ক পেরিয়ে ইউসুফের গাড়িটি এসে দাঁড়ালো ঢাকার সবচেয়ে বড় মার্কেটের সামনে। কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীর ভেতরে থেকে গাড়ির দরজা খুলে দেওয়া হলো। ইউসুফ পিহুকে নিয়ে প্রবেশ করলো মার্কেটের ভেতরে।

একে একে ইউসুফ পিহুর জন্য কিনে ফেললো ১০০ এরও বেশি বোরখা-হিজাব, নানারঙের হিজাব পিন, দামি দামি পাথরের ব্রঞ্জ। আর ১৫০ এরও বেশি দামী ও নিখুঁত কাজ করা শাড়ি-থ্রি-পিস। প্রতিটি দোকানদার বিস্ময়ের নজরে তাকিয়ে দেখছে এমন অস্বাভাবিক কেনাকাটা। ইউসুফ গম্ভীর কণ্ঠে সবাইকে নির্দেশ দিলো সবকিছু যেনো নিখুঁতভাবে প্যাকিং করা হয়। অতঃপর ইউসুফ পিহুর সামনে এসে দাঁড়িয়ে শীতল ও ভারী কন্ঠে বললো.....

—"আমার হবু বউয়ের পরিধান করার মতো বোরখা নেই, জামা নেই! এই লজ্জা সহ্য করার মতো ছিলো না। শোনো প্রিটিহার্ট আজ থেকে এই পুরো মার্কেট তোমার জন্য বুক করা থাকলো। যখন যেটা মন চাইবে এসে নিয়ে যাবে। কেউ তোমার দিকে চোখ তুলে তাকাবে না একটা শব্দও উচ্চারণ করবে না। যদি সেই সাহস কেউ দেখানোর চেষ্টা করে তবে তার সাথে পারসোনালি কথা আমি বলবো।"

ইউসুফের কারোর সাথে পারসোনালি কথা ঠিক কেমন ধাঁচের হতে পারে সে সম্পর্কে হালকা হলেও ধারণা পিহুর আছে। পিহু ইউসুফের দিকে তাকালো। ইউসুফের গাড় নীলরঙা দু’চোখের মণিজোড়া চিকচিক করছে। ঘন ভ্রু জোড়া ওর দৃষ্টি আরো তীক্ষ্ণ করে তুলেছে। চোখা নাক, দৃঢ় চোয়াল, মুখভর্তি খোঁচা খোঁচা দাড়ি, রাজকীয় মোঁচ আর সিল্কি কালো চুলগুলো সামান্য এলোমেলো হয়ে পড়ে রয়েছে কপালের উপর। ফর্সা শরীরে ধূসর রঙের পাঞ্জাবি, সাদা পায়জামা পড়ায় ইউসুফের সুপুরুষের ন্যায় লুক পরিপূর্ণতা লাভ করেছে।

অপমানে, লজ্জায় পিহুর চোখ আবারও ভিজে উঠেছে। পিহু কণ্ঠ নিচু করে বললো.....

—"আমি কারোর ভি*ক্ষা নিতে চাই না।"

ইউসুফ পিহুর দিকে ভ*য়ং*ক*র শীতল দৃষ্টি স্থির করে বললো.....

—"ভিক্ষা কাকে বলে সেটা তুমি এখনও বুঝতে শিখো নি প্রিটিহার্ট। নিজের বোনের এক বছর ধরে ব্যবহার করা পুরাতন জামা পরে তুমি ঘুরছো বাহিরে। ভি*ক্ষা*টা তোমায় দিয়েছে সে। আর আমি যা দিচ্ছি সেটা ভালোবাসা। এটাকে উপহার বলে। বুঝলে?"

পিহু বললো.....
—"আমি গরিব ঘরের মেয়ে। রোজ রোজ নতুন জামা পরে বাইরে বের হলে লোকজন অন্য চোখে দেখবে। দশটা কথা রটাবে। সেসব আমি সহ্য করতে পারবো না। তাই আপনার এইসব উপহার আমার লাগবে না।"

চোয়াল শক্ত করে ইউসুফ গর্জে উঠে বললো....
—"যে তোমার দিকে অন্য চোখে তাকাবে তার চোখ আমি উপড়ে ফেলবো। মুখ দিয়ে দু’টো ক*টু শব্দ বের করা তো অনেক দূরের বিষয়।"

পিহুর বুক ধড়ফড় করতে লাগলো। পিহু ইউসুফের চোখের দিকে তাকিয়ে শুধালো....

—"কেন করছেন এসব? আমার মতো সাধারণ একজন মেয়ের জন্য আপনার এইসব পাগলামি আচরণ কেবল লোকজনকে বিনোদন দিচ্ছে। সবাই আমাকে জো*কা*র বলছে।"

রাগে ইউসুফের চোখ লাল হয়ে উঠলো। দাঁতে দাঁত চেপে বললো.....

—"এমপি সারফারাজ ইউসুফ খানের হবু বউকে জো*কার বলেছে কে? কার কলিজা এতো বড়? নাম বলো। নামটা শুনি। তারপর তার কলিজাটা বের করে ওজন করে দেখবো আমি।"

পিহু ঢো*ক গি*ললো একবার। এই লোকের সাথে কোনো কথা বলা মানেই প্রতিত্তুর হিসেবে কোনো না কোনো ভ*য়ং*কর রকমের থ্রে*ট শোনা। পিহুকে নিরব থাকতে দেখে ইউসুফ বললো.....

—"লোকে কি বলবে, লোকে কি ভাববে, লোকে কি করলো এসব ভেবে ভেবেই নিজের জীবনের অর্ধসময় পার করে ফেলেছো তুমি। তাই এই ভাবনা এখন সর্বক্ষেত্রেই তোমার মাথায় আসে। এক ধরণের বা*জে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে এটা। যতো তাড়াতাড়ি এই চিন্তাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারবে তোমার জন্য ততো ভালো হবে। বুঝেছো প্রিটিহার্ট!"

পিহু মাথা নুইয়ে রেখেছে। দোকানদারদের প্যকিং করা শেষ হলে গার্ডসরা সব ব্যগ গাড়িতে উঠিয়ে নিয়েছে। অতঃপর ইউসুফ আবারও বললো....

—"এখানেই দাঁড়িয়ে থাকার পরিকল্পনা করেছো নাকি আজ সারাদিন? বাসায় ফিরতে হবে না?"

পিহু নরমস্বরে বললো....
—"না, জ্বি হবে।"

—"চলো, আমি ছেড়ে দিচ্ছি তোমায় বাসা পর্যন্ত।"

—"আমি যেত....!"

—"কলেজ মাঠে শেষ কি বলেছিলাম মনে নাই? এই মার্কেটের মেঝে শক্তপোক্ত টাইলস দ্বারা নির্মিত হলেও এটা ভে*ঙে কাউকে গেঁ*ড়ে দিতে কিন্তু আমার খুব বেশি সময় লাগবে না। কারণ আমার কথার পরিপ্রেক্ষিতে কারোর অপ্রয়োজনীয় কথা আমার পছন্দ না।"

পিহু আর একমূহূর্তের জন্য না দাঁড়িয়ে দ্রুত কদমে সামনের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলো। পিহুর পিছন পিছন সারফারাজ ও নিঃশব্দে হাসতে হাসতে মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসলো। পূর্বের ন্যায় গাড়িতে উঠে বসলো পিহু ও ইউসুফ। পিছনে বাকি ৩ গাড়িতে গার্ডসরা। ইউসুফ গাড়ি স্টার্ট দিলো।

প্রায় ১ঘন্টা পর মিরপুরের একটি নিম্নমধ্যবিত্ত এলাকায় নিজ গাড়ি নিয়ে ঢুকলো ইউসুফ। সরু গলি বিশিষ্ট ভা*ঙাচোরা রাস্তার পাশে খোলা নর্দমা যা রাস্তাটির প্রস্থ আরো কমিয়ে দিয়েছে। চারপাশে পুরোনো টিনশেডের ঘরের সংখ্যাই বেশি। এছাড়াও চোখে পড়ছে প্লাস্টার খ*সে পড়া চার-পাঁচ তলা বিশিষ্ট ২-৪টে দালানকোঠা৷ সব মিলিয়ে গাদাগাদি বসতিই বলা চলে। রাস্তায় চলাচল করতে থাকা মানুষদের বিস্ময়ভরা দৃষ্টি কালো বিএমডব্লিউ গাড়িটির উপর স্থির হয়ে আছে। এমন বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে এই ভা*ঙা*চোরা গলিতে কোনো ধনী-ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির আসাটা ভিষণ বেমানান দেখাচ্ছে কিনা!

কিছুটা এগিয়ে গিয়ে ইউসুফ গাড়ির ব্রেক কষলো একটি টিনসেডের প্রাচীর দেওয়া গেইটের সামনে। পিহু তৎক্ষণাৎ নামতে উদ্যত হলে ইউসুফ ওর হাত চেপে ধরে ওকে থামিয়ে দিলো। পিহুর বুকের ভেতরটা ধুকপুক ধুকপুক শব্দ করছিলো। ওর সাহস হচ্ছিলো না ইউসুফের চোখের দিকে চোখ তুলে তাকানোরও।

ইউসুফ ধীরস্বরে বললো....
—“বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে এলাম অথচ একবারও বললে না ভেতরে গিয়ে অন্তত এক গ্লাস পানি পান করতে? আমাকে কি তোমার এমন ভয়ংকর কোনো খাদক বলে মনে হয় যে, বাড়ির ভিতর ঢুকলেই তোমার বাবাকে বিরাট লসের মুখে পড়তে হবে আমার আপ্যায়ন করতে গিয়ে?”

‘বাবা’ শব্দটা শুনেই পিহুর ভেতরটা কেমন যেনো করে উঠলো। একটু আগেও ভী*তির ছাপ ফুটে থাকা মুখশ্রীটি নিজের রূপ পাল্টে নিয়েছে। কঠোরতার ছাপ ফুটে উঠেছে সেইস্থলে। পিহু নিজের অন্য হাতের জোরে ইউসুফের বাঁধন থেকে মুক্ত হয়ে গাড়ির দরজা খুলে নামতে নামতে বললো....

—“আমার কোনো বাবা নেই, এমপি সাহেব।”

পিহু আর থামলো না। দ্রুতগতিতে বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেইটটা শব্দ করে বন্ধ করে দিলো। পিহুর কথায় ইউসুফের কপালের ভাঁজ আরও গভীর হলো। ওর জানা তথ্যে পিহুর বাবা এখনও জীবিত আছেন। তবে কি ওদের বাবা-মেয়ের মধ্যকার সম্পর্কটা স্বাভাবিক নয়? নাকি অন্য কোনো গোপন রহস্য লুকিয়ে রেখেছে মেয়েটি নিজের মনের ভিতর? মাথার ভিতর একের পর এক প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে ইউসুফের। ঠিক তখনই ওর মনে পড়লো গাড়ির ডিকিতে কেনাকাটা করা সব জামা-কাপড়ের ব্যগগুলো রাখা রয়েছে। পরক্ষণেই ইউসুফ বডিগার্ডদের উদ্দেশ্যে বললো 'সব প্যাকেট ভেতরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।'

অন্যদিকে, বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে পিহু কল তলায় গিয়ে হাত-মুখ ধুচ্ছিলো। চারপাশের পরিবেশ ও পরিস্থিতি দেখলেই বোঝা সম্ভব যে ওদের সংসার কতোটা অভাবের চাদরে মুড়ে আছে। ৬ শতক জায়গার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট একতলা ইট-পাথরের বাড়িটি। জায়গায় জায়গায় প্লাস্টার খ*সে পড়েছে, রঙ চ*টে গিয়েছে। চারটে থাকার মতো ঘর আর একটি মাত্র পাবলিক ওয়াশরুম রয়েছে এবাড়িতে। ঐ একটাই সবাই মিলে ব্যবহার করে।

এই বাড়ির সদস্য সংখ্যা মোট ছয়জন। পিহু, তার বাবা জবরুল মিয়া, সৎ মা সোমা বেগম, সোমার আগের সংসারের মেয়ে সোনালী, আর জবরুলের পক্ষ থেকে জন্ম নেওয়া জমজ ২ ছেলে রিফাত ও রিয়াদ। সোনালী পিহুর চেয়ে ছয় বছরের বড়, আর রিফাত-রিয়াদ পিহুর চেয়ে চার বছরের ছোট।

সোনালী নিজঘর থেকে বের হয়ে আসতেই পিহুকে কল তলায় দেখতে পেয়ে চিল্লিয়ে সোমাকে ডেকে বললো.....

—"মা, ও মা! এ বাড়ির নবাব*জা*দী তো ঘরে ফিরেছে। কিন্তু এর হাত তো দেখছি খালি। তুমি না সকালে ওকে কতো কিছু আনতে কইছিলা। আইসা দেখো তার কোনো কিছুই নিয়া আসে নি ও।"

সোনালীর কথা যেনো পিহুর উপর কোনো প্রভাব ফেলতে সক্ষম হলো না। সে নিজের মতো করে হাত-মুখ ধোঁয়া শেষ হলে আঙিনার মাঝ দিয়ে টাঙানো রশির উপর থেকে গামছাটা নিয়ে শরীরের পানিটুকু মুছতে শুরু করলো। সোমা দাঁতে দাঁত পি*ষে ঘর থেকে বের হয়ে এদিকেই আসতে আসতে বললেন...

—"আনে নাই মানে! আজ ওর পিঠের ছা*ল-চা*ম*ড়া তুলে ফেলমু আমি। আমার কথা অমান্য করার ফল কতোটা ভ*য়ং*ক*র হতে পারে তা হারে হারে টের পাবো ঐ মাইয়া।"

সেইসময় গেইট খুলে ভিতরে প্রবেশ করলো ইউসুফ। উচ্চস্বরে সোমাকে উদ্দেশ্য করে বললো....

—"আসসালামু আলাইকুম হবু সৎ শ্বাশুড়ি আম্মা।"

#চলবে_ইনশাআল্লাহ........

#না_চাইলেও_তুমি_শুধু_আমারই
#সূচনা_পর্ব
#মাইশা_জান্নাত_নূরা (লেখিকা)

23/08/2025

মায়ের উপর রাগ করে, কল কেটে দিয়েছিলাম। মা আবার কল দিয়ে বলে - ভুলে চাপ লেগে কেটে গেছে বাবা!'💚🌸

23/08/2025

এইটা আপনার কোন বান্ধবী হতে পারে তাকে মেনশন দিন 😬😬

23/08/2025

দুনিয়ার সবার কাছেই আমার ভালো হইতে
হবে ক্যান আমি তো ভাই মা'নুষ, ফে'রেশতা না!

23/08/2025

৩শ তিন থেকে ২শ তিন বাদ দিলে কয়শতিন থাকে?

মাঝরাতে ছেলেটা আমাকে মেসেজ দিয়ে বললো " ২৫ ডজন চুড়ি, ০৫ টা শাড়ি, ০৫ টা থ্রি পিছ, ০৫ জোড়া জুতা আরো অনেক কিছু অর্ডার করতে চ...
22/08/2025

মাঝরাতে ছেলেটা আমাকে মেসেজ দিয়ে বললো " ২৫ ডজন চুড়ি, ০৫ টা শাড়ি, ০৫ টা থ্রি পিছ, ০৫ জোড়া জুতা আরো অনেক কিছু অর্ডার করতে চাই। আপনি কি ঠিকমতো পৌঁছে দিতে পারবেন? "

আমি অবাক হয়ে গেলাম। সবেমাত্র কিছুদিন আগে থেকে শুরু করেছি আমার অনলাইনের এই ছোট্ট বিজনেস। কিছু কিছু গ্রুপের মধ্যে টুকটাক পোস্ট করি। কিন্তু এই লোকটা যে পরিমাণ লিস্ট দিয়েছে তাতে কমপক্ষে ত্রিশ হাজার টাকার শপিং হবে।

আমি বললাম " ভাইয়া সবটাই যোগাড় করে দিতে পারবো, আপনার কবে নাগাদ লাগবে? "

" আমার হাতে বারো দিন সময় আছে, আপনি সেই বারো দিনের মধ্যে সংগ্রহ করবেন। সবকিছু হিসাব করে দামটা বলেন। আমি আপনাকে টাকা পাঠিয়ে দেবো। "

এবার আরেকটু ভাবনা বেড়ে গেল। এতগুলো টাকা তিনি অগ্রিম দিতে চাইছেন। একদিকে যেমন ভাবছি, অন্যদিকে তেমন আনন্দ হচ্ছে। চোখ ভর্তি ঘুম ছিল, সব ঘুম হারিয়ে গেছে। আবার হঠাৎ করে মনে হলো কেউ ফাজলামো করে না তো। এমনও হতে পারে যে সবকিছু বলে তারপর আর নিবে না।

বললাম " ঠিক আছে ভাইয়া, আমি আপনাকে সম্পুর্ন খরচের লিস্ট দিচ্ছি। "

" ঠিক আছে তাড়াতাড়ি করবেন, গার্লফ্রেন্ডের জন্মদিন উপলক্ষে গিফট করবো। "

আমি সবকিছুর হিসাব করলাম। কিছু কিছুর দাম জানা নেই সেগুলোও জেনে ও আনুমানিক ভাবে হিসাব দিলাম। সবমিলিয়ে মোট তেত্রিশ হাজার সাতশো সত্তুর টাকা হলো।

লোকটা আমার বিকাশ নাম্বার নিয়ে পঁচিশ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিলেন। তারপর মেসেজ দিয়ে বললেন " বাকিটা আগামীকাল দেবো, আজকে আর পাঠানো যাবে না। আপনি সবগুলো সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করবেন। "

" ঠিক আছে ভাইয়া, কিন্তু ঠিকানা? "

" ঠিকানা দেবো, আগে সংগ্রহ করেন। তাছাড়া লিস্টে আরো কিছু এড হতে পারে। আপনি সব সংগ্রহ করে আমাকে বলবেন। আর আমি পঁচিশটা চিরকুট দেবো, আপনি সেগুলো আলাদা আলাদা কাগজে লিখবেন। "

" ঠিক আছে। "

" আরেকটা কথা, আমার পরিচিত একজনের কাছ থেকে আপনার কথা জেনেছি। তাই আপনার কাছে সব অর্ডার দিলাম। তাছাড়া আমিও খুলনার মানুষ, আপনি আমি একই শহরের মানুষ। "

" কে সে? "

" তেমন কেউ না, বাদ দেন। "

" আচ্ছা। "

লোকটা শুভরাত্রি বলে অফলাইন হয়ে গেল। আমি আমার আইডি দিয়ে তার আইডির ভিতর গেলাম। অনেকটা কৌতূহল নিয়েই গেলাম। যিনি তার প্রিয়জনের জন্মদিনে এতকিছু দিচ্ছেন তার প্রতি কৌতূহল হতেই পারে।

অনেক পোস্ট আর পিকচার আপলোড দেখলাম। একটা মেয়ের হাতে হাত রেখে, পিছন থেকে ও মেয়েটা হিজাব পরিধান করা অবস্থায় কিছু ছবি আছে। বুঝতে পারলাম এটাই সেই মেয়ে। সম্ভব বারো দিন পরে তার তার পঁচিশতম জন্মদিন।
এদিকে আমি তেইশ বছরের হয়েও আজ পর্যন্ত কোনো মনের মতো কাউকে পেলাম না। অনেক ছেলে প্রপোজ করেছে কিন্তু তাদের কারো প্রতি নিজের দিক থেকে অনুভূতি আসেনি।

পরদিন সকালে দুটো বান্ধবীকে নিয়ে মার্কেটে গেলাম। প্রায় চার ঘন্টা ঘোরাঘুরি করে ৮০℅ কেনাকাটা হয়ে গেল। কিছু কসমেটিকস বাকি আছে সেগুলো বসুন্ধরা অথবা যমুনা ফিউচার পার্কে গিয়ে নিতে হবে।

সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে আরো দশ হাজার টাকা বিকাশে এলো৷ ১২৩০ টাকা বেশি এসেছে। একটু পরে সেই লোকটা মেসেজ দিয়ে বললো,

" আপনি সবকিছু কিনে ফেলুন। পরশু আমার অফিস বন্ধ, সেদিন আমি চিরকুট লিখে দেবো। আপনি এরমধ্যে কিনে নিয়ে সবকিছু আলাদা আলাদা প্যাকেট করবেন। "

" ভাইয়া, যেগুলো প্রিন্ট ডিজাইন করার জন্য দিয়েছেন সেগুলো তিনদিন পরে পাবো! "

" সমস্যা নেই হাতে তো সময় আছে। "

" আপনি কিছু টাকা বেশি দিয়েছেন। "

" ওটা আপনার আলাদা প্যাকেট করার জন্য। "

" ওকে, তাহলে আপনি দ্রুত চিরকুটের জন্য লেখা পাঠিয়ে দেন। আমি আজকে রঙিন কাগজ নিয়ে এসেছি। "

" খুব ভালো, খুব ভালো। "

ছেলেটা অতিরিক্ত কোনো কথা বলে নাই। আমার নামটাও জিজ্ঞেস করেনি। অবশ্য সে নাকি আমার পরিচিত কাউকে চিনে, তাই হয়তো নাম জানে। আমি সবকিছু সামনে নিয়ে আমার কতো টাকা লাভ হবে সেই হিসাব করতে লাগলাম।

শুক্রবার রাতে তিনি পঁচিশটা চিরকুটে লেখার জন্য আলাদা আলাদা বাক্য লিখে দিলেন। আমি সবগুলো পড়ার পরে মুগ্ধ হয়ে রইলাম। মেয়েটাকে অনেক ভালোবাসে সেটা আবারও চোখের সামনে জীবন্ত মনে হলো।

রাত দুইটা পর্যন্ত বসে বসে সবগুলো চিরকুট লেখা শেষ করলাম। মাঝে মাঝে পাতা ছিঁড়তে হয়েছে। কাটাকাটি হয়েছে, বা দু একটা লাইন বাঁকা হয়ে গেছে এরকম কিছু দেইনি। এতো সুন্দর মানের লেখার মধ্যে কাটাকুটি আর বাঁকা লাইন মানায় না।

তিনদিনের মধ্যে তার সবকিছু আমি সংগ্রহ করে ফেললাম। প্যাকিং কমপ্লিট করে তাকে মেসেজ দিয়ে কনফার্ম জানিয়ে দিলাম। কিন্তু লোকটা অনলাইনে ছিল না।
পরদিন সারাদিন পেরিয়ে গেল তবুও তাকে অনলাইনে দেখতে পেলাম না। ভাবলাম হয়তো কাজের চাপে ব্যস্ত আছে। আমি সবকিছু রেডি করে রাখলাম যেন সে ঠিকানা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দিতে পারি।

আমরা চার বান্ধবী মিলে একসঙ্গে থাকতাম। তিনজন একই ডিপার্টমেন্টে পড়ি আর বাকি আরেকজন অন্য ডিপার্টমেন্টে কিন্তু একই কলেজে। পরদিন কলেজ থেকে ফেরার সময় আমার রুমমেট ইরা বললো

" কিরে নওশিন, তোর সেই কেয়ারিং বয়ফ্রেন্ডের কোনো খোঁজ পেলি? মেসেজ করেনি আর? "

" নাহ করেনি, গতকাল থেকে তার কোনো পাত্তা নেই। কি হয়েছে কে জানে? যে নাম্বার দিয়ে টাকা পাঠিয়েছে সেই নাম্বারে আজকে কল দেবো ভাবছি। "

" বিকাশ নাম্বার? "

" হ্যাঁ। "

" কিন্তু সেটা যদি কোনো দোকানের নাম্বার হয়? "

" মনে হয় তার পারসোনাল নাম্বার, কারণ প্রথম রাতে সে প্রায় রাত দুইটার দিকে টাকা পাঠিয়েছে। তখন তো শহরের মধ্যে দোকান খোলা থাকার কথা নয়! "

" হতেও তো পারে তাই না? "

" তবুও চেষ্টা তো করবো যোগাযোগ করার। সম্ভবত সাতদিন পরে তার গার্লফ্রেন্ডের জন্মদিন। প্রথম রাতে বারো দিন বলেছিল, অলরেডি পাঁচ দিন পেরিয়ে গেছে। "

বাসায় ফিরে ওই নাম্বারে কল দিলাম কিন্তু নাম্বার বন্ধ। এরপর থেকে যখনই মোবাইল হাতে নিতাম কিংবা তার কথা মনে পড়তো তখনই কল দিতাম। কিন্তু তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলাম না। অনলাইনেও আর পেলাম না কয়েকদিন।

আরো চারদিন পরে রাতে তার আইডির পাশে সবুজ বাতি দেখতে পেলাম। আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে মেসেজ দিলাম কিন্তু সিন করলো না। তারপর কিছু না ভেবেই মেসেঞ্জারে কল দিলাম, এবং রিসিভ করলো।

আমি বেশ আগ্রহ নিয়ে বললাম,

" আপনি কেমন আছেন? এতদিন কোথায় ছিলেন? "

লোকটার কণ্ঠ শুনে আমি অবাক হলাম। খুব সান্ত কণ্ঠে তিনি বললেন,

" আমি ভালো আছি, আপনি? "

" আলহামদুলিল্লাহ ভালো, আপনার কোনো খোঁজ নেই। আমি সবকিছু রেডি করে বসে আছি। "

" আপনার জন্মদিন কবে? "

" আরো প্রায় দু’মাস পরে, কেন? "

" সবগুলো জিনিস আপনি রেখে দিন। আসলে আমি যার জন্য অর্ডার করেছিলাম সে মা!রা গেছে। সেদিন আপনার সঙ্গে শেষ যেদিন কথা হয়েছে তার পরদিন সকালে ওর এক্সিডেন্ট হয়। তিনদিন অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করে তারপর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। "

তিনি কলটা কেটে দিলেন, আমি যেন বিশ্বাস করতে পারছি না। শুধু চোখের সামনে আবছায়া হয়ে ভেসে আসে একটা প্রতিচ্ছবি। জীবন ও মরনের মাঝখানে যার বসবাস...

সাইফুল ইসলাম।

22/08/2025

✈️ বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব যেতে টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া — প্রবাসীরা দিশেহারা! 🇧🇩➡️🇸🇦

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন ভারতের কেরালা, দিল্লি বা হায়দ্রাবাদ থেকে মাত্র ২৫-৩০ হাজার টাকায় সৌদি আরব যাওয়া যায়, তখন বাংলাদেশ থেকে একই গন্তব্যে যেতে ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে! 😡

এটা কি কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত? এটা কি সাধারণ প্রবাসী ভাইদের প্রতি অবিচার নয়?

👉 লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। অথচ তাদের বিদেশ যাত্রার প্রাথমিক ধাপেই দেখা দিচ্ছে চরম ভোগান্তি।
👉 কিছু এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্ট, ও এয়ারলাইন্সের সিন্ডিকেট এতোটা শক্তিশালী হয়ে গেছে যে তারা খরচ বাড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।

---

🔍 সরকারের প্রতি আহ্বান:

১. বিমান টিকিটের মূল্য নির্ধারণে সরকারি হস্তক্ষেপ:
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সকল এয়ারলাইন্সের টিকিট মূল্যের একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করতে হবে।

2. সিন্ডিকেট বিরোধী অভিযান:
ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স ও কার্যক্রম মনিটর করতে হবে। কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

3. এক্সপ্যাট মিনিস্ট্রি ও সিভিল এভিয়েশনের যৌথ টাস্কফোর্স:
এই সংকট নিরসনে একটি স্বতন্ত্র মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে যারা প্রবাসীদের অভিযোগ তদন্ত করবে ও রিপোর্ট প্রকাশ করবে।

4. প্রবাসী ওয়ার্কারের জন্য বিশেষ ফ্লাইট ও ভর্তুকি:
বিশেষ করে হজ, ওমরাহ বা কনস্ট্রাকশন সিজনের সময় সরকারিভাবে সাবসিডি দিয়ে টিকিট সরবরাহ করা যেতে পারে।

---

🔧 সিন্ডিকেট ভাঙতে করণীয়:

অনলাইন টিকিটিং সিস্টেমের স্বচ্ছতা বাড়ানো।

অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন চালু করা যেখানে প্রবাসীরা সরাসরি দুর্নীতি বা অতিরিক্ত চার্জের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে।

ট্রাভেল এজেন্সির রেটিং ও মনিটরিং সিস্টেম চালু।

ভুল তথ্য বা অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রির শাস্তি হিসেবে লাইসেন্স বাতিল ও আর্থিক জরিমানা।

---

❗ সবশেষে বলি: প্রবাসীরা দেশের গর্ব — তাদের সঙ্গে এই রকম অন্যায় চলতে পারে না।
এই পরিস্থিতি বন্ধ করতে হলে আমাদের সবাইকে সোচ্চার হতে হবে, সরকারকে উদ্যোগ নিতে বাধ্য করতে হবে।

#প্রবাসীদেরঅধিকার #টিকিটসিন্ডিকেট #বাংলাদেশ_সরকার #বিমানভাড়া #সৌদি_আরব

22/08/2025

মানুষ কখনোই মানুষকে খোঁজেনা খোঁজে মানুষের দুর্বলতা 😭

22/08/2025

তারে ধরি ধরি 😢😢😢

22/08/2025

পরিবর্তন অবশ্যই আনবো তবে সেটা চেহারায় নয় অবস্থানের। ইনশাআল্লাহ

Address

Dhaka Karawan Bazar-1215
Dhaka
1209

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when HearTs Hacker posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share