09/05/2022
মা একেবারে নতুন বউ সেজে আমার রুমে এসে উপস্থিত। তার সাজগোজ দেখে চোখের পলক ফেলতেও ভুলে গেলাম। বাসার মহারানী হুট করে রাজকুমারী হলো কেন বুঝতে পারলাম না।
‘তোমাকে কি ছেলেপক্ষ দেখতে আসবে? হঠাৎ নতুন বউয়ের সাজ ধরলে যে!’
‘ঢঙের কথা। এটা তোর বাপ শুনলে নির্ঘাত হার্ট অ্যাটাক করবে।’ মুচকি হেসে বললেন মা।
‘তোমাকে এই সাজে দেখলে এমনিতেও হার্ট অ্যাটাক করবে। নাকি ইতোমধ্যে করে ফেলেছে? হাসপাতালে রওনা হবো?’
‘ধুর। বাজে কথা ছাড় তো। একটু দেখে বল, কপালের টিপটা ঠিকঠাক আছে না? বেশি বড় লাগে?’
‘টিপ না পড়লেই তো ভালো। পথে-ঘাটে পুলিশে আজেবাজে কথা বলবে! খবর দেখো না?’
‘দুনিয়ার সব পুলিশ কী এক নাকি! খারাপ যেমন আছে, তেমনি ভালোও আছে। কোথায় আসলাম তোর মতামত নিতে, আর তুই এটা-সেটা বলে বারবার প্রসঙ্গ ঘুরাচ্ছিস। থাক তুই, আমি গেলাম।’
‘তা নাহয় যাও। কিন্তু এত সাজগোজ করে যাচ্ছটা কোথায়?’
‘আজ আমাদের গার্লস স্কুলের গেট টুগেদার। সেখানে যাব। ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হবে। তোর বাপকে দেখে রাখিস।’
মা দ্রুত পায়ে হেঁটে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন। আহা, সময়ের কী ব্যবধান। একটা সময় মা কোনো কাজে বা কোথাও গেলে বাবাকে বলে যেত, শহীদকে দেখে রেখো। এখন উল্টো মা আমাকে বলে, বাবাকে যেন দেখে রাখি। সময়ের এই বিবর্তন একেবারেও মন্দ না। বেশ ভালোই লাগে।
পরশু একটা চাকরির পরীক্ষা থাকায় পড়াশোনার চেষ্টা করছি। কিন্তু মন বসে না পড়ার টেবিলে। এমন সময় বাসার কলিংবেলের শব্দ কানে এলো। অনেকক্ষণ ধরে বাজছে। কেউ কোনো সাড়া দিচ্ছে না। অন্যরুম থেকে মায়ের চিৎকার ভেসে এলো, ‘এতক্ষণ ধরে কলিংবেল বাজছে। কেউ দরজা খুলছে না কেন?’
প্রতুত্তরে বাবা হাঁক ছাড়লেন, ‘আরে আমি বাথরুমে। শহীদ করেটা কী?’
এরপর মা পুনরায় যখন চিৎকার জুড়লেন, ততক্ষণে আমি বাসার দরজায় পৌঁছে গেছি। জানি যে দরজা খোলার এই মহান দায়িত্ব আমার ঘাড়েই চাপবে। তখনও অপরপাশের ব্যক্তি মনের হরষে কলিংবেল চেপে যাচ্ছে।
আমি দরজা খুললাম। সামনে অপ্সরীর মতোন সুন্দরী এক নারী দাঁড়িয়ে। আরেকটু হলে ক্রাশই খেয়ে যেতাম। কিন্তু তাকে দেখে মনে হলো, বয়সে তিনি আমার চাইতে অনেক বড়। তাই যথাসময়ে নিজেকে সামলে নিলাম।
‘কাকে চান?’
‘আপনি শরীফ আহমেদ?’ প্রশ্নের জবাবে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন তিনি।
‘উনি বাথরুমে। আমি তার ছেলে। কোনো জরুরি দরকার?’
‘কিরে, কে এসেছে?’
পেছনে মা এসে উপস্থিত হলেন। আমি সরে গিয়ে জায়গা করে দিলাম। এমন সময় বাবাও এসে দাঁড়ালেন। মায়ের পাশে গিয়ে সামনে থাকা নারীকে দেখলেন একনজর। কিন্তু চিনলেন বলে মনে হলো না। মাকে প্রশ্ন করলেন বাবা, ‘ইনি কে?’
‘তা আমি কী করে বলব।’ হতবাক হয়ে জবাব দিলেন মা। তারপর মহিলাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কে বলুন তো?’
‘আমি শরীফ আহমেদের হবু স্ত্রী।’
এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো আমরা কেউ বাসায় নেই। বরং রাশিয়া-ইউক্রেন বর্ডারে দাঁড়িয়ে আছি। আর মাত্রই আকাশ থেকে ধামড়া সাইজের বোমা এসে পড়েছে। যেটার বিস্ফোরণে আমরা রীতিমতো ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছি। আমার নিজেরই পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাওয়ার উপক্রম হলো। মায়ের অবস্থা বোঝা গেল না। বাবাকে দেখলাম বিশাল বড় হাঁ করে এদিক-সেদিক দুলছে। এমন শক তিনি সামলে উঠতে পারছেন না।
ঘটনার গভীরে ঢুকতে গিয়ে নিজেকে বেশ কোণঠাসা অবস্থায় আবিষ্কার করলাম। জানা গেল, মহিলাটির নাম সিলভী রহমান। লন্ডন প্রবাসী। বাবার সাথে তার ফেসবুকে পরিচয়। তারপর প্রেমের টানে সোজা বাংলাদেশে এসেছেন। দুঃখ আর হতাশায় নিজের কপাল চাপড়াতে ইচ্ছে হলো।
আমি ৬ বছর যাবৎ ফেসবুক ব্যবহার করছি। প্রোফাইলে থাকা ক্রিস্টাল ক্লিয়ার ছবিটা দামী ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে তোলা। অথচ এখন পর্যন্ত গ্রামের একটা মেয়েও পটাতে পারিনি। এদিকে আমার বাবা ফেসবুক আইডি খুলেছে দুই মাসও হয়নি। প্রোফাইলে নিজের কোনো ছবি নেই। বরং খরগোশের ছবি দেওয়া। কিন্তু এরই মাঝে আধা বিদেশি নারী পটিয়ে ফেলেছে। লোকটা পারেও বটে!
পত্রপত্রিকা, টিভি-চ্যানেলে হরহামেশাই খবর দেখা যায়- প্রেমের টানে ব্রাজিল কন্যা উড়ে এলো ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়াতে, নিউজিল্যান্ডের রূপসী এলো নোয়াখালীতে... আরও কত কী! এবার বুঝি বাবার কাহিনিও পত্রিকা-টিভিতে দেখতে হবে। এই সমাজে আর মুখ দেখানোর সুযোগ থাকলো না। বন্ধু-বান্ধবেরা উঠতে বসতে কথা শোনাবে- ‘বাপের ব্যাটা, সিপাহির গাধা!’
মা গলা খাকারি দিলেন। সেই শব্দে আমার হুঁশ ফিরলো। দেখলাম অগ্নি দৃষ্টিতে তিনি বাবার দিকে তাকিয়ে। ভয়ে বাবা শব্দ তুলে ঢোক গিললেন।
‘তোমার কি কিছু বলার আছে?’ প্রশ্ন করলেন মা।
‘হ্যা। আমার কোনো দোষ নাই। সব দোষ শহীদের।’ কাঁপা গলায় জবাব দিলেন বাবা।
‘অ্যাহ! এসব কী বলছ বাবা? রামলীলা করবা তুমি আর রামকেলানি খাব আমি! এটা অন্যায়। কী দোষ করেছি আমি?’ বিস্ময় আর দ্বিধা নিয়ে বললাম কথাগুলো। আকস্মিৎ এই আক্রমণের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। নিজেকে বাঁচাতে বাবা এভাবে বলির পাঠা বানিয়ে ফেলবে আমাকে, তা একমুহূর্তের জন্যও মাথায় আসেনি। কী ধূর্ত রে বাবা!
‘তোরই দোষ। তুই যদি আমাকে ফেসবুক আইডি খুলে না দিতি, তাহলে আর এতকিছু হতো না।’
‘সে হিসাবে তো সব দোষ মার্ক জাকারবার্গের। ওই ব্যাটা ফেসবুক আবিষ্কার না করলে এইদিন দেখা লাগতো না।’
‘এটাও অবশ্য মন্দ বলিসনি।’ মাথা চুলকে জবাব দেন বাবা।
‘চুপ করো। খবরদার কেউ আর একটা শব্দও উচ্চারণ করবা না।’
ধমকে উঠলেন মা। আমরা বাপ-বেটা ভয়ে জিপার টানলাম ঠোঁটে। শ্বাস-প্রশ্বাসও মেপে মেপে ফেলতে লাগলাম যেন তিনি রেগে না যান। দীর্ঘশ্বাস ফেলে কপালে হাত রাখলেন মা। তাকে অমন অবস্থায় দেখে মনটা খারাপ হয়ে যায়। ধোলাই খাওয়ার রিস্ক না থাকলে সান্ত্বনা দেওয়া যেত। কিন্তু জানের মায়া থাকায় চুপচাপ বসে রইলাম।
বাবার হবু স্ত্রী পরিচয়দানকারী সিলভী রহমানের গল্প শুনলেন মা। তিনি ডিভোর্সি। দুই সন্তান নিয়ে লন্ডনে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। এমন সময় ফেসবুকে বাবার সাথে পরিচয়। ইনবক্সে কদিন আলাপ হয়েছে। বুঝতে পারলেন লোকটা সরল সোজা। যার কারণে ভালোবেসে ফেলেন। একদিন জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমাকে বিয়ে করবেন?’
বাবা নাকি দুষ্টামি করে জবাব দিয়েছিল, ‘করা যায়।’ এরপর মহিলা ঠিকানা চাইলে বাবা তাকে বাসার ঠিকানা দেন। ভেবেছিলেন ফেইক আইডি, অথবা পরিচিত কেউ মজা নিচ্ছে। তিনি ঘূণাক্ষরেও টের পাননি, খাল কেটে কুমির আনছেন। অথচ কুমির চাষাবাদের কিছুই জানেন না বেচারা!
‘ইয়ে মানে... যদি কিছু মনে না করেন, তাহলে একটি প্রশ্ন করতাম।’ হাসিমুখে বললাম আমি।
‘বলুন।’
‘আপনার কোনো কন্যা সন্তান আছে?’
‘কেন?’
‘না মানে, ধরেন আমার বাবার ব্যাপারে হতাশ হতে হলো। একেবারে খালি হাতে ফিরে না গিয়ে আমাকে আপনার সম্ভাব্য মেয়ে জামাই হিসেবে বিবেচনা করে দেখতে পারেন!’
লাজুক হেসে বললাম আমি। কিন্তু কোনো রেসপন্স পেলাম না। মহিলা হতবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। মা আর বাবার কপালে বিরক্তির ভাঁজ দেখা গেল। চুপসে যাওয়া বেলুনের মতো জবুথবু হয়ে বসে রইলাম। পিনপতন নীরবতা। একটা মুহূর্তে মা কথা বললেন।
‘দেখুন, যা হবার তা তো হয়েছেই। এ নিয়ে আর কথা বাড়াতে চাই না। সমাজে আমাদের মান-সম্মান রয়েছে। সেটা ধুলোয় মিশে যাক, তা নিশ্চয়ই চাইবেন না। আপনি দয়া করে চলে যান। আমার স্বামীর হয়ে ক্ষমা চাইছি আমি।’
‘ক্ষমা নিতে আসিনি। নিজের হবু স্বামীকে বুঝে নিতে এসেছি। আমি জানতাম, আপনারা কেউ রাজি হবেন না। এজন্য আসার সময় পুলিশে খবর দিয়ে এসেছি। কিছুক্ষণের মধ্যে চলেও আসবে। আমি এখান থেকে একচুল নড়ব না।’
দরাজ গলায় কথাগুলো বলে মোবাইল বের করে কাকে যেন কল দিলেন মহিলা। অন্যদিকে ঘুরে কথা সাড়লেন। এদিকে আমার বাবার কাম সাড়া! তিনি হন্তদন্ত কাঁপছেন। সোফায় তার পাশে বসে সেটা বেশ ভালোভাবেই টের পেলাম। মা ভাবলেশহীন চেহারা বানিয়ে বসে রইলেন। খানিক বাদে কলিংবেলের শব্দ কানে এলো। আমরা সবাই একত্রে দরজার দিকে তাকালাম।
দরজা খোলায় আমার জুড়ি নেই। তাই এবারও আমাকে দরজা খুলতে হলো। কথায় আছে- যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয়। মহিলা যখন পুলিশের কথা বলেছিলেন, ভেবেছিলাম ঢপ মারছেন। মিছে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখন সত্যি সত্যিই পুলিশ এসে হাজির। দরজা খুলে দেওয়ার পর দেখি, লম্বা চওড়া জলজ্যান্ত এক পুলিশ অফিসার দাঁড়িয়ে।
‘আপনিই কি শরীফ আহমেদ?’
‘আমার কপাল এতটাও খারাপ না। আমি শহীদ। শরীফ আহমেদ ভেতরে আছেন।’
কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভেতরে প্রবেশ করলেন পুলিশ অফিসার। একাই এসেছেন। সবাইকে ডাইনিং রুমে দেখে নিজের পরিচয় দিলেন। শহরে নতুন বদলি, নাম ওসি বাদল হোসেন। আমার বাবা হঠাৎ এই ঝড়-বাদল নিতে পারলেন না। মানসিক চাপ, আতঙ্কে কচি খোকার মতো ডুকরে কেঁদে উঠলেন। চোখের জল নাকের জল মিলেমিশে একাকার। সুযোগ বুঝে মায়ের শাড়ির আঁচলে নাকও মুছলেন। তাকে দেখে আমারও কান্না পেল।
‘এইটা কোনো কথা! আমি তো দুষ্টামি করছিলাম। তার এতবড় খেসারত দিতে হবে কে জানতো! ঘরে সুন্দরী বউ, বলদ সমান ছেলে, সুখের সংসার। আমি কেন আরেকটা বিয়ে করতে যাব, তাই হয় নাকি! এটা অন্যায়। আমার কোনো দোষ নাই। সব ভাগ্যের দোষ। পোড়া কপাল, ফাটা কপাল, বিদঘুটে কপাল। আমাকে আপনারা মাফ করে দেন। দোহাই লাগে...!’
বাবা গায়ের জোরে কাঁদছেন, বিলাপ করছেন। আমরা সবাই নীরব দর্শক। এমন অবস্থায় মা হঠাৎ অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন। সবাই সেদিকে ভূত দেখার মতো হাঁ করে তাকিয়ে আছি। হায়রে! আমার মা কী তবে পাগল হয়ে গেল! বাবার কান্না থেমে গেছে। খানিক বাদে মায়ের সঙ্গে পুলিশ অফিসার এবং মহিলাটিও হাসতে শুরু করলেন!
বাবা আর আমি একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছি। কোনো কিছু মিস করে গেলাম কী না বুঝতে পারছি না। বাবার চেহারা একবার হাসি হাসি লাগে, পর মুহূর্তেই আতঙ্কগ্রস্থ দেখায়। হয়তো বুঝতে পারছেন না, বাকিদের সাথে হাসিতে যোগ দেবেন কী না।
‘তুই হেসে দিলি কেন? মজাই তো লাগছিল।’ মায়ের উদ্দেশ্যে বললেন মহিলাটি।
‘বেচারার বিলাপ শুনে হাসি আর আটকে রাখতে পারলাম না।’
‘আমি যে কী কষ্টে হাসি চেপে রেখেছিলাম, সেটা বোঝাতে পারবো না। তবে তুই ঠিকই বলেছিলি, দুলাভাই একেবারেই বাচ্চা মানুষ। তার মতো সহজ সরল মানুষ আর দ্বিতীয়টি নেই। এত সহজে বোকা বনে যাবে, কল্পনাও করিনি।’
তাদের কথোপকথন আমার মাথার উপর দিয়ে গেল। তবে এতটুকু বুঝতে পারলাম, মা আর এই মহিলা একে অপরের চেনা পরিচিত। পাশে তাকিয়ে দেখি বাবা নেই। এদিক-সেদিক নজর ঘুরানোর পর তাকে পাওয়া গেল মেঝেতে! শরীরের ভর ছেড়ে দিয়ে বাবা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছেন। কপাল বেয়ে ঘাম ছুটছে। তাকে টেনে তুলতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লাম।
অতিথি আপ্যায়ন পর্ব চলছে। টেবিলে বাহারি পদের খাবার। বাবা বাদে সকলেই খেতে বসেছি। তিনি নিজেকে বাথরুমে বন্দি করেছেন। লজ্জায় নাকি বেরুতে পারছেন না। এদিকে কলা খেতে খেতে বাকিদের ছলাকলার কাহিনি কীর্তি শুনছি। সিলভী আন্টি আমার মায়ের বান্ধবী। চট্টগ্রামে ছিলেন বহুদিন। পুলিশ অফিসার আর কেউ নন, তারই স্বামী। সম্প্রতি আঙ্কেল ঢাকায় বদলি হওয়ায় শহরে শিফট হয়েছেন।
স্কুল জীবনের বান্ধবী হলেও অনেকদিন তাদের মাঝে দেখা সাক্ষাত নেই। ফেসবুকে টুকটাক আলাপ হতো। এবার স্কুলে গেট টুগেদার উপলক্ষে দেখা হবার কথা ছিল। কিন্তু মায়ের ফন্দিতে এতকিছু ঘটে গেল যা ধারণার বাইরে। সব শুনে আমি ফ্যালফ্যাল চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকি। গলা শুকিয়ে গেলে কিছুক্ষণ পরপর পানি খাই। আমার মা যে কীরকম ডেঞ্জারাস মানুষ, তা এই প্রথম টের পেলাম।
‘এই যে, বাবু সোনা।’
সিলভী আন্টির ডাকে সম্বিৎ ফিরে পেলাম। বুকের ভেতরে খচখচানি শুরু হয়ে গেছে। আমি এখনো স্বাভাবিক হতে পারিনি। ঈষৎ লজ্জা আর দুশ্চিন্তায় তার দিকে সেভাবে তাকাতেই পারছি না।
‘জি আন্টি, বলুন।’
‘তখন কী যেন বলছিলে? আমার কোনো কন্যা সন্তান আছে কী না? এবার জবাবটা দেই। একটা নয়, আমার দুটো কন্যা সন্তান রয়েছে। বড়জন বিবাহের উপযুক্ত। এবার গিয়ে তোমার বাবাকে ডেকে আনো। আজ বিয়ের পাকা কথা দিয়ে যাই।’ দুষ্টুমি মাখা হাসি দিয়ে বললেন আন্টি।
‘ঠিক আছে আন্টি। আমি এখুনি বাবাকে ডেকে আনছি।’
এই বলে লাফিয়ে উঠে চেয়ার ছাড়লাম। ছুট লাগালাম সেখান থেকে। পেছনে তিনজন মানুষ একসাথে হাসাহাসি করছে। তারা কী ভাবছে কে জানে। আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না। যদি তারা ভেবে থাকে- বিয়ের জন্য পাগল হয়ে গেছি অথবা বাবাকে ডাকতে গেছি, তাহলে বড্ড ভুল ভাবছে।
আমি মূলত বাসা থেকে বেরিয়ে যাবার উদ্দেশ্যে ছুট লাগিয়েছি। এক বাসায় বাবা-ছেলে একত্রে বাথরুম আটকিয়ে বসে থাকলে কেমন দেখায়! এর চাইতে লজ্জা এড়াতে দু-একবেলা বাইরে কাটানো উত্তম। কী যে ক্রিটিকাল কন্ডিশনে পড়েছি, বাপরে বাপ!
গল্প: ক্রিটিকাল কন্ডিশন
লেখা: Zamsedur Rahman Sajib
৯ মে ২০২২