12/05/2025
তার নাম ছিল হারুনুর রশিদ। বয়স মাত্র ৫৮। গ্রামের মাটির ঘর থেকে সন্তানকে শহরে মানুষ করতে এসেছিলেন। নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য রাতদিন খেটেছেন। ভেবেছিলেন—মেয়ে লিজা একদিন তার মুখ উজ্জ্বল করবে।
কিন্তু হারুনুর রশিদের সব স্বপ্ন, সব বিশ্বাস, সব ভালোবাসা একদিন গলে গেলো মেয়ের ছোঁড়া এক ছুরির আঘাতে।
লিজা ঢাকায় পড়তে আসে, হারুনুর রশিদ ভাড়া নেন ছোট একটা ফ্ল্যাট। কিছুদিন পর মেয়ে জানায়—তার দুই বান্ধবীও সাবলেট থাকতে চায়। বাবা কষ্ট করে রাজি হন, নিজের ঘর ছেড়ে ডাইনিং স্পেসে বিছানা পাতেন।
কারণ একটাই—মেয়ের সম্মান, মেয়ের আরাম।
কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি দেখেন মেয়ের জীবনটা পাল্টে যাচ্ছে। রাত-বিরাতে ফিরে আসা, ঘরে মা*দকদ্রব্য, অদ্ভুত আচার-আচরণ—সবকিছু কষ্ট দিত হারুনুর রশিদকে। মেয়েকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। অনুরোধ করেন তার বান্ধবীদের বিদায় দিতে।
তাতে আরও বিপরীত প্রতিক্রিয়া হয়। মেয়ের চোখে তখন বাবাই যেন সবচেয়ে বড় শত্রু।
একদিন তিনি এমন একটা দৃশ্য দেখে ফেলেন যা কোনো পিতা যেন কল্পনাও করতে না পারে—মেয়ে ও তার বান্ধবীরা এমন এক সম্পর্কে জড়িত যা সামাজিকভাবে গোপনীয়, কিন্তু নৈতিকভাবে ভেঙে দেওয়ার মতো। তিনি আর কিছু না বলে শুধু বলেন, “তোমাদের জীবন তোমাদের, কিন্তু আমার ঘরটা আমাকে দাও ফিরে।”
এই কথাতেই যেন আগুন লেগে যায় মেয়ের মনে।
পিতা বুঝেছিলেন, মেয়ের পথ হারিয়ে গেছে। তাই থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন, যেন অন্তত ভবিষ্যতে কেউ মেয়েকে বোঝাতে পারে। কিন্তু ততদিনে দেরি হয়ে গেছে।
মেয়ে লিজা বুঝে যায়—বাবা এখন তার ‘লাইফস্টাইল’-এর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।
তাই পরিকল্পনা করে—সবচেয়ে নিরাপদ পথ, ‘অপবাদ আর আবেগের নাটক’।
তাকে কেউ যেন দোষী না ভাবে—সে ব্যবস্থা নিয়ে নেয় আগেই।
এক রাতে, ভোররাতে ছু*রি হাতে বাবার দিকে এগিয়ে যায় নিজের জন্মদাত্রী সন্তান। বারবার আঘাত করে। মৃ*ত্যুর আগে বাবা শুধু বলেছিলেন,
“লিজা, আমি তোর ভালো চাইছিলাম…”
এরপর মেয়ে একটা নাটক সাজায়—সে নাকি বাবার শিকার। সমাজকে আবেগে ডুবিয়ে সে বলে, “আমার জন্য বিচার চাই!”
এর আগেও একবার বাবার নামে এমন মিথ্যা মামলা করেছিল, আদালতে প্রমাণ না মেলায় বাবা ছাড়া পেয়েছিলেন। এবার সে নিশ্চিত ছিল—এইবার কাজ হবে!
কিন্তু আজ তার বাবার লা*শ পড়ে আছে শহরের ম*র্গে। একটা লাল রঙা কম্বলে ঢাকা, ভেতরে আর নেই কোনো ভালোবাসা, কোনো কান্না, কোনো অভিমান।
হারুনুর রশিদ শুধু একজন বাবা ছিলেন।