21/08/2026
দীর্ঘ ২০ বছর পর দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সরকারি ঘোষণায় দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও সরকারের পরিকল্পনা
দেশের তাপভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কয়লা আমদানি করতে হয়। সরকারি হিসাব ও খনি সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ফুলবাড়ী খনি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে:
ডলার সাশ্রয়: কয়লা আমদানিতে প্রতি বছর প্রায় ১.১৯ বিলিয়ন ডলার (১০,৮০০ কোটি টাকা) খরচ হয়, যা এই খনি চালুর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব।
বিশাল মজুত: ফুলবাড়ীতে প্রায় ৫৭২ মিলিয়ন টন উন্নতমানের কয়লার মজুত রয়েছে। এখান থেকে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করা গেলে তা দেশের মোট চাহিদার ৭৫ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম।
আধুনিক প্রযুক্তির প্রস্তাব: পরিবেশের ক্ষতি ন্যূনতম রাখতে থ্রিডি ওয়াটার ব্যারিয়ার প্রযুক্তির মাধ্যমে পানির স্তর রক্ষা এবং উত্তোলিত স্থানগুলো দ্রুত ভরাট করে কৃষিজমি বা বনাঞ্চলে রূপান্তরের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলনের রূপরেখা ও স্থানীয়দের শঙ্কা
সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সংগঠন তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেছে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনি হলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও বসতভিটা ধ্বংস হওয়ার এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।
২০০৬ সালের স্মৃতি: ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট একই ধরনের উদ্যোগের প্রতিবাদে হওয়া আন্দোলনে বিডিআরের গুলিতে তিনজনের প্রাণহানির ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে এখনও বড় আতঙ্কের কারণ।
কর্মসূচি: এই ঘোষণার প্রতিবাদে গত ১৯ আগস্ট ফুলবাড়ীতে বিক্ষোভ হয়েছে এবং আগামী ২৪ আগস্ট ঢাকা থেকে ফুলবাড়ী অভিমুখে প্রচার যাত্রা ও ২৬ আগস্ট সেখানে বিশাল গণসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।
#ফুলবাড়ী #কয়লাখনি #জ্বালানিসংকট #বাংলাদেশ