10/08/2026
সিলেটের পবিত্র শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার ঘেঁষেই নীরব ঘুমে শায়িত বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহ।
প্রতিদিনই এখানে আসেন অসংখ্য ভক্ত, দর্শনার্থী—কেউ ফুল নিয়ে, কেউ প্রার্থনায়, আবার কেউ শুধু একবার প্রিয় নায়কের কবরটা দেখতে।
জনপ্রিয়তার আকাশ ছুঁয়েছিলেন যে তরুণ, মাত্র ২৫ বছর বয়সেই থেমে যায় তার জীবন।
মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে উপহার দিয়েছিলেন ২৭টি সিনেমা। পর্দায় তার হাসি, অভিনয় আর স্টাইল আজও যেন আটকে আছে দর্শকের হৃদয়ে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় সালমান শাহ ওরফে ইমনের ম'র'দে'হ।
এরপর থেকেই তার মৃত্যু ঘিরে শুরু হয় নানা প্রশ্ন, আলোচনা আর রহস্য।
মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ ও বক্তব্য সামনে এসেছে। সালমানের স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক, পারিবারিক কলহ এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে উঠেছে নানা দাবি। এমনকি তার বন্ধু ও খল অভিনেতা ডনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও আলোচনায় আসে।
তবে সালমান শাহর পরিবার ও অসংখ্য ভক্ত দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন—এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হ/ত্যা/কাণ্ড।
আইন, তদন্ত আর সময়ের নানা বাঁকে সালমানের মৃত্যুর রহস্য নিয়ে আলোচনা থামেনি।
কিন্তু ৩০ বছর পেরিয়েও একটি প্রশ্ন যেন আজও বাতাসে ভাসে—
যে তরুণ কোটি মানুষের হৃদয়ে রাজত্ব করেছিলেন, তার জীবনের শেষ অধ্যায়টি কি সত্যিই জানা গেছে?
পর্দার সালমান আজ নেই।
নেই তার নতুন কোনো সিনেমা, নেই নতুন কোনো গান বা দৃশ্য।
আছে শুধু অসংখ্য স্মৃতি, অগণিত ভক্তের ভালোবাসা আর একটি নাম—
সালমান শাহ।
সময় চলে যায়, প্রজন্ম বদলে যায়;
কিন্তু কিছু তারকা কখনো হারিয়ে যান না।
তারা বেঁচে থাকেন মানুষের ভালোবাসায়—
আর সালমান শাহ, যেন তেমনই এক অসমাপ্ত গল্পের নাম।