28/07/2025
কেন জামায়াতকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া দরকার?
গত ১৯ জুলাই জামায়াত ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ একটি সমাবেশ করেছে। সমাবেশের পর থেকেই বিভিন্ন মিডিয়া ও ব্যক্তিবর্গ এই সমাবেশে ১০০–২০০ কোটি টাকা কিংবা তার চেয়েও বেশি খরচ হয়েছে বলে বিশ্লেষণ করেছেন কিংবা হিসাব কষেছেন।
প্রচলিত বড় দলগুলো এ ধরনের একটি সমাবেশ করলে এমনটাই হওয়ার কথা ছিল। কারণ, এখানে স্টেজ, লাইটিং, ক্যামেরা থেকে শুরু করে যাতায়াত, সবখানেই বিশাল ব্যয়ের সম্ভাবনা থাকত। কোনো একটি বিভাগে (যেমন ধরুন: সাজ-সজ্জা বা ডেকোরেশন) এক কোটি টাকা খরচ হলে, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ন্যূনতম দশ কোটি টাকার চাঁদা তুলতেন বিভিন্ন জনের কাছ থেকে। কর্মী-সমর্থকদের আনানোর ক্ষেত্রেও গাড়ি ভাড়া, বিরিয়ানির প্যাকেট ইত্যাদির খরচের চেয়ে কয়েকগুণ চাঁদা তোলা হতো স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে। এরপর হতো ভাগ-বাটোয়ারা। সেক্ষেত্রে দুইশো কোটিতেও শেষ হতো কিনা, তা বলা কঠিন।
কিন্তু জামায়াত কত খরচ করেছে? গতকাল জামায়াতের আমির হিসাব দিয়েছেন, তাতে মাত্র সাড়ে তিন কোটি টাকা। ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষের জন্য কেন্দ্রীয় খরচ মাত্র সাড়ে তিন কোটি! আর কর্মীরা নিজেদের অর্থে ঢাকায় এসেছেন, থেকেছেন, খেয়েছেন। এমন আত্মনিবেদিত ও সুশৃঙ্খল সংগঠন দুনিয়ায় কয়টা আছে?
ঠিক এইভাবে যদি জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তবে কোনো প্রকল্পে যদি ১০০ কোটি টাকার বাজেট হয়, তার পুরোটা জনগণ পাবে। ৩০–৭০ কিংবা ৬০–৪০ ভাগবাটোয়ারার সংস্কৃতি থাকবে না। বরং গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত পুরো বাজেটের টাকা পৌঁছাবে।
ইতোমধ্যে জামায়াতের আমির ঘোষণা করেছেন, জামায়াতের এমপি ও মন্ত্রীরা ট্যাক্সবিহীন গাড়ি এবং ঢাকায় প্লট নিতে পারবেন না। আমি নিশ্চিত, জামায়াতের এমপি-মন্ত্রীদের জন্য সংগঠনের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহির যে কাঠামো থাকবে, তা হবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির কাঠামোর চেয়েও কঠোর। এ কারণেই এমন একটি দলেরই রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন। বাকিটা জনগণের চিন্তা ও রায়।